IGM

IGM হাসপাতালে এমনিতেই রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই, তার উপর আবার জনসভা!

IGM হাসপাতালের নাকের ডগায় উমাকান্ত একাডেমির মাঠ জনসভার জন্য চেয়েছে CPIM। একটি রেফারেল হাসপাতালের রোগীদের কষ্ট হবে জেনেও কিভাবে সিপিএম এই আবদার করলো সেটাই প্রশ্ন। IGM হাসপাতালের সামনের রাস্তা দিয়ে যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মিছিলের অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয় না; সে জায়গায় প্রকাশ্য জনসভার আবদারের পেছনে কি রাজনীতি, সেটাই সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাস্য।

আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে CPIM দলের ২৪ তম রাজ্য সম্মেলন। প্রথম দিনেই হবে প্রকাশ্য সমাবেশ। আর প্রকাশ্য সমাবেশের জন্য উমাকান্ত ময়দান চেয়েছে সিপিআইএম দল। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক কোন অনুমতি মেলেনি। আর অনুমতি দেবেই বা কেন? তবে সিপিআইএম দল উমাকান্ত ময়দানকে টার্গেটে রেখেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই জানালেন দলের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। এখন প্রশ্ন হল উমাকান্ত ময়দান কি মিলবে? কারন হলো, উমাকান্ত ময়দানের সাথেই রয়েছে IGM হাসপাতাল। হাসপাতালের সামনে উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে জনসভা করা কি শোভনীয়। উমাকান্ত মাঠে ইদানিংকালে কোন রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশ হয়েছে কিনা তা কারোর জানা নেই। দীর্ঘ ৩৫ বছর সিপিআইএম দল ক্ষমতায় ছিল। তাদেরও বিষয়টি জানা রয়েছে। তারপরেও উমাকান্ত মাঠ চাইছে সিপিআইএম দল। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে উমাকান্ত মাঠের দাবি জানিয়েছেন তারা। উমাকান্ত মাঠ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক অনুমতি মেলেনি। এর আগে স্বামী বিবেকানন্দ মাঠ চেয়েছিল সিপিআইএম দল। গত ২৬ ডিসেম্বর ক্রীড়া পর্ষদের কাছে আবেদন জানিয়েছিল সিপিএম। ক্রীড়া পর্ষদ প্রথম দিকে মাঠটি দিতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ক্রীড়া পর্ষদ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় আগামী ২৯ ডিসেম্বর আরবান দপ্তরের উদ্যোগে স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে হবে স্ব- স্বহায়ক দলের মেলা। স্ব-স্বহায়ক দলের মেলা হওয়ার কারণে মাঠ দেওয়া যাবে না বলে ক্রীড়া পর্ষদ থেকে সিপিআইএম দলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর সিপিআইএম দল সিদ্ধান্ত নেয় আগরতলার রবীন্দ্র ভবনের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্য সমাবেশ করা হবে। এখন দেখার বিষয় প্রকাশ্য সমাবেশর কোন স্থানে হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন দলের সর্বভারতীয় নেতারা। রাজ্য সম্মেলনে দলের সর্বভারতীয় নেতা প্রকাশ কারাত থেকে শুরু করে বৃন্দা কারাত, পলিটব্যুরোর সদস্য অশোক ধাওউলে উপস্থিত থাকবেন। সিপিআইএম দলের নেতারা মনে করছেন প্রকাশ্য সমাবেশে এবার রেকর্ড সংখ্যক জমায়েত হবে।

বলিউড

বলিউড তারকা সইফ আলি খানের দুঃসময়, একান্ত হবার পর সম্পত্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা!

