ভগবান

ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে ভগবান বিরসা মুন্ডা ফুটবল টুর্নামেন্ট!

ভগবান

জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আজ থেকে শুরু হবে “ভগবান বিরসা মুন্ডা ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫”। কিংবদন্তি জনজাতি নেতা ভগবান বিরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে জনজাতীয় গৌরববর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। তারই অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে রাজ্যস্তরের আন্তঃহোস্টেল ফুটবল প্রতিযোগিতা।

এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের জনজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের সুযোগ প্রদান এবং তাদের সুস্থ ও মাদকমুক্ত জীবনধারার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এবারের টুর্নামেন্টের মূল স্লোগান “Football is Game, Drugs are Shame”, যা যুবসমাজকে খেলার প্রতি আকৃষ্ট করার পাশাপাশি মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখার বার্তা বহন করে।

আগরতলার উমাকান্ত ফুটবল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে ৮টি ছেলেদের দল ও ৮টি মেয়েদের দল অংশগ্রহণ করছে। প্রতিযোগিতাটি নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মোট ১৬টি ম্যাচ খেলা হবে, যার মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ত্রিপুরা সরকারের খাদ্য, পরিবহন ও পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী সুশান্ত চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা আগরতলা পৌর কর্পোরেশনের মেয়র শ্রী দীপক মজুমদার এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী শ্রী বিকাশ দেববর্মা।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল ও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অর্জনকারীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার:

  • চ্যাম্পিয়ন (ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগ): ট্রফি ও ১,০০,০০০ টাকা
  • প্রথম রানার্স-আপ: ৭৫,০০০ টাকা
  • দ্বিতীয় রানার্স-আপ: ৫০,০০০ টাকা
  • ফেয়ার প্লে দল: ট্রফি ও ২৫,০০০ টাকা

ব্যক্তিগত পুরস্কার:

  • সেরা খেলোয়াড়: ট্রফি ও ১০,০০০ টাকা
  • শীর্ষ স্কোরার: ট্রফি ও ১০,০০০ টাকা
  • সেরা গোলকিপার: ট্রফি ও ১০,০০০ টাকা
  • প্রত্যেক ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: ট্রফি ও ১,০০০ টাকা

৫ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে “ভগবান বিরসা মুন্ডা ফুটবল টুর্নামেন্ট”। এটি শুধু একটি খেলা নয়, বরং জনজাতি সংস্কৃতি ও ঐক্যের প্রতীক, পাশাপাশি, এই টুর্নামেন্ট ছাত্রছাত্রীদের প্রতিভা প্রকাশের একটি দারুণ মাধ্যম হতে পারে।

ভারত

বাংলাদেশ থেকে আগত ভারতীয়কে গুলি বিএসএফের!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পুটিয়া এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৫১ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত হলেন রনি আহমেদ নামে এক যুবক। জানা গেছে, তিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করার সময় বিএসএফ তাকে পাচারকারী সন্দেহে গুলি চালায়। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে তার স্ত্রীর সামনেই।

আহত রনি আহমেদের বাড়ি পুটিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে। কয়েকদিন আগে তিনি অবৈধভাবে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চোরাপথে ফিরে আসার সময় ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফের নজরে পড়েন। বিএসএফ তাকে চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করে গুলি চালায় এবং ঐ গুলি তার গলায় লাগে, সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে খবর।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। পরে বিএসএফ আহত রনিকে উদ্ধার করে বক্সনগর সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে আগরতলার জিবি পন্থ (জিবিপি) হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।

শ্যামসুন্দর

ত্রিপুরার শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স আরোও একধাপ এগিয়ে!

হীরার গয়নার জগতে নতুন সংযোজন নিয়ে এলো শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স‘গ্লিটেরিয়া নামে এক্সক্লুসিভ হীরার গহনার ব্র্যান্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো আগরতলায় এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এই নতুন কালেকশন আধুনিক নারীর প্রতিদিনের মুহূর্তকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে ডিজাইন করা হয়েছে।

