মাতা

মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা..?

লোভের বশবর্তী হয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত আনার চেষ্টা করছে একটা দুষ্টচক্র, সাথে জড়িত মন্দিরের পুরোহিতরাও। ঐতিহ্যবাহী মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের গরিমা আজ কলঙ্কিত! তাও আবার মন্দিরে নিয়োজিত পুরোহিত কর্তৃক। যা ধর্মপ্রাণ মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।

মন্দিরে নিয়োজিত পুরোহিতের অতিরিক্ত লোভের কারণে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এক জনজাতি পরিবারের। ঘটনা মাতা সুন্দরী মন্দিরের বলি গৃহে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় রবিবার এক জনজাতি পরিবার তার পারিবারিক সমস্যায় মাতা ত্রিপুরা সুন্দরীর কাছে মানত করেছেন যে একজোড়া পাঁঠা মন্দিরে নিয়োজিত পুরোহিত কর্তৃক মায়ের নামে উৎসর্গকৃত করে মন্দির চত্বরে ছেড়ে দেবেন। এই পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। ব্যাঘাত ঘটে পুরোহিত কর্তৃক জোড়া পাঁঠা উৎসর্গ করে, সেই পুরোহিত নিজের হাত থেকে জোড়া পাঁঠা ছাড়তে চাইছিলেন না। এমনকি ওই জোড়া পাঁঠা সেই পুরোহিতের নিজের পছন্দের নির্দিষ্ট জায়গায় বেঁধে রেখেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিমত।

যে জনজাতি পরিবার জোড়া পাঁঠা মন্দির চত্বরে ছেড়ে দেবেন বলে এনেছিলেন তাদের অনেক আকুতি মিনতির পরও পাঁঠা জোড়া আর ছাড়া হয়নি বলে অভিযোগ মন্দিরের তিন পুরোহিত তিমির চক্রবর্তী, বিজন চক্রবর্তী ও সঞ্জয় চক্রবর্তী-র বিরুদ্ধে। অবশেষে এক প্রকার বাধ্য হয়েই ওই জনজাতি পরিবার মন্দিরের অফিস গৃহে গিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। পরে শোনা যায় অফিসের হস্তক্ষেপে পাঁঠা ছেড়ে দেওয়া হয়।ত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ ওই পুরোহিত এরই মধ্যে কয়েকজন পাঁঠা বেপারীকে খবর দেন পাঁঠা খরিদ করার জন্য। মন্দিরে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষ যখন চেপে ধরেন ওই পুরোহিতকে তিনি বলেন “মন্দির চত্বরে ছাড়া যাবে না” সেটা ওনার পছন্দের জায়গায় উনার হাত দিয়ে ছাড়তে হবে এটাই নাকি মন্দিরের নিয়ম। এ ব্যাপারে মন্দিরের ম্যানেজার বাবুর সঙ্গে কথা বললে উনি জানান অনেকদিন ধরেই পাঁঠা নিয়ে এই অরাজকতা চলে আসছে। এ ব্যাপারে উনার কাছে খবর আছে কিন্তু কেউ কোন অভিযোগ করেনি বলে উনি এতদিন এর কোনো বিহিত  করতে পারেননি। আজকে প্রথম জনজাতি পরিবারটি অভিযোগ করাতে ঘটনাটা স্পষ্ট হলো।আর উৎসর্গকৃত জোড়া পাঁঠা মন্দিরের নিয়োজিত পুরোহিতের পছন্দের নির্দিষ্ট স্থানে ছাড়তে হবে এমন কোন আইন নেই। যিনি উৎসর্গ করবেন উনার ইচ্ছাতেই সবকিছু হয়। ম্যানেজারবাবু আরো বলেন এ ব্যাপারে মন্দিরের সেবাইত জেলা শাসককে সবকিছু জানানো হবে বিস্তারিতভাবে।