বলিউড অভিনেতা সইফ আলি খান ও তাঁর পরিবার বর্তমানে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে আইনি জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। ভোপালের প্রাক্তন নবাব হামিদুল্লাহ খানের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত এই সম্পত্তি ‘শত্রু সম্পত্তি আইন, ১৯৬৮’ এর আওতায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

ইতিহাস অনুযায়ী, নবাব হামিদুল্লাহ খানের তিন কন্যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ কন্যা আবিদা সুলতান দেশভাগের পর পাকিস্তানে চলে যান। ফলে, তাঁর উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে, মেজো কন্যা সাজিদা সুলতান ভারতে থেকে যান এবং তাঁকে নবাবের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সাজিদার পুত্র মনসুর আলি খান পতৌদি এবং পরবর্তীতে তাঁর সন্তান সইফ আলি খান এই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। ২০১৫ সালে, শর্মিলা ঠাকুর ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ‘শত্রু সম্পত্তি’ ঘোষণার বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আপিল করেন এবং স্থগিতাদেশ পান। তবে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়, যার ফলে সম্পত্তি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হতে পারে। বর্তমানে, বলিউড তারকা সইফ আলি খান ও তাঁর পরিবার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা পেয়েছেন। তারা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করেন, তবে সম্পত্তিগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।

এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, এবং পতৌদি পরিবারের ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি রক্ষার জন্য তারা কি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন?

ভারতীয়

 ভারতীয় জনতা পার্টির সংগঠন অনেক শক্তিশালী, ত্রিপুরা রাজ্যে: মুখ্যমন্ত্রী

ভারতীয় জনতা পার্টিতে কাজের মাধ্যমেই বিশ্বাস অর্জন করে নিতে হবে। তাই এখানে গ্রুপের কোন প্রয়োজন হয় না। কাজের মধ্য দিয়ে নিজেদের পরিচিতি গড়ে তুলতে হবে। ত্রিপুরা রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সংগঠন অনেক শক্তিশালী। বৃহস্পতিবার টাউন বড়দোয়ালি মন্ডলের বুথ সভাপতিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। সভায় বিভিন্ন ইস্যুতে সিপিএম ও কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সভায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে সারা রাজ্য জুড়ে ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। যা জেলা সভাপতি পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। যারা নির্বাচিত হয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছেন আমি তাদের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও হার্দিক অভিনন্দন জানাই। আগামীদিনে বড়দোয়ালি মন্ডল যাতে একটা মডেল মন্ডল হিসেবে পরিচিতি পায় সেই দিশায় কাজ করবেন তারা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কাজের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। যে কাজ করবেন তিনি বিশ্বাস অর্জন করবেন। ভারতীয় জনতা পার্টিতে কাজের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। কাজ ছাড়া নিত্যদিন আসলে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হবে না। এমন একটা পার্টির প্ল্যাটফর্মে আমরা রয়েছি। আগামীদিনে এই প্ল্যাটফর্ম সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এতে গ্রুপ করার কোন প্রয়োজন হয় না। কাজের নিরিখেই পদের নির্বাচন হয়। তাই কাজের কোন বিকল্প নেই। কাজের মাধ্যমেই একেকজনের পরিচিতি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার বুথ শক্তিশালী বুথ আমরা সবসময় বলি। আমি যখন ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করি তখন যে কাজই দেওয়া হোক সেটা মনেপ্রাণে করার চেষ্টা করি।আর সিপিএম পার্টি মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাদের জন্যই কাজ করার তাগিদ এসেছে যে, যেভাবেই হোক সিপিএম পার্টিকে এখান থেকে সরাতে হবে। এজন্যই ২০১৮ নির্বাচনে এত ভোটে, এত আসন সংখ্যা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি আমরা। ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর মানুষের একটা বিশ্বাস এসেছে। মানুষের বিশ্বাস হয়েছে যে একমাত্র তিনিই পারবেন ত্রিপুরাকে কমিউনিস্ট মুক্ত করতে। এরআগে কংগ্রেসের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি এখানে তাদের কুস্তি, আর দিল্লিতে দোস্তি। মানুষ বারবার বিশ্বাস করেছে তাদের। আর বারবার ধোঁকা খেয়েছে। তাই বুথের দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও যখন যে দায়িত্ব দেওয়া হবে তখন মনোযোগ সহকারে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। “আমার ক্ষেত্রে কখন আমি মুখ্যমন্ত্রী হবো কিংবা রাজ্য সভাপতি হবো – সেটা মাথাতেই ছিল না।” কিন্তু মানুষের জন্য নীরবে কাজ করে গিয়েছি। ট্রেনে চড়ে একা একা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে গিয়েছি। যখনই যে কাজ দেওয়া হয়েছে মনেপ্রাণে করার চেষ্টা করেছি। সভায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমাকে মেম্বারশিপ ড্রাইভের ইনচার্জের দায়িত্ব যখন দেওয়া হয় তখন সাকুল্যে ১ লক্ষ ২৪ হাজার মেম্বার ছিলেন। আমাকে টার্গেট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে আমি ৩ লাখ বলি। আর সেই ৩ লাখ থেকে একেবারে প্রায় ৭ লাখ পর্যন্ত মেম্বার বানাতে সমর্থ হই আমরা। দিল্লিতেও এনিয়ে আমাদের কাজকর্ম প্রশংসিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। আমাদের ত্রিপুরায় ভারতীয় জনতা পার্টির সংগঠন অনেক শক্তিশালী। আমাদের কার্যকর্তাগণও সাংগঠনিক কাজকর্মে খুবই আন্তরিক।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, সদর আরবান জেলার জেলা সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য, ৮ বড়দোয়ালি মন্ডলের সভাপতি শ্যামল কুমার দেব, বড়দোয়ালি মন্ডলের প্রভারী সুব্রত চক্রবর্তী, প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি সঞ্জয় সাহা সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত বুথ সভাপতি, বুথ কমিটির সদস্য সহ অন্যান্য কার্যকর্তাগণ।