আগরতলার ফ্ল্যাগশিপ শোরুমে ‘গ্লিটেরিয়া‘ ব্র্যান্ড জোনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী দর্শনা বণিক এই অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং গ্লিটেরিয়া গয়না পরে অতিথি ও গ্রাহকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের তরুণ মুখ মিঠুন দেববর্মা ও খুমজার দেববর্মা অতিথিদের সঙ্গে মিশে যান এবং নতুন কালেকশন সম্পর্কে ধারণা দেন। জনপ্রিয় গায়িকা পারমিতা দেববর্মার গান পরিবেশনা গোটা অনুষ্ঠানে অন্য এক মাত্রা যোগ করে।

বিশেষ লঞ্চ অফার

গ্লিটেরিয়া ব্র্যান্ডের উদ্বোধন উপলক্ষে ৪ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ দিনের বিশেষ অফার ঘোষণা করা হয়েছে। এই অফার ত্রিপুরার আগরতলা, উদয়পুর ও ধর্মনগর এবং কলকাতার গড়িয়াহাট, বেহালা ও বারাসাত শোরুমে প্রযোজ্য। এই অফারে থাকছে—

✅ হীরের গয়নার মজুরিতে ১০০% ছাড়
✅ সোনার গয়নার মজুরিতে ১৫% ছাড়
✅ প্রতি কেনাকাটায় নিশ্চিত উপহার
✅ মেগা লাকি ড্র-তে একটি হীরের নেকলেস ও তিনটি হীরের নেকচেন জেতার সুযোগ।

শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের ডিরেক্টর রূপক সাহা বলেন, “গ্লিটেরিয়া” আমাদের প্রথম এক্সক্লুসিভ হীরার গহনার ব্র্যান্ড এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে আধুনিক নারীর প্রতিদিনের মুহূর্তগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

ডিরেক্টর অর্পিতা সাহা বলেন, “গ্লিটেরিয়া ব্র্যান্ড জোন আমাদের স্টোরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে। গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, তারা এসে আমাদের বিশেষ অফার কাজে লাগান এবং নতুন কালেকশন দেখুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমি ‘গ্লিটেরিয়া’র সম্পূর্ণ সাফল্য কামনা করছি, যা এই রাজ্যে প্রথমবারের মতো নতুন রূপে যাত্রা শুরু করলো।” তিনি আরোও বলেন, এ রাজ্যে এমন একটি ব্র্যান্ড আত্মপ্রকাশ করল, যা এখানকার গয়না প্রেমীদের জন্য দারুণ সুযোগ আনবে।

দর্শনা বণিক তার মোহময়ী উপস্থিতি ও গ্লিটেরিয়ার সৌন্দর্যে অতিথি ও গ্রাহকদের মুগ্ধ করেন। এই নতুন কালেকশন এবং বিশেষ অফার ইতিমধ্যেই গয়না প্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। হীরার গহনার জগতে গ্লিটেরিয়া হতে চলেছে এক নতুন নাম, যা শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের গৌরব আরও বাড়াবে

ত্রিপুরা

ত্রিপুরার চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ‘বিকাশ দাস’ গ্রেপ্তার!

ত্রিপুরার বহুচর্চিত চিটফান্ড কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত বিকাশ দাসকে মহারাষ্ট্রের থানের ভিওয়ান্দি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। ২০১৩ সাল থেকে পলাতক থাকা বিকাশ দাস সিবিআই-এর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল এবং তার বিরুদ্ধে দুইটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। ত্রিপুরা সরকারের অনুরোধে সিবিআই এই মামলার তদন্ত শুরু করে।

সিবিআই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে আত্মগোপনে থাকা বিকাশ দাসকে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট আগরতলার বিশেষ সিবিআই আদালত ‘প্রক্লেমড অফেন্ডার’ ঘোষণা করে এবং তার বিরুদ্ধে স্থায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অভিযুক্তকে ধরতে সিবিআই ২০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অবশেষে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মহারাষ্ট্রে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিবিআই জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ ও ৭ মার্চ বিকাশ দাস ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ, Suchana Real Estate Pvt. Ltd. নামের একটি সংস্থা বিনিয়োগকারীদের উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে টাকা সংগ্রহ করত। কিন্তু ২০১২ সালে হঠাৎ সব অফিস বন্ধ করে প্রতারকরা পালিয়ে যায়। শুধু একটি মামলাতেই ৬.৬ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা আরও বড় অঙ্কের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিবিআই, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি  বিকাশ দাস, সুজিৎ দাস এবং তাদের কোম্পানির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। সিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া বিকাশ দাসকে যথাযথ আদালতে পেশ করা হবে এবং পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া সেখান থেকেই এগোবে।

সিবিআই-এর এই সফল অভিযানে ত্রিপুরার বহু প্রতারিত বিনিয়োগকারী নতুন আশার আলো দেখছেন। তবে মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা এখনও পলাতক আছে কিনা, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

কালো

জৈব পদ্ধতিতে কালো চালের চাষ কৃষকদের জন্য আশার আলো!

