Cpim

বামেদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা এখনো অব্যাহত:

২০১৮ সালে ক্ষমতা হারাবার আগে বিগত ২৫ বছর ধরে এ রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল বামেরা। যেভাবে তারা সাধারন মানুষের উপর বঞ্চনার বুলডোজার চালিয়েছিল তারই প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষমতা থেকে তাদেরকে বিতাড়িত করেছিল এ রাজ্যের জনগণ। ২০১৮ সালে বিজেপি দলের হাত ধরে রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পর মানুষ উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছে। ভোটের প্রচারে নেমে এমনটাই বলছিল শাসক দলের নেতারা। আর সেই উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা।

যারা সেই সময়ে সিপিআইএম দলকে ভোট দিত তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু একটা পাবার ধান্দায় সিপিএমের মিছিল মিটিংয়ে পা মেলাতো, তারা গত বছরগুলোতে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিল। মাঝখানে পেরিয়ে গেছে সাড়ে ছয় বছরের বেশি সময় । গত এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে বিধানসভা ভোট, লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়ে গ্রাম সরকার গঠনের ভোটও সমাপ্ত হলো। এক সময়ের বাম দুর্গ হারাতে হয় সিপিএমকে৷ নিজেদের ভিত শক্ত করতে পুরোপুরি ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল সিপিএম। তারা নির্বাচনের আগে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। বাম আমলে মানুষ কিভাবে বঞ্চিত ছিলেন সেই সময়ে বলতে না পারলেও এবার মুখের উপর জবাব দিয়েছিলেন। কারণ বামেরা মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করে নিয়েছিল। বঞ্চনা দলবাজি স্বজন পোষণের কারণে সাধারণ মানুষের ভাবাবেগকে কিভাবে তারা পদদলিত করে রেখেছিল সেই বিষয়টি তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। কিন্তু গত সাড়ে ছয় বছরে মানুষের আরো তিক্ত অভিজ্ঞতা। মানুষ বামেদের একটানা ২৫ বছরের সাথে বিজেপির সাড়ে ছয় বছরের তুলনা করছেন৷ অস্বীকার করার উপায় সাড়ে ছয় বছরেই মানুষ হাপিয়ে উঠেছেন৷ আর এর সুযোগ নিতে, মানুষের ক্ষোভ যাতে ভোটে প্রতিফলিত হয় তার জন্য কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছিল বিরোধীরা। বিশেষ করে বামেরা৷ গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে ঘুরে দাড়াতে ব্যার্থ হয়েছে সিপিএম৷

ক্ষমতার দম্ভে এতটাই অহংকারী ছিল যে বাস্তবের মাটিতে পা রাখতে ভুলে গিয়েছিলেন সিপিএমের বুড়ো নেতারা। কিন্তু এই রাজ্যে মানুষ যখন তাদের আসল চেহারা দেখিয়ে দিয়েছে নির্বাচনের ফলাফলে, তখন তাদের মোহ ভঙ্গ হতে শুরু হয়েছে। আর এর সুযোগ নিচ্ছে শাসক শিবির। তাই তো জনসভাগুলো বামেদের ২৫ বছরের ইতিহাস তুলে ধরে শাসক দলের নেতারা ভোট চেয়েছেন৷
জীতেন্দ্র চৌধুরীর নেতৃত্বে বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে ঘুড়ে দাড়াতে পারে নি দল৷ নতুন প্রজন্মকে সিপিএম এর ভাবধারায় অনুপ্রাণিত করতে না পারলে আগামীদিনে নির্বাচনে লড়াই করাই মুসকিল হয়ে দাঁড়াবে। এখন থেকেই যদি সিপিএম সেই পথে না হাটে তবে পথ হাড়ানোর সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে উঠবে বলে ধারনা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের।

স্মার্ট সিটি

স্মার্ট সিটিতে সক্রিয় মক্ষিরানী চক্র

স্মার্ট সিটির বিভিন্ন হোটেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাড়ায় এখন মক্ষী রানিদের ঠেক। খদ্দের ধরতে এজেন্ট নিয়োগ করেছে মাসিরা৷ কলেজ ছাত্রী থেকে গৃহবধূ, বাড়তি কামাইয়ের নেশায় ঠেকগুলোতে নাম লেখাছে৷ এখানেই শেষ নয়, শহরের বুকে গত পাঁচ মাসে সাতটি ম্যাসেজ সেন্টারের উদ্বোধন হয়েছে। একাধিক ম্যাসেজ সেন্টারে বেলেল্লাপনা। একাংশ বিউটি পার্লার, ম্যাসেজ সেন্টারের নামে যে স্মার্ট সিটিতে বেলেল্লাপনা চলছে তা পুলিশেরও গোচরে রয়েছে। কিন্তু কোন অভিযান নেই। বাম আমলের শেষ দিকে কৃষ্ণ নগরের আম্বা সাম্বা ত্রীং – অভিযানের পর পুলিশ এসব বেলেল্লাপনা রুখতে কোন অভিযান করেছে বলে জানা নেই কারোর। শহরের রামনগরের বিভিন্ন গলিতে একাধিক ঠেক৷ পাঁচ মাস পর পর ঠেক বদল করে মাসিরা ব্যাবসা জম্পেস করে তুললেও পুলিশের কোন অভিযান নেই। শহরের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রেই আছে মাসিদের একাধিক ঠেক। প্রতিটি ঠেকের কামাই একেবারে মন্দ নয়। অনেকটা ফিল্মি কায়দায় কামাই করছে মাসিরা। রাজধানীর ভাটি অভয়নগর, সেভেনটি নাইনটিলা, কৃষ্ণনগর, কবিরাজটিলা বা প্রতাপগড় ব্রিজের নিচে মাসির ঠেক চলছে রমরমিয়ে। স্কুল, কলেজের একাংশ ছাত্রীদের দিয়ে চলছে ঠেক গুলো। রাজধানীতে রেড লাইট জোন না থাকলেও এই সব ঠেকগুলো অনেকটা রেড লাইট জোনের কায়দায় পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশের কাছে এই খবর নেই। কেউ বিশ্বাস করবেনা। পুলিশ, হোটেল মালিক আর মাসিদের ত্রিবেণী সংগমে চলছে ঠেক গুলো। সবারই কামাই হচ্ছে। আর সবাই একে অপরের পরিপুরক। এতে সমাজ বা সংস্কৃতি উচ্ছন্নে গেলে তাদের কিবা যায় আসে। টু পাইস কামাই হলেই হল। রামনগর, অভয়নগর, কৃষ্ণনগর, প্রতাপগড় ঝুলন্ত সেতুর কাছে একাধিক ঠেক৷ বাড়ি ভাড়া করে ঠেকগুলো চলছে। যেন রেড লাইট এলাকা। কোথা বিউটি পার্লার আবার কোথাও ম্যাসেজ সেন্টারের নামের আড়ালে পরিচালিত হচ্ছে ঠেকগুলো।

