আগরতলা শহরে নতুন আরবান স্বাস্থ্য কেন্দ্র

রাজধানী আগরতলার প্রাণকেন্দ্রে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবাযুক্ত নতুন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর!

জনগণের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্যের বর্তমান সরকার একাধিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায়, রাজধানীর জ্যাকসন গেইট সংলগ্ন এলাকায় একটি আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা সম্বলিত ৫০ শয্যার নতুন আরবান স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

নতুন এই হাসপাতালটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও আগরতলা শহরে আগত অন্যান্য ব্যক্তিরাও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পাবেন। ফলে আইজিএম ও জিবি হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমবে। হাসপাতালটিতে থাকছে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপিডি, মাইনর অপারেশন থিয়েটার, লিফট সহ অন্যান্য অত্যাধুনিক সুবিধা। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালের যাবতীয় নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে এবং এটি আগরতলা পুর নিগমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুম্বাইয়ের নায়ার মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজের মতো পুর কর্পোরেশনের পরিচালনায় হাসপাতাল গড়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। সেই ভাবনা থেকেই আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার ও স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যের সাথে আলোচনা করে হাসপাতালটির জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের শ্রম দপ্তরের অফিসটি নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ায় এই স্থানে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধার্থে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই নতুন হাসপাতালটিতে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে একাধিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। জিবি হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতি ও রোটারি ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় মাত্র ১০ টাকায় দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এছাড়াও বাজেটে একটি শেল্টার হাউজ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, যা রোগীদের পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়ক হবে।

এই শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ও বিধায়ক দীপক মজুমদার, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, আগরতলা স্মার্ট সিটি মিশনের আধিকারিক ড. শৈলেশ কুমার যাদব সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নতুন এই হাসপাতালটি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে চলেছে, যা আগরতলা শহরের জনগণের জন্য এক বড় উপহার।About Us

রোহিঙ্গা নাগরিকের অনুপ্রবেশ কৈলাসহরে

বাংলাদেশ থেকে দুই রোহিঙ্গা নাগরিক ভারতে প্রবেশের মুখে আটক!

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈলাসহর থানার পুলিশ দুইজন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করেছে। শহর এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় গোটা কৈলাসহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কৈলাসহর থানার ওসি সুকান্ত সেন চৌধুরী জানান, ৩রা এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভোরবেলা দুই বাংলাদেশী  নাগরিক অবৈধভাবে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হয়ে কৈলাসহরে প্রবেশ করে। তারা কৈলাসহর থেকে বহিরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি অটোতে ওঠে। ধর্মনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় কৈলাসহর শহরের কলেজের পাশে পুলিশ সন্দেহজনক অটোটি আটক করে তল্লাশি চালায়। এই তল্লাশিতে দুই বিদেশি নাগরিকসহ অটো চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।

অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে ধৃত তিনজনকেই কৈলাসহর থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত দুই বিদেশি নাগরিক আদতে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা। এই আটকৃতদের কাছ থেকে তিনটি দামি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, যে অটো গাড়িটি তারা ব্যবহার করছিল সেটিও পুলিশ জব্দ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত দুইজন রোহিঙ্গা নাগরিক জানিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশের চট্টগ্রামের রিফিউজি ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসেছে। আটককৃতদের মধ্যে মোহাম্মদ তাসিন (১৮) ও মোহাম্মদ উসমান (১৯) নামে দুই রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া, ধৃত অটো চালকের নাম আমিনুল হক (২৬), যার বাড়ি কৈলাসহরের বাবুরবাজার এলাকায়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, রোহিঙ্গা নাগরিকরা কীভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হয়েছে, তাদের ভারতে আসার উদ্দেশ্য কী, এবং তারা কার মাধ্যমে এ দেশে প্রবেশ করেছে, এসব বিষয়ে জোরালো তদন্ত চলছে। বিকেলে ধৃতদের কৈলাসহর আদালতে হাজির করা হয়েছে। এভাবে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে রোহিঙ্গা নাগরিক আটক হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসন আরও কঠোর নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।About Us

পশ্চিমবঙ্গে ১০৩২৩ এর প্রতিচ্ছবি

পশ্চিমবঙ্গের SSC নিয়োগ দুর্নীতিতে হাইকোর্টের রায়কেই প্রায় মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্টে!

