মহাকুম্ভে

মহাকুম্ভে পুণ্যস্নান করে ত্রিপুরার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর!

 

প্রয়াগরাজ, উত্তরপ্রদেশের  ত্রিবেণী সঙ্গমের মহাকুম্ভে পবিত্র স্নান করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। আধ্যাত্মিক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে নিমগ্ন হয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন তিনি। মহাকুম্ভে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা লেখেন, “মহাকুম্ভ উপলক্ষে প্রয়াগরাজ তীর্থে পৌঁছে পবিত্র ত্রিবেণী সঙ্গমে পূণ্যস্নানে সামিল হয়ে এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। ত্রিপুরার মানুষের মঙ্গল, অগ্রগতি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য গঙ্গা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি।”

সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনেকদিন ধরেই মহাকুম্ভে পূণ্যস্নান করার ইচ্ছা ছিল, যা অবশেষে পূর্ণ হলো। তিনি বলেন, “ত্রিপুরাবাসীর সুখ-সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছি। রাজ্য যাতে আরো উন্নতি করে এবং ‘এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়ে ওঠে, সেই কামনা করেছি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সেই লক্ষ্যেই আমরা ত্রিপুরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।”

মহাকুম্ভের সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “যেভাবে এত বড় আয়োজনকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য।” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির শাসন রয়েছে, সেখানেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাওয়া যাচ্ছে।”

দেশের রাজনীতির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিল্লিতে ২৭ বছর পর বিজেপি সরকার আসতে চলেছে। কংগ্রেস শূন্য পেয়েছে, কমিউনিস্টরা নোটার সমান এবং আপ সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দুর্নীতির মাধ্যমে কেউ সফল হতে পারে না। স্বচ্ছ প্রশাসন কিভাবে চালাতে হয়, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিখতে হবে।” মহাকুম্ভের পুণ্যস্নান ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ত্রিপুরা রাজ্যের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য প্রার্থনা করে তার পুণ্যস্নান সম্পন্ন করেন।

আগরতলা

আগরতলাচলতি মাসেই শুরু হতে পারে আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রা!

বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে কিংবা আগামী মার্চের প্রথম দিকে আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হতে পারে। আগরতলা থেকে গুয়াহাটির মধ্যে এই দ্রুতগতির ট্রেন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় রেললাইন বৈদ্যুতিকরণের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ট্রায়াল রানও সফলভাবে শেষ হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

রেললাইনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত

আগরতলা থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর জন্য উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর) ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আগরতলা-গুয়াহাটি রুটে বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। বদরপুর থেকে ত্রিপুরার জিরানিয়া স্টেশন পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রেনের সফল ট্রায়াল রান শেষ হয়েছে। অতি দ্রুত যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা চলছে বলে এনএফআরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ট্রেনের সময়সূচি ও স্টপেজ

আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৬টায় আগরতলা থেকে ছাড়বে এবং দুপুর ১:৩০ মিনিটে গুয়াহাটিতে পৌঁছাবে। আবার দুপুর ২টায় গুয়াহাটি থেকে ছেড়ে রাত ৯:৩০ মিনিটে আগরতলায় পৌঁছাবে। পথে আমবাসা, ধর্মনগর, নিউ করিমগঞ্জ, বদরপুর এবং হোজাই স্টেশনে থামবে।

সময় সাশ্রয় ও টিকিটের মূল্য

এই ট্রেনটি ৫৭১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এবং বর্তমানের দ্রুততম তেজস এক্সপ্রেসের তুলনায় প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় করবে। তেজস এক্সপ্রেস যেখানে ১২ ঘণ্টা সময় নেয়, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সেই পথ অতিক্রম করবে মাত্র ৭ ঘণ্টায় এবং টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এসি চেয়ার কারের জন্য প্রায় ১৩৮০ টাকা এবং এক্সিকিউটিভ চেয়ার কারের (EC) জন্য ২৩৯৫ টাকা।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের নতুন দিগন্ত

