ক্ষমতা

আরো বেশি ক্ষমতা ভোগ করার জন্য প্রদ্যুৎ কিশোরের নতুন হুমকি!

 ক্ষমতায় থেকে মানুষকে সাহায্য করতে না পারলে ক্ষমতায় থাকার কি প্রয়োজন? তিপরা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মা ফের মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন। যদিও এই ধরনের হুমকি তিনি আগেও দিয়েছেন, তবে এবার তার বক্তব্যে স্পষ্টতই রাজনৈতিক দূরবীসন্ধি রয়েছে। তিনি বলেন, “ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতি করছি।”

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেকেই মনে করছেন, নিজের স্বার্থসিদ্ধি না হলেই প্রদ্যুৎ কিশোর এ ধরনের হুমকি দেন। কেউ কেউ বলছেন, এটি তিপ্রাসাদের প্রতি নতুন করে মগজ ধোলাইয়ের কৌশল মাত্র।

সামাজিক মাধ্যমে বুধবার এক বার্তায় প্রদ্যুৎ কিশোর দলের নেতাদের সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার, পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার এবং জনসংযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বুঝতে পারছেন, তিপরা মথার মাটি ক্রমেই সরে যাচ্ছে, কারণ দলের অনেক নেতা ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “ক্ষমতায় থেকে মানুষকে সাহায্য করতে না পারলে সে ক্ষমতার কোনো প্রয়োজন নেই।” পাশাপাশি, “সরকারের শরিক হয়ে যদি জনগণের উপকারে আসতে না পারি, তাহলে সে সরকারে থাকারও কোনো মানে নেই।” এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল তার প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবেই দেখছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির কুচকাওয়াজে ত্রিপুরার ট্যাবলুতে রাজ্যের সংস্কৃতি তুলে ধরা হলেও তা যথাযথ হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রদ্যুৎ কিশোর। তিনি বলেন, “তিপ্রাসা সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটিয়ে ত্রিপুরার প্রকৃত ঐতিহ্যকে দুর্বল করা হয়েছে।” প্রদ্যুৎ অভিযোগ করেন, “৪০ বছর বামেরা তিপ্রাসাদের জন্য কিছু করেনি, আর বিজেপি এখন এডিসির ক্ষমতা খর্ব করছে।” তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এডিসিকে সরাসরি অর্থ দেওয়ার দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন, যা তিপ্রাসাদের প্রতি বিমাতা-সুলভ আচরণ। তিনি আরও বলেন, “করোনার অজুহাতে ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন তো মহামারি নেই। তাহলে কেন ভোট হচ্ছে না?”

রাজনৈতিক অভিজ্ঞদের মতে, এডিসির নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে, ধীরে ধীরে বিজেপি বিরোধিতার সুর চরাচ্ছেন ক্ষমতালোভী প্রদ্যুৎ কিশোর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিপরা মথার নেতাদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং ক্ষমতালোভী আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। পাহাড়ের জনগণ বুঝতে পারছেন, তিপরা মথা ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করছে, ফলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমছে। গত বিধানসভায় গোপন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তিপরা মথা ভালো ফল করেছিল, কিন্তু এখন তাদের জনপ্রিয়তা কমছে। তাই প্রদ্যুৎ ফের নতুন কোন দূরবীসন্ধি পাকাচ্ছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই নাকি শুধুমাত্র তার রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা। এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে তিপরা মথার অবস্থান কী হবে, প্রদ্যুৎ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, তা এখন দেখার বিষয়।

লেকচৌমুহনী

লেকচৌমুহনী বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে!