নেতাজি

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্ম দিবস পালিত হল ত্রিপুরা রাজ্যেও!

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্ম দিবস পালিত হচ্ছে আজ। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশের সাথে ত্রিপুরা রাজ্যেও পালিত হচ্ছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু জন্ম দিবস। রাজ্যের মূল অনুষ্ঠানটি হয় নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতন মাঠে। ১৯৫১ সাল থেকে নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের উদ্যোগে নেতাজির জন্ম দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন হয়ে আসছে। এবছর এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। তিনি জাতীয় পতাকার উত্তোলন করেন এবং পরে নেতাজির প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। আজাদহীন ফৌজের পতাকা উত্তোলন করেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সহ-সভাপতি ডাক্তার দিলীপ দাস। জয়হিন্দ স্লোগানে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। কাক ভোর থেকেই নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের ছাত্র-ছাত্রীরা সাজসজ্জা শুরু করে। সকাল থেকেই রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল উৎসাহী মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ইতিহাসের চিরস্মরণীয় কিংবদন্তি নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।অপসহীন যোদ্ধা নেতাজি সুভাষকে আরো বেশি করে জানতে যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন নেতাজির দেশপ্রেম উপলব্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি যুব সমাজের কাছে প্রেরণা।কংগ্রেসের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন নেতাজিকে এতদিন সম্মান দেয়নি দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতাজিকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবছরের মত এ বছরও নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের ছাত্রছাত্রীরা নানা বিষয় নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। প্রায় ২৪ টি নানা বিষয়ে তুলে ধরে ছাত্রছাত্রীরা; ছিল আটটি চলমান টেবলু। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বঙ্গসংস্কৃতির অন্তরালে বহুরূপী আজও কথা বলে। নবম শ্রেণীর ছাত্ররা এই ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়েছে শোভাযাত্রায়। এছাড়াও ছিল সবাই মিলে গর্ব মোরা নিপুন ত্রিপুরা। শীতের আকর্ষণ সুস্বাদু খেজুরের রস, বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে মনের আঙ্গিনায় সহ নানা বিষয়। বর্তমান যুগে হারিয়ে যাচ্ছে কীর্তন, কীর্তনের মনে প্রশান্তি আসে। আর এই বার্তা নিয়ে শোভাযাত্রায় নেতাজি স্কুলের ছাত্ররা অংশ নেয়। সবমিলিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ঘিরে মাঘের শীতকে উপেক্ষা করে রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল অসংখ্য মানুষ।। শোভাযাত্রা আগরতলা শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে আবার বিদ্যালয় ফিরে আসে।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা রাজ্যে AIDS এর মরণফাঁধ থেকে রক্ষা পাচ্ছ না, ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও!

ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনগুলো ক্রমশ HIV ও AIDS এর জন্য স্পর্শ কাতর হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা গণহারে মারন ব্যাধি AIDS এ আক্রান্ত হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, AIDS এ আক্রান্ত এসব ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায় সবার বয়স ২০ বছরেরও কম। এমন নয় যে, এরা সবাই গরীব ঘরের ছেলে-মেয়ে। আর্থিক ভাবে সচ্ছল এবং শহরের বনেদি পরিবারের ছেলে-মেয়েরাই বেশিরভাগ আজ আক্রান্ত হচ্ছে এই মারন ব্যাধিতে। ইতিমধ্যেই রাজ্য এইডস্ কন্ট্রোল বোর্ড রাজ্যের ২২৪ টি স্কুল এবং ২৪ টি কলেজকে AIDS প্রবন বলে চিহ্নিত করেছে। শুধু ছাত্র-ছাত্রীরাই নয়, AIDS রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্যের স্কুলের শিক্ষকরাও।

অতিসত্বর স্কুল-কলেজগুলোতে সচেতনতা মুলক কর্মসূচি, AIDS সনাক্তকরন কর্মসূচি শুরু করা দরকার। এক সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব কলেজগুলোতে যেভাবে AIDS বাড়ছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং কলেজগুলোতে নিয়মিত সনাক্তকরন শিবির করার উপর জোর দিয়েছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝাতে হবে; তাদের সুস্থভাবে বাঁচার জন্য পরামর্শ দিতে হবে; AIDS এর ভয়াবহ দিক তুলে ধরতে হবে; কোথায় কি? বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে? কোন ফলপ্রসু কর্মসূচিই নেই! জানা গেছে ইতিমধ্যেই বেশ কজন স্কুল শিক্ষক AIDS রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং তারা এইডস্ কন্ট্রোল বোর্ডের নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। কেননা, এভাবে স্কুল কলেজে AIDS সংক্রমিত হতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে সমাজকে তার কঠিন মূল্য দিতে হবে; তার বড় কারন হলো প্রতিনিয়ত AIDS রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ জন AIDS রোগী সনাক্ত হচ্ছে রাজ্যে। বছরে প্রায় ২০০০ জন AIDS রোগী এই মুহুর্তে সনাক্ত হচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্যে। লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে; ফলে আজ নামী খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যরাও এই রোগের কবল  থেকে রেহাই পাচ্ছো না। এই মারন ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরাও; এই মুহুর্তে রাজ্যে ১৬৮ জন শিশুর মধ্যে HIV পজেটিভ পাওয়া গেছে। সচেতনাই একমাত্র এই মরণফাদ থেকে মুক্তির উপায়; আর এই সচেতনতার অভাবই ডেকে আনছে এক মহাবিনাশ।

ত্রিপুরা রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, AIDS এ সংক্রমিত হওয়ার মূল মাধ্যম শিড়া পথে ড্রাগস্ গ্রহন। ত্রিপুরা রাজ্য AIDS কন্ট্রোল বোর্ডের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাজ্যে প্রতি ১০০ জন HIV পজেটিভ রুগীর মধ্যে ৮০ জনই আক্রান্ত হয়েছে শিড়া পথে ড্রাগস্ সেবনের মাধ্যমে। তবে যেভাবে রাজ্যে AIDS সংক্রমিত হচ্ছে তা ঠেকানোর জন্য রাজ্য AIDS কন্ট্রোল বোর্ডের লোক বল নেই বললেই চলে; মাত্র ২৭ জন কর্মী দিয়ে চলছে রাজ্য AIDS কন্ট্রোল বোর্ড। যদিও গোটা রাজ্যে এই মুহুর্তে ১৩২ টি HIV টেস্টিং সেন্টার রয়েছে; তবে যেভাবে রোগ সংক্রমিত হচ্ছে, তাতে সামাজিক উদ্যোগ ছাড়া এই রোগের সংক্রমন ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মতামত অভিজ্ঞ মহলের।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ডেস্টিনেশন,  ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারী!

