বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নিয়ে সতর্ক কেন্দ্র, ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যেগুলিতে লাল সতর্কতা!

বাংলাদেশ এখন আরোও বেশি অশান্ত হয়ে উঠেছে। ও পার থেকে ক্রমাগত ভারত বিরোধী মন্তব্য। আক্রান্ত সংখ্যালঘুরা। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও কেরল থেকে, ‘আনসারুল্লা বাংলা’র আট জঙ্গিকে গ্রেফতার করে অসম পুলিশ। জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার ভারত উপমহাদেশীয় শাখা আনসার-উল্লাহ বাংলা টিমটি ভারত জুড়ে নাশকতার ছক কষছে। তার উপর সারের বস্তার আড়ালে আরডিএক্স আমদানি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি এনইসির বৈঠকে বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন। সীমান্ত নিরাপত্তা কতটা। বিএসএফের শক্তি কেমন আছে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে যে সব সীমান্ত এলাকায় কাটা তারের বেড়া হয় নি সেসব সীমান্তে দ্রুত কাটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। কিন্তু বাংলাদেশে আরডিএক্স আমদানির খবরে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সর্বভারতীয় সংবাদ এজেন্সির সুত্রে জানা গেছে ভারত ও বাংলাদেশে নাশকতা চালানোর লক্ষ্যে জাহাজটি করে সারের বস্তার আড়ালে প্রচুর পরিমাণে আরডিএক্স পাচার করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদীরা উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে সন্ত্রাসের ছক করেছে। ইতিমধ্যে বিস্ফোরক আরডিএক্স আমদানির খবর ছড়িয়ে পড়তে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী। রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে বলে খবর। এই সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তা কতটা তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক খোঁজখবর নিচ্ছে। যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত টপকে বাংলাদেশী সন্ত্রাসবাদীরা এই রাজ্যে তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে নাশকতার বীজ বপন করতে না পারে। মান্ত নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। সীমান্তে বিএসএফের শক্তি বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে খবর । পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ত্রিস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীরা ভারতকে অশান্ত করার ছক করছে। তাদের লক্ষ্য হলো মোদির স্বপ্নের অষ্টলক্ষ্মীকে অশান্ত করা। উত্তর পূর্বাঞ্চলে রাজ্যগুলোতে এখন শান্তি বিরাজমান। শুধুমাত্র মনিপুরে অশান্তির আগুন জ্বলছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও অসমে বড়সড় কোনও নাশকতা ঘটাতে ‘কনসাইনমেন্ট’ পাঠাচ্ছে পাক গুপ্তচর সংস্থা। বিষয়টি নিয়ে সমস্ত এজেন্সি, সেনা ও সীমান্তরক্ষীদের সতর্ক করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা বলছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর মণিপুরে জাতি বিদ্বেষকে ঘিরে শুরু হওয়া অশান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জঙ্গিদের সঙ্গে ‘সখ্যতা বেড়েছে আইএসআই এবং তাদের বাংলাদেশি দোসর এবিটি, জেএমবি, হিজবুত তাহিরের মতো সংগঠনের। এমনিতেই ত্রিপুরার সীমান্তগুলো অনুপ্রবেশের উত্তম জায়গা। সক্রিয় মানব পাচার চক্র। গত আগষ্ট মাসে বাংলাদেশ অশান্ত হওয়ার পর অনুপ্রবেশ বেড়েছে।

এদিকে গত ২২ ডিসেম্বর ৭২০ টন সার চাপিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কাফকো জেটি থেকে জাহাজটি রওনা দিয়েছিল সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির উদ্দেশে। গোয়েন্দারা বলছেন, পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে পণ্যবাহী একটি জাহাজ এর কয়েকদিন আগেই চট্টগ্রামে এসে ভিড়েছিল। সেই জাহাজে বাংলাদেশের জন্য সার রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, তাতে বিস্ফোরক ও অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে এমন সুনির্দিষ্ট খবর পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। ইউনুস এবং তাঁর সরকারের সহযোগীরা বারবার হুমকি দিচ্ছে, সেভেন সিস্টারকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার। সেই পরিকল্পনা রূপায়ণের ‘খসড়া’ই হল, চাঁদপুরের জাহাজ থেকে আরডিএক্স এবং অস্ত্রশস্ত্র নামানো। যে জাহাজে চাপিয়ে আরডিএক্স ও অস্ত্রশস্ত্র আনা হল, তাহলে কেন খুন করা হল তার ‘মাস্টার’ সহ সাতজন নাবিককে? তার মানে আরডিএক্স আমদানির খবর চাউর হতেই বিপদ বুঝে বিষয়টিকে আড়াল করার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে আরডিএক্স আমদানির খবরে কেন্দ্র কোন ঝুঁকি নিতে নারাজ।তাই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

AI

AI -কি আমাদের জীবনকে গ্রাস করে নিচ্ছে!

