ত্রিপুরা

ত্রিপুরায় নিয়োগে বেড়েছে স্বচ্ছতা, কমেছে বেকারত্বঃ

ত্রিপুরায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এখন সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতার উপর নির্ভর করছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বুধবার বিকেলে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার রাজনৈতিক রঙ বিচার না করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিচ্ছে।”

এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জেআরবিটি (JRBT) কর্তৃক মাল্টি টাস্কিং স্টাফ (Group-D) এবং অন্যান্য পদে ২,৮০৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তরে ফার্মাসিস্ট ও ল্যাব টেকনেশিয়ান পদে আরও ৩৬৯ জনের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের জরিপ অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ত্রিপুরার বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি ছিল। তবে, গত চার বছরে রাজ্যে বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং বর্তমানে ত্রিপুরার বেকারত্বের হার ১.৭%, যেখানে জাতীয় গড় ৩.২%। তিনি আরও জানান, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ১৬,৪১১ জনকে সরকারি দপ্তরে স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয়েছে, এবং আরও ৫,৭৭১ জনকে চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার টেট, জেআরবিটি এবং টিপিএসসির মাধ্যমে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগ করছে। এখন আর কাউকে চাকরির জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান,
✅ আগরতলা, ধর্মনগর ও কৈলাশহরে তিনটি মডেল ক্যারিয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে।
✅ ২০১৮-১৯ থেকে ৯৬টি জব ফেয়ারের মাধ্যমে ২,১৩৫ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
✅ প্রায় ২২,০০০ যুবককে বিভিন্ন রাজ্যে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
✅ রাজ্যে ৫২,৪৬০টি স্ব-সহায়তা গোষ্ঠী (SHG) রয়েছে, যেখানে ৪.৭৩ লাখ সদস্য যুক্ত।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ত্রিপুরার সরকারও সেই পথেই চলছে। কর্মচারীরা সরকারের মূল চালিকাশক্তি, তাই যোগ্যদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে।”

এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়, বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ, খাদ্য ও পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য, বিধায়ক, প্রশাসনিক আধিকারিকরা। নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত কর্মচারীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। ত্রিপুরায় কর্মসংস্থানের এই নতুন উদ্যোগ রাজ্যের যুবসমাজের জন্য আশার আলো জাগিয়েছে।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরার সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগঃ আবেদন চলবে ১১ই মার্চ পর্যন্ত!

সরকারি সাধারণ ডিগ্রি কলেজের জন্য ১৩ জন অধ্যক্ষ নিয়োগ করতে চলেছে ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা দপ্তর। ত্রিপুরা লোকসেবা কমিশনের (TPSC) মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। অনলাইন আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১১ই মার্চ।

বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যের ২৫টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজের মধ্যে ১৬টি কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চলতে থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ত্রিপুরা উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ হয়ে বহু অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রাজ্য ছেড়ে বহিঃরাজ্যের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপক পদে যোগ দিচ্ছেন। কারণ, রাজ্যের কোনো সাধারণ ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপক (প্রফেসর) পদ নেই, যদিও শতাধিক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ইতোমধ্যেই প্রফেসর পদে পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন। অধ্যাপক না থাকায় গবেষণার সুযোগও সীমিত, ফলে পিএইচডি কোর্স কার্যত বন্ধ।

জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হলেও, রাজ্যের কলেজগুলোর পরিকাঠামো ভগ্নসার দশা। UGC-এর সেমিস্টার নিয়ম অনুযায়ী কলেজগুলিতে বছরে ১৮০ দিন ক্লাস করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। সঠিক অনুপাতে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস নেওয়া হচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরি কার্যত বন্ধ। কলা ও বাণিজ্য বিভাগের ক্ষেত্রেও সেমিস্টারে ৯১ দিনও পূর্ণাঙ্গ ক্লাস হচ্ছে না।

উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে রাজ্যে প্রায় ১,৭৮১ জন ইউজিসি স্বীকৃত অধ্যাপক প্রয়োজন। তবে ২০১৮ সালে পূর্বতন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১৮২টি অধ্যাপক পদের নিয়োগ বাতিল করা হয় এবং এরপর প্রায় দুই বছর কোনো নিয়োগ হয়নি। বিগত সাত বছরে মাত্র ৮১ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগ করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ২২টি পদে ককবরক ভাষার শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।নেট, স্লেট এবং পিএইচডি উত্তীর্ণ যুবক-যুবতীদের অভিযোগ, প্রায় ১,৫০০ জন উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী চাকরির জন্য রাজপথে ঘুরছেন, তাদের জন্য কোনো নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়নি, ফলে অনেকের চাকরির বয়সসীমা অতিক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।

২০২৩ সালের জুন মাসে আগরতলার টাউন হলে রাজ্যের কলেজগুলিতে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) প্রবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরিপূর্ণ সিলেবাস, পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং শ্রেণিকক্ষের ঘাটতির কারণে শিক্ষাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর ফলস্বরূপ প্রথম সেমিস্টারে প্রায় ৯,০০০ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। রাজ্যের বৃহত্তম কলেজগুলির মধ্যে আগরতলার রামঠাকুর কলেজ, বিবিএম কলেজ এবং উইমেন্স কলেজে এখনো নিয়মিত অধ্যক্ষ নেই। প্রায় ১৫,০০০ ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত থাকলেও কলেজ প্রশাসনিকভাবে অচল। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষদের প্রতিটি ছোটখাটো কাজের জন্য উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন খুব শীঘ্রই। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা আদৌ কাটবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

দিল্লি

দিল্লি বিধানসভা ভোটের এক্সিট পোলে এগিয়ে বিজেপি!

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস থাকলেও, প্রায় ২৭ বছর পর সরকার গঠন করতে পারে বিজেপি। বুথ ফেরত সমীক্ষার প্রাথমিক প্রবণতা এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্তত তিনটি এক্সিট পোলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভোটফলের পাল্লা বিজেপির দিকেই ভারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ৭০ আসন বিশিষ্ট দিল্লি বিধানসভায় বিজেপি ৩৫-৬০টি আসনে জয়ী হতে পারে। অন্যদিকে, সরকার গঠনের পথে হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন দেখা আম আদমি পার্টি ৩২-৩৭টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

এছাড়া রাজধানীর বিধানসভা নির্বাচনের বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলোতে বিভিন্ন ফলাফল উঠে এসেছে। মোট ৭০টি আসনের মধ্যে বেশিরভাগ সমীক্ষায় বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মাইন্ড ব্রিঙ্ক এক্সিট পোলঃ বিজেপি ২১-২৫টি আসন এবং আপ ৪৪-৪৯টি আসন পেতে পারে।

পি-মার্ক এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৩৯-৪৯টি আসন এবং আপ ২১-৩১টি আসন পেতে পারে।
জেভিসি এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৩৯-৪৫টি আসন এবং আপ ২২-৩১টি আসন পেতে পারে।

পিপলস ইনসাইট এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৪০-৪৪টি আসন এবং আপ ২৫-২৯টি আসন পেতে পারে।

ম্যাট্রিজ এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৩৫-৪০টি আসন এবং আপ ৩২-৩৭টি আসন পেতে পারে।

পিপলস পালস এক্সিট পোলঃ বিজেপি ৫১-৬০টি আসন এবং আপ ১০-১৯টি আসন পেতে পারে।

এই সমীক্ষাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দিল্লিতে বিজেপি দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় ফিরতে পারে। তবে, চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী কা আস্থা কি ডূবকী!

আজ মহাকুম্ভ মেলা ২০২৫-এ পবিত্র ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের কোটি কোটি ভক্তের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তিনি এই আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং ঈশ্বরীয় সংযোগের এক গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেন।

স্নান শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান এক অপার ঈশ্বরীয় সংযোগের অনুভূতি। কোটি কোটি ভক্তের মতো আমিও এই পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এক অভূতপূর্ব ভক্তির আবেশ অনুভব করেছি।” এরপর তিনি মা গঙ্গা, মা যমুনা ও মা সরস্বতীর পূজা-অর্চনা করেন এবং সমগ্র দেশের শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা জানান। সামাজিক মাধ্যম X-এ (পূর্বে টুইটার) প্রধানমন্ত্রী তার অনুভূতি প্রকাশ করে লেখেন— “মহাকুম্ভে অংশগ্রহণ করা এক আশীর্বাদের মতো। ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করে আমি অপার ভক্তি ও প্রশান্তি অনুভব করেছি। মা গঙ্গার সকলকে আশীর্বাদে শান্তি, জ্ঞান, সুস্বাস্থ্য ও সম্প্রীতি দান করুক।”

তিনি আরও লেখেন, “প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভে পবিত্র স্নান এবং পূজা-অর্চনার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। মা গঙ্গার আশীর্বাদ পেয়ে অন্তরে এক অশেষ শান্তি ও তৃপ্তি অনুভব করছি। আমি সকল দেশবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেছি। তিনি কুম্ভমেলার আধ্যাত্মিক পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, “প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে ভক্তি, আস্থা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য সমাগম ঘটেছে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও সাধু-সন্তদের উপস্থিতি এই মহামেলার মাহাত্ম্যকে আরও গৌরবান্বিত করেছে।”

প্রধানমন্ত্রীর কুম্ভ স্নানকে কেন্দ্র করে প্রয়াগরাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রশাসনের তরফ থেকে কুম্ভমেলায় আগত ভক্তদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তাঁরা নির্বিঘ্নে এই পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। মহাকুম্ভ মেলা ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী মোদির অংশগ্রহণ এই ঐতিহাসিক তীর্থযাত্রাকে আরও তাৎপর্যময় করে তুলেছে, যা দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এক নব উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

ভগবান

ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে ভগবান বিরসা মুন্ডা ফুটবল টুর্নামেন্ট!

ভগবান

জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আজ থেকে শুরু হবে “ভগবান বিরসা মুন্ডা ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫”। কিংবদন্তি জনজাতি নেতা ভগবান বিরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে জনজাতীয় গৌরববর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। তারই অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে রাজ্যস্তরের আন্তঃহোস্টেল ফুটবল প্রতিযোগিতা।

এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের জনজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের সুযোগ প্রদান এবং তাদের সুস্থ ও মাদকমুক্ত জীবনধারার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এবারের টুর্নামেন্টের মূল স্লোগান “Football is Game, Drugs are Shame”, যা যুবসমাজকে খেলার প্রতি আকৃষ্ট করার পাশাপাশি মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখার বার্তা বহন করে।

আগরতলার উমাকান্ত ফুটবল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে ৮টি ছেলেদের দল ও ৮টি মেয়েদের দল অংশগ্রহণ করছে। প্রতিযোগিতাটি নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মোট ১৬টি ম্যাচ খেলা হবে, যার মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ত্রিপুরা সরকারের খাদ্য, পরিবহন ও পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী সুশান্ত চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা আগরতলা পৌর কর্পোরেশনের মেয়র শ্রী দীপক মজুমদার এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী শ্রী বিকাশ দেববর্মা।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল ও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অর্জনকারীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার:

  • চ্যাম্পিয়ন (ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগ): ট্রফি ও ১,০০,০০০ টাকা
  • প্রথম রানার্স-আপ: ৭৫,০০০ টাকা
  • দ্বিতীয় রানার্স-আপ: ৫০,০০০ টাকা
  • ফেয়ার প্লে দল: ট্রফি ও ২৫,০০০ টাকা

ব্যক্তিগত পুরস্কার:

  • সেরা খেলোয়াড়: ট্রফি ও ১০,০০০ টাকা
  • শীর্ষ স্কোরার: ট্রফি ও ১০,০০০ টাকা
  • সেরা গোলকিপার: ট্রফি ও ১০,০০০ টাকা
  • প্রত্যেক ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: ট্রফি ও ১,০০০ টাকা

৫ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে “ভগবান বিরসা মুন্ডা ফুটবল টুর্নামেন্ট”। এটি শুধু একটি খেলা নয়, বরং জনজাতি সংস্কৃতি ও ঐক্যের প্রতীক, পাশাপাশি, এই টুর্নামেন্ট ছাত্রছাত্রীদের প্রতিভা প্রকাশের একটি দারুণ মাধ্যম হতে পারে।

ভারত

বাংলাদেশ থেকে আগত ভারতীয়কে গুলি বিএসএফের!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পুটিয়া এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৫১ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত হলেন রনি আহমেদ নামে এক যুবক। জানা গেছে, তিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করার সময় বিএসএফ তাকে পাচারকারী সন্দেহে গুলি চালায়। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে তার স্ত্রীর সামনেই।

আহত রনি আহমেদের বাড়ি পুটিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে। কয়েকদিন আগে তিনি অবৈধভাবে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চোরাপথে ফিরে আসার সময় ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফের নজরে পড়েন। বিএসএফ তাকে চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করে গুলি চালায় এবং ঐ গুলি তার গলায় লাগে, সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে খবর।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। পরে বিএসএফ আহত রনিকে উদ্ধার করে বক্সনগর সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে আগরতলার জিবি পন্থ (জিবিপি) হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।

শ্যামসুন্দর

ত্রিপুরার শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স আরোও একধাপ এগিয়ে!

হীরার গয়নার জগতে নতুন সংযোজন নিয়ে এলো শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স‘গ্লিটেরিয়া নামে এক্সক্লুসিভ হীরার গহনার ব্র্যান্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো আগরতলায় এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এই নতুন কালেকশন আধুনিক নারীর প্রতিদিনের মুহূর্তকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে ডিজাইন করা হয়েছে।

আগরতলার ফ্ল্যাগশিপ শোরুমে ‘গ্লিটেরিয়া‘ ব্র্যান্ড জোনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী দর্শনা বণিক এই অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং গ্লিটেরিয়া গয়না পরে অতিথি ও গ্রাহকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের তরুণ মুখ মিঠুন দেববর্মা ও খুমজার দেববর্মা অতিথিদের সঙ্গে মিশে যান এবং নতুন কালেকশন সম্পর্কে ধারণা দেন। জনপ্রিয় গায়িকা পারমিতা দেববর্মার গান পরিবেশনা গোটা অনুষ্ঠানে অন্য এক মাত্রা যোগ করে।

বিশেষ লঞ্চ অফার

গ্লিটেরিয়া ব্র্যান্ডের উদ্বোধন উপলক্ষে ৪ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ দিনের বিশেষ অফার ঘোষণা করা হয়েছে। এই অফার ত্রিপুরার আগরতলা, উদয়পুর ও ধর্মনগর এবং কলকাতার গড়িয়াহাট, বেহালা ও বারাসাত শোরুমে প্রযোজ্য। এই অফারে থাকছে—

✅ হীরের গয়নার মজুরিতে ১০০% ছাড়
✅ সোনার গয়নার মজুরিতে ১৫% ছাড়
✅ প্রতি কেনাকাটায় নিশ্চিত উপহার
✅ মেগা লাকি ড্র-তে একটি হীরের নেকলেস ও তিনটি হীরের নেকচেন জেতার সুযোগ।

শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের ডিরেক্টর রূপক সাহা বলেন, “গ্লিটেরিয়া” আমাদের প্রথম এক্সক্লুসিভ হীরার গহনার ব্র্যান্ড এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে আধুনিক নারীর প্রতিদিনের মুহূর্তগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

ডিরেক্টর অর্পিতা সাহা বলেন, “গ্লিটেরিয়া ব্র্যান্ড জোন আমাদের স্টোরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে। গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, তারা এসে আমাদের বিশেষ অফার কাজে লাগান এবং নতুন কালেকশন দেখুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমি ‘গ্লিটেরিয়া’র সম্পূর্ণ সাফল্য কামনা করছি, যা এই রাজ্যে প্রথমবারের মতো নতুন রূপে যাত্রা শুরু করলো।” তিনি আরোও বলেন, এ রাজ্যে এমন একটি ব্র্যান্ড আত্মপ্রকাশ করল, যা এখানকার গয়না প্রেমীদের জন্য দারুণ সুযোগ আনবে।

দর্শনা বণিক তার মোহময়ী উপস্থিতি ও গ্লিটেরিয়ার সৌন্দর্যে অতিথি ও গ্রাহকদের মুগ্ধ করেন। এই নতুন কালেকশন এবং বিশেষ অফার ইতিমধ্যেই গয়না প্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। হীরার গহনার জগতে গ্লিটেরিয়া হতে চলেছে এক নতুন নাম, যা শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের গৌরব আরও বাড়াবে

ত্রিপুরা

ত্রিপুরার চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ‘বিকাশ দাস’ গ্রেপ্তার!