ত্রিপুরা রাজ্যে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে, যার ফলে শিল্প স্থাপনের উপযুক্ত পরিবেশ ও তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার চাইছে বহিরাজের বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি রাজ্যে এসে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাক।

ত্রিপুরা সরকার চাইছে এবার ব্যবসার ‘ডেস্টিনেশন’ হোক এই রাজ্য। ব্যবসার ক্ষেত্রে সবাই যাতে ত্রিপুরায় আসেন এবং সেখানে বিনিয়োগ করেন। এর আগে অর্থাৎ ২০২৩ সালের বারানসিতে শোকেজিং ত্রিপুরা শীর্ষক বিজনেস কনক্লেভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই রাজ্যে। রাজ্যের কুইন প্রজাতির আনারসকে তুলে ধরে রাজ্যের ব্যবসা আরও বাড়াতে চাইছে সরকার। সেই লক্ষ্য নিয়ে বারানসীতে নিজেদের কুই্যন প্রজাতির আনারসকে তুলে ধরেন সরকার। এই আনারসের সঙ্গে বিভিন্ন কৃষিজাত জিনিস, ত্রিপুরার বিভিন্ন হস্তশিল্প, রাবার এবং বাঁশের তৈরি নানা সৌখিন দ্রব্য তুলে ধরা হল বারানসীতে। এই সঙ্গে তুলে ধরা হয় ত্রিপুরার পর্যটনকেও। ত্রিপুরা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি রাজ‍্য। এখানে উৎপাদিত বাঁশ থেকে খুবই উন্নত মানের বাঁশের সামগ্রী তৈরি করা যায়। এর পাশাপাশি ত্রিপুরায় উৎপাদিত রবারের গুণমানও খুবই ভাল। যে কোন রাজ্যের উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা একটা খুবই গুরত্বপূর্ণ‍্য ভূমিকা রাখে; সেক্ষেত্রে ত্রিপুরায় সড়ক যোগাযোগ, রেল যোগাযোগ এবং আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে। তাই সবদিক দিয়েই ত্রিপুরার আগামী ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল।