গত কয়েক মাস আগে মন্দিরের বলি গৃহের সামনাকে মাংসের বাজারে পরিণত করেছিল কিছুসংখ্যক টলুয়া। খবরের জেরে তা বন্ধ হয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। বর্তমানে বলি গৃহকে পাঁঠা বাজারে পরিণত করতে চাইছে মন্দিরে নিয়োজিত একাংশ পুরোহিত। কোন এক অজ্ঞাত কারনে মন্দিরের ট্রাস্ট কমিটি একেবারে চুপ, এই নিয়ে সর্বত্র চলছে চরম গুঞ্জন। পুরোহিত কর্তৃক মন্দিরের ভিতরে এই অরাজকতা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না  ফলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে।

ভারতের

ভারত-ইংল্যান্ড T20 সিরিজের ৫ম ম্যাচেও বিশাল জয় ভারতের!

ভারতের মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ টি২০ ম্যাচে ভারতীয় ক্রিকেট দল ইংল্যান্ডকে ১৫০ রানে পরাজিত করে সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এই ম্যাচে ব্যাট এবং বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন অভিষেক শর্মা, যা দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 ইংল্যান্ড টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ভারতকে। খেলতে নামে ওপেনার অভিষেক শর্মা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করেন। মাত্র ৫৪ বলে ১৩৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৭টি চার এবং ১৩টি ছক্কা। তার এই ইনিংসটি ভারতের T20 আন্তর্জাতিক ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি হিসেবে স্থান পেয়েছে; তিনি মাত্র ৩৭ বলে শতরান পূর্ণ করেন, যা রোহিত শর্মার ৩৫ বলে সেঞ্চুরির পরেই আসে। অভিষেকের এই বিধ্বংসী ইনিংসের ফলে ভারত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। ইংল্যান্ডের বোলাররা তার আক্রমণের সামনে অসহায় ছিল। বিশেষ করে, মার্ক উড এবং জোফ্রা আর্চার তাদের স্পেলের সময় প্রচুর রান দেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের ইনিংস শুরুতেই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। ফিল সল্ট কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা যথেষ্ট ছিল না। ইংল্যান্ডের পুরো দল মাত্র ১০.৩ ওভারে ৯৭ রানে অলআউট হয়।

বল হাতেও অভিষেক শর্মা তার দক্ষতা প্রদর্শন করেন। তিনি মাত্র এক ওভারে ৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন, যা ইংল্যান্ডের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিতে সহায়তা হয়। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন অভিষেক শর্মা। সিরিজ জুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য বরুণ চক্রবর্তী সিরিজ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান; তিনি সিরিজে মোট ১৪টি উইকেট নিয়েছেন।

এই জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় দল প্রমাণ করেছে যে তারা T20 ফরম্যাটে কতটা শক্তিশালী। অভিষেক শর্মার উত্থান দলের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি, এবং তার এই পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে দলের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনবে বলে আশা করা যায়।

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলার ম্যাচের পরে ভারতের কনকাশন বদলির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পরবর্তীম্যাচে আমরা ১২ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলব,” যা ভারতের কনকাশন বদলির সিদ্ধান্তের প্রতি তার অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।

সিরিজের পরবর্তী ধাপে উভয় দলই একদিনের ম্যাচে মুখোমুখি হবে, যা নাগপুরে অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় দলের এই জয় এবং অভিষেক শর্মার অসাধারণ পারফরম্যান্স দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। তার এই ইনিংসটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হবে বলে বিশ্বাস এবং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য প্রেরণার উৎস হবে এই পারফরম্যান্স। T20 সিরিজের এই ফলাফল উভয় দলের মনোবলেই প্রভাব ফেলবে, এখন দেখার একদিনের সিরিজে তারা কে কেমন পারফর্ম করে।

বিশ্ব

বিশ্বকাপ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা T20 বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয় ভারতীয় মহিলাদের।

অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা T20 বিশ্ব-কাপে অপরাজিত থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শিরোপা অর্জন করল ভারতের মেয়েরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৯ উইকেটে জয় লাভ করে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা দল। এই জয়ের মাধ্যমে তারা আবারও প্রমাণ করল, বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতীয় মহিলারাও কোন অংশে কম নয়।