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা জগতে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, যা ত্রিপুরার ১০৩২৩ শিক্ষকের মামলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্ট প্রায় ২৫,৭৫৩ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর নিয়োগ বাতিল করেছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও, শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রেখেছে।

২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ওএমআর শিটের জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়ে তদন্তের জন্য কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআইকে দায়িত্ব দেয়। সিবিআই এই তদন্তে নেমে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়সহ একাধিক এসএসসি কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, যার ফলে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আদালতের নির্দেশনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ অনুযায়ী;

  • প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও যারা চাকরি পেয়েছেন বা করছেন, তাদের ৪ সপ্তাহের মধ্যে বেতন ফেরত দিতে হবে।
  • ৬ সপ্তাহের মধ্যে জেলা শাসকদের সেই টাকা উদ্ধার করতে হবে।
  • নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্ত তদন্ত করবে সিবিআই, এবং প্রয়োজনে যেকোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে নিতে পারবে।
  • অতিরিক্ত শূন্য পদ যারা তৈরি করেছিল, তাদেরও হেফাজতে নিতে পারবে সিবিআই।
  • সমস্ত ওএমআর শিট পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে।
  • সবকটি ওএমআর শিটের কপি অনলাইনে আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
  • নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে এসএসসিকে।

এই দুর্নীতির ফলে অনেক যোগ্য প্রার্থী, যারা মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছিলেন, তাদেরও চাকরি হারাতে হয়েছে। এতে তারা ও তাদের পরিবার গভীর হতাশায় নিমজ্জিত। প্রশ্ন উঠছে, যারা মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছিলেন, তাদের চাকরি হারানোর জন্য দায়ী কে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন দুই-তৃতীয়াংশ চাকরিপ্রার্থী ও তাদের পরিবার। ত্রিপুরায় ১০৩২৩ শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের ঘটনা যেমন শিক্ষা ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল, পশ্চিমবঙ্গের এই ঘটনা তেমনই শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলে ধরেছে। উভয় ক্ষেত্রেই মেধাবী প্রার্থীদের প্রতি অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষাবিজ্ঞ, মহল।About Us

মাদুরাইয়ে শুরু হচ্ছে CPIM-এর ২৪তম পার্টি কংগ্রেস

মাদুরাই পার্টি কংগ্রেসে বিজয়ন ও মানিকের জন্য ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা!

তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে ২ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সিপিআই(এম)-এর ২৪তম পার্টি কংগ্রেস। এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৮০০-র বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। ত্রিপুরা থেকে ৪৮ জন প্রতিনিধি এই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। রবিবার থেকেই বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি মাদুরাইয়ে পৌঁছে গেছেন, বাকিরা সোমবার সকালে রওনা দিয়েছেন। ত্রিপুরার প্রতিনিধিদলের মধ্যে রয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার। পার্টি কংগ্রেসে রাজ্যের প্রতিনিধিদের ৩১ মার্চের মধ্যে উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল। প্রতিনিধি তালিকায় ৪০ জন প্রতিনিধি, দুজন পর্যবেক্ষক এবং দলের ছয়জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, কেরালার কান্নুরে অনুষ্ঠিত ২৩তম পার্টি কংগ্রেসে গৃহীত দলীয় কৌশল এবারের কংগ্রেসে বিস্তারিত আলোচিত হবে।