২০২৩ সালের ৩ মে শিল্প সামিটে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার উপস্থিতিতে ৮ জন শিল্প উদ্যোগপতির সঙ্গে ৩১২.৩৮ কোটি টাকার মৌ স্বাক্ষর করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা বিভিন্ন সময়ে বহিরাজ্যে বিজনেস কনক্লেভে অংশ নিয়ে উদ্যোগপতিদের রাজ্যে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এর ফাকে দেশের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সাথে দেখা করেছেন এবং রাজ্যে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবার রাজ্যে হচ্ছে ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ। আগামী সাত এবং আট ফেব্রুয়ারি শহরের একটি বেসরকারি হোটেলে এই বিজনেস কনক্লেভ হবে। আর এই বিজনেস কনক্লেভ থেকে ৬০০টির বেশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌ স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা। রাজ্যে পর্যটন ক্ষেত্রকে শিল্পের রূপ দেওয়া হয়েছে।রাজ্য ও বহিরাজ্যের পর্যটকরা রাজ্যে আসছেন। রাজস্ব সংগ্রহ বেড়েছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র গুলিরও পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। এই পর্যটনকে ভিত্তি করে রাজ্য ও বহিরাজ্যের সংস্থাকে ডেকে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ত্রিপুরা যে পর্যটকবান্ধব, সেখানে সহজে যাওয়া যায় এবং নিরাপদে সব জায়গায় ঘোরা যায় সেটাও সবার সামনে তুলে ধরা হবে। ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রধান বিনিয়োগের স্থান হিসেবে তুলে ধরার জন্যই এই কনক্লেভের আয়োজন করা হয়েছে। কনক্লেভে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, আইটি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ নিয়েও আলোচনা হবে। রাজ্যে কি কি সুবিধা রয়েছে সেগুলো তুলে ধরা হবে; ‘লক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো’। রাজ্যের বিভিন্ন হস্তশিল্প, রাবার এবং বাঁশের তৈরি নানা সৌখিন দ্রব্য তুলে ধরা হবে কনক্লেভে। রাজ্যে গত সাতটি অর্থবছরে ১৪১ টি ইউনিট ৯৯৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৭টি ইউনিট ৮৮.৩২৫ কোটি, ২০১৯ -২০অর্থবছরে আঠাশটি ইউনিট ১৪২ দশমিক ৭৪৫ কোটি। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ২২ টি ইউনিট ৩৩.৬২১ কোটি, ২০২১ – ২২ অর্থ বছরে ২৫টি ইউনিট ৮০.২২ কোটি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৩ টি ইউনিট ১৬২.৯৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। অপরদিকে ২০২৩ -২৪ অর্থ বছরে ২৩ টি ইউনিট ৫৭.৪৮ কোটি। ২০২৪- ২৫ অর্থবছরের ২৬ টি ইউনিট ৪২৮.৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বলে তথ্য দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। কনক্লেভে রাজ্যের স্থানীয় নানা শিল্প, উৎপাদন, হস্তশিল্পকে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। এই সমস্ত শিল্পকে আরও বেশি করে তুলে ধরতে এ ধরনের কনক্লেভের আয়োজন।

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সীমান্তে বীরজিৎ সিনহার লংমার্চ অভিযান!

বাংলাদেশে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি কৈলাসহরের রাঙ্গাউটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীপুর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাংলাদেশ সরকার অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করার প্রতিবাদে ঊনকোটি জেলা কংগ্রেস রাস্তা অবরোধ এবং বাংলাদেশের বর্ডারে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার জন্য লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিধায়ক বিরজিত সিনহা। বুধবার দুপুরে কৈলাসহরে কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানান বিধায়ক বিরজিত সিনহা। সাংবাদিক সম্মেলনে বিরজিত সিনহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোঃ বদরুজ্জামান, কংগ্রেস নেতা রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্য, শ্যামল ভট্টাচার্য, রুনু মিঞা, আশীষ সেনগুপ্ত, সুধাংশু সিনহা। সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক বিরজিত সিনহা জানান যে, আগামী ২৫জানুয়ারি সকাল নয়টায় কৈলাসহরের এয়ারপোর্টের সামনে কৈলাসহর-কুমারঘাট রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে এবং দেবীপুর এলাকায় ভারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার জন্য ২৫জানুয়ারি দুপুর বারোটায় কৈলাসহরের টিলাবাজার থেকে কর্মী সমর্থকরা লং মার্চ শুরু করবে। এছাড়াও বিধায়ক বলেন যে, দেবীপুর এলাকা সহ কৈলাসহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের পাশে মনু নদীর তীরে যে বাঁধ রয়েছে সেই বাঁধের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবীও রাখেন। তাছাড়া সাংবাদিক সম্মেলনে ঊনকোটি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোঃ বদরুজ্জামান জানান যে, আগামী পনেরো দিনের মধ্যে যদি রাজ্য সরকার কৈলাসহরের মনু নদীর কাছে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু না করে তাহলে কৈলাসহরকে রক্ষা করার জন্য কৈলাসহরে ৪৮ঘন্টার বনধ ডাকা হবে বলেও ঘোষণা দেন।

জিবি

জিবি হাসপাতালের পরিষেবার মান!

