কংগ্রেসের

কংগ্রেসের যুবনেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কানাইয়া কুমার ত্রিপুরার জনগণের কাছে!

শাসক দল বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম-এর পর এবার রাজধানী আগরতলায় শক্তি প্রদর্শনের পালা কংগ্রেসের। কংগ্রেস এই শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জোরেশোরে। আগামী ১১ মার্চ আগরতলায় আয়োজিত হবে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক জনসভা। এই জনসভায় উপস্থিত থাকবেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং যুবনেতা কানাইয়া কুমার। আজ আগরতলায় কংগ্রেস ভবনে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা জানিয়েছেন, আসন্ন জনসভার মূল স্লোগান হবে ‘সংবিধান বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’। তার অভিযোগ, বিজেপি ও আরএসএস দেশের সংবিধান এবং মহান ব্যক্তিত্বদের ভাবাদর্শকে মুছে ফেলতে চাইছে। বিশেষ করে ড. ভীমরাও আম্বেদকর, প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে নস্যাৎ করার চেষ্টায় লিপ্ত বিজেপি।

এর বিরুদ্ধে গোটা দেশ জুড়ে কংগ্রেস পাল্টা প্রচার চালাচ্ছে, যা সংসদের ভেতরে ও বাইরেও সমানভাবে তীব্র হচ্ছে। এরই অঙ্গ হিসাবে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কংগ্রেস। রাজ্যে সাংগঠনিক শক্তি সংহত করতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে তারা। জেলা ভিত্তিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে নিয়মিত। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে আয়োজিত হবে কংগ্রেস সেবা দলের কনভেনশন। আশীষ কুমার সাহা দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ সিপিআইএম ও বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হয়ে এখন কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, “গ্রাম থেকে পাহাড়, সর্বত্রই মানুষ এখন কংগ্রেসমুখী।”

বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ আনেন পিসিসি সভাপতি। তার দাবি, রাজ্যে কংগ্রেসের অগ্রগতি থামাতে বিজেপি কৌশলগতভাবে সিপিআইএম-এর প্রচার করছে। তিনি বলেন, “বিজেপি নেতারা এখন সিপিআইএম-এর নাম বেশি করে মুখে নিচ্ছেন, এমনকি সাংবাদিক সম্মেলনেও সিপিআইএম-এর হয়ে প্রচার করছেন, যাতে ভোট বিভাজন করে কংগ্রেসকে ঠেকানো যায়। তবে কংগ্রেসকে কোনোভাবেই আটকানো যাবে না।”

এদিকে, রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে কংগ্রেস। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনজাতি নেতা-কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, যা কংগ্রেসের জনভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। আগামী ১১ মার্চের জনসভা ত্রিপুরা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ গড়ে তুলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ONGC

তেল ও গ্যাস সংরক্ষণে ONGC-র সেমিনারে বিশেষ আলোচনা!

ONGC এবং ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার রাজ্যে শাখার উদ্যোগে গোর্খাবস্তির পন্ডিত নেহেরু কমপ্লেক্সে তেল ও গ্যাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গণসচেতনতা বাড়াতে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বর্তমান জ্বালানি সংকট ও পরিবেশ দূষণের প্রেক্ষাপটে এই সেমিনার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

অনুষ্ঠানে ONCG-র সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার প্রসূন কুমার জানান, ONGC তাদের প্রকল্পগুলিতে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, যা শক্তি সঞ্চয় এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে ONGC-র সাতটি ড্রিলিং রিং রয়েছে, যা মাটির ছয় কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত ড্রিল করতে সক্ষম। তবে ড্রিলিংয়ের সময় পরিবেশ দূষণ রোধে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। কার্বন নির্গমন কমাতে এবং শক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবুজ শক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পুনর্নবীকরণ শক্তির ব্যবহার তেল ও গ্যাস সংরক্ষণের পাশাপাশি শক্তির অপচয় রোধ করবে এবং পরিবেশ দূষণ কমাবে।”

সেমিনারে ONGC-র সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার বৈভব কুমার এবং ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার রাজ্যে শাখার সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়নাথ দাস-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবুজ শক্তির ব্যবহার এবং শক্তি সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং জৈবশক্তির ব্যবহারকে আরও কার্যকর করে তোলার মাধ্যমে কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব। এছাড়া, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ড্রিলিং এবং অন্যান্য তেল-গ্যাস উত্তোলন প্রক্রিয়ায় বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে এনে শক্তি সঞ্চয় করা যেতে পারে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, “ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে সবুজ শক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।” তারা সবাইকে তেল ও গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং পুনর্নবীকরণ শক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করেন। এই সেমিনারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে তেল ও গ্যাস সংরক্ষণ এবং সবুজ শক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুনর্নবীকরণ শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়।

STN

প্রযুক্তির

সিপিআইএম AI প্রযুক্তির ব্যবহারেও পুরনো অবস্থানে!

