প্রধান

একসময়ের পুলিশ চালানো প্রধান পুলিশের হাতেই গ্রেফতার!

সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিপিআইএম দলের প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হাবিব উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি কৈলাসহরের গৌরনগর ব্লকের অন্তর্গত শ্রীনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার কৈলাসহরের মহকুমা পুলিশ অফিসার জয়ন্ত কর্মকার জানান, ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর গৌরনগর ব্লকের তৎকালীন বিডিও ইরানি থানায় শ্রীনাথপুর পঞ্চায়েতের দুর্নীতি নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে শ্রীনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে হ্যান্ড পাম্প বসানোর কাজ এবং প্যালাসিডিং প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সে সময় সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন পঞ্চায়েত সচিব ইয়ামির আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ইয়ামির আলী আদালত থেকে জামিন পান। তদন্ত চলাকালীন ইয়ামির আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হাবিব উদ্দিনের নাম উঠে আসে।

এরপর থেকে হাবিব উদ্দিন পুলিশের নজর এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। তবে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় মহকুমা পুলিশ অফিসার জয়ন্ত কর্মকার ও ইরানি থানার প্রাক্তন ওসি ইন্সপেক্টর যতীন্দ্র দাসের নেতৃত্বে বিশেষ পুলিশ বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার হাবিব উদ্দিনকে কৈলাসহর আদালতে তোলা হয়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় এবং ১৩ পি.সি. অ্যাক্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শ্রীনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে দুর্নীতি এই প্রথম নয়। এর আগেও এই পঞ্চায়েতের এক সচিব অন্য এক দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। তবে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রাক্তন প্রধান হাবিব উদ্দিনের গ্রেফতার হওয়ায় শ্রীনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির বাতাবরণ দেখা যাচ্ছে।

এক সময় বাম শাসনে হাবিব উদ্দিন এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, তার কথাতেই পুলিশ কার্যত পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ। কিন্তু আজ সেই পুলিশই তাকে গ্রেফতার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

জাতীয়

বর্ষার প্রাক্কালেই জাতীয় সড়কের বেহাল দশা!

২০৮ নং জাতীয় সড়কে বিপজ্জনক ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা বর্ষার প্রাক্কালে যান চালকদের জন্য চরম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতি নিম্নমানের নির্মাণ কাজের ফলে এক বছরের মধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও ধসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কমলপুরের মানিকভান্ডার থেকে খোয়াইয়ের বেহালাবাড়ি, বাচাইবাড়ি, চেরমা, সিঙ্গিছড়া, জাম্বুরা এবং গনকী হয়ে আগরতলা পর্যন্ত বিস্তৃত ২০৮ নং জাতীয় সড়কের প্রায় ৮০ কিলোমিটার অংশের মধ্যে বেশ কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খোয়াইয়ের বেহালাবাড়ি থেকে বাচাইবাড়ি, চেরমা এবং জাম্বুরা পর্যন্ত রাস্তাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুকনো মরশুমেই যখন রাস্তার এই অবস্থা, তখন বর্ষাকালে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হবে তা নিয়েই শঙ্কিত স্থানীয় মানুষজন।

স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের ফলে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বহিরাজ্যের একাধিক এজেন্সির মাধ্যমে জাতীয় সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও নির্মাণের সময় গুণগত মান বজায় রাখা হয়নি। মাত্র এক বছরের মধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে, অনেক স্থানে কয়েক ফুট মাটির নিচে বসে গেছে, এবং বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচলে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

জাতীয় সড়ক নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও কাজের মান নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে। খোয়াই মহকুমার বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও শাসক দলের পক্ষ থেকে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। রাস্তা নির্মাণে ব্যবহৃত বালু ও পাথর স্থানীয় প্রভাবশালী নেতৃত্বরা সরবরাহ করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুকুর-ডোবা বা ধানক্ষেতের উপরে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করা হলেও যথাযথভাবে মাটি চাপানো হয়নি, যার ফলে কিছু স্থানে রাস্তা দুই ফুট পর্যন্ত বসে গেছে এবং কোথাও বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষা আসার আগেই এই রাস্তা মেরামত না করা হলে সড়কটি যান চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি উঠেছে, অবিলম্বে সড়কটির পুনর্নির্মাণ এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে বর্ষার সময় যান চালক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে না হয়।

ত্রিপুরার

শিক্ষা, রেল ও প্রযুক্তি খাতে ত্রিপুরার উন্নয়নের জোরালো দাবি!

নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ সফরে গিয়ে কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। রাজ্যের শিক্ষা, রেল পরিকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক দাবি উত্থাপন করেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিদ্যাজ্যোতি স্কুলগুলির আরও উন্নয়ন, মহিলা কলেজকে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা এবং ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিকে (টিআইটি) একটি টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগ রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের পরিকাঠামো শক্তিশালী করবে এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এদিন নয়াদিল্লির রেল ভবনে কেন্দ্রীয় রেল ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। বৈঠকে তিনি ত্রিপুরার রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী, অতি শীঘ্র বন্দে ভারত ট্রেন চালুর দাবি জানান, পাশাপাশি আগরতলা-গুয়াহাটি আন্তঃশহর ট্রেন, ধর্মনগর-সাব্রুম লোক্যাল ট্রেন এবং বোধজংনগর-জিরানিয়া (শিল্প নগরী) ও ধর্মনগর-কৈলাশহরের মধ্যে নতুন রেলপথ স্থাপনের প্রস্তাব দেন। রাজ্যের কৃষকদের স্বার্থে আগরতলা ও গুয়াহাটির মধ্যে সংযুক্ত একটি কিষান ট্রেন চালুরও অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই উদ্যোগ কৃষি পণ্য পরিবহণ সহজ করবে এবং কৃষকদের লাভবান করবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের আইটি পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে আলোচনা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য তিনি কেন্দ্রের সহযোগিতা কামনা করেন। এই সফরের মাধ্যমে ত্রিপুরার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের অগ্রগতির পথ সুগম করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

SPO

চরম অনিশ্চয়তায় SPO জওয়ানদের পরিবারগুলো!

ত্রিপুরা রাজ্যে একসময় উগ্রবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা SPO (স্পেশাল পুলিশ অফিসার) জওয়ানরা আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একসময় বৈরি সন্ত্রাস দমন করতে গিয়ে জীবন বাজি রেখে কাজ করা এই জওয়ানদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারে।

২০০০ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের নেতৃত্বে নৃপেন চক্রবর্তীর আমলে রাজ্যে SPO বাহিনী গঠিত হয়। রাজ্য থেকে উগ্রবাদ দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত SPO জওয়ানদের জঙ্গল অভিযানে পাঠানো হত। তাঁরা রাজ্য পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে রাজ্যে ধীরে ধীরে উগ্রবাদী কার্যকলাপ হ্রাস পায় এবং বর্তমানে ত্রিপুরা শান্তিপূর্ণ রাজ্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু উগ্রবাদ নির্মূল হওয়ার পর এই বাহিনীর কদর কমতে শুরু করে।

২০০০ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে একটানা ২৪ বছর কর্তব্য পালন করলেও এসপিও জওয়ানদের নিয়মিত করা হয়নি। এমনকি তাঁদের বেতন ও ভাতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, এসপিওদের রাজ্য পুলিশের মতো নিয়মিত করা হবে এবং সমস্ত সুবিধা দেওয়া হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবে রূপ পায়নি। বর্তমানে রাজ্যের ৩৭০০ জন এসপিও জওয়ানকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও থানার গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য ডাকা হলেও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। একসময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এসপিওদের নিজস্ব ক্যাম্প থাকলেও, আজ তাঁরা অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