AI (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর প্রভাব সমাজের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুভূত হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে AI -এর ভূমিকা আরও বিস্তৃত ও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  AI -এর বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, এবং এটি কীভাবে বৈশ্বিক পরিসরে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিশদভাবে আলোচনা করা যাক।

AI -এর বর্তমান অবস্থা

এআই বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেমন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসা, বিনোদন, এবং পরিবহন। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, চ্যাটবট, ভাষা অনুবাদক, এবং ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ব্যবহৃত এআই সিস্টেমগুলি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। এআই-এর মাধ্যমে বড় ডেটা বিশ্লেষণ, পূর্বাভাসমূলক মডেল তৈরি, এবং জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে।

ভবিষ্যতে AI -এর সম্ভাবনা

কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি

এআই-এর অগ্রগতির ফলে কর্মসংস্থানের ধরন ও প্রকৃতি পরিবর্তিত হবে। অনেক প্রচলিত কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে, যা কিছু পেশার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। তবে, নতুন প্রযুক্তি ও সেবার উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। ম্যাককিনজি গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ বছরে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

স্বাস্থ্যসেবা

এআই-এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা, এবং রোগীর পরিচর্যা আরও উন্নত ও কার্যকর হবে। এআই-চালিত সিস্টেমগুলি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সনাক্ত করতে সক্ষম, যা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে সহায়তা করবে। এছাড়া, জেনেটিক ডেটা বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসার সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

শিক্ষা

শিক্ষাক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এআই-চালিত টিউটরিং সিস্টেম শিক্ষার্থীদের শক্তি ও দুর্বলতা অনুযায়ী পাঠ পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবে, যা শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে।

পরিবহন

স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ও ড্রোনের ব্যবহার ভবিষ্যতে পরিবহন ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাবে। এআই-এর মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা হ্রাস, এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি সম্ভব হবে।

বিনোদন

এআই-এর মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি, ব্যক্তিগতকৃত সুপারিশ, এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে। এআই-চালিত সিস্টেমগুলি ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী বিনোদন সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

AI -এর চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি

নৈতিকতা ও গোপনীয়তা

এআই-এর ব্যবহারে নৈতিকতা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠছে। ব্যক্তিগত ডেটার সুরক্ষা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, এবং এআই-এর মাধ্যমে পক্ষপাতিত্ব এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

কর্মসংস্থানের হ্রাস

এআই-এর কারণে কিছু পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস পেতে পারে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

নিরাপত্তা

এআই-এর অপব্যবহার, যেমন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা সাইবার আক্রমণে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে বিশ্বে গভীর প্রভাব ফেলবে, যা আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনবে। এআই-এর সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি, যাতে আমরা একটি উন্নত, ন্যায়সঙ্গত, এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারি।

৩১ তম জাতীয় শিশু বিজ্ঞান

৩১ তম জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসে অংশ নিতে যাচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্য!

৩১ তম জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেস এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মধ্য প্রদেশের ভূপাল শহরে। তিন জানুয়ারী থেকে ছয় জানুয়ারী পর্যন্ত চলবে শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেস। এটি ভারত সরকারের একটি সর্ববৃহৎ শিশুদের বিজ্ঞান মঞ্চ, যেখানে সব কয়টা রাজ্যের মেধাবী ও বিজ্ঞান মনস্ক শিশুরা অংশ গ্রহণের সুযোগ পায়। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুরা মহকুমা ও রাজ্যস্তর পেরিয়ে রাজ্য স্তরের জন্য নির্বাচিত হয়।শিশুরা তাদের নির্বাচিত উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে তার বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধান, বিশ্লেষ, ফলাফল ও তার প্রতিরোধ নিয়ে গবেষণা করে বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করে।প্রতি বছরের ন্যায় এবারো রাজ্য থেকে ১০ জন ছাত্রছাত্রী ভূপাল রওনা হচ্ছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর। ত্রিপুরা রাজ্যের এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে আছে ত্রিপুরা সায়েন্স ফোরাম। সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা এবং সভাপতি হিসেবে আছেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জ্যোতি প্রকাশ রায় চৌধুরী। দলের সাথে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রধান কোর্ডিনেটর ও সংস্থার সচিব পান্না চক্রবর্তী, একাডেমিক কোর্ডিনাটর হিসেবে আছেন রামধন দেব ।