মাস কয়েক আগে আগরতলা রেল স্টেশন সংলগ্ন এক হোটেলে দুদিন রেখে রোহিঙ্গা যুবতীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় এক মৌলবাদী নেতা৷ এই ঘটনার পরেও রেল স্টেশন সংলগ্ন হোটেলগুলোতে নজরদারি বাড়ায় নি পুলিশ। বাধারঘাট রেল স্টেশন সংলগ্ন একাধিক হোটেলেও চলছে অশ্লীলতার ব্যাবসা। তাতে রোজগার অনেক বেশি বলেই জানিয়েছেন একাধিক হোটেল ব্যাবসায়ী। এর বিনিময়ে অবশ্য কিছু পুলিশ কর্মীদের কামাই মন্দ নয়। ফলে পুলিশের কাছে খবর থাকলেও নেই কোন অভিযান। স্টেশন চত্বরের কিছু হোটেলে অধিক রাত পর্যন্ত চলে বেলেল্লাপনা। এলাকার মানুষ পুলিশকে ফোন করে জানিয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশের কোন অভিযান নেই। বটতলা ফাড়ির নাকের ডগায় যেভাবে বছরের পর বছর ধরে হোটেলগুলোতে চলছে বেআইনি বার, যেভাবে ফাড়ি থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে রাত ১২ টা পর্যন্ত ওপেন মদ বিক্রি হয় তেমনটাই একাংশ হোটেলগুলোতে চলছে অশ্লীলতার খোলামখোল্লা ব্যাবসা। একাধিক হোটেল মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভালোবাসার প্রথম পর্বেই একাংশ কপোত-কপোতীরা হোটেল খুঁজতে শুরু করে। এখন সামাজিক মাধ্যমেই বেশিরভাগ যুবক যুবতীর প্রেম জন্মায়। ভালোবাসা গভীর হতেই হোটেলের সন্ধানে বেরিয়ে পরে। তখন হোটেল ভাড়া কোন প্রতিবন্ধকতা নয়। চাই একান্তে কাটানোর জায়গা। মওকা পেয়ে হোটেল মালিক চেয়ে বসে চরা মুল্য। তাতে কুচ পড়ুয়া নেহি। অপরদিকে শহরের কিছু স্কুল ও কলেজ ছাত্রীর সাথে কিছু হোটেল মালিকের যোগাযোগ রয়েছে। হোটেল মালিকের চাই রুমের চড়ামুল্য, আর স্কুল ও কলেজ ছাত্রীদের চাই টাকা। মা – বাবাদের দেওয়া টাকায় বর্তমান যুগে চলা কষ্টকর। অর্থাৎ ভোগবাদী মানসিকতা। আর এই মানসিকতার কারনে কিছু উঠতি মেয়েরা তাদের মা বাবাদের চোখের আড়ালে বেলেল্লাপনার ব্যাবসায় মেতেছে। একাংশ হোটেলগুলো অশ্লীলতার নিরাপদ জায়গা হিসেবে বেছে নিয়ে রোজগারে মেতেছে তারা। হোটেল থেকেও নির্ভরশীল খদ্দেরদের সাপ্লাই করে ভালো কামাই হচ্ছে। স্মার্ট সিটিতে সব কিছুই এখন খোলামখোল্লা।

অপমানিত সান্ত্বনা চাকমা

সান্ত্বনা চাকমা অপমানিত অ্যালবার্ট এক্কায়!

বাংলাদেশ বিজয় দিবসে এলবার্ট এক্কা পার্কে অপমানিত হলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা। শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার কোনো সুযোগ পেলেন না তিনি। সেনাবাহিনীর তরফে তাঁকে এলবার্ট একা পার্কের শহীদ স্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অপমানিত মন্ত্রী বিকালের অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতেও রাজ্যে বিজয় দিবস পালিত হয়। অস্বীকার করার উপায় নেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের বীর সেনাদের অবদান ছিলো। মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ার কারণেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। সোমবার মুক্তিযুদ্ধে যেসব বীর সেনানীরা শহীদ হয়েছেন তাদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রতিবারের মতো এবারও অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। এর আগে প্রস্তুতি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো এলবার্ট এক্কা পার্কে বিজয় দিবসের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে প্রথমেই পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল শ্রদ্ধা জানানোর পরেই রাজ্য মন্ত্রিসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য কিংবা সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা একেক করে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। জেলাশাসক অফিসের প্রস্তুতি বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো সেই সিদ্ধান্ত মানেনি সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা। দেখা গেছে, রাজ্যপাল এলবার্ট এক্কা পার্কে পৌঁছানোর আগেই সেনাবাহিনীর এক আধিকারিক আনুষ্ঠানিক ভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

এরপর রাজ্যপাল এসে পৌঁছালে তিনি শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জওয়ানদের স্মৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছেন। এরপর রাজ্যপাল সাইকেল র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের সাথে মিলিত হন। সেইসময় ছিলেন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা। কিন্তু তাকে শহীদ স্তম্ভে গিয়ে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করতে সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়নি। অথচ সেইসময় অতিরিক্ত জেলাশাসক সজল বিশ্বাস, মহকুমা শাসক সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই এই ঘটনা ঘটে। স্বাভাবিক ভাবেই দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে উপস্থিত সকলের। এতেই মন্ত্রী সান্তনা চাকমা অপমানিত বোধ করেন।About Us

বিনিয়োগকারীদের রাজ্যে টানতে মুখ্যমন্ত্রীর মুম্বাই ছুট

বিনিয়োগকারীদের রাজ্যে টানতে মুম্বাই ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী!