ফাইনালের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

»দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ঃ ৮২/১০ (২০ ওভার)
»ভারত মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ঃ ৮৪/১ (১১.২ ওভার)

টস জিতে ভারত প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে মাত্র ৮২ রানে গুটিয়ে যায়। ভারতীয় বোলারদের দুর্দান্ত স্পিন ও পেস আক্রমণের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে। দলের হয়ে আয়ুশি শুক্লা, পারুনিকা সিসোদিয়া ও শাবনম শাকিল গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। প্রতিপক্ষের একমাত্র কিছু ব্যাটার ছাড়া কেউই তেমন স্কোর গড়তে পারেননি, যা ভারতের শক্তিশালী বোলিংয়েরই প্রমাণ।

জবাবে, মাত্র ৮৩ রানের লক্ষ্যে নেমে ভারতীয় ব্যাটাররা শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে। ওপেনার গংগাদি তৃষা ২৪ বলে ৩৮ রান করেন এবং সানিকা চালকে ১৫ বলে ২২ রান করেন। অধিনায়ক নিকি প্রসাদ দলকে সহজ জয়ে পৌঁছে দেন। ১১.২ ওভারেই ভারতীয় দল লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টেই ভারত অপরাজিত থেকে শিরোপা জিতেছে। প্রতিটি ম্যাচে তাদের ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং ছিল অসাধারণ। কোচিং স্টাফের দারুণ পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের চেষ্টার ফলেই ভারত দ্বিতীয়বারের মতো এই শিরোপা ঘরে তুলেছে।

চ্যাম্পিয়ন দলের তারকারাঃ

  1. নিকি প্রসাদ (অধিনায়ক)
  2. গুনালান কামালিনী (উইকেটকিপার)
  3. গংগাদি তৃষা
  4. সানিকা চালকে
  5. ঈশ্বরী আওসারে
  6. মিথিলা বিনোদ
  7. আয়ুশি শুক্লা
  8. যোশিথা ভি জে
  9. শাবনম শাকিল
  10. পারুনিকা সিসোদিয়া
  11. বৈষ্ণবী শর্মা

এই বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ভারতের মহিলা ক্রিকেট আরও শক্তিশালী হলো এবং তরুণ প্রতিভাদের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়ার পথ খুলে দিল। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, এই দলই একদিন সিনিয়র পর্যায়ে ভারতের হয়ে বড় মঞ্চে সাফল্য বয়ে আনবে। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা দলের এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য গোটা দেশ আনন্দে মেতেছে। সকল ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য কামনা করছে পুরো ভারতবাসী!

CPIM

যাত্রাপুর থানা রাজনৈতিক ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছেঃ CPIM!!

CPIM কাঠালিয়া আঞ্চল কমিটির উদ্যোগে দীর্ঘ সাত বছর পর যাত্রাপুর থানার বিরুদ্ধে প্রতিনিধিমূলক গণ ডেপুটেশন সংগঠিত হলো। সি.পি.আই.এম. কাঠালিয়া অঞ্চল কমিটির অফিস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি কাঠালিয়া বাণিজ্যিক এলাকা পরিক্রমা করে যাত্রাপুর থানার সামনে এসে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখায়।

বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল—

  • (১) মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করা।
  • (২) থানার দুইজন পুলিশ অফিসারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বাড়িতে ঢুকে হুমকি-ধমকি ও হামলার ঘটনা বন্ধ করা।
  • (৩) রাজনৈতিক মামলায় থানাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়া।

