সন্ত্রাসীদের পেছনে শুধু একটিই ধর্ম

বিশ্ব সন্ত্রাসের ইতিহাসে শুধু নির্দিষ্ট একটি ধর্মের নামই ঘুরে ঘুরে আসে কেন?

জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটনস্থল পহেলগাঁওে ফের রক্তাক্ত হল ভারতের মাটি। পাকিস্তানে অস্ত্র প্রশিক্ষিত দুই স্থানীয় সহ ছয় সশস্ত্র জঙ্গির গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৮ জন নিরীহ হিন্দু পর্যটকের। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে জানা যায়, জঙ্গিরা পর্যটকদের ধর্ম জানতে চায় এবং যাঁরা হিন্দু হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন, তাঁদের ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। মুসলিম পর্যটকদের কোন ধরনের হয়রানি বা ক্ষতি করেনি জঙ্গিরা।

এই বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার পর তথ্য উঠে আসছে, হামলার মূল পরিকল্পনাকারীরা পাকিস্তানেরই মদতপুষ্ট। ভারতীয় গোপন সংস্থা জানিয়েছে, দুই জঙ্গি কাশ্মীরের হলেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় তারা পাকিস্তানের অস্ত্র প্রশিক্ষণ পেয়েছে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশে করেছে। পাকিস্তান সরকারের তরফে হামলার দায় অস্বীকার করা হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিশ্চিত যে পাকিস্তানই এই হামলার মদদদাতা।

এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই কোন ‘শান্তির ধর্ম’? বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বড় বড় প্রায় সব জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে মুসলিম চরমপন্থীদের যোগসূত্র আছে। ৯/১১-র আমেরিকার হামলা হোক, ২৬/১১-র মুম্বাই হামলা কিংবা বুরকিনা ফাসোর বিস্ফোরণ—প্রতিটি ঘটনার মূল চরিত্র ইসলামি চরমপন্থী সংগঠন। একাধিক বিশ্লেষক বলছেন, “এই ঘটনাগুলির পেছনে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু সন্ত্রাসী নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট চিন্তাধারার ধারাবাহিক ইতিহাস রয়েছে—যেখানে ধর্মের নামে অপর ধর্মাবলম্বীদের হত্যা বৈধ বলে মনে করা হয়।” মুঘল আমলের ইতিহাসেও তার ছাপ স্পষ্ট। অযোধ্যা থেকে কাশ্মীর, কোচবিহার থেকে কাবুল—হিন্দু মন্দির ভাঙা ও হত্যা ছিল ইসলামি সাম্রাজ্যবাদের অন্যতম কৌশল।

প্রশ্ন উঠছে—”যদি ইসলাম শান্তির ধর্মই হয়, তবে কেন সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে বারবার মুসলিম পরিচয় উঠে আসে?” মক্কা থেকে মোগল, আল কায়েদা থেকে হিজবুল, তালিবান থেকে জইশ—সব ক্ষেত্রেই ইসলামি ভাবধারার জঙ্গিরা হিংসার পথ বেছে নিয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া—সব দেশে একই চিত্র। এক প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “শান্তির নামে মানুষ মারার যে ধর্মীয় যুক্তি দেওয়া হয়, তা সন্ত্রাসবাদের সূক্ষ্ম মৌলিক রূপ।” ইতিহাস বলে, অমুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও হত্যার অধিকার মুসলিম সাম্রাজ্যবাদ বারবার প্রচার করেছে। এটাই আজকের জঙ্গিবাদের মূল প্রেরণা।

এই হামলার পরে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, আমেরিকা ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিলেও বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। কোনও শোকবার্তা, নিন্দা বা সমবেদনা পর্যন্ত প্রকাশ করেনি ঢাকার তরফে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতা নিছক কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী। কিছু সূত্র বলছে, বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ইসলামি সন্ত্রাসবাদীদেরি প্রতিনিধি তাই এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতি নরম মনোভাবাপন্ন। চীন সফরকালে বাংলাদেশের বেআইনি ও জোরপূর্বক ক্ষমতায় আসীন বর্তমান সরকারের প্রতিনিধি সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে “সিলিগুড়ি করিডোর দখল করে উত্তর-পূর্ব ভারত বিচ্ছিন্ন করার সম্ভাবনা” নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং চীনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এই অংশের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে। এই অভিযোগ সত্য হলে তা বাংলাদেশের সরাসরি ভারত-বিরোধী ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে।

দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, ত্রিপুরা থেকে গুজরাত—সব প্রান্তেই মানুষ একবাক্যে বলছে: এবার সময় এসেছে পাকিস্তানকে জবাব দেওয়ার। ত্রিপুরা সহ গোটা দেশের হিন্দু সংগঠনগুলি প্রতিবাদে ফেটে পড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, মোমবাতি মিছিলের ঢল নেমেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সেনা কর্তারা একমত যে এবার পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দিতে হবেই। কাশ্মীর সহ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ভারতের জনগণ ক্ষোভে ফুঁসছে এবং দাবি উঠছে পাকিস্তান ও তার সেনাবাহিনীকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার। ভারতীয় সেনা ও সরকারের প্রতি সারা দেশের আবেদন, এই হামলার বদলা নিতেই হবে।