উত্তর পূর্বের রাজ্য ত্রিপুরায় বিভিন্ন প্রকল্প স্থাপনের বিষয়ে এগিয়ে আসার জন্য বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এজন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি। সোমবার মুম্বাইয়ের কোলাবায় তাজমহল প্যালেস হোটেলে উত্তর-পূর্ব বাণিজ্য ও বিনিয়োগ রোড শোতে বক্তব্য রাখার সময় এবিষয়ে গুরুত্ব তুলে ধরেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, মুম্বাইয়ে রোড শো আয়োজন করায় আমি এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। উত্তর পূর্বাঞ্চলে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি করতে কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রক বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির বিকাশে বরাবরই গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উত্তর পূর্বাঞ্চলকে অষ্টলক্ষী হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। এই অঞ্চলের উন্নয়নে অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি ঘোষণা করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলেরই একটি রাজ্য ত্রিপুরা, যেটা বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম সীমান্ত বেষ্টিত রয়েছে। পূর্বাংশে রয়েছে আসাম ও মিজোরাম রাজ্য। এটা দেশের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে জনসংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য। ত্রিপুরার রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি সংস্কৃতি। ত্রিপুরা দেশের মধ্যে এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলে অন্যতম শান্তিপূর্ণ রাজ্য। এখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুত রয়েছে, যা একে উদ্বৃত্ত শক্তির জোগান দেয়। ত্রিপুরার অর্থনীতি প্রাথমিকভাবে কৃষি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ২০২৪ সালে রাজ্যের আনুমানিক মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ ১.৭৭ লক্ষ টাকা, যা ২০২৩ সালে ১.৫৭ লক্ষ টাকা ছিল। ত্রিপুরার জিএসডিপি ৮.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উত্তর পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জিএসডিপি বৃদ্ধির হার। আমরা রাজ্যের সামর্থ্য ও সম্পদকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে একটি বিনিয়োগকারী বান্ধব পরিবেশ তৈরি করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সারা রাজ্যে শিল্প ও মৌলিক পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রয়াস জারি রেখেছে রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হিরা মডেল দিয়েছেন আমাদের। এজন্য যোগাযোগ ক্ষেত্রেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। হাইওয়ে, ইন্টারনেট, রেলওয়ে এবং এয়ারওয়েতে প্রভূত উন্নতি হয়েছে রাজ্যে। মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) বিমানবন্দরকে আপগ্রেড করা হয়েছে, যা এটিকে এই অঞ্চলের দ্বিতীয় ব্যস্ততম ও আকর্ষণীয় বিমানবন্দরে পরিণত করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় রাজ্য সরকার দক্ষিণ জেলার প্রান্তিক শহর সাব্রুমে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) গড়ে তুলেছে, যা ইতিমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের আকর্ষন বাড়িয়েছে। রাবার, বাঁশ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কৃষিজাত পণ্য, আগর, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, চা, হস্তশিল্প এবং পর্যটনের মতো দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করে শিল্পের জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে ত্রিপুরায়। আমাদের উত্তর জেলায় ২,০০০ হেক্টর জুড়ে ৫ মিলিয়নেরও বেশি আগর গাছ রয়েছে। আমরা বোধজংনগরে একটি রাবার পার্ক স্থাপন করেছি। আর একটি দক্ষিণ জেলায় পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ত্রিপুরায় ২১ প্রজাতির বাঁশ রয়েছে এবং একটি ব্যাম্বো পলিসি চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উদ্যান জাতীয় ফসলের জন্য যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে ত্রিপুরার। যেমন কুইন আনারস, যাকে রাজ্য ফল হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এটি জিআই ট্যাগ পেয়েছে। পর্যটন ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্যে। আর পর্যটন শিল্পে ক্রমশ বিভিন্ন বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে যাচ্ছে ত্রিপুরা। পর্যটকের সংখ্যা এখন দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে ত্রিপুরায়। ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও অন্যতম শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ত্রিপুরা। এখানে ই-অফিস এবং ই-ক্যাবিনেটের মতো অসাধারণ উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম সিন্ধিয়া, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা, ডোনার মন্ত্রকের সচিব চঞ্চল কুমার, যুগ্ম সচিব মোনালিসা দাস সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ। এর পাশাপাশি এই সামিটে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট উদ্যোগপতি, শিল্পপতি সহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিগণ।About Us

অবহেলায় এলবার্ট এক্কার স্মৃতি স্তম্ভ

অনাদরে আর অবহেলায় ডুকলির এলবার্ট এক্কার শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ!

অনাদরে অবহেলায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে শহিদ এলবার্ট এক্কার শহীদ স্মৃতি স্তম্ভটি। আগরতলার ডুকলির ইচাবাজার সংলগ্ন স্টেট ব্যাংকের সামনেই রয়েছে এই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভটি। এখানেই শহীদ জওয়ান এলবার্ট এক্কার অন্তেষ্টি ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। সেনাবাহিনীর ১৪ গার্ড রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক ছিলেন অ্যালবার্ট এক্কা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এলবার্ট এক্কা সহ ১২ জনের স্মরণে শ্রীপল্লি এলাকায় তাদের কবরস্থানে গড়ে উঠে শহীদস্মৃতি ফলকটি৷ স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ সরকারের দেওয়া জমিতে একটি সৌধ নির্মিত হয়েছিল। আগে এই এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ভুবন দাসের উদ্যোগে এখানে ছোট অনুষ্ঠান হত। করোনাকালে ভুবন দাস প্রয়াত হওয়ার পর এখন ফুল মালা দেওয়ার কেউ নেই।