ত্রিপুরার জুমিয়া কৃষকদের উৎপাদিত বিশেষ সুগন্ধিযুক্ত জৈব কালো চাল বা অর্গানিক ব্ল্যাক রাইস সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো বহিঃরাজ্যে রপ্তানি করা হয়েছে। উত্তর ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর মহকুমায় উৎপাদিত ১৩০০ কেজি অর্গানিক ব্ল্যাক রাইস দিল্লির ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ লিমিটেডের কাছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। মহকুমা কৃষি আধিকারিক জানান, এই প্রথম রাজ্যের কৃষকদের উৎপাদিত এই চাল সরকারি ব্যবস্থাপনায় বহিঃরাজ্যে রপ্তানি করা হলো, যা কৃষি ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

কালো চাল, যা বেগুনি চাল নামেও পরিচিত, এটি ধানের একটি বিশেষ প্রজাতি যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে,–

✔ এই চালে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে
✔ প্রোটিন, আয়রন, ফাইবার, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন ও ফলিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ
✔ বাদামি চালের তুলনায় বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন

বিশ্বব্যাপী এই চালের ব্যাপক চাহিদা থাকায় রাজ্যের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। বর্তমানে রাজ্যের বড় বড় শপিংমলগুলোতে এই চাল ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে উত্তর জেলার যুবরাজনগর কৃষি মহকুমার নিজস্ব উদ্যোগে ১৫০০ কেজি কালো চাল বহিঃরাজ্যে রপ্তানি করা হয়েছিল। এই বিশেষ ধানের চাষে কৃষকরা অত্যন্ত উৎসাহিত। এবছর রাজ্যের কৃষকরা প্রায় ৫৫০০ কেজি কালো চাল উৎপাদন করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কৃষকরা জানাচ্ছেন, এই চালের ভালো বাজার দর পাওয়ায় আগামী বছর আরও বেশি পরিমাণে এই ধানের চাষ করা হবে। কৃষকদের মতে, সাধারণ ধানের তুলনায় কালো চাল প্রায় চারগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, ফলে কৃষি খাতে এই উদ্যোগ একটি বিপ্লব আনতে চলেছে।

সারা রাজ্যে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে জৈব কৃষি চাষ করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে জৈব পদ্ধতিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মিশন ফর অর্গানিক ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট অফ নর্থ ইস্টার্ন রিজনের মিশন অধিকর্তা রাজীব দেব্বর্মা জানান, রাজ্যের কৃষকদের জৈব কৃষিতে উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ৪০টি ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত জৈব পণ্য সরাসরি বাজারজাত করতে রাজ্যে ৮টি জৈব আউটলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সব মিলিয়ে, ত্রিপুরায় জৈব কৃষির প্রসার এবং কালো চালের বহিঃরাজ্যে রপ্তানির সাফল্য কৃষকদের নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সমবায়