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নারাজ সিপিআই(এম)। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে কম্পিউটার বিপ্লবের বিরোধিতা করার পর এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর বিরুদ্ধে সরব হলেন তারা। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে গৃহীত রাজনৈতিক খসড়া প্রস্তাবে AI-কে ‘কম্পিউটার-নির্ভর শোষণ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা তাদের আগের কম্পিউটারবিরোধী অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কম্পিউটার বিপ্লবের বিরুদ্ধে ছিল সিপিআই(এম)!

১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে সিপিআই(এম) কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রসারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, কম্পিউটার আসার ফলে লাখ লাখ মানুষের চাকরি চলে যাবে, যা বেকারত্বের হার বাড়াবে। সেই সময় তারা দাবি করেছিল, কম্পিউটার শ্রমিকশ্রেণির ওপর শোষণ বাড়াবে এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, কম্পিউটার বিপ্লব শুধু কর্মসংস্থান বাড়ায়নি, বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করেছে এবং নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

এখন আবার AI-এর বিরুদ্ধে সিপিআই(এম)!

ঠিক একই যুক্তি এবার সিপিআই(এম) AI-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করছে। দলের রাজনৈতিক খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, AI স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক হোয়াইট-কলার (সাদা-কলার) চাকরি কেড়ে নিচ্ছে, যা একসময় মানুষের দক্ষতার একচেটিয়া দখলে ছিল। সিপিআই(এম)-এর দাবি, AI-এর কারণে কর্মসংস্থানের অভাব তৈরি হচ্ছে, যা সমাজে বৈষম্য বাড়াবে এবং আর্থিক অসাম্যকে তীব্র করবে।

গোপনীয়তার ওপর হুমকি?

সিপিআই(এম) শুধু কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কাই প্রকাশ করেনি, বরং AI-কে গণতন্ত্র ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্যও হুমকি বলে অভিহিত করেছে। দলের দাবি, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি AI ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে, যা মানুষের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করছে। এছাড়া AI-চালিত অস্ত্র এবং ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা মানবজাতির জন্য আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। কম্পিউটার বিপ্লবের সময়ও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল সিপিআই(এম), কিন্তু পরে দেখা গেছে, কম্পিউটার নতুন নতুন পেশার জন্ম দিয়েছে, এবং তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

একই ভুল আবার?

প্রযুক্তির

বিশ্লেষকদের মতে, সিপিআই(এম)-এর বর্তমান AI-বিরোধী অবস্থান অনেকটাই ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকের কম্পিউটার বিরোধিতার মতোই। তখন তারা বলেছিল, কম্পিউটার চাকরি নষ্ট করবে, কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা গেছে, কম্পিউটার বিপ্লব নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে। বর্তমান বাস্তবতা হল, সিপিআই(এম)-এর প্রতিটি পার্টি অফিসেই এখন কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, পূর্বে সিপিআই(এম) যে কম্পিউটারের বিরোধিতা করেছিল, সেটা যে ভুল ছিল, তারা কি এখন সেটা স্বীকার করবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিপিআই(এম) তাদের পূর্ববর্তী ভুলগুলিকে শোধরাতে নারাজ এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে অক্ষম।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?

বিশ্ব ইতিহাস বলে, যে জাতি প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি, তারা সময়ের স্রোতে বিলীন হয়েছে। সিপিআই(এম) কি সেই একই পথে হাঁটছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিপিআই(এম)-এর এই প্রযুক্তি-ভীতি এবং নতুনত্বের প্রতি বিরূপ মনোভাব তাদের ক্রমাগত রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় ঠেলে দিচ্ছে।

প্রযুক্তির সঙ্গে চলার প্রয়োজনীয়তা!