২০২০ সালে শহীদ জওয়ান এলবার্ট এক্কার পরিবার রাজ্যে এসে ওই এলাকার মাটি সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছিলেন। ছিলেন এক্কার স্ত্রীও৷ দেখা করেছিলেন সেই সময়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়ের সাথে। এলাকাটি সংরক্ষণ করার দাবী জানিয়েছিলেন। অ্যালবার্ট এক্কার শহীদ স্মৃতিস্তম্ভকে আরো সুন্দর করা এবং এই এলাকাকে কিভাবে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা যায় তার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ভাবনাচিন্তা করার দাবি করেছিলেন। আজ পর্যন্ত উপেক্ষিতই রয়ে গেছে এলাকাটি। সোমবার বাংলাদেশ বিজয় দিবস উদযাপনে যখন এলবার্ট এক্কা পার্কে রাজ্যপাল থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর পদস্থ আধিকারিকরা তার স্মৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করছেন। তখন অনাদরে অবহেলায় রয়েছে ডুকলির এলবার্ট এক্কার শহীদ স্তম্ভটি।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ওই এলাকায় কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। এমনকি সেনাবাহিনীর কোন পদস্থ আধিকারিকরা শহীদ স্তম্ভে গিয়ে মাল্যদান করার সময় পেলেন না। অ্যালবার্ট মরণোত্তর পরমবীর চক্র পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের স্মৃতিতে গড়া সৌধটি রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি উদ্যোগ কার্যত দেখা যায়নি। এলাকার যুবক ভুবনই যুদ্ধের পর থেকে সৌধটিকে আগলে রেখেছিলেন। বিহারের (অধুনা ঝাড়খন্ড) গুমলাতে জন্মগ্রহণ করেন আদিবাসী তরুণ অ্যালবার্ট এক্কা। প্রায় একা হাতে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ত্রিপুরা সীমান্তের কাছে ‘গঙ্গাসাগরের যুদ্ধে’ পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় নিশ্চিত করেছিলেন। তবে যুদ্ধে ৩ ডিসেম্বর শহীদ হন তিনি। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ খেতাবের নাম ‘পরম বীর চক্র’। যুদ্ধে অসম সাহসিকতার জন্য পরে এক্কাকে সেই বিরল সম্মানে (মরণোত্তর) স্বীকৃতি জানানো হয়েছে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে মাত্র ২১ জন সেনা এই সম্মান পেয়েছেন। ল্যান্সনায়েক অ্যালবার্ট এক্কা তাদেরই একজন।

একাত্তরের যুদ্ধে ভারত তার পূর্ব ও পশ্চিম– উভয় সীমান্তেই লড়েছিল আর তার মধ্যে পূর্ব রণাঙ্গনে মাত্র একজনই পরম বীর চক্র পেয়েছেন। তিনিই অ্যালবার্ট এক্কা। শহীদ জওয়ানদের স্মৃতিতে প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর আগরতলার ডুকলিতে হত স্মরণ সভা। বিশেষ কিছু আড়ম্বর করে নয়। এলাকার মানুষজন ঐ সৌধে ফুল মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ‘৭১র যুদ্ধে প্রান দেওয়া সেই বীরদের। ১৬ ডিসেম্বরের আগে তারাই পরিষ্কার করে রাখতো নিজেদের গড়া সৌধটি। কিন্তু এলাকার ভুবন দাসের মৃত্যুর পর উৎসাহ হারিয়ে গেছে। কিন্তু রাজ্য সরকার বা ভারত সরকার কারোর পক্ষ থেকেই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি সেই স্মৃতি সৌধটিকে সংরক্ষণ করে রাখার, বা প্রতি বছর সেখানে কোন অনুষ্ঠান করার।

এলাকার মানুষ দাবি করেছিলেন অন্তত এই স্মৃতি সৌধটি অধিগ্রহণ করুক সেনাবাহিনী। প্রথম দিকে সেনা বাহিনী তাতে রাজিও হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই উদ্যোগ আর বেশী দূর এগোয়নি। অথচ সেবারের যুদ্ধে ত্রিপুরার অবদান অনেকেই সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন। ১৩ লক্ষ মানুষের ত্রিপুরা সেদিন আশ্রয় দিয়েছিল ১৬ লক্ষ বাংলাদেশি উদ্বাস্তুকে। অথচ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে ত্রিপুরায় হয় না কোন বড় ধরণের অনুষ্ঠান। অবহেলায় আর আনাদরে থাকে এলবার্টের শহীদ ফলকটি৷ মুক্তিযুদ্ধের অর্ধশতাব্দী পরে সেনাবাহিনী এই স্মৃতিসৌধটির চারপাশে সৌন্দর্যায়নের কাজ করেছে। উপরে শেড নির্মান করা হবে। চলছে ইট, বালি, সিমেন্টের গাধুনির কাজ । এলবার্ট এক্কার শহীদ স্মৃতি ফলকটি যখন অনাদরে, অবহেলায় তখন এলবার্ট এক্কা পার্কে সোমবার সকালে শ্রদ্ধা জানান রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আগরতলা লিচুবাগানস্থিত অ্যালবার্ট এক্কা পার্কে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। সেনাবাহিনীর ৫৭ নং মাউন্টেন আর্টি ব্রিগেডের উদ্যোগে আয়োজিত সাইকেল রেলির ও উদ্বোধন করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা, ব্যাটেলিয়ানের মেজর জেনারেল সমীর চরণ কার্তীকেয়ন সহ সেনাবাহিনী জওয়ানরা। মহান বিজয় দিবস সম্পর্কে রাজ্যপাল বলেন ১৯৭১ সালের এই দিনেই বাংলাদেশ পাশে দাঁড়িয়ে ভারতীয় জওয়ানরা পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াই করেছে।

ভারতীয় জওয়ানদের আত্ম বলিদানের এই ইতিহাস কে স্মরণ করে তিনি তাদের ও পরিবার বর্গের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সেই সময়ে ৯০ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে জওয়ানরা গান স্যালুট দেন। এখন দেখার বিষয় এই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি অনাদরে ও অবহেলায় একইভাবে পড়ে থাকবে, নাকি এই অবহেলা কাটিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি তাঁর প্রকৃত সম্মানটুকু অর্জন করবে।About Us

জাকির হোসেন সংগীত জগতের এক অমর নাম!

ভারতের বিশাল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে জাকির হোসেন এক অমর নাম!