আগরতলায়

আগরতলায় দুদিনের সফরে কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রী

আগরতলায় এফ.সি.আই-এর রিজিওনাল অফিস স্থাপন করা হবে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ করা হবে। একটি প্রকল্প কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী শনিবার সম্মতি প্রদান করেছেন৷ শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর পৌরহিত্যে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক এবং পুনর্নবীকরন শক্তি মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি রাজ্য সচিবালয়ে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার সঙ্গে এক পর্যালোচনা বৈঠকে মিলিত হন। দুদিনের সফরে শনিবারই আগরতলায় আসেন তিনি। এম বি বি বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বি জে পি ‘ র প্রদেশ সাধারন সম্পাদক তথা বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস, খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ অন্যরা। দুপুরে তিনি আগরতলার নন্দননগরে কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যায় সচিবালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সভাপতিত্বে পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা ছাড়াও রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ, খাদ্য মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা সহ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন । বৈঠকের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশিকে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ বেতের তৈরি মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকী স্মারক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গনেশের মূর্তি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রীকে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। উত্তরপূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে কাজ করছেন তা গত ৭৫ বছরে হয় নি। রাজ্যের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তরের যে সমস্ত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে সেইসব বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সাথে কথা বলবেন বলে জানান। পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে উন্নয়নের কাজ চলছে তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাক্ট ইষ্ট পলিসির ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল আজ উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে। এই প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি রাজ্যে অনুষ্ঠিত উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের ৭২ তম প্ল্যানারি সেশনের আয়োজন এবং এর ইতিবাচক দিকগুলির কথা উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে পর্যটন, কৃষি ও উদ্যান সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটছে। এরফলে রাজ্যে মাথা পিছু গড় আয় আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যালোচনা সভায় স্বাস্থ্য, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে এবং গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের সচিব সন্দীপ আর রাঠোর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির চিত্র তুলে ধরেন। পর্যালোচনা সভায় নগর উন্নয়ন ও জল সম্পদ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব তাপস রায়, মুখ্য বন সংরক্ষক চৈতন্য মূর্তি, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা, মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়নের চিত্র সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরেন। পর্যালোচনা সভায় খাদ্য দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার রাজ্যের খাদ্যগুদাম সমূহের সংস্কার সহ বিভিন্ন বিষয় সমূহ নিয়ে তথ্য ভিত্তিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আগরতলায় অনুষ্ঠিত উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের ৭২তম প্ল্যানারি সেশনে অংশ গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের উন্নয়ন সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুবিধাভোগীদের সাথে আন্তরিকতার সাথে সরাসরি কথা বলেন ও তাদের বিষয়ে খোঁজ খবরও নিয়েছেন। এজন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। রাজ্য সফরের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিবার চড়িলামে ট্রেডার বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন এবং স্থানীয় জনগনের সাথে মতবিনিময়ে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া উদয়পুরের মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির দর্শন করে আগরতলায় ফিরে আসার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর।

জিবি হাসপাতালে

জিবি হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে শষ্যাসংখ্যা বাড়ছে ২০

জিবি হাসপাতালের পরিষেবা আরো উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহার নির্দেশে। মানুষ যাতে হাসপাতালে গিয়ে সঠিক পরিষেবা পায়, চিকিৎসার জন্য বহিরাজ্যে ছুটতে না হয় তার জন্য সক্রিয় স্বাস্থ্য দপ্তর এমনিতেই জিবি হাসপাতালের পরিষেবা এখন উন্নত। সব ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা হচ্ছে জিবিতে। পরিকাঠামো ব্যবস্থা আর উন্নত করা হয়েছে।

