99999

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করাই হচ্ছে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। নাগরিকদের মানবাধিকার যাতে কোনওভাবে লঙ্ঘিত না হয় রাজ্য সরকার সে বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা একথা বলেন। ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবছর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের মুল ভাবনা হল ‘আওয়ার রাইট, আওয়ার ফিউচার, রাইট নাউ’।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। একে ধবংস করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে বিভেদকামী একটি শক্তি এখনও সচেষ্ট রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রে সকলকে চলার কথা বলেছেন। আর এই ভাবনা নিয়ে চললেই মানবাধিকার দিবস পালন ফলপ্রসু হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৩ সালে মানবাধিকার সুরক্ষা আইন লাগু হলেও বিগত রাজ্য সরকার মানবাধিকার কমিশন গঠন করার জন্য কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশের পর ২০১৬ সালে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু এই কমিশন জনগণের আশা আকাঙ্খা পূরণে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। নতুনভাবে গঠিত বর্তমান কমিশন অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করছে এবং জনগণের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ সহ বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সারা দেশে তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন প্রণীত হয়েছে। গত ১ জুলাই ২০২৪ থেকে এই আইনগুলি কার্যকর হয়েছে। এই আইনগুলি হল- ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-২০২৩, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা-২০২৩ এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম-২০২৩। এই তিনটি আইন প্রণয়নের মুখ্য উদ্দেশ্য হল দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের মাধ্যমে নারী, শিশু সহ সকল স্তরের জনগণের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা।এই নতুন তিনটি ফৌজদারি আইনের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি হল ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭৩ ধারা মূলে যেকোন নাগরিক যে কোনও স্থান থেকে এফআইআর দায়ের করতে পারবেন। এই আইনে পুলিশকে বেআইনীভাবে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। নতুন আইনে চার্জশীট দাখিলের ৬০ দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শুরু নিশ্চিত করা এবং বিচার শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণার সংস্থানও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অমিতাভ রঞ্জন বলেন, দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নাগরিকদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমান অধিকার প্রদানের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হলে মানবাধিকার কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়েই দেশ ক্রমশঃ এগিয়ে চলছে। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা হিউম্যান রাইটস কমিশনের চেয়ারম্যান জাস্টিস স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো সুরক্ষিত থাকায় আমাদের দেশের গণতন্ত্র মজবুত রয়েছে। স্বাগত বক্তব্যে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশনের সচিব রতন বিশ্বাস বলেন, প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর মর্যাদার সঙ্গে রাজ্যে মানবাধিকার দিবস পালন করা হয়। মানবাধিকার দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে এবছর বিভিন্ন ইভেন্ট যেমন বসে আকোঁ প্রতিযোগিতা, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরার এডভোকেট জেনারেল শক্তিময় চক্রবর্তী এবং লোকাযুক্ত বি কে কিলিকদার।

59e318c7 b7f7 4697 a333 2bfde97baf63

স্বাস্থ্য দপ্তরে ২৪১টি এলডিসি পদ সৃষ্টি ও পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী একথা জানান। পর্যটনমন্ত্রী জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে বিভিন্ন বিভাগে ১৬১টি টেকনিক্যাল পদ সৃষ্টি ও পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদগুলির মধ্যে রয়েছে ফিজিও থেরাপিস্ট ৮টি, অডিওমেটি টেকনিশিয়ান ৩১টি, ডেন্টাল টেকনিশিয়ান ৪টি, ইসিজি টেকনিশিয়ান ১৪টি, কম্পিউটার টেকনিশিয়ান ৪টি, রেডিওগ্রাফার ২৯টি, জুনিয়র স্টোর কিপার ৯টি, প্রোস্টেটিক এন্ড অর্থোটিক টেকনিশিয়ান ১টি, স্পিচ থেরাপিস্ট ২টি, ক্যাটালগার ১টি, ড্রেসার ৬টি, রিহাবিলিটেশন অ্যাসিস্টেন্ট ১টি, অ্যাসিস্টেন্ট ৭টি, ওয়ার্ড মাস্টার ৩টি, অপথালমিক অ্যাসিস্টেন্ট ১৯টি, প্লাস্টার টেকনিশিয়ান ৬টি, কার্পেন্টার ১টি, লাইব্রেরী অ্যাসিস্টেন্ট ১টি, জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান ১টি, মাল্টি রিহাবিলিটেশন ওয়ার্কার ১টি, অডিও ভিজ্যুয়াল টেকনিশিয়ান ২টি, ফটোগ্রাফিক টেকনিশিয়ান ১টি, টিএমটি টেকনিশিয়ান ২টি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি টেকনিশিয়ান ১টি, পিএফটি টেকনিশিয়ান ২টি, ডকুমেন্টিস্ট ১টি, সাইক্রিয়াটিক সোস্যাল ওয়ার্কার ২টি এবং ফিজিও টেকনিশিয়ান ১টি।