সমবায় আন্দোলনকে আরো শক্তিশালী করার উপর জোর মুখ্যমন্ত্রীর।

সমবায় ক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে শক্তিশালী করা সম্ভব বলে মন্তব্য করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। শুধু রাজ্য নয়, সমবায়ের প্রসারে দেশও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে। সমবায়কে কেন্দ্র করে দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার, আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত “সমবায়ের প্রচার ও উন্নয়ন” সম্পর্কিত একদিনের রাজ্যভিত্তিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন ও রাজ্য সমবায় দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সমবায় আন্দোলন একটি রক্তপাতহীন আন্দোলন। এর মাধ্যমে সমাজ ও অর্থনীতি কিভাবে শক্তিশালী হতে পারে, তা অনেকেরই জানা নেই।” তিনি আরও বলেন, “সমবায় সমিতিগুলিকে শক্তিশালী করা গেলে দেশ আর্থিকভাবে আরও এগিয়ে যাবে। বর্তমানে ভারত অর্থনীতির দিক দিয়ে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, যা একসময় ১১তম স্থানে ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এখন আমরা তৃতীয় স্থানে ওঠার লক্ষ্যে কাজ করছি।” তিনি আরও জানান, এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য সমবায়ের সফলতা ও ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করা। ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা স্থির করাই এই আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে পৃথক সমবায় মন্ত্রক গঠনের পর সমবায় ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব গতি এসেছে। বিশেষ করে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমবায় মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নীতিগত সংস্কার আরও গতি পেয়েছে। ত্রিপুরা সরকারের সমবায় দপ্তর প্রতি বছরই সমবায় সপ্তাহ উদযাপন করে। এতে আলোচনা সভা, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। ত্রিপুরার প্রায় ৪০ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে ৯ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমবায় সমিতির সঙ্গে যুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন বাকি জনগণের মধ্যেও সমবায় আন্দোলনের চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে দিতে হবে।” সমবায় মন্ত্রকের “সমবায়ের মাধ্যমে সমৃদ্ধি” শ্লোগানকে সামনে রেখে দেশে প্রায় ৫৪টি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে,–

✔ প্যাক্স (Primary Agricultural Credit Society) সমিতিগুলির ডিজিটালাইজেশন
✔ দুগ্ধ ও মৎস্য সমবায় সমিতি গঠন
✔ প্যাক্সের মাধ্যমে ই-পরিষেবা চালু করা
✔ সমবায়ের মাধ্যমে পেট্রোল-ডিজেল ডিলারশিপ ও এলপিজি বিতরণ ব্যবস্থার অনুমোদন

ত্রিপুরায় ১০০% সমবায় সমিতিগুলিকে কম্পিউটারাইজড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসবে এবং দুর্নীতিও হ্রাস পাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সমবায় সমিতিগুলিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

✔ ল্যাম্পস (LARGE AREA MULTI-PURPOSE SOCIETIES) ও প্যাক্সকে আর্থিকভাবে উন্নত করতে বিশেষ অনুদান
✔ সমবায় সংগঠনের কর্মীদের জন্য আয়কর ছাড়ের প্রস্তাব
✔ “প্রধানমন্ত্রী কিষান সমৃদ্ধি কেন্দ্র” প্রকল্পের সম্প্রসারণ
✔ নতুন “জাতীয় সমবায় নীতি” গঠনের পরিকল্পনা

সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, ন্যাশনাল কোঅপারেটিভ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলীপ সাঙ্গানি, চিফ এক্সিকিউটিভ ড. সুধীর মহাজন, এবং সমবায় দপ্তরের সচিব তাপস রায় সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, “সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সরকার আরও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”

সমবায় খাতকে আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে ত্রিপুরাকে দারিদ্র্যমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমবায় নীতির ফলে আগামী দিনে ত্রিপুরার অর্থনীতিতে সমবায় ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে, এমনটাই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রশাসন

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষুব্ধ ত্রিপুরা রাবার অ্যাসোসিয়েশন!

রাবার বোঝাই গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায়, পাঁচ দিন পরও পুলিশ প্রশাসনের ঘুম ভাঙ্গেনি! ত্রিপুরায় রাবার উৎপাদন শিল্প ক্রমশ সংকটে পড়ছে। দুষ্কৃতিকারীদের দৌরাত্ম্যে রাবার চাষীরা আতঙ্কে রয়েছেন। একের পর এক রাবার চাষীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে, কখনো বা রাবার বাগানে আগুন, আবার কখনো রাবারের মজুদঘরে চুর!

৩০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কলাছড়া থেকে এক রাবার বোঝাই ট্রাক আমতলী থানা হয়ে বাইপাস ধরে খয়েরপুরের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ মহেন্দ্র কোম্পানির কাছে ৪-৫ জন দুষ্কৃতিকারী গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশির নামে চালককে বিভ্রান্ত করে। তারা চালককে জানায়, গাড়িতে নাকি গাঁজা রয়েছে, তাই তল্লাশি চালাতে হবে। কিছু বোঝার আগেই তিন দুষ্কৃতী চালককে বাইকে বসিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়, আর বাকি সদস্যরা গাড়িটি কাঁঠালতলির দিকে নিয়ে যেতে শুরু করে। কিন্তু চালক বুদ্ধি করে চলন্ত বাইক থেকে লাফ দিয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার আওয়াজ শুনে এলাকাবাসী ছুটে আসে এবং এক দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলে। এরপর প্রায় আধঘণ্টা পর ছিনতাইকারীরা বাধ্য হয়ে রাবার বোঝাই ট্রাকটি ফেরত দেয়।