এখানেই শেষ নয় জটিল অপারেশন হচ্ছে জিবিপি হাসপাতালে। ডাক্তার মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিনিয়ার সরকার দুটি রেফারেল হাসপাতাল সহ জেলা হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে। জিবি হাসপাতাল থেকে রেফার অনেকটাই কমেছে। চিকিৎসক স্বল্পতা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো জটিল অপারেশন সফলতার সাথে হচ্ছে। এবার নতুন বছরের শুরুতেই আরো দুটি সুপার স্পেশালিটি সার্ভিস চালু হচ্ছে জিবি হাসপাতালে। জিবি হাসপাতাল সুত্রে খবর এই দুটি সুপার স্পেশালিটি সার্ভিস হল গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি ও গ্যাসটো সার্জারি। এই দুটি সার্ভিসের জন্য দুজন স্পেশালিস্ট চিকিৎসক কাজে যোগ দিয়েছেন শীঘ্রই জিবি হাসপাতালে কুড়ি শয্যার গ্যাস্ট্রোলজিও গ্যাস্ট্রো সার্জারির অন্তবিভাগ চালু হচ্ছে। সম্প্রতি জিবি হাসপাতালে সুপার স্পেশালিটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এই দুটি রোগের চিকিৎসায় বর্হিবিভাগের পরিষেবা পাচ্ছেন রোগীরা। জিবি হাসপাতালের নয়টি সুপার স্পেশালিটি পরিষেবার মধ্যে সাতটির আউটডোর ও ইনডোর পরিষেবা রয়েছে। যেমন নিউরোর দুটি, কার্ডিওর দুটি, প্লাস্টিক সার্জারির দুটি, ইউরো এবং নেফ্রলজি দুটি করে আউটডোরও ইনডোর বিভাগ রয়েছে। মেডিসিন বিভাগে রোগীর চাপ কমাতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। নতুন করে ৩০ শয্যার ওয়ার্ড তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে পুরুষ ও মহিলা মিলে ১৯০ বেড রয়েছে। ধীরে ধীরে ২৮০ লক্ষ্য মাত্রা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ চলছে বলে খবর। একই ছাদের নিচে মা ও শিশুর চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের জন্য জিবি হাসপাতালে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক মেটারনেট চাইল্ড হেলথ বিল্ডিং বা এমসিএইচ ভবন। খুব শীঘ্রই এই কাজ শুরু হচ্ছে। জিবি হাসপাতাল সুত্রে খবর, এই কাজের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম আভিম প্রকল্পে ২০২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট এ অত্যাধুনিক বিল্ডিং এর কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে রাজ্য পূর্ত দপ্তর। বর্তমানে মা শিশু চিকিৎসার জন্য জিবি হাসপাতালে ২৬০ শয্যা বিশিষ্ট ওয়ার্ড রয়েছে। গত বছর থেকে জিবি হাসপাতালে সুপার স্পেশালিটি সার্ভিস চালু হয়েছে। একই ছাদের নিচে অনেকগুলো ওয়ার্ড। নেফ্রোলজি থেকে শুরু করে মেডিসিন, ডায়ালিসিস বিভাগ রয়েছে। রয়েছে অত্যাধুনিক পরিসেবা প্রদানের ব্যাবস্থা। জিবিতে বর্তমানে চারটি সুপার স্পেশালিটি সার্ভিস ইনডোরে ও পাঁচটি সার্ভিস চালু রয়েছে আউটডোরে। এছাড়া সুপার স্পেশালিটি সার্ভিস এর জন্য ডায়োগনস্টিক সার্ভিস ফেসিলিটি হিসাবে আলাদা ক্যাথল্যাব চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই চালু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী জিবির চিকিৎসকরা।

সরকারি প্রকল্প

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে টিসিএস অফিসাররা!