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির বিরোধিতা করে উন্নয়ন রোধ করা সম্ভব নয়। বরং এই প্রযুক্তিগুলি যাতে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, সেই দিকেই রাজনৈতিক দলগুলির নজর দেওয়া উচিত। অভিজ্ঞদের মতে, AI কিছু পুরনো চাকরি বদলে দেবে, কিন্তু এটি নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে। বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যয় হ্রাস এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে AI ব্যবহার অপরিহার্য। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে এবং উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে AI প্রযুক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা জরুরি। তাই, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে AI প্রযুক্তিকে আয়ত্ত করা আজকের প্রয়োজন।

AI-এর ইতিবাচক দিক

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, AI শুধু কর্মসংস্থানই তৈরি করবে না, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI আধুনিক যুগের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অন্যতম প্রধান উদাহরণ। এর ইতিবাচক দিকগুলির মধ্যে অন্যতম হলো স্বাস্থ্য খাতে নির্ভুল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান, যা মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষাক্ষেত্রে AI ব্যবহার করে ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষা প্রদান সম্ভব হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াচ্ছে। ব্যবসায়িক খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে লাভজনকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া, দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় সেবা প্রদান এবং ব্যক্তিগতকৃত অভিজ্ঞতা তৈরিতে AI অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে।

শেষ কথা!

এক সময় কম্পিউটারের বিরুদ্ধে সরব থাকা সিপিআই(এম) আজ AI-এর বিরোধিতা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, প্রযুক্তির পরিবর্তন ঠেকানো যায় না। বরং প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান সুরক্ষার দিকে নজর দেওয়াই শ্রেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিপিআই(এম)-এর উচিত তাদের পুরনো অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে প্রযুক্তির উন্নয়নকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা, নচেৎ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি অবশ্যম্ভাবী। প্রযুক্তির পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সিপিআই(এম)-এর এই অবস্থান কি তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও সংকটে ফেলবে, নাকি তারা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ সময়ই।

STN

টিপ্রাসা

ভোট অস্ত্র টিপ্রাসা Accord নিয়ে তীপ্রা-মথা আবার দিল্লির দরবারে!

ত্রিপুরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের আলোচনার কেন্দ্রে টিপ্রাসা Accord। বিজেপি নেতৃত্বাধীন ত্রিপুরা সরকারের প্রধান মিত্র তিপ্রা মথা পার্টির (টিএমপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল টিপ্রাসা Accord নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত করতে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

তিপ্রা মথার এক শীর্ষ নেতা জানান, টিপ্রাসা Accord নিয়ে আলোচনা ৯৫% অগ্রগতি লাভ করেছে এবং বাকি ৫% নিয়েই বর্তমানে আলোচনা চলছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, দিল্লির সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে এবং তারা আশা করছেন শীঘ্রই চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যাবে। তিপ্রা মথা নেতা আরও জানান, কেন্দ্র শুধুমাত্র ত্রিপুরার জন্য ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল স্থগিত রেখেছে কারণ তিপ্রা মথার সঙ্গে কেন্দ্রের আলোচনা চলছে।

এখন পর্যন্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের অধীনে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর, যেখানে তিপ্রা মথা তাদের প্রধান দাবিগুলি পেশ করেছে। তিপ্রা মথা পার্টির প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ত্রিপুরার আদিবাসী জনগণের ভূমি অধিকার সুরক্ষা এবং ১৯টি জনজাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ। তাছাড়া, আলোচনার অন্যতম মূল বিষয় ছিল রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা। তিপ্রা মথা পার্টি সরাসরি উপজাতি জেলা পরিষদ (এডিসি) এলাকাগুলিতে তহবিল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে, যাতে ওই অঞ্চলের আর্থিক সম্পদের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকে। দলের এক বিধায়ক জানান, “আর্থিক স্বায়ত্তশাসন একটি বড় সমস্যা। এডিসি প্রশাসন বারবার অভিযোগ করেছে যে রাজ্য থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ তারা পায়নি।”

তিপ্রা মথা পার্টি আলোচনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দাবি তুলেছে। প্রথমত, ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএডিসি)-এর আসনের সংখ্যা ২৮ থেকে ৫০-এ উন্নীত করার প্রস্তাব।দ্বিতীয়ত, তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত বিধানসভা আসনের সংখ্যা ২০ থেকে ২৭ করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