প্রথম দিকে এসপিও জওয়ানরা ৭,০০০ টাকা মাসিক পারিশ্রমিক পেতেন, যা সম্প্রতি ১২,০০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। তবে তাঁদের দাবি, এই সামান্য বেতন দিয়ে পরিবার চালানো অসম্ভব। তাছাড়া, তাঁদের নিয়মিত পুলিশ কর্মীদের মতো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। একজন এসপিও যদি কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যান, তবে তাঁর পরিবারের জন্য নেই কোনো সরকারি সহায়তা। ২০০০ সাল থেকে এপর্যন্ত ১২৬ জন এসপিও জওয়ান মৃত্যুবরণ করেছেন, কিন্তু তাঁদের পরিবারকে সরকার এক টাকাও অনুদান দেয়নি। ফলে তাঁদের পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছে। আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল এসপিও জওয়ানদের সমস্যার সমাধানে জোরালো দাবিতে সরব হয়নি। ফলে তাঁদের দুর্দশা ক্রমশ বাড়ছে।

একসময় জীবন বাজি রেখে রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসপিও জওয়ানরা আজ অস্থায়ী কর্মীর মতো কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন জওয়ান ও তাঁদের পরিবার। ভুক্তভোগী এসপিও জওয়ানদের একটাই প্রশ্ন— তাঁরা কি কখনো ত্রিপুরা পুলিশের মতো স্বীকৃতি পাবেন? নাকি তাঁদের সারা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যেই কাটাতে হবে?

বাজার

আগরতলা শহরের বাজারগুলির হাল বেহাল!

আগরতলা শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও ঘিঞ্জি এলাকা মহারাজগঞ্জ বাজার, যেখানে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগেই থাকে। নেতাজি সুভাষ রোড, কামান চৌমুহনী, সেন্ট্রাল রোড, এমবিবি ক্লাব সংলগ্ন এলাকা— সর্বত্রই একই চিত্র। একদিকে অবৈধ পার্কিং, অন্যদিকে রাস্তায় লরি থামিয়ে লোডিং-আনলোডিং, ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করেই বুধবার ট্রাফিক বিভাগ এক লোক দেখানো অভিযান চালায়। অভিযান পরিচালনা করেন ট্রাফিক সুপার মানিক লাল দাস, যিনি অবৈধ পার্কিংকে যানজটের প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করলেও রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা লরিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। কয়েক বছর আগে নাগিছড়া বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় আনলোডিং স্টেশন চালু করা হলেও, সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি। এখনও মহারাজগঞ্জ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আনলোডিং চলছেই, যা যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ।

আগরতলা পুর নিগমের দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়র দীপক মজুমদার মহারাজগঞ্জ বাজার এবং বটতলা বাজার পরিদর্শন করেছিলেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, রাস্তা দখল করে বর্হিরাজ্যের লরি থেকে মাছ ও অন্যান্য পণ্য আনলোডিং বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দুই বছর পার হলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বুধবার ট্রাফিক সুপার মানিক লাল দাস ও পুর নিগমের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার যৌথ অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখল মুক্ত করার চেষ্টা করেন। কিছু ব্যবসায়ীর সামগ্রী জব্দ করা হলেও, তেমন কোনো বড় পদক্ষেপ বা জরিমানা করা হয়নি। ট্রাফিক সুপার জানান, ফুটপাত দিয়ে সাধারণ মানুষ চলাচল করবে, সেটি কেন দখল হয়ে থাকবে?

শহরবাসীর চাওয়া, লোক দেখানো অভিযান নয়, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক সরকার। মহারাজগঞ্জ বাজারের যানজট দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নাগিছড়া আনলোডিং স্টেশন কার্যকর করা ও অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা জরুরি। ভুক্তভোগী মানুষের একটাই প্রশ্ন— যানজট সমস্যা থেকে মুক্তি কবে?

আগরতলা পুর নিগম

আগরতলা পুর নিগমে কর ফাঁকি রোধে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার!