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সমাজের জন্য ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস (টিসিএস) অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনসাধারণের সমস্যা সমাধান করা ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারা। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাগুলি সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক শ্রেণির কাছে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করেন টিসিএস অফিসাররা। তারা সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতু হিসেবেও কাজ করেন। শনিবার আগরতলার দশমীঘাটে ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আগরতলা পুর নিগমের ৩৪ নং ওয়ার্ডের দু:স্থদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার এসোসিয়েশন নিয়মিতভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। আগেও এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আগরতলা পুর নিগমের ৭০০ জন স্যানিটেশন কর্মীকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছিল। এ ধরনের সমাজসেবামূলক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। টিসিএস অফিসাররা জনগণের বিভিন্ন অভাব অভিযোগের সমাধান করার জন্য সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাম্প্রতিক বন্যা সহ বিভিন্ন দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলার ক্ষেত্রেও তাদের প্রচেষ্টা খুবই উল্লেখযোগ্য।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রাজ্য সরকার একটি গতিশীল, কল্যাণমুখী প্রশাসন তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেখানে টিসিএস অফিসাররা এই মিশনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। মূলত, জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে থাকেন তারা অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পুর নিগমের মেয়র ইন কাউন্সিল তুষার কান্তি ভট্টাচার্য, ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি দিলীপ কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক অসীম সাহা, বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্যামল কুমার দেব সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। দশমীঘাট এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪০০টি পরিবারকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি এদিনই অপর একটি পৃথক কর্মসূচিতে আগরতলা পুর নিগমের ৩৩ নং ওয়ার্ডের দুঃস্থদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

রাজ্য

মানিক সরকারের বিরুদ্ধে সুশান্ত চৌধুরী

মানিক সরকার নিজের মনগড়া কথা চাপিয়ে দিতে চাইছেন । শুক্রবার জনশিক্ষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে হলসভায় তিনি প্রমোফেস্ট নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে বিতর্ক ডেকে আনলেন মানিক৷ খবরের শিরোনামে থাকতে চেয়েছেন তিনি। শনিবার এর প্রতিবাদ করেছেন পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করে বলেন, মিথ্যা বলছেন মানিক সরকার, হতাশার বহিঃপ্রকাশ! সামাজিক মাধ্যমে জানালেন পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন বাংলায় একটা কথা রয়েছে, “ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে”! এই বাগধারাটির অর্থ হল, কয়লা ধুইলে যেমন ময়লা যায় না, ঠিক তেমন ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও স্বভাব পাল্টাতে পারে না! তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি।

“প্রোমো ফেস্ট-২০২৪” এর নামে ফুর্তি করার জন্য নাকি টাকা খরচ করা হয়েছে। দুর্গাপূজা, কালীপূজা থেকে আরম্ভ করে সমস্ত ব্যাপারে নাকি কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে কিছুদিন আগে গানবাজনার জন্য এক রাত্রে সাত কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। মুখরুচোক উক্তি করতে গিয়ে তিনি জানান, আমি তো আর হিসাব-নিকাশ জানি না, আমি একজন দায়িত্বশীল নেতার মুখ থেকে শুনছি। কাণ্ডটা কী, হচ্ছেটা কী? আবার প্রশ্ন তুলেন তিনি। মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এর জবাব দিতে গিয়ে বলেন, “প্রোমো ফেস্ট-২০২৪” এর নামে সাত কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে এই খবরটা আপনি কোথায় পেলেন? মানিকের ২০ বছরের শাসনকালে রাজ্যে তো পর্যটন দপ্তরের অস্তিত্বই ছিলো না। পর্যটন দপ্তর ছিলো লালটুপিধারীদের আঁতুড়ঘর। যাদের কাজ ছিল সিপিআইএম দলের বিভিন্ন জনসভায় বামপন্থীদের লেখা গণসংগীত গাওয়ার জন্য কমরেড শিল্পীদের সরবরাহ করা। পর্যটন দপ্তরকে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য কখনোই সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করেননি। মানিকের শাসনকালে উগ্রপন্থীদের আতঙ্কে পর্যটকরা জম্পুই, ডম্বুর, ছবিমুড়া সহ রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্র গুলিতে যাওয়ার সাহস পেতেন না। কারণ রাস্তায় অপহরণ হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। সুশান্তবাবু জানান, আপনার শাসনকালে সারা বিশ্বে ত্রিপুরা সুনাম কুড়িয়েছিল অনেক কারণে! যার মধ্যে অন্যতম হলো আপনার মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিমল সিনহার খুন হয়ে যাওয়া! বিরোধী দলের বিধায়ক মধুসূদন সাহা খুন! কর্তব্যরত অবস্থায় নিজের অফিস কক্ষে সদর মহকুমা শাসক শুখরাম দেববর্মার নৃশংস হত্যাকাণ্ড! আসলে “প্রোমো ফেস্ট-২০২৪” যেভাবে সফল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে সেটা মানিকবাবুদের সহ্য হচ্ছে না। সিপিএমের দলের অনেক বিধায়কেরা তাদের পরিবার-পরিজনকে প্রোমো ফেস্টে পাঠানোর জন্য পর্যটন দপ্তর থেকে পাস সংগ্রহ করেছেন। আসলে “বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা” এই সূত্র অনুসারে সরকারের ভালো কাজেরও সমালোচনায় মেতেছেন। সরকারের যেকোনো ভালো কাজ সহ্য হচ্ছে না। মন্ত্রী “সুশান্তবাবুর প্রশ্ন, ডুপ্লেক্স বাংলো” বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে সেদিন যদি আপনি একটু আগরতলা শহরটাকে দেখতেন তাহলে বুঝতে পারতেন প্রোমো ফেস্ট নিয়ে মানুষের মধ্যে কি ধরনের উন্মাদনা ছিল। কষ্ট করে যদি “ইনোভা গাড়িটা” চড়ে একটু স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান এর সামনে দিয়ে চক্কর মারতেন তাহলে আরো ভালো বুঝতে পারতেন। এমনিতেই মানিকবাবুদের এখন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে হয়। কারণ সাধারণ মানুষের কাছে দল গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে রাজনৈতিকভাবে নিজেও দেউলিয়া হয়ে গিয়েছেন। তাই সরকারের ভালো কাজ গুলোর সমালোচনা না করে একটু গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির দিক দিয়ে বিচার করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে বক্তব্য রাখতে আবেদন জানিয়েছেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। টানা কুড়ি বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, একটু তথ্যসহকারে প্রমো ফেস্টের নাম করে কোথায় কিভাবে সাত কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তার চেলেঞ্জ জানিয়েছেন মন্ত্রী সুশান্ত।