লেকচৌমুহনী বাজার ভেঙে ফেলার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ প্রায় ৬০০-৭০০ ব্যবসায়ী আগরতলা পৌর নিগমের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড অফিস ঘেরাও করেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, উপযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা না করে বাজার উচ্ছেদ করা চলবে না।

সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি মাইকিং করে জানানো হয়েছে যে লেকচৌমুহনী বাজার ভেঙে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ব্যবসায়ী এর বিরোধিতা করছেন। তারা মনে করেন, বাজার ভেঙে দেওয়া হলে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি, বাজারটি বর্তমানে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে, যেখানে টয়লেট, ইউরিনাল ও বাথরুমের পাশেই খাদ্যপণ্য বিক্রি হয়।ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেছেন যে এখানে মশা ও নানা ধরনের কীটপতঙ্গের উপদ্রব রয়েছে, যার কারণে তাদের প্রতি মাসে টিকা নিতে হয়।

সরকার চায় লেকচৌমুহনী বাজারকে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে রূপান্তর করতে। যেহেতু এই বাজারটি আগরতলা স্মার্ট সিটির আওতাভুক্ত, তাই এর বর্তমান যানজটপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে উন্নত করা জরুরি বলে মনে করছে প্রশাসন। বর্তমানে অধিকাংশ ব্যবসায়ী রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন, যার ফলে প্রায়শই যানজট লেগে থাকে। এমনকি, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্যোগ মোকাবিলা বা অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই উন্নয়নমূলক কাজের বিরুদ্ধে একাংশের ব্যবসায়ী বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা চান না সরকার আধুনিকীকরণ করুক। অথচ এই বাজারে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, সাধারণ জনগণের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার কি বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করতে পারবে, নাকি আন্দোলন আরও তীব্র হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ত্রিপুরায়

ত্রিপুরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ওয়েল ট্যাংকার বন্ধের ডাক!

ভারতীয় প্রাইভেট ট্রান্সপোর্ট মজদুর মহা সংঘ, ত্রিপুরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ওয়েল ট্যাংকার পরিষেবা বন্ধের ডাক দিয়ে কৃত্রিম জ্বালানি সংকট তৈরির প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। বুধবার দুপুরে ধর্মনগরে এক বিশাল মিছিল করে তাঁরা জেলা শাসকের অফিসের সামনে ধর্নায় বসেন।

সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ত্রিপুরা জেলায় ভারতীয় মজদুর সংঘের প্রাক্তন ও বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে মতানৈক্য ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে। অভিযোগ, প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিপ্লব দাস ও তাঁর অনুগামীরা বর্তমান নেতৃত্বকে অফিস থেকে জোরপূর্বক বের করে দিচ্ছেন এবং তাঁদের ভয় দেখাচ্ছেন। এরই প্রতিবাদে ভারতীয় প্রাইভেট ট্রান্সপোর্ট মজদুর মহা সংঘের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। বুধবার দুপুর আনুমানিক বারোটার সময় সংগঠনের শ্রমিকরা প্রতিবাদ মিছিল করে জেলা শাসকের অফিসের সামনে এসে ধর্নায় বসেন। যদিও জেলা শাসক অনুপস্থিত ছিলেন, তবুও চারজনের এক প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসক সজল দেবনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ডেপুটেশন প্রদান করেন।

সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি অসীম দত্ত জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত এই ঘটনার স্থায়ী সমাধান না হবে, ততদিন ত্রিপুরায় ওয়েল ট্যাংকার পরিষেবা বন্ধ থাকবে। শ্রমিকদের উপর অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তাঁরা যে কোনো মূল্যে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এই কর্মবিরতির ফলে ত্রিপুরা রাজ্যে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে উদ্যোগী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

বিশ্বের

‘ফোর্বস’ প্রকাশ করল ২০২৫ সালের বিশ্বের ক্ষমতা তালিকা!

আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সামরিক শক্তি, অর্থনীতি ও কূটনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে ফোর্বস প্রকাশ করেছে ২০২৫ সালের বিশ্বের শীর্ষ ১০ ক্ষমতাধর দেশের তালিকা। এই তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে ভারত আশানুরূপ স্থান অর্জন করতে পারেনি।

বিশ্ব মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব থাকা সত্ত্বেও এই তালিকায় ভারত ১২তম স্থানে রয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক শক্তির দিক থেকে ভারত বিশ্বে ৫ম বৃহত্তম অর্থনীতি, তবে সামরিক শক্তি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং কূটনৈতিক সংযোগের বিচারে ভারত এখনো শীর্ষ ১০-এ প্রবেশ করতে পারেনি।

শীর্ষ ১০ দেশের তালিকাঃ

শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা

যদিও বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত বর্তমানে ৫ম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। তবে সামরিক শক্তি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বৈশ্বিক প্রভাবের বিচারে অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় ভারত এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল–

  • সামরিক শক্তিঃ ভারতীয় সেনাবাহিনী শক্তিশালী হলেও প্রযুক্তিগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়ার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। সামরিক গবেষণা এবং উন্নয়নের (R&D) ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভারতে কম বিনিয়োগ করা হয়।
  • কূটনৈতিক প্রভাবঃ ভারত অনেক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হলেও, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সীমিত প্রভাবশালী।
  • অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক উন্নয়নঃ অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও, ভারতে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং অসমতা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
  • প্রতিরক্ষা ব্যয়ঃ ২০২৫ সালে ভারতের সামরিক বাজেট অন্যান্য বৃহৎ সামরিক শক্তিধর দেশের তুলনায় কম। চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া প্রতিরক্ষা গবেষণায় বেশি বিনিয়োগ করে যা তাদের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং আগামী এক দশকে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

india

 

  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিঃ ২০২৫ সালে ভারত ৫ম বৃহত্তম অর্থনীতি হলেও, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৩য় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
  • প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধিঃ ভারত স্বদেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিকাশে বিনিয়োগ করছে এবং সামরিক উৎপাদন শক্তিশালী করছে।
  • আন্তর্জাতিক সংযোগঃ কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করতে ভারত বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি, কৌশলগত জোট ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় জোর দিচ্ছে।
  • সবুজ শক্তি ও টেকনোলজিঃ ভারত নবায়নযোগ্য শক্তি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে যা ভবিষ্যতে তার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বশক্তির মানচিত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময়। বর্তমানে ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং আগামী দশকে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটি সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কৌশলগত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মজবুত করা এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।

ভারত বর্তমানে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তিগত গবেষণা ও সামরিক আধুনিকীকরণে মনোযোগ দেওয়ায় ভারত ভবিষ্যতে সামরিক শক্তির দিক থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৌশলগত জোট ও বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ভারতে পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভারতের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে। যদি সামরিক, প্রযুক্তি ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করা যায়, তবে আগামী দশকে ভারত শীর্ষ ১০ ক্ষমতাধর দেশের তালিকায় প্রবেশ করতে পারে এবং একটি বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে। তবে এর জন্য সরকারের আরও বিনিয়োগ, দক্ষ প্রশাসন এবং কৌশলগত পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে।

দুর্যোগ

দুর্যোগ মোকাবিলার সচেতনতা ও প্রস্তুতি!

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়াতে দক্ষিণ জেলার শান্তির বাজার ডিগ্রী কলেজের মাঠে এক বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহড়ায় বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা বিভাগ, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মহড়ার দৃশ্যপট অনুযায়ী, কলেজ চলাকালীন সময়ে হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্প শুরু হতেই ছাত্রছাত্রীরা দ্রুত কলেজ ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। তবে ভূমিকম্পের ফলে কিছু শিক্ষার্থী ও কর্মী কলেজ ভবনের ভেতরে আটকে পড়ে এবং আহত হয়। উদ্ধারকাজে প্রথমে এগিয়ে আসে সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। এরপর দমকল বাহিনী, টি এস আর বাহিনী এবং এন ডি আর এফ (ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স) যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেডিকেল রিলিফ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন।

এই মহড়ার মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মহড়ার শেষে দক্ষিণ জেলার জেলাশাসক স্মৃতা মল (আইএএস) সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। এই মহড়ার মাধ্যমে সকলকে সচেতন ও দক্ষ করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

মহড়া শেষে মহকুমাশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মহকুমাশাসক মনোজ কুমার সাহা, এন ডি আর এফ-এর আধিকারিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে মহড়ার কার্যকারিতা ও ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা করেন। এই বিশেষ মহড়ার মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি প্রতিক্রিয়া, উদ্ধারকাজ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মুখ্যমন্ত্রী

ত্রিপুরার উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন!

