ত্রিপুরা

‘ত্রিপুরা-আখাউড়া রেল সংযোগ’ পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু!

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা। বৈঠকে রাজ্যে আবহাওয়ার উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা, বাঁশ শিল্পের সমৃদ্ধি, প্রশাসনিক বিষয় এবং আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক বিষয়ে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা বৈঠকে ত্রিপুরায় উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা চান। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর রাজ্যে অস্বাভাবিক হারে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সঠিক সময়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং আশ্বাস দেন যে, মিনিস্ট্রি অফ আর্থ সায়েন্স আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে একটি এডভান্সড ওয়েদার রাডার স্থাপন করবে। এই অত্যাধুনিক রাডার সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস প্রদান করবে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্যকে বিশেষভাবে সহায়তা করবে।

বৈঠকে রাজ্যের বাঁশ শিল্পের উন্নয়ন নিয়েও বিশদ আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এসময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, জৈবপ্রযুক্তি ও বাঁশ ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য আসামের জোড়হাট ও মণিপুরের বিশেষ প্রতিষ্ঠানগুলি রাজ্যে সরকারের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবে। এর ফলে ত্রিপুরার বাঁশ শিল্পের আর্থিক সম্ভাবনা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য এই রেল সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ড. জিতেন্দ্র সিং জানান, কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা-আখাউড়া রেল প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এই প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই বৈঠককে ত্রিপুরার উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আঞ্চলিক সংযোগের উন্নতির মাধ্যমে ত্রিপুরা আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।STN

ত্রিপুরা

সাংবাদিকদের কল্যাণে “ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন”

ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্মেলন রবিবার আগরতলার প্রেস ক্লাবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে দুই শতাধিক সাংবাদিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গণতন্ত্রের সঠিক বিকাশে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব।” এছাড়া, সংবাদমাধ্যমের বিকাশে রাজ্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে দিল্লি থেকে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন। তিনি বলেন, “গণমাধ্যম গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সংবাদমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে একাধিক কর্মসূচি চালু রেখেছে।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডঃ

সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার আগরতলা প্রেস ক্লাব চত্বরে শিশু-কিশোরদের জন্য বসে আঁকো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায়। এছাড়া, ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফটো সাংবাদিকদের তোলা দৃষ্টিনন্দন ছবি প্রদর্শিত হয়। পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী প্রদর্শনী পরিদর্শন করে অংশগ্রহণকারীদের সংবর্ধিত করেন এবং বলেন, “এ ধরনের প্রদর্শনী ত্রিপুরার পর্যটন প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

সাংগঠনিক আলোচনাঃ

সম্মেলনে সংগঠনের সংবিধান সংশোধন, আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সুনীল দেবনাথ গত এক বছরের কার্যক্রমের রিপোর্ট পেশ করেন, এবং সভাপতি বিজয় পাল সম্মেলন পরিচালনা করেন।

সম্মেলনের সূচনাতেই গত এক বছরে প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, যা আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে উপস্থিত সাংবাদিকদের মন ছুঁয়ে যায়।

সাংবাদিকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় সংবাদমাধ্যম আরও শক্তিশালী হবে এবং পেশাদার সাংবাদিকতা আরও উন্নত হবে। সম্মেলনটি সাংবাদিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুক্ত আলোচনা হয়েছে।STN

ভারত

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন!

বাংলাদেশে ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে, বাংলাদেশি কূটনীতিক মিশনগুলোতে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রদবদল এবং প্রথম সচিব হিসেবে বিএনপি নেতা আলমাস হোসেনের নিয়োগ সেই পরিবর্তনেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। আগরতলায় নতুন প্রথম সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিএনপি নেতা এবং বর্তমানে ইউনুস সরকার এর আস্থাভাজন আলমাস হোসেন। এই পদে পূর্বে কর্মরত ছিলেন মোঃ আল আমীন, যিনি শেখ হাসিনার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। ইউনুস সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের পরপরই তাঁকে ঢাকায় বদলি করা হয়।

বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই কূটনীতিক মিশনগুলোতে ব্যাপক রদবদল চলছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সরিয়ে বিএনপি-জামাত ঘরানার কর্মকর্তাদের নিযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এরই অংশ হিসেবে আগরতলার সহকারী হাইকমিশনে প্রথম সচিব পদে পরিবর্তন আনা হলো।

গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের অফিসের সামনে এক বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছিল। এই বিক্ষোভ প্রদর্শনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বিক্ষোভকারীরা অফিস চত্বরে প্রবেশ করে। এই ঘটনার পরপরই আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে ভিসা ও কনস্যুলার সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। সম্প্রতি আবারও সেই সেবা চালু করা হলেও কর্মকর্তাদের দ্রুত বদলি করা শুরু করেছে ইউনুস প্রশাসন।