উস্তাদ জাকির হোসেন, সংগীতের মূর্ছনায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিলেন। তিনি শুধুমাত্র একজন মৃদঙ্গবাদকই নন, একজন উদ্যমী সঙ্গীতজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক, এবং বিশ্বের শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি প্রভাবশালী নাম। বিশ্বজুড়ে তাঁর অসংখ্য অনুরাগী, শ্রোতা ও সঙ্গীতপ্রেমী রয়েছেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অন্যতম প্রধান শিল্পী হিসেবে জাকির হুসেন তাঁর অসামান্য প্রতিভা ও সৃজনশীলতায় মুগ্ধ করেছেন হাজার হাজার শ্রোতাকে।

ভারতের বিশাল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠ মৃদঙ্গবাদকরা স্থান পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে জাকির হুসেন এক বিশেষ স্থান অধিকার করেন। তাঁর বাজানো মৃদঙ্গা এক ধরনের যাদু, যা সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ভারতীয় সঙ্গীতের প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সাথে মিশিয়ে, তিনি এক নতুন ধরনের সঙ্গীতশৈলী তৈরি করেছেন, যা বিশ্বের মঞ্চে বিশেষভাবে প্রশংসিত। 

জাকির হোসেনের প্রথম জীবন এবং শৈশবকাল

১৯৫১ সালের ৯ই মার্চ, মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন জাকির হুসেন। তাঁর পরিবার ছিল সংগীতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বাবা উস্তাদ আলী আকবর খান ছিলেন একজন খ্যাতনামা সেতারবাদক এবং মা, মা জাওয়াদ সুলতান খান, ছিলেন একজন গায়িকা। এমন এক পরিবেশে বেড়ে ওঠার ফলে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্ম নেয়।

জাকির হুসেনের শৈশবকাল অতিবাহিত হয় সংগীত এবং সংস্কৃতির মধ্যে। তিনি মাত্র ৭ বছর বয়সে মৃদঙ্গা বাজানো শুরু করেন। তাঁর প্রথম গুরু ছিলেন উস্তাদ উমীরান খান, যিনি তাঁকে মৃদঙ্গার মৌলিক কৌশল শেখান। এই সময়ে জাকির হুসেন সংগীতের মূল ধারাগুলি শিখে নিজের দক্ষতা আরও উন্নত করতে থাকেন। তবে, তাঁর সংগীত জীবনের মূল যাত্রা শুরু হয় যখন তিনি শ্রী গুরুজি উস্তাদ আলি আকবর খানের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের গভীরতা শিখতে শুরু করেন।

জাকির হোসেনেরশিক্ষা এবং প্রাথমিক সংগীত জীবনের সূচনা

জাকির হুসেনের সংগীতজীবনের প্রথম দিক ছিল অত্যন্ত সৃজনশীল এবং চ্যালেঞ্জিং। তিনি শুধু মৃদঙ্গা নয়, আরও অনেক ধরনের তালের উপরে গবেষণা করেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল। সেই সময়ে তিনি অন্যান্য মৃদঙ্গবাদকদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে শুরু করেন, এবং সংগীতের বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা অর্জন করেন। একের পর এক কনসার্টের মাধ্যমে তিনি খুব দ্রুত পরিচিত হতে শুরু করেন। তাঁর মৃদঙ্গার অনন্য ধরন, স্বতন্ত্র বাজানোর স্টাইল এবং তালে নিখুঁত কমপোজিশন তাঁকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক নক্ষত্র করে তোলে। তাঁর বাজানো মৃদঙ্গা ছিল এক ধরনের মন্ত্রমুগ্ধকারী শক্তি, যা শ্রোতাদের এক নতুন সঙ্গীত দুনিয়ায় নিয়ে যেত।

বিশ্ব মঞ্চে জাকির হুসেন: আন্তর্জাতিক পরিচিতি

জাকির হুসেনের মৃদঙ্গা শুধুমাত্র ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও প্রশংসিত হয়েছে। তিনি একাধিক পশ্চিমা শিল্পী, যেমন জন ম্যাকলফিন, জর্জ হ্যারিসন, পল সাইমন, রীতভব নাগার, এবং হেনরি কপার এর সঙ্গে বিভিন্ন জ্যাজ এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মিশ্রণে বহু কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গে পশ্চিমা সংগীতের ঐতিহ্যকে মিশিয়ে এক নতুন সংগীতধারা সৃষ্টি করেন। বিশ্বজুড়ে তাঁর কনসার্টগুলি প্রশংসিত হয়। তাঁকে বিভিন্ন দেশে সংগীতের অন্যতম মুখ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গে নতুন ধারার সঙ্গীত তৈরি করার জন্য তিনি ‘হোমল্যান্ড’ নামে একটি ব্যান্ডও গঠন করেন, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এর মাধ্যমে তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং বিশ্ব সংগীতের মধ্যে এক সেতুবন্ধন স্থাপন করেন। জাকির হুসেন একদিকে যেমন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি তাঁর নিবিড় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন, তেমনি অন্যদিকে তিনি নতুন সঙ্গীতধারার দিকে অগ্রসর হয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, সঙ্গীত কোন দেশের সীমা বা জাতি-ধর্মের বিষয় নয়; এটি একটি সার্বজনীন ভাষা, যা মানুষের মনোজগতকে একত্রিত করে। তিনি ভারতীয় মৃদঙ্গাকে শুধু শাস্ত্রীয় গানের পরিবেশে নয়, আন্তর্জাতিক সঙ্গীত মঞ্চেও তুলে ধরেছেন।