ঘটনার পরপরই আমতলী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। চার-পাঁচজন দুষ্কৃতীর নাম ও ছবি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, আজ পাঁচ দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। ত্রিপুরা রাবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কল্যাণ দেববর্মা সরস্বতী পুজোর দিন এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “আমতলী থানার পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে চায়নি। পরে মামলা নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। দুষ্কৃতীদের নাম, পরিচয় ও ছবি দেওয়ার পরেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?” সংগঠনের সাবরুম বিভাগের সম্পাদক শংকর সিনহা বলেন, “এভাবে যদি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা কীভাবে ব্যবসা চালাব? পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় আমরা ক্ষুব্ধ।”

ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, প্রশাসন যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারে, তাহলে তারা কীভাবে বহিরাজ্যে রাবার পাঠাবেন? ত্রিপুরা রাবার অ্যাসোসিয়েশন, প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, “যদি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তারা রাবার রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য হবে।” বিগত কয়েক মাসে দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন সময় জিএসটি আধিকারিক কিংবা পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়ি থামিয়ে রাবার লুট করছে। এই সব ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দানা বাঁধছে।

ত্রিপুরার রাবার শিল্প রাজ্যের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আহরণের উৎস হলেও চাষিরা নিরাপদ নন। সরকার ও প্রশাসন যদি দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করে, তাহলে ত্রিপুরার রাবার ব্যবসায়ীরা ভয়াবহ সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ত্রিপুরার রাবার শিল্পের ভবিষ্যৎ এখন পুলিশের সক্রিয়তার ওপর নির্ভর করছে! প্রশাসন কি এবার দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এটাই এখন দেখার!

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বাড়ছে এইচআইভি এইডসের সংক্রমণ!

ত্রিপুরায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিরাপথে ড্রাগস নেওয়ার প্রবণতা ভয়ঙ্করভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। বিশেষ করে রাজধানী আগরতলায় হোস্টেলগুলিতে ড্রাগসের রমরমা চলছে বলে জানা গেছে। আগরতলা পুরনিগম এলাকার তিনশতাধিক ব্যক্তি ইতিমধ্যেই এইচআইভি পজিটিভ বলে চিহ্নিত হয়েছেন।

আগাম সতর্কবার্তা সত্বেও, কার্যকরী পদক্ষেপ নেই

tripura aids

প্রায় এক বছর আগে আগরতলা পুরনিগমে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে মেয়র দীপক মজুমদার ও উপস্থিত ছিলেন। সে সময়ের ত্রিপুরা স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির মিশন ডিরেক্টর দ্বীপ দেব্বর্মা জানিয়েছিলেন, শিরাপথে ড্রাগস গ্রহণের ফলে এইচআইভি সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, প্রতিটি পুর ওয়ার্ডে ড্রাগস ও এইচআইভির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। ক্লাবগুলোকেও যুক্ত করে প্রতিটি এলাকায় নেশার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনার কার্যকরী কোনো প্রয়াস চোখে পড়েনি, এবং প্রশাসনিক কোনো কঠোর পদক্ষেপ ও দেখা যায়নি। ফলে ক্রমাগত বাড়ছে শিরাপথে মাদক গ্রহণ এবং তার সঙ্গে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ।

হোস্টেলগুলিই ড্রাগসের প্রধান ঘাঁটি

উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে যে, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রের কিছু হোস্টেলে চলছে মাদকের অবাধ কারবার। বিশেষ করে কৃষ্ণনগর ও ধলেশ্বর এলাকার কয়েকটি হোস্টেল চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ড্রাগসের সেবন ও বিক্রি দুটোই চলছে। প্রশাসন বিষয়টি জানলেও, আইনি জটিলতার কারণে এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। সূত্রের খবর, এক বছর আগে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কয়েকটি বয়েজ হোস্টেলে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করলেও, হোস্টেলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গার্ড ও হোস্টেল ইনচার্জদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত ছাত্ররা বাইরে বের হতে না পারে। কিন্তু এসব নির্দেশ যে কেবলমাত্র কাগজে-কলমেই রয়েগেছে, তা এখন স্পষ্ট