প্রয়াত প্রাক্তন

প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। মৃত্যকালে বয়স হয়েছিল ৯২। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৯ টা ৫১ মিনিট নাগাদ দিল্লির এইমস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ড. মনমোহন সিংহ একজন বিশিষ্ট ভারতীয় অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ এবং ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সময়ে ভারত উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন লাভ করেছিল। তাঁর জীবনগল্প একাধারে সংগ্রামের ও সাফল্যের সাক্ষী।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

মনমোহন সিংহ ১৯৩২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের গাহ গ্রামে (বর্তমান পাকিস্তানে) জন্মগ্রহণ করেন। দেশভাগের সময় তাঁর পরিবার ভারতে স্থানান্তরিত হয়। শৈশব থেকেই তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন।

কর্মজীবন

ড. সিংহ তার কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পদে যোগ দেন। এরপর তিনি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর এবং পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসাবে কাজ করেন।

রাজনৈতিক জীবন

ড. মনমোহন সিংহের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯১ সালে, যখন তিনি ভারতের অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। ভারতের অর্থনীতিকে উদারীকরণের ক্ষেত্রে তিনি একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে ভারত বিশ্বায়নের পথে এগিয়ে যায় এবং অর্থনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই সংস্কার প্রক্রিয়া ভারতকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে দেয়।

২০০৪ সালে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস মনমোহন সিংহকে প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেন। তাঁর আমলে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়।

ব্যক্তিগত জীবন

ড. মনমোহন সিংহ একজন শান্ত, বিনয়ী এবং মিতভাষী মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাঁর স্ত্রী গুরশরণ কউর এবং তাঁদের তিন কন্যা রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে এবং সহজ-সরল জীবনযাপন করেন।

ড. মনমোহন সিংহ তাঁর জীবন এবং কাজের মাধ্যমে ভারতীয় অর্থনীতি ও রাজনীতিতে একটি গভীর ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ভারত একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি অর্জন করে। তাঁর কাজের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে প্রশংসিত এবং সম্মানিত হয়েছেন। ড. মনমোহন সিংহ একজন অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে শুধু ভারতের নয়, সারা বিশ্বের কাছে একটি প্রেরণার উৎস।