স্বচ্ছতা বজায় রেখে কোনও ধরণের বৈষম্য ছাড়াই যুবদের চাকরি প্রদানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত চাকরির অফার বিতরণ কর্মসূচির ভার্চুয়াল উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সিপিএম সরকারের সময় চাকরি পাওয়া মানে ছিল আগে পার্টির ক্যাডারে যোগদান করা। কিন্তু আজ ডাঃ মানিক সাহার নেতৃত্বে এই রাজ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। কোনওরকম সুপারিশ ছাড়াই ২,৮০৬ জন কে সরকারি চাকরি দেওয়া হল। এটি রাজ্যে সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”

ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর যুগলবন্দিতে রাজ্যের উন্নয়নের নয়া দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। গত ১০ বছরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭০০-র বেশি সফর করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে বিজেপি সরকার উত্তর-পূর্বের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “একসময় ত্রিপুরা ছিল বামপন্থী সন্ত্রাসের ঘাঁটি। রাজ্যের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ চিন্তা করেনি। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। আজ ত্রিপুরা সন্ত্রাসমুক্ত, উন্নয়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।”

ত্রিপুরা সরকারের কর্মসংস্থান নীতির প্রশংসা করে অমিত শাহ বলেন, “ত্রিপুরার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে মুখ্যমন্ত্রী তাদের জীবনে নতুন দিশা দেখিয়েছেন। এই তরুণরাই আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ত্রিপুরা, বিকশিত ভারত’ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ার ফলে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য ডাঃ মানিক সাহা নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। তার নেতৃত্বে ত্রিপুরা এক নতুন উন্নয়নের পথ ধরেছে। কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদা রাজ্যের পাশে রয়েছে এবং আগামী দিনেও ত্রিপুরার উন্নয়নে সহায়তা করবে।”

এই কর্মসূচিতে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। এছাড়াও, রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যের শিক্ষিত যুবকদের সরকারি চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ত্রিপুরা সরকারের এই স্বচ্ছ নীতির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরায় নিয়োগে বেড়েছে স্বচ্ছতা, কমেছে বেকারত্বঃ

ত্রিপুরায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এখন সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতার উপর নির্ভর করছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বুধবার বিকেলে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার রাজনৈতিক রঙ বিচার না করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিচ্ছে।”

এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জেআরবিটি (JRBT) কর্তৃক মাল্টি টাস্কিং স্টাফ (Group-D) এবং অন্যান্য পদে ২,৮০৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তরে ফার্মাসিস্ট ও ল্যাব টেকনেশিয়ান পদে আরও ৩৬৯ জনের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের জরিপ অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ত্রিপুরার বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি ছিল। তবে, গত চার বছরে রাজ্যে বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং বর্তমানে ত্রিপুরার বেকারত্বের হার ১.৭%, যেখানে জাতীয় গড় ৩.২%। তিনি আরও জানান, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ১৬,৪১১ জনকে সরকারি দপ্তরে স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয়েছে, এবং আরও ৫,৭৭১ জনকে চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার টেট, জেআরবিটি এবং টিপিএসসির মাধ্যমে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগ করছে। এখন আর কাউকে চাকরির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান,
✅ আগরতলা, ধর্মনগর ও কৈলাশহরে তিনটি মডেল ক্যারিয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে।
✅ ২০১৮-১৯ থেকে ৯৬টি জব ফেয়ারের মাধ্যমে ২,১৩৫ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
✅ প্রায় ২২,০০০ যুবককে বিভিন্ন রাজ্যে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
✅ রাজ্যে ৫২,৪৬০টি স্ব-সহায়তা গোষ্ঠী (SHG) রয়েছে, যেখানে ৪.৭৩ লাখ সদস্য যুক্ত।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ত্রিপুরার সরকারও সেই পথেই চলছে। কর্মচারীরা সরকারের মূল চালিকাশক্তি, তাই যোগ্যদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে।”

এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়, বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ, খাদ্য ও পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য, বিধায়ক, প্রশাসনিক আধিকারিকরা। নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত কর্মচারীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। ত্রিপুরায় কর্মসংস্থানের এই নতুন উদ্যোগ রাজ্যের যুবসমাজের জন্য আশার আলো জাগিয়েছে।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরার সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগঃ আবেদন চলবে ১১ই মার্চ পর্যন্ত!

