ত্রিপুরার

ত্রিপুরার বহুল আলোচিত চিটফান্ডগুলি হাইলাকান্দি কেন্দ্রিক!

ত্রিপুরার বহুল আলোচিত চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই (CBI) তিনজন পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে মিন্নাতুল্লাহ বারভূইয়াকে হায়দ্রাবাদে, কামরুল ইসলাম বারভূইয়াকে আসামের হোজাইতে এবং ইমদাদুল্লাহ বারভূইয়াকে তামিলনাড়ুর ভেলোর থেকে আটক করা হয়েছে। তিনজনই আসামের হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দা এবং চিটফান্ড সংস্থা কামা প্রজেক্টস অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক বলে জানা গেছে। এই প্রতারণার মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তারা পলাতক ছিলেন।

সূত্রের খবর, ত্রিপুরা সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে সিবিআই,  ত্রিপুরার পশ্চিম আগরতলা, কুমারঘাট এবং তেলিয়ামুড়া থানায় ২০১২-২০১৪ সালের মধ্যে দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলা পুনঃনিবন্ধন করে। এই মামলাগুলি সিবিআইকে হস্তান্তর করে ত্রিপুরা পুলিশ। চিটফান্ড সংস্থা কামা ইন্ডিয়া প্রজেক্টস অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড অবৈধভাবে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে এবং সেবি (SEBI), আরবিআই (RBI) কিংবা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই এই অর্থ লেনদেন চালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই সংস্থার পরিচালকরাই সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করে নেয়।

তদন্তের সময় প্রমাণিত হয় যে, অভিযুক্ত মিন্নাতুল্লাহ, কামরুল ইসলাম ও ইমদাদুল্লাহ—তিনজনই প্রতারণার মূল হোতা এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। আগরতলার বিশেষ সিবিআই আদালত তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। অবশেষে, হায়দ্রাবাদ, আসামের হোজাই ও তামিলনাড়ুর ভেলোরে কৌশলী অভিযান চালিয়ে সিবিআই তাদের গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, সিবিআই ৩ ফেব্রুয়ারি আরও এক অভিযুক্ত বিকাশ দাসকে মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডি থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। জানাগেছে সেও আসামের হাইলাকান্দিরই বাসিন্দা এবং ত্রিপুরা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। ২০১৩ সাল থেকে সে পলাতক ছিলেন, এবং ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট তার বিরুদ্ধে স্থায়ী পরোয়ানা জারি হয়। সিবিআই তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ২০,০০০ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল এবং অবশেষে অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করে সংস্থাটি।

ত্রিপুরায় চিটফান্ড কেলেঙ্কারি মূলত বামফ্রন্ট সরকারের শাসনামলে ঘটে। তখন একাধিক অবৈধ চিটফান্ড সংস্থা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে প্রতারণা চালায়। ত্রিপুরার অসংখ্য সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় খুইয়েছে, কিন্তু আজও সেই অর্থ তারা ফেরত পায়নি। গত বছর ত্রিপুরা হাইকোর্ট চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে প্রতারিত গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সূত্রে সিবিআই কেলেঙ্কারির নায়কদের আইনের জালে তুলতে সক্রিয় অভিযান চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই চিটফান্ড সংস্থাগুলি রাজনৈতিক আশ্রয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। ফলে মূল অভিযুক্তদের অনেকেই এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। সিবিআই যদি কঠোর হয়, তাহলে এই চক্রের মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। রাজ্যবাসী এখন চাইছে, প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক এবং আমানতকারীরা তাদের হারানো অর্থ ফেরত পাক। এখন দেখার বিষয়, সিবিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

স্মার্ট

বেআইনি হকার ও টমটম চালকদের দখলে স্মার্ট সিটি!