পর্যটনমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধীনে ৯৬টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির টেকনিক্যাল পদ সৃষ্টি ও পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদগুলি হচ্ছে এক্সটেনশন অফিসার ৬টি, ফিল্ড অ্যাসিস্টেন্ট ৩৮টি, সিনিয়ার ইনস্ট্রাক্টর (ইঞ্জিনিয়ারিং) ২৫টি, সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (নন ইঞ্জিনিয়ারিং) ১৭টি, স্টোর কিপার ৪টি এবং ড্রাইভারের ৬টি পদ। পর্যটনমন্ত্রী জানান, ৬০৬৭টি স্পেশাল এগজিকিউটিভ পদে লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। স্পেশাল এগজিকিউটিভ পদের জন্য সাম্মানিক ১১ হাজার টাকা ধার্য্য ছিল। আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই পদের সাম্মানিক বাড়িয়ে ১৩ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

0000

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যাবোধে সমৃদ্ধ হওয়ার শিক্ষা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশের প্রকৃত সময় হচ্ছে ছাত্রজীবন। এক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভূমিকাও অপরিসীম। আজ নরসিংগড়স্থিত ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’র নবনির্মিত অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা একথা বলেন। এ উপলক্ষ্যে ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। রক্তদান শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানটি পূর্বে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট হিসেবে পরিচিত ছিল। কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রকের আর্থিক সহায়তায় পর্যায়ক্রমে টিআইটি’র অডিটোরিয়াম ও পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। যেকোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অডিটোরিয়াম বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স করার ক্ষেত্রে একটি সহায়ক মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায় সময় বলেন, যাদের কাছে জ্ঞান থাকবে পুরো পৃথিবী তাদের হাতের মুঠোয় থাকবে। দেশের বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় করেন। তাদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেবার চেষ্টা করেন। দেশকে উন্নয়নের দিশায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। তরুণ প্রজন্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজোর ১৯টি আইটিআই’র আধুনিকীকরণ ও আপগ্রেডশনের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই টাটা টেকনোলজিস লিমিটেডের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে রাজ্যে বিনিয়োগের পাশাপাশি উন্নতমানের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আইটিআই থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানও আগামীদিনে বৃদ্ধি পাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে শান্তির পরিবেশ আছে বলেই বিনিয়োগকারীরা রাজ্যে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (টিআইটি)-এর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (টিআইটি)’র সম্পর্কে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরিকাঠামো জাতীয় স্তরের পরিকাঠামো সমতুল্য। প্রতিষ্ঠানের ড্রোন টেকনোলজি সেন্টারটিকে আরও উন্নত করার উপরও তিনি গুরুত্ব-আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নয়ন সরকার, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিজয় কুমার উপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিগণ ইনস্টিটিউটের ‘মনন’ নামক প্রচার পুস্তিকার আবরণ উন্মোচন করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে এআইসিটিই আইডিয়া ল্যাবে টিআইটি’র শিক্ষার্থীদের তৈরী স্মারক মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

news default thumb

চেন্নাইয়ের অ্যাপেলো হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল। শুধু গাফিলতিই নয়, অ্যাপেলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করল ভোক্তা আদালত। রাজ্যে চিকিৎসায় উন্নত পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই চেন্নাই এর এপোলোতে ছুটে যান চিকিৎসা পরিষেবা নিতে। চেন্নাইয়ের অ্যাপেলোর উপর অগাধ বিশ্বাস অধিকাংশ মানুষের। অথচ রাজ্যে ডাক্তার মানিক সাহার নেতৃত্বাধীন সরকার স্বাস্থ্য হাব করার উদ্যোগ নিয়েছে। জিবি হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে। তারপরেও মানুষের আস্থা বা বিশ্বাস নেই একাংশ চিকিৎসকদের উপর। ফলে এই রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়ার পরেও একাংশ মানুষ ছুটে যান চেন্নাইয়ের এপেলোতে অ্যাপেলোর চিকিৎসকদের পরামর্শকে বেদবাক্য বলে মেনে নেন তারা। আর এই এপেলো হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠলো। আগরতলার শহরদক্ষিনাঞ্চলের বাধারঘাটের মাতৃপল্লির বাসিন্দা শ্রীমতী দুলুরানী সাহা। স্বামী মৃত যতীন্দ্র চন্দ্র সাহা।২০০৭ সালের ১১জানুয়ারি গলব্লাডার অপারেশন করার জন্য চেন্নাই এর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন দুলুরানি।বর্তমানে তার বয়স ৮০ পেরিয়ে গেছে। সে বছর অর্থাৎ ২০০৭ সালের ১২ই জানুয়ারি সার্জন টি. পৃথ্বী রাজ, অ্যাপোলো হাসপাতালে ওই মহিলার গল ব্লাডার অপারেশন করেন। সে বছরের ২১ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ হওয়ার পর আগরতলায় ফিরে আসেন তিনি । চিকিৎসা খরচ বাবদ ৭৬,৯৩০ টাকা অ্যাপোলো হাসপাতালকে মিটিয়ে দিতে হয়। গত ২০০৭ সালের ৪ মে দুলু রানি সাহা পুনরায় প্রচন্ড পেট ব্যথায় কষ্ট পেতে থাকেন। তিনি বুঝতে পারছেন না চেন্নাই থেকে অপারেশন করে আসার পর কেন ফের পেট ব্যাথা।

