BJP

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ২৭ বছর পর ক্ষমতায় ফিরল BJP!

দিল্লির রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন এনে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল জয় লাভ করেছে। দীর্ঘ ২৭ বছর পর দিল্লির ক্ষমতায় ফিরে এসেছে BJP, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন। ৭০ আসনের দিল্লি বিধানসভায় বিজেপি পেয়েছে ৪৮টি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়েও অনেক বেশি। বিপরীতে, আম আদমি পার্টি (AAP) ২২টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে। কংগ্রেস একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি এবং শূন্য আসনে থেকে আরও একবার রাজ্যের রাজনীতিতে তাদের অস্তিত্ব সংকট স্পষ্ট হয়েছে।

বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “দিল্লির জনগণ উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জাতীয়তাবাদকে সমর্থন করেছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, দিল্লির প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আমরা কাজ করব।” বিজেপির দিল্লি শাখার প্রধান মনোজ তিওয়ারি বলেন, “এটা শুধু এক রাজনৈতিক দলের জয় নয়, বরং দিল্লির জনগণের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা এবার দিল্লিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।” অপরদিকে, আম আদমি পার্টির নেতা এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল পরাজয় স্বীকার করে বলেন, “আমরা জনগণের রায়ে শ্রদ্ধা জানাই। বিজেপিকে অভিনন্দন জানাই। তবে আমরা জনগণের স্বার্থে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব।”

২০২৫ সালের দিল্লি নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৬০% এর বেশি, যা প্রায় ১.৫ কোটি ভোটারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। এবারের নির্বাচনে মূল ইস্যু ছিল উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, জল সংকট, নারী নিরাপত্তা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাত। বিশ্লেষকদের মতে, BJP-র পক্ষে একাধিক বিষয় কাজ করেছে—

  • নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা: জাতীয় রাজনীতিতে মোদির শক্তিশালী অবস্থান দিল্লির ভোটারদের প্রভাবিত করেছে।
  • কেজরিওয়ালের সরকারবিরোধী হাওয়া: দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর এএপি সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছিল।
  • কেন্দ্রের সাথে সংঘাত: দিল্লি সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বন্দ্ব অনেক ভোটারকে বিজেপির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
  • হিন্দুত্ব ও জাতীয়তাবাদ: বিজেপির প্রচারকৌশলে জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতা একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ফলাফল শুধু দিল্লির জন্য নয়, বরং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। মোদির নেতৃত্বে BJP ফের জাতীয় রাজনীতিতে তাদের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করতে চাইবে। বিজেপি এখন সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কারা দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীদের মধ্যে মনোজ তিওয়ারি, বিজেন্দ্র গুপ্ত এবং গৌতম গম্ভীরের নাম উঠে আসছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানাবে এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। দিল্লির জনগণ এখন তাকিয়ে আছে নতুন সরকারের দিকেই—তারা দেখতে চায়, বিজেপি তাদের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন ও পরিবর্তন কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারে।About Us

বৈদ্যুতিক ট্রেন

ত্রিপুরা ও দক্ষিণ আসামে শীঘ্রই চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রেন, সফল ট্রায়াল রান!

ত্রিপুরা ও দক্ষিণ আসামের বাসিন্দাদের জন্য সুখবর! খুব শীঘ্রই এই অঞ্চলে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হতে চলেছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর) দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে, বদরপুর (আসাম) থেকে ত্রিপুরার জিরানিয়া পর্যন্ত প্রথম পণ্যবাহী ট্রেনের ট্রায়াল রান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে যাত্রীবাহী বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হলো।

শীঘ্রই চালু হতে পারে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস!