কর ফাঁকি রোধ এবং জমির সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিল আগরতলা পুর নিগম। এবার থেকে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিগম এলাকার জমির পরিমাপ করা হবে। শহরের রাস্তাঘাট, জলনিকাশি ব্যবস্থা, এবং সম্পত্তির সঠিক হিসাব পেতে এই আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার করবে পুর নিগম। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয় আগরতলা পুর নিগমের কনফারেন্স হলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, কমিশনার শৈলেশ কুমার যাদব, বিধায়িকা মিনারানী সরকার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

পুর নিগম সূত্রে জানা গেছে, আগরতলা শহরের অনেক বাসিন্দা বাড়ির সঠিক পরিমাপ গোপন করে ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন। তিনতলা বাড়ি থাকার পরেও দ্বিতল ভবনের কর পরিশোধ করছেন অনেকেই। জমির পরিমাপেও গরমিল করে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি, পুর নিগমের জমি দখল করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ঘটনাও ঘটছে। এবার ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে জমির সঠিক পরিমাপ করে এইসব ট্যাক্স ফাঁকি রোধ করতে চাইছে আগরতলা পুর নিগম।

মেয়র দীপক মজুমদার জানিয়েছেন, ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগরতলার ৫১টি ওয়ার্ডের জমি পরিমাপ করা হবে। এর ফলে জমির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা হবে। শুধু তাই নয়, ড্রোনের মাধ্যমে পাওয়া ছবি এবং তথ্যের ভিত্তিতে শহরের উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, “শহরবাসী তাদের বাড়িঘরের সঠিক পরিমাপ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে পুর নিগম থেকে কাগজপত্র দেওয়া হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জমি পরিমাপ হলে কারো পক্ষেই অভিযোগ তোলার সুযোগ থাকবে না।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল বলেন, “এটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি এবং একে আমি মোদি ম্যাজিক বলেই অভিহিত করব। ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে জমির পরিমাপে স্বচ্ছতা আসবে, যা নাগরিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে।” তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিমাপের ফলে জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে। ‘সিটি সার্ভে’ নামক এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগরতলা পুর নিগম এলাকায় এক বছরের মধ্যে ভূমি জরিপের কাজ সম্পন্ন হবে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে নাগরিকদের হাতে থাকবে সঠিক এবং আপ-টু-ডেট ভূমি রেকর্ড। এতে করে জমি সংক্রান্ত বিরোধ কমবে, সম্পত্তি লেনদেন সহজ হবে এবং নগর পরিকল্পনায় গতি আসবে। একইসাথে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও দুর্নীতির পথও বন্ধ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মেয়র দীপক মজুমদার আরও জানান, দেশের ১৫২টি শহরে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে জমি পরিমাপ করা হবে, যার মধ্যে আগরতলা শহরও রয়েছে। এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্পোরেটারদের এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। তাদেরকে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভূমি পরিমাপের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারে জমির সঠিক হিসাব ও কর আদায়ে স্বচ্ছতা আসবে বলে আশাবাদী আগরতলা পুর নিগম। এ উদ্যোগকে ইতিমধ্যেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন নগরবাসী।

কংগ্রেসের

কংগ্রেসের যুবনেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কানাইয়া কুমার ত্রিপুরার জনগণের কাছে!

শাসক দল বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম-এর পর এবার রাজধানী আগরতলায় শক্তি প্রদর্শনের পালা কংগ্রেসের। কংগ্রেস এই শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জোরেশোরে। আগামী ১১ মার্চ আগরতলায় আয়োজিত হবে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক জনসভা। এই জনসভায় উপস্থিত থাকবেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং যুবনেতা কানাইয়া কুমার। আজ আগরতলায় কংগ্রেস ভবনে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা জানিয়েছেন, আসন্ন জনসভার মূল স্লোগান হবে ‘সংবিধান বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’। তার অভিযোগ, বিজেপি ও আরএসএস দেশের সংবিধান এবং মহান ব্যক্তিত্বদের ভাবাদর্শকে মুছে ফেলতে চাইছে। বিশেষ করে ড. ভীমরাও আম্বেদকর, প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে নস্যাৎ করার চেষ্টায় লিপ্ত বিজেপি।

এর বিরুদ্ধে গোটা দেশ জুড়ে কংগ্রেস পাল্টা প্রচার চালাচ্ছে, যা সংসদের ভেতরে ও বাইরেও সমানভাবে তীব্র হচ্ছে। এরই অঙ্গ হিসাবে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কংগ্রেস। রাজ্যে সাংগঠনিক শক্তি সংহত করতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে তারা। জেলা ভিত্তিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে নিয়মিত। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে আয়োজিত হবে কংগ্রেস সেবা দলের কনভেনশন। আশীষ কুমার সাহা দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ সিপিআইএম ও বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হয়ে এখন কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, “গ্রাম থেকে পাহাড়, সর্বত্রই মানুষ এখন কংগ্রেসমুখী।”

বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ আনেন পিসিসি সভাপতি। তার দাবি, রাজ্যে কংগ্রেসের অগ্রগতি থামাতে বিজেপি কৌশলগতভাবে সিপিআইএম-এর প্রচার করছে। তিনি বলেন, “বিজেপি নেতারা এখন সিপিআইএম-এর নাম বেশি করে মুখে নিচ্ছেন, এমনকি সাংবাদিক সম্মেলনেও সিপিআইএম-এর হয়ে প্রচার করছেন, যাতে ভোট বিভাজন করে কংগ্রেসকে ঠেকানো যায়। তবে কংগ্রেসকে কোনোভাবেই আটকানো যাবে না।”

এদিকে, রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে কংগ্রেস। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনজাতি নেতা-কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, যা কংগ্রেসের জনভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। আগামী ১১ মার্চের জনসভা ত্রিপুরা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ গড়ে তুলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ONGC

তেল ও গ্যাস সংরক্ষণে ONGC-র সেমিনারে বিশেষ আলোচনা!

ONGC এবং ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার রাজ্যে শাখার উদ্যোগে গোর্খাবস্তির পন্ডিত নেহেরু কমপ্লেক্সে তেল ও গ্যাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গণসচেতনতা বাড়াতে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বর্তমান জ্বালানি সংকট ও পরিবেশ দূষণের প্রেক্ষাপটে এই সেমিনার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

অনুষ্ঠানে ONCG-র সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার প্রসূন কুমার জানান, ONGC তাদের প্রকল্পগুলিতে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, যা শক্তি সঞ্চয় এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে ONGC-র সাতটি ড্রিলিং রিং রয়েছে, যা মাটির ছয় কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত ড্রিল করতে সক্ষম। তবে ড্রিলিংয়ের সময় পরিবেশ দূষণ রোধে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। কার্বন নির্গমন কমাতে এবং শক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবুজ শক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পুনর্নবীকরণ শক্তির ব্যবহার তেল ও গ্যাস সংরক্ষণের পাশাপাশি শক্তির অপচয় রোধ করবে এবং পরিবেশ দূষণ কমাবে।”

সেমিনারে ONGC-র সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার বৈভব কুমার এবং ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার রাজ্যে শাখার সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়নাথ দাস-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবুজ শক্তির ব্যবহার এবং শক্তি সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং জৈবশক্তির ব্যবহারকে আরও কার্যকর করে তোলার মাধ্যমে কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব। এছাড়া, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ড্রিলিং এবং অন্যান্য তেল-গ্যাস উত্তোলন প্রক্রিয়ায় বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে এনে শক্তি সঞ্চয় করা যেতে পারে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, “ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে সবুজ শক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।” তারা সবাইকে তেল ও গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং পুনর্নবীকরণ শক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করেন। এই সেমিনারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে তেল ও গ্যাস সংরক্ষণ এবং সবুজ শক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুনর্নবীকরণ শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়।

STN

প্রযুক্তির

সিপিআইএম AI প্রযুক্তির ব্যবহারেও পুরনো অবস্থানে!

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নারাজ সিপিআই(এম)। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে কম্পিউটার বিপ্লবের বিরোধিতা করার পর এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর বিরুদ্ধে সরব হলেন তারা। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে গৃহীত রাজনৈতিক খসড়া প্রস্তাবে AI-কে ‘কম্পিউটার-নির্ভর শোষণ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা তাদের আগের কম্পিউটারবিরোধী অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কম্পিউটার বিপ্লবের বিরুদ্ধে ছিল সিপিআই(এম)!

