উত্তর পূর্বাঞ্চল

উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের প্ল্যানারিতে পূর্বে তেমন কোন গুরুত্ব পায়নি ত্রিপুরা, তবে কি এবারও….

উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য পৃথক অর্থ বিনিয়োগ নির্দেশিকা গঠনের জন্য নাবার্ড, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এবং নেডভি-কে বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই অঞ্চলে স্পষ্ট ভূসংস্থান আছে বলে এই নির্দেশিকার কথা বলেন তিনি। আগরতলায় উত্তর পূর্বের ব্যাঙ্কার্স কনক্লেভ 2024-এ ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই অঞ্চল বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে পূর্বেকার সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি। ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন উত্তর পূর্বাঞ্চলই হলো ভারতের গ্রোথ ইঞ্জিন। এই অঞ্চলের সার্বিক বিকাশ ছাড়া ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজ রাজধানীর একটি বেসরকারী হোটেলে দ্বিতীয় নর্থ ইস্ট ব্যাঙ্কার্স কনক্লেভে ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। যোগযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে রেল, সড়ক এবং বিমান পরিষেবা সব দিক দিয়েই এগিয়ে চলেছে এই অঞ্চলটি। সেই সাথে এই অঞ্চলে রয়েছে ছাপ্পান্ন মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সহ বিদ্যুৎ প্রকল্পও। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলে বাড়ছে ব্যাঙ্কিং ডিপোজিটও। তা সত্বেও এই অঞ্চলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বের দ্রুতগতির বিকাশ বর্তমান সময়েই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এটা সম্ভব হচ্ছে বলে জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। প্রধানমন্ত্রীর বহুমুখী সমর্থনের কারণেই ত্রিপুরা অসাধারণ বিকাশ এবং আর্থিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে বলেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এখন রাজ্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ক্ষেত্রে একশো শতাংশ সাফল্য অর্জন করেছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।

কেন্দ্রীয়

কেন্দ্রীয় অন্যান্য মন্ত্রীদের সাথে; প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার উত্তর-পূর্ব ভারত!

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্ব ভারতকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। আজ আগরতলায় উত্তরপূর্ব  পরিষদের ৭২ তম পুর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেবার সময়  তিনি বলেন ,  উত্তর পূর্বাঞ্চলের  জন্য গত ১০ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার বিনিয়োগকারীদের উত্তর-পূর্বে বিনিয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করছে। আগে শুধু উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে লোক দেখানো চিন্তা করা হত, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হয়েছেন। সমগ্র  অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শ্রী শাহ আরও বলেন,  প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের লক্ষ্য হল  উত্তর-পূর্ব অঞ্চলকে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের বাকি অঞ্চলের সঙ্গে সমমানে নিয়ে আসা। সমগ্র অচলে সড়ক পরিবহণ ও অসামরিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থাপনার উন্নতি হয়েছে। 
 
উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের উন্নয়ন মন্ত্রী, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এই অঞ্চলে জঙ্গীবাদ এবং সহিংসতার তীব্রতা হ্রাসের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অসামান্য ভূমিকার উল্লেখ  করেছেন। এই অঞ্চলে জঙ্গীদের কার্যকলাপ ৭১শতাংশ এবং প্রাণহানি ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ধলাই সফর

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগামী বাইশে ডিসেম্বর ধলাই জেলার হাদুকলইয়ের ব্রুহা পাড়ার রিয়াং পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। পরে মাসুরাই পাড়ায় জনসভা করার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই ধলাই জেলায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে ব্রু শরণার্থীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো নানা সমস্যায় ধুকছে। পানীয় জলের অভাব
নিত্য সঙ্গী। আজ থেকে দুমাস আগেও তারা পানীয় জলের জন্য আন্দোলন করেছিল। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। এমনকি প্যাকেজ অনুসারে তাদের ঠিকভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করা হয়নি বলে অভিযোগ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সফরকালে জনজাতিরা তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্রু নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাতে তুলে দেবেন স্মারকলিপি। এমনটাই বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হল। রিয়াং জনজাতিরা পৃথক এডিসি গঠনের দাবি জানাবেন। ইতিমধ্যেই পৃথক স্বশাসিত জেলা পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে তারা একটি কমিটি ও গঠন করেছে। ব্রু জনজাতিদের নতুন এই দলের নম ব্রু রাইকাচাও রাইকসম ইউনাইটেড। সংক্ষেপে ব্রু বি আর ইউ। অতি সম্প্রতি নতুন দলের আত্মপ্রকাশ হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য হলো এডিসি অর্থাৎ স্বশাসিত জেলা পরিষদ তিপ্রাসাদের। রাজ্যের এডিসি অর্থাৎ জেলা পরিষদ তাদের কোন কাজে লাগছে না।