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভসহ যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা হবে। এর পাশাপাশি, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। শিলচর (আসাম) থেকে আগরতলা পর্যন্ত বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সম্প্রসারিত করা হবে বলে জানা গেছে। গত বছর আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে একটি জেনেরিক ঔষধ কাউন্টার উদ্বোধন করতে এসে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য জানান, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর জন্য প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ছোটখাটো কিছু কাজ বাকি থাকলেও সেগুলো দ্রুত শেষ করা হবে।

ত্রিপুরার রেললাইন বিদ্যুতায়ন প্রকল্প!

ত্রিপুরায় রেললাইন বিদ্যুতায়নের জন্য ২০২২ সালে ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এর মাধ্যমে ত্রিপুরাকে জাতীয় রেল গ্রিডের সঙ্গে বৈদ্যুতিক ট্রেন সংযোগে যুক্ত করার কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (TSECL) রেলওয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিশন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। বর্তমানে ত্রিপুরা থেকে দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই, পাটনা, ফিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরের সঙ্গে একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেনের সংযোগ রয়েছে, তবে সবগুলোই ডিজেল চালিত। বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে রেল পরিষেবা আরও দ্রুত, আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব হবে।

উত্তর-পূর্বে রেল পরিকাঠামো

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির রেল পরিষেবা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প বন্দে ভারত এক্সপ্রেস গত বছরের ২৯ মে আসামের গুয়াহাটি ও পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চালু করা হয়। এই ট্রেনটি মাত্র ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছে যায় এবং সপ্তাহে ছয় দিন চলাচল করে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গের সাতটি জেলা ও উত্তর বিহারের পাঁচটি জেলায় পরিষেবা প্রদান করছে। এদিকে, ত্রিপুরাবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কবে থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করবে।

লাভ কী হবে?

✅ ভ্রমণের সময় কমবে
✅ আরও আরামদায়ক ও আধুনিক ট্রেন পরিষেবা মিলবে
✅ ডিজেল চালিত ট্রেনের তুলনায় পরিবেশবান্ধব হবে
✅ বিদ্যুতায়নের ফলে দীর্ঘমেয়াদে রেলের ব্যয় কমবে

সব মিলিয়ে, ত্রিপুরা ও দক্ষিণ আসামের জনগণের জন্য বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা!

ত্রিপুরা Destination Tripura

 ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে ৮৭ জন উদ্যোগপতির ৩,৭০০ কোটি টাকার মৌ স্বাক্ষর!

শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ত্রিপুরা সরকার। রাজ্যে বিনিয়োগের লক্ষ্যে ৮৭ জন উদ্যোগপতি রাজ্য সরকারের সঙ্গে মোট ৩,৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। শনিবার আগরতলার এক বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা‘ বিজনেস কনক্লেভে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশ-বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য রাজ্য সরকার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সেই উদ্যোগ এখন সফল। তিনি বলেন, “মানুষ চায় যেখানেই বিনিয়োগ করবেন, সেখানে যেন শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। আমরা রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলার পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ত্রিপুরা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখানে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন।”

ত্রিপুরায় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রাজ্য সরকার বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রণোদনা ও নীতি-সহায়তা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যুৎ খাতে সাবসিডি, মূলধনী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রণোদনা, এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ নীতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

শিল্পোন্নয়নের জন্য ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা’ বিজনেস কনক্লেভ রাজ্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি গ্রহণ করেছেন। ত্রিপুরা, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম সম্ভাবনাময় রাজ্য, বাংলাদেশ-সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই রাজ্যের অর্থনীতি মূলত কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। এখানে প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাজ্যে ইতিমধ্যে ‘লক্ষ্য ২০৪৭’ নামে একটি উন্নয়ন ভিশন চালু হয়েছে। রাজ্যের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭৭,৭২৩ টাকা, যা ২০১২ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। জিএসডিপি বৃদ্ধির হার ৮.৯%, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হীরা মডেল’ অনুসারে রাজ্যের সড়ক, বিমান ও রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) বিমানবন্দর উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম সুন্দর ও ব্যস্ততম বিমানবন্দরে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি, সাব্রুমে মৈত্রী সেতু চালু হলে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। ইতিমধ্যে সেখানে স্পেশাল ইকোনমিক জোন (SEZ) গড়ে তোলা হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা এতে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