আগরতলাকে স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি তার বিপরীত। স্মার্ট সিটি পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের প্রধান সড়কে রিকশা ও টমটম নিষিদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু রাজধানীর বুকে এই নিয়মের কোনো বাস্তবায়ন নেই। বরং দিন দিন বেআইনি টমটমের সংখ্যা বাড়ছে, যার ফলে শহরের রাস্তাগুলো তীব্র যানজটে জর্জরিত এবং আগরতলা স্মার্ট সিটিকে পরিণত করেছে এক ব্যতিক্রমী স্মার্ট সিটিতে।

স্মার্ট সিটি প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, আগরতলার প্রধান সড়কে কোনো টমটম চলাচল করতে পারবে না। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, টমটম ও রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল রাজধানীর যানজটকে ভয়াবহ করে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও ট্রাফিক দপ্তরের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। একসময় ট্রাফিক দপ্তর এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিলেও, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা তা কার্যকর করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

শহরের ফুটপাতগুলো পথচারীদের চলাচলের জন্য বরাদ্দ থাকলেও, বর্তমানে তা হকারদের দখলে চলে গেছে। বিভিন্ন সময়ে পুর নিগম ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালালেও, অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরেই পুনরায় দখলদারি শুরু হয়। গত পুজোর আগে পুর নিগম একবার অভিযান চালালেও, বর্তমানে সেই একই অবস্থায় ফিরে গেছে শহরের ফুটপাত। বিশেষ করে পোস্ট অফিস চৌমুহনি থেকে কামান চৌমুহনি পর্যন্ত রাস্তার ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে, ফলে ক্রেতা ও পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হচ্ছে, যা যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগরতলা শহরকে যানজট মুক্ত করতে টমটমের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বর্ডার গোলচক্কর থেকে ফায়ার সার্ভিস চৌমুহনি, শংকর চৌমুহনি ও অন্যান্য গলি রাস্তায় নির্দিষ্ট স্টপেজ তৈরি করা হবে, যেখানে টমটমগুলো যাত্রী উঠানামা করবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১৮ সালে বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের প্রথম মেয়াদে রাজধানীকে টমটম মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতার ইন্ধনে তা আটকে যায়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু রাজনৈতিক নেতা অবৈধভাবে টমটম চালানোর অনুমতি দিচ্ছেন এবং অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীও এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

আগরতলার জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি যানবাহনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে টমটম, ই-রিকশা ও অটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল শহরের যানজটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। যানজট কমাতে এবং পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ তৈরি করতে শহর থেকে টমটম অপসারণ, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

শহরবাসীর অভিযোগ, প্রশাসন চাইলে এই সমস্যা সমাধান করতে পারে। তবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শহরের পরিবহন দপ্তর ও ট্রাফিক বিভাগ যদি কঠোর নজরদারি শুরু করে, তাহলে আগরতলাকে সত্যিকারের স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ত্রিপুরার

ত্রিপুরার জৈব কৃষিতে বিশাল সাফল্য!

জৈব কৃষিতে ত্রিপুরার সাফল্য আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। শুক্রবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, অরুন্ধতীনগর থেকে প্রায় ২,০০০ কেজি ব্ল্যাক রাইস ও সুগন্ধি চাল পাঠানো হলো দিল্লিতে। কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান, রাজ্যে বর্তমানে জৈব পদ্ধতিতে আনারস ও আদার মতো ফসল উৎপাদন হচ্ছে এবং কৃষকদের এই পদ্ধতির প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় ২০,০০০ হেক্টর জমিতে জৈব কৃষি করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও ৬,৫০০ হেক্টর জমিতে এই পদ্ধতিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই রাজ্যে ৪০টি ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানি (FPC) গঠিত হয়েছে এবং শীঘ্রই আরও ১৩টি কোম্পানি তৈরি করা হবে।