ব্রু জনজাতিদের নতুন এই দলের নেতৃত্বরা এমনও জানিয়েছেন যে, বিগত কিছু দিন পূর্বে তিপ্রা মথার সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের চুক্তি হয়। কি বিষয় রয়েছে চুক্তিতে তা অন্ধকারে জনজাতিরা৷ তাদের যা বলা হচ্ছে বা যা বোঝানো তাই বুঝতে হচ্ছে। তিপ্রাসাদের মগজ ধোলাই করে কিছু নেতা তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করছে মাত্র। ফলে তিপ্রাসারা যে তিমিরে ছিল এখনো সেই তিমিরেই৷ আর অন্যান্য জাতি গোষ্ঠীর কোন উন্নয়ন নেই। ব্রু জনজাতি নেতারা লিখিত ভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে কি আছে তা প্রকাশ্যে আনতে হবে। কেননা, তিপ্রা মথার সাথে চুক্তি নিয়ে রিয়াং সহ বাকি বেশ কিছু ছোটবড় জনজাতি গোষ্ঠী আতঙ্কিত। তাই এই চুক্তিতে কি কি বিষয় গুলো রয়েছে তা জানা দরকার বলে মনে করছেন ব্রু জনজাতি নেতারা। কেননা, ব্রু জনজাতি নেতাদের মতে, আসলে একাংশ তিপ্রা মথার নেতা রিয়াং জনজাতিদের অস্তিত্ব স্বীকার করেননা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ধলাই জেলা সফরে গেলে রিয়াং নেতারা তার সাথে দেখা করে পৃথক এডিসি গঠন সহ ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বিষয় সামনে আনার দাবি জানাবে।

বর্তমান এডিসির নামাকরন নতুন করে করার জন্য তিপ্রা মথা টি টি সি করার প্রস্তাব রেখেছিল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। কিন্তু বি আর ইউ নেতারা লিখিত ভাবেই কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রীকে এক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছেন। দাবী করেছেন, টি টি সি নয় টি টি টি সি করা হোক অর্থাৎ ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল টেরিটোরিয়‍্যাল কাউন্সিল। পাশাপাশি ভাষা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। ব্রু নেতারা দাবি করেছেন, ককবরক তাদের মাতৃভাষা নয়। তাদের মাতৃভাষা কাওব্রু। ককবরক দেববর্মা জনজাতি গোষ্ঠীর ভাষা। তাছাড়া জাতি হিসাবেও তারা তিপ্রাসা নয়। তারা ব্রু জাতি। কিন্তু একটা শক্তি তাদেরকে জোর করে তিপ্রাসা বানাতে চাইছে। একই ভাবে বলপূর্বক ককবরক ভাষাকেও চাপিয়ে দিতে চাইছে। তারা কাউব্রু ভাষার বিকাশ চেয়েছেন৷

সুপার

সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হবে ত্রিপুরায়?

সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনিক স্তরে চলছে আলোচনা। রাজ্য সরকার চাইছে বেসরকারি সংস্থাগুলো রাজ্যে এসে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলুক। রাজ্য শিল্প কল-কারখানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। এমনটাই বলছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বাণিজ্য কনক্লেভে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা বিনিয়োগকারীদের রাজ্যে আসার আমন্ত্রণ করেছেন। রাজ্য সরকার সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বর্হিরাজ্যের সংস্থা রাজ্যে মেডিকেল কলেজ স্থাপনে উৎসাহ দেখিয়েছে। অনেক সংস্থা মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছে।

বর্হিরাজ্যের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যেই রাজ্যে হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা বিভিন্ন কর্মসূচিতে গিয়ে জানিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো মনিপুরের সিজা হাসপাতাল। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই এই সংস্থাকে জমিয়ে দেওয়ার জন্য চিন্তা ভাবনা করছে। এবার প্রখ্যাত হাসপাতাল উডল্যান্ড রাজ্যে হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। বুধবার এই সংক্রান্ত বিষয়ে মহাকরণে বৈঠক হয়। বৈঠকে রাজ্য সরকারের পদস্থ আধিকারিকরা ছিলেন। রাজ্যে কি সুবিধা রয়েছে সে সম্পর্কিত বিষয়ে তাদের সম্ম্যক ধারণা দেওয়া হয়েছে। উডল্যান্ডের কর্মকর্তারাই বুধবার এ খবর জানিয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা কোন রাজ্যে এলে সেই রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব। রাজ্য সরকার চাইছে রাজ্যের কোন মানুষকে যাতে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে না হয়। তার জন্য বহিরাজ্যের প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংস্থাকে রাজ্যে হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার উডল্যান্ডের সাথে প্রাথমিকভাবে কথাবার্তা হয়েছে বলে সংস্থার এমডি জানিয়েছেন। আগামী দিনে আরও বৈঠক হবে। তবে তার আগে শহরের কোন ক্লিনিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এ রাজ্যে এনে চিকিৎসা পরিষেবা শুরু করতে চায় উডল্যান্ড৷ তার মানে বাজার যাচাই করে রাজ্যে বড় পদক্ষেপ নেবে উডলেন্ড। প্রথম ধাপে টেলি মেডিসিন পরিষেবা ও শুরু করতে আগ্রহী তারা। পরবর্তী ধাপে জমি অধিগ্রহণ করে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে বলে উডলেন্ডের কর্তৃপক্ষরা জানিয়েছেন। এর জন্য রাজ্য সরকারের সাথে প্রয়োজনীয় আরো আলাপ আলোচনা ও হবে বলে তারা জানান। রাজ্যে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বড়ই অভাব। আর সেই অভাবটা পূরণ করতে চাইছে উডলেন্ড। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে উডল্যান্ডের এমডি জানিয়েছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে উডল্যান্ডস হসপিটালের এমডি জানান, বিশ্ব মানের উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিষেবা সম্পন্ন চিকিৎসা পরিষেবায় অনন্য নজির গড়েছে উডল্যান্ডস হাসপাতাল। আর পি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপের অঙ্গ এই হাসপাতাল শুধু মাত্র কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গেই নয় সমগ্র পূর্ব ভারতের রোগীদের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে এক উন্নত নাম। এই হাসপাতালকে আরো আধুনিক করে তোলা হচ্ছে ও ১৫০ টি শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে কলকাতায় মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে এই হাসপাতাল। উন্নত ও আধুনিক পরিষেবায় উডল্যান্ড হাসপাতাল ইতিমধ্যেই এন এ বি এইচ, এন এ বি এল, আই এস ও ২৭০০০ এর অনুমোদন ও স্বীকৃতি প্রাপ্ত। পূর্ব ভারতের প্রথম ক্যাথ ল্যাব এবং বাইপাস সার্জারির ক্ষেত্রে অনন্য সফলতা অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। রোবোটিক সার্জারীর ক্ষেত্রেও রয়েছে অনন্য সফলতা। রয়েছে ২৫৬ স্লাইস ৭৬৮ রি কনস্ট্রাকশন ডুয়েল এনার্জি মডেল সমাটম ড্রাইভ সি টি সিমেন্স মডেল, মেগনেটম ভেরিও ৩ টেসলা এম আর আই মেশিন যা কার্ডিয়াক এম আর এপ্লিকেশন এ সুফলদায়ক।
রয়েছে অত্যাধুনিক ওটি ও ল্যাব এর পরিষেবা। উডল্যান্ডস হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা সি ই ও রূপক বড়ুয়া জানান সম্প্রতি ত্রিপুরার প্রত্যন্ত গ্রামের এক রোগী খুব জটিল পর্যায়ে ছিল। অন্য কোনো হাসপাতালে অসফল অস্ত্রোপচারের পর তাকে উডল্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে ইন্টারভ্যানসোনাল রেডিওলজি প্রণালীতে চিকিৎসার পর রোগী অনেক সুস্থ আছেন বলে তিনি জানান। এভাবে শুধু কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ নয় পূর্ব ভারত ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতেও পরিষেবায় ছড়িয়ে পড়েছে উডল্যান্ডস হাসপাতালের এর নাম। এবার এই হাসপাতাল রাজ্যের মানুষের জন্য পরিসেবা প্রদান করার চিন্তা ভাবনা করছে বলে তিনি জানিয়েছেন। উডল্যন্ডের পরিচালন কমিটির সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তারা জানান।