ত্রিপুরায় শিল্প স্থাপনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত—
✅ রাবার শিল্প
✅ বাঁশ ও আগর কাঠের শিল্প
✅ প্রাকৃতিক গ্যাস ভিত্তিক শিল্প
✅ কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ
✅ পর্যটন ও হস্তশিল্প

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, টিআইডিসি চেয়ারম্যান নবাদল বণিক, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, ডিজি ইন্টেলিজেন্স অনুরাগ, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, এবং আসামের শিল্প দপ্তরের সচিব ইন্দিরা কলিতা-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নয়নের পথে এই নতুন বিনিয়োগ রাজ্যের ভবিষ্যৎকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দিল্লি

দিল্লিবাসীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুযোগ্য নেতৃত্বে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লাভ করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ ২৭ বছর পর দিল্লির মসনদে প্রত্যাবর্তন করছে বিজেপি। এই জয়ের জন্য দিল্লির জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

শনিবার আগরতলায় সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিল্লি ভোটের ফলাফল প্রত্যাশিত ছিল। দেশের মানুষ জানেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ কীভাবে এগিয়ে চলেছে। গরিব মানুষের কল্যাণে তিনি যেভাবে চিন্তাভাবনা করছেন, সেটারই প্রতিফলন এই ভোটের ফল।”

তিনি আরও বলেন, “দিল্লির মানুষ এতদিন আপ সরকারকে প্রত্যক্ষ করেছেন। কীভাবে তারা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছেন, তা সবার জানা। এবার দিল্লির জনতা প্রকৃত উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। এই জয়ের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এবং দিল্লির জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে শেষবার দিল্লির মসনদে বসেছিল বিজেপি। তখন সুষমা স্বরাজ ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এরপর কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি (আপ) পালা করে শাসন করেছে দিল্লিকে। দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিজেপি দিল্লির ক্ষমতায় ফিরে এলো, যা দলটির জন্য এক ঐতিহাসিক সাফল্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা, উন্নয়নমূলক নীতিগুলি এবং বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির সমন্বয়েই দিল্লির ভোটে এই জয় সম্ভব হয়েছে। দিল্লির রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে বিজেপি আবারও রাজধানীর শাসনভার গ্রহণ করতে চলেছে।

ত্রিপুরার

ত্রিপুরার বহুল আলোচিত চিটফান্ডগুলি হাইলাকান্দি কেন্দ্রিক!

ত্রিপুরার বহুল আলোচিত চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই (CBI) তিনজন পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে মিন্নাতুল্লাহ বারভূইয়াকে হায়দ্রাবাদে, কামরুল ইসলাম বারভূইয়াকে আসামের হোজাইতে এবং ইমদাদুল্লাহ বারভূইয়াকে তামিলনাড়ুর ভেলোর থেকে আটক করা হয়েছে। তিনজনই আসামের হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দা এবং চিটফান্ড সংস্থা কামা প্রজেক্টস অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক বলে জানা গেছে। এই প্রতারণার মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তারা পলাতক ছিলেন।

সূত্রের খবর, ত্রিপুরা সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে সিবিআই,  ত্রিপুরার পশ্চিম আগরতলা, কুমারঘাট এবং তেলিয়ামুড়া থানায় ২০১২-২০১৪ সালের মধ্যে দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলা পুনঃনিবন্ধন করে। এই মামলাগুলি সিবিআইকে হস্তান্তর করে ত্রিপুরা পুলিশ। চিটফান্ড সংস্থা কামা ইন্ডিয়া প্রজেক্টস অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড অবৈধভাবে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে এবং সেবি (SEBI), আরবিআই (RBI) কিংবা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই এই অর্থ লেনদেন চালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই সংস্থার পরিচালকরাই সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করে নেয়।

