মুখ্যমন্ত্রী

ত্রিপুরার উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন!

স্বচ্ছতা বজায় রেখে কোনও ধরণের বৈষম্য ছাড়াই যুবদের চাকরি প্রদানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত চাকরির অফার বিতরণ কর্মসূচির ভার্চুয়াল উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সিপিএম সরকারের সময় চাকরি পাওয়া মানে ছিল আগে পার্টির ক্যাডারে যোগদান করা। কিন্তু আজ ডাঃ মানিক সাহার নেতৃত্বে এই রাজ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। কোনওরকম সুপারিশ ছাড়াই ২,৮০৬ জন কে সরকারি চাকরি দেওয়া হল। এটি রাজ্যে সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”

ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর যুগলবন্দিতে রাজ্যের উন্নয়নের নয়া দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। গত ১০ বছরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭০০-র বেশি সফর করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে বিজেপি সরকার উত্তর-পূর্বের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “একসময় ত্রিপুরা ছিল বামপন্থী সন্ত্রাসের ঘাঁটি। রাজ্যের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ চিন্তা করেনি। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। আজ ত্রিপুরা সন্ত্রাসমুক্ত, উন্নয়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।”

ত্রিপুরা সরকারের কর্মসংস্থান নীতির প্রশংসা করে অমিত শাহ বলেন, “ত্রিপুরার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে মুখ্যমন্ত্রী তাদের জীবনে নতুন দিশা দেখিয়েছেন। এই তরুণরাই আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ত্রিপুরা, বিকশিত ভারত’ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ার ফলে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য ডাঃ মানিক সাহা নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। তার নেতৃত্বে ত্রিপুরা এক নতুন উন্নয়নের পথ ধরেছে। কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদা রাজ্যের পাশে রয়েছে এবং আগামী দিনেও ত্রিপুরার উন্নয়নে সহায়তা করবে।”

এই কর্মসূচিতে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। এছাড়াও, রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যের শিক্ষিত যুবকদের সরকারি চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ত্রিপুরা সরকারের এই স্বচ্ছ নীতির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরায় নিয়োগে বেড়েছে স্বচ্ছতা, কমেছে বেকারত্বঃ

ত্রিপুরায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এখন সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতার উপর নির্ভর করছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বুধবার বিকেলে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার রাজনৈতিক রঙ বিচার না করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিচ্ছে।”

এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জেআরবিটি (JRBT) কর্তৃক মাল্টি টাস্কিং স্টাফ (Group-D) এবং অন্যান্য পদে ২,৮০৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তরে ফার্মাসিস্ট ও ল্যাব টেকনেশিয়ান পদে আরও ৩৬৯ জনের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের জরিপ অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ত্রিপুরার বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি ছিল। তবে, গত চার বছরে রাজ্যে বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং বর্তমানে ত্রিপুরার বেকারত্বের হার ১.৭%, যেখানে জাতীয় গড় ৩.২%। তিনি আরও জানান, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ১৬,৪১১ জনকে সরকারি দপ্তরে স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয়েছে, এবং আরও ৫,৭৭১ জনকে চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার টেট, জেআরবিটি এবং টিপিএসসির মাধ্যমে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগ করছে। এখন আর কাউকে চাকরির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান,
✅ আগরতলা, ধর্মনগর ও কৈলাশহরে তিনটি মডেল ক্যারিয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে।
✅ ২০১৮-১৯ থেকে ৯৬টি জব ফেয়ারের মাধ্যমে ২,১৩৫ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
✅ প্রায় ২২,০০০ যুবককে বিভিন্ন রাজ্যে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
✅ রাজ্যে ৫২,৪৬০টি স্ব-সহায়তা গোষ্ঠী (SHG) রয়েছে, যেখানে ৪.৭৩ লাখ সদস্য যুক্ত।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ত্রিপুরার সরকারও সেই পথেই চলছে। কর্মচারীরা সরকারের মূল চালিকাশক্তি, তাই যোগ্যদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে।”

এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়, বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ, খাদ্য ও পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য, বিধায়ক, প্রশাসনিক আধিকারিকরা। নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত কর্মচারীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। ত্রিপুরায় কর্মসংস্থানের এই নতুন উদ্যোগ রাজ্যের যুবসমাজের জন্য আশার আলো জাগিয়েছে।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরার সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগঃ আবেদন চলবে ১১ই মার্চ পর্যন্ত!