তাঁর বাজানো মৃদঙ্গা বিশ্বজনীন সংগীতের অংশ হয়ে উঠেছে। একটি বিশেষ উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তাঁর ‘গ্রেট কনসার্ট’ শিরোনামের অনুষ্ঠান, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে একত্রে পরিবেশন করেন। এই অনুষ্ঠানটি সারা বিশ্বে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাকির হুসেনের বাজানোর ধরন ছিল সম্পূর্ণ মৌলিক এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সঙ্গীতধারা রয়েছে। তিনি মৃদঙ্গা বাজানোর সময় প্রতিটি তালের সাথে নির্দিষ্ট এক ধরনের সুর মিলিয়ে একটি ভিন্নধর্মী অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশন তৈরি করতেন। তাঁর বাজানোতে ছিল নিখুঁত তালের সাথে সংগীতের সূক্ষ্মতা এবং অনুপুঙ্খতা। তিনি বিশেষভাবে তালের বিভিন্ন প্রকৃতির উপর কাজ করেছেন এবং প্রতিটি তালের বিশেষত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর বাজানোর শৈলী ছিল অত্যন্ত সৃজনশীল, যেখানে তিনি কখনও তালে পরিবর্তন, কখনও সুরের সঙ্গে খেলা, কখনওবা নিঃশব্দতা সৃষ্টি করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করতেন।

তাঁর এই বিশাল প্রতিভার জন্য তিনি ভারত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। জাকির হুসেন তার সংগীত জীবনে বহু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। ১৯৯০ সালে তিনি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান, পদ্মশ্রী, এবং ২০০২ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর অসামান্য সঙ্গীতকর্মের জন্য তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও লাভ করেছেন। এ ছাড়া তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি তাঁর অবদানের জন্য একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। জাকির হুসেনের কাজ শুধু তার মৃদঙ্গার জন্যই নয়, তাঁর সংগীতের নতুন ধারার জন্যও সমাদৃত। তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উপর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এক মহান আদর্শ স্থাপন করেছেন।

জাকির হুসেনের সঙ্গীত যাত্রা একটি অনুপ্রেরণা, যা মৃদঙ্গা বাজানোর শুধুমাত্র কৌশল নয়, বরং সংগীতের মাধ্যমে বিশ্বকে একত্রিত করার একটি উদাহরণ। তাঁর মৃদঙ্গার সুরে, তালে এবং সৃজনশীলতার মাঝে বিশ্বের এক অমূল্য ধন রূপে শোভিত হয়েছে। তাঁর অবদান আজীবন শংসনীয় এবং তাঁকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অন্যতম মহান শিল্পী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।About Us

অষ্টম পে কমিশন ও ভারতের অর্থনীতি

অষ্টম পে কমিশন ও ভারতের অর্থনীতি;

একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ, ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। জনসংখ্যার দিক থেকে শীর্ষস্থানীয় এবং বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে ভারতের অর্থনীতি শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই নয়, বৈশ্বিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের অর্থনীতিতে সরকারি নীতিমালা এবং কর্মসূচিগুলি বিশাল প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য গঠিত পে কমিশন অন্যতম। সপ্তম পে কমিশনের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে আসছে, এবং অষ্টম পে কমিশনের গঠন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভারতের অর্থনীতি একটি মিশ্র অর্থনীতির উদাহরণ, যেখানে কৃষি, শিল্প এবং পরিষেবা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাধীনতার পর থেকে অর্থনৈতিক কাঠামোতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সংস্কার ভারতের অর্থনীতিকে উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ এবং বিশ্বায়নের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। এর ফলে ভারতীয় অর্থনীতি একটি শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কোভিড-১৯ মহামারী, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার গত কয়েক বছর ধরে স্থিতিশীল থেকেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটি প্রায় ৬.৩% থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। যদিও কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছিল, তবে তা পুনরুদ্ধার করার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেমন-

1. উৎপাদন সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI) স্কিম
2. ডিজিটালাইজেশনের প্রসার
3. MSME খাতে বিশেষ প্যাকেজ
4. অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি

বর্তমানে মূল্যস্ফীতি একটি বড় সমস্যা। ২০২৩ সালে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৬% অতিক্রম করেছে। এটি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের শ্রেণির উপর। একই সঙ্গে, বেকারত্বের হার নিয়ন্ত্রণ করাও সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো এবং ভাতাগুলি পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে, যা শুধুমাত্র তাদের আর্থিক স্থিতি উন্নত করবে না বরং অর্থনীতির ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ভারতে পে কমিশন গঠন করা হয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, পেনশন এবং ভাতার বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য। প্রথম পে কমিশন ১৯৪৬ সালে গঠিত হয়েছিল এবং এরপর প্রায় প্রতি দশকে একটি নতুন পে কমিশন গঠিত হয়েছে। সর্বশেষ সপ্তম পে কমিশন ২০১৬ সালে কার্যকর হয়, যা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন ২৩.৫৫% বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।

সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ

1. ন্যূনতম বেতন ₹১৮,০০০ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
2. সর্বোচ্চ বেতন ₹২,২৫,০০০ থেকে ₹২,৫০,০০০ করা হয়েছিল।
3. বিভিন্ন ভাতা, যেমন HRA, TA ইত্যাদি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
4. পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়।

সপ্তম পে কমিশনের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বোঝা প্রায় ₹১ লাখ কোটি বেড়েছিল। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পেলেও রাজ্য সরকারগুলির জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

এরই মধ্যে অষ্টম পে কমিশনের প্রয়োজনীয়তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, অষ্টম পে কমিশন গঠন নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। চলমান অর্থনৈতিক সংকট এবং মূল্যস্ফীতির কারণে বর্তমান বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

 অষ্টম পে কমিশনের প্রত্যাশা 

1. ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি: সপ্তম পে কমিশনে ন্যূনতম বেতন ₹১৮,০০০ নির্ধারিত হয়েছিল। অষ্টম পে কমিশনে এটি ₹২৬,০০০ থেকে ₹৩০,০০০ করার দাবি উঠেছে।
2. স্বয়ংক্রিয় বেতন সংশোধন পদ্ধতি: প্রতি পাঁচ বছরে একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
3. পেনশন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ: পেনশনভোগীদের জন্য আরও ভালো সুবিধা এবং ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি রয়েছে।
4. HRA এবং অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি: বর্তমান সময়ে বাড়িভাড়া এবং অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা HRA ও অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