তদন্তের সময় প্রমাণিত হয় যে, অভিযুক্ত মিন্নাতুল্লাহ, কামরুল ইসলাম ও ইমদাদুল্লাহ—তিনজনই প্রতারণার মূল হোতা এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। আগরতলার বিশেষ সিবিআই আদালত তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। অবশেষে, হায়দ্রাবাদ, আসামের হোজাই ও তামিলনাড়ুর ভেলোরে কৌশলী অভিযান চালিয়ে সিবিআই তাদের গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, সিবিআই ৩ ফেব্রুয়ারি আরও এক অভিযুক্ত বিকাশ দাসকে মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডি থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। জানাগেছে সেও আসামের হাইলাকান্দিরই বাসিন্দা এবং ত্রিপুরা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। ২০১৩ সাল থেকে সে পলাতক ছিলেন, এবং ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট তার বিরুদ্ধে স্থায়ী পরোয়ানা জারি হয়। সিবিআই তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ২০,০০০ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল এবং অবশেষে অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করে সংস্থাটি।

ত্রিপুরায় চিটফান্ড কেলেঙ্কারি মূলত বামফ্রন্ট সরকারের শাসনামলে ঘটে। তখন একাধিক অবৈধ চিটফান্ড সংস্থা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে প্রতারণা চালায়। ত্রিপুরার অসংখ্য সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় খুইয়েছে, কিন্তু আজও সেই অর্থ তারা ফেরত পায়নি। গত বছর ত্রিপুরা হাইকোর্ট চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে প্রতারিত গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সূত্রে সিবিআই কেলেঙ্কারির নায়কদের আইনের জালে তুলতে সক্রিয় অভিযান চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই চিটফান্ড সংস্থাগুলি রাজনৈতিক আশ্রয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। ফলে মূল অভিযুক্তদের অনেকেই এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। সিবিআই যদি কঠোর হয়, তাহলে এই চক্রের মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। রাজ্যবাসী এখন চাইছে, প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক এবং আমানতকারীরা তাদের হারানো অর্থ ফেরত পাক। এখন দেখার বিষয়, সিবিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

স্মার্ট

বেআইনি হকার ও টমটম চালকদের দখলে স্মার্ট সিটি!

আগরতলাকে স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি তার বিপরীত। স্মার্ট সিটি পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের প্রধান সড়কে রিকশা ও টমটম নিষিদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু রাজধানীর বুকে এই নিয়মের কোনো বাস্তবায়ন নেই। বরং দিন দিন বেআইনি টমটমের সংখ্যা বাড়ছে, যার ফলে শহরের রাস্তাগুলো তীব্র যানজটে জর্জরিত এবং আগরতলা স্মার্ট সিটিকে পরিণত করেছে এক ব্যতিক্রমী স্মার্ট সিটিতে।

স্মার্ট সিটি প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, আগরতলার প্রধান সড়কে কোনো টমটম চলাচল করতে পারবে না। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, টমটম ও রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল রাজধানীর যানজটকে ভয়াবহ করে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও ট্রাফিক দপ্তরের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। একসময় ট্রাফিক দপ্তর এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিলেও, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা তা কার্যকর করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