১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে সিপিআই(এম) কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রসারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, কম্পিউটার আসার ফলে লাখ লাখ মানুষের চাকরি চলে যাবে, যা বেকারত্বের হার বাড়াবে। সেই সময় তারা দাবি করেছিল, কম্পিউটার শ্রমিকশ্রেণির ওপর শোষণ বাড়াবে এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, কম্পিউটার বিপ্লব শুধু কর্মসংস্থান বাড়ায়নি, বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করেছে এবং নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

এখন আবার AI-এর বিরুদ্ধে সিপিআই(এম)!

ঠিক একই যুক্তি এবার সিপিআই(এম) AI-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করছে। দলের রাজনৈতিক খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, AI স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক হোয়াইট-কলার (সাদা-কলার) চাকরি কেড়ে নিচ্ছে, যা একসময় মানুষের দক্ষতার একচেটিয়া দখলে ছিল। সিপিআই(এম)-এর দাবি, AI-এর কারণে কর্মসংস্থানের অভাব তৈরি হচ্ছে, যা সমাজে বৈষম্য বাড়াবে এবং আর্থিক অসাম্যকে তীব্র করবে।

গোপনীয়তার ওপর হুমকি?

সিপিআই(এম) শুধু কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কাই প্রকাশ করেনি, বরং AI-কে গণতন্ত্র ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্যও হুমকি বলে অভিহিত করেছে। দলের দাবি, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি AI ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে, যা মানুষের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করছে। এছাড়া AI-চালিত অস্ত্র এবং ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা মানবজাতির জন্য আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। কম্পিউটার বিপ্লবের সময়ও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল সিপিআই(এম), কিন্তু পরে দেখা গেছে, কম্পিউটার নতুন নতুন পেশার জন্ম দিয়েছে, এবং তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

একই ভুল আবার?

প্রযুক্তির

বিশ্লেষকদের মতে, সিপিআই(এম)-এর বর্তমান AI-বিরোধী অবস্থান অনেকটাই ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকের কম্পিউটার বিরোধিতার মতোই। তখন তারা বলেছিল, কম্পিউটার চাকরি নষ্ট করবে, কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা গেছে, কম্পিউটার বিপ্লব নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে। বর্তমান বাস্তবতা হল, সিপিআই(এম)-এর প্রতিটি পার্টি অফিসেই এখন কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, পূর্বে সিপিআই(এম) যে কম্পিউটারের বিরোধিতা করেছিল, সেটা যে ভুল ছিল, তারা কি এখন সেটা স্বীকার করবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিপিআই(এম) তাদের পূর্ববর্তী ভুলগুলিকে শোধরাতে নারাজ এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে অক্ষম।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?

বিশ্ব ইতিহাস বলে, যে জাতি প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি, তারা সময়ের স্রোতে বিলীন হয়েছে। সিপিআই(এম) কি সেই একই পথে হাঁটছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিপিআই(এম)-এর এই প্রযুক্তি-ভীতি এবং নতুনত্বের প্রতি বিরূপ মনোভাব তাদের ক্রমাগত রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় ঠেলে দিচ্ছে।

প্রযুক্তির সঙ্গে চলার প্রয়োজনীয়তা!

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির বিরোধিতা করে উন্নয়ন রোধ করা সম্ভব নয়। বরং এই প্রযুক্তিগুলি যাতে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, সেই দিকেই রাজনৈতিক দলগুলির নজর দেওয়া উচিত। অভিজ্ঞদের মতে, AI কিছু পুরনো চাকরি বদলে দেবে, কিন্তু এটি নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে। বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যয় হ্রাস এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে AI ব্যবহার অপরিহার্য। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে এবং উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে AI প্রযুক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা জরুরি। তাই, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে AI প্রযুক্তিকে আয়ত্ত করা আজকের প্রয়োজন।

AI-এর ইতিবাচক দিক

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, AI শুধু কর্মসংস্থানই তৈরি করবে না, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI আধুনিক যুগের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অন্যতম প্রধান উদাহরণ। এর ইতিবাচক দিকগুলির মধ্যে অন্যতম হলো স্বাস্থ্য খাতে নির্ভুল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান, যা মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষাক্ষেত্রে AI ব্যবহার করে ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষা প্রদান সম্ভব হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াচ্ছে। ব্যবসায়িক খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে লাভজনকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া, দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় সেবা প্রদান এবং ব্যক্তিগতকৃত অভিজ্ঞতা তৈরিতে AI অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে।

শেষ কথা!

