আগরতলা লেইক চৌমুহনী বাজারে উচ্ছেদ অভিযান

আগরতলা পুর নিগম, লেইক চৌমুহনী বাজারটিকে আধুনিকীকরণ করবে!

আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে শহরের বাজারগুলিকে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে গড়ে তোলার কাজ জোরকদমে চলছে। এই লক্ষ্যেই লেইক চৌমুহনী বাজারের বেআইনি দোকান উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। পুর নিগমের এই অভিযানে ১০০টিরও বেশি বেআইনি দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

লেইক চৌমুহনী বাজার দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম ও বেআইনি কার্যকলাপের কারণে আলোচনায় ছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বাজারে বেআইনি মদের ঠেক, অবৈধ লেনদেন এবং জায়গা দখল করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বেশ কয়েকবার সরজমিনে পরিদর্শন করেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার। পরিদর্শনের পর বাজার কমিটির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন মেয়র। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেআইনি দোকানদারদের স্বেচ্ছায় দোকান সরিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দোকানদাররা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে, পুর নিগমের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে বেআইনি দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

এই অভিযান সম্পর্কে মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, “আগরতলা পুর নিগম নগরীর বাজারগুলিকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বেআইনি দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বাজার এলাকাকে মুক্ত করা হচ্ছে, যাতে ব্যবসায়ীরা বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, “বেআইনি দোকানদারদের উচ্ছেদের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের দিকেও নজর দেবে পুর নিগম। আগামী এক মাসের মধ্যে বাজার এলাকা পরিষ্কার করে ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

মেয়র দীপক মজুমদার জানিয়েছেন, বাজার এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ও আবর্জনা ফেলার ফলে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পাশাপাশি, নদীর পারের বেআইনি দোকানগুলোর কারণে নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেয়র বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, “উন্নয়নমূলক কাজে বিরোধীরা রাজনৈতিক বাধা সৃষ্টি না করে, শহরের উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা করুক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে বটতলা বাজারে বেআইনি নেশার ঠেক ভেঙে দেওয়া হলেও বিরোধীরা তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।

বাজার পরিদর্শনকালে মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের মণ্ডল সভাপতি অমিতাভ ভট্টাচার্য ও অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। আগরতলা পুর নিগমের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাজার এলাকার পরিবেশ উন্নত করার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পুর নিগম কর্তৃপক্ষ।About Us

অর্থনীতি চাঙ্গায় one nation one election

‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে, অর্থনীতি ও গণতন্ত্র সুদৃঢ় করার প্রয়াস!

‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থনীতির পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে। এই ব্যবস্থার ফলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বজায় থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ আজকের সময়ের এক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। বারবার নির্বাচনের কারণে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। প্রতিবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে স্কুল-কলেজে ভোট গ্রহণের জন্য ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়, শিক্ষকদের ভোট পরিচালনার কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটানা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর কোনো না কোনো নির্বাচন লেগেই থাকে—লোকসভা, বিধানসভা, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত, পুরসভা, স্বশাসিত সংস্থা ইত্যাদির জন্য। বারবার নির্বাচনের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও একধরনের ক্লান্তি তৈরি হয়। তবে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ চালু হলে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন হবে, ফলে প্রশাসনিক ব্যস্ততা কমবে, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি প্রসারে বলিষ্ঠ ভূমিকা নেয়া যাবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একাধিক নির্বাচনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছিল, যা দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা যেত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ১.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বাস্তবায়িত হলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে। এছাড়া, কালো টাকা ব্যবহার করে নির্বাচনে জয়লাভের প্রবণতা কমবে এবং হিসাব-বহির্ভূত তহবিল নিয়ন্ত্রণে আসবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার কারণে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হয়। একবার নির্বাচন ঘোষিত হলে কোনো নতুন প্রকল্প বা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। ফলস্বরূপ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বিলম্বিত হয়। ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ ব্যবস্থা চালু হলে এই সমস্যাগুলি দূর হবে, কারণ প্রশাসনকে ঘন ঘন নির্বাচনের জন্য থমকে যেতে হবে না। এতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে।

মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক দেশেই একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যেমন ব্রাজিল, সুইডেন, বেলজিয়াম, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনস প্রভৃতি দেশে এই ব্যবস্থা সফলভাবে কার্যকর হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি বিশ্বের এত দেশে একযোগে নির্বাচন হতে পারে, তাহলে আমাদের দেশে তা কেন সম্ভব নয়?”