শহরের ফুটপাতগুলো পথচারীদের চলাচলের জন্য বরাদ্দ থাকলেও, বর্তমানে তা হকারদের দখলে চলে গেছে। বিভিন্ন সময়ে পুর নিগম ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালালেও, অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরেই পুনরায় দখলদারি শুরু হয়। গত পুজোর আগে পুর নিগম একবার অভিযান চালালেও, বর্তমানে সেই একই অবস্থায় ফিরে গেছে শহরের ফুটপাত। বিশেষ করে পোস্ট অফিস চৌমুহনি থেকে কামান চৌমুহনি পর্যন্ত রাস্তার ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে, ফলে ক্রেতা ও পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হচ্ছে, যা যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগরতলা শহরকে যানজট মুক্ত করতে টমটমের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বর্ডার গোলচক্কর থেকে ফায়ার সার্ভিস চৌমুহনি, শংকর চৌমুহনি ও অন্যান্য গলি রাস্তায় নির্দিষ্ট স্টপেজ তৈরি করা হবে, যেখানে টমটমগুলো যাত্রী উঠানামা করবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১৮ সালে বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের প্রথম মেয়াদে রাজধানীকে টমটম মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতার ইন্ধনে তা আটকে যায়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু রাজনৈতিক নেতা অবৈধভাবে টমটম চালানোর অনুমতি দিচ্ছেন এবং অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীও এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

আগরতলার জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি যানবাহনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে টমটম, ই-রিকশা ও অটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল শহরের যানজটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। যানজট কমাতে এবং পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ তৈরি করতে শহর থেকে টমটম অপসারণ, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

শহরবাসীর অভিযোগ, প্রশাসন চাইলে এই সমস্যা সমাধান করতে পারে। তবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শহরের পরিবহন দপ্তর ও ট্রাফিক বিভাগ যদি কঠোর নজরদারি শুরু করে, তাহলে আগরতলাকে সত্যিকারের স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ত্রিপুরার

ত্রিপুরার জৈব কৃষিতে বিশাল সাফল্য!

জৈব কৃষিতে ত্রিপুরার সাফল্য আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। শুক্রবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, অরুন্ধতীনগর থেকে প্রায় ২,০০০ কেজি ব্ল্যাক রাইস ও সুগন্ধি চাল পাঠানো হলো দিল্লিতে। কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান, রাজ্যে বর্তমানে জৈব পদ্ধতিতে আনারস ও আদার মতো ফসল উৎপাদন হচ্ছে এবং কৃষকদের এই পদ্ধতির প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় ২০,০০০ হেক্টর জমিতে জৈব কৃষি করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও ৬,৫০০ হেক্টর জমিতে এই পদ্ধতিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই রাজ্যে ৪০টি ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানি (FPC) গঠিত হয়েছে এবং শীঘ্রই আরও ১৩টি কোম্পানি তৈরি করা হবে।

জৈব কৃষির উপকারিতা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, রাসায়নিক মুক্ত এই ফসল শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে পুষ্টিগুণ বেশি। কৃষকদের উৎপাদিত জৈব ফসল সহজে বাজারজাত করার জন্য রাজ্যের আটটি জেলায় ‘অর্গানিক আউটলেট’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, বাধারঘাট রেল স্টেশনেও একটি বিশেষ আউটলেট খোলার কথা ভাবা হচ্ছে।

ত্রিপুরার জৈব কৃষির এই সাফল্য জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের দুই কৃষককে জৈব কৃষিতে অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে। জৈব কৃষিতে রাজ্যের এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে আরও প্রসারিত হবে বলে আশাবাদী কৃষি দপ্তর।

শিল্পোন্নয়নে

শিল্পোন্নয়নে অগ্রাধিকার ত্রিপুরায়, ‘স্কিল-উদয় তংনাই’ কর্মসূচির সূচনা!

সার্বিক শিল্পোন্নয়নের নিরিখে ত্রিপুরা এখন একটি ‘পারফর্মার স্টেট’ হিসেবে স্বীকৃত। রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ পরিষেবা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবা সহ একাধিক খাতে কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

শুক্রবার নরসিংগড়স্থিত টিআইটি অডিটোরিয়ামে ‘স্কিল-উদয় তংনাই’ দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ অনুযায়ী উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি জানান, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বর্তমানে ত্রিপুরায় ছয়টি জাতীয় সড়ক, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, উন্নত রেল ও বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১২টি সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। ত্রিপুরার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে রাজ্যকে শিল্পোন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাজ্যে রাবার শিল্পের প্রসার ঘটছে, এবং সম্প্রতি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। রাবার উৎপাদনে কেরালার পরেই রয়েছে ত্রিপুরা। এছাড়া, চা শিল্পের উন্নয়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাজ্যের চা এখন গুণমানে উন্নত ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম

আগর শিল্পের বিকাশ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী আশাবাদী। আগে এই খাতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি শুরু হয়েছে। আগামী দিনে আগর শিল্পের বাজার ১০ হাজার কোটি টাকা ছোঁয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশে রাবার শিল্পের প্রসারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজ্যের উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের আখাউড়ার সঙ্গে আগরতলার রেল সংযোগ তৈরি হয়েছে। এটি চালু হলে আগরতলা থেকে কলকাতা যেতে মাত্র ৭-৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। মৈত্রী সেতু নিয়ে রাজ্যের মানুষের বড় আশা রয়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে।

ত্রিপুরায় সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বগাফায় প্রায় ৬৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা এক বিরল ঘটনা। তবে সরকার দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে মাত্র তিন-চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ-এর দল তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মহম্মদ সাজাদ পি এবং শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা সহ অন্যান্য আধিকারিকগণ। এছাড়া টিআইটির অধ্যক্ষ, ফ্যাকাল্টি সদস্য এবং ছাত্র-ছাত্রীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

BSF

BSF এবং সোনামুড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

গোমতীর তীরবর্তী শহর সোনামুড়ায় দেশাত্মবোধক সঙ্গীতের মূর্ছনায় মুগ্ধ হলেন হাজারো মানুষ। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF) ৮১ নম্বর ব্যাটালিয়ন এবং সোনামুড়া প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনবদ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সকলের মন জয় করল। বৃহস্পতিবার রাতে সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন বীর মেমোরিয়াল পার্কে অনুষ্ঠিত হয় দেশাত্মবোধক এই সংগীতানুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল সকাল থেকেই। সোনামুড়া প্রেসক্লাব ও BSF-এর সদস্যরা একত্রে কাজ করে অনুষ্ঠানস্থলকে দেশাত্মবোধের আবহে সাজিয়ে তোলেন। বীর মেমোরিয়াল পার্কের শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি BSF-এর গোকুলনগর সেক্টরের ডিআইজি ভি. কে. কাশানা শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন এবং বলেন, “বিভেদের মাঝে একতাই ভারতের ঐতিহ্য।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ-এর ৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট রাকেশ সিনহা, সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব সূত্রধর, মহকুমা শাসক মহেন্দ্র কামবে চাকমা, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শশীমোহন দেববর্মা, আকাশবাণী ও দূরদর্শন কেন্দ্র আগরতলার সহকারী অধিকর্তা কুনাল ভি শিন্ধে, সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান সারদা চক্রবর্তী এবং সোনামুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি বিপ্লব চক্রবর্তী ও সম্পাদক অভিজিৎ বর্ধন।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা শুধু বন্দুক নয়, গিটার, সিন্থেসাইজার, ড্রামসেট এবং স্যাক্সোফোনের সুরেও সমান পারদর্শী। তাদের পরিবেশিত দেশাত্মবোধক সঙ্গীত দর্শকদের মুগ্ধ করে। “মা তুঝে সেলাম” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধের অনন্য নজির স্থাপনকারী স্থানীয় টমটম চালক জাফর আলীকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী ভাষণে বিএসএফ-এর ডিআইজি ভি. কে. কাশানা বলেন, “দেশের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের গর্বিত করে। ভারত তার ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে আজ বিশ্বে সম্মানিত।” তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে ভারত আরও সমৃদ্ধ হবে, বিশ্বের দরবারে ভারতীয় পাসপোর্টের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।” পাশাপাশি তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে। বিএসএফ-এর সদস্যদের সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। পুরো অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকদের প্রশংসায় ভাসান অতিথিরা। ভবিষ্যতেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন সোনামুড়া প্রেসক্লাবের সম্পাদক অভিজিৎ বর্ধন।

যুদ্ধের

 ৩টি কেন প্রয়োজনে আরো ১০টি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত পাকিস্তান!