জৈব কৃষির উপকারিতা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, রাসায়নিক মুক্ত এই ফসল শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে পুষ্টিগুণ বেশি। কৃষকদের উৎপাদিত জৈব ফসল সহজে বাজারজাত করার জন্য রাজ্যের আটটি জেলায় ‘অর্গানিক আউটলেট’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, বাধারঘাট রেল স্টেশনেও একটি বিশেষ আউটলেট খোলার কথা ভাবা হচ্ছে।

ত্রিপুরার জৈব কৃষির এই সাফল্য জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের দুই কৃষককে জৈব কৃষিতে অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে। জৈব কৃষিতে রাজ্যের এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে আরও প্রসারিত হবে বলে আশাবাদী কৃষি দপ্তর।

শিল্পোন্নয়নে

শিল্পোন্নয়নে অগ্রাধিকার ত্রিপুরায়, ‘স্কিল-উদয় তংনাই’ কর্মসূচির সূচনা!

সার্বিক শিল্পোন্নয়নের নিরিখে ত্রিপুরা এখন একটি ‘পারফর্মার স্টেট’ হিসেবে স্বীকৃত। রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ পরিষেবা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবা সহ একাধিক খাতে কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

শুক্রবার নরসিংগড়স্থিত টিআইটি অডিটোরিয়ামে ‘স্কিল-উদয় তংনাই’ দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ অনুযায়ী উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি জানান, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বর্তমানে ত্রিপুরায় ছয়টি জাতীয় সড়ক, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, উন্নত রেল ও বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১২টি সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। ত্রিপুরার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে রাজ্যকে শিল্পোন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাজ্যে রাবার শিল্পের প্রসার ঘটছে, এবং সম্প্রতি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। রাবার উৎপাদনে কেরালার পরেই রয়েছে ত্রিপুরা। এছাড়া, চা শিল্পের উন্নয়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাজ্যের চা এখন গুণমানে উন্নত ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম

আগর শিল্পের বিকাশ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী আশাবাদী। আগে এই খাতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি শুরু হয়েছে। আগামী দিনে আগর শিল্পের বাজার ১০ হাজার কোটি টাকা ছোঁয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশে রাবার শিল্পের প্রসারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজ্যের উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের আখাউড়ার সঙ্গে আগরতলার রেল সংযোগ তৈরি হয়েছে। এটি চালু হলে আগরতলা থেকে কলকাতা যেতে মাত্র ৭-৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। মৈত্রী সেতু নিয়ে রাজ্যের মানুষের বড় আশা রয়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে।

ত্রিপুরায় সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বগাফায় প্রায় ৬৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা এক বিরল ঘটনা। তবে সরকার দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে মাত্র তিন-চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ-এর দল তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মহম্মদ সাজাদ পি এবং শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা সহ অন্যান্য আধিকারিকগণ। এছাড়া টিআইটির অধ্যক্ষ, ফ্যাকাল্টি সদস্য এবং ছাত্র-ছাত্রীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