এক সময় কম্পিউটারের বিরুদ্ধে সরব থাকা সিপিআই(এম) আজ AI-এর বিরোধিতা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, প্রযুক্তির পরিবর্তন ঠেকানো যায় না। বরং প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান সুরক্ষার দিকে নজর দেওয়াই শ্রেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিপিআই(এম)-এর উচিত তাদের পুরনো অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে প্রযুক্তির উন্নয়নকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা, নচেৎ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি অবশ্যম্ভাবী। প্রযুক্তির পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সিপিআই(এম)-এর এই অবস্থান কি তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও সংকটে ফেলবে, নাকি তারা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ সময়ই।

STN

টিপ্রাসা

ভোট অস্ত্র টিপ্রাসা Accord নিয়ে তীপ্রা-মথা আবার দিল্লির দরবারে!

ত্রিপুরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের আলোচনার কেন্দ্রে টিপ্রাসা Accord। বিজেপি নেতৃত্বাধীন ত্রিপুরা সরকারের প্রধান মিত্র তিপ্রা মথা পার্টির (টিএমপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল টিপ্রাসা Accord নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত করতে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

তিপ্রা মথার এক শীর্ষ নেতা জানান, টিপ্রাসা Accord নিয়ে আলোচনা ৯৫% অগ্রগতি লাভ করেছে এবং বাকি ৫% নিয়েই বর্তমানে আলোচনা চলছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, দিল্লির সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে এবং তারা আশা করছেন শীঘ্রই চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যাবে। তিপ্রা মথা নেতা আরও জানান, কেন্দ্র শুধুমাত্র ত্রিপুরার জন্য ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল স্থগিত রেখেছে কারণ তিপ্রা মথার সঙ্গে কেন্দ্রের আলোচনা চলছে।

এখন পর্যন্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের অধীনে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর, যেখানে তিপ্রা মথা তাদের প্রধান দাবিগুলি পেশ করেছে। তিপ্রা মথা পার্টির প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ত্রিপুরার আদিবাসী জনগণের ভূমি অধিকার সুরক্ষা এবং ১৯টি জনজাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ। তাছাড়া, আলোচনার অন্যতম মূল বিষয় ছিল রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা। তিপ্রা মথা পার্টি সরাসরি উপজাতি জেলা পরিষদ (এডিসি) এলাকাগুলিতে তহবিল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে, যাতে ওই অঞ্চলের আর্থিক সম্পদের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকে। দলের এক বিধায়ক জানান, “আর্থিক স্বায়ত্তশাসন একটি বড় সমস্যা। এডিসি প্রশাসন বারবার অভিযোগ করেছে যে রাজ্য থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ তারা পায়নি।”

তিপ্রা মথা পার্টি আলোচনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দাবি তুলেছে। প্রথমত, ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএডিসি)-এর আসনের সংখ্যা ২৮ থেকে ৫০-এ উন্নীত করার প্রস্তাব।দ্বিতীয়ত, তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত বিধানসভা আসনের সংখ্যা ২০ থেকে ২৭ করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

যদিও আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করছে তিপ্রা মথা, তবে কিছু উত্তেজনাও রয়ে গেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, টিপ্রাসা Accord নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলে ত্রিপুরার আদিবাসী জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে পারে। এমনকি, সময়মতো সমাধান না হলে শাসক জোট থেকে বেরিয়ে আসার কথাও জানিয়েছেন তারা।

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তিপ্রা মথার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক টিপ্রাসা Accord-র ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে, তিপ্রা মথার দাবি মেনে নিলে ত্রিপুরার আদিবাসী জনগণের ভূমি অধিকার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি কী হয় এবং টিপ্রাসা Accord বাস্তবায়নে আদিবাসী জনগণের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হয়।

straightlines