জিবি হাসপাতালের পরিষেবা উন্নত করার চেষ্টা করছেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। বিভিন্ন কর্মসূচিতে গিয়ে তিনি প্রায়শই জিবি হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এই হাসপাতালের পরিষেবা আরো উন্নত করার পাশাপাশি পরিকাঠামো ব্যবস্থার উন্নয়নেরও আশ্বাস দিচ্ছেন। এটাও ঠিক এখন জিবি হাসপাতালে অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা হয়।

এদিকে জিবি হাসাপাতালের মুকুটে যুক্ত করা হয়েছে কিডনি প্রতিস্থাপন ইউনিট। সম্প্রতি দুজনের কিডনি প্রতিস্থাপন ও হয়েছে। শীঘ্রই আরো একটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অপেক্ষমান তালিকায় আছেন বেশ কয়েকজন কিডনি আক্রান্ত রোগী। কিন্তু এর অবস্থা একেবারেই ঢাল তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মত। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য “বায়োপসি” করার মেশিন নেই কিডনি প্রতিস্থাপক ইউনিটের কাছে। রোগীকে কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকা খরচ করে বাইরে থেকে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়। কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া “ফিস্টুলা” তৈরি করতে হয় তাদের দেহে; কিন্তু জিবি হাসপাতালের স্বনামধন্য এবং বহু চর্চিত কার্ডিওলজি বিভাগের এতোটুকু সময় নেই, যে তারা ওই মুমূর্ষু রোগীদের সেবায় তাদের জন্য একটি “ফিস্টুলা” তৈরি করে দেবে। এ নিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি এবং কার্ডিওলজি বিভাগের বিভিন্ন তালবাহানায় বন্ধ হয়ে আছে এই প্রক্রিয়া। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য নাম কে ওয়াস্তে অন্য রাজ্যের ব্যবস্থাপনা দিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার চললেও, বাস্তবে মাকাল ফল বলেই ব্যাখ্যা করছেন রোগীর আত্মীয় পরিজনরা।

আগামীদিনে লিভার প্রতিস্থাপন সহ আরো জটিল রোগের চিকিৎসা হবে, এমনটাই বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বাস্তব চিত্র ঠিক তার উল্টো। জিবি হাসপাতালে রাতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। ইন্টার্ন ডাক্তাররা রাতের বেলায় হয়ে উঠেন সুপার স্পেশালিস্ট ডাক্তার এবং রাতেও তারাই সবেধন নীলমনি। হাসপাতালে কোনো রোগীর অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যে পাওয়া যাবে সেই অবস্থা নেই। পরদিন হয়তো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসে ইন্টার্নিদের সঙ্গে নিয়ে ওয়ার্ড ঘুরে যাবে; তাও সকাল ১০টার পর। এরমধ্যে হয়তো রোগীর অবস্থা আরো অবনতি হয়েছে। হয়তোবা রোগী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেছেন। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভা অধিবেশনে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে রাজ্য সরকারের নির্দেশ রয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে কাউকে রেফার করা যাবে না। তাই জিবি হাসপাতালে কোনো রোগী যন্ত্রণায় কাতড়াতে থাকলেও কিংবা ঠিকভাবে চিকিৎসা পরিষেবা না পেলেও তাকে অন্যত্র রেফার করতে রাজি নয় ডাক্তারবাবুরা। দেখা গেছে, জেলা কিংবা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা থাকা সত্বেও ইচ্ছে করে রোগীদের জিবিতে রেফার করে দেওয়া হয়; অথচ যে রোগের চিকিৎসার জন্যে রোগীকে জিবিতে পাঠানো হলো সেই রোগের চিকিৎসা হয়তো সম্ভব হতো ঐ জেলা হাসপাতালেই। এতে করে জিবি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না; এই শীতেও মেঝেতে কাতড়াতে হচ্ছে রোগীদের। জিবি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করছেন রোগীর পরিবার পরিজনরা; ঠিকভাবে পরিষেবা পাচ্ছেন না তারা। একদিকে ডাক্তারবাবুদের দেখা নেই অন্যদিকে একাংশ স্বাস্থ্যকর্মীদের দুর্ব্যবহার; ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে অসহায় হয়ে পড়ছেন রোগীরা। জিবিতে রোগী কল্যাণ সমিতি রয়েছে, এই সমিতির উদ্দেশ্য হলো রোগীদের কল্যাণে কাজ করা। কিন্তু গত প্রায় একবছরে রোগীদের কি কল্যাণ হয়েছে তা নিজেও বলতে পারবেন না রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মীনা সরকার। 