সরকারের এক উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানানো হয়েছে, “ভারত অবশ্যই জবাব দেবে। তবে; কবে, কোথায় এবং কীভাবে, তা পাকিস্তান ভাবতেও পারবে না। কিন্তু পাকিস্তান এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য চরম মূল্য চোকাবে।” বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK) পুনর্দখলের দাবিও এখন জোরালো হচ্ছে। ভারতের জনগণের ধৈর্য সীমা ছাড়িয়েছে। সময় এসেছে সন্ত্রাসবাদের রক্তক্ষয়ী রাজনীতির বিরুদ্ধে ভারতকে আবার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

পাকিস্তানের এই বর্বর হামলা শুধু ২৮ জন নিরীহ পর্যটকের জীবন কেড়ে নেয়নি, গোটা দেশকে ক্ষোভে, শোকে এবং জেদে উজ্জীবিত করেছে। এই ঘটনা আবার প্রমাণ করল—”সন্ত্রাসবাদের শিকড় যেখানেই থাকুক, মুখে ধর্মের কথা বলে যারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করে, তারা শান্তির দূত হতে পারে না, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসের প্রতীক।” কূটনৈতিক দের মতে ভারত এবার শুধু অপেক্ষা করছে সঠিক সময়ের। আর পাকিস্তান? তারা ভাবতেও পারবে না কখন, কোথা থেকে, কীভাবে আসবে ভারতের জবাব—কিন্তু জবাব আসবে এই ব্যাপারে তারাও নিশ্চিত।About Us

গরু পাচারে ফুলে ফেঁপে উঠছে পাচার চক্র

রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফুলেফেঁপে উঠছে গরু পাচার; বেপাত্তা গো-রক্ষক বাহিনী!

ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী এলাকায় গরু পাচার বানিজ্য এখন কোটি টাকার অবাধ কারবারের রূপ নিয়েছে। একসময় যাঁরা “গোমাতা রক্ষার” নামে রাজপথ কাঁপিয়েছিলেন, আজ তাঁরা যেন উধাও। প্রশাসনের নিরব ভূমিকা, রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগ এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

গরু পাচার ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মন্ডলের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে ২৫ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। সেই ঘটনা তোলপাড় তুলেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। অথচ বিজেপি শাসিত ত্রিপুরাতেও অনুরূপ চিত্র উঠে এলেও এখানকার প্রশাসন কার্যত নিশ্চুপ। প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গে যদি এই ধরনের পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও রাজনীতি সরব হয়, তবে ত্রিপুরায় তা হবে না কেন?

প্রতিদিন কমলাসাগর ও বিশালগড় বিধানসভা কেন্দ্র হয়ে শত শত গরু বোঝাই গাড়ি ভারতের অভ্যন্তর থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে। পুটিয়া, কামথানা ও রহিমপুর সীমান্তপথ হয়ে এই পাচার নিয়মিত চলছে বলে অভিযোগ। অথচ পুলিশ বা বিএসএফের তৎপরতা প্রায় শূন্য। এক সময়ের ‘গো রক্ষক বাহিনী’-র সদস্যদের এখন আর ময়দানে দেখা যায় না।

গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বক্সনগর বিধানসভা কেন্দ্রের এক রাষ্ট্রবাদী নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুলাল নামক এক চিহ্নিত পাচারকারী বর্তমানে এই পাচার বানিজ্যের মূল চালক। পুটিয়া, রহিমপুর এবং কামথানা সীমান্ত এলাকা তার নিয়ন্ত্রণে। প্রতি গাড়ি গরুর জন্য মোটা অঙ্কের ‘প্রণামী’ দিতে হয় দুলালকে, যার একাংশ নাকি বক্সনগরের “দাদা”-র পকেটেও যায়। অভিযোগ রয়েছে, দুলাল কার্যত সেই নেতার হয়ে কাজ করেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকা মাফিয়াদের তিনটি স্তরে প্রণামী দিতে হয়।

  • বিশালগড় এলাকার নেতাদের দিতে হয় মাসিক ৭ লক্ষ টাকা।
  • কমলাসাগর এলাকার মন্ডল নেতারাও মাসে ৫ লক্ষ টাকা করে নেন এই ব্যবসা থেকে।
  • খবরের প্রকাশ বাকি প্রণামী ভাগ করে নেন বক্সনগর নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহল।

স্থানীয়দের মধ্যে এই চক্র সম্পর্কে জানা‌ থাকলেও কেউ মুখ খুলছেন না, কারণ ভয় এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা প্রবল। গরু পাচার নিয়ে শাসকদলের অন্দরে স্পষ্টভাবে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। একাংশ নেতা-কর্মী প্রশ্ন তুলছেন—২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার আগে গরু রক্ষার নামে পথে নামা দল এখন কেন নিশ্চুপ? তখন বাইক মিছিল, গরু বোঝাই গাড়ি আটক, এমনকি সংঘর্ষে গাড়ি চালক আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। অথচ এখন প্রশাসন এবং দল দু’পক্ষই চোখের সামনে পাচার চললেও চুপচাপ দর্শকের ভূমিকা অবতীর্ণ।