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ-এর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত সুপারিশ করেছে। এই কমিটিতে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, গুলাম নবি আজাদ, হরিশ সালভে সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নিয়ে একটি বিল লোকসভায় পেশ করে। এতে ২৬৯ জন পক্ষে ভোট দেন এবং ১৯৮ জন বিপক্ষে ভোট দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ও বিজেপি প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সব্যসাচী দাশগুপ্ত, অল ত্রিপুরা মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রতন সাহা, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ ত্রিপুরা প্রদেশ কনভেনর ড. জহর লাল সাহা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক দেশ, এক নির্বাচন চালু হলে কস্ট এফিসিয়েন্সি, গভর্নেন্স ও স্থিতিশীলতা, ফেডারেল কাঠামোর সমন্বয়, ভোটারদের অংশগ্রহণ, এবং দেশের অর্থনীতির জন্য সুবিধা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাই এই উদ্যোগকে সমর্থন করবেন।About Us

মাদক চোরাচালান রোধে বড় সাফল্য

আসাম রাইফেলস ও কাস্টমসের যৌথ অভিযানে ৩০ কোটি টাকার মাদক বাজেয়াপ্ত!

রাজ্যের মাদক চোরাচালান রোধে আবারও বড় সাফল্য পেল আসাম রাইফেলস ও কাস্টমস বিভাগ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এক যৌথ অভিযানে প্রায় ১,৫০,০০০ টি ইয়াবা ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

ধলাই জেলার আমবাসায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১২০৯৮ নম্বর শতাব্দী এক্সপ্রেসে যৌথভাবে তল্লাশি চালায় আসাম রাইফেলস ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তল্লাশির সময় ট্রেনের এক বেওয়ারিশ লাগেজ থেকে বিপুল পরিমাণ নেশা সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তবে, এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। আসাম রাইফেলসের একজন মুখপাত্র জানান, আসাম রাইফেলস নিয়মিতভাবে রাজ্যে নেশা সামগ্রী চোরাচালান প্রতিরোধে সক্রিয় রয়েছে, এবং এই অভিযান চোরাচালান বিরোধী চলমান প্রচেষ্টার একটি অংশ এবং এটি ত্রিপুরা সরকারের নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠনের একটি প্রয়াস।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আসাম রাইফেলস ২২টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে প্রায় ৯২.৫৫ কোটি টাকার চোরাচালানকারী পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ইয়াবা, ব্রাউন সুগার, গাঁজা, এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য রয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক চোরাচালানের মূল চক্র উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী হওয়ায়, ত্রিপুরা রাজ্য মাদক চোরাচালানের অন্যতম ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে অনেকদিন ধরেই। তবে রাজ্য প্রশাসন, আসাম রাইফেলস, বিএসএফ, এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ ধরনের অভিযানের ফলে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা রাজ্যের যুব সমাজকে নেশার কবল থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।About Us

দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিভাবক

১২ বছরের ছেলের হাতে স্কুটি তুলে দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিল বাবা!

দায়িত্বজ্ঞানহীনতার এক চরম নজির দেখা গেল আমতলী থানার মধুবন ঝরঝরিয়া জেবি স্কুল সংলগ্ন এলাকায়। সরকারি নির্দেশ ও ট্রাফিক আইনকে অগ্রাহ্য করে ১২ বছর বয়সী এক নাবালকের হাতে স্কুটি তুলে দিলেন তারই বাবা, রঞ্জিত শীল।

ট্রাফিক আইন!

ভারতের মোটর ভেহিকেল আইনের স্পষ্ট নির্দেশ—কোনো নাবালক (১৮ বছরের নিচে) গাড়ি, বাইক বা স্কুটি চালাতে পারবে না। এই আইন ভঙ্গ করলে অভিভাবকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেক অভিভাবক দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে তাদের নাবালক সন্তানদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিচ্ছেন, যা চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

কি ঘটেছিল?

বৃহস্পতিবার বিকেলে রঞ্জিত শীল তার নাবালক ছেলেকে স্কুটি চালানোর অনুমতি দেন। ছেলে তার আরেক নাবালক বন্ধুকে নিয়ে স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে কাঞ্চনমালা এলাকায়। বিষয়টি দেখে এলাকার কয়েকজন যুবক হতবাক হয়ে যান। তারা দুই শিশুকে থামিয়ে সতর্ক করেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রঞ্জিত শীলের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের তীব্র নিন্দা করেন। অনেকেই বলেন, একজন বাবা কখনোই তার সন্তানের বিপদ ডেকে আনতে পারেন না।

অভিভাবকদের প্রতি!