ত্রিপুরার প্রথম এবং আসামের দ্বিতীয় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু হওয়ার মাধ্যমে উত্তর-পূর্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর আগরতলা এবং গুয়াহাটির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প হিসেবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে ত্রিপুরায় রেললাইন বিদ্যুতায়নের জন্য ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ কর্পোরেশন লিমিটেড (TSCL) রেলওয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিশন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। অবকাঠামো প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথেই আসামের শিলচর এবং আগরতলা পর্যন্ত বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের শেষের দিকেই আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচল শুরু হতে পারে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ট্রেন চালুর নির্দিষ্ট তারিখ জানা যাবে। এই ট্রেন চালু হলে ত্রিপুরার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন এবং ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হবে। আগরতলা থেকে গুয়াহাটির মধ্যে এই অত্যাধুনিক বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর খবরে ত্রিপুরাবাসীর মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উন্নত সেবা ও দ্রুতগতির যাত্রা উপভোগ করতে মুখিয়ে আছেন যাত্রীরা। এখন শুধু দিন গণনার পালা।

ভারত

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আত্মবিশ্বাসী ভারত!

ভারত সফরে এসে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-২০ সিরিজে দারুণভাবে জয়ী হয়ে ভারত নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। এই সফরে ভারতীয় দল ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

ওয়ানডে সিরিজে ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত। সিরিজের শেষ ম্যাচটি আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারত ১৪২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে। এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৫০ ওভারে ৩৫৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। দলের ওপেনার শুভমান গিল অসাধারণ ব্যাটিং করে ১১২ রান করেন, যা তার ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সেঞ্চুরি। এছাড়া শ্রেয়াস আইয়ার ও সূর্যকুমার যাদবের অর্ধশতক দলের স্কোর আরও মজবুত করে তোলে। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ ভারতীয় বোলারদের সামনে টিকতে পারেনি এবং ৩৪.২ ওভারে ২১৪ রানে অলআউট হয়। ভারতের পক্ষে আর্শদীপ সিং, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব এবং হর্ষিত রানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে, আর্শদীপ সিং ৩টি উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখেন।

টি-২০ সিরিজেও ভারত দাপটের সঙ্গে খেলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-২০ ম্যাচে অভিষেক শর্মা ৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যার সুবাদে ভারত ৭ উইকেটে জয় লাভ করে। দ্বিতীয় ম্যাচেও ভারত নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে জয় তুলে নেয়। তবে তৃতীয় টি-২০ ম্যাচে রাজকোটে ইংল্যান্ড ২৬ রানে জয়লাভ করে, যা সফরে তাদের একমাত্র সান্ত্বনা ছিল। শেষ দুটি ম্যাচে ভারতীয় বোলাররা ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের দমিয়ে রেখে জয় নিশ্চিত করে। সিরিজ জয়ের মাধ্যমে ভারত টি-২০ ক্রমতালিকায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। যদিও এই সফরে শুধুমাত্র সীমিত ওভারের ম্যাচ ছিল, তবে ইংল্যান্ড দল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল ভারতীয় ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে, যেখানে ভারতীয় বোলারদের সামনে তাদের দুর্বলতা প্রকাশ পায়।

ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, “পুরো দল অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস দেখে আমি অভিভূত। সামনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রয়েছে, সেখানে এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।”
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার পরাজয় স্বীকার করে বলেন, “ভারত সত্যিই দুর্দান্ত খেলেছে। আমাদের কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা ঠিক করতে হবে। তবে তরুণ খেলোয়াড়রা কিছু ইতিবাচক মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।” তবে এই সফরে বিশেষ কিছু দিক পরিলক্ষিত হয়েছে, যেগুলো হলোঃ

  • শুভমান গিলের দুর্দান্ত ব্যাটিং ফর্ম, বিশেষ করে ওয়ানডে সিরিজে সেঞ্চুরি।
  • আর্শদীপ সিং ও কুলদীপ যাদবের অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্স।
  • অভিষেক শর্মার প্রথম টি-২০ ম্যাচে ৭৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস।
  • পুরো সিরিজে ভারতীয় দলের ফিল্ডিং ও বোলিং ইউনিটের দৃঢ়তা।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে দলকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। পুরো সিরিজে ভারতীয় দল তাদের ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে একপেশে খেলায় হারিয়েছে।ভারতের এই জয় ক্রিকেট বিশ্বে তাদের শক্ত অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে।

উগ্রপন্থা

ত্রিপুরাকে উগ্রপন্থার মাধ্যমে অশান্ত করার পরিকল্পনা!