আগরতলায় বিশিষ্ট শল্য চিকিৎসক বি. চৌধুরীর কাছে ছুটে যান তিনি। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসিত হন। পরে ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর শ্রীমতী সাহাকে কলকাতার আইএলএস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শল্য চিকিৎসক ডাক্তার সমরেশ ব্যানার্জী পুনরায় আল্ট্রা সোনোগ্রাফি সহ বিভিন্ন রকম ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করার পর শ্রীমতী সাহার পেটে ফের অপারেশন করা হবে জানিয়ে দেন। অপারেশন করতে গিয়ে ডাক্তারবাবুদের চক্ষু চড়কগাছ। শ্রীমতী সাহার পেটের ভেতর থেকে অ্যাপোলো হাসপাতালের লোগো এবং নম্বর সহ একটি তোয়ালে বের করা হয়। অ্যাপোলো হাসপাতালের পরিষেবার গাফিলতি এতেই প্রমানিত। শ্রীমতী সাহা দীর্ঘ ১ বৎসর ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। পরে অ্যাপোলো হাসপাতালের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চেয়ে ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর একটি উকিল নোটিশ দেওয়া হয়। অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে রোগীর পরিবার আগরতলার ভোক্তা সুরক্ষা আদালতে ২০০৯সালে মামলা দায়ের করেন। আবেদনকারিণী মোট ৭,৬২,২৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দাখিল করেন। কিন্তু আগরতলা ভোক্তা সুরক্ষা আদালতের এক্তিয়ার বহির্ভূত হওয়ার কারনে মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন দুলু রানির পরিবার। অবশেষে চেন্নাই এর তিরুভাল্লুরের District Consumer Disputes Redressal Commission, এ মামলাটি পুনরায় ২০১০ সালের ৫ জানুয়ারী দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর আরবিটি/সিসিনম্বর 39/2010। সুদীর্ঘ ১৬ বৎসর লড়াই এর পর ভোক্তা সুরক্ষা সংরক্ষণ আদালত অ্যাপোলো হাসপাতালকে দোষী সাব্যস্ত করে। আবেদনকারিণী মানসিক অবসাদ, আর্থিক সংকট ও শারিরীক যন্ত্রণায় ভোগার জন্য ও চিকিৎসার গাফিলতির জন্য চলতি বছরের ২১ মে মোট ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়।

বলা হয়, রায়ের কপি পাওয়ার ৬ সপ্তাহের ভেতর আবেদনকারীকে প্রদান করতে হবে। অন্যথায় বিলম্বিত প্রদানের জন্য উক্ত ক্ষতিপূরণের টাকার ওপর অতিরিক্ত বাৎসরিক ৯শতাংশ হারে সুদ হিসাবে দিতে হবে। সম্প্রতি ঋতিপূরণের টাকা আবেদনকারিণীকে প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে আবেদনকারিণীর বয়স ৮০ বছর। ভোক্তা সুরক্ষা সংরক্ষণ আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট প্রশান্ত কুমার পাল, শ্রীমতী কে.এলাস জি, চামকি রাজ (চেন্নাই), মিস্টার মিহির কান্তি রায়, এবং মিস্টার সুবীর বৈদ্য সহ অন্যান্য আইনজীবীরা।

শিল্পপতিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর!

বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে খুব সহসাই রাজ্যে আসবে রিলায়েন্স গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের একটি টিম। আর জনজাতি অংশের জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্থানে কাজ করছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যের ঐক্য, সংহতি রক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। সোমবার এডিসির সদর কার্যালয় খুমুলুঙে আয়োজিত জনজাতি একতা সন্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। ভারতীয় জনতা পার্টির মান্দাই ও টাকারজলা মন্ডলের যৌথ উদ্যোগে এই একতা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, সম্প্রতি আমি মুম্বাই গিয়ে রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুকেশ আম্বানির সাথে দেখা করেছি, ত্রিপুরায় আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। কারণ আমাদের রাজ্যে পর্যটন শিল্প এবং বাঁশ ভিত্তিক শিল্প সহ প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। আমি তাঁর সাথে প্রায় ৪৫ মিনিট আলোচনা করেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন যে খুব শীঘ্রই একটি টিম রাজ্য সফরে আসবে। এছাড়াও আমরা রাজ্যের আইটিআইগুলিকে আপগ্রেড করার জন্য টাটা গ্রুপের সাথে একটি মৌ স্বাক্ষর করেছি। এই আইটিআইগুলি বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত ছিল। কিন্তু এখন টাটা গ্রুপ এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকীকরণের জন্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের সম্মেলনে বিপুল সংখ্যায় মানুষের উপস্থিতি দেখে তিনি আপ্লুত, অভিভূত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর আস্থা রয়েছে মানুষের। আগে ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের চারদিকে শুধু উগ্রবাদ ছিল। তারা মূলস্রোত থেকে চলে গিয়ে অন্যদিকে ধাবিত হয়েছে। এতে নিজেদের জীবন যেমন নষ্ট হয়েছে তেমনি পরিবারের জীবনও নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে গোটা অঞ্চলের ক্ষতি হয়েছে। সেই জায়গায় ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর ধীরে ধীরে উত্তর পূর্বাঞ্চলের পরিবর্তন হয়েছে। শান্তি শৃঙ্খলা সম্প্রীতি ছাড়া কোনকিছু সম্ভব নয়। আর সেটা প্রধানমন্ত্রী বুঝেছেন। এজন্য অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি চালু করেছেন তিনি। প্রায় ১১/১২টির মতো চুক্তি হয়েছে এই অঞ্চলে। ২০২৪ এর ৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে এটিটিএফ ও এনএলএফটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত চুক্তির সময়ে আমি সহ কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহও ছিলেন। আর প্রধানমন্ত্রীর মার্গ দর্শনে সেখানে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরমধ্য দিয়ে ত্রিপুরা এখন সন্ত্রাসবাদ মুক্ত রাজ্যে পরিণত হয়েছে। সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের হিরা মডেল দিয়েছেন। এবার কেন্দ্রীয় সরকার চুরাইবাড়ি থেকে চন্দ্রপুর পর্যন্ত চার লেনের জাতীয় সড়কের জন্য মঞ্জুরি দিয়েছে। সারা দেশের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী ইন্টারনেট ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন। এখন ত্রিপুরা থেকে অত্যাধুনিক মানের এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবা পাওয়া যায়। এয়ারওয়েজের ক্ষেত্রেও প্রভূত উন্নতি হয়েছে রাজ্যে। এসবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হিরা মডেলের জন্য। আমরা জানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে সিঙ্গারবিল এয়ারপোর্ট তৈরি করেছিলেন মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর। এতদিন তাঁকে সম্মান দেওয়ার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আগের সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আমাদের সরকার আসার পর আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার হিসেবে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের নামে এয়ারপোর্টের নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৯ আগস্ট মহারাজার জন্মদিনকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, এডিসির নাম তিপ্রা টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল করার জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৯টি জনজাতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এডিসিতে যাতে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন এজন্য এডিসির আসন সংখ্যা ২৮টি থেকে বেরিয়ে ৫০টি করতে রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্তক্রমে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। জনজাতি অধ্যুষিত ১২টি ব্লককে এসপিরেশন্যাল ব্লক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এরমানে এসব এলাকার উন্নয়নে বাজেটের ৮/১০ শতাংশ অধিক বরাদ্দ ব্যয় করা হয়। ব্রু রিয়াং শরনার্থীদের দীর্ঘ ২৩ বছরের সমস্যা সমাধান করার জন্য শুধু কুম্ভীরাশ্রু আমরা দেখেছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন তারাও তো আমাদেরই লোক। তাই তাদের জন্য কিছু করতে হবে। এরপর ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি ভারত সরকার, ত্রিপুরা সরকার, মিজোরাম সরকার ও ব্রু শরনার্থীদের মধ্যে একটা ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিভিন্ন জায়গায় তাদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার অধিক রাখা হয়েছে। এর নাম হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এর নাম হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সাল থেকে পরপর ৭ জনকে পদ্মভূষণ সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সকলেই জনজাতি সম্প্রদায়ের। কারণ ভারতীয় জনতা পার্টি সম্মান দিতে জানে। ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্য থেকে নিয়ে তেলেঙ্গানা রাজ্যের মতো বড় রাজ্যে রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে রাজ পরিবারের যিষ্ণু দেববর্মাকে। আর সেটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের কারণে। রাজ্যের জনজাতিদের ককবরক ভাষাকে মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্যে বড়মুড়া পাহাড়ের নাম হাথাইকথর রেখেছি আমরা। এরআগে ৩৫ বছরে কেউ রাখে নি। আমরা কংগ্রেসকে দেখেছি, সিপিএমকে দেখেছি। জনজাতিদের যত দাবিয়ে রাখা যায়, অসম্মান করা যায় সেটা করেছে তারা। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার জনজাতিদের সার্বিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে। এদিন সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, প্রাক্তন সাংসদ রেবতি ত্রিপুরা, ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, এডিসি সদস্য বিদ্যুৎ দেববর্মা, এডিসি সদস্য সঞ্জীব রিয়াং সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।