  • নাবালকের হাতে মোটরযান তুলে দেওয়া শুধুমাত্র বেআইনি নয়, এটি তার জীবনের জন্যও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
  • ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে অভিভাবকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • নাবালক সন্তানদের সঠিক পথ দেখানো অভিভাবকদের দায়িত্ব। আইন অমান্য করলে শুধুমাত্র শিশুটি নয়, অভিভাবকেরও শাস্তি হতে পারে।
  • অভিভাবকদের উচিত সচেতন হওয়া এবং নিজেদের সন্তানদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে শিক্ষিত করা।

সকলের প্রতি আহ্বান—নিজের সন্তানকে ভালোবাসুন, দায়িত্বশীল হোন এবং আইন মেনে চলুন!

সতর্কবার্তা!

নাবালকের হাতে মোটরযান তুলে দেওয়া শুধু বেআইনি নয়, এটি তার জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দায়িত্বজ্ঞানহীন কিছু অভিভাবকের কারণে শিশুরা দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারে, যা কখনোই কাম্য নয়। ভারতের মোটর ভেহিকেল আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তি গাড়ি, বাইক বা স্কুটি চালাতে পারে না, এবং এটি লঙ্ঘন করলে অভিভাবকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবুও অনেকেই নিয়ম ভেঙে সন্তানদের হাতে স্কুটি বা বাইক তুলে দিচ্ছেন, যা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।অভিভাবকদের উচিত শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল অভিভাবকের ভূমিকা পালন করা। আইন অমান্য করলে শুধু শিশু নয়, অভিভাবকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নিজের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও সচেতনতা দেখিয়ে তার নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সকল অভিভাবকের দায়িত্ব।About Us

মহাশিবরাত্রির অমৃত কুম্ভস্নানে মন্ত্রী সুশান্ত

মহাশিবরাত্রিতে সমাপ্ত বিশ্বের সর্ববৃহৎ মিলনকুম্ভ!

প্রয়াগরাজে ৪৫ দিন ধরে চলা মহাকুম্ভ, শেষ হলো মহাশিবরাত্রির পবিত্র তিথিতে। শেষ দিনের পূণ্যস্নানে ত্রিবেণী সঙ্গমে জনস্রোত উপচে পড়ল। প্রতি ১৪৪ বছর পর আসা এই মহাকুম্ভে পবিত্র স্নানের বিরল সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি লাখো পূণ্যার্থী। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এবারের মহাশিবরাত্রিতে তৈরি হয়েছিল এক বিরল শুভ যোগ, যা এই মহাকুম্ভের মাহাত্ম্য আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাকুম্ভের শেষ দিনে অমৃতস্নান এক মহাসৌভাগ্যের বিষয়। এই বিশেষ সংযোগে স্নান করলে জীবনের সব বাধা-বিঘ্ন দূর হয় এবং শিবের কৃপালাভ হয়। তাই এদিন লক্ষ লক্ষ ভক্ত প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে সমবেত হয়ে পূণ্যস্নানে অংশ নেন। মহাশিবরাত্রির এই শুভ মুহূর্তে সস্ত্রীক পুন্যস্নান করেন ত্রিপুরার পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি এই ঐতিহাসিক কুম্ভমেলার সাক্ষী থেকেছেন এবং সনাতন সংস্কৃতির পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত এই মহান ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নিজেকে ধন্য মনে করেছেন। এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্য থেকে বহু পুণ্যার্থী, সেখানে গিয়ে স্নান করেছেন।

গত ১৩ জানুয়ারি পৌষ পূর্ণিমার দিন থেকে শুরু হয়েছিল মহাকুম্ভ। দীর্ঘ ৪৫ দিন ধরে চলা এই ধর্মীয় আয়োজন শেষ হয় মহাশিবরাত্রির পুণ্যতিথিতে। এদিন মহাকুম্ভের শেষ স্নান অনুষ্ঠিত হয়, যা সনাতন ধর্মের অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত। জ্যোতিষ মতে, মহাশিবরাত্রিতে এবারের কুম্ভে একাধিক শুভ যোগ তৈরি হয়েছিল। শিব যোগ, সিদ্ধ যোগ, বুধাদিত্য যোগ এবং ত্রিগ্রহী যোগের সমাপতনে এবারের মহাকুম্ভের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে, মীন রাশিতে বুধ, শনি এবং সূর্যের সংযোগ এই সময়ের পূজা-অর্চনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিল।

বিশ্বাস করা হয়, এই শুভ যোগে স্নান ও পূজা করলে সমস্ত মনোস্কামনা পূর্ণ হয় এবং শিব-পার্বতীর কৃপাদৃষ্টি লাভ করা যায়। জ্যোতিষীদের মতে, এই ধরনের বিরল সংযোগে কুম্ভ স্নান করলে বহু গুণে ফল পাওয়া যায় এবং জীবন থেকে সমস্ত বাধা ও দুঃখ দূর হয়। ২০২৫ সালের মহাকুম্ভে প্রায় ৬০ কোটি পূণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ বছর বিভিন্ন দিনে বিশেষ স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে:

  • পৌষ পূর্ণিমা: প্রথম পূণ্যস্নান
  • মকর সংক্রান্তি: প্রথম অমৃত স্নান
  • মৌনী অমাবস্যা: দ্বিতীয় অমৃত স্নান
  • বসন্ত পঞ্চমী: তৃতীয় অমৃত স্নান
  • মাঘ পূর্ণিমা: পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ স্নান
  • মহাশিবরাত্রি: চূড়ান্ত ও সর্বশেষ পূণ্যস্নান

এই ছয়টি বিশেষ স্নানের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা নিজেদের পবিত্র করেছেন এবং মোক্ষ লাভের আশায় অংশগ্রহণ করেছেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, কুম্ভস্নান সমস্ত পাপ ধুয়ে দেয় এবং ব্যক্তি পরম মুক্তি লাভ করে।

কুম্ভমেলার উৎপত্তি পুরাণের সমুদ্রমন্থন কাহিনির সঙ্গে জড়িত। বিশ্বাস করা হয়, অমৃতভাণ্ড বহনকালে দেবরাজ ইন্দ্রের পুত্র জয়ন্ত চারটি স্থানে অমৃতের কয়েক ফোঁটা ফেলে দিয়েছিলেন—প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জয়িনী। তাই এই চার স্থানে পর্যায়ক্রমে কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ সমাপ্ত হলেও ২০২৭ সালে পরবর্তী কুম্ভ অনুষ্ঠিত হবে মহারাষ্ট্রের নাসিকে। ধর্মপ্রাণ ভক্তরা ইতিমধ্যেই সেই কুম্ভের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

মহাশিবরাত্রিতে শিবের আরাধনা ও ব্রত পালন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়, এই রাতে উপবাস রেখে শিবের পুজো করলে জীবনে সকল বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধি আসে। কুম্ভমেলার মতো মহাশিবরাত্রির স্নানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, যাদের কুণ্ডলীতে পিতৃদোষ বা গ্রহ-নক্ষত্রের অশুভ প্রভাব রয়েছে, তারা এই দিনে গঙ্গাস্নান করে তা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তাই মহাকুম্ভের শেষ দিনে মহাশিবরাত্রির স্নান এক বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে।

২০২৫ সালের প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। ধর্মীয় বিশ্বাস, জ্যোতিষশাস্ত্র ও আধ্যাত্মিকতার মিলনে এই মহাকুম্ভ ছিল এক অতুলনীয় আয়োজন। মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীসহ অসংখ্য পূণ্যার্থী এই মহাসমাগমে অংশগ্রহণ করে নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেছেন। আগামী কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালে মহারাষ্ট্রের নাসিকে। ধর্মপ্রাণ মানুষেরা সেই পবিত্র মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, যখন তাঁরা আবারও কুম্ভস্নানে অংশ নিয়ে পবিত্রতার স্পর্শ লাভ করতে পারবেন।About Us

প্রধানমন্ত্রীর "মন কি বাত" শ্রবণে প্রথম স্থান ত্রিপুরার!