ভারতের সামরিক শক্তি বা আধুনিক প্রযুক্তিতে পাকিস্তান ভীত নয় বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কাশ্মীরের জন্য প্রয়োজন হলে পাকিস্তান আরও ১০টি যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির ঘোষণা করেছেন যে, কাশ্মীরের জন্য প্রয়োজন হলে পাকিস্তান আরও ১০টি যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। ভারতের সামরিক শক্তি বা আধুনিক প্রযুক্তিতে পাকিস্তান ভীত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কাশ্মীরকে ‘পাকিস্তানের শিরা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাশ্মীর একদিন স্বাধীন হয়ে পাকিস্তানের অংশ হবে। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত।

মুজাফফরাবাদ সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কাশ্মীরে নিযুক্ত পাক সেনাদের নিষ্ঠা, দারিত্ব ও যুদ্ধ প্রস্তুতির প্রশংসা করেন এবং বলেন, “জাতির সামনে সাময়িক চ্যালেঞ্জ থাকলেও, পাকিস্তান ভারতীয় রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি ভাইদের পাশে থাকবে।” এ সময় তিনি জম্মু ও কাশ্মীরকে “অবৈধভাবে অধিকৃত” বলে উল্লেখ করেন এবং কাশ্মীরিদের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারতের নীতির সমালোচনা করে পাক সেনাপ্রধান বলেন, “ভারতীয় নৃশংসতা ও হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদের উত্থান কাশ্মীরি জনগণের স্বাধীনতার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।”

IND Vs Pak

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের যুদ্ধের হুঁশিয়ারির কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কাশ্মীর চিরকাল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং থাকবে। পাকিস্তানের যুদ্ধের হুমকি শুধু রাজনৈতিক চমক এবং বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য করছে। এক ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তার ভাষায়, “নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই করছে পাকিস্তান। অথচ তারা যুদ্ধের কথা বলছে! পাকিস্তানের উচিত দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া, ভারতের বিরুদ্ধে অবাস্তব হুমকি দেওয়া নয়।”

ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কড়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “যদি পাকিস্তান ১০টি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে, তবে ভারত ১০০টি যুদ্ধ জয়ের ক্ষমতা রাখে। ভারত পাকিস্তানের কোনো হুমকিকে ভয় পায় না।”

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং চিরকাল ভারতেরই থাকবে। পাকিস্তানের মিথ্যা প্রচারণা এবং হুমকির মাধ্যমে সত্য বদলাবে না। বরং ভারতীয় সেনাবাহিনী ও জনগণ কাশ্মীরের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, পাকিস্তান, যে নিজেই আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশ হিসেবে পরিচিত, তারা কাশ্মীর প্রসঙ্গে নৈতিকতার বুলি আওড়ানোর কোনো অধিকার রাখে না। “নিজেদের দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের চরম সংকট চলছে, অথচ তারা কাশ্মীরের ‘অধিকার’ নিয়ে কথা বলছে—এটা নিছক হাস্যকর!”

ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তবে কেউ যদি আগ্রাসনের চেষ্টা করে, তাহলে ভারত কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দেবে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, “ভারত যুদ্ধ চায় না, কিন্তু পাকিস্তান যদি সংঘাত চায়, তাহলে তারা তাদের অতীতের মতোই পরাজিত হবে।”

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করেন, “পাকিস্তান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত। যুদ্ধের কথা ভাবার আগে তাদের উচিত নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা।” ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কোনো ধরনের যুদ্ধ বা উস্কানি ভারতের এই অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না। পাকিস্তানের যুদ্ধের হুমকি হাস্যকর এবং এটি বাস্তবতার সাথে কোনোভাবেই মিল নেই। ভারত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাইলেও দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।