বামেরা

বামেদের মেকি দরদ ফাঁস করলেন মন্ত্রী!

বাম আমলে, কৃষকদের যে মূল দাবিকে উপেক্ষিত করা হতো, সেটিই এখন প্রতিবছরের বাস্তব হয়ে হাসি ফুটাচ্ছে কৃষকদের মুখে। সারা রাজ্যে বৃহস্পতিবার থেকে সহায়ক মুল্যে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। প্রতি বছর সহায়ক মুল্য বাড়ানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জিরানীয়ার মাধববাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এবছর ধান ক্রয় প্রক্রিয়ার সুচনা করেন খাদ্য মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী ও কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ। রাজ্যের কৃষক বন্ধুদের বৃহত্তর স্বার্থে সরকার নির্ধারিত নূন্যতম সহায়ক মূল্যে চলতি খারিফ মরসুমে উৎপাদিত ধান সহায়ক মুল্যে ক্রয় করছে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।

তিনি বলেন রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কৃষকদের স্বার্থে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন বাম আমলে কৃষকদের প্রতি দরদ দেখানোর নাটক করা হলেও সে সময় তাদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একবার বিধানসভায় এই ইস্যুতে বর্তমান বিরোধী দলনেতা জিতেন চৌধুরীকে ও কার্যত ল্যাজেগোবরে অবস্থা করেছিলেন মন্ত্রী সুশান্ত। কিন্তু এরা যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকেই, ধান ক্রয় শুরু হয়েছে কৃষকদের কাছ থেকে। যতদিন কেন্দ্রে এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকবে ততদিন এভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী। বিগত বাম সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন বিগত দিনে বাম সরকার কৃষকদের স্বার্থে কোন চিন্তাই করেনি। কৃষকদের উৎপাদিত ধান সহায়ক মূল্যে ক্রয় করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বহুবার রাজ্য বিধানসভায় সেই সময়ের বিরোধী দলনেতা রতনলাল নাথ সে সময়ের বাম সরকারের কাছে দাবি করেছিলেন কৃষকদের কাছ থেকে সহায়ক মুল্যে ধান ক্রয় করার। কিন্তু সেই সময় সরকার কোন উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ করেন খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। নিজেরা কিছু না করে তৎকালীন বাম সরকার শুধুমাত্র কেন্দ্রের দিকে আঙুল দেখিয়ে রাখত। মন্ত্রী জানান, এবছর কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ২৩ টাকা দরে ক্রয় করা হবে। গত মরসুমে ধান ক্রয় করা হয়েছিল ২১টাকা ৮৩ পয়সা দরে। প্রতি বছর সহায়ক মুল্য বাড়ছে৷ এমনটাই জানান খাদ্যমন্ত্রী। অপরদিকে কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন রাজ্য সরকার কৃষকদের আয় দ্বিগুন করার লক্ষে কাজ করছে। কৃষকরা হলো অন্নদাতা৷ রাজ্যের অন্নদাতারা যাতে ভালো থাকে তার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। কৃষকদের আত্মনির্ভর করার জন্য রাজ্য সরকার নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ৪৯টি স্থানে
কৃষকদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় করার জন্য সেন্টার খোলা হবে।