সরকারি সাধারণ ডিগ্রি কলেজের জন্য ১৩ জন অধ্যক্ষ নিয়োগ করতে চলেছে ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা দপ্তর। ত্রিপুরা লোকসেবা কমিশনের (TPSC) মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। অনলাইন আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১১ই মার্চ।

বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যের ২৫টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজের মধ্যে ১৬টি কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চলতে থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ত্রিপুরা উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ হয়ে বহু অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রাজ্য ছেড়ে বহিঃরাজ্যের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপক পদে যোগ দিচ্ছেন। কারণ, রাজ্যের কোনো সাধারণ ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপক (প্রফেসর) পদ নেই, যদিও শতাধিক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ইতোমধ্যেই প্রফেসর পদে পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন। অধ্যাপক না থাকায় গবেষণার সুযোগও সীমিত, ফলে পিএইচডি কোর্স কার্যত বন্ধ।

জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হলেও, রাজ্যের কলেজগুলোর পরিকাঠামো ভগ্নসার দশা। UGC-এর সেমিস্টার নিয়ম অনুযায়ী কলেজগুলিতে বছরে ১৮০ দিন ক্লাস করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। সঠিক অনুপাতে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস নেওয়া হচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরি কার্যত বন্ধ। কলা ও বাণিজ্য বিভাগের ক্ষেত্রেও সেমিস্টারে ৯১ দিনও পূর্ণাঙ্গ ক্লাস হচ্ছে না।

উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে রাজ্যে প্রায় ১,৭৮১ জন ইউজিসি স্বীকৃত অধ্যাপক প্রয়োজন। তবে ২০১৮ সালে পূর্বতন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১৮২টি অধ্যাপক পদের নিয়োগ বাতিল করা হয় এবং এরপর প্রায় দুই বছর কোনো নিয়োগ হয়নি। বিগত সাত বছরে মাত্র ৮১ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগ করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ২২টি পদে ককবরক ভাষার শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।নেট, স্লেট এবং পিএইচডি উত্তীর্ণ যুবক-যুবতীদের অভিযোগ, প্রায় ১,৫০০ জন উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী চাকরির জন্য রাজপথে ঘুরছেন, তাদের জন্য কোনো নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়নি, ফলে অনেকের চাকরির বয়সসীমা অতিক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।

২০২৩ সালের জুন মাসে আগরতলার টাউন হলে রাজ্যের কলেজগুলিতে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) প্রবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরিপূর্ণ সিলেবাস, পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং শ্রেণিকক্ষের ঘাটতির কারণে শিক্ষাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর ফলস্বরূপ প্রথম সেমিস্টারে প্রায় ৯,০০০ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। রাজ্যের বৃহত্তম কলেজগুলির মধ্যে আগরতলার রামঠাকুর কলেজ, বিবিএম কলেজ এবং উইমেন্স কলেজে এখনো নিয়মিত অধ্যক্ষ নেই। প্রায় ১৫,০০০ ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত থাকলেও কলেজ প্রশাসনিকভাবে অচল। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষদের প্রতিটি ছোটখাটো কাজের জন্য উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন খুব শীঘ্রই। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা আদৌ কাটবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

দিল্লি

দিল্লি বিধানসভা ভোটের এক্সিট পোলে এগিয়ে বিজেপি!

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস থাকলেও, প্রায় ২৭ বছর পর সরকার গঠন করতে পারে বিজেপি। বুথ ফেরত সমীক্ষার প্রাথমিক প্রবণতা এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্তত তিনটি এক্সিট পোলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভোটফলের পাল্লা বিজেপির দিকেই ভারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ৭০ আসন বিশিষ্ট দিল্লি বিধানসভায় বিজেপি ৩৫-৬০টি আসনে জয়ী হতে পারে। অন্যদিকে, সরকার গঠনের পথে হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন দেখা আম আদমি পার্টি ৩২-৩৭টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

এছাড়া রাজধানীর বিধানসভা নির্বাচনের বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলোতে বিভিন্ন ফলাফল উঠে এসেছে। মোট ৭০টি আসনের মধ্যে বেশিরভাগ সমীক্ষায় বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মাইন্ড ব্রিঙ্ক এক্সিট পোলঃ বিজেপি ২১-২৫টি আসন এবং আপ ৪৪-৪৯টি আসন পেতে পারে।

পি-মার্ক এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৩৯-৪৯টি আসন এবং আপ ২১-৩১টি আসন পেতে পারে।
জেভিসি এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৩৯-৪৫টি আসন এবং আপ ২২-৩১টি আসন পেতে পারে।

পিপলস ইনসাইট এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৪০-৪৪টি আসন এবং আপ ২৫-২৯টি আসন পেতে পারে।

ম্যাট্রিজ এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৩৫-৪০টি আসন এবং আপ ৩২-৩৭টি আসন পেতে পারে।

পিপলস পালস এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৫১-৬০টি আসন এবং আপ ১০-১৯টি আসন পেতে পারে।

এই সমীক্ষাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দিল্লিতে বিজেপি দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় ফিরতে পারে। তবে, চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী কা আস্থা কি ডূবকী!