এই নীরবতার পেছনে কোটি টাকার ‘প্রণামী ভাগ’ই কি দায়ী? স্থানীয়দের মতে, এই পাচার বানিজ্য থেকে যে মোটা টাকা আসে, তা থেকেই একাংশ নেতা রাতারাতি অর্থসম্পদে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি এবং ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন বলে অভিযোগ।

দলের অভ্যন্তরেই এই ইস্যুতে সৃষ্টি হয়েছে গোষ্ঠী কোন্দল। একাধিক নেতা এই অবৈধ বানিজ্য বন্ধের দাবি তুলছেন। অন্যদিকে যারা এই কারবারে যুক্ত, তারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দমনপীড়নের আশ্রয় নিচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। গো-রক্ষার নামে রাজনীতি করা দলকে আজ এই ইস্যুতেই ভেঙে পড়তে হতে পারে—এমন মতামত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

ত্রিপুরার গরু পাচার ইস্যু এখন শুধু একটি সীমান্ত সমস্যা নয়, বরং তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই কোটি টাকার পাচারচক্রে প্রশাসন আদৌ পদক্ষেপ নেয় কি না, নাকি “প্রণামী” আর প্রভাবের জোরেই এই বানিজ্য চলতেই থাকবে।About Us

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রতারণা

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও কর্মসংস্থানের অভাবে পাহাড় ছাড়ছে তিপরাসারা!

ডাবল ইঞ্জিন এবং ত্রিপল ইঞ্জিনের সরকারের আমলেও রাজ্যের বেকার যুবসমাজের প্রতি প্রতারণার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। ঢাকঢোল পিটিয়ে শূন্য পদে নিয়োগের ঘোষণা করা হলেও, বছর পর বছর ধরে সেই প্রক্রিয়া ঝুলে থাকছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হলেও ফলাফল প্রকাশ হতে সময় লেগে যাচ্ছে দুই থেকে তিন বছর। তার পরেও নিয়োগ স্থগিত করা হচ্ছে বা বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।

এই চিত্র বিশেষভাবে স্পষ্ট এডিসি (ADC) পরিচালিত দপ্তরগুলিতে। গত দুই-তিন বছরে একাধিক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও অধিকাংশ পদে এখনও নিয়োগ হয়নি। ২০২৩ সালে এডিসি প্রশাসন মোট ৩৮টি জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, ২০টি পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ২১টি এগ্রিকালচার অফিসার পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আরও ১১০টি সাব-জোনাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এইসব পদে আবেদন নেওয়া হয় অফলাইনে। আবেদনপত্র জমার সময় সাধারণ শ্রেণির প্রার্থীদের থেকে নেওয়া হয় ৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি প্রার্থীদের থেকে ৩৫০ টাকা করে। এর ফলে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী তপ্ত রোদ ও গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দেন।

পরবর্তী সময়ে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও এগ্রিকালচার অফিসার পদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হলেও সাব-জোনাল অফিসার পদের পরীক্ষা ঘিরে দেখা দেয় একাধিক কেলেঙ্কারি। অভিযোগ, পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এই ঘটনায় মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে পরীক্ষা স্থগিতের দাবি তোলেন। পরবর্তীতে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয় এবং লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

পরীক্ষার ফলাফল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকাশ করা হলেও শুরু হয় নতুন বিতর্ক। ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর এডিসি প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, যাঁদের সন্দেহ আছে তাঁরা অফিসে গিয়ে মার্কশিট দেখতে পারবেন—এই সময়সীমা ছিল এক মাস। কিন্তু এরপরও সাত-আট মাস কেটে গেলেও ইন্টারভিউয়ের কোনও হদিশ নেই। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, সাব-জোনাল অফিসার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিটি পদের জন্য চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। অনেকের কাছে সরাসরি ঘুষের প্রস্তাবও এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরীক্ষা বাতিল হলেও কোথাও কোনও ফি ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। রাজ্য বিধানসভা থেকে শুরু করে ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অনেক পরীক্ষাও বাতিল হয়েছে, কিন্তু কখনও ফি ফেরত দেওয়া হয়নি। আবেদন ফি আদায় করে বছরের পর বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখার ফলে বেকারদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের তিপরাসা যুবক-যুবতীরা কর্মসংস্থানের আশায় অন্য রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। কেউ দিনমজুর, কেউ দোকানে কর্মচারী, কেউ আবার ছোটখাটো হোটেলে কাজ করছেন। শুধু বাইরের রাজ্য নয়, আগরতলা শহরের নানা দোকানেও পাহাড়ি যুবকদের কর্মচারী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। যাঁদের উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেট রয়েছে, তাঁরাও এখন দিন হাজিরা খাটতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে কর্মসংস্থানের অভাব ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুর্নীতিতে পাহাড়ি সমাজে এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে ভঙ্গুর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, অন্যদিকে দীর্ঘসূত্রিতা ও ঘুষের বাজার—সব মিলিয়ে রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের ভবিষ্যৎ ধূসর হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন উঠছে—আর কত বছর লাগবে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে? নিয়োগ পরীক্ষা শেষ, ফল প্রকাশও হয়ে গেছে। কিন্তু এরপরেও ইন্টারভিউ নয়, নিয়োগপত্র তো দূরের কথা—প্রক্রিয়া শেষ হবে কবে? যে চাকরির স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার যুবক দিন কাটাচ্ছে, তাদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।About Us

জনসংযোগে বিজেপির শীর্ষ নেতারা

কেন্দ্রের নির্দেশে রাজ্যে শুরু বিজেপির জনসংযোগ অভিযান!

বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রের কড়া নির্দেশে রাজ্যে শুরু হয়েছে দলীয় জনসংযোগ কর্মসূচি এবং “গ্রাম চলো অভিযান”। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি, যা আগামী কয়েক দিন জুড়ে চলবে। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সাংসদ, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

সোমবার বামুটিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গান্ধীগ্রামে গ্রাম চলো অভিযানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। তিনি সেখানে গ্রামসভায় অংশগ্রহণ করেন, স্থানীয় মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন এবং স্বচ্ছ ভারত অভিযান ও একটি অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অন্যদিকে, প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রে জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও আগরতলার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা, তাদের সমস্যা শুনে তার সমাধানের চেষ্টা করা এবং সংগঠনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংযোগকে আরও মজবুত করা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট বার্তা—এই জনসংযোগ কার্যক্রমকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। তবে, বিরোধীদের অভিযোগ—ভোটের মুখে পড়লেই বিজেপি জনসংযোগের কথা মনে রাখে, কিন্তু সারা বছর মানুষের পাশে থাকে না। বিশেষ করে ২০১৮ সালে দলের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করা পৃষ্ঠা প্রমুখদের অনেকেই আজ উপেক্ষিত। একসময়ে যাঁদের কাঁধে ভর করে দল ক্ষমতায় এসেছিল, সেই পৃষ্ঠা প্রমুখদের অনেকেই আজ অভিমানে দল ছেড়েছেন বা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। সাত বছরে শাসনকালে তাঁদের খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি কেউ।

এছাড়াও, তৃণমূল স্তরের মণ্ডল কমিটিগুলির বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন দলেরই এক শ্রেণীর নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রকল্প থেকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অনেক মণ্ডল নেতা সরাসরি কমিশন নিচ্ছেন। তবু আজ পর্যন্ত দলের তরফে এদের বিরুদ্ধে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে, সাত বছরের শাসনে দলবিরোধী হাওয়া ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় ফেরা এবং পরবর্তী সময়ে দুটি লোকসভা আসন ধরে রাখার সাফল্য দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও, সংগঠনের ভিত যে দুর্বল হয়ে পড়েছে তা মেনে নিচ্ছেন অনেকেই।

নিন্দুকদের কথায়, “যে সংগঠন একদিন গড়েছিলেন পৃষ্ঠা প্রমুখরা, সেই সংগঠন আজ তলানিতে। বিজেপি যেন এখন এক তাসের ঘর, যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে।” এই প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জোর দিচ্ছে ‘জনসংযোগ’ নামক রাজনৈতিক অস্ত্রে। গৃহে গৃহে গিয়ে জনমত সংগ্রহ, সমস্যার বাস্তব চিত্র জানা ও তার সমাধানে মনোনিবেশ করাকেই পাখির চোখ করছে দল।

এখন দেখার বিষয়, প্রতিষ্ঠা দিবস ঘিরে শুরু হওয়া এই জনসংযোগ কর্মসূচি সত্যিই তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারে কিনা, নাকি আবারও ভোটের পর সব শান্ত হয়ে পড়বে—যেমনটা অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা। এদিকে দলের অন্দরে এখন কার্যত ব্যস্ততার চূড়ান্ত পর্যায়। জনসংযোগ কর্মসূচিকে সফল করতে প্রতিটি মণ্ডলে পরিকল্পনা মোতাবেক রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। বিজেপির সংগঠনিক শক্তি কতটা পুনর্জীবিত হয়, তা স্পষ্ট হবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।About Us

সংশোধনাগারগুলিতে পরিকাঠামোগত সংকট

সংশোধনাগারগুলিতে অমানবিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রবল!

ত্রিপুরা রাজ্যের সংশোধনাগারগুলি এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, কোনো সংশোধনাগারে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি বন্দী রাখা যাবে না। তবুও বাস্তব পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। রাজ্যের ১৪টি সংশোধনাগারের মধ্যে ১টি (সাব্রুম) বন্ধ, বাকি ১৩টি সংশোধনাগারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দী থাকছেন। পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, কর্মী সংকট এবং নজরদারির অভাবে কারাগারগুলিতে তৈরি হয়েছে ভয়ঙ্কর অব্যবস্থা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি।

বিশালগড়ের প্রভুরামপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মহিলা সংশোধনাগারে ২৫ জন বন্দীর থাকার অনুমোদন রয়েছে। অথচ সেখানে এখন রাখা হচ্ছে ১১৩ জন মহিলা বন্দীকে। জায়গার অভাবে গাদাগাদি করে দিন কাটাচ্ছেন বন্দীরা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বন্দীদের সঙ্গে থাকা প্রায় ৩০ জন শিশুও এই পরিবেশে দুর্দশা সহ্য করছে, যদিও তারা কোনো অপরাধে জড়িত নয়। ত্রিপুরার অন্যান্য জেল ও সাবজেলগুলিতেও একই ধরনের অবস্থা:

  • খোয়াই সাবজেল: ধারণক্ষমতা ১২১ জন, বর্তমানে ১২২ জন বন্দী।
  • সোনামুড়া সাবজেল: ধারণক্ষমতা ১২৫ জন, বর্তমানে ১৭০ জন বন্দী।
  • বিলোনিয়া সাবজেল: ধারণক্ষমতা ৮৫ জন, রাখা হয়েছে ৯০ জন।
  • কৈলাসহর, কমলপুর, উদয়পুর সহ আরও বেশ কিছু জেলেও অনুমোদনের চেয়ে বেশি বন্দী রাখা হচ্ছে বলে খবর।

বেশিরভাগ জেলখানাই মান্ধাতার আমলের পুরনো ভবন। বহু জায়গায় প্লাস্টার খসে পড়ছে, দেয়ালে ফাটল, বাথরুম-জল ব্যবস্থা অকেজো। একমাত্র সাবরুমের জেলখানাটি সংস্কার করা হয়েছে, বাকি কোথাও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। এই পরিকাঠামো বন্দীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে পুরনো জেল ভবন থেকে বিচারাধীন বন্দীদের পালানোর ঘটনা ঘটেছে। যদিও বিধানসভায় জানানো হয়েছে, জেল প্রাঙ্গনের ভিতর থেকে পালানোর কোনও রেকর্ড নেই, কিন্তু আদালতে আনা-নেওয়ার সময় বন্দী পালিয়েছে, যা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় ব্যর্থতা।

ত্রিপুরার ১৩টি সক্রিয় সংশোধনাগারে মাত্র ৩০১ জন কর্মী, যার মধ্যে পুরুষ ওয়ার্ডেন ২৮৭ জন এবং মহিলা ওয়ার্ডেন মাত্র ১৪ জন। এই সামান্য সংখ্যক মহিলা কর্মী দিয়ে গোটা রাজ্যে বন্দিনীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মনোভাব উন্নয়ন—সব কিছুই সামাল দেওয়া কার্যত অসম্ভব। গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে কারা দপ্তরে কোনও স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। ভোটের আগে ২৪৯ জন পুরুষ ওয়ার্ডেন নিয়োগের ঘোষণা হলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

স্থায়ী কর্মী না থাকায় অনেক কাজ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। এতে নজরদারির ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, বাড়ছে দুর্নীতির সম্ভাবনা। জেলখানাগুলিতে নেশাজাতীয় দ্রব্য ঢুকছে, যা একাধিকবার ধরা পড়েছে। বন্দীদের ওপর নজরদারি রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। রাজ্য মানবাধিকার কমিশন বিভিন্ন সময়ে জেলখানাগুলি পরিদর্শন করেছে। তাদের রিপোর্টে উঠে এসেছে বন্দীদের গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে, শিশুরা মায়ের সঙ্গে জেলজীবন কাটাচ্ছে, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও খাবার ব্যবস্থা, এবং অপ্রতুল কর্মীবল—এই সবই মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে।

বিধানসভায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ১৩টি সক্রিয় সংশোধনাগারে মোট ২৩০৩ জন বন্দীর থাকার উপযুক্ত পরিকাঠামো রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক সংশোধনাগারেই তার চেয়ে বেশি সংখ্যক আসামীকে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে। ত্রিপুরার সংশোধনাগার ব্যবস্থায় যে ভয়াবহ পরিকাঠামোগত সংকট ও কর্মী সঙ্কট চলছে, তা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। শিশু, মহিলা বন্দী, বিচারাধীন বন্দী—সবাই একইভাবে দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছেন। দ্রুত নতুন জেল নির্মাণ, কর্মী নিয়োগ, স্বাস্থ্য ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং আইনি নজরদারি না এলে রাজ্যের সংশোধনাগার ব্যবস্থা এক ভয়ঙ্কর সংকটের মুখোমুখি হবে—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।About Us

আগ্নেয়াস্ত্র সহ পুলিশের জালে ধৃত কট্টর জঙ্গি

উত্তর ত্রিপুরায় ফের সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন, আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধৃত কট্টর জঙ্গি নেতা!

উত্তর ত্রিপুরার আনন্দবাজার এলাকায় বড়সড় সাফল্য পুলিশের। আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এক কট্টর জঙ্গি সংগঠনের নেতাকে গ্রেপ্তার করল জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী ভান্ডারিমার সেতুদুয়ার জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতের নাম অনিদা রিয়াং (৩৫), যিনি একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত এন.এল.এফ.টি (NLFT) জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। বর্তমানে সে ‘ত্রিপুরা ইউনাইটেড ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ (TUNF) নামে এক নতুন সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠনের নেতা।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, আনন্দবাজার থানার অধীনস্থ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের গহীন জঙ্গলে টংঘরের ভিতরে আত্মগোপন করেছিল অনিদা। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও নজরদারির পর শনিবার রাতে পুলিশের বিশেষ বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, একাধিক লাইভ কার্তুজ, এবং চাঁদা আদায়ের রশিদ বই।