BSF

BSF এবং সোনামুড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

গোমতীর তীরবর্তী শহর সোনামুড়ায় দেশাত্মবোধক সঙ্গীতের মূর্ছনায় মুগ্ধ হলেন হাজারো মানুষ। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF) ৮১ নম্বর ব্যাটালিয়ন এবং সোনামুড়া প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনবদ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সকলের মন জয় করল। বৃহস্পতিবার রাতে সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন বীর মেমোরিয়াল পার্কে অনুষ্ঠিত হয় দেশাত্মবোধক এই সংগীতানুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল সকাল থেকেই। সোনামুড়া প্রেসক্লাব ও BSF-এর সদস্যরা একত্রে কাজ করে অনুষ্ঠানস্থলকে দেশাত্মবোধের আবহে সাজিয়ে তোলেন। বীর মেমোরিয়াল পার্কের শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি BSF-এর গোকুলনগর সেক্টরের ডিআইজি ভি. কে. কাশানা শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন এবং বলেন, “বিভেদের মাঝে একতাই ভারতের ঐতিহ্য।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ-এর ৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট রাকেশ সিনহা, সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব সূত্রধর, মহকুমা শাসক মহেন্দ্র কামবে চাকমা, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শশীমোহন দেববর্মা, আকাশবাণী ও দূরদর্শন কেন্দ্র আগরতলার সহকারী অধিকর্তা কুনাল ভি শিন্ধে, সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান সারদা চক্রবর্তী এবং সোনামুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি বিপ্লব চক্রবর্তী ও সম্পাদক অভিজিৎ বর্ধন।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা শুধু বন্দুক নয়, গিটার, সিন্থেসাইজার, ড্রামসেট এবং স্যাক্সোফোনের সুরেও সমান পারদর্শী। তাদের পরিবেশিত দেশাত্মবোধক সঙ্গীত দর্শকদের মুগ্ধ করে। “মা তুঝে সেলাম” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধের অনন্য নজির স্থাপনকারী স্থানীয় টমটম চালক জাফর আলীকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী ভাষণে বিএসএফ-এর ডিআইজি ভি. কে. কাশানা বলেন, “দেশের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের গর্বিত করে। ভারত তার ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে আজ বিশ্বে সম্মানিত।” তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে ভারত আরও সমৃদ্ধ হবে, বিশ্বের দরবারে ভারতীয় পাসপোর্টের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।” পাশাপাশি তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে। বিএসএফ-এর সদস্যদের সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। পুরো অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকদের প্রশংসায় ভাসান অতিথিরা। ভবিষ্যতেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন সোনামুড়া প্রেসক্লাবের সম্পাদক অভিজিৎ বর্ধন।

যুদ্ধের

 ৩টি কেন প্রয়োজনে আরো ১০টি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত পাকিস্তান!

ভারতের সামরিক শক্তি বা আধুনিক প্রযুক্তিতে পাকিস্তান ভীত নয় বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কাশ্মীরের জন্য প্রয়োজন হলে পাকিস্তান আরও ১০টি যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির ঘোষণা করেছেন যে, কাশ্মীরের জন্য প্রয়োজন হলে পাকিস্তান আরও ১০টি যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। ভারতের সামরিক শক্তি বা আধুনিক প্রযুক্তিতে পাকিস্তান ভীত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কাশ্মীরকে ‘পাকিস্তানের শিরা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাশ্মীর একদিন স্বাধীন হয়ে পাকিস্তানের অংশ হবে। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত।

মুজাফফরাবাদ সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কাশ্মীরে নিযুক্ত পাক সেনাদের নিষ্ঠা, দারিত্ব ও যুদ্ধ প্রস্তুতির প্রশংসা করেন এবং বলেন, “জাতির সামনে সাময়িক চ্যালেঞ্জ থাকলেও, পাকিস্তান ভারতীয় রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি ভাইদের পাশে থাকবে।” এ সময় তিনি জম্মু ও কাশ্মীরকে “অবৈধভাবে অধিকৃত” বলে উল্লেখ করেন এবং কাশ্মীরিদের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারতের নীতির সমালোচনা করে পাক সেনাপ্রধান বলেন, “ভারতীয় নৃশংসতা ও হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদের উত্থান কাশ্মীরি জনগণের স্বাধীনতার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।”

IND Vs Pak

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের যুদ্ধের হুঁশিয়ারির কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কাশ্মীর চিরকাল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং থাকবে। পাকিস্তানের যুদ্ধের হুমকি শুধু রাজনৈতিক চমক এবং বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য করছে। এক ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তার ভাষায়, “নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই করছে পাকিস্তান। অথচ তারা যুদ্ধের কথা বলছে! পাকিস্তানের উচিত দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া, ভারতের বিরুদ্ধে অবাস্তব হুমকি দেওয়া নয়।”

ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কড়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “যদি পাকিস্তান ১০টি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে, তবে ভারত ১০০টি যুদ্ধ জয়ের ক্ষমতা রাখে। ভারত পাকিস্তানের কোনো হুমকিকে ভয় পায় না।”