যদিও আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করছে তিপ্রা মথা, তবে কিছু উত্তেজনাও রয়ে গেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, টিপ্রাসা Accord নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলে ত্রিপুরার আদিবাসী জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে পারে। এমনকি, সময়মতো সমাধান না হলে শাসক জোট থেকে বেরিয়ে আসার কথাও জানিয়েছেন তারা।

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তিপ্রা মথার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক টিপ্রাসা Accord-র ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে, তিপ্রা মথার দাবি মেনে নিলে ত্রিপুরার আদিবাসী জনগণের ভূমি অধিকার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার চূড়ান্ত পরিণতি কী হয় এবং টিপ্রাসা Accord বাস্তবায়নে আদিবাসী জনগণের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হয়।

straightlines

ত্রিপুরা ক্রিকেট

সিনিয়র মহিলা আমন্ত্রণমূলক একদিবসীয় ক্রিকেট ম্যাচ, ত্রিপুরা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের!

ত্রিপুরা ক্রিকেট এসোসিয়েশন আয়োজিত সিনিয়র মহিলা আমন্ত্রণমূলক একদিবসীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সোমবার তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। উত্তেজনাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন গ্রুপের দলগুলো নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করেছে। উমাকান্ত মিনি স্টেডিয়াম, তালতলা স্কুল মাঠ এবং পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে ক্রিকেটপ্রেমীরা উপভোগ করেছেন জমজমাট খেলা।

উমাকান্ত মিনি স্টেডিয়ামে এ-গ্রুপের লড়াই: এগিয়ে চলো সংঘ বনাম ব্লাডমাউথ ক্লাব।

এ-গ্রুপের ম্যাচে উমাকান্ত মিনি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ‘এগিয়ে চলো সংঘ’ এবং ‘ব্লাডমাউথ ক্লাব’। টানা জয়ের ফর্ম ধরে রেখে ব্লাডমাউথ ক্লাব এই ম্যাচে ৯ উইকেটে পরাজিত করে এগিয়ে চলো সংঘকে এবং জয়ের হ্যাট্রিক পূর্ণ করে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ‘এগিয়ে চলো সংঘ’ বড়ো রানের ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হয়। ব্লাডমাউথ ক্লাবের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। জয়ের জন্য সহজ লক্ষ্য সামনে পেয়ে ব্লাডমাউথ ক্লাবের ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাটিং করেন এবং মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। এই জয়ের মাধ্যমে ব্লাডমাউথ ক্লাব এ-গ্রুপের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করে।

তালতলা স্কুল মাঠে সি-গ্রুপের ম্যাচ: কর্নেল কোচিং সেন্টার বনাম ক্রিকেট অনুরাগী মহিলা ক্রিকেট দল।

সি-গ্রুপের ম্যাচে তালতলা স্কুল মাঠে মুখোমুখি হয় ‘কর্নেল কোচিং সেন্টার’ এবং ‘ক্রিকেট অনুরাগী মহিলা ক্রিকেট দল’। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কর্নেল কোচিং সেন্টার দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ক্রিকেট অনুরাগী মহিলা ক্রিকেট দল ৩৯ ওভার ৩ বলে মাত্র ৭৬ রানেই গুটিয়ে যায়। কর্নেল কোচিং সেন্টারের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা। ২২০ রানের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে কর্নেল কোচিং সেন্টার। অন্যদিকে, এই পরাজয়ের ফলে টানা তৃতীয় ম্যাচে হারের মুখ দেখল ক্রিকেট অনুরাগী মহিলা ক্রিকেট দল।

পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি মাঠে বি-গ্রুপের লড়াই: এ.ডি নগর প্লে সেন্টার বনাম ইউনাইটেড বি.এস.টি।

বি-গ্রুপের ম্যাচে পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি মাঠে মুখোমুখি হয় ‘এ.ডি নগর প্লে সেন্টার’ এবং ‘ইউনাইটেড বি.এস.টি’। প্রথমে ব্যাট করে এ.ডি নগর প্লে সেন্টার ১৩৫ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। জয়ের জন্য ১৩৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইউনাইটেড বি.এস.টি ৪৬ ওভার ১ বলে ৮ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় এবং ২ উইকেটে জয় লাভ করে। এদিনের জয়ের ফলে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেল ইউনাইটেড বি.এস.টি। টুর্নামেন্টে তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে এলো এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মাধ্যমে।

