শিক্ষা

শিক্ষামূলক ভ্রমণ থেকে ফেরার পথে শিক্ষিকাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিলো মোটর শ্রমিক?

শিক্ষা ক্ষেত্রে চরম গাফিলতির অভিযোগে বরখাস্ত শিক্ষিকা, ঘটনা চম্পকনগরে। শিক্ষাসফর থেকে ফেরার পথে স্কুলছাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে চম্পকনগরে। অভিযোগ, স্কুলের শিক্ষিকারা বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর চালক ও সহ-চালক মদ্যপ অবস্থায় ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করে। এই ঘটনার জেরে চম্পকনগর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সায়েন্স সিটিতে শিক্ষাসফরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফেরার পথে ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বাসে শিক্ষিকারাও ছিলেন। তবে বাড়ির সামনে পৌঁছেই শিক্ষিকারা বাস থেকে নেমে যান এবং স্কুলের ঐ শিক্ষিকারা ছাত্রীদের চালক ও সহ-চালকের হাতে ছেড়ে দেন। তারপরেই চালক ও সহ-চালক মদ্যপান করে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ ওঠে। আতঙ্কিত ছাত্রীদের কান্নার মধ্যেই তারা বাড়িতে ফোন করলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত স্থানীয়রা এবং অভিভাবকরা আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

ঘটনা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নজরে এলে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরেই শিক্ষা দপ্তর, কর্তব্যে চরম অবহেলার দায়ে তিন শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করে। বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকারা হলেন গৌরী মজুমদার, রূপা দেবনাথ এবং কুমকুম দাস, যারা সকলেই স্নাতক স্তরের শিক্ষক।

ইতিমধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চালক ও সহ-চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্য সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য ভয়মুক্ত ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

দলীয়

দলীয় সংবিধান অমান্য করতে বাধ্য হলেন CPIM?

পার্টি সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে মানিক সরকারেই ভরসা CPIM-র। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৭৫ বছরের বেশি বয়স হলে পার্টির কোনো পদে থাকা যাবে না, তবুও ৭৫ বর্ষীয় মানিক সরকারের উপরেই ভরসা রাখল সিপিএম। এই নিয়মের কারণে পবিত্র কর ও নারায়ণ করকে রাজ্য কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হলেও মানিক সরকারের ক্ষেত্রে এই দলীয় আইন প্রযোজ্য হয়নি । এতে স্পষ্ট, আগামী ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনিই হবেন দলীয় মুখ।

CPIM-র রাজ্য সম্মেলনে নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে জিতেন্দ্র চৌধুরী রাজ্য কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সম্মেলনের পর দলীয় কৌশল থেকে স্পষ্ট, নেতৃত্বের মূল ভরসা এখনো মানিক সরকারই। জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেছেন, “মানিকদার বয়স ৭৫ এর বেশি হলেও তিনি এখনো সতেজ ও সুস্থ। নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তার এখনো অটুট।” রাজ্য কমিটিতে নতুন মুখ প্রায় নেই বললেই চলে, মাত্র একজন নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ, দল নতুন নেতৃত্ব গঠনে ব্যর্থ হয়েছে এবং পুরনোদের উপরেই ভরসা রাখতে বাধ্য হচ্ছে। একসময় নৃপেন চক্রবর্তী দলকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন এবং মানিক সরকার, বাদল চৌধুরী ও বিজন ধরকে নেতৃত্বের উপযোগী করে গড়ে তুলেছিলেন, যার ফলে দল একটানা ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিল। কিন্তু মানিক সরকার দীর্ঘ ২০ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরও কোনো উত্তরসূরি তৈরি করেননি। দলের তিন দিনব্যাপী রাজ্য সম্মেলন শেষে শুক্রবার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৬০ সদস্যের রাজ্য কমিটিতে ৮ জন স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য রাখা হয়েছে। যদিও জিতেন্দ্র চৌধুরী রাজ্য সম্পাদক হয়েছেন, তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে মানিক সরকারই দলের প্রধান মুখ থাকবেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাকে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করছে CPIM।

এই সম্মেলনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল, নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি এবং পুরনোদের উপরেই দল নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। সিপিএম কি ভবিষ্যতের জন্য নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারবে, নাকি মানিক সরকারের অভিজ্ঞতার উপরই নির্ভর করবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।