a9c48ded 1fec 4585 8db0 81e41fabd624

রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু আজ সকালে আগরতলার নন্দননগরস্থিত ভারতীয় খাদ্য নিগমের ডিভিশনাল অফিস পরিদর্শন করেন। রাজ্যপাল সেখানে গিয়ে পৌঁছালে এফসিআই’এর ডিভিশনাল ম্যানেজার চন্দ্রাভান রাজ্যপালকে স্বাগত জানান। রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু ডিভিশনাল অফিসের কনফারেন্স হলে এফসিআই’র আধিকারিকদের সাথে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন। এফসিআই কর্তৃপক্ষ রাজ্যপালকে জানান, রাজ্যে তাদের ৮টি খাদ্য গোদাম রয়েছে। বৈঠকে খাদ্য গোদামগুলিতে খাদ্যশস্য মজুতের বিষয়েও রাজ্যপালকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকের পর রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু এফসিআই’র গোদাম কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি, ওয়েট ব্রিজ প্রভৃতি পরিদর্শন করেন। পরে সংবাদমাধ্যমকে রাজ্যপাল জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় খাদ্য নিগমের বিভিন্ন নীতি নির্দেশিকা পরিবর্তন করে সময়োপযোগী করেছেন। বিভিন্ন রাজ্যে রাজ্য সরকার এখন স্থানীয়ভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারছে। তাতে পরিবহণ ব্যয় অনেকটাই কমেছে। রাজভবন থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।

nirmahal

যে সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র গুলিতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোতে আগামী দিনে ট্যুরিজম প্রমো ফেস্ট আরো বড় আকারে আয়োজন করা হবে । কারণ রাজ্যের পর্যটন দপ্তর রাজ্য পর্যটনকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণেই চলছে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র গুলির পরিকাঠামোগত ব্যাপক মান উন্নয়নের কাজ । আজ ট্যুরিজম প্রমো ফেস্টের দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের সূচনা করে এ কথা বলেছেন পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী । রুদ্রসাগরের রাজঘাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রমো ফেস্ট এর দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান । তিনি বলেছেন আগামী দু বছরের মধ্যে রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রের ব্যাপক উন্নয়ন। কারণ এই ক্ষেত্রটি থেকেই এবং ব্যাপক মুনাফা অর্জন করা ও বেকার সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে । পর্যটনমন্ত্রী ছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সিপাহীজলা জেলা জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন ,বিন্দু দেবনাথ, কেশর বর্মন প্রমূখ , পর্যটন দপ্তরের সচিব , সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক পুলিশ সুপার সহ বিশিষ্টরা । সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠিত হয়েছে বিখ্যাত সংগীত শিল্পী নীহারিকা নাথের সংগীত পরিবেশনা । ছিল স্থানীয় ও রাজ্যের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । পর্যটনমন্ত্রী উপস্থিতিতে নীড়মহল অভ্যন্তরে পুনরায় চালু হয় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো । তাছাড়া এই প্রমো ফেস্ট উপলক্ষে রুদ্রসাগরের রাজঘাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুড ফেস্টিবল , ক্যানভাস পেন্টিং সহ বিভিন্ন গ্রামীন খেলা । এগুলোতে বিজয়ী পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা ।

TTADC

বাস পরিষেবার নামে বাণিজ্যে নেমেছে এডিসি প্রশাসন ? এতটাই কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে এখন পর্যন্ত দরপত্র জমা দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না কোন সংস্থা বা অপারেটর। এমনিতেই সারা রাজ্যে এখন বাসের যাত্রী সংখ্যা একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বাস চালিয়ে লাভের মুখ দেখতে মালিকদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। একাংশ বাস মালিকরাই বলছেন বাণিজ্য একেবারেই নেই। তার ওপর এডিসি প্রশাসনের খাই মেটাতে গিয়ে ব্যবসা একেবারে লাটে উঠবে বলেই মনে করছেন বিভিন্ন সংস্থার মালিকপক্ষ। শর্তাবলী দেখলে যে কারোর চোখ কপালে উঠবেই। বাস মালিকরা বলছেন এডিসির শর্ত মেনে বাস চালালে লোকসান হবে। উল্টো পকেট থেকে স্টাফ এর বেতন চালাতে হবে। সম্প্রতি তিনটি টাটা এসি বাস পরিসেবা চালু করার ঘোষণা দিয়েছিল এডিসি প্রশাসন। তিপরা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যুত কিশোর বাস চালিয়ে পরিষেবার সূচনা করেছিলেন। এডিসির বিভিন্ন রুটে বাসগুলো চলবে। জনজাতিরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারবেন এসি বাসে চড়ে। অনেকে খুশি হয়েছিল। আবার এডিসি প্রশাসন মুখে তিপরাসাদের জন্য এই পরিষেবা চালু করার কথা বললেও তিনটি এসি বাসকে স্টাফকার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় প্রশাসন। দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু কিন্তু উৎসাহ নেই বাস মালিকদের। এডিসি প্রশাসন ইচ্ছে করলেই বাস নিজেরা পরিচালনা করতে পারে । অর্থাৎ এডিসির উদ্যোগেই বাস পরিষেবা জারি রাখা যেতে পারে। কিন্তু দেখা গেছে এডিসি প্রশাসন দায়িত্ব নিজের হাতে না রেখে বিভিন্ন অপারেটরদের হাতে বাস পরিসেবার দায়িত্ব তুলে দিতে চাইছে। দরপত্র আহবান করা হয়েছে এবং বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। শর্ত দেখেই আক্কেলগুড়ুম হওয়ার অবস্থা।