CPIM-র প্রতিনিধি দল থানার সাব-ইন্সপেক্টর অমরকিশোর দেববর্মার হাতে তাদের লিখিত দাবি তুলে দেন। তবে, থানার ওসি অনুপস্থিত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হয়নি বলে জানান সাব-ইন্সপেক্টর। তিনি আশ্বাস দেন, ওসি ফিরলে সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন— CPIM কাঠালিয়া অঞ্চল সম্পাদক কৌশিক চন্দ, CPIM জেলা কমিটির সদস্য আব্দুল করিম, নিদয়ার অঞ্চল সম্পাদক বিল্ল আচার্য, প্রবীণ পার্টি সদস্য ননী পালসহ মোট পাঁচজন। ডেপুটেশন দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের কাছে সি.পি.আই.এম. নেতৃত্ব জানায়, “পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করে ও শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করে, তাহলে আমাদের আর কোন কর্মসূচি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি আগের মতো পক্ষপাতমূলক আচরণ চলতে থাকে, তাহলে আমাদের আন্দোলন আরও তীব্র হবে।” বিক্ষোভ চলাকালীন এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। তবে সমগ্র কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ প্রশাসন তাদের দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।About Us

শচীন

ভারতীয় ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্য ‘সি.কে.নাইডু লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ পুরস্কার পেলেন শচীন তেন্ডুলকর।

শচীন টেন্ডুলকর ক্রিকেট দুনিয়ায় একটি অবিস্মরণীয় নাম। ভারতীয় ক্রিকেটে অতুলনীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিসিসিআই (BCCI)  “ক্রিকেটের ঈশ্বর” শচীন তেন্ডুলকরকে সম্মানিত করল। তাঁকে প্রদান করা হল ‘সি.কে.নাইডু লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ পুরস্কার, যা দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিগুলির মধ্যে অন্যতম।

বিসিসিআই-এর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণ করেন শচীন। ২৪ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক শচীন। তিনি প্রথম ব্যাটসম্যান যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি শতরান করার কৃতিত্ব অর্জন করেন

পুরস্কার গ্রহণের পর শচীন বলেন, “এটি আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য খেলতে পারা ছিল আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান। বিসিসিআই এবং সমর্থকদের ভালোবাসাই আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।” শচীনের এই বিশেষ সম্মানপ্রাপ্তিতে ক্রিকেট মহল এবং তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রাও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই পুরস্কার প্রাপ্তির মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেটে শচীন তেন্ডুলকরের অবদান আরও একবার স্বীকৃতি পেল, যা ভবিষ্যত প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে।

কেন্দ্রীয়

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পেশ করা বাজেট; যুব, মহিলা, কৃষক, গরীব মানুষের বাজেটঃমুখ্যমন্ত্রী!

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পেশ করা বাজেট ২০২৫-২৬; যুব, মহিলা, কৃষক, গরীব মানুষের বাজেট। এই বাজেট সবকা সাথ সবকা বিকাশের লক্ষ্যকে পূরণ করতে সহায়ক হবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পেশ করা সাধারণ বাজেট নিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

উল্লেখ্য, শনিবার পেশ করা কেন্দ্রীয় বাজেটে আয়কর নিয়ে বড় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও কর দিতে হবে না। নতুন কর কাঠামোয় মিলবে এই সুবিধা। নতুন কর কাঠামোতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বেতনভোগী কর্মীদের বছরে ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ে করের পরিমাণ শূন্য রাখা হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পেশ করা এবারের বাজেট খুবই ভালো হয়েছে। বিশেষ করে যুবদের জন্য, মহিলাদের জন্য। গরীবদের জন্যও এটা খুবই ভালো বাজেট। এমন ভালো মানের বাজেট আগে কখনো দেখতে পাই নি।