মোঃ আল আমীন, যিনি প্রথম সচিব হিসেবে আগরতলায় দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাঁকে গত বছরের ৮ই আগস্ট ঢাকায় বদলি করা হয়। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের, বিশেষত ত্রিপুরার জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই তাঁকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের ছাটাই এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর খড়্গ নেমে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ কূটনীতিক মিশনগুলো থেকেও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের এই প্রশাসনিক পরিবর্তন কেবলমাত্র কর্মক্ষেত্রের রদবদল নয়, বরং এটি রাজনৈতিক প্রভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। আগরতলায় নতুন প্রথম সচিব হিসেবে আলমাস হোসেনের যোগদানের ফলে বাংলাদেশ-ভারত বিশেষত ত্রিপুরার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গভীর। তবে কূটনীতিক স্তরে এমন পরিবর্তনের ফলে এই সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউনুস সরকারের এই পদক্ষেপ ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, আগরতলায় আলমাস হোসেনের কার্যকলাপ এবং তাঁর নেতৃত্বে কূটনৈতিক মিশনের ভূমিকা নিয়ে কৌতূহল ও জল্পনা তুঙ্গে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ সরকারের এই কূটনীতিক রদবদল ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলে।STN

দৈনিক

ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত দৈনিক হাজিরা কর্মীরা!

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ত্রিপুরার ফুড, সিভিল সাপ্লাই এন্ড কনজিউমার্স দপ্তরের অধীনে এডি নগর, আগরতলার সেন্ট্রাল স্টোরে কর্মরত দৈনিক হাজিরা কর্মীরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্যের দাবিতে এবার সরব হলেন। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা তাঁদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কাজ করা এই কর্মীদের দাবি, বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁদের উপার্জন অত্যন্ত অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও তাঁদের মজুরিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে সীমিত উপার্জনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

কর্মীরা জানান, প্রতিদিন নিয়মিত কাজ করলেও মাসের শেষে পূর্ণাঙ্গ মজুরি পান না তাঁরা। ছুটির দিনগুলিতে মজুরি না মেলায় আর্থিক ক্ষতি হয়। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, মাসের পূর্ণাঙ্গ হাজিরা মজুরি প্রদান করতে হবে এবং ছুটির দিনগুলির জন্যও উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিতে হবে।কর্মীদের অনেকেই গত দুই দশক ধরে এই সেন্ট্রাল স্টোরে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত কোনো স্থায়ী আর্থিক নিশ্চয়তা পাননি তাঁরা। বয়স বাড়ছে, বাড়ছে পরিবারের চাহিদাও, কিন্তু উপার্জনের সীমাবদ্ধতা তাঁদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

কর্মীরা জানান, তাঁদের একমাত্র চাওয়া প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁরা আশা করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর তাঁদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কর্মীদের মতে, যদি মাসের পূর্ণাঙ্গ মজুরি এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়, তবে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং তাঁরা আরো মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন। কর্মীরা আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে লিখিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সরকারকে জানিয়েছেন তাঁদের আর্থিক অসুবিধার কথা এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের বিভাগীয় দপ্তর এ বিষয়ে আজ পর্যন্ত কোনো সদুত্তর দেয়নি। বরং তাঁদের আবেদনপত্রগুলি উপেক্ষিতই থেকে গেছে।

দৈনিক হাজিরা কর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের দাবিগুলি অবিলম্বে পূরণ না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। তাঁদের মতে, ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য তাঁরা যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। কর্মীদের এই আন্দোলন সরকার ও প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কর্মীরা তাঁদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সমাজের সহানুভূতি ও সমর্থনের প্রত্যাশা করেছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করেও যদি আর্থিক নিরাপত্তা না মেলে, তবে সেটি চরম অবিচার। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

দৈনিক হাজিরা কর্মীদের এই ন্যায্য দাবির বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখন দেখার বিষয়। কর্মীদের দাবির ন্যায্যতা এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সরকার দ্রুত সমাধানমূলক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই পরিস্থিতিতে, প্রশাসনের মানবিক এবং কার্যকরী পদক্ষেপই হতে পারে কর্মীদের জীবনে পরিবর্তনের পথ। এখন দেখার বিষয়, তাঁদের এই ন্যায্য দাবির প্রতিক্রিয়া কবে এবং কীভাবে মেলে।STN

প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সাথে ত্রিপুরার উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা!

ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন মাত্রা দিতে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা। নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সাক্ষাৎকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ত্রিপুরার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক মাতাবাড়ি মা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের পুনর্নির্মাণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে মন্দিরটির উদ্বোধনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি মন্দিরটির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করবে এবং ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সারা ভারতের কাছে আরও পরিচিত করবে।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্য, জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন এবং ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সফল সমাপ্তির জন্য তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং তার নেতৃত্বে দেশের সার্বিক অগ্রগতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—

  • মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তাব।
  • রাজ্যে উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী AIIMS, IIT, IIM-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যা রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
  • ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে কমলপুর থেকে শান্তিরবাজার পর্যন্ত জাতীয় সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়। এই সড়কটি অম্বাসা, গান্দা টুইসা ও আমরপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে সংযুক্ত করবে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ত্রিপুরার উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং রাজ্যের সার্বিক অগ্রগতির জন্য কেন্দ্র সরকারের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ত্রিপুরার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও উন্নত করার পাশাপাশি রাজ্যের অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান খাতকে শক্তিশালী করা হবে।

এই বৈঠকটি ত্রিপুরা ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের পথকে মসৃণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার এই উদ্যোগ ত্রিপুরার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ত্রিপুরার উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার প্রচেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমর্থন রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে।STN

মোদির

মোদির কৌশলগত সাফল্যের এক নতুন দিগন্ত!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক আমেরিকা সফর ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সফরকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছান।

মোদি ও ট্রাম্পের বৈঠকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং নিয়ে আলোচনা হয়।আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ভারতের ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

ইলন মাস্কের সাথে মোদির সাক্ষাৎ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, যেখানে টেসলা ও অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর বিনিয়োগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়, যেখানে উভয় দেশ একে অপরের জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে। ভারতের টেক্সটাইল, ফার্মা, এবং আইটি সেক্টরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কেনার চুক্তি হয়। চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের প্রেক্ষিতে ভারত ও আমেরিকা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ সামরিক মহড়া এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে বলে ঘোষণা করা হয়। ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে আমেরিকা বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মোদির এই সফরে তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারত-মার্কিন বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। মার্কিন সিনেটে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও গভীর করতে নতুন নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়। এই সফরের ফলে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নতুন দিগন্তে পৌঁছেছে। প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে যে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আগামী দিনে বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি সফরের শেষ দিনে বলেন, “এই সফর ভারত ও আমেরিকার অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ সুগম করবে।” ভারতের প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে ভারত ও আমেরিকার যৌথ অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। এই সফর শুধু কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বরং এটি ভারতের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে।STN

প্রতারক

প্রতারকদের কবলে অনলাইন ইনকাম প্রত্যাশীরা!

ত্রিপুরা সহ গোটা পূর্ব ভারতের বিভিন্ন শহরে সক্রিয় প্রতারক চক্র। সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো পেজ খুলে যুবক-যুবতীদের লক্ষ্যে ফাঁদ পেতেছে এরা। মূল উদ্দেশ্য একটাই—ব্যাঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। গত কয়েক মাস ধরে এই চক্রটি বিশেষ করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুবসমাজকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। বিশেষ করে ফেসবুকে ভুয়ো কর্মখালি বিজ্ঞাপন দিয়ে যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে প্রতারকরা। প্রথমে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স ও ঠিকানা জেনে নেওয়ার পর দেওয়া হচ্ছে অদ্ভুত ধরনের কাজের অফার। বলা হচ্ছে, “নতুন ধরনের কাজ, মাত্র তিন ঘন্টার মধ্যে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা রোজগার করা সম্ভব।” এতে ইচ্ছুক হলে প্রথমে রেজিস্ট্রেশনের নামে, কিছু পরিমাণ টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে, তারপর দেওয়া হবে ‘আইডি’।

কাজের ধরন শুনলে যে কারোরই চমকে ওঠার কথা। বলা হচ্ছে, ‘হাই প্রোফাইল’ মহিলাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে, শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, এমনকি রাতও কাটাতে হতে পারে। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি জানানো হচ্ছে, যে টাকা উপার্জিত হবে তার ৩০ শতাংশ কমিশন কেটে নেওয়া হবে। প্রতারকরা গুগল পে-র মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিচ্ছে। ভুক্তভোগী যুবকদের অভিযোগ, টাকা পাঠানোর পর থেকেই তাদের মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। ত্রিপুরার আগরতলা, ধর্মনগর, বিশালগড়, উদয়পুর, কৈলাসহর সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরে প্রতারকরা সক্রিয়। শুধু ত্রিপুরা নয়, গুয়াহাটি, শিলিগুড়ি, কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ জুড়েও এই নেটওয়ার্কের জাল বিস্তৃত।