ত্রিপুরায় নতুন করে উগ্রপন্থা ছড়ানোর চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বুধবার পশ্চিম ত্রিপুরার জিরানিয়া মোটরস্ট্যান্ড কমপ্লেক্সে ৪০.৫৮ কোটি টাকার পাঁচটি নতুন পরিবহন প্রকল্পের শিলান্যাস এবং একটি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে, কেউ কেউ ত্রিপুরায় আবার উগ্রপন্থা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমি তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, এবার কিন্তু কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনেক পরিশ্রমের পর রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই কেউ এই শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডাঃ সাহা জানান, “ত্রিপুরা এখন উগ্রপন্থা মুক্ত রাজ্য। এটিটিএফ এবং এনএলএফটি বৈরী গোষ্ঠীর সঙ্গে মৌ স্বাক্ষরের মাধ্যমে তারা মূল স্রোতে ফিরে এসেছে। অতীতে রাজ্যে অরাজকতা এবং সন্ত্রাসের যে পরিবেশ ছিল, তা দূর করতে আমরা সফল হয়েছি। তাই এবার কেউ উগ্রপন্থার বীজ বপনের চেষ্টা করলে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “ত্রিপুরায় উগ্রপন্থা দমনের মাধ্যমে যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা রক্ষা করার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা চাই রাজ্যের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে।”

কমিউনিস্ট শাসনের সময় রাজ্যে অরাজকতা এবং সন্ত্রাসের পরিবেশ ছিল উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে নির্বাচনের আগে এবং পরে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটত। কিন্তু এখন রাজ্যে স্থিতিশীলতা এসেছে। আমরা কখনও সেই পুরনো অশান্ত পরিবেশে ফিরতে দেব না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তুলতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ত্রিপুরা দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যে ছয়টি জাতীয় সড়ক নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।”

পরিবহন দপ্তরের উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা মোট ৪০.৫৮ কোটি টাকার পাঁচটি নতুন পরিবহন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। নতুন প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে –

  • জিরানিয়া মোটরস্ট্যান্ড
  • জোলাইবাড়ি মোটরস্ট্যান্ড
  • মেলাঘর মোটরস্ট্যান্ড
  • তেলিয়ামুড়া, খোয়াই জেলার জেলা পরিবহন অফিস
  • শান্তিরবাজার, দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলা পরিবহন অফিস

এছাড়া ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয় খোয়াই জেলার পুরান বাজারের ইন্টিগ্রেটেড পার্কিং কমপ্লেক্স। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, জিরানিয়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান রতন কুমার দাস, পরিবহন দপ্তরের সচিব সি কে জমাতিয়া, পরিবহন দপ্তরের কমিশনার সুব্রত চৌধুরী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

ত্রিপুরায় নতুন করে উগ্রপন্থা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে ত্রিপুরাকে উগ্রপন্থা মুক্ত রাখাও এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

বাজার

মানুষ ঔষধের নামে বিষ কিনছে বাজার থেকে!

ভেজাল ঔষধ বিক্রি হচ্ছে বাজারে এমনই রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে! সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ঔষধ এখন অপরিহার্য। সুগার, প্রেশার, শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসাতে নির্ভরযোগ্য ঔষধের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বাজারে নিম্নমানের ও জাল ঔষধের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে এবার রাজ্যেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে প্রশাসন।

জাল ঔষধ চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে সোমবার স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি ড্রাগস কন্ট্রোলার অফিসের উদ্যোগে ‘স্যাম্পলিং অফ ড্রাগস, ইনভেস্টিগেশন টেকনিক অ্যান্ড লঞ্চিং অফ প্রোসেকিউশন’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। গুখা বস্তির প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা অধ্যাপক ডাক্তার সঞ্জীব কুমার দেববর্মা।

কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা জানান, রাজ্যের বাজারে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধের রমরমা ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ড্রাগের নমুনা পরীক্ষার পর কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন হরিয়ানার প্রাক্তন ড্রাগ কন্ট্রোলার এন কে আহুজা এবং প্রাক্তন ডেপুটি ড্রাগ কন্ট্রোলার রাজিন্দর কুমার হারনা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাল ঔষধ সনাক্তকরণের উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