অষ্টম পে কমিশন কার্যকর করা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য একটি বড় আর্থিক বোঝা তৈরি করবে। অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, একটি নতুন পে কমিশন কার্যকর হলে সরকারের খরচ লক্ষাধিক কোটি টাকা বাড়ে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং আয়কর সঞ্চয়ের অভাবের পরিপ্রেক্ষিতে এটি আরও কঠিন হতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি শুধু তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে না, বরং এটি সাধারণের ইনকাম ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি পেলে তাদের ক্রয়ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বাড়ে, যা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

তবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল বেতন বৃদ্ধি করলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। যখন মানুষের হাতে বেশি অর্থ থাকে, তখন বাজারে চাহিদা বাড়ে এবং সেই সঙ্গে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। পে কমিশনের সুপারিশ শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য নয়, রাজ্য সরকারগুলোর জন্যও প্রযোজ্য। রাজ্যগুলোর আর্থিক স্থিতি যদি দুর্বল হয়, তবে এই সুপারিশ বাস্তবায়ন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

অষ্টম পে কমিশনের গঠন এবং তার সুপারিশ বাস্তবায়ন ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এটি একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে, অন্যদিকে এটি অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়াবে। তবে এটি কার্যকর করার সময় সরকারের উচিত আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রাজ্যগুলোর আর্থিক অবস্থার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া। ভারতের অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে। অষ্টম পে কমিশন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি কর্মচারী কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

99999

ত্রিপুরা রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি সশক্তিকরনে প্রাণী সম্পদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রাণীপালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ তথা সামাজিক- অর্থনৈতিক উন্নতিতে স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী বা এসএইচজি গ্রুপগুলোর সক্রিয় অংশ গ্রহন অত্যন্ত জরুরী। প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মাধ্যমে রাজ্যের জিএসডিপি বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাভবনে আয়োজিত এ-হেল্প প্রোগ্রামের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প রূপায়ণ করছেন। রাজ্য সরকারও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত দিশায় কাজ করছে। এ- হেল্প প্রকল্পের মাধ্যমে এখন দূরদূরান্তে থাকা পশুপাখিরাও স্বাস্থ্য পরিষেবায় পশু সখীদের মাধ্যমে উপকৃত হবে। আর এই বিষয়কে বিবেচনায় রেখে ২০২১ এর ২লা সেপ্টেম্বর গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মধ্যস্থতায় পশুপালন ও দুগ্ধশিল্প দপ্তর এবং রাষ্ট্রীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন এর মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদন করে কেন্দ্রীয় সরকার। এই চুক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীর সদস্যরা যারা পশুসখী হিসেবে নিয়োজিত, তারা প্রাণী স্বাস্থ্যের প্রাথমিক পরিষেবা প্রদানে এক্রিডিটেড এজেন্ট ফর হেল্থ এন্ড এক্সটেনশন অফ লাইভস্টক প্রোডাকশন এর স্বীকৃত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পশু চিকিৎসা পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় বর্তমানে একটি ভেটেরিনারি কলেজ রয়েছে। সেখানে ফ্যাকাল্টির কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে এই সমস্যা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এই দপ্তরের কর্মীরা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি পশু স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। এ – হেল্প এর অধীনে স্বীকৃত প্রতিনিধি হিসাবে পশুপালন কর্মীদের অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে রাজ্যের পশু স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরো উন্নত করবে।

ডাঃ সাহা বলেন, এই প্রকল্পের অধীনে ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশনের (টিআরএলএম) সাথে যুক্ত পশুপালন কর্মীরা স্বীকৃত এ-হেল্প প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবেন। রাজ্যের প্রানী সম্পদ বিকাশ দপ্তর ন্যাশনাল ডায়েরি ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট বোর্ড এর সহায়তায় এই সমস্ত নির্বাচিত পশু-সখীদের ১৬ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবে। প্রশিক্ষন পরবর্তীকালে সমস্ত প্রশিক্ষন প্রাপ্ত পশু-সখীদের মাধ্যমে প্রাথমিক প্রাণী পরিষেবা একেবারে গ্রামীন স্তরের প্রাণী পালকদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সঠিক প্রাণী স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে কৃত্রিম প্রজনন টিকাকরনের মত পরিষেবাগুলি স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে করা হবে। স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি গ্রামের গবাদি পশুপাখীর পরিসংখ্যা নথিভুক্ত করা, পশুপাখীর জন্ম মৃত্যুর হিসাব রাখাও এ-হেল্প পশু সখীদের কাজে আসবে। এই প্রকল্পে পশু সখীরা গ্রামের প্রাণী পালকদের বিজ্ঞান সম্মত প্রাণী পরিচর্যা ও অন্যান্য প্রাণী পালক বিষয়ক তথ্য সরবরাহ করবে। এদিন অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণী সম্পদ বিকাশ মন্ত্রী সুধাংশু দাস, সচিব দীপা ডি নায়ার সহ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ।

tripura

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর হবে জনগননা। আর জনগননার ভিত্তিতে হবে বিভিন্ন রাজ্য বিধানসভা ও লোকসভার ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাস। এক্ষেত্রে বাড়বে আসনসংখ্যা। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে জনগননার কাজ শুরু হবে। জনগননার পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ার পর, ২০২৬ সালেই গঠন হবে ডিলিমিটেশন কমিশন। তাদের কাজ হবে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধিরহার এবং মোট জনসংখ্যা সহ কয়েকটি মাপকাঠি অনুযায়ী লোকসভা ও বিধানসভা আসনের সীমানা পুনবিন্যাস। ওই বর্ধিত লোকসভা আসনের ভিত্তিতেই ২০২৯ সালে হবে সাধারণ নির্বাচন। আর মোদি সরকারের টার্গেট অনুসারে যদি এক দেশ এক নির্বাচন নীতি কার্যকর হয়ে যায় তাহলে ২০২৮ সালের বদলে ২০২৯ সালে লোকসভার সাথে একসাথে হবে বিধানসভা ভোট৷ যদিও বিরোধী সিপিএম সহ বিরোধী দলগুলো এক দেশ এক নির্বাচন নীতির বিরোধীতা করে মাঠঘাট গরম করতে নেমে পড়েছে। রাজ্যেও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহন করেছে বিরোধী দলগুলো৷ তাদের বক্তব্য এক দেশ এক নির্বাচন নীতি কার্যকর হলে দেশের স্বার্বভৌমত্ব, অখন্ডতার উপর যেমন আঘাত আসবে তেমনি বিপন্ন হবে সংবিধান৷ ডিলিমিটেশনের ফলে রাজ্যে লোকসভা আসন বেড়ে হবে তিন আর বাড়বে বিধানসভার আসনও৷ বর্তমানে ৬০ আসন বিশিষ্ট রাজ্য বিধানসভায় জনজাতি সংরক্ষিত আসন রয়েছে ২০টি আর তপশিলি জাতি সংরক্ষিত আসন রয়েছে ১০টি৷ বাকি ৩০টি আসন সাধরন৷ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ডিলিমিটেশনের ফলে রাজ্য বিধানসভায় কম করেও পাঁচ থেকে সাতটি আসন বাড়তে পারে৷ সদরের আসন সংখ্যাও বাড়বে৷ যেমন সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে বাধারঘাট বিধানসভা কেন্দ্রে। বেশি ভোটার রয়েছে এরকম বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ভেঙ্গে নতুন কেন্দ্র তৈরি করা হবে। দুর্বল আসনের পাশের কেন্দ্রেই যদি মজবুত ভোটব্যাঙ্ক থাকে, তাহলে দু’টি জুড়ে গেলে ধাক্কা লাগবে না গেরুয়া শিবিরে। এই আসন বিন্যাসই ভোটের অঙ্ক হতে চলেছে মোদির?