শুধু যুবকরাই নয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদেরও টার্গেট করে তাদের জালে ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতারকরা। নানা লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে তাদের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চমকপ্রদ তথ্য হল, রাজ্যের সাইবার সেল ও গোয়েন্দা শাখার নজর এড়িয়ে প্রতারকরা কার্যত অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপকর্ম। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কবে সজাগ হবে প্রশাসন? কবে লাগাম টানা হবে এই ভয়ংকর প্রতারণার? সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “অচেনা সোর্স থেকে পাওয়া চাকরির অফারে পা দেবেন না। টাকা চাওয়া হলে নিশ্চিতভাবেই তা প্রতারণা।” অতএব, সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলেই সাবধান! এক মুহূর্তের অসাবধানতা হয়ে উঠতে পারে চরম সর্বনাশের কারণ।STN

তিপ্রামথা

তিপ্রামথা শরিকের ভূমিকা ছেড়ে পরগাছার ভূমিকায় অবতীর্ণ!

তিপ্রামথা

তিপ্রামথার তান্ডবে পাহাড়ি অঞ্চলে বেলাইন বড় শরিক বিজেপি। প্রদ্যুৎ কিশোরকে উঁচু পিঁড়ি দিতে গিয়ে পাহাড়ে ক্রমশ পায়ের নিচের মাটি হারাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মথার প্রভাবে আতঙ্কিত হয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে যোগ দিচ্ছেন প্রদ্যুৎ কিশোরের শিবিরে। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বর্তমানে পাহাড়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং সংগঠনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব প্রকট। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি রাজনীতির উপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করছেন তিপ্রামথা প্রধান প্রদ্যুৎ কিশোর। এক বছরের মধ্যেই এডিসি নির্বাচন এবং যেকোনো সময় ভিলেজ কমিটির ভোট ঘোষণা হতে পারে, তাই বিজেপিকে কোণঠাসা করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে মরিয়া মথা।

বিজেপির জনজাতি নেতৃত্বের অভিযোগ, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ মথার ভয়ে বিজেপি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এডিসি এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের প্রশাসনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। কিন্তু, কেন্দ্রের শাসক দলের সঙ্গে প্রদ্যুৎ কিশোরের সম্পর্কের কারণে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব মথার বিরুদ্ধে সরব হতে পারছে না। তার ওপর তিপ্রামথা সরকারে বিজেপির শরিক হওয়ায়, সাধারণ জনজাতিদের অভয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বিজেপি। ফলে ভয়ে অথবা নিরুপায় হয়ে বহু কর্মী-সমর্থক যোগ দিচ্ছেন তিপ্রামথার দলে।

বিজেপির অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, পাহাড়ের ২০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১০-১৫টিতেই বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি প্রায় শূন্যের কোঠায়। সিমনা, টাকারজলা, গোলাঘাটি, রামচন্দ্রঘাট, আশারামবাড়ী, ওম্পিনগর, মান্দাই, এবং জোলাইবাড়ি সহ বেশ কয়েকটি জনজাতি সংরক্ষিত আসনে বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সদস্যতা পদ অভিযানে তেমন সাড়া না মেলায় দলের ভেতরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের উদ্বেগ, পাহাড়ে সংগঠনের এই ভঙ্গুর অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড় রাজনীতির পুরো স্টিয়ারিং নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন প্রদ্যুৎ কিশোর, যা ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোদী-শাহ নেতৃত্বাধীন বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ি জনজাতি ভোটারদের মন জয় করতে না পারলে বিজেপির সাংগঠনিক ভাটা কাটানো অসম্ভব। মথার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও প্রদ্যুৎ কিশোরের কৌশলী রাজনীতির সামনে পাহাড়ে টিকে থাকতে হলে বিজেপিকে শক্তিশালী নেতৃত্ব খুঁজে বের করতেই হবে। অন্যথায় আগামী নির্বাচনে পাহাড়ি অঞ্চলে তিপ্রামথার কাছে বড়সড় পরাজয়ের মুখোমুখি হতে পারে বিজেপি।

মনিপুর

মনিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন, দীর্ঘ অচলাবস্থার পর বড় সিদ্ধান্ত!