রাজ্যে জাল ঔষধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বছর কিছু ঔষধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে নিম্নমানের ঔষধ ধরা পড়ায় ১৫৪টি ঔষধের দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং ৩৭২টি দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের এক অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। সরকারি ব্যবস্থায় কেনা ঔষধের ১০ শতাংশই নিম্নমানের, যেখানে বাজারের নমুনা পরীক্ষায় এই হার ৩ শতাংশ। সুগার, প্রেসার এমনকি ক্যান্সারের ঔষধেও ভেজালের সন্ধান মিলেছে।

জাল ঔষধের এই চক্রকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে কিছু অসাধু চিকিৎসক ও ঔষধ কোম্পানির যোগসাজশ। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা মোটা টাকা ঘুষ দিয়ে চিকিৎসকদের দিয়ে জাল ঔষধ প্রেসক্রাইব করাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ঔষধ বিক্রেতাদেরও টাকা দিয়ে নকল ঔষধ বিক্রির ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ না জেনেই এসব ভেজাল ঔষধ কিনছেন, যা তাঁদের স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে পরীক্ষা করে ১১১টি নমুনায় ভেজাল ঔষধ ধরা পড়েছে। কলকাতাতেও অভিযান চালিয়েছে সিডিএসসিও এবং ড্রাগস কন্ট্রোল ডিরেক্টরেট। বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার নিম্নমানের ঔষধ।সরকারি রিপোর্ট বলছে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে মোট ২ লক্ষ ২৩ হাজার ঔষধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ৫৯৩টি ঔষধ ভেজাল এবং ৯ হাজার ২৬৬টি ঔষধ নিম্নমানের, যা ‘নট অব স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সরকারের এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, ভেজাল ঔষধের সমস্যা ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। প্রশাসন এখনই কড়া পদক্ষেপ না নিলে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য চরম সংকটে পড়বে। তাই কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে এই জাল ঔষধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণেরও উচিত ঔষধ কেনার আগে সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে প্রশাসনকে অবহিত করা।

ভার্মা

ভার্মা কমিশনের রিপোর্ট ভুলে, অষ্টমের প্রহর গুনছেন কর্মচারীকুল!

ভার্মা কমিশনের সপ্তম অধরা রেখেই আগামী অষ্টম পে কমিশনের আশায় দিন গুনছেন রাজ্যের কর্মচারীরা। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই অষ্টম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, যা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো ও ভাতা নির্ধারণ করবে। সাধারণত, কেন্দ্রের পে কমিশনের সুপারিশ অনুসরণ করেই রাজ্য সরকারগুলি তাদের কর্মীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে। কিন্তু ত্রিপুরার ক্ষেত্রে এখনো সপ্তম পে কমিশনের পুরো সুবিধাই পায়নি কর্মচারীরা, তার ওপর অষ্টম কমিশনের অপেক্ষা শুরু হয়েছে।

কোথায় গেল ভার্মা কমিটির রিপোর্ট?

২০১৮ সালে বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর, রাজ্যের কর্মচারীদের সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যেই অসমের প্রাক্তন মুখ্যসচিব পি.পি. ভার্মার নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। রাজ্যের অর্থ দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল, ৯০ দিনের মধ্যেই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ভার্মা কমিটি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মচারী সংগঠন, আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করে।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নিজেও কমিটির রিপোর্ট সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছিলেন বলে খবর। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই রিপোর্টে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ ছিল কিনা? যদি থেকে থাকে তবে তা কার্যকর করা হয়নি কেন? ২০১৮ সালের জুন মাসে ভার্মা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পরবর্তী সময়ে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়, তবুও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। আজও রাজ্যের কর্মচারীরা জানেন না, তাদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সুপারিশ কী ছিল।

ডি.এ-বঞ্চনা!

বর্তমানে রাজ্যের কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের তুলনায় ২৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বঞ্চিত। রাজ্য সরকার সম্প্রতি মাত্র ৫ শতাংশ ডিএ বাড়ালেও কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের বর্তমান ডিএ ৫৩ শতাংশ, যেখানে রাজ্যের কর্মচারীরা মাত্র ৩০ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন। কর্মচারীদের দাবি, বিজেপি-আইপিএফটি-তিপ্রা মথার যৌথ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের ডিএ বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী একবার জানিয়েছিলেন, রাজ্যের ২৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য ব্যয় হয়। এতে বোঝা যায়, সরকার কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে সংবেদনশীল হলেও, ডিএ বৃদ্ধির জন্য তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অষ্টম পে কমিশনের দিকে নজর!