কৃষি মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগে মোট ২ লক্ষ ৭ হাজার ৮৫৯.৬৯৬ মেট্রিকটন ধান ক্রয় করা হয়েছে। তাতে রাজ্য সরকারের ব্যয় হয়েছে ৪০৫ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। এরফলে উপকৃত হয়েছেন ১ লক্ষ ৮ হাজার ১২৭ জন কৃষক।উল্লেখ্য সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যে ২০২০-২১, ২০২১-২২ ২০২২-২৩ এই অর্থ বছরে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য উপযুক্ত মূল্যে মোট ১ লক্ষ ৩১ হাজার ২৭৯ মেট্রিক ক্রয় করা হয়েছে। রাজ্যে মোট ৬৭ হাজার ১৭৮ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

উত্তর পূর্বাঞ্চল

উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের বৈঠকে আগত প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাচ্ছে ত্রিপুরা।

উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের ৭২তম প্লেনারি অধিবেশনকে ঘিরে নবরূপে সেজে উঠেছে রাজধানীর প্রজ্ঞাভবন। এছাড়া আগরতলার এম বি বি বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, রাজ্য অতিথি শালা, সার্কিট হাউস এবং হোটেল পোলো টাউয়ারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি স্থানে চলছে জোর পর্যবেক্ষন। ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। প্রজ্ঞাভবনে শেষ তুলির টানে ব্যস্ত শিল্পীরা। আধিকারিকরা ক্ষতিয়ে দেখছেন সার্বিক প্রস্তুতি। দুদিনের অধিবেশনে ২০ ডিসেম্বর হোটেল পোলো টাওয়ারে হবে প্রাক কারিগরি অধিবেশন। মূল প্লেনারি অধিবেশন হবে ২১ ডিসেম্বর আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে। এই প্লেনারি অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের চেয়ারম্যান অমিত শাহ, ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম সিন্ধিয়া, ডোনার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ডক্টর সুকান্ত মজুমদার এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের সমস্ত রাজ্যের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীগণ সহ উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের ২ জন সদস্য উপস্থিত থাকবেন। দুদিনের এই অধিবেশনকে সার্বিক সফল করতে রাজ্য প্রশাসনও প্রস্তুত। অতিথিদের আগমন শুরু হয়ে যাওয়ার ফলে আজ থেকেই ব্যস্ততম হয়ে উঠেছে মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর। এদিকে বৈঠক উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আজ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অমিতাভ রঞ্জন। তিনি জানান, এনইসি বৈঠক উপলক্ষে আজ থেকেই আগরতলা শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। শহরে ছয় থেকে সাত হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকবে বলে তিনি জানান। বিএসএফ-কে সীমান্ত এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরপত্তা ব্যবস্থা করার জন্যে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ করা যেতে পারে, এনইসি-র প্লেনারি সেশনে পৌরহিত্য করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বিজেপি

বিজেপি প্রদেশ কার্যালয় তৈরি হচ্ছে আগরতলার নতুন নগরে!

রাজধানী আগরতলা শহর সংলগ্ন নতুন নগরে তৈরি হচ্ছে বিজেপির অত্যাধুনিক প্রদেশ কার্যালয়। চারতলা বিশিষ্ট এই ভবনটিতে অত্যাধুনিক সুবিধা যুক্ত থাকবে। আজ এই এলাকাটি ঘুরে দেখেন বিজেপি সদর জেলা সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য ,বড়জলা মন্ডল সভাপতি মুকুল রায় সহ দলীয় কর্মীরা। এলাকা সফর কালে দলীয় নেতৃবৃন্দ বলেন দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের প্রত্যাশা ছিল প্রদেশ কার্যালয় স্থাপনের জন্য। অবশেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে। আগামী ২২ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতশাহর হাত ধরে বিজেপির প্রদেশ কার্যালয়ের শিলান্যাস হবে। ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠানটি হবে সকাল দশটায় অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা, বিজেপির প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

কংগ্রেস

কংগ্রেস বিধায়ক বীরজিত সিংহের এলাকায় দাড়িয়ে কংগ্রেসকেই চেলেঞ্জ করলেন সি.পি.এম?