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং চিরকাল ভারতেরই থাকবে। পাকিস্তানের মিথ্যা প্রচারণা এবং হুমকির মাধ্যমে সত্য বদলাবে না। বরং ভারতীয় সেনাবাহিনী ও জনগণ কাশ্মীরের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, পাকিস্তান, যে নিজেই আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশ হিসেবে পরিচিত, তারা কাশ্মীর প্রসঙ্গে নৈতিকতার বুলি আওড়ানোর কোনো অধিকার রাখে না। “নিজেদের দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের চরম সংকট চলছে, অথচ তারা কাশ্মীরের ‘অধিকার’ নিয়ে কথা বলছে—এটা নিছক হাস্যকর!”

ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তবে কেউ যদি আগ্রাসনের চেষ্টা করে, তাহলে ভারত কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দেবে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, “ভারত যুদ্ধ চায় না, কিন্তু পাকিস্তান যদি সংঘাত চায়, তাহলে তারা তাদের অতীতের মতোই পরাজিত হবে।”

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করেন, “পাকিস্তান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত। যুদ্ধের কথা ভাবার আগে তাদের উচিত নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা।” ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কোনো ধরনের যুদ্ধ বা উস্কানি ভারতের এই অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না। পাকিস্তানের যুদ্ধের হুমকি হাস্যকর এবং এটি বাস্তবতার সাথে কোনোভাবেই মিল নেই। ভারত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাইলেও দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

জাতীয়

ত্রিপুরায় জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ঃ আইনি শিক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ!

গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী আইনি কাঠামোর গুরুত্ব অপরিসীম, এবং এই লক্ষ্যে জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিপুরা ক্যাম্পাস, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা।

বৃহস্পতিবার আগরতলার নরসিংগড়ে জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, সেই সময় আমি নিজেও এই স্থান পরিদর্শন করেছিলাম।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আইন শিক্ষা শুধু পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য নয়, এটি সমাজে ন্যায়বিচার, নৈতিকতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিপুরা ক্যাম্পাস ভবিষ্যতে আইনি গবেষণা ও উন্নয়নের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠবে এবং আধুনিক আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আর্থিক, প্রশাসনিক এবং নীতিগত সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে। জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিপুরা শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি রাজ্যের আইনি শিক্ষা, গবেষণা ও নীতি নির্ধারণের এক অনন্য মাইলফলক

অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিন্দম লোধ তাঁর পিতা, স্বনামধন্য আইনজীবী স্বর্গীয় অপাংশু মোহন লোধের স্মৃতিতে জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লেকচার সিরিজ চালু করার ঘোষণা দেন এবং এর জন্য ৮ লাখ টাকার তহবিল প্রদান করবেন বলে জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জাস্টিস অপরেশ কুমার সিং, বিচারপতি অরিন্দম লোধ, বিচারপতি সব্যসাচী পুরকায়স্থ, বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিত। এছাড়া, জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. যোগেশ প্রতাপ সিং, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নচিকেতা মিত্তল, সচিব কিরণ গিত্যে সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিপূজন কেবল একটি ভবন নির্মাণের সূচনা নয়, এটি জ্ঞান, ন্যায়বিচার এবং সমাজের সেবায় একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের ভিত্তি।”

ত্রিপুরা

ত্রিপুরায় শুরু হচ্ছে “ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ- ২০২৫”

ত্রিপুরায় শিল্প ও বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করতে আগামী শুক্রবার থেকে রাজধানীর বিলাসবহুল হোটেলে শুরু হচ্ছে “Destination Tripura – Land of Opportunities” শীর্ষক বিশেষ বিজনেস কনক্লেভ। এই কনক্লেভের মূল লক্ষ্য হল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিনিয়োগকারী শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিদের ত্রিপুরায় বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করা এবং রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপনে তাদের আগ্রহী করে তোলা।শুক্রবার থেকে শুরু হলেও শনিবার কনক্লেভের মূল অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। তিনি শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন এবং রাজ্যের বর্তমান শিল্প-বান্ধব পরিবেশ তুলে ধরে বিনিয়োগের সুযোগ ও সুবিধা নিয়ে আলোচনা করবেন।