বামফ্রন্ট সরকারের সময়ই কেন্দ্রীয় সপ্তম পে কমিশন লাগু হয়ে গেছিল, কিন্তু তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যে তা কার্যকর করেনি। বিজেপি সরকার ক্ষমতা দখলের জন্য, সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশনের লোভ দেখিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তা বাস্তবায়িত করা হয়নি বলেই অভিযোগ কর্মচারীদের। তাদের অভিমত, সপ্তম পে কমিশনের নামে তাদের প্রতারিত করা হয়েছে

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার অষ্টম পে কমিশন গঠনের ঘোষণা করায় এখন কর্মচারীরা তাকিয়ে রয়েছেন নতুন বেতন কাঠামোর দিকে। তবে সপ্তম পে কমিশনের সুবিধা পুরোপুরি না পাওয়া কর্মচারীদের মধ্যে আশঙ্কা, অষ্টম পে কমিশনের সুপারিশ রাজ্যে কার্যকর হবে কি না। ত্রিপুরার কর্মচারীদের জন্য বকেয়া ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাওয়াই এখন মূল দাবি। তবে সরকার সেই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখার বিষয়। ভার্মা কমিটির রিপোর্ট আদৌ প্রকাশ্যে আসবে কিনা, তাও সময়ই বলবে। এরই মধ্যে, কর্মচারীরা নতুন পে কমিশনের আশায় দিন গুনছেন।

সীমান্তে

সীমান্তে মাদক পাচারে মহিলা ব্রিগেড!

রাজ্যে বাড়ছে মাদক পাচার। ত্রিপুরার সীমান্তেকে করিডোর বানিয়ে বহিরাজ্যে যাচ্ছে শুকনো গাঁজা, আর বাইরে থেকে আসছে গন্ধহীন মাদক। সীমান্তে বিএসএফের কড়া নজরদারির পরও কীভাবে মাদক পাচার বাড়ছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে সীমান্তের চোরাপথে ‘রঙিন ঘোড়া’ পাচার হচ্ছে। তবে এটি কোনও জীবন্ত ঘোড়া নয়, বরং ইয়াবা ট্যাবলেটের সাংকেতিক নাম। এই মাদকের কোটি কোটি টাকার কারবার চলছে সীমান্ত জুড়ে, যেখানে তৈরি হয়েছে মহিলা পাচারকারীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

সাম্প্রতিক এক অভিযানে আমবাসার বেতবাগান নাকা পয়েন্টে একটি ১২ চাকার লরির তেলের ট্যাঙ্ক থেকে ৯ লক্ষ ২৪ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। গ্রেফতার করা হয়েছে আসামের দুই যুবককে। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াবা দেখতে সাধারণ ওষুধের মতোই— গোলাপি, হলুদ ও সবুজ রঙের ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। এই মাদক মূলত থাইল্যান্ড ও মায়ানমার থেকে আসছে এবং ত্রিপুরার সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে। ছোট আকারের হওয়ায় সহজেই ব্যাগ বা গোপন জায়গায় লুকিয়ে বহন করা সম্ভব।

ইয়াবাকে সাধারণত ওষুধের মতো খাওয়া হয় না। এটি হেরোইনের মতো ব্যবহার করা হয়— অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে গরম করে, ধোঁয়া শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। ফলে খুব দ্রুত নেশার প্রভাব পড়ে। কেউ কেউ আবার জল মিশিয়ে পান করে। তরুণ প্রজন্মের ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও এই মাদকের শিকার হচ্ছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতে ইয়াবার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বাংলাদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে বিএসএফ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাদক চক্র রুখতে সক্রিয় হয়েছে। কড়া নজরদারির ফলে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ভাঙার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনও সীমান্তের এজেন্টদের মাধ্যমে এই চোরাকারবার চলছেই। মাদক পাচার রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে, এমনটাই মত সমাজবিদদের।

আগরতলা

যানজট মোকাবিলায় আগরতলার বিভিন্ন স্থানে তৈরি হবে নতুন চারটি ফ্লাইওভার!

ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী রাজধানী আগরতলা ক্রমেই আধুনিক শহরের রূপ নিচ্ছে। শহরের যানজট সমস্যা মোকাবিলায় ইতোমধ্যে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে, যা এডি নগর পুলিশ লাইনকে ফায়ার ব্রিগেড চৌমুহনি ও মেলারমাঠের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। বর্তমানে, আগরতলার আরো চারটি নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।

এই ঘোষণা আজ ত্রিপুরা স্টেট ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (TSEA) ৫৫তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে করেন মুখ্যমন্ত্রী। নজরুল কলাক্ষেত্র প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “অবকাঠামো উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি রাজ্য ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশে ব্যাপক অবকাঠামোগত পরিবর্তন ঘটেছে, যার ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, আগরতলা শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোর যানজট সমস্যার সমাধান করতে পরিকল্পিতভাবে নতুন চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই কেন্দ্র থেকে অর্থ বরাদ্দের পর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এদিন প্রকৌশলীদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা অবকাঠামো নির্মাণের মূল স্তম্ভ। তবে আমি আপনাদের শুধু দৈনন্দিন দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের ও রাজ্যের উন্নয়নে আরও নিবেদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই।”

রাজ্য সরকার আশা প্রকাশ করেছে, যে আগামী দিনে আগরতলার নগর ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে এবং নতুন চারটি ফ্লাইওভার নির্মিত হলে শহরের যানজট অনেকটা কমে যাবে।

বাংলাদেশ

আজকের বাংলাদেশ, ভবিষ্যতের পাকিস্তান!

বাংলাদেশের ইতিহাস মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় বিজয়ের মাধ্যমে রচিত হয়েছে, যেখানে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ সেই বিজয়ের মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। স্বাধীনতার মূল আদর্শ ভুলে গিয়ে দেশ এক উশৃঙ্খল, বিভক্ত এবং নৈতিকভাবে অধঃপতিত অবস্থায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ও আত্মস্বার্থপরতার কারণে আজও মীরজাফরের বংশধরদের মতো চরিত্র, দেশ পরিচালনা করছে, যারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। সত্যিকারের দেশপ্রেমের অভাব, ইতিহাস বিকৃতি এবং জাতীয় ঐক্যের সংকটের ফলে বাংলাদেশ আজ বর্বরতার এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বারবার লাঞ্ছিত হচ্ছে।

“যে জাতি তার পিতাকে সম্মান করতে জানে না, সেই জাতি আর যাই হোক অন্তত সভ্য হতে পারে না। যার হাত ধরে বাঙালি জাতি তার মুখের ভাষা ফিরে পেল, মা বোনদের ইজ্জত বাঁচাতে পেরেছিল, ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছিল; তাঁকে অসম্মান করা, আর পুরো জাতিকে অসম্মান করা একই কথা। রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকতেই পারে, রাজনীতির মোকাবেলা রাজনীতি দিয়ে করাটাই স্বাভাবিক। একটা গণতান্ত্রিক ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে তাকে সরিয়ে দিয়ে, ঠিক ইতিহাসের মীরজাফরের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি করলো এই বাংলাদেশী বাঙালি জাতি। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র, যা জাতির জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে;” বলে মন্তব্য করছেন তথ্যবিজ্ঞ মহল।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অস্থির সময় চলছে। ৫ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনলাইন ভাষণের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে। এ ভাষণে তিনি জনগণকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তবে তার বক্তব্যের পরপরই স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন শুরু করেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই অভিযানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, নির্যাতন এবং হামলা চালানো হচ্ছে। জানা গেছে, সরকারের উপদেষ্টা পর্যায়ে দুই দিনব্যাপী বৈঠক করে আওয়ামী লীগের আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার ভাষণের পর চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামে মৌলবাদী গোষ্ঠী, যারা দেশজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন ঢাকার ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয় এবং সেগুলো ধ্বংস করা হয়।সরকারের দমননীতির কারণে ইতোমধ্যে এক হাজারেরও বেশি আওয়ামী লীগ সমর্থক, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী ও নারী শিল্পীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের অপরাধ ছিল জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের ধ্বংসের বিরুদ্ধে কথা বলা। আজ সকালেই গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামকে। এছাড়া, রাতের আঁধারে অসংখ্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুহাম্মদ ইউনূসের অবৈধ সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই নীতিগত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করছে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী শক্তিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে। জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবৈধ সরকারের কারণে বাংলাদেশকে সিরিয়ার মতো বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।