নরসিংগড়

নরসিংগড় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে  বাৎসরিক পুরস্কার বিতরণী উৎসব পালিত।

gggggggggggggg

নরসিংগড় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক মনোজ্ঞ বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী উৎসব সংঘটিত হয়েছিল ২১শে জানুয়ারী মঙ্গলবার। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন. সি. শর্মা মহোদয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর সাব – ডিভিসনের এস. ডি. এম. নির্মল কুমার, প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম-পরিচালক। হর্ষিতা বিশ্বাস, ককবরক ও অন্যান্য ভাষা দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সব্যসাচী সিং। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংগড়স্থিত ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দিরের অধ্যক্ষা স্বপ্না সোম মহোদয়া। এই উৎসবমুখর পরিবেশে নরসিংগড় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা সুচিত্রা সরকার মহোদয়া স্কুলের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলেন সবার সন্মুখে। বিদ্যালয়ের তরফ থেকে বার্ষিক অনুষ্ঠানে নাচ, গান, আর্ট, নাটক, যোগা, সেরা এন.সি. সি. ক্যাডেট ইত্যাদি বিভিন্ন বিভাগে ছাত্র- ছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। যে পুরস্কারটি সবার নজর কেড়েছিল তা হল “স্টুডেন্ট অফ দি ইয়ার” পুরস্কার। তাছাড়া একাডেমিক বিভাগে সেরার সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন হাউসের ছাত্র-ছাত্রীরা সমবেত সংগীত – নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে এক মনোজ্ঞ রূপ প্রদান করে। বিশেষ শিশুদের দ্বারা পরিবেশিত এক মনোমুগ্ধকর নৃত্য ছিল সবার প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু। এবং স্কুলের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি কামনা করেন সকাল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।

DNA

DNA ক্লাবের সাথে, বিজ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী!

DNA ক্লাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ত্রিপুরা রাজ্যের ১৭০ টির ও বেশি স্কুলকে। সারা রাজ্যে ১৭০ টির বেশি স্কুলকে DNA ক্লাবের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে ৩৭ টি স্কুলে DNA ক্লাব রয়েছে। DNA ক্লাব করার উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞানকে বেশি করে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া। স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে গবেষণাধর্মী কাজে উৎসাহ যোগানই হচ্ছে এর লক্ষ্য; জানালেন বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা।

বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে এ বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা জানিয়েছেন যারা কলেজ বা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেবে সেই সব প্রশিক্ষকদের সাথে নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি আলোচনা করবেন; থাকবে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ অধ্যাপক অধ্যাপিকারা। বহিরাজ্য থেকে যেসব বিশেষজ্ঞরা আসবেন তাদের ভাবনাও ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা হবে। বিজ্ঞানকে সঙ্গে নিয়েই উন্নত দেশ হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন বিজ্ঞান ছাড়া কোন দেশের পরিমাপ করা যায় না। উন্নত দেশ হতে গেলেই বিজ্ঞানকে আকড়ে রাখতে হবে। উন্নত দেশ মানেই বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ দেশ। বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারলে উন্নত দেশের খেতাব পাওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

তিনি অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞানকে বুকে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজ্যের স্কুল এবং কলেজগুলোর পাশাপাশি NIT সহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আই সি এআরকে এই ভাবনার সাথে যুক্ত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এতে করে আগামীদিনে, রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হবে। ছাত্রছাত্রীরা নতুন নতুন উদ্ভাবনের বিকাশ ঘটাতে পারবে। এতে সমৃদ্ধ হবে রাজ্য।