বৃহস্পতিবার মহাকরণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা। এ সময় শিল্প দপ্তরের সচিব কিরণ গীত্যে এবং দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী জানান, এই কনক্লেভে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্যাতনামা শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিরা অংশ নেবেন। রাজ্যে শিল্প স্থাপনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ফুড প্রসেসিং ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতেও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হবে।  ত্রিপুরা বর্তমানে শান্তি, নিরাপত্তা ও সুশাসনে সমৃদ্ধ একটি রাজ্য। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই রাজ্যে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এই কনক্লেভের মাধ্যমে শিল্পপতিদের আরও বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করা হবে।

মন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে গত পাঁচ বছরে রাজ্যে ১৬৪টি নতুন শিল্প ইউনিট কাজ শুরু করেছে। এই সময়কালে মোট ১৬০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ এসেছে, যা রাজ্যের শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে, এবারের বিজনেস কনক্লেভে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রী। যদিও বাংলাদেশ ত্রিপুরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার, তবে এবার মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই কনক্লেভের মাধ্যমে ত্রিপুরার শিল্পখাত আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদী রাজ্য সরকার।

শিক্ষা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুণগত শিক্ষাদানের প্রচেষ্টা!

“আজকের শিশুরাই আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। তাদের ছোট থেকেই সঠিক শিক্ষা ও ভিত্তি মজবুত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের।” বৃহস্পতিবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে অনুষ্ঠিত রাজ্য স্তরের টিচিং লার্নিং মেটেরিয়াল (টিএলএম) প্রতিযোগিতা কাম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। তিনি বলেন, “বিল্ডিং নির্মাণের সময় ভিত মজবুত না হলে উপরে ওঠা যায় না, ঠিক তেমনই শিশুদের শিক্ষা জীবনেও শক্ত ভিত্তি তৈরি করা জরুরি। তাই শিক্ষকদের আরও উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে নানান কর্মসূচি গ্রহণ করছে। বিশেষ করে, যোগ্য ছাত্রছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য ঋণ ও স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি (NEP) অনুযায়ী শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেন, আগামী দিনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে তারাই, যাদের কাছে জ্ঞান থাকবে। তাই জ্ঞান অর্জনের জন্য শিশুদের প্রথম থেকেই একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রয়োজন।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা গণনার দক্ষতা অর্জন করার লক্ষ্যে রাজ্যে ‘নিপুণ ত্রিপুরা’ মিশন চালু করা হয়েছে। ২০২১ সালের ৫ জুলাই কেন্দ্রীয়ভাবে নিপুণ মিশন শুরু হয় এবং ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর ত্রিপুরায় ‘নিপুণ ত্রিপুরা’ চালু হয়। “ত্রিপুরায় নিপুণ মিশনের আওতায় ১.৫ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে, যেখানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক নিযুক্ত রয়েছেন। রাজ্যে ৪,২২৭টি সরকারি ও অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি চালু রয়েছে এবং ১০,১৮২ জন শিক্ষক ও ৯০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে নিপুণ ত্রিপুরার বিষয়বস্তু পৌঁছানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “অনেকেই বলে, ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীরা ভালো ফল করছে না। তারা শিক্ষকদের দোষারোপ করে। কিন্তু আমরা সমস্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছি, যাতে রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয় ভালো ফলাফল করতে পারে। নিপুণ ত্রিপুরার সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হলেন আমাদের শিক্ষকরা। তাদের প্রশিক্ষণ আরও উন্নত করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষাদানের মান আরও বৃদ্ধি পায়।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শ্রেণিকক্ষে উদ্ভাবনী শিক্ষাদান খুব গুরুত্বপূর্ণ। টিচিং লার্নিং মেটেরিয়াল (TLM) ব্যবহারের ফলে ছাত্রছাত্রীরা আরও ভালোভাবে শিখতে পারে।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “একজন শিক্ষক হয়তো একাডেমিকভাবে খুব দক্ষ, কিন্তু যদি তিনি শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে বোঝাতে না পারেন, তাহলে তার শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি কার্যকর হবে না। অন্যদিকে, একজন শিক্ষক সহজভাবে পড়ানোর দক্ষতা রাখলে, শিক্ষার্থীরা তার প্রতি আগ্রহী হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “টিচিং লার্নিং মেটেরিয়াল প্রদর্শনী জাতীয় স্তরেও প্রশংসিত হয়েছে। এটি শিক্ষকদের মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ৭ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশগ্রহণ করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১৩৩ শতাংশ বেশি।”