দেশের পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ, তখন একটি হাস্যকর ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে জামাতপন্থী কিছু বুদ্ধিজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জন্মবার্ষিকী পালন করেছে এবং উর্দু ও আরবি গান গেয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে উপহাস করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমে ইউনূস সরকার প্রমাণ করছে, তারা দেশকে পাকিস্তানি আদর্শে ফিরিয়ে নিতে চায়।

বাংলাদেশের চলমান সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কলকাতার এক টিভি টক শোতে বিশিষ্ট লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী এক মৌলবাদী আলোচকের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এখন যা খুশি করতে পারেন, কারণ আপনাদের সুযোগ আছে। কিন্তু ক্ষমতার সমীকরণ বদলে গেলে আপনাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটা ভাবুন। এটা আপনাদের ভাবনার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে ঘটবে।”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগকে দমন করার জন্য অবৈধ সরকার যে নৃশংস পদ্ধতি অবলম্বন করছে, তার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ ক্রমশ সংগঠিত হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা এই অবৈধ সরকারের পতনের বার্তা বহন করছে।

দিল্লি

দিল্লিতে সংগঠনের অভাবে বিপর্যস্ত বামেরা!

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলোর ভরাডুবি এবার নজিরবিহীন। ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাম দলগুলোর সম্মিলিত প্রাপ্ত ভোট নোটা (NOTA – None of The Above)-র অর্ধেকেরও কম।সিপিআই(এম)-এর শীর্ষ নেতা প্রকাশ করাতের দলসহ অন্যান্য বাম দলগুলোর ভোট এতটাই কম যে, দিল্লির রাজনৈতিক মানচিত্রে কার্যত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে তারা।

এবার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআই(এম), সিপিআই এবং সিপিআই(এম-এল) মিলিয়ে মোট ছ’টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বামেরা। কিন্তু ফলাফল বলছে, প্রতিটি আসনেই তাঁদের প্রাপ্ত ভোট অত্যন্ত নগণ্য।নির্বাচনী হিসেব অনুযায়ী, বাম দলগুলোর সম্মিলিত মোট ভোট সংখ্যা মাত্র ২,১৫৮। অথচ, শুধুমাত্র নোটা ভোটই পড়েছে ৫,৬২৭, যা বামেদের মোট ভোটের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

ভোট শতাংশের বিচারে দেখা যাচ্ছে; সিপিআই(এম) পেয়েছে ০.০১% ভোট, সিপিআই(এম-এল) পেয়েছে ০.০১% ভোট, সিপিআই ০.০২% ভোট পেয়েছে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি, অন্যদিকে নোটা ভোটের পরিমাণ ০.৫৭%, যা বামেদের সম্মিলিত ভোট শতাংশের অনেক বেশি। শুধু বাম দলই নয়, জাতীয় স্তরের আরেকটি দল জনতা দল ইউনাইটেড JD(U)-ও নোটার চেয়ে কম ভোট পেয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিতে বামেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং জনভিত্তির অভাবের কারণেই এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। কয়েক দশক আগেও দিল্লিতে শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে বামপন্থীদের শক্তিশালী ভিত্তি ছিল। কিন্তু বর্তমানে, রাজধানীর রাজনীতিতে তাঁদের কার্যত কোনও অস্তিত্ব নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, বামেদের প্রধান সমস্যা হলো তারা দিল্লির জনমানসে আর কোনও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারছে না। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে এবং ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই বাম শিবির ক্রমশ দুর্বল হয়েছে। এর মধ্যে দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসেবে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টির (AAP) উত্থান বামেদের অস্তিত্ব আরও সংকুচিত করে দিয়েছে।

দিল্লির সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজধানীর রাজনীতিতে বাম দলগুলোর জন্য জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সংগঠনিকভাবে বাম দলগুলো শক্তিশালী না হয় এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে না পারে, তবে আগামী দিনে দিল্লিতে তাদের অস্তিত্ব আরও সংকটে পড়বে।