কি সেই শর্ত? এক একটি বাসের দৈনিক ভাড়া নির্ধারণ হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। বরাত পাওয়া সংস্থাকে প্রতি মাসের দশ তারিখের মধ্যে এই টাকা এডিসি প্রশাসনে জমা দিতে হবে। এর আগে পাঁচ লক্ষ টাকা করে বরাত প্রাপ্ত সংস্থাকে সিকিউরিটি মানি হিসেবে জমা করতে হবে। যে ব্যক্তি বা সংস্থা বাস পরিষেবার দায়িত্ব পাবে তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ হবে এক বছর। এক বছর পর চুক্তি রিনিউ করা হবে। ওই ব্যক্তি বা সংস্থার কাজে এডিসি প্রশাসন সন্তুষ্ট হলে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতেও পারে। তিনটি বাস কোন্ কোন্ রুটে চলবে তাও ঠিক করে দিয়েছে এডিসি প্রশাসন। তিনটি বাসে এডিসি প্রশাসনে যারা কর্মচারী রয়েছেন তাদেরকে খুমুলুঙে নিয়ে যাওয়ার জন্যই ব্যবহার করা হবে। শহরের তিনটি জায়গা নন্দননগরের ডনবসকু স্কুল এডিনগর ড্রপ গেট এবং প্রগতি রোডে সকাল ন’টার মধ্যে বাস দাঁড় করাতে হবে। সকাল দশটার মধ্যে কর্মচারীদের খুমলুঙে পৌঁছে দিতে হবে।

আবার বিকাল পাঁচটার সময় খুমুলুঙ থেকে বাসগুলো কর্মচারীদের নিয়ে আগরতলার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। কর্মচারীরা যেখানে নামতে চাইবেন সেখানেই তাদের নামাতে হবে। এডিসি প্রশাসনের দেওয়া শর্ত মেনে যদি বাস চালাতে আগ্রহী হয় কোন সংস্থা তাহলে তো প্রতিমাসে ৭৫ হাজার টাকা করে বাস ভাড়া এডিসি প্রশাসনে জমা দিতে হবে। তার উপর রয়েছে চালক ও সহ চালকের বেতন। গাড়ির চালকের বেতন নুন্যতম ১৫ হাজার টাকা। সহচালককে অন্তত ১০ হাজার টাকা তো দিতে হবে। তার ওপর রয়েছে চালক, সহচালকদের খাওয়া খরচ। যেহেতু সিএনজি চালিত বাস তাই প্রতিদিন অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার জ্বালানি তো ভর্তে হবে। তারপর বাসে কোন সমস্যা হলে মেরামতি মেরামত করতে হবে। সব মিলিয়ে বরাত প্রাপ্ত সংস্থার প্রতি মাসে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার উপর খরচ রয়েছে। তার উপর এডিসিতে জমা আছে পাঁচ লক্ষ টাকা সিকিউরিটিমানি। স্বাভাবিকভাবেই যারাই দরপত্র জমা দিয়েছেন বা জমা দেবেন বলে স্থির করেছেন তারা এই ব্যবসা করবেন কিনা চিন্তায় আছেন। এখন পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসে নি বলে খবর।

এক বাস মালিক জানিয়েছেন বাসে কোন সমস্যা হলে তা সাড়াই করতে গিয়ে অন্তত ত্রিশ হাজার টাকা খরচ পড়বে। নতুন বাস অন্তত পাঁচ – ছয় মাস সারাইয়ের কোন খরচ নাও লাগতে পারে। কিন্তু এরপর বাসে সমস্যা হলে সারাই তো করতে হবে। ৫০ আসনের বাসে চড়বেন এডিসির কর্মচারীরা। তাদের বেতন থেকেই ভাড়া কেটে নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে ভাড়া ধরলে প্রতিমাসে পঞ্চাশ আসনের বাস থেকে আসবে এক লক্ষ টাকা। আবার ৫০ আসন ভরবে কিনা সেটাও তো প্রশ্ন। এক লক্ষ টাকার প্রতি মাসে বাস থেকে আদায় হলে তারপরেও ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিতে চালাতে হবে। আবার বাসে পুরো যাত্রী হলে ধরে নেওয়া যাক্ প্রতি মাসে রোজগার এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা। তার পরেও তো লোকসানে। তবে এডিসি প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে কর্মচারীদের খুমলুঙে নামিয়ে দিয়ে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত যে মধ্যেকার সময় থাকবে সেই সময়ে বসগুলো অন্যরুটে চালানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। সেই রুটগুলিও ঠিক করে দেবে এডিসি প্রশাসন। তারপরেও কিন্তু আশার আলো দেখছেন না বাস মালিকরা। মাঝখানে চার থেকে সাড়ে চার ঘন্টা সময়ে কতটুকুই বা রোজগার হবে। ফলে এইসব কঠিন শর্ত আরোপ করার কারণে এডিসি প্রশাসন বাস অপারেটর পাচ্ছে না।বাস চালাতে আগ্রহী হচ্ছে না কোন ব্যক্তি বা সংস্থা।