রাজ্যে নিপুণ ত্রিপুরা মিশনের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য ২০০ জন ব্লক রিসোর্স পার্সনকে মূল প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যারা পরবর্তীতে ১০,১৮২ জনের বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, শিক্ষা অধিকর্তা এন সি শর্মা, এসসিইআরটি অধিকর্তা এল ডার্লং, রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক শুভকারানন্দ মহারাজ, অন্যান্য সরকারি আধিকারিকগণ। অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হয়।

শিল্প বাণিজ্য মেলায় লংতরাই ব্র্যান্ড সাংবাদিকদের সম্মানিত করলেন!

৩৫তম শিল্প বাণিজ্য মেলায় প্রতিদিন লংতরাই ব্র্যান্ড তাদের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের ব্র্যান্ডকে উপস্থাপন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায়, গতকাল ৫ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে সাংবাদিকদের সম্মাননা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করেন, যা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

সংবাদ মাধ্যম গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বছর লংতরাই ব্র্যান্ড ১০ জন বিশিষ্ট সাংবাদিককে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করে। তারা হলেন—

  • আজকের ফরিয়াদ ও নিউজ টুডে থেকে শ্রী প্রণব শীল
  • দৈনিক অনলাইন থেকে শ্রীমতি স্বরূপা নাহা
  • প্রতিবাদী কলম থেকে শ্রী মিহির লাল সরকার
  • টাইমস ২৪ থেকে শ্রীমতি শেষাদ্রী দাশগুপ্তা
  • ত্রিপুরা অবজার্ভার থেকে শ্রী অভিজিৎ নাথ
  • সোশ্যাল বাংলা থেকে শ্রী বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
  • স্যন্দন টিভি থেকে শ্রী বিষ্ণুপদ বণিক
  • স্যন্দন পত্রিকা থেকে শ্রী সেবক দেব
  • নিউজ ভ্যানগার্ড থেকে শ্রী মিল্টন ধর
  • ত্রিপুরা দর্পণ থেকে শ্রী প্রদীপ কুমার সাহা

এই সম্মাননা প্রদান শুধুমাত্র ১০ জন সাংবাদিকের স্বীকৃতি নয়, বরং গোটা সংবাদ মাধ্যমের প্রতি লংতরাই পরিবারের গভীর শ্রদ্ধার প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন লংতরাই ব্র্যান্ডের কর্ণধার শ্রী রতন দেবনাথ। তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা রাজ্য ও দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তিনি রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে আলোচনা করেন এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আগরতলা প্রেস ক্লাবের সহকারী সম্পাদক শ্রী অভিষেক দে। তিনি লংতরাই ব্র্যান্ডের  মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে লংতরাই পরিবারের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

এদিন অনুষ্ঠানে লংতরাই ব্র্যান্ডের সিইও শ্রী ভবেশ দেবনাথ-ও উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের এই সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে লংতরাই ব্র্যান্ড সংবাদ মাধ্যমের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।