হোস্টেলের আশেপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও ইনজেকশনই প্রমাণ করে, কীভাবে তরুণ প্রজন্ম এই মরন নেশার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামের সহজ-সরল ছাত্রদের টার্গেট করছে মাদক কারবারিরা। প্রথমে নামমাত্র মূল্যে ড্রাগস সরবরাহ করে তাদের আসক্ত করে তোলা হয়, তারপর তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ভয়াবহ পরিস্থিতি

ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী এইচআইভি পজিটিভ হয়ে গেছে। পশ্চিম জেলার ৫৭টি স্কুল ও কলেজের ৬২ জন পড়ুয়া ইতিমধ্যেই এইচআইভি পজিটিভ বলে চিহ্নিত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির কর্তৃক সমীক্ষায় জানা গেছে, ত্রিপুরায় প্রায় ৫৭০ জন স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া এই মারণ রোগে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অধিকাংশ নেশাগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রী নিজেদের আড়ালে রাখার চেষ্টা করে। এদিকে, পশ্চিম জেলার পর দক্ষিণ ত্রিপুরা ও ধলাই জেলার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শহরের ছয়টি নামী স্কুলে ২০-২৫ জন ছাত্র ইতিমধ্যেই এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছে।

সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ

শুধু এইচআইভি-ই নয়, ড্রাগস ব্যবহারের ফলে হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বিশ্ব এইডস দিবসে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি রাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠিত কলেজের ছাত্রদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের কথা জানিয়েছিলেন। তখনই তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা মূলক কর্মসূচি নেওয়ার জন্য। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রয়াস দেখা যায়নি। শুধু স্কুল-কলেজ নয়, নেশামুক্তি কেন্দ্রেও ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। আগরতলার ডনবস্কো এলাকার একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে ২৭ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

জনজাতি এলাকাতে দ্রুত ছড়াচ্ছে সংক্রমণ

এডিসির সংস্কৃতি দপ্তরের নির্বাহী সদস্য কমল কলই জানান, রাজ্যের প্রত্যন্ত জনপদেও এইচআইভি সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একসময় কাঞ্চনপুর ছিল সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল, কিন্তু বর্তমানে সিমনা থেকে কিল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় জনজাতি যুবক-যুবতীরা শিরাপথে ড্রাগস নিচ্ছে, ফলে দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়ছে এইচআইভি।

ড্রাগসের সরবরাহ

স্থানীয় সূত্রের খবর, অভয়নগর ও বটতলা বাজার এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চক্র পরিচালিত হচ্ছে। এখান থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হোস্টেল ও সরকারি আবাসিকেও ড্রাগস সরবরাহ করা হচ্ছে। শিশুবিহার স্কুল সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত যাত্রীনিবাসেও ড্রাগসের রমরমা কারবার চলছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন ড্রাগসের বিরুদ্ধে বারবার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও, বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং দিনের পর দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে ত্রিপুরার তরুণ প্রজন্ম ভয়াবহ সংকটে পড়বে। শুধু ভাষণ বা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন জরুরি। ত্রিপুরায় তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। হোস্টেল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে কড়া নজরদারি চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সচেতনতা মূলক কর্মসূচি বাড়ানোর পাশাপাশি, ড্রাগস ও এইচআইভি সংক্রমণ রোধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে, আর তার মাশুল দিতে হবে গোটা রাজ্যকে।

উত্তর

উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়নে, বাজেটে বড়সড় বরাদ্দ..!

উত্তর পূর্বাঞ্চলের সংযোগ বাড়াতে উড়ান প্রকল্পের আওতায় ১২০টি নতুন গন্তব্য যুক্ত করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে ছোট বিমানবন্দর ও হেলিপ্যাড নির্মাণে জোর দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে আগামী ১০ বছরে ৪ কোটি যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

শক্তি ক্ষেত্রে উন্নয়ন

উত্তর পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও সহজলভ্যতা বাড়ানোর জন্য বাজেটে শক্তি ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সাল পর্যন্ত জল জীবন মিশনের সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে, যা গ্রামীণ এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহকে আরও দৃঢ় করবে।

কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে উন্নতি

কৃষি ক্ষেত্রে আসামের নামরূপে ১২.৭ লক্ষ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য সারের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পাবে, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, আগামী ছয় বছরে এনএএফইডি (NAFED) এবং এনসিসিএফ (NCCF)-এর মাধ্যমে শস্য ও ডাল উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নারী ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতি

গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ডাক বিভাগের ভূমিকা বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME)-তে নতুন উদ্যোগ এবং নারী ক্ষমতায়নে দ্বিতীয় পর্যায়ের “সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি” ও পুষ্টি সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

পর্যটন ও গবেষণায় নতুন দিশা

উত্তর পূর্বাঞ্চলে পর্যটন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, ডিজিটাল উন্নতি এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশেও বাজেটে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষত, এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই বাজেটের বরাদ্দ ও নীতি সংস্কারের ফলে অষ্টলক্ষীর আরও বেশি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্প প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের এই উদ্যোগ উত্তর পূর্বাঞ্চলকে দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

রান্নার

রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি কমলো, মহার্ঘ পেট্রোপণ্য!

সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধাক্কা! রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি কমিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন বাজেটে এলপিজি ভর্তুকি আরও কমানো হয়েছে, যার ফলে গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে। ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি ক্রমাগত কমানো হয়েছে। মনমোহন সিং সরকারের আমলে যেখানে গ্রাহকরা প্রায় অর্ধেক ভর্তুকি পেতেন, এখন তা কমতে কমতে মাত্র দেড়শো টাকায় দাঁড়িয়েছে। এবারের বাজেটে ভর্তুকি কমে ১২ হাজার কোটিতে নেমেছে, যেখানে পূর্ববর্তী বাজেটে ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

ভর্তুকি কমানোর ঘোষণার পরই বড় ধাক্কা খেয়েছে সরকারি তেল সংস্থাগুলোর শেয়ার। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আবার বাড়তে পারে। বর্তমান সময়ে আগরতলায় পেট্রোলের দাম ৯৭.৫০ টাকা প্রতি লিটার।

অন্যদিকে গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি নতুন অভিযোগ উঠেছে সিলিন্ডারের ওজনে কারচুপি নিয়ে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারে যথেষ্ট পরিমাণ গ্যাস থাকছে না। যেখানে আগে একটি সিলিন্ডার দিয়ে দেড় থেকে দুই মাস রান্না চলত, এখন তা এক মাসও টিকছে না। হোম ডেলিভারির কারণে গ্রাহকরা সিলিন্ডার মেপে নিতে পারছেন না, ফলে কোথায় কারচুপি হচ্ছে তা বুঝতে পারছেন না কেউই। প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে যেসব গরিব পরিবার বিনামূল্যে গ্যাস সংযোগ পেয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখন আর নতুন সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না। প্রায় ১০০০ টাকার বেশি দামে একটি সিলিন্ডার কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ফলে বহু পরিবার গ্যাস সংযোগ পেয়েও সিলিন্ডার ব্যবহার করতে পারছেন না, বরং ঘরে সাজিয়ে রেখেছেন। গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি কেরোসিনের মূল্যও লাগাতার বেড়ে চলেছে। রেশনে কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ৯৫ টাকা, আর খোলা বাজারে তা ১২০ টাকারও বেশি। ফলে অনেকেই আবার কাঠের উনুনের দিকে ফিরে যাচ্ছেন।

২০১৫ সালে মোদি সরকার ‘গিভ ইট আপ’ প্রকল্প চালু করেছিল, যার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ভর্তুকি ত্যাগ করা যেত। কিন্তু অনেকেই তা নাবুঝে ভুলবশত মোবাইলের ভুল অপশনে টিপে এই সুবিধা হারিয়েছেন। এছাড়া যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ টাকার বেশি, তাদের ভর্তুকি কেটে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের হিসাব বলছে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত এই ‘গিভ ইট আপ’ প্রকল্পে ৫৭,৭৬৮ কোটি টাকা সঞ্চয় করেছে কেন্দ্র। তবে গরিব ও মধ্যবিত্তরা আজ সেই সঞ্চয়ের বোঝা বয়ে চলেছেন। রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি কমানো, সিলিন্ডারের ওজনে কারচুপি, উজ্জ্বলা যোজনার সীমাবদ্ধতা এবং কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে।