প্রশাসন

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষুব্ধ ত্রিপুরা রাবার অ্যাসোসিয়েশন!

রাবার বোঝাই গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায়, পাঁচ দিন পরও পুলিশ প্রশাসনের ঘুম ভাঙ্গেনি! ত্রিপুরায় রাবার উৎপাদন শিল্প ক্রমশ সংকটে পড়ছে। দুষ্কৃতিকারীদের দৌরাত্ম্যে রাবার চাষীরা আতঙ্কে রয়েছেন। একের পর এক রাবার চাষীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে, কখনো বা রাবার বাগানে আগুন, আবার কখনো রাবারের মজুদঘরে চুর!

৩০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কলাছড়া থেকে এক রাবার বোঝাই ট্রাক আমতলী থানা হয়ে বাইপাস ধরে খয়েরপুরের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ মহেন্দ্র কোম্পানির কাছে ৪-৫ জন দুষ্কৃতিকারী গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশির নামে চালককে বিভ্রান্ত করে। তারা চালককে জানায়, গাড়িতে নাকি গাঁজা রয়েছে, তাই তল্লাশি চালাতে হবে। কিছু বোঝার আগেই তিন দুষ্কৃতী চালককে বাইকে বসিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়, আর বাকি সদস্যরা গাড়িটি কাঁঠালতলির দিকে নিয়ে যেতে শুরু করে। কিন্তু চালক বুদ্ধি করে চলন্ত বাইক থেকে লাফ দিয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার আওয়াজ শুনে এলাকাবাসী ছুটে আসে এবং এক দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলে। এরপর প্রায় আধঘণ্টা পর ছিনতাইকারীরা বাধ্য হয়ে রাবার বোঝাই ট্রাকটি ফেরত দেয়।

ঘটনার পরপরই আমতলী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। চার-পাঁচজন দুষ্কৃতীর নাম ও ছবি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, আজ পাঁচ দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। ত্রিপুরা রাবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কল্যাণ দেববর্মা সরস্বতী পুজোর দিন এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “আমতলী থানার পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে চায়নি। পরে মামলা নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। দুষ্কৃতীদের নাম, পরিচয় ও ছবি দেওয়ার পরেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?” সংগঠনের সাবরুম বিভাগের সম্পাদক শংকর সিনহা বলেন, “এভাবে যদি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা কীভাবে ব্যবসা চালাব? পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় আমরা ক্ষুব্ধ।”

ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, প্রশাসন যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারে, তাহলে তারা কীভাবে বহিরাজ্যে রাবার পাঠাবেন? ত্রিপুরা রাবার অ্যাসোসিয়েশন, প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, “যদি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তারা রাবার রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য হবে।” বিগত কয়েক মাসে দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন সময় জিএসটি আধিকারিক কিংবা পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়ি থামিয়ে রাবার লুট করছে। এই সব ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দানা বাঁধছে।

ত্রিপুরার রাবার শিল্প রাজ্যের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আহরণের উৎস হলেও চাষিরা নিরাপদ নন। সরকার ও প্রশাসন যদি দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করে, তাহলে ত্রিপুরার রাবার ব্যবসায়ীরা ভয়াবহ সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ত্রিপুরার রাবার শিল্পের ভবিষ্যৎ এখন পুলিশের সক্রিয়তার ওপর নির্ভর করছে! প্রশাসন কি এবার দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এটাই এখন দেখার!

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বাড়ছে এইচআইভি এইডসের সংক্রমণ!

ত্রিপুরায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিরাপথে ড্রাগস নেওয়ার প্রবণতা ভয়ঙ্করভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। বিশেষ করে রাজধানী আগরতলায় হোস্টেলগুলিতে ড্রাগসের রমরমা চলছে বলে জানা গেছে। আগরতলা পুরনিগম এলাকার তিনশতাধিক ব্যক্তি ইতিমধ্যেই এইচআইভি পজিটিভ বলে চিহ্নিত হয়েছেন।

আগাম সতর্কবার্তা সত্বেও, কার্যকরী পদক্ষেপ নেই

tripura aids

প্রায় এক বছর আগে আগরতলা পুরনিগমে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে মেয়র দীপক মজুমদার ও উপস্থিত ছিলেন। সে সময়ের ত্রিপুরা স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির মিশন ডিরেক্টর দ্বীপ দেব্বর্মা জানিয়েছিলেন, শিরাপথে ড্রাগস গ্রহণের ফলে এইচআইভি সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, প্রতিটি পুর ওয়ার্ডে ড্রাগস ও এইচআইভির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। ক্লাবগুলোকেও যুক্ত করে প্রতিটি এলাকায় নেশার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনার কার্যকরী কোনো প্রয়াস চোখে পড়েনি, এবং প্রশাসনিক কোনো কঠোর পদক্ষেপ ও দেখা যায়নি। ফলে ক্রমাগত বাড়ছে শিরাপথে মাদক গ্রহণ এবং তার সঙ্গে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ।

হোস্টেলগুলিই ড্রাগসের প্রধান ঘাঁটি

উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে যে, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রের কিছু হোস্টেলে চলছে মাদকের অবাধ কারবার। বিশেষ করে কৃষ্ণনগর ও ধলেশ্বর এলাকার কয়েকটি হোস্টেল চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ড্রাগসের সেবন ও বিক্রি দুটোই চলছে। প্রশাসন বিষয়টি জানলেও, আইনি জটিলতার কারণে এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। সূত্রের খবর, এক বছর আগে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কয়েকটি বয়েজ হোস্টেলে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করলেও, হোস্টেলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গার্ড ও হোস্টেল ইনচার্জদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত ছাত্ররা বাইরে বের হতে না পারে। কিন্তু এসব নির্দেশ যে কেবলমাত্র কাগজে-কলমেই রয়েগেছে, তা এখন স্পষ্ট

হোস্টেলের আশেপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও ইনজেকশনই প্রমাণ করে, কীভাবে তরুণ প্রজন্ম এই মরন নেশার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামের সহজ-সরল ছাত্রদের টার্গেট করছে মাদক কারবারিরা। প্রথমে নামমাত্র মূল্যে ড্রাগস সরবরাহ করে তাদের আসক্ত করে তোলা হয়, তারপর তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ভয়াবহ পরিস্থিতি

ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী এইচআইভি পজিটিভ হয়ে গেছে। পশ্চিম জেলার ৫৭টি স্কুল ও কলেজের ৬২ জন পড়ুয়া ইতিমধ্যেই এইচআইভি পজিটিভ বলে চিহ্নিত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির কর্তৃক সমীক্ষায় জানা গেছে, ত্রিপুরায় প্রায় ৫৭০ জন স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া এই মারণ রোগে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অধিকাংশ নেশাগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রী নিজেদের আড়ালে রাখার চেষ্টা করে। এদিকে, পশ্চিম জেলার পর দক্ষিণ ত্রিপুরা ও ধলাই জেলার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শহরের ছয়টি নামী স্কুলে ২০-২৫ জন ছাত্র ইতিমধ্যেই এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছে।

সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ

শুধু এইচআইভি-ই নয়, ড্রাগস ব্যবহারের ফলে হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বিশ্ব এইডস দিবসে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি রাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠিত কলেজের ছাত্রদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের কথা জানিয়েছিলেন। তখনই তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা মূলক কর্মসূচি নেওয়ার জন্য। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রয়াস দেখা যায়নি। শুধু স্কুল-কলেজ নয়, নেশামুক্তি কেন্দ্রেও ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। আগরতলার ডনবস্কো এলাকার একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে ২৭ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

জনজাতি এলাকাতে দ্রুত ছড়াচ্ছে সংক্রমণ

এডিসির সংস্কৃতি দপ্তরের নির্বাহী সদস্য কমল কলই জানান, রাজ্যের প্রত্যন্ত জনপদেও এইচআইভি সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একসময় কাঞ্চনপুর ছিল সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল, কিন্তু বর্তমানে সিমনা থেকে কিল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় জনজাতি যুবক-যুবতীরা শিরাপথে ড্রাগস নিচ্ছে, ফলে দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়ছে এইচআইভি।

ড্রাগসের সরবরাহ

স্থানীয় সূত্রের খবর, অভয়নগর ও বটতলা বাজার এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চক্র পরিচালিত হচ্ছে। এখান থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হোস্টেল ও সরকারি আবাসিকেও ড্রাগস সরবরাহ করা হচ্ছে। শিশুবিহার স্কুল সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত যাত্রীনিবাসেও ড্রাগসের রমরমা কারবার চলছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন ড্রাগসের বিরুদ্ধে বারবার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও, বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং দিনের পর দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে ত্রিপুরার তরুণ প্রজন্ম ভয়াবহ সংকটে পড়বে। শুধু ভাষণ বা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন জরুরি। ত্রিপুরায় তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। হোস্টেল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে কড়া নজরদারি চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সচেতনতা মূলক কর্মসূচি বাড়ানোর পাশাপাশি, ড্রাগস ও এইচআইভি সংক্রমণ রোধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে, আর তার মাশুল দিতে হবে গোটা রাজ্যকে।

উত্তর

উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়নে, বাজেটে বড়সড় বরাদ্দ..!

উত্তর পূর্বাঞ্চলের সংযোগ বাড়াতে উড়ান প্রকল্পের আওতায় ১২০টি নতুন গন্তব্য যুক্ত করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে ছোট বিমানবন্দর ও হেলিপ্যাড নির্মাণে জোর দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে আগামী ১০ বছরে ৪ কোটি যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

শক্তি ক্ষেত্রে উন্নয়ন

উত্তর পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও সহজলভ্যতা বাড়ানোর জন্য বাজেটে শক্তি ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সাল পর্যন্ত জল জীবন মিশনের সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে, যা গ্রামীণ এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহকে আরও দৃঢ় করবে।

কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে উন্নতি

কৃষি ক্ষেত্রে আসামের নামরূপে ১২.৭ লক্ষ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য সারের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পাবে, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, আগামী ছয় বছরে এনএএফইডি (NAFED) এবং এনসিসিএফ (NCCF)-এর মাধ্যমে শস্য ও ডাল উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নারী ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতি

গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ডাক বিভাগের ভূমিকা বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME)-তে নতুন উদ্যোগ এবং নারী ক্ষমতায়নে দ্বিতীয় পর্যায়ের “সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি” ও পুষ্টি সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

পর্যটন ও গবেষণায় নতুন দিশা

উত্তর পূর্বাঞ্চলে পর্যটন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, ডিজিটাল উন্নতি এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশেও বাজেটে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষত, এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই বাজেটের বরাদ্দ ও নীতি সংস্কারের ফলে অষ্টলক্ষীর আরও বেশি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্প প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের এই উদ্যোগ উত্তর পূর্বাঞ্চলকে দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

রান্নার

রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি কমলো, মহার্ঘ পেট্রোপণ্য!

সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধাক্কা! রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি কমিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন বাজেটে এলপিজি ভর্তুকি আরও কমানো হয়েছে, যার ফলে গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে। ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি ক্রমাগত কমানো হয়েছে। মনমোহন সিং সরকারের আমলে যেখানে গ্রাহকরা প্রায় অর্ধেক ভর্তুকি পেতেন, এখন তা কমতে কমতে মাত্র দেড়শো টাকায় দাঁড়িয়েছে। এবারের বাজেটে ভর্তুকি কমে ১২ হাজার কোটিতে নেমেছে, যেখানে পূর্ববর্তী বাজেটে ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

ভর্তুকি কমানোর ঘোষণার পরই বড় ধাক্কা খেয়েছে সরকারি তেল সংস্থাগুলোর শেয়ার। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আবার বাড়তে পারে। বর্তমান সময়ে আগরতলায় পেট্রোলের দাম ৯৭.৫০ টাকা প্রতি লিটার।

অন্যদিকে গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি নতুন অভিযোগ উঠেছে সিলিন্ডারের ওজনে কারচুপি নিয়ে। গ্রাহকদের অভিযোগ, ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারে যথেষ্ট পরিমাণ গ্যাস থাকছে না। যেখানে আগে একটি সিলিন্ডার দিয়ে দেড় থেকে দুই মাস রান্না চলত, এখন তা এক মাসও টিকছে না। হোম ডেলিভারির কারণে গ্রাহকরা সিলিন্ডার মেপে নিতে পারছেন না, ফলে কোথায় কারচুপি হচ্ছে তা বুঝতে পারছেন না কেউই। প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে যেসব গরিব পরিবার বিনামূল্যে গ্যাস সংযোগ পেয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখন আর নতুন সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না। প্রায় ১০০০ টাকার বেশি দামে একটি সিলিন্ডার কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ফলে বহু পরিবার গ্যাস সংযোগ পেয়েও সিলিন্ডার ব্যবহার করতে পারছেন না, বরং ঘরে সাজিয়ে রেখেছেন। গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি কেরোসিনের মূল্যও লাগাতার বেড়ে চলেছে। রেশনে কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ৯৫ টাকা, আর খোলা বাজারে তা ১২০ টাকারও বেশি। ফলে অনেকেই আবার কাঠের উনুনের দিকে ফিরে যাচ্ছেন।

২০১৫ সালে মোদি সরকার ‘গিভ ইট আপ’ প্রকল্প চালু করেছিল, যার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ভর্তুকি ত্যাগ করা যেত। কিন্তু অনেকেই তা নাবুঝে ভুলবশত মোবাইলের ভুল অপশনে টিপে এই সুবিধা হারিয়েছেন। এছাড়া যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ টাকার বেশি, তাদের ভর্তুকি কেটে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের হিসাব বলছে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত এই ‘গিভ ইট আপ’ প্রকল্পে ৫৭,৭৬৮ কোটি টাকা সঞ্চয় করেছে কেন্দ্র। তবে গরিব ও মধ্যবিত্তরা আজ সেই সঞ্চয়ের বোঝা বয়ে চলেছেন। রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি কমানো, সিলিন্ডারের ওজনে কারচুপি, উজ্জ্বলা যোজনার সীমাবদ্ধতা এবং কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে।

মাতা

মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা..?

লোভের বশবর্তী হয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত আনার চেষ্টা করছে একটা দুষ্টচক্র, সাথে জড়িত মন্দিরের পুরোহিতরাও। ঐতিহ্যবাহী মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের গরিমা আজ কলঙ্কিত! তাও আবার মন্দিরে নিয়োজিত পুরোহিত কর্তৃক। যা ধর্মপ্রাণ মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।

মন্দিরে নিয়োজিত পুরোহিতের অতিরিক্ত লোভের কারণে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এক জনজাতি পরিবারের। ঘটনা মাতা সুন্দরী মন্দিরের বলি গৃহে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় রবিবার এক জনজাতি পরিবার তার পারিবারিক সমস্যায় মাতা ত্রিপুরা সুন্দরীর কাছে মানত করেছেন যে একজোড়া পাঁঠা মন্দিরে নিয়োজিত পুরোহিত কর্তৃক মায়ের নামে উৎসর্গকৃত করে মন্দির চত্বরে ছেড়ে দেবেন। এই পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। ব্যাঘাত ঘটে পুরোহিত কর্তৃক জোড়া পাঁঠা উৎসর্গ করে, সেই পুরোহিত নিজের হাত থেকে জোড়া পাঁঠা ছাড়তে চাইছিলেন না। এমনকি ওই জোড়া পাঁঠা সেই পুরোহিতের নিজের পছন্দের নির্দিষ্ট জায়গায় বেঁধে রেখেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিমত।

যে জনজাতি পরিবার জোড়া পাঁঠা মন্দির চত্বরে ছেড়ে দেবেন বলে এনেছিলেন তাদের অনেক আকুতি মিনতির পরও পাঁঠা জোড়া আর ছাড়া হয়নি বলে অভিযোগ মন্দিরের তিন পুরোহিত তিমির চক্রবর্তী, বিজন চক্রবর্তী ও সঞ্জয় চক্রবর্তী-র বিরুদ্ধে। অবশেষে এক প্রকার বাধ্য হয়েই ওই জনজাতি পরিবার মন্দিরের অফিস গৃহে গিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। পরে শোনা যায় অফিসের হস্তক্ষেপে পাঁঠা ছেড়ে দেওয়া হয়।ত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ ওই পুরোহিত এরই মধ্যে কয়েকজন পাঁঠা বেপারীকে খবর দেন পাঁঠা খরিদ করার জন্য। মন্দিরে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষ যখন চেপে ধরেন ওই পুরোহিতকে তিনি বলেন “মন্দির চত্বরে ছাড়া যাবে না” সেটা ওনার পছন্দের জায়গায় উনার হাত দিয়ে ছাড়তে হবে এটাই নাকি মন্দিরের নিয়ম। এ ব্যাপারে মন্দিরের ম্যানেজার বাবুর সঙ্গে কথা বললে উনি জানান অনেকদিন ধরেই পাঁঠা নিয়ে এই অরাজকতা চলে আসছে। এ ব্যাপারে উনার কাছে খবর আছে কিন্তু কেউ কোন অভিযোগ করেনি বলে উনি এতদিন এর কোনো বিহিত  করতে পারেননি। আজকে প্রথম জনজাতি পরিবারটি অভিযোগ করাতে ঘটনাটা স্পষ্ট হলো।আর উৎসর্গকৃত জোড়া পাঁঠা মন্দিরের নিয়োজিত পুরোহিতের পছন্দের নির্দিষ্ট স্থানে ছাড়তে হবে এমন কোন আইন নেই। যিনি উৎসর্গ করবেন উনার ইচ্ছাতেই সবকিছু হয়। ম্যানেজারবাবু আরো বলেন এ ব্যাপারে মন্দিরের সেবাইত জেলা শাসককে সবকিছু জানানো হবে বিস্তারিতভাবে।

গত কয়েক মাস আগে মন্দিরের বলি গৃহের সামনাকে মাংসের বাজারে পরিণত করেছিল কিছুসংখ্যক টলুয়া। খবরের জেরে তা বন্ধ হয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। বর্তমানে বলি গৃহকে পাঁঠা বাজারে পরিণত করতে চাইছে মন্দিরে নিয়োজিত একাংশ পুরোহিত। কোন এক অজ্ঞাত কারনে মন্দিরের ট্রাস্ট কমিটি একেবারে চুপ, এই নিয়ে সর্বত্র চলছে চরম গুঞ্জন। পুরোহিত কর্তৃক মন্দিরের ভিতরে এই অরাজকতা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না  ফলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে।

ভারতের

ভারত-ইংল্যান্ড T20 সিরিজের ৫ম ম্যাচেও বিশাল জয় ভারতের!

ভারতের মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ টি২০ ম্যাচে ভারতীয় ক্রিকেট দল ইংল্যান্ডকে ১৫০ রানে পরাজিত করে সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এই ম্যাচে ব্যাট এবং বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন অভিষেক শর্মা, যা দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 ইংল্যান্ড টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ভারতকে। খেলতে নামে ওপেনার অভিষেক শর্মা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করেন। মাত্র ৫৪ বলে ১৩৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৭টি চার এবং ১৩টি ছক্কা। তার এই ইনিংসটি ভারতের T20 আন্তর্জাতিক ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি হিসেবে স্থান পেয়েছে; তিনি মাত্র ৩৭ বলে শতরান পূর্ণ করেন, যা রোহিত শর্মার ৩৫ বলে সেঞ্চুরির পরেই আসে। অভিষেকের এই বিধ্বংসী ইনিংসের ফলে ভারত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। ইংল্যান্ডের বোলাররা তার আক্রমণের সামনে অসহায় ছিল। বিশেষ করে, মার্ক উড এবং জোফ্রা আর্চার তাদের স্পেলের সময় প্রচুর রান দেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের ইনিংস শুরুতেই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। ফিল সল্ট কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা যথেষ্ট ছিল না। ইংল্যান্ডের পুরো দল মাত্র ১০.৩ ওভারে ৯৭ রানে অলআউট হয়।

বল হাতেও অভিষেক শর্মা তার দক্ষতা প্রদর্শন করেন। তিনি মাত্র এক ওভারে ৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন, যা ইংল্যান্ডের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিতে সহায়তা হয়। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন অভিষেক শর্মা। সিরিজ জুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য বরুণ চক্রবর্তী সিরিজ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান; তিনি সিরিজে মোট ১৪টি উইকেট নিয়েছেন।

এই জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় দল প্রমাণ করেছে যে তারা T20 ফরম্যাটে কতটা শক্তিশালী। অভিষেক শর্মার উত্থান দলের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি, এবং তার এই পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে দলের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনবে বলে আশা করা যায়।

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলার ম্যাচের পরে ভারতের কনকাশন বদলির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পরবর্তীম্যাচে আমরা ১২ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলব,” যা ভারতের কনকাশন বদলির সিদ্ধান্তের প্রতি তার অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।

সিরিজের পরবর্তী ধাপে উভয় দলই একদিনের ম্যাচে মুখোমুখি হবে, যা নাগপুরে অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় দলের এই জয় এবং অভিষেক শর্মার অসাধারণ পারফরম্যান্স দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। তার এই ইনিংসটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হবে বলে বিশ্বাস এবং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য প্রেরণার উৎস হবে এই পারফরম্যান্স। T20 সিরিজের এই ফলাফল উভয় দলের মনোবলেই প্রভাব ফেলবে, এখন দেখার একদিনের সিরিজে তারা কে কেমন পারফর্ম করে।

বিশ্ব

বিশ্বকাপ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা T20 বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয় ভারতীয় মহিলাদের।

অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা T20 বিশ্ব-কাপে অপরাজিত থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শিরোপা অর্জন করল ভারতের মেয়েরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৯ উইকেটে জয় লাভ করে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা দল। এই জয়ের মাধ্যমে তারা আবারও প্রমাণ করল, বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতীয় মহিলারাও কোন অংশে কম নয়।

ফাইনালের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

»দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ঃ ৮২/১০ (২০ ওভার)
»ভারত মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ঃ ৮৪/১ (১১.২ ওভার)

টস জিতে ভারত প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে মাত্র ৮২ রানে গুটিয়ে যায়। ভারতীয় বোলারদের দুর্দান্ত স্পিন ও পেস আক্রমণের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে। দলের হয়ে আয়ুশি শুক্লা, পারুনিকা সিসোদিয়া ও শাবনম শাকিল গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। প্রতিপক্ষের একমাত্র কিছু ব্যাটার ছাড়া কেউই তেমন স্কোর গড়তে পারেননি, যা ভারতের শক্তিশালী বোলিংয়েরই প্রমাণ।

জবাবে, মাত্র ৮৩ রানের লক্ষ্যে নেমে ভারতীয় ব্যাটাররা শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে। ওপেনার গংগাদি তৃষা ২৪ বলে ৩৮ রান করেন এবং সানিকা চালকে ১৫ বলে ২২ রান করেন। অধিনায়ক নিকি প্রসাদ দলকে সহজ জয়ে পৌঁছে দেন। ১১.২ ওভারেই ভারতীয় দল লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টেই ভারত অপরাজিত থেকে শিরোপা জিতেছে। প্রতিটি ম্যাচে তাদের ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং ছিল অসাধারণ। কোচিং স্টাফের দারুণ পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের চেষ্টার ফলেই ভারত দ্বিতীয়বারের মতো এই শিরোপা ঘরে তুলেছে।

চ্যাম্পিয়ন দলের তারকারাঃ

  1. নিকি প্রসাদ (অধিনায়ক)
  2. গুনালান কামালিনী (উইকেটকিপার)
  3. গংগাদি তৃষা
  4. সানিকা চালকে
  5. ঈশ্বরী আওসারে
  6. মিথিলা বিনোদ
  7. আয়ুশি শুক্লা
  8. যোশিথা ভি জে
  9. শাবনম শাকিল
  10. পারুনিকা সিসোদিয়া
  11. বৈষ্ণবী শর্মা

এই বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ভারতের মহিলা ক্রিকেট আরও শক্তিশালী হলো এবং তরুণ প্রতিভাদের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়ার পথ খুলে দিল। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, এই দলই একদিন সিনিয়র পর্যায়ে ভারতের হয়ে বড় মঞ্চে সাফল্য বয়ে আনবে। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা দলের এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য গোটা দেশ আনন্দে মেতেছে। সকল ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য কামনা করছে পুরো ভারতবাসী!

CPIM

যাত্রাপুর থানা রাজনৈতিক ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছেঃ CPIM!!

CPIM কাঠালিয়া আঞ্চল কমিটির উদ্যোগে দীর্ঘ সাত বছর পর যাত্রাপুর থানার বিরুদ্ধে প্রতিনিধিমূলক গণ ডেপুটেশন সংগঠিত হলো। সি.পি.আই.এম. কাঠালিয়া অঞ্চল কমিটির অফিস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি কাঠালিয়া বাণিজ্যিক এলাকা পরিক্রমা করে যাত্রাপুর থানার সামনে এসে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখায়।

বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল—

  • (১) মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করা।
  • (২) থানার দুইজন পুলিশ অফিসারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বাড়িতে ঢুকে হুমকি-ধমকি ও হামলার ঘটনা বন্ধ করা।
  • (৩) রাজনৈতিক মামলায় থানাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়া।

CPIM-র প্রতিনিধি দল থানার সাব-ইন্সপেক্টর অমরকিশোর দেববর্মার হাতে তাদের লিখিত দাবি তুলে দেন। তবে, থানার ওসি অনুপস্থিত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হয়নি বলে জানান সাব-ইন্সপেক্টর। তিনি আশ্বাস দেন, ওসি ফিরলে সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন— CPIM কাঠালিয়া অঞ্চল সম্পাদক কৌশিক চন্দ, CPIM জেলা কমিটির সদস্য আব্দুল করিম, নিদয়ার অঞ্চল সম্পাদক বিল্ল আচার্য, প্রবীণ পার্টি সদস্য ননী পালসহ মোট পাঁচজন। ডেপুটেশন দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের কাছে সি.পি.আই.এম. নেতৃত্ব জানায়, “পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করে ও শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করে, তাহলে আমাদের আর কোন কর্মসূচি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি আগের মতো পক্ষপাতমূলক আচরণ চলতে থাকে, তাহলে আমাদের আন্দোলন আরও তীব্র হবে।” বিক্ষোভ চলাকালীন এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। তবে সমগ্র কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ প্রশাসন তাদের দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।About Us

শচীন

ভারতীয় ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্য ‘সি.কে.নাইডু লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ পুরস্কার পেলেন শচীন তেন্ডুলকর।

শচীন টেন্ডুলকর ক্রিকেট দুনিয়ায় একটি অবিস্মরণীয় নাম। ভারতীয় ক্রিকেটে অতুলনীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিসিসিআই (BCCI)  “ক্রিকেটের ঈশ্বর” শচীন তেন্ডুলকরকে সম্মানিত করল। তাঁকে প্রদান করা হল ‘সি.কে.নাইডু লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ পুরস্কার, যা দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিগুলির মধ্যে অন্যতম।

বিসিসিআই-এর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণ করেন শচীন। ২৪ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক শচীন। তিনি প্রথম ব্যাটসম্যান যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি শতরান করার কৃতিত্ব অর্জন করেন

পুরস্কার গ্রহণের পর শচীন বলেন, “এটি আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য খেলতে পারা ছিল আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান। বিসিসিআই এবং সমর্থকদের ভালোবাসাই আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।” শচীনের এই বিশেষ সম্মানপ্রাপ্তিতে ক্রিকেট মহল এবং তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রাও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই পুরস্কার প্রাপ্তির মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেটে শচীন তেন্ডুলকরের অবদান আরও একবার স্বীকৃতি পেল, যা ভবিষ্যত প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে।

কেন্দ্রীয়

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পেশ করা বাজেট; যুব, মহিলা, কৃষক, গরীব মানুষের বাজেটঃমুখ্যমন্ত্রী!

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পেশ করা বাজেট ২০২৫-২৬; যুব, মহিলা, কৃষক, গরীব মানুষের বাজেট। এই বাজেট সবকা সাথ সবকা বিকাশের লক্ষ্যকে পূরণ করতে সহায়ক হবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পেশ করা সাধারণ বাজেট নিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

উল্লেখ্য, শনিবার পেশ করা কেন্দ্রীয় বাজেটে আয়কর নিয়ে বড় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও কর দিতে হবে না। নতুন কর কাঠামোয় মিলবে এই সুবিধা। নতুন কর কাঠামোতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বেতনভোগী কর্মীদের বছরে ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ে করের পরিমাণ শূন্য রাখা হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পেশ করা এবারের বাজেট খুবই ভালো হয়েছে। বিশেষ করে যুবদের জন্য, মহিলাদের জন্য। গরীবদের জন্যও এটা খুবই ভালো বাজেট। এমন ভালো মানের বাজেট আগে কখনো দেখতে পাই নি।

কৃষকদের জন্যও খুবই ভালো হয়েছে এই বাজেট। বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে নজর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। তুলো উৎপাদন এবং তার গুনমানের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর যুবদের বিকাশে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এজন্য স্টার্ট আপের মাধ্যমে যুবদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সামগ্রিক বিষয়ের উপরও নজর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। শুধু সরকারি চাকরি দিয়ে সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয়। তাই স্টার্ট আপে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামীদিনে মেডিকেলে যাতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এজন্য জোর দেওয়া হয়েছে। উড়ান স্কিমেও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এই স্কিমে সারা দেশে প্রায় ১২২টি নতুন ডেস্টিনেশন রাখা হয়েছে। ট্যুরিজম ডেস্টিনেশনের জন্য নতুন করে প্রায় ৫০টি স্পটে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। যাতে পর্যটকদের আরো আকর্ষিত করা যায়। এর পাশাপাশি এই বাজেটে জিম ব্যাংকের উপর বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামীদিনে খাদ্য নিরাপত্তার উপর গুরুত্ব রাখা হয়েছে।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, “এবারের বাজেটে বিহারের জন্য গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট এর সংস্থান রাখা হয়েছে। আর ৩০টি জীবনদায়ী ঔষধে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হল ১২ লাখ পর্যন্ত আয়করে ছাড় দেওয়া হয়েছে যা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য খুবই বড় বিষয়। বিভিন্ন বিষয় এবারের বাজেটে এসেছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, ঐতিহ্যবাহী স্থানের উন্নয়ন, নিউক্লিয়ার এনার্জি ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এই বাজেট খুবই জনমুখী হয়েছে। এজন্য আমি সর্বপ্রথমে যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই। আমি ধন্যবাদ জানাই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে এত সুন্দর বাজেট পেশ করার জন্য। এটা সবকা সাথ সবকা বিকাশের লক্ষ্যকে পূরণ করতে সহায়ক হবে।”