সিপিআই(এম)-এর বর্তমান বয়স নীতি অনুযায়ী, মাদুরাই পার্টি কংগ্রেসে পলিটব্যুরো থেকে বিদায় নেওয়ার কথা প্রকাশ কারাত, বৃন্দা কারাত, পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার, সুভাষিণী আলি, সূর্য্যকান্ত মিশ্র এবং জি রামকৃষ্ণনের। এছাড়াও, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির মৃত্যুতে তাঁর পদও ফাঁকা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিপিআই(এম)-এর শীর্ষ নেতৃত্বে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। তবে, বিশেষত কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন এবং ত্রিপুরার প্রবীণ নেতা মানিক সরকারের জন্য ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।

কেরলের পিনারাই বিজয়ন বর্তমান সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, অন্যদিকে ত্রিপুরায় মানিক সরকারের বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে, দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেও তাঁদের জন্য বয়স নীতিতে কিছুটা শিথিলতা দেওয়ার পক্ষেই অনেকে মত দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই কেরলে বিজয়ন এবং ত্রিপুরায় মানিক সরকারকে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রেখে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সিপিআই(এম), এমনটাই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এবারের পার্টি কংগ্রেসে বিশেষ আলোচনা হতে পারে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে, ত্রিপুরা রাজ্যে সংগঠন মজবুত করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপির সাম্প্রদায়িক ও বিভাজনের রাজনীতি এবং তিপ্রামথার জাত্যাভিমান ত্রিপুরার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে তিপ্রামথার সঙ্গে বিজেপির গোপন সমঝোতা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, দুর্নীতি, এবং যুব সমাজকে নেশায় ডুবিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলিকে সামনে রেখে সিপিআই(এম) রাজ্যের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে খবর। দলের রাজ্য সম্মেলন ও জেলা সম্মেলনে এসব বিষয় আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী ইতিমধ্যেই সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও মজবুত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ত্রিপুরার নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, ত্রিপুরার রাজনীতিতে জনজাতি ভোটের বড় ভূমিকা রয়েছে। এক সময় সিপিআই(এম) জনজাতি এলাকায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিল। তবে, বর্তমানে মথার উত্থান এবং রাজ পরিবারের প্রতি জনজাতিদের আনুগত্য নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দল এই পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য কী পদক্ষেপ নেবে, তা এবারের পার্টি কংগ্রেসে আলোচনার মূল বিষয়গুলির একটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পার্টি কংগ্রেস থেকে সিপিআই(এম)-এর নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। তবে, কে হবেন পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক তা নিয়ে দলীয় মহলে চর্চা চরমে। এই পার্টি কংগ্রেস শেষে নেতৃত্ব নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। মাদুরাই পার্টি কংগ্রেস শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিপিআই(এম)-এর ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।About Us

ত্রিপুরা বিজেপি কি পারবে সংঘ পরিবারের দীক্ষায় দীক্ষিত হতে

ত্রিপুরা বিজেপির নতুন সভাপতি নির্বাচন ঘিরে টানটান উত্তেজনা!!

আগামী দিনে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির নতুন সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে দলের অভ্যন্তরে ও রাজনৈতিক মহলে। বর্তমান সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নতুন সভাপতির নাম চূড়ান্ত করতে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোন নির্দিষ্ট নাম ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ফলে রাজ্যের বিজেপি শিবিরে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা এবং তা নিয়ে দলীয় কর্মীদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সূত্রের খবর, প্রদেশ বিজেপির সভাপতি পদের জন্য দুটি প্রধান নাম উঠে এসেছে। প্রথমজন হলেন রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী টিঙ্কু রায় এবং দ্বিতীয়জন হলেন বিধায়ক ভগবান দাস। উভয়েরই দলীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তারা সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তবে, এখানেই শেষ নয়। বর্তমান সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্যও পুনরায় সভাপতি হওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বিকল্প কোনো নাম প্রস্তাব করেননি, বরং নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করে চলেছেন।

একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটির সভাপতি নির্বাচনে একটি বড় চমক দেখাতে পারে। আলোচনায় থাকা দুই নামের বাইরে তৃতীয় কেউ এই পদ পেতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যার নাম এখনো প্রকাশ্যেই আসেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে সংঘ পরিবারের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সংঘ পরিবারের মতাদর্শ ও রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা হতে পারে দলের শীর্ষ মহলের।

এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩রা এপ্রিল ত্রিপুরা সফরে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সদস্য জুয়েল ওরাম। তিনি বিজেপির সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন তাই তার এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তিনি রাজ্য সফর শেষে দিল্লি ফিরে গেলেই প্রদেশ সভাপতি পদের নতুন নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

নতুন সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য বিজেপির ভেতরে একাধিক গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একদিকে কংগ্রেস থেকে আসা নেতাদের একটি অংশ আলাদা অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পুরানো বিজেপি নেতারা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চাইছেন। তবে সংঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ নেতারাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন। এই কোন্দল এখন আর দলের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই, সাধারণ মানুষের মধ্যে তা নিয়ে চলছে প্রকাশ্যে আলোচনা।

এই দলীয় অস্থিরতার ফলে বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো বেশ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা বিরোধী দলগুলোর জন্য স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কংগ্রেস ও সিপিআইএম ইতিমধ্যেই নিজেদের শক্তি পুনর্গঠনের কাজে লেগে পড়েছে। যদি বিজেপি দ্রুত সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করতে পারে, তাহলে আগামী দিনে এই দ্বন্দ্বের খেসারত দিতে হতে পারে শাসক দলকে। ত্রিপুরা বিজেপির নতুন সভাপতি নির্বাচন শুধু দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি রাজ্যের ভবিষ্যৎ ও রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখন দেখার বিষয়, সর্বভারতীয় নেতৃত্ব কাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয় এবং তিনি কিভাবে বিজেপির বর্তমান শক্তিকে অক্ষুন্ন রেখে সংঘ পরিবারের সাংগঠনিক শ্রীবৃদ্ধি করে।About Us

চাকরি

চাকরি সংক্রান্ত দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য আপডেট পেতে চোখ রাখুন “Straightlines News– কর্মবার্তা” ডেস্কে

 

ISI

বাংলাদেশের কোটা আন্দোলন কি তাহলে ISI-এর ইশারায়??

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ থেকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী আতাউল্লাকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, আতাউল্লাহ পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর প্রশিক্ষিত এজেন্ট এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরের তরুণদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত করার গুরুদায়িত্ব পালন করছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, এবং বিশেষজ্ঞরা এটিকে পাক ISI-এর দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আতাউল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ISI-এর প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশে সক্রিয় ছিল। তার প্রধান কাজ ছিল রোহিঙ্গা শিবিরের যুবকদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের দিকে ধাবিত করা এবং তাদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মাদক পাচার ও জঙ্গি কার্যক্রমে নিয়োজিত করা। বাংলাদেশে তার উপস্থিতি ও কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, পাক ISI দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরমপন্থী কার্যকলাপ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আতাউল্লাহকে নিয়োগ করা হয়েছিল পাকিস্তান ISI এর তরফ থেকে। সে রোহিঙ্গা তরুণদের মগজধোলাই করে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত করত এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিভিন্ন বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনা করত। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সন্ত্রাসী চক্রের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে মাদক ও অস্ত্র পাচার করা এবং সেখানকার উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ছাত্র আন্দোলনের পেছনে পাকিস্তানি ISI-এর প্রত্যক্ষ মদত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে হাসিনা সরকারকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল পাকিস্তানি সংস্থা ISIএর তরফ থেকে। ছাত্র আন্দোলনের নামে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলাই ছিল এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাক ISI দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশকে পুনরায় পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করা। আতাউল্লাহর গ্রেফতারি সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি বড় প্রমাণ।