সরকারি সাধারণ ডিগ্রি কলেজের জন্য ১৩ জন অধ্যক্ষ নিয়োগ করতে চলেছে ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা দপ্তর। ত্রিপুরা লোকসেবা কমিশনের (TPSC) মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। অনলাইন আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১১ই মার্চ।

বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যের ২৫টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজের মধ্যে ১৬টি কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চলতে থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ত্রিপুরা উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ হয়ে বহু অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রাজ্য ছেড়ে বহিঃরাজ্যের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপক পদে যোগ দিচ্ছেন। কারণ, রাজ্যের কোনো সাধারণ ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপক (প্রফেসর) পদ নেই, যদিও শতাধিক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ইতোমধ্যেই প্রফেসর পদে পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন। অধ্যাপক না থাকায় গবেষণার সুযোগও সীমিত, ফলে পিএইচডি কোর্স কার্যত বন্ধ।

জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হলেও, রাজ্যের কলেজগুলোর পরিকাঠামো ভগ্নসার দশা। UGC-এর সেমিস্টার নিয়ম অনুযায়ী কলেজগুলিতে বছরে ১৮০ দিন ক্লাস করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। সঠিক অনুপাতে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস নেওয়া হচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরি কার্যত বন্ধ। কলা ও বাণিজ্য বিভাগের ক্ষেত্রেও সেমিস্টারে ৯১ দিনও পূর্ণাঙ্গ ক্লাস হচ্ছে না।

উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে রাজ্যে প্রায় ১,৭৮১ জন ইউজিসি স্বীকৃত অধ্যাপক প্রয়োজন। তবে ২০১৮ সালে পূর্বতন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১৮২টি অধ্যাপক পদের নিয়োগ বাতিল করা হয় এবং এরপর প্রায় দুই বছর কোনো নিয়োগ হয়নি। বিগত সাত বছরে মাত্র ৮১ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগ করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ২২টি পদে ককবরক ভাষার শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।নেট, স্লেট এবং পিএইচডি উত্তীর্ণ যুবক-যুবতীদের অভিযোগ, প্রায় ১,৫০০ জন উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী চাকরির জন্য রাজপথে ঘুরছেন, তাদের জন্য কোনো নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়নি, ফলে অনেকের চাকরির বয়সসীমা অতিক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।

২০২৩ সালের জুন মাসে আগরতলার টাউন হলে রাজ্যের কলেজগুলিতে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) প্রবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরিপূর্ণ সিলেবাস, পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং শ্রেণিকক্ষের ঘাটতির কারণে শিক্ষাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর ফলস্বরূপ প্রথম সেমিস্টারে প্রায় ৯,০০০ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। রাজ্যের বৃহত্তম কলেজগুলির মধ্যে আগরতলার রামঠাকুর কলেজ, বিবিএম কলেজ এবং উইমেন্স কলেজে এখনো নিয়মিত অধ্যক্ষ নেই। প্রায় ১৫,০০০ ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত থাকলেও কলেজ প্রশাসনিকভাবে অচল। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষদের প্রতিটি ছোটখাটো কাজের জন্য উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন খুব শীঘ্রই। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা আদৌ কাটবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

দিল্লি

দিল্লি বিধানসভা ভোটের এক্সিট পোলে এগিয়ে বিজেপি!