ধৃত জঙ্গির বিরুদ্ধে আনন্দবাজার থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীকে হত্যার চেষ্টা, অপহরণ, ঠিকাদারদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়, অস্ত্র আইন লঙ্ঘন, এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা। ধৃতকে কড়া নিরাপত্তায় কাঞ্চনপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে চারদিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। এস.ডি.জে.এম আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। বর্তমানে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো গোপন তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই এলাকায় আরও বেশ কয়েকজন জঙ্গির লুকিয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গোটা সীমান্ত অঞ্চলে জোর তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় গোটা উত্তর ত্রিপুরা জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মাঝে মধ্যে কিছু জঙ্গি সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও এখনো সীমান্তবর্তী গভীর জঙ্গলে সক্রিয় রয়েছে কট্টর জঙ্গি সংগঠনের নেতারা। পুলিশ ও গোয়েন্দা মহল মনে করছে, এই ঘটনার মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো যে জঙ্গিদের কার্যকলাপ এখনো পুরোপুরি নির্মূল হয়নি

উল্লেখ্য, ত্রিপুরার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপের আখড়া হিসেবে পরিচিত। ফলে এই গ্রেফতার ভবিষ্যতে বড় কোনো হামলা রোখার দিকেও এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।About Us

গুজরাটে নিখোঁজ ত্রিপুরার যুবক কালাচান ত্রিপুরা

গুজরাটে নিখোঁজ কালাচান ত্রিপুরার পরিবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছে সাহায্যের আশায়!

ত্রিপুরার দক্ষিণ প্রান্তের এক নিঃস্ব পরিবার আজ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। কারণ, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য কালাচান ত্রিপুরা (২৩) প্রায় এক মাস আগে গুজরাটে কর্মক্ষেত্র থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। আজও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পুলিশ ও প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকার কারণে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন পরিবার-পরিজন।

কালাচান ত্রিপুরা দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার বাসিন্দা। তিনি জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিলেন গুজরাট রাজ্যের ভালসাদ জেলার উমরগাঁও অঞ্চলে, যেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, ৬ মার্চ তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং সহকর্মীদের জানান যে তিনি বাড়ি ফিরতে চান। সেই অনুযায়ী রেলস্টেশনের দিকে রওনা দেন বলেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

৭ মার্চ থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে গুজরাটে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সাব্রুম থানাতেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি তাদের আওতার বাইরে, তাই তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। অপরদিকে গুজরাটের উমরগাঁও থানার সঙ্গে পরিবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সদুত্তর মেলেনি।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, “আমরা এক মাস ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে যাচ্ছি। কোনো পুলিশ আমাদের সাহায্য করছে না। রাজ্য সরকার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি।” এমনকি, এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা অরাজনৈতিক সংগঠনও তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। ফলে, একেবারে ভেঙে পড়েছেন কালাচানের বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে গুজরাটে বারবার যাওয়া, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কিংবা আইনি সহায়তা নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের প্রশাসন কীভাবে এতটা নির্লিপ্ত থাকতে পারে? একজন ত্রিপুরাবাসী যুবক কর্মস্থলে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরও কেন আজ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তদন্ত শুরু হয়নি? ত্রিপুরা সরকারের কাছে পরিবারের আকুতি—তাঁদের ছেলের সন্ধান যেন দ্রুত পাওয়া যায় এবং গুজরাট প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্য সরকার যেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। একমাত্র উপার্জনক্ষম যুবক নিখোঁজ—এই অবস্থায় পরিবারটির আর্থিক ও মানসিক দুঃস্থতা চরমে পৌঁছেছে।

ত্রিপুরার সাধারণ মানুষ এবং নাগরিক সমাজের কাছেও এই ঘটনা একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে—বাইরের রাজ্যে কর্মরত ত্রিপুরার যুবকদের নিরাপত্তা আদৌ রয়েছে কি? সমাজ সচেতন মহল মনে করছেন ত্রিপুরা সরকারের হস্তক্ষেপ ও ত্বরিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই কালাচান ত্রিপুরাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব—এই আশাতেই এখনও চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় তার পরিবার।About Us

সিপিআই(এম)-এর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

সিপিআই(এম)-এর ২৪তম পার্টি কংগ্রেসে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেলেন ত্রিপুরার নেতারাও!