কংগ্রেসের সাথে মধুচন্দ্রিমা যুগের অবসান৷ এবার সিংহের এলাকায় দাড়িয়ে সিংহকেই চেলেঞ্জ করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। সিপিএমের ভোটে জয়ী হয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধেই কুৎসা রটাচ্ছেন কংগ্রেস বিধায়ক বীরজিত সিনহা। বীরজিতের খাসতালুকে দাড়িয়ে এমনটাই অভিযোগ করেছেন তিনি। জীতেনবাবুর বক্তব্য বৃহত্তর স্বার্থে সি.পি.আই.এম দল ২০২৩ সালে কৈলাসহরে নিজেদের দলের বিধায়ককে প্রার্থী না করে কংগ্রেস দলের প্রার্থী বীরজিত সিনহাকে সমর্থন করে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে সি.পি.আই.এম দলের কর্মীরা ভোটে জয়লাভ করানোর পর কংগ্রেস দল বর্তমানে সি.পি.আই.এম দলকে নিয়ে নানান অসামাজিক মন্তব্য করছে। তিনি স্বীকার করেছেনগত আগস্ট মাসে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে সি.পি.আই.এম দল ছাড়া গৌরনগর পঞ্চায়েত সমিতি দখল করতে পারতো না কংগ্রেস। উল্টো কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপিকে সাহায্য করার অভিযোগ করেছেন জীতেনবাবু৷

গত বিধানসভা ভোটে তিপ্রামথার সমর্থন পেতে রাজবাড়ীতে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন জীতেনবাবু। ভোটের দিন পর্যন্ত তার আশা ছিল প্রদ্যুত তাদের নিরাশ করবে না৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ জীতেনবাবু তো বটেই মানিক সরকারও বুঝতে পারেন নি প্রদ্যুত বিরোধীদের ল্যং মারবে। প্রদ্যুতের কুটচালে বেসামাল হয়ে পড়া মানিকবাবুরা এখন বুঝতে পারছেন প্রদ্যুত প্রতারক। মানিক সরকারের বিস্ফোরক বক্তব্য , রাজ্যের মানুষ দীর্ঘদিন রাজন্য আমল দেখেছে, কংগ্রেসের ত্রিশ বছর দেখেছে, সি.পি.আই.এম দলের ১০ বছর দেখেছে, সন্ত্রাসবাদীদের সাথে কংগ্রেস দলের ৫ বছর দেখে সাধারণ মানুষ আবার রাজ্যে সি.পি.আই.এম দলের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলো। তার মানে ফের কংগ্রেসের সাথে সন্ত্রাসবাদী যোগের অভিযোগ করলেন তিনি। সন্ত্রাসবাদীদের সাথেই গত বিধানসভা ভোটে গাটছড়া বেঁধেছিল সিপিএম৷ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ হচ্ছে না দেখে এখন রং পাল্টাতে শুরু করেছে বাম নেতারা৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক!