লোকসানে কেইবা বাস চালাবে। বাস দুর্ঘটনাগ্রস্ত হলে বা কোন ক্ষতি হলে সে খরচ বহন করতে হবে অপারেটরদের। আর এডিসির কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে পাওয়া যাবে কিনা তাতেও সন্দেহ রয়েছে। বাস মালিকদের বক্তব্য মাসিক ৭৫ হাজার টাকা ভাড়ায় বাস চালানো অসম্ভব। এক সময় বাম আমলে জওহরলাল নেহেরু আরবান কোম্পানি লিমিটেড শহরে বাস পরিষেবা চালু করেছিল। কিছুদিন চলার পর বাস পরিষেবার গঙ্গাপ্রাপ্তি ঘটে। শতাধিক বাস পরিষেবা চালু হয়েছিল। কিন্তু পরিচালনগত ত্রুটির কারণে সেটা স্থায়ী হয়নি। এখন একই অবস্থায় এডিসি প্রশাসনে৷ সব মিলিয়ে বাস পরিসেবা চালু হবে কিনা, আবার চালু হলে কতদিন স্থায়ী হয় সেটাই দেখার৷

Agartala Railway Station

আগরতলা থেকে ধর্মনগর পর্যন্ত চারটি রেল স্টেশনে এখনো টিকিট কাউন্টার খোলা হয়নি। রেল মন্ত্রকের এই গাফিলতির কারনে সংশ্লিষ্ট স্টেশন গুলোর উপর নির্ভরশীল যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। মুংগিয়াকামি , জওহর নগর, এস কে পাড়া ও নালকাটা – এই স্টেশনগুলোতে টিকিট কাউন্টার খোলার দাবী দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে স্থানীয় মানুষজন। জনপ্রতিনিধিরাও অনেকে বিষয়টা সম্পর্কে অবগত আছেন। কিন্তু কেউ কোন উদ্যোগ নিচ্ছেননা। ফলে ভবিষ্যতে কোন দিন এসমস্ত স্টেশন গুলোতে টিকিট কাউন্টার খোলা হবে কিনা অনিশ্চিত। প্রথমত , টিকিট কাউন্টার না থাকায় সংশ্লিষ্ট স্টেশনের যাত্রীরা ইচ্ছা না থাকলেও টিকিট ছাড়াই রেল চলতে হয়। তখন রেলের টি টি র সাথে প্রায়ই বাক বিতন্ডা হয় সংশ্লিষ্ট যাত্রী সাধারণের। প্রায় এই স্টেশনের যাত্রীদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়। কিন্তু রেল কতৃপক্ষের কোন সাড়া শব্দ নেই। ধর্মনগর, আগরতলা রেল চালু হওয়ার সময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে এই চারটি স্টেশনেই স্টেশন বিল্ডিং নির্মান করা হয়। কিন্তু স্টেশন চালু না হওয়ায় নালাকাটা এবং এস কে পাড়ার মত স্টেশন পরিত্যাক্ত বাড়িতে পরিনত হয়েছে।সন্ধ্যার অন্ধকার নামলেই নীশিকুটুম্বদের দখলে চলে যায় স্টেশন গুলো। অথচ বিশাল সংখ্যাক যাত্রীরা এসব স্টেশন গুলোর উপর নির্ভরশীল। রেল কতৃপক্ষের ভুমিকায় তারা অসন্তুষ্ট।