কৃষকদের জন্যও খুবই ভালো হয়েছে এই বাজেট। বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে নজর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। তুলো উৎপাদন এবং তার গুনমানের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর যুবদের বিকাশে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এজন্য স্টার্ট আপের মাধ্যমে যুবদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সামগ্রিক বিষয়ের উপরও নজর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। শুধু সরকারি চাকরি দিয়ে সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয়। তাই স্টার্ট আপে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামীদিনে মেডিকেলে যাতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এজন্য জোর দেওয়া হয়েছে। উড়ান স্কিমেও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এই স্কিমে সারা দেশে প্রায় ১২২টি নতুন ডেস্টিনেশন রাখা হয়েছে। ট্যুরিজম ডেস্টিনেশনের জন্য নতুন করে প্রায় ৫০টি স্পটে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। যাতে পর্যটকদের আরো আকর্ষিত করা যায়। এর পাশাপাশি এই বাজেটে জিম ব্যাংকের উপর বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামীদিনে খাদ্য নিরাপত্তার উপর গুরুত্ব রাখা হয়েছে।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, “এবারের বাজেটে বিহারের জন্য গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট এর সংস্থান রাখা হয়েছে। আর ৩০টি জীবনদায়ী ঔষধে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হল ১২ লাখ পর্যন্ত আয়করে ছাড় দেওয়া হয়েছে যা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য খুবই বড় বিষয়। বিভিন্ন বিষয় এবারের বাজেটে এসেছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, ঐতিহ্যবাহী স্থানের উন্নয়ন, নিউক্লিয়ার এনার্জি ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এই বাজেট খুবই জনমুখী হয়েছে। এজন্য আমি সর্বপ্রথমে যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই। আমি ধন্যবাদ জানাই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে এত সুন্দর বাজেট পেশ করার জন্য। এটা সবকা সাথ সবকা বিকাশের লক্ষ্যকে পূরণ করতে সহায়ক হবে।”

সরস্বতী

“সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাং দেহী নমোস্তুতে”

আজ, ২রা ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রবিবার, সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীর পূজা। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। আজ সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে শুরু হবে পঞ্চমী তিথি এবং আগামীকাল, ৩ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৬টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। পূজার শুভ মুহূর্ত আজ সকাল ৯টা ১৪ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।

সরস্বতী পূজার প্রস্তুতির ব্যাপ্তি ও রুচি একদিকে যেমন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতিফলিত ঘটায়, তেমনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে নতুন সৃজনশীলতার উদ্ভব ঘটায়। বিভিন্ন মন্দির, বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পূজার উদ্দেশ্যে বিশেষ আয়োজন করছে। প্রতিমা স্থাপনা, পুষ্পাঞ্জলি, আরাধনা, এবং হোমের বিশেষ অনুষঙ্গ প্রস্তুতি চলছে এক নতুন রীতিতে। শিক্ষার্থীরা সরস্বতী পূজার অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে নিজেদের বইপত্র, নোটবুক, কলম ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী দেবীর চরণে অর্পণ করে জ্ঞান ও বিদ্যার আশীর্বাদ প্রার্থনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই রীতি শিক্ষা ও বিদ্যার প্রতি তাদের অটুট আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রেণীকক্ষ, এবং লাইব্রেরি গুলি আজ পূজার আনন্দে ভরে উঠেছে। অনেক স্থানে শিশুদের হাতেখড়ি অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে, যা তাদের শিক্ষাজীবনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূজার সঙ্গে বিশেষ কর্মসূচিরও আয়োজন করেছে; যেমন সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী, নাটক, সংগীতানুষ্ঠান ও কবিতা পাঠ। শিক্ষার দেবী সরস্বতীর পূজোৎসব নিয়ে মানুষের মাঝে উৎসাহ, শৌর্য এবং এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক ঐক্য লক্ষ করা যাচ্ছে। এই পবিত্র দিবসে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার এবং সমাজের নানা প্রান্তের মানুষ একত্রে মিলিত হয়ে দেবীর আশীর্বাদ কামনা করবেন।

এই বাণী বন্দনা আমাদের সকলের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করুক, যেখানে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ঐক্যের মহিমা একত্রে মিশে থাকবে। দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদে, সকলেই অর্জন করুক শিক্ষার উচ্চতা ও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর অনুপ্রেরণা, এটাই হোক প্রার্থনা।

সংগঠনকে

বিজেপিকে হটাতে কংগ্রেস সংগঠনকে মজবুত করার বার্তা সুদীপ রায় বর্মনের!

রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর একমাত্র বিকল্প কংগ্রেস, সোনামুড়ায় প্রদেশ কংগ্রেসের কনভেনশন থেকে  বিজেপিকে হটানোর লক্ষ্যে কংগ্রেসের সংগঠনকে মজবুত করার বার্তা দিলেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের। শনিবার প্রদেশ কংগ্রেসের মাইনরিটি ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে “জয় বাপু, জয় ভীম, জয় সংবিধান” অভিযানকে কেন্দ্র করে সোনামুড়া টাউন হলে এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। কনভেনশনে প্রধান বক্তা হিসেবে সুদীপ রায় বর্মন বলেন, “সোনামুড়া ও বিলোনিয়ার মত শহরগুলির ডিএনএতেই কংগ্রেস আছে। তাই পদের লোভ না করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হবে। যারা সঠিকভাবে কাজ করবে, তারাই দলে দায়িত্ব পাবে।”

তিনি বিজেপি মন্ত্রিসভার মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী বিল্লাল মিয়ার নাম না করেই তাদের তীব্র কটাক্ষ করেন। বলেন, “যারা কেবল পদের লোভে দলে ছিল, তাদের না থাকাই দলের পক্ষে ভালো। তারা আপদ বিদেয় হয়েছে।” পাশাপাশি, তিনি জানান, তিনি নিজে ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা একসময় বিজেপিতে ছিলেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করা সম্ভব নয় বুঝেই তাঁরা কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন। কনভেনশনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী, যুব কংগ্রেসের নেতৃত্বসহ অন্যান্য শাখা সংগঠনের সদস্যরা।

কনভেনশন শেষে সোনামুড়া শহরে এক বিশাল র‍্যালি সংঘটিত হয়, যেখানে কংগ্রেস নেতারা অংশগ্রহণ করেন। প্রদেশ মাইনরিটি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন কনভেনশনের সভাপতিত্ব করেন। কর্মীদের বুথ স্তরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করার পরামর্শ দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। রাজ্যে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে হলে ঘরে বসে থাকলে হবে না, সংগঠনকে মজবুত করেই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে—মনটাই ছিল কনভেনশনের মূল বার্তা।

আয়করে

আয়করে রেকর্ড পরিমাণ ছাড়, স্বস্তিতে করদাতারাঃ কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫ 

আয়করে ছাড়ের মাধ্যমে মধ্যবিত্তকে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিলেন নির্মলা সীতারমন। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন আজ সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করলেন। এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় ঘোষণা মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের জন্য। নতুন আয়করের নিয়ম অনুযায়ী ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করলে কোনও আয়কর দিতে হবে না। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বেতনভোগীদের জন্য ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। এতে স্বভাবতই খুশি মধ্যবিত্তরা

নতুন কর কাঠামোয় আয়ের ভিত্তিতে করহার নির্ধারণ করা হয়েছে:

» শূন্য থেকে চার লক্ষ টাকা বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে কোনও কর নেই
» বছরে চার থেকে আট লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে ৫ শতাংশ কর। বছরে আট লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ কর থাকবে
» বছরে ১২-১৪ লক্ষ টাকা আয়ে ১৫ শতাংশ
» বছরে ১৬-২০ লক্ষ টাকা আয়ে ২০ শতাংশ
» বছরে ২০-২৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ
» বছরে ২৪ লক্ষ টাকার বেশি হলে ৩০ শতাংশ

অর্থাৎ, ১২ লক্ষ টাকার নিচে যাঁদের আয়, তাঁদের আয়করে বছরে প্রায় ৮০ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। এছাড়া, ১৮ লক্ষ টাকা আয়ে ৭০ হাজার টাকা এবং ২৫ লক্ষ টাকার আয়ে প্রায় ১.১৫ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে বাজারে চাহিদা বাড়াতেই মোদি সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রবীণ নাগরিকদের জন্য করছাড়

৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রবীণদের করের বোঝা আরও কমবে।