ত্রিপুরার বহুচর্চিত চিটফান্ড কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত বিকাশ দাসকে মহারাষ্ট্রের থানের ভিওয়ান্দি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। ২০১৩ সাল থেকে পলাতক থাকা বিকাশ দাস সিবিআই-এর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল এবং তার বিরুদ্ধে দুইটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। ত্রিপুরা সরকারের অনুরোধে সিবিআই এই মামলার তদন্ত শুরু করে।

সিবিআই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে আত্মগোপনে থাকা বিকাশ দাসকে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট আগরতলার বিশেষ সিবিআই আদালত ‘প্রক্লেমড অফেন্ডার’ ঘোষণা করে এবং তার বিরুদ্ধে স্থায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অভিযুক্তকে ধরতে সিবিআই ২০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অবশেষে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মহারাষ্ট্রে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিবিআই জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ ও ৭ মার্চ বিকাশ দাস ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ, Suchana Real Estate Pvt. Ltd. নামের একটি সংস্থা বিনিয়োগকারীদের উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে টাকা সংগ্রহ করত। কিন্তু ২০১২ সালে হঠাৎ সব অফিস বন্ধ করে প্রতারকরা পালিয়ে যায়। শুধু একটি মামলাতেই ৬.৬ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা আরও বড় অঙ্কের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিবিআই, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি  বিকাশ দাস, সুজিৎ দাস এবং তাদের কোম্পানির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। সিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া বিকাশ দাসকে যথাযথ আদালতে পেশ করা হবে এবং পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া সেখান থেকেই এগোবে।

সিবিআই-এর এই সফল অভিযানে ত্রিপুরার বহু প্রতারিত বিনিয়োগকারী নতুন আশার আলো দেখছেন। তবে মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা এখনও পলাতক আছে কিনা, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

কালো

জৈব পদ্ধতিতে কালো চালের চাষ কৃষকদের জন্য আশার আলো!

ত্রিপুরার জুমিয়া কৃষকদের উৎপাদিত বিশেষ সুগন্ধিযুক্ত জৈব কালো চাল বা অর্গানিক ব্ল্যাক রাইস সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো বহিঃরাজ্যে রপ্তানি করা হয়েছে। উত্তর ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর মহকুমায় উৎপাদিত ১৩০০ কেজি অর্গানিক ব্ল্যাক রাইস দিল্লির ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ লিমিটেডের কাছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। মহকুমা কৃষি আধিকারিক জানান, এই প্রথম রাজ্যের কৃষকদের উৎপাদিত এই চাল সরকারি ব্যবস্থাপনায় বহিঃরাজ্যে রপ্তানি করা হলো, যা কৃষি ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

কালো চাল, যা বেগুনি চাল নামেও পরিচিত, এটি ধানের একটি বিশেষ প্রজাতি যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে,–

✔ এই চালে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে
✔ প্রোটিন, আয়রন, ফাইবার, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন ও ফলিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ
✔ বাদামি চালের তুলনায় বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন

বিশ্বব্যাপী এই চালের ব্যাপক চাহিদা থাকায় রাজ্যের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। বর্তমানে রাজ্যের বড় বড় শপিংমলগুলোতে এই চাল ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে উত্তর জেলার যুবরাজনগর কৃষি মহকুমার নিজস্ব উদ্যোগে ১৫০০ কেজি কালো চাল বহিঃরাজ্যে রপ্তানি করা হয়েছিল। এই বিশেষ ধানের চাষে কৃষকরা অত্যন্ত উৎসাহিত। এবছর রাজ্যের কৃষকরা প্রায় ৫৫০০ কেজি কালো চাল উৎপাদন করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কৃষকরা জানাচ্ছেন, এই চালের ভালো বাজার দর পাওয়ায় আগামী বছর আরও বেশি পরিমাণে এই ধানের চাষ করা হবে। কৃষকদের মতে, সাধারণ ধানের তুলনায় কালো চাল প্রায় চারগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, ফলে কৃষি খাতে এই উদ্যোগ একটি বিপ্লব আনতে চলেছে।