passport

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারনে উদ্বেগ জনক ভাবে বাড়ছে অনুপ্রবেশ। আর একইসাথে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশীরা, সরকারি সুফল ভোগ করছে ভারতে। শুক্রবারেও ১০ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আমবাসা রেলস্টেশন থেকে আটক করা হয়েছে। ক্রমাগত অত্যাচার হামলা হুজ্জুতির জেরে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সীমান্ত ডিঙিয়ে অবৈধভাবে এপারে প্রবেশ করছেন। এখন পর্যন্ত বহু সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশের হিন্দুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে ভিসা আবেদন বন্ধ রয়েছে। এর ফলে রাজ্যে সীমান্ত ডিঙিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত টপকে রাজ্যে এসে কিছু টাকা পয়সা খরচ করতে পারলেই ভারতীয় নাগরিকত্ব বাগিয়ে নেওয়া মোটেই কষ্টকর নয়। তার জন্য তৈরিও রয়েছে দালালরা। টাকা ছাড়লেই হয়ে গেল। আর দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে এরাজ্যে অনেক বাংলাদেশী ব্যাবসা পেতে বসেছে। খুলেছে পেট্রোল পাম্প, গ্যাস কাউন্টার,রেশন শপ আরো কত কি। তবে এই সংস্কৃতি এ রাজ্যে নতুন নয়। বাম আমলে অনেক সিকি আধুলি নেতা শুধু বাংলাদেশীদের ভারতীয় বানিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন। সরকারি সুবিধা দিয়ে বামেদের ভোট ব্যাঙ্ক স্ফীত করেছেন তারা। চুনোপুঁটি নেতাদের কারনে অনেক বাংলাদেশী রাতারাতি শহর ও আশপাশ এলাকায় বহুমুল্য জমি ক্রয় করে দিব্যি আছে। শুধু সোনামুড়া, বক্সনগর এমনকি কৈলাসহরে এরকম দ্বৈত নাগরিকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। দ্বৈত নাগরিকরা দেশের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ। দু -দেশের নাগরিক হয়ে,কিভাবে গ‍্যাস এজেন্সির লাইসেন্স পেল? তা নিয়ে শুধু বক্মনগর ই নয় সারা রাজ্য জুড়েই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন।

সোনামুড়া খাদ্য দপ্তরের অধিনে,বক্সনগর আর ডি ব্লকের অন্তর্গত কলসীমুড়ার জনৈক বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে খুলে বসেছেন গ্যাস কাউন্টার। ২০১২ সালে বাম জামানায় গ‍্যাস এজেন্সি বক্সনগরে খোলার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব ঘাটিয়ে কলসীমুড়াতে নিয়ে যায় কাউন্টার।।বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় তার নাম ও পরিবারের অন‍্যান‍্য ভাই এবং বোনদের নাম নথিভুক্ত আছে। কুমিল্লা জেলার বুড়ি চং থানার অধিনে রাজাপুর ইউনিয়নভুক্ত শংকুচাইল এলাকার ভোটার তিনি। বাংলাদেশে যার ভোটার পরিচয় পত্রের নম্বর ০০৩৯ এবং তার ভাইয়ের ভোটার পরিচয় পত্রের নম্বর ০০৪০। বতর্মানে বাংলাদেশে প্রচুর স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি এবং ঢাকা শহরের টঙ্গী ও খিল ক্ষেত এলাকায় দুটি বিশালবহুল প্রাসাদোপম বাড়ি রয়েছে তার। বাম আমলে নেতাদের হাত ধরে এরকম অনেক বাংলাদেশী ভারতীয় নাগরিকত্ব হাতিয়ে নিয়েছে। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। সোনামুড়ায় দুটি রেশন শপের মালিক দ্বৈত নাগরিকত্ব হাতিয়ে নেওয়া এক বাংলাদেশী। তেমনি উনকোটি জেলার চন্ডিপুর ব্লকের অধীন এক বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে পেট্রোল পাম্প খুলে বসেছেন।কমলাসাগর সীমান্ত এলাকায় এরকম বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে সরকারি প্রকল্পের সুফল ভোগ করছেন। কেউ বা মুদি দোকানের আড়ালে পাচারবানিজ্যের সাথে যুক্ত। এরকম দ্বৈত নাগরিকরা বিপদজনক। কোন অঘটন ঘটিয়ে বা নাশকতার বীজ বপন করে পালিয়ে যায় বাংলাদেশে।সে দেশের নাগরিকত্ব থাকার কারনে কোন অসুবিধা নেই তাদের। আবার বাংলাদেশে কোন কুকর্ম করে এপাড়ে এসে দিব্যি আছে তারা। একদিকে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিপদ অন্যদিকে রাজ্যের সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাড়ছে অনুপ্রবেশ। সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক লোকের আনাগোনা বেড়েছে। সেই সাথে সীমান্তের ঢিলে ঢালা নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে রোহিঙ্গারাও বিভিন্ন কায়দায় এপাড়ে আসছে।সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার বেড়ে যাওয়ার উদ্বিগ্ন প্রশাসন, সীমান্ত রক্ষি বাহিনীর কর্তারা কয়েকদিন পর পর বৈঠকে বসে। কিন্তু মানব পাচার বন্ধ হয়নি। বরং বেড়েছে। সীমান্তে মাথাচাড়া দিয়েছে দালালচক্র।তাদের প্রনামী দিলেই শুধু অনুপ্রবেশই নয় বাইক দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের পৌঁছে দেবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে।
এভাবে সীমান্তের ঢিলে ঢালা নিরাপত্তা ও উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে অনুপ্রবেশ।