উত্তর পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ তথা এনইসি বৈঠক ঘিরে এখন প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। এনইসি বৈঠকে পৌরহিত করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি ২০ ডিসেম্বর রাজ্যে আসছেন। তিনদিন অবস্থান করবেন তিনি। জানা গেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কেন্দ্রীয় উচ্চপদস্থ আধিকারীদের একটি দল রাজ্যে আসছেন৷ বিশ্বস্ত সুত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আসছেন গোয়েন্দা প্রধান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিক সহ এই রাজ্যের গোয়েন্দা অফিসারদের সাথে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একান্তে বৈঠক হওয়ার কথা। এনইসি বৈঠকের ফাঁকে তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সীমান্ত অনুপ্রবেশ নিয়ে বিএসএফের পদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের সাথেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশ অচলঅবস্থা কায়েম হওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এখন পর্যন্ত তিনবার ভিডিও কনফারেন্সে বিএসএফের পদস্থ আধিকারিক সহ রাজ্য পুলিশের পদস্থ আধিকারিক এবং গোয়েন্দা সংস্থার অধিকারীদের সাথে বৈঠক করেছেন। রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন তিনি। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে তিনি অবহিত হয়েছেন। এবার রাজ্য সফরে এসে এনইসি বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর করবেন। উল্লেখ করা যেতে পারে রাজ্যে অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্র উদ্বিগ্ন। আজ থেকে মাস ছয়েক আগে কেন্দ্রীয় বিদেশ দপ্তরের যুগ্ম সচিব রাজ্যে এসে অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। মানব পাচার বন্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার অভিযান চালায় এনআইএ। রাজ্য পুলিশকে ঘুমে রেখেই মানব পাচারকারীদের ধরে নিয়ে যায় এনআইএ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাজ্যের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা সহ নেশার দৌরাত্ম্য রুখতে রাজ্য সরকার কি পদক্ষেপ নিয়েছে সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে খবর। এনইসি বৈঠকের ফাঁকে তিনি ধলাই জেলার রিয়াং পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। ধলাই জেলার রিয়াং পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো নানা অব্যবস্থায় ধুকছে। পানীয় জলের অভাব। রাস্তাঘাটের কোন সংস্কার নেই। ঠিকভাবে রেশন পাচ্ছেন না পুনর্বাসনব কেন্দ্রে থাকা রিয়াং জনজাতিরা। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ঘিরে রিয়াং পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো নতুন করে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। রাস্তাঘাট জোড়া তালি দিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। ধলাইজলা প্রশাসনের আধিকারিকরা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধলাইজেলার রিয়াং পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো সফর করবেন কিনা। যদিও হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলা হয়েছে। আগামী ২২ ডিসেম্বর তিনি ধোলাই জেলা সফরে যাবেন বলে খবর। হাদুকলহ রিয়াং পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন সহ সেখানে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। প্রশাসন ইতিমধ্যেই এর সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে৷ সব মিলিয়ে রাজ্য প্রশাসনে এখন চুড়ান্ত ব্যাস্ততা।

ফিক্সড পে

ফিক্সড পে কর্মচারীদের জন্য সুখবর….

“পাঁচ বছর পূর্ণ করলেই মিলবে নিয়মিত বেতন স্কেল”: ত্রিপুরা সরকারের অর্থ দপ্তর সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা ফিক্সড পে ভিত্তিতে চাকরি করা কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনও কর্মচারী ফিক্সড পে’তে পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে থাকেন, তবে তিনি নিয়মিত বেতন স্কেলের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। অর্থ দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফিক্সড পে কর্মচারীরা পাঁচ বছর পূর্ণ করার পর, ভিন্ন ভিন্ন পদ বা বিভাগে কাজ করলেও, স্থায়ী বেতনক্রমের সুবিধা পাবেন। তবে এর জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

সিদ্ধান্ত কার্যকরের শর্তাবলি:

1. ধারাবাহিক চাকরি: কর্মচারীর চাকরির মধ্যে কোনো বিরতি থাকা চলবে না।

2. নো অবজেকশন সার্টিফিকেট: সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে “নো অবজেকশন সার্টিফিকেট” (NOC) সংগ্রহ করার পরেই অন্য চাকরিতে যাওয়া বাধ্যতামূলক।

3. নিয়োগ পরীক্ষার অনুমতি: পরবর্তী পদে নিয়োগ পেতে হলে সিলেকশন টেস্টে অংশগ্রহণের অনুমতি নিতে হবে।

4. নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন: স্থায়ী বেতনক্রমের জন্য আবেদন করতে হবে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে।

এই নতুন সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের মধ্যে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব আনবে। অর্থ দপ্তর ইতোমধ্যেই সব দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করতে।এই পদক্ষেপ কর্মচারীদের পেশাগত জীবনে আর্থিক সুরক্ষা ও ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।