এই ঘটনায় বাংলাদেশের বর্তমান স্বঘোষিত ইউনুস সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের ফাঁস হওয়ার পরও ইউনুস সরকার নীরবতা পালন করছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইউনুস সরকারের নিরবতা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাদের কোনো না কোনো সংযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভারত এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে বলে খবরের প্রকার। বাংলাদেশ সরকার যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই ধরনের ষড়যন্ত্র আরও গভীর হতে পারে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে। পাক ISI-এর ষড়যন্ত্র রুখতে উভয় দেশকেই আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।About Us

তিপ্রামথা আন্দোলন

সম্মানজনক সমঝোতার সন্ধানে আন্দোলনরত মথা নেত্রীত্ব!!

ত্রিপুরায় রোমান হরফ বিতর্ক ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে জনজাতি ছাত্র সংগঠনের লাগাতার আন্দোলন, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের স্পষ্ট অবস্থান—এই দ্বৈরথের মাঝখানে রাজনৈতিক সঙ্কটে পড়েছেন প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মা। রাজ্যের জনজাতি ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তিনি সম্মানজনক সমঝোতার পথ খুঁজছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় রোমান হরফে ককবরক ভাষা চালুর দাবিতে তীব্র আন্দোলন চলছে। ত্রিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ছাত্রদের পথে নামিয়েছেন প্রদ্যুত, এমন অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। অন্যদিকে, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার রোমান হরফের দাবিতে নমনীয় নয়। বিজেপির জনজাতি মোর্চাও রোমান হরফের বদলে দেবনাগরি হরফের পক্ষে মত দিয়েছে।

রোমান হরফের দাবিতে শুক্রবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবরোধ শুরু করে জনজাতি ছাত্র সংগঠন টি.এস.এফ। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও, এখনো বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন অব্যাহত। তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত হাওয়াইবাড়িতে শনিবার সকালেও ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ৪৫ কিলোমিটার জুড়ে ছোট-বড় যানবাহন, মালবাহী ট্রাক আটকে পড়ে। পেঁয়াজ, রসুন, তরমুজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো আটকে থাকায়, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেকে রাস্তার ওপর বসেই রাত কাটিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ।

শনিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মথার ছাত্র সংগঠন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনোভাবেই রোমান হরফের দাবিতে পিছু হটবে না। বরং আন্দোলন আরও তীব্র করবে। সোমবার রাজধানী আগরতলায় ফের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তারা। অন্যদিকে, সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এই মুহূর্তে রোমান হরফের দাবিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নির্দেশে আগে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। তবে সেই কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলন এখন প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মার জন্যও বড় সঙ্কট হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনজাতি ছাত্র সংগঠনের দাবি নিয়ে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের কারণে তিনি একদিকে চাপে রয়েছেন, অন্যদিকে রাজ্যের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায় আন্দোলনের প্রতি জনসমর্থন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিজেপি এই ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়ায়, দিল্লির সঙ্গেও প্রদ্যুতের সম্পর্ক নতুন পরীক্ষার মুখে। ফলে, একদিকে আন্দোলনকারীদের রোষ, অন্যদিকে প্রশাসনিক কড়াকড়ির বাস্তবতা—এই দুইয়ের মাঝে তিনি আপাতত একটি সম্মানজনক সমঝোতার পথ খুঁজছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এই অবস্থায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।About Us

রং বদলের ইঙ্গিত বাম শিবিরে

লাল রং ছেড়ে নীল-হলুদকে আপন করল সিপিআইএম?