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস থাকলেও, প্রায় ২৭ বছর পর সরকার গঠন করতে পারে বিজেপি। বুথ ফেরত সমীক্ষার প্রাথমিক প্রবণতা এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্তত তিনটি এক্সিট পোলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভোটফলের পাল্লা বিজেপির দিকেই ভারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ৭০ আসন বিশিষ্ট দিল্লি বিধানসভায় বিজেপি ৩৫-৬০টি আসনে জয়ী হতে পারে। অন্যদিকে, সরকার গঠনের পথে হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন দেখা আম আদমি পার্টি ৩২-৩৭টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

এছাড়া রাজধানীর বিধানসভা নির্বাচনের বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলোতে বিভিন্ন ফলাফল উঠে এসেছে। মোট ৭০টি আসনের মধ্যে বেশিরভাগ সমীক্ষায় বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মাইন্ড ব্রিঙ্ক এক্সিট পোলঃ বিজেপি ২১-২৫টি আসন এবং আপ ৪৪-৪৯টি আসন পেতে পারে।

পি-মার্ক এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৩৯-৪৯টি আসন এবং আপ ২১-৩১টি আসন পেতে পারে।
জেভিসি এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৩৯-৪৫টি আসন এবং আপ ২২-৩১টি আসন পেতে পারে।

পিপলস ইনসাইট এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৪০-৪৪টি আসন এবং আপ ২৫-২৯টি আসন পেতে পারে।

ম্যাট্রিজ এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৩৫-৪০টি আসন এবং আপ ৩২-৩৭টি আসন পেতে পারে।

পিপলস পালস এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৫১-৬০টি আসন এবং আপ ১০-১৯টি আসন পেতে পারে।

এই সমীক্ষাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দিল্লিতে বিজেপি দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় ফিরতে পারে। তবে, চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী কা আস্থা কি ডূবকী!

আজ মহাকুম্ভ মেলা ২০২৫-এ পবিত্র ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের কোটি কোটি ভক্তের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তিনি এই আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং ঈশ্বরীয় সংযোগের এক গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেন।

স্নান শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান এক অপার ঈশ্বরীয় সংযোগের অনুভূতি। কোটি কোটি ভক্তের মতো আমিও এই পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এক অভূতপূর্ব ভক্তির আবেশ অনুভব করেছি।” এরপর তিনি মা গঙ্গা, মা যমুনা ও মা সরস্বতীর পূজা-অর্চনা করেন এবং সমগ্র দেশের শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা জানান। সামাজিক মাধ্যম X-এ (পূর্বে টুইটার) প্রধানমন্ত্রী তার অনুভূতি প্রকাশ করে লেখেন— “মহাকুম্ভে অংশগ্রহণ করা এক আশীর্বাদের মতো। ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করে আমি অপার ভক্তি ও প্রশান্তি অনুভব করেছি। মা গঙ্গার সকলকে আশীর্বাদে শান্তি, জ্ঞান, সুস্বাস্থ্য ও সম্প্রীতি দান করুক।”

তিনি আরও লেখেন, “প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভে পবিত্র স্নান এবং পূজা-অর্চনার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। মা গঙ্গার আশীর্বাদ পেয়ে অন্তরে এক অশেষ শান্তি ও তৃপ্তি অনুভব করছি। আমি সকল দেশবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেছি। তিনি কুম্ভমেলার আধ্যাত্মিক পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, “প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে ভক্তি, আস্থা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য সমাগম ঘটেছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও সাধু-সন্তদের উপস্থিতি এই মহামেলার মাহাত্ম্যকে আরও গৌরবান্বিত করেছে।”

প্রধানমন্ত্রীর কুম্ভ স্নানকে কেন্দ্র করে প্রয়াগরাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রশাসনের তরফ থেকে কুম্ভমেলায় আগত ভক্তদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তাঁরা নির্বিঘ্নে এই পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। মহাকুম্ভ মেলা ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী মোদির অংশগ্রহণ এই ঐতিহাসিক তীর্থযাত্রাকে আরও তাৎপর্যময় করে তুলেছে, যা দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এক নব উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।