২০২১ সালের

২০২১ সালের স্বপ্ন অনুযায়ী, ১০০ শতাংশ বুথে যুবা সভাপতি

২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি; প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজনীতিতে নিঃস্বার্থ ও গঠনমূলকভাবে অবদান রাখার জন্য যুবসম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছিলেন। দ্বিতীয় জাতীয় যুব সংসদ উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সেদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো রাজনীতিতেও আজ বড়সড় পরিবর্তন হয়েছে। রাজনীতির আঙিনাতেও যুবসম্প্রদায়ের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী যুবসম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, সৎ মানুষরা এখন কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে, রাজনীতির বিভিন্ন অসাধু কাজকর্মের বিষয়ে যে পুরনো ধারণা ছিল, সেগুলি বদলানো সম্ভব হচ্ছে।

২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি, প্রধানমন্ত্রী যুবসম্প্রদায়কে রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে পরিবার-ভিত্তিক রাজনীতির অবসান হবে। “আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য আপনাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহান পথপ্রদর্শক আপনারা পেয়েছেন। আর তাঁর অনুপ্রেরণায় আমাদের যুবসম্প্রদায় যদি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন, তা হলে দেশ শক্তিশালী হবেই”। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজ্যে যুবাদের মূল দায়িত্বে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য বিজেপি। বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে যুবাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে বার্তা দিতে চাইল রাজ্য বিজেপি। সিপিএমে যখন যুব নেতৃত্বের অভাব, যুবারা বামেদের থেকে দূরে থাকতেই যখন বেশি আগ্রহী তখন ডাবল ইঞ্জিন অর্থাৎ বিজেপিতে যুবাদের ছড়াছড়ি। সিপিএমের শাখা, অঞ্চল, মহকুমা সম্মেলন শেষ হয়ে এখন চলছে জেলা সম্মেলেন৷ জানুয়ারীতে হবে রাজ্য সম্মেলেন৷ দেখা গেছে সম্মেলেনগুলো থেকে বৃদ্ধদের উপরই ভরসা রাখছেন নেতৃত্বরা৷ তার কারন হলো যুব নেতৃত্বের অভাব। যুবাদের তৈরি করা হয় নি। যে ভুলটা সিপিএম দল করেছিলো সেই ভুল করতে নারাজ শাসক শিবির বিজেপি। ২৫ বছরের বেশি সময় এই রাজ্যে বামেরা শাসন করেছেন। কিন্তু মানিক, বাদল কিংবা জিতেনবাবুরা তাদের উত্তরসূরী বাছাই করেননি। নৃপেনবাবু তাঁর উত্তরসূরি তৈরি করেছিলেন বলেই ২০ বছর মুখ্যমন্ত্রীত্ব করতে পেরেছেন মানিক সরকার। কিন্তু ক্ষমতা আগলে রাখার জন্যে মানিকবাবুরা ২০ বছরে উত্তরসূরি তৈরি করতে পারেননি। যার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে দলকে। দলে নেই যুবা নেতৃত্ব। ফলে এখন সাংগঠনিক সম্মেলনগুলোতে বুড়োদের ফের দায়িত্বে আনা হচ্ছে। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই দলের কাছে। নেই জনজাতি নেতা। যুব নেতৃত্বের মধ্যেও গ্রহণযোগ্য নেতার অভাব। কিন্তু বিজেপি এই ভুলটা করতে চাইছে না। উল্লেখ করা যেতে পারে এক সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর মন কী বাত অনুষ্ঠানে যুবাদের এগিয়ে আসার জন্যে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মানে রাজনীতিতে যাতে যুবারা এগিয়ে আসে তার জন্যে তিনি আহ্বান করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীও চাইছেন আগামীদিনে যুবাদের নেতৃত্বদানের জন্যে তৈরি করা। আর সেটাই করে দেখালো রাজ্য বিজেপি। ২০২১ সালের প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী; ৬০টি মণ্ডলের মধ্যে এক-দুটি মন্ডল বাদ দিলে বাকি সবকটি মন্ডলে নতুন যুবা মুখ। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাকে মান্যতা দিয়ে রাজ্য বিজেপিও এবার ৪৫ এর নিচে যাদের বয়স তাদেরকে মন্ডল সভাপতি পদে অভিষিক্ত করেছেন। মাত্র দুয়েকটি মন্ডলে পুরনোদের উপর ভরসা রাখতে বাধ্য হয়েছে বিজেপির শিবির। কারণ তাদের কাজকর্মে দল এবং সেইসব মন্ডলের জনপ্রতিনিধি বা বিজিত নেতারা খুশি। ফলে আগামী দিনে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তাদেরকেই মন্ডল সভাপতি পদে রাখাটা জরুরি বলে মনে করেছেন ওইসব নেতৃত্বরা। মন্ডল সভাপতিদের নাম ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত সারা রাজ্যে ক্ষোভ, গোষ্ঠীবাজির কোন ঘটনা নেই৷ বরং দলীয় কার্যকর্তারা কর্মীদের নতুন সভাপতিদের বরন করে নিতে মাঠে নেমে পড়েছেন। ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকলেও তা মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন নেতারা।