সারা রাজ্যে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে জৈব কৃষি চাষ করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে জৈব পদ্ধতিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মিশন ফর অর্গানিক ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট অফ নর্থ ইস্টার্ন রিজনের মিশন অধিকর্তা রাজীব দেব্বর্মা জানান, রাজ্যের কৃষকদের জৈব কৃষিতে উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ৪০টি ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত জৈব পণ্য সরাসরি বাজারজাত করতে রাজ্যে ৮টি জৈব আউটলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সব মিলিয়ে, ত্রিপুরায় জৈব কৃষির প্রসার এবং কালো চালের বহিঃরাজ্যে রপ্তানির সাফল্য কৃষকদের নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সমবায়

সমবায় আন্দোলনকে আরো শক্তিশালী করার উপর জোর মুখ্যমন্ত্রীর।

সমবায় ক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে শক্তিশালী করা সম্ভব বলে মন্তব্য করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। শুধু রাজ্য নয়, সমবায়ের প্রসারে দেশও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে। সমবায়কে কেন্দ্র করে দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার, আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত “সমবায়ের প্রচার ও উন্নয়ন” সম্পর্কিত একদিনের রাজ্যভিত্তিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন ও রাজ্য সমবায় দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সমবায় আন্দোলন একটি রক্তপাতহীন আন্দোলন। এর মাধ্যমে সমাজ ও অর্থনীতি কিভাবে শক্তিশালী হতে পারে, তা অনেকেরই জানা নেই।” তিনি আরও বলেন, “সমবায় সমিতিগুলিকে শক্তিশালী করা গেলে দেশ আর্থিকভাবে আরও এগিয়ে যাবে। বর্তমানে ভারত অর্থনীতির দিক দিয়ে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, যা একসময় ১১তম স্থানে ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এখন আমরা তৃতীয় স্থানে ওঠার লক্ষ্যে কাজ করছি।” তিনি আরও জানান, এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য সমবায়ের সফলতা ও ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করা। ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা স্থির করাই এই আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে পৃথক সমবায় মন্ত্রক গঠনের পর সমবায় ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব গতি এসেছে। বিশেষ করে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমবায় মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নীতিগত সংস্কার আরও গতি পেয়েছে। ত্রিপুরা সরকারের সমবায় দপ্তর প্রতি বছরই সমবায় সপ্তাহ উদযাপন করে। এতে আলোচনা সভা, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। ত্রিপুরার প্রায় ৪০ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে ৯ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমবায় সমিতির সঙ্গে যুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন বাকি জনগণের মধ্যেও সমবায় আন্দোলনের চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে দিতে হবে।” সমবায় মন্ত্রকের “সমবায়ের মাধ্যমে সমৃদ্ধি” শ্লোগানকে সামনে রেখে দেশে প্রায় ৫৪টি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে,–

✔ প্যাক্স (Primary Agricultural Credit Society) সমিতিগুলির ডিজিটালাইজেশন
✔ দুগ্ধ ও মৎস্য সমবায় সমিতি গঠন
✔ প্যাক্সের মাধ্যমে ই-পরিষেবা চালু করা
✔ সমবায়ের মাধ্যমে পেট্রোল-ডিজেল ডিলারশিপ ও এলপিজি বিতরণ ব্যবস্থার অনুমোদন

ত্রিপুরায় ১০০% সমবায় সমিতিগুলিকে কম্পিউটারাইজড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসবে এবং দুর্নীতিও হ্রাস পাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সমবায় সমিতিগুলিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

✔ ল্যাম্পস (LARGE AREA MULTI-PURPOSE SOCIETIES) ও প্যাক্সকে আর্থিকভাবে উন্নত করতে বিশেষ অনুদান
✔ সমবায় সংগঠনের কর্মীদের জন্য আয়কর ছাড়ের প্রস্তাব
✔ “প্রধানমন্ত্রী কিষান সমৃদ্ধি কেন্দ্র” প্রকল্পের সম্প্রসারণ
✔ নতুন “জাতীয় সমবায় নীতি” গঠনের পরিকল্পনা

সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, ন্যাশনাল কোঅপারেটিভ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলীপ সাঙ্গানি, চিফ এক্সিকিউটিভ ড. সুধীর মহাজন, এবং সমবায় দপ্তরের সচিব তাপস রায় সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, “সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সরকার আরও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”

সমবায় খাতকে আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে ত্রিপুরাকে দারিদ্র্যমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমবায় নীতির ফলে আগামী দিনে ত্রিপুরার অর্থনীতিতে সমবায় ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে, এমনটাই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।