প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ শ্রবণে জাতীয় স্তরে শীর্ষস্থান ত্রিপুরার!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ শ্রবণের নিরিখে সারা দেশে প্রথম স্থান দখল করেছে ত্রিপুরা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই বিশেষ অনুষ্ঠান সবচেয়ে বেশি আগ্রহ সহকারে শোনেন ত্রিপুরা রাজ্যের মানুষ। ত্রিপুরার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘মন কি বাত’ শোনার ক্ষেত্রে প্রথম হয়েছে সদর শহরাঞ্চল, দ্বিতীয় সদর গ্রামীণ এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ পিলাক।

ত্রিপুরার মানুষ “মন কি বাত” অনুষ্ঠানকে শুধু শ্রবণই করেন না, বরং তাঁর দেওয়া পরামর্শ ও বার্তাগুলিকে জীবনের বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের চেষ্টাও করেন। শুধু বিজেপি দলীয় উদ্যোগেই এই অনুষ্ঠান শ্রবণ করা হয়, এমন নয়। বহু মানুষ ঘরে বসেই এই অনুষ্ঠান শোনেন।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতি মাসের শেষ রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শুরু করেন। এর দুটি মূল লক্ষ্য ছিল—

  • রেডিও-র জনপ্রিয়তা পুনরুজ্জীবিত করা, যা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল।
  • দেশজুড়ে বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য বিষয় সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা।

ত্রিপুরার বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে একাধিকবার তুলে ধরেছেন। কখনো উনকোটি জেলার কুল চাষের সাফল্যের কাহিনি, কখনো বা করোনা মহামারির সময় গরিবের পাশে দাঁড়ানো ঠেলা চালক গৌতমের মানবিক উদ্যোগ। এছাড়াও, ত্রিপুরার সৌর-গ্রামগুলির উন্নয়নের বিষয়টিও মন কি বাত অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। এই ধরনের বিষয়গুলি জাতীয় স্তরে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গোটা দেশে ত্রিপুরাকে পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন।

একসময় উপেক্ষিত ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চল। কিন্তু কেন্দ্রের ক্ষমতায় মোদী সরকার আসার পর থেকেই এই অঞ্চলের রাজ্যগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এই এলাকার উন্নয়ন এবং সাফল্যের কাহিনিগুলোই মন কি বাত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রিপুরার মানুষের মধ্যে ‘মন কি বাত’-এর প্রতি আগ্রহ দিন দিন বেড়ে চলেছে। রামায়ণ-মহাভারতের মতো এই অনুষ্ঠানও মানুষ মন দিয়ে শোনেন এবং তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

গত রবিবারও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংসদ ও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বরা দেশের প্রধান সেবক মোদির ‘মন কি বাত’ শ্রবণ করেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেশি, যা ত্রিপুরার শীর্ষস্থানে থাকার তথ্যই প্রমাণ করে। ত্রিপুরায় ‘মন কি বাত’-এর জনপ্রিয়তা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি রাজ্যের জনমানসে এক গভীর প্রভাব ফেলছে, যা ভবিষ্যতে আরও প্রসার লাভ করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।About Us

সিপিআইএমের নতুন রাজনীতি!

বিজেপির দিকে ঝুকছে সিপিআইএমের কেরল লভী!

কেরালার বাম ফ্রন্টের মধ্যে সম্প্রতি উঠে এসেছে সিপিআইএমের নতুন রাজনৈতিক বার্তা। দলের এই বার্তায় বিজেপিকে সরাসরি ‘ফ্যাসিবাদী’ দলের তালিকায় না তুলে, বরং নরেন্দ্র মোদির সরকারের কাজকর্মের তুলনায় কিছু নব্য-ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। এ বার্তার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বামপন্থী সংগঠনের মধ্যে কিছু প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, কেমন হবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমঝোতা ও কীভাবে দলীয় কৌশলে এই পরিবর্তন প্রভাব ফেলবে।

রাজনৈতিক প্রস্তাব!

সিপিআইএম সম্প্রতি তার দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি নোট প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে—”এখনই বিজেপি বা নরেন্দ্র মোদিকে ফ্যাসিবাদী বলা যাবে না।” এই বক্তব্যটি দলের প্রাক-পার্টি কংগ্রেসের আগে প্রকাশিত হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য একটি নতুন কৌশল। দলের এই বার্তায় তাদের পক্ষপাতিত্ব ও আদর্শগত মুখপত্রে সাম্প্রতিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে।

প্রতিক্রিয়া!