এনইসি

এনইসি বৈঠকে রাজ্যের প্রাপ্তি অনেক: মুখ্যমন্ত্রী

এনইসি বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা জানান; “ত্রিপুরার ইতিহাসে এত বড় বৈঠক আর হয়নি। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠি দিয়েছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদ তথা এনইসি বৈঠকের প্রাপ্তি কি। আবার প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করলেন রাজ্যে পানীয়জল ৮৭ শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ধরনের দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয় একটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রকল্প হল জল জীবন মিশন। সম্প্রতি এন ই সি পোর্টালে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে গত ছয় বছরে ৮৫.৭ কোটি টাকা ১৩ টি প্রকল্পের জন্য এন ই সি মঞ্জুর করেছে। এরমধ্যে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২১.৩৮ কোটি টাকা।

বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী জানান উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলোর মধ্যে সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এটাই বড় প্রাপ্তি। ত্রিপুরা সম্পর্কে বুঝতে, জানতে পেরেছেন উত্তর পূর্বাঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীরা, রাজ্যপাল ও আধিকারিকরা। এনইসি  বৈঠকের ফলে; কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিনিময় হয়েছে, এতে বাড়বে জিডিপি। আগর বাশবেত শিল্প সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিতে পেরেছেন তারা। রাজ্যের পর্যটনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এটাই ত্রিপুরার মানুষের কাছে বড় প্রাপ্তি। এনইসি বৈঠক উপলক্ষে রাজ্যে এসেছেন ইসরুর চেয়ারম্যান। সারা দেশের ব্যাংকের আধিকারিকরা এসেছেন। এখানে ব্যাংকার্সদের বৈঠক হয়েছে। ত্রিপুরায় যে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ আছে সেটা জানতে পেরেছেন তারা। এটাই তো বড় প্রাপ্তি। ব্রু শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য ৫০০ কোটি টাকার প্যাকেজ দিয়েছিল কেন্দ্র। তা এখন এক বেড়ে ৮০০ কোটি টাকার উপর হয়েছে। রাজ্যের বারোটি জায়গায় ব্রদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দেখে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজ্যে যে ভালো ভালো কাজ হচ্ছে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে গেলেন তিনি। রিয়াং শরণার্থীরা যারা পুনর্বাসন পেয়েছে তারা ঠিকভাবে ঘর পেয়েছে কিনা, তাদের জন্য রাস্তাঘাট নির্মিত হয়েছে কিনা, তাদের রেশন প্রদান ঠিকঠাক ভাবে চলছে কিনা তাও উপলব্ধি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে রিয়াং শরণার্থীদের পুনর্বাসন নিয়ে কেউ কখনো কোনদিন চিন্তা করেনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা চিন্তা করেছেন তাদের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী বলেন এটাই হচ্ছে রাজ্যের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। রাজ্যে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রশ্নে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। রাজ্যের পক্ষ থেকে এইমসের জন্য ফের দাবি জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা কতটুকু তা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন এই বৈঠকের ফলে এই অঞ্চলের রাজ্যগুলোর মধ্যে কৃষ্টি সংস্কৃতির বিনিময় হবে। এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের সহায়ক হবে। বৈঠকে এই অঞ্চলের বৃষ্টিপাত সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিভাবে আরো আগে দুর্যোগের আভাস পাওয়া যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলোকে নেশার বিষয়ের জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়শই বলেন অষ্ট লক্ষ্মীর আয়তন উত্তরপ্রদেশ থেকেও বেশি। ফলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো থেকে জিডিপি বৃদ্ধি সারা দেশের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মোট কথা রাজ্যের প্রাপ্তি অনেক বেশি বলেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।