ভারতের অন্যতম বৃহৎ বামপন্থী রাজনৈতিক দল সিপিআই(এম)-এর ২৪তম পার্টি কংগ্রেসে দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাদুরাইয়ে অনুষ্ঠিত পার্টি কংগ্রেস শেষে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয় এই কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক রদবদলের মধ্য দিয়ে মোট ৮৪ জন সদস্য নিয়ে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি, নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ১৮ সদস্যের নতুন পলিট ব্যুরো নির্বাচিত হয়েছে।

সিপিআই(এম)-এর এবারের পার্টি কংগ্রেস থেকে উঠে এল ত্রিপুরার জন্য এক ঐতিহাসিক ঘোষণা। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণকারী কমিটি—পলিট ব্যুরোতে এবার প্রথমবারের মতো স্থান পেলেন রাজ্যের এক জনজাতি মুখ। ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক ও বিরোধী দলনেতা জিতেন চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন দলের নতুন পলিট ব্যুরো সদস্য হিসেবে।

১৯৯৮ সাল থেকে পলিট ব্যুরোতে প্রতিনিধিত্ব করে এসেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তবে এবার বয়স সংক্রান্ত নিয়মের কারণে তিনি সেই পদে না থাকলেও বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে থাকছেন। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব নিচ্ছেন জিতেন চৌধুরী—এটি এক ঐতিহাসিক ক্ষণ, কারণ এই প্রথম কোনও জনজাতি নেতা পলিট ব্যুরোতে প্রতিনিধিত্ব করছেন ত্রিপুরার হয়ে। রাজ্যে আসন্ন ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (ADC) নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সিপিআই(এম)-এর ইতিহাসে পলিট ব্যুরোতে ত্রিপুরা থেকে কখনোই একাধিক সদস্য ছিলেন না। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও একজনকেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ত্রিপুরা থেকে নতুন মুখঃ

শুধু পলিট ব্যুরো নয়, কেন্দ্রীয় কমিটিতেও জায়গা পেয়েছেন ত্রিপুরার আরও দুই পরিচিত নেতা—নরেশ জামাতিয়া ও রতন ভৌমিক। তাঁদের অন্তর্ভুক্তিকে ভবিষ্যতের দলীয় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা আছেনঃ

নতুন কমিটিতে রয়েছেন পিনারায়ি বিজয়ন, বি ভি রাঘবুলু, এম এ বেবি, তপন সেন, নীলোৎপল বসু, সেলিম, এ বিজয়ারাঘবন, অশোক ধাওয়ালে, রামচন্দ্র ডোম, এম ভি গোবিন্দন, সুপ্রকাশ তালুকদার, যোশেফ তরিগামী, কেকে শৈলজা, পি কে শ্রীমতি, পি রাজীব, পি সত্যধেবী, সি এস সুজাতা, দেবলিনা হেমব্রম, কে হেমলতা, এস পুন্যবতী, মারিয়াম ধাওয়ালে, এ আর সিন্ধু সহ অনেক প্রাক্তন এবং নতুন মুখ।

নতুন সংযোজনঃ

এইবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্ত হয়েছেন অনুরাগ সাক্সেনা, এইচ আই ভট্ট, প্রেমচাঁদ, সঞ্জয় চৌহান, কে প্রকাশ, টি পি রামাকৃষ্ণান, পুথালাথ দিনেশান, অজিত নাওয়ালে, বিনোদ নিকোল, সুরেশ পানিগ্রাহী, কনৈকা ঘোষ, মীনাক্ষী মুখার্জি, সমন পাঠক, নরেশ জামাতিয়া, রতন ভৌমিক, কৃষ্ণা রক্ষিত, কে বালভারতী, রমা দেবী, রাজেন্দ্র সিং নেগি সহ মোট ৩০ জন।

স্থায়ী ও বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্যরাঃ

স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সুদীপ দত্ত, বল সিং, জন ব্রিট্টাস, সুধান্বা দেশপাণ্ডে। বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন মানিক সরকার, প্রকাশ কারাট, ব্রিন্দা কারাট, সুভাষিনী আলী, এস রামচন্দ্রন পিল্লাই, বিমন বসু এবং হান্নান মোল্লা।

পলিট ব্যুরো গঠনঃ

নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ১৮ জন সদস্যকে নিয়ে পলিট ব্যুরো গঠন করা হয়েছে, যা দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণকারী পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। সিপিআই(এম) সূত্রে জানা গেছে, এই কংগ্রেসে গৃহীত সাংগঠনিক নীতিগুলির ভিত্তিতে আগামী দিনে দলের কর্মকৌশল ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।About Us

BJP জোট সরকারের ভিত নড়বড়ে

তিপ্রা মথার সুপ্রিমোর বক্তব্যে অস্বস্তিতে BJP!

রাজ্যের জোট সরকারের শরিক দল তিপ্রা মথার একাংশ নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে চাপে পড়েছে BJP। বিশেষ করে, তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত বিক্রম দেববর্মা এবং দলের বিধায়ক ও এমডিসিদের (MDC) প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে করা মন্তব্যে ক্রমশ জটিল হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তিপ্রা মথার অভিযোগ, BJP নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরও জনজাতিদের প্রতি অবহেলা করছে। এমনকি, বামফ্রন্টের ২৫ বছরের শাসনকালেও যা ঘটেনি, তার থেকেও বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছে ত্রিপুরার জনজাতি সম্প্রদায়। সরকারি পরিষেবা থেকে শুরু করে পানীয় জল, রাস্তা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে চরম অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন দলের নেতারা।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিপ্রা মথার এমডিসি ধীরেন্দ্র দেববর্মা দাবি করেন, “বর্তমান সরকার জনজাতি উন্নয়নের জন্য কোনো সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না। পানীয় জল থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রেই জনজাতিরা চরম বঞ্চনার শিকার। রিয়াং জনজাতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ কিছু প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, কিন্তু সেই অর্থও সঠিকভাবে ব্যয় করা হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “উনকোটি ও ধলাই জেলার সীমান্তবর্তী কংসরাম রিয়াং পাড়ার উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের তরফে বিশেষ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছিল। রাজকান্দি বাজার থেকে কংসরাম পাড়া পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রকল্পের অনুমোদন মিললেও বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেই। এইভাবে যদি অবহেলা চলতে থাকে, তাহলে তিপ্রা মথাকে বিকল্প ভাবতে হবে।”