দলের নতুন অবস্থান নিয়ে বিশেষ করে সিপিআই ও সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাথে তাদের মূল শরিকের বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। কেরালার বাম ফ্রন্টের সাধারণ নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষ করে কংগ্রেস ও অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ দল গুলি, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। একদিকে যখন সিপিআইএম সমালোচকরা মনে করছেন যে, একদিকে দলের এই নতুন নীতি বিজেপির থেকে সরাসরি সমর্থন পাওয়ার জন্য, অপরদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বিজেপি ও সিপিআইএমের গোপন সম্পর্কের কথা সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক ইতিহাস!

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কেরালায় বিজেপি ও বাম দলগুলোর মধ্যে জটিল সম্পর্কের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯৬ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ীর সংক্ষিপ্ত মেয়াদ এবং পরবর্তীতে ১৯৯৮-২০০৪ সাল পর্যন্ত তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়কাল, রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিরোধের নানা দিক তুলে ধরেছে। এসব প্রেক্ষাপটে সিপিআইএমের বর্তমান বার্তা, বিজেপিকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বা ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত না করে, দলের রাজনৈতিক কৌশলের একটি নতুন দিক নির্দেশ করে।

ত্রিপুরার প্রেক্ষাপট!

ত্রিপুরার মতো রাজ্যে, যেখানে রাজনৈতিক অবস্থান ও সমর্থনের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এই ধরনের বার্তা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলো ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সাথে বিজেপির বিরোধিতার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে সিপিআইএমের এই নীতি পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা সমঝোতার সম্ভাবনা উভয়ই সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী, যদি এ পরিবর্তিত রণনীতি দলীয় কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও সুসংহত কৌশলের সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ২০২৬ সালের নির্বাচনে নতুন সমঝোতার সূচনা করতে পারে।

শেষ কথা!

সিপিআইএমের এই নতুন বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে, দলের রাজনৈতিক রণনীতি ও কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিজেপি ও সিপিআইএমের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে কেরালার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যে কী ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। ত্রিপুরার সাধারণ জনগণ ও রাজনীতিবিদরা এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশের উপর নিবিড় দৃষ্টি রাখছেন, যা ভবিষ্যতে সমগ্র দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।About Us

সরকারের সাফল্য!

বিরোধীদের বিভ্রান্তি; সরকারের পাল্টা তথ্য প্রকাশ!

সরকারের সাড়ে ৬ বছরে সাফল্য তুলে ধরে আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য বিজেপি, এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রাজ্যের যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে এবং সরকারপক্ষ দাবি করেছে, গত সাড়ে ছয় বছরে রাজ্যে ২২ হাজারেরও বেশি সরকারি চাকরি প্রদান করেছে, এবং ভবিষ্যতে আরও ১৫ হাজার চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে

সরকারের মুখপাত্র জানান, ক্ষমতায় আসার পর থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ইতিমধ্যেই ২২ হাজারেরও বেশি নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, আরও চার হাজার পদে নিয়োগ শীঘ্রই হবে এবং নতুনভাবে ৮ হাজার পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, স্কিল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে ৪০৬৭ জনকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, স্ব-সহায়ক দলের সংখ্যা আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের সময় যেখানে সাড়ে চার হাজার স্ব-সহায়ক দল ছিল, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে ৫৩ হাজারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, রাজ্যে বর্তমানে ৫১ হাজারের বেশি মানুষ বার্ষিক লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন, যা অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রমাণ।

মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক বন্যার সময় দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের সহযোগিতায় ৪০ কোটি টাকার প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫৬৪ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করে। এছাড়া, পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত ২৮৮.৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

সরকারপক্ষের দাবি, যখন কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে জনগণের জন্য কাজ করছে, তখন বিরোধী দলগুলো মিথ্যা প্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিরোধীরা সাধারণ মানুষের আর্থিক সহায়তাকে ‘ভিক্ষা’ বলে অপমান করছে, যা নিন্দনীয়।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যমন্ত্রিসভা ৩১৫টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে, এবং বিরোধীদের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষই সঠিক জবাব দেবে।About Us

ন্যায়বিচারের দাবি

SHBI ইট ভাট্টার শ্রমিকরা ন্যায়বিচার না পেয়ে বিচারপতির শরণাপন্ন!