মণিপুরের

প্রায় দুই বছর ধরে অশান্ত মনিপুরে অবশেষে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করল কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের ইস্তফার পর বিজেপি নতুন মুখ ঠিক করতে না পারায়, রাজ্যে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসনের ঘোষণা করেন।

আগামী ৯ মাস দেশে কোনও বিধানসভা নির্বাচন নেই, ফলে এই সময়ের মধ্যে মনিপুরের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। তবে বিরোধীরা বলছে, পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্র অনেক দেরি করে ফেলেছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর ইস্তফা দেন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংহ। রাজ্যপাল অজয়কুমার ভল্লার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও বিজেপি নতুন মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করতে পারেনি। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সম্বিত পাত্র একাধিক বৈঠক করেও সমাধানসূত্র খুঁজে পাননি।

২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষ চলছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে কার্ফু ও ইন্টারনেট বন্ধ করেও শান্তি ফেরানো যায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে, এমনকি বীরেন সিংহ ক্ষমাও চেয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যপালের রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী মণিপুরে সরকার পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতি শাসনের মধ্যে কেন্দ্র কীভাবে মণিপুরের শান্তি ফেরানোর উদ্যোগ নেবে? বিরোধীরা দাবি তুলেছে, দেরিতে হলেও এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের জনগণের স্বার্থে কার্যকর হতে হবে।

জমি কেলেঙ্কারি গ্রেফতার

শিল্প দপ্তরের অধিকর্তা কাইজার দেববর্মা জমি কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার!

ত্রিপুরায় ১৩৩ কানি জমি কেলেঙ্কারি নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে শিল্প দপ্তরের প্রাক্তন অতিরিক্ত অধিকর্তা কাইজার দেববর্মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম থানার পুলিশ কৃষ্ণনগরের বাড়ি থেকে কাইজার দেববর্মাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, জাল জমির দলিল তৈরি করে ১৩৩ কানি জমি বিক্রি করেছেন এবং ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ১.২৫ কোটি টাকা হাতিয়েছেন। এই কেলেঙ্কারির মূল মামলাটি দায়ের করেছিলেন দিল্লির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড এডুকেশন মিশন’-এর অধিকর্তা হিমাংশু পাঞ্চাল।

২০২৩ সালের ১২ জুলাই দায়ের হওয়া এই মামলার পর থেকেই কাইজার দেববর্মা পলাতক ছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এই মামলায় দেবাশীষ চক্রবর্তী, বিপ্লব শর্মা, রাজেশ ত্রিপুরা, সুব্রত আচার্য এবং উত্তম সাহাকে গ্রেফতার করেছিল। তবে কাইজার দেববর্মা এতদিন পালিয়ে ছিলেন এবং আগাম জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়।

ভিযোগ অনুসারে, মোহনপুর মহকুমা শাসক অফিস থেকে জাল জমির দলিল তৈরি করে ১৩৩ কানি জায়গা বিক্রি করেছিলেন কাইজার দেববর্মা। জায়গা বিক্রির পাশাপাশি, ওয়ার্ল্ড এডুকেশন মিশনের কাছ থেকে ১.২৫ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে বোধজংনগরে জায়গা দেখালেও পরে মোহনপুরের কাছে ১৩৩ কানি জায়গা দেখানো হয়। জমি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় মিশনের অধিকর্তা হিমাংশু পাঞ্চাল প্রথমে মোহনপুর মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ জানান। সাড়া না পেয়ে তিনি ২০২৩ সালের ১২ জুলাই দিল্লিতে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ, যার ফলে পাঁচজন গ্রেফতার হলেও এতদিন পলাতক ছিলেন কাইজার দেববর্মা।

কাইজার দেববর্মা শিল্প দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা থাকাকালীন খাদি ও গ্রামোদ্যোগ পর্ষদের দায়িত্বে ছিলেন। তখন তিনি মৌমাছি পালনের জন্য সুবিধাভোগীদের সরকারি সামগ্রী প্রদান না করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেন। তার বিরুদ্ধে জমির জালিয়াতি ছাড়াও সরকারি অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

বাম আমল থেকেই কাইজারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তিনি এক বাম নেত্রীর সহায়তায় খাদি পর্ষদকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। ২০০৬ সালে রাজ্যে প্রথমবার যোগগুরু রামদেবকে এনে কোটি কোটি টাকা রোজগার করেন তিনি এবং শিল্প দপ্তরের অফিসার পদে দীর্ঘদিন থেকে নিজের ব্যাংক ব্যালেন্স ফুলিয়েছেন কাইজার।

পশ্চিম থানার বড়বাবু জানিয়েছেন, কাইজারকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হলেও আদালত তিন দিনের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তাকে জেরা করে এই কেলেঙ্কারিতে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তাদের নাম জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। তদন্তকারীরা আশা করছেন, কাইজারের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে আরও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা যাবে। ১৩৩ কানি জমি কেলেঙ্কারি ত্রিপুরার প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিল্প দপ্তরের প্রাক্তন অতিরিক্ত অধিকর্তা কাইজার দেববর্মার গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। এই মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া কী মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।About Us