শুধু ধীরেন্দ্র দেববর্মাই নন, তিপ্রা মথা পরিচালিত এডিসির (ADC) শিক্ষা দপ্তরের নির্বাহী সদস্য রবীন্দ্র দেববর্মাও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, “এডিসি থেকে প্রায় ৩৫১ জন সরকারি কর্মচারী অবসর নিয়েছেন, কিন্তু অর্থের অভাবে তাদের পেনশন ও বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি, এমন কর্মচারীও রয়েছেন যারা দুই বছর আগে অবসর নিয়েছেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত পেনশন পাননি। রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অনুরোধ জানানো হলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।”

সম্প্রতি ধলাই জেলার নেপালটিলা এলাকায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত বিক্রম দেববর্মা তীব্র ভাষায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি শুধু বিরোধী দল কংগ্রেস ও বামেদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাননি, বরং শরিক BJPকেও একহাত নেন। ককবরক ভাষাকে রোমান হরফে চালু করার দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনে তিপ্রা মথার ভূমিকা প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন, যা BJP নেতৃত্বের মধ্যে নতুন করে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তিপ্রা মথার এমন অবস্থান BJPর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। শরিক হয়েও দলটি যদি সরকারবিরোধী অবস্থানে যায়, তাহলে জোট সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, তিপ্রা মথার ক্রমাগত আক্রমণাত্মক অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দলটি ভবিষ্যতে নতুন কৌশল নিতে পারে। যদি পরিস্থিতি এমনই চলতে থাকে, তাহলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তিপ্রা মথার অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই টানাপোড়েনের পরিণতি কী হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত তিপ্রা মথার বক্তব্যে রাজ্যের BJP নেতৃত্ব যে প্রবল অস্বস্তিতে, তা স্পষ্ট।About Us

ক্রীড়াক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ

ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে বাজারঘাট স্টেডিয়ামকে আধুনিকরণ করা হচ্ছে!

ক্রীড়াক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ
ক্রীড়াক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ

ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলতে উদ্যোগী হয়েছে ত্রিপুরা সরকার। রাজ্যের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্য আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার আগরতলার বাধারঘাটে দশরথ দেব স্পোর্টস কমপ্লেক্সে তিনটি অত্যাধুনিক ক্রীড়া স্থাপনার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। উদ্বোধন করা হয় দেবভক্তি জমাতিয়া সিন্থেটিক অ্যাথলেটিক টার্ফ, স্বদেশপ্রিয় নন্দী সিন্থেটিক হকি গ্রাউন্ড এবং প্রতুল ভট্টাচার্য সিন্থেটিক টার্ফ ফুটবল গ্রাউন্ড। প্রয়াত তিন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে এই নামকরণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠেন। তাদের অবদান রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। প্রয়াত দেবভক্তি জমাতিয়া, স্বদেশপ্রিয় নন্দী এবং প্রতুল ভট্টাচার্যের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই ক্রীড়া ক্ষেত্রগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ত্রিপুরার ক্রীড়া ইতিহাসকে সংরক্ষণের জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে আমবাসায় নির্মিত ২০০ শয্যার যুব হোস্টেলের নামকরণ করা হয়েছে মধুসূদন সাহার নামে।”

মুখ্যমন্ত্রী প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “সঠিক পরিকাঠামো ও সুযোগ পেলে রাজ্যের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলেন পদ্মশ্রী অলিম্পিয়ান জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার।” তিনি আরও বলেন, “যুব সমাজকে মাদকাসক্তির ছোবল থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সুস্থ মন ও দেহ গঠনে ক্রীড়ার ভূমিকা অপরিসীম।” রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার একাধিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আগরতলার ভোলাগিরিতে উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাজ্যের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের অবদান স্মরণীয় রাখতে বিভিন্ন ক্রীড়া স্থাপনার নামকরণ তাঁদের নামে করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, “রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করে তুলতে সরকার নিরলস পরিশ্রম করছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো পরিকাঠামোগুলিকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মীনা রাণী সরকার, ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের পদাধিকারী সুকান্ত ঘোষ, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, অধিকর্তা এস বি নাথ, পদ্মশ্রী অলিম্পিয়ান জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার সহ দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রয়াত ক্রীড়াবিদদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যের ক্রীড়াপ্রেমী যুবসমাজ আধুনিক পরিকাঠামোর সুবিধা পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো রাজ্যের খেলোয়াড়দের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বেশি সুযোগ এনে দেবে। ক্রীড়াক্ষেত্রে এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে ত্রিপুরাকে দেশের অন্যতম ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।About Us