অতীত রীতির পরিবর্তন অবশ্য আরও হবে। ২০২৫ সালে জনগননা হলে সেই মতোই কার্যকর হবে ভবিষ্যতের জনগননার বৃত্ত। অর্থাৎ, আগামী দিনে প্রতি ১০ বছর অন্তর এই ২০২৫ সালকে ভিত্তি করেই হবে জনগননা। সবটাই ভোট অঙ্ককে মাথায় রেখে যে করা হচ্ছে তা বুঝতে বাকি নেই কারোর। যতটুকু খবর সীমানা পুনর্বিন্যাসে রাজ্যে লোকসভার দুটি আসন বেড়ে হবে তিনটি, ডিলিমিটেশনের পর আগামী লোকসভা নির্বাচন হবে তিনটি আসনে৷ জানা গেছে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর দিকে নজর মোদি-শাহের৷ বিজেপি প্রভাবিত উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর বিধানসভা কিংবা লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়লেও সঙ্কট কমবে। দক্ষিণে এমনিতেই বিজেপির ভিত মজবুত নয়। সেখানে আসন কমলে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের লাভই বেশি। কিন্তু মোদির উদ্বেগ বাড়িয়েছে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটের ফল। শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত বহু রাজ্যেই ধস নেমেছে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে। আসন পুনর্বিন্যাস হলে গেরুয়া শিবির অঙ্ক কষবেই। মোট কথা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলকে মাথায় রেখে ২০২৯ সালের ভোটের লক্ষে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে মোদি শিবির। সেই লক্ষকে মাথায় রেখেই নতুন পার্লামেন্ট হাউস তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের অভিমত, আসন সংখ্যা হতে চলেছে অন্তত ৭৮৮। জানা গেছে ডিলিমিটেশনের ফলে বিধানসভা আসন সংখ্যা বাড়লে এতে লাভবান হবে জনজাতিরাও৷ বাড়বে জনজাতি সংরক্ষিত আসন। তবে মোদি – শাহদের প্রাথমিক লক্ষ্যই বাংলা এবং উত্তরপ্রদেশ। এই দু’টি রাজ্যের আসন বাড়িয়ে তাদের দু’ভাগে ভেঙে দেওয়ার ফর্মুলা কাজে লাগানো হলেও বিস্ময়ের কিছু থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অবশ্য শুধু বর্ধিত লোকসভা আসনের ভিত্তিতে ভোটের অঙ্কে থেমে থাকতে চাইছেন না। তাঁর টার্গেট ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন। এখানেই অঙ্ক শুরু মোদির।

পাগল কুকু‌রের কাম‌ড়ে গুরতর আহত হ‌লেন প্রায় প‌নে‌রো জন। এ‌দের ম‌ধ্যে দশ জনের আঘাত গুরুতর ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন ধর্মনগরে জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।‌ তি‌নি জানান গত কয়‌দি‌নে কুকুরের কামড়ে আহত হ‌য়ে বি‌ভিন্ন বয়‌ষের ব‌্যক্তিরা হাসপাতালে আসছেন। আজ যারা এ‌সে‌ছেন তা‌দের মধ্যে দশজনের অবস্থা খুবই খারাপ। এ‌দি‌কে পাগল কুকু‌রের দাপ‌টে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে ধর্মনগর শহর জু‌ড়ে। পাগল কুকুরের কামড়ে আহত পুলিশ আধিকারিক সুলেমান রিয়ান জানান,তাদের কাছে খবর আসে একটি কুকুর রাস্তায় যাকে তাকে কামড় দিচ্ছে। সেই খবর পাওয়ার পর তারা যখন ছুটে যায় রাজবাড়ি এলাকায়,তখন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকেও কামড় দিয়ে দেয় পাগল কুকুরটি। এ‌দিনই পুর পরিষদের এক মহিলা সাফাই কর্মীকে পাগল কুকুর কামড় দেয়। প‌রে তা‌কে দমকল কর্মীরা ছুটে গিয়ে উদ্ধার ক‌রে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে ভ‌র্তি ক‌রেন। তাছাড়াও আরও কয়জন পথচারী পাগল কুকু‌রের আক্রম‌নের শিকার হ‌য়ে‌ছেন ব‌লে জানা গে‌ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল গত কয়‌দিন ধ‌রে পাগল কুকুরটি নি‌র্বিচা‌রে যা‌কে তা‌কে কামড়ে চল‌লেও এ বিষ‌য়ে প্রশাসন‌কে তেমন ব‌্যবস্থা গ্রহ‌নের খবর নেই।ফ‌লে স্থানীয় জনম‌নে প্রশাস‌নের বিরু‌দ্ধে ক্ষোভ সহ আতঙ্ক বিরাজ কর‌ছে।