সময়ের স্রোতে নিজেদের রং বদলে ফেলছে সিপিআইএম! একসময় যে দল লাল ঝান্ডার ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করত, সেই দলই কি এবার তার চিরাচরিত আদর্শ থেকে সরে আসছে? অন্তত তাদের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পরিবর্তন তো সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। বামফ্রন্টের দীর্ঘ লড়াই, শ্রমিক-কৃষকের বিপ্লবী ইতিহাস সবসময় লাল রঙের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বঙ্গ সিপিআইএমের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল ছবি বদলে গিয়েছে। লালের পরিবর্তে সেখানে জায়গা করে নিয়েছে নীল-সাদার মিশ্রণ। শুধু তাই নয়, বামপন্থার প্রতীক কাস্তে-হাতুড়ির রংও বদলে হয়েছে হলুদ। স্বাভাবিকভাবেই এমন পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে।

বিগত কয়েক বছরে সিপিআইএম একের পর এক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দল প্রায় শূন্যে পৌঁছে গেছে। ত্রিপুরাতেও লাল পতাকা অনেকটাই ফিকে। বিজেপির উত্থানের পর থেকে লড়াইয়ে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বামেরা। অনেকের মতে, দলীয় ভাবমূর্তি বদলাতে এবং আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে বামেরা এমন পরিবর্তন এনেছে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই রং পরিবর্তনের পিছনে আরও গভীর বার্তা লুকিয়ে থাকতে পারে। সিপিআইএম কি তবে লালের ‘রক্তাক্ত ইতিহাস’ ভুলতে চাইছে? নাকি তারা নতুনভাবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে?

সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্টস বক্সে সিপিআইএমের এই নীল-সাদা রঙের দিকে ঝোঁকার ঘটনায় তুলনা করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কারণ, নীল-সাদা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চিরপরিচিত রং। কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, ‘সিপিআইএম কি এবার তৃণমূলের ছায়ায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে?’ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পরিবর্তন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই লিখছেন, ‘‘যে দল একসময় প্রযুক্তি বিরোধিতা করত, তারাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমেজ বদলে নিজেদের নতুন ভাবে চেনানোর চেষ্টা করছে।’’ কেউ কেউ বলছেন, ‘‘এবার কি লাল পতাকার জায়গায় নীল-হলুদ পতাকা উঠবে?’’

এ বিষয়ে সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতার বক্তব্য, ‘‘এটা শুধুমাত্র একটা ভিজ্যুয়াল পরিবর্তন। লাল আমাদের রক্তে মিশে আছে, তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তবে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া প্রয়োজন।’’
অন্যদিকে, ত্রিপুরা সিপিআইএমের এক কর্মী হতাশার সুরে বলেন, ‘‘আমরা এতদিন যে লালের জন্য লড়াই করলাম, সেই লাল এখন হলুদ হয়ে গেল? তাহলে কি আমাদের আদর্শও বদলে যাবে?’’ সিপিআইএমের এই ‘রং বদল’ শুধুই প্রতীকী পরিবর্তন, নাকি এর মাধ্যমে দল ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু ঘোষণা করতে চলেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই নতুন ইমেজ তৈরির প্রচেষ্টায় কি আদৌ জনসমর্থন ফিরে পাবে সিপিআইএম? নাকি এই পরিবর্তন আরও বিভ্রান্তি তৈরি করবে?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিপিআইএমকে কেবল রঙের পরিবর্তন করলেই চলবে না, তাদের হারানো গণভিত্তিও ফিরে পেতে হবে। ত্রিপুরার মতো জায়গায় যেখানে বামফ্রন্ট একসময় শক্তিশালী ছিল, সেখানেও তাদের পুনরুত্থানের জন্য সংগঠনের ভিতকে আরও মজবুত করতে হবে। সময়ের সঙ্গে বামেদের আদর্শ কি সত্যিই বদলাচ্ছে? নাকি শুধুমাত্র একটি চিত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা জনমনে নতুন বার্তা দিতে চাইছে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।About Us

ত্রিপুরা বাজেট 2025-26

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ত্রিপুরা রাজ্যের বাজেট সারাংশ!!