স্বাস্থ্য খাতে বড় ঘোষণা, জীবনদায়ী ওষুধে শুল্কমুক্তি

ক্যানসার সহ দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৩৬টি জীবনদায়ী ওষুধের উপর শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ৬টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উপর ৫% শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে গুরুতর রোগের চিকিৎসা আরও সস্তা হবে।

ঋণ গ্রহীতাদের জন্য সুখবর

সরকার কৃষকদের জন্য আরও ঋণের সুযোগ করে দিয়েছে; কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা ৩ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। জল জীবন মিশন প্রকল্প ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১ লক্ষ আবাসন নির্মাণের জন্য ১৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

শিক্ষা খাতে বিশাল বিনিয়োগ

সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে আরও উন্নতির লক্ষ্যে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ৭৫,০০০ নতুন আসন সংযোজনের ঘোষণা করেছে। আগামী বছর আরও ১০,০০০ আসন বৃদ্ধি করা হবে।

মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রকল্প

৮ কোটি মহিলা ও ১ কোটি সদ্য মা হওয়া মহিলাদের জন্য বিশেষ পুষ্টি প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। ৭০% মহিলা যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সে বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া

মধ্যবিত্তদের জন্য আয়করে ছাড়ের খবরে খুশির হাওয়া বইছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক জনমুখী বাজেট, যা সাধারণ মানুষের হাতে আরও বেশি অর্থ তুলে দেবে এবং বাজারে চাহিদা বাড়াবে। প্রসঙ্গত বাজারে চাহিদা বাড়লে দ্রব্যমূল্যও বাড়বে। তবে, বিরোধীরা বলছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য এই বাজেটে বিশেষ কিছু রাখা হয়নি, যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৫ সালের বাজেটে করছাড়, কৃষকদের সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এবং মহিলাদের ক্ষমতায়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে এটি এক জনমুখী এবং স্বস্তির বাজেট বলেই মনে করা হচ্ছে।

নার্সিং

চিকিৎসা পরিষেবায় নার্সিং অফিসারদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণঃ মুখ্যমন্ত্রী।

যেকোন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে নার্সিং অফিসারদের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নার্সিং অফিসারদের উপরই সেই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি নির্ভর করে। তাই রোগী ও রোগীর পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে নার্সদের।

শুক্রবার আমতলি বাইপাস রোড সংলগ্ন এলাকায় নর্থ ইস্ট ইনস্টিটিউট অফ নার্সিং সায়েন্সের নতুন একাডেমিক এবং হোস্টেল বিল্ডিংয়ের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে চলছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্যে দুটি মেডিকেল কলেজ, একটি ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের কারণে বর্তমানে রাজ্যে নিউরো সার্জারি সহ বিভিন্ন জটিল অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে। এর পাশাপাশি রাজ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন চালুর পর লিভার সহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামীদিনে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নার্সদের বিশেষ ভূমিকা থাকে। দেশ-বিদেশে নার্সিং পরিষেবার ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে রাজ্যের অনেক ছেলেমেয়ে। আগামীদিনে এই ইনস্টিটিউট থেকেও ভালো সংখ্যক নার্স তৈরি হয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে। উদ্বোধনী বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জিবিপিতে সুপার স্পেশালিটি ব্লক তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে রোগীরা উপকৃত হচ্ছেন। সেই সঙ্গে জেলা হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ট্রমা সেন্টারকে শক্তিশালী করা হয়েছে। ধলাই জেলার আমবাসায় একটি কার্ডিয়াক কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবায় রাজ্য সরকারের এধরণের উদ্যোগের কারণে এখন বহিরাজ্যে রোগী রেফারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এদিন অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, স্থানীয় বিধায়িকা মীনারাণী সরকার, পদ্মশ্রী চিত্তরঞ্জন মহারাজ, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দীপক শর্মা, নর্থ-ইস্ট ইনস্টিটিউট অব নার্সিং সায়েন্সের চেয়ারম্যান ডা. পার্থ প্রতিম সাহা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।