নিজের পরিশ্রমের ন্যায্য পাওনা চাইতে গিয়ে নির্মম অত্যাচারের শিকার হতে হলো একদল নিরীহ শ্রমিককে। বিহার রাজ্যের এই বহিরাগত শ্রমিকরা ত্রিপুরার বিশালগড়ের পুটিয়া রহিমপুর এলাকায় SHBI ইটভাটায় কাজ করছিলেন। কিন্তু যখন তারা তাদের প্রাপ্য পারিশ্রমিকের দাবি জানান, তখনই শুরু হয় ভয়ঙ্কর নির্যাতন।

অভিযোগ উঠেছে, ইটভাটার মালিক সেলিম মিয়া ও মনির হোসেনের নির্দেশেই শ্রমিকদের উপর শারীরিক আক্রমণ চালানো হয়। শুধু তাই নয়, তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টে শ্রমিকদের উপরই দমন-পীড়ন চালিয়েছে স্থানীয় কলমচৌড়া থানার কিছু পুলিশকর্মী।

অসহায় শ্রমিকরা যখন দেখেন যে পুলিশের কাছ থেকেও ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়, তখন তারা শেষ পর্যন্ত বিশালগড় মহকুমা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতে বিচারপতির কক্ষে গিয়ে তারা নিজেদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন। মুহূর্তের মধ্যেই আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত বিশালগড় থানার পুলিশ ও TSR বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কেন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করা হলো? কেন প্রশাসন শ্রমিকদের পাশে না দাঁড়িয়ে অত্যাচারীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে? এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই ঘটনার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয় এবং নির্যাতিত শ্রমিকরা আদৌ ন্যায়বিচার পান কিনা।About Us

মাধ্যমিক ফেল বিধায়ক

বক্সনগর বিধায়কের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হলে অনধিকার প্রবেশ!

ত্রিপুরার বক্সনগর বিধানসভার বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই তিনি নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে পরীক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করেছেন বলে অভিযোগ। সাধারণত পরীক্ষার হলে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারেন না, এমনকি অভিভাবকদেরও নিষেধাজ্ঞা থাকে। তবে বিধায়কের আচরণে সেই নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলাকালীন রাজনৈতিক নেতাদের প্রবেশ সাধারণত বিরল ঘটনা। কিন্তু বক্সনগরের নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের অনধিকার প্রবেশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তিনি পরীক্ষা শুরুর আগেই হলে ঢুকে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের হাত তুলিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথোপকথন করেন, যা পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশে ব্যাঘাত ঘটায়। এমনকি, তাঁর কথাবার্তায় পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিধায়কের নিজস্ব শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি নিজেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সেই ব্যক্তি কীভাবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পরামর্শ দিতে পারেন, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এক শিক্ষার্থী কটাক্ষ করে বলেন, “যিনি নিজেই মাধ্যমিক পাশ করেননি, তিনি আমাদের কী শেখাতে এলেন?”

পরীক্ষা হলে উপস্থিত হয়ে বিধায়ক পরীক্ষার্থীদের বলেন, “ভালোভাবে পরীক্ষা দাও, মুখ্যমন্ত্রী, আইএএস, আইপিএস হতে হবে!” এমনকি তিনি শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে মুখ ফসকে ‘গুডলাক’ এর বদলে ‘ব্যাডলাক’ বলে ফেলেন, যা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে হাস্যরস ছড়িয়ে পড়ে। যদিও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই তাঁর কথায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

এই অনধিকার প্রবেশের ঘটনায় শিক্ষা দপ্তর ও ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, পরীক্ষা হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও অনুমতি দেওয়া হয় না। তাহলে একজন বিধায়ক কীভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করলেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে বিধায়ক যে কাজ করেছেন, তা শুধুমাত্র দায়িত্বজ্ঞানহীন নয়, বরং এটি একপ্রকার রাজনৈতিক প্রচারের অংশ। বিজেপি সরকারের আমলে নেতামন্ত্রীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে নিজেদের প্রচার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা পরীক্ষার হলে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে, আর সেখানে বিধায়ক এসে পরামর্শ দিতে গিয়ে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করলেন! এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে।” শিক্ষকদের একাংশও মনে করছেন, পরীক্ষার হলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রবেশ বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ে এবং পরীক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়।

এই ঘটনায় বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষামহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।অভিভাবক ও শিক্ষকদের দাবি, ভবিষ্যতে এই ধরনের অনধিকার প্রবেশ বন্ধ করা হোক এবং পরীক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা হোক। এখন দেখার, শিক্ষা দপ্তর ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।About Us