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৩২,৪২৩.৪৪ কোটি টাকার বাজেট শুক্রবার পেশ করেছেন ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী প্রনজিত সিংহ রায়। এই বাজেট ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ১৬.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারের বাজেটে মূলধনী ব্যয় ৭,৯০৩.২৬ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১৯.১৪ শতাংশ বেশি। বাজেট ঘাটতি নির্ধারিত হয়েছে ৪২৯.৫৬ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারের বাজেট অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে এবং নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বাজেটে কোনো নতুন করের প্রস্তাব করা হয়নি। সমস্ত শ্রেণির মানুষের কথা মাথায় রেখে বাজেট তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যঃ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের জন্য ১,৮৮৫.৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ সালের বাজেটের তুলনায় ৯.৪৯% বেশি। শিক্ষা খাতে ৬,১৬৬.১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১.৯৪% বেশি। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১,৯৪৮.৬৯ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ সালের তুলনায় ১২.৮৯% বেশি।

নতুন প্রকল্পঃ

  • ‘মুখ্যমন্ত্রী শস্য শ্যামলা যোজনা’: উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসলের প্রচারের জন্য এই নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • ‘বিজ্ঞান বিষয় ও ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’: প্রতিটি সাব-ডিভিশনে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সদর মহকুমায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় সেখানে তিনটি কেন্দ্র স্থাপিত হবে। এর জন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • নতুন ডিগ্রি কলেজ: আমবাসা, কাকড়াবন ও করবুকে নতুন ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করা হবে বলে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন।
  • ‘ত্রিপুরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা কেন্দ্র’: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্দেশ্যে রাজ্যের তিনটি স্থানে এই কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর জন্য ১.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • ওয়াকফ সম্পত্তির উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন: ওয়াকফ সম্পত্তির উন্নয়নে ১.২০ কোটি টাকা, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলির উন্নয়নে ৫ কোটি টাকা এবং সংখ্যালঘু ব্লকগুলির আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাইপেন্ড: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড প্রদানের জন্য ৯.৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

নারী ও সমাজ কল্যাণঃ

  • ‘মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনা’: অন্ত্যোদয় পরিবারের একজন কন্যা সন্তানের বিয়ের জন্য রাজ্য সরকার ৫০,০০০ টাকা ব্যয় করবে। মহকুমা পর্যায়ে গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • ‘মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা’: অন্ত্যোদয় পরিবারের নবজাতক কন্যা সন্তানের জন্য ৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যা মেয়েটির ১৮ বছর বয়সের পর নগদ করতে পারবে। এই প্রকল্পের জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • ‘মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্প’: মানসিক প্রতিবন্ধীদের মাসিক ৫,০০০ টাকা পেনশন দেওয়া হবে। যাঁরা ইতিমধ্যেই প্রতিবন্ধী পেনশন হিসেবে ২,০০০ টাকা পাচ্ছেন, তাঁরা প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা পাবেন। এই প্রকল্পের জন্য ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • ‘মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনোদন কেন্দ্র’: মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি বিশেষ বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পঃ

  • ‘ভারত মাতা ক্যান্টিন কাম নাইট শেল্টার’: রাজ্যের অন্যান্য স্থান থেকে আগরতলায় আসা মানুষদের জন্য রাতে থাকার ও ভর্তুকিযুক্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে ‘ভারত মাতা ক্যান্টিন কাম নাইট শেল্টার’ স্থাপন করা হবে। এর জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • ‘আরএম পরিবারের জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প’: দরিদ্র আরএম পরিবারের জীবিকা উন্নীত করার জন্য নতুন প্রকল্প চালু করা হবে। এর জন্য প্রাথমিকভাবে ১.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • ‘কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষার কেন্দ্র’: হাপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা গ্রাউন্ডে একটি কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে পরীক্ষার্থীদের অনলাইন পরীক্ষার জন্য রাজ্যের বাইরে যেতে না হয়। এর জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী প্রনজিত সিংহ রায় বলেছেন, এই বাজেট রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী ও সংখ্যালঘু উন্নয়নসহ প্রতিটি খাতে এই বাজেট নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশাবাদী।About Us