আজ মহাকুম্ভ মেলা ২০২৫-এ পবিত্র ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের কোটি কোটি ভক্তের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তিনি এই আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং ঈশ্বরীয় সংযোগের এক গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেন।

স্নান শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান এক অপার ঈশ্বরীয় সংযোগের অনুভূতি। কোটি কোটি ভক্তের মতো আমিও এই পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এক অভূতপূর্ব ভক্তির আবেশ অনুভব করেছি।” এরপর তিনি মা গঙ্গা, মা যমুনা ও মা সরস্বতীর পূজা-অর্চনা করেন এবং সমগ্র দেশের শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা জানান। সামাজিক মাধ্যম X-এ (পূর্বে টুইটার) প্রধানমন্ত্রী তার অনুভূতি প্রকাশ করে লেখেন— “মহাকুম্ভে অংশগ্রহণ করা এক আশীর্বাদের মতো। ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করে আমি অপার ভক্তি ও প্রশান্তি অনুভব করেছি। মা গঙ্গার সকলকে আশীর্বাদে শান্তি, জ্ঞান, সুস্বাস্থ্য ও সম্প্রীতি দান করুক।”

তিনি আরও লেখেন, “প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভে পবিত্র স্নান এবং পূজা-অর্চনার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। মা গঙ্গার আশীর্বাদ পেয়ে অন্তরে এক অশেষ শান্তি ও তৃপ্তি অনুভব করছি। আমি সকল দেশবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেছি। তিনি কুম্ভমেলার আধ্যাত্মিক পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, “প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে ভক্তি, আস্থা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য সমাগম ঘটেছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও সাধু-সন্তদের উপস্থিতি এই মহামেলার মাহাত্ম্যকে আরও গৌরবান্বিত করেছে।”

প্রধানমন্ত্রীর কুম্ভ স্নানকে কেন্দ্র করে প্রয়াগরাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রশাসনের তরফ থেকে কুম্ভমেলায় আগত ভক্তদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তাঁরা নির্বিঘ্নে এই পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। মহাকুম্ভ মেলা ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী মোদির অংশগ্রহণ এই ঐতিহাসিক তীর্থযাত্রাকে আরও তাৎপর্যময় করে তুলেছে, যা দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এক নব উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

ভগবান

ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে ভগবান বিরসা মুন্ডা ফুটবল টুর্নামেন্ট!

ভগবান

জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আজ থেকে শুরু হবে “ভগবান বিরসা মুন্ডা ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫”। কিংবদন্তি জনজাতি নেতা ভগবান বিরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে জনজাতীয় গৌরববর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। তারই অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে রাজ্যস্তরের আন্তঃহোস্টেল ফুটবল প্রতিযোগিতা।

এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের জনজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের সুযোগ প্রদান এবং তাদের সুস্থ ও মাদকমুক্ত জীবনধারার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এবারের টুর্নামেন্টের মূল স্লোগান “Football is Game, Drugs are Shame”, যা যুবসমাজকে খেলার প্রতি আকৃষ্ট করার পাশাপাশি মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখার বার্তা বহন করে।

আগরতলার উমাকান্ত ফুটবল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে ৮টি ছেলেদের দল ও ৮টি মেয়েদের দল অংশগ্রহণ করছে। প্রতিযোগিতাটি নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মোট ১৬টি ম্যাচ খেলা হবে, যার মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ত্রিপুরা সরকারের খাদ্য, পরিবহন ও পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী সুশান্ত চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা আগরতলা পৌর কর্পোরেশনের মেয়র শ্রী দীপক মজুমদার এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী শ্রী বিকাশ দেববর্মা।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল ও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অর্জনকারীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার:

  • চ্যাম্পিয়ন (ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগ): ট্রফি ও ১,০০,০০০ টাকা
  • প্রথম রানার্স-আপ: ৭৫,০০০ টাকা
  • দ্বিতীয় রানার্স-আপ: ৫০,০০০ টাকা
  • ফেয়ার প্লে দল: ট্রফি ও ২৫,০০০ টাকা

ব্যক্তিগত পুরস্কার:

  • সেরা খেলোয়াড়: ট্রফি ও ১০,০০০ টাকা
  • শীর্ষ স্কোরার: ট্রফি ও ১০,০০০ টাকা
  • সেরা গোলকিপার: ট্রফি ও ১০,০০০ টাকা
  • প্রত্যেক ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: ট্রফি ও ১,০০০ টাকা

৫ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে “ভগবান বিরসা মুন্ডা ফুটবল টুর্নামেন্ট”। এটি শুধু একটি খেলা নয়, বরং জনজাতি সংস্কৃতি ও ঐক্যের প্রতীক, পাশাপাশি, এই টুর্নামেন্ট ছাত্রছাত্রীদের প্রতিভা প্রকাশের একটি দারুণ মাধ্যম হতে পারে।

ভারত

বাংলাদেশ থেকে আগত ভারতীয়কে গুলি বিএসএফের!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পুটিয়া এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৫১ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত হলেন রনি আহমেদ নামে এক যুবক। জানা গেছে, তিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করার সময় বিএসএফ তাকে পাচারকারী সন্দেহে গুলি চালায়। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে তার স্ত্রীর সামনেই।

আহত রনি আহমেদের বাড়ি পুটিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে। কয়েকদিন আগে তিনি অবৈধভাবে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চোরাপথে ফিরে আসার সময় ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফের নজরে পড়েন। বিএসএফ তাকে চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করে গুলি চালায় এবং ঐ গুলি তার গলায় লাগে, সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে খবর।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। পরে বিএসএফ আহত রনিকে উদ্ধার করে বক্সনগর সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে আগরতলার জিবি পন্থ (জিবিপি) হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।