সামগ্রিক চিত্র

ত্রিপুরা ক্রিকেট এসোসিয়েশন আয়োজিত এই একদিবসীয় মহিলা ক্রিকেট প্রতিযোগিতা রাজ্যের মহিলাদের ক্রিকেট প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। লিগ পর্যায়ের প্রতিটি ম্যাচেই দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের জন্য দলগুলো নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করছে। আগামী ম্যাচগুলোতেও উত্তেজনার পারদ চড়বে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। মহিলাদের ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এমন প্রতিযোগিতা অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ক্রিকেট প্রেমীদের মতে “ত্রিপুরা ক্রিকেট এসোসিয়েশন” অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে এরকম একটা আয়োজনের জন্য, যা রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিয়েছে। ত্রিপুরা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের এ ধরনের প্রয়াস আগামী দিনেও বজায় থাকবে বলে আশা ক্রিকেটপ্রেমী মহলের।

straightlines

BSF

সীমান্ত সমস্যা নিয়ে BSF-BGB বৈঠক দিল্লিতে!

ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী (BSF-BGB) বাহিনীর মধ্যে তিনদিনের সমন্বয় বৈঠক শুরু হয়েছে দিল্লিতে। BSF-র ডিজি দলজিৎ সিং চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতের প্রতিনিধি দল এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (BGB) মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নিয়েছে। বৈঠক চলবে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশের সমস্যা চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, মাদক পাচারও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উত্তর-পূর্ব পরিষদ (NEC) বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ভারতের বিদেশ দপ্তরের যুগ্মসচিব রাজ্য সফরে এসে, এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ত্রিপুরার কৈলাসহর সীমান্তে বাংলাদেশের তরফে নির্মিত বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মনু নদীর উপর নির্মিত এই বাঁধের কারণে বর্ষার মৌসুমে কৈলাসহরে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা দিল্লি সফরকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। এবারের বৈঠকে BSF-র তরফে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সাথে এই ইস্যুতে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ত্রিপুরার ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বেশ কিছু অংশ এখনও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সুরক্ষিত নয়। সোনামুড়া এবং রইস্যাবাড়ির মতো কিছু এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ বাংলাদেশ সরকারের আপত্তির কারণে থমকে আছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর সময় ওপারের বাসিন্দাদের হামলার মুখে পড়তে হয়েছে BSF জওয়ানদের। এই ইস্যুও এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে সীমান্তে বেড়া বসানো, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, মাদক চোরাচালান রোধ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে যৌথভাবে সীমান্ত সুরক্ষার পরিকল্পনার প্রস্তাব উঠতে পারে।

হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষার জটিলতা বাড়লেও এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে সীমান্ত সুরক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে।

দিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষার নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির বৈঠক থেকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকে নজর থাকবে দুই দেশের প্রশাসন এবং সীমান্ত এলাকার জনগণের।

straightlines

সীমান্তে

ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তে উগ্রপন্থী অনুপ্রবেশের আশঙ্কা!

সীমান্ত

ত্রিপুরা ও বাংলাদেশে সীমান্তের এলাকাগুলিতে উগ্রপন্থী তৎপরতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষত, পাহাড়ি অঞ্চল এবং ত্রিপুরা-মিজোরাম-বাংলাদেশ সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করা হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) নজরদারি বাড়িয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রিপুরা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী সম্প্রতি ঊনকোটি ও উত্তর ত্রিপুরা জেলা সফর করেন এবং সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় উগ্রপন্থী তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি ও চোরাকারবারীদের অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ত্রিপুরার ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের মধ্যে ২৬.৬৪ কিলোমিটার এখনো কাঁটাতারবিহীন। অন্যদিকে, মিজোরামের ৩১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত পুরোপুরি অরক্ষিত, যা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, মিজোরামেও নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (NLFT) এবং অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (ATTF)-এর একাধিক উগ্রপন্থী সদস্য ত্রিপুরা সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করা এই জঙ্গিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলেও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এখনো কিছু উত্তর-পূর্বের জঙ্গি বাংলাদেশে লুকিয়ে আছে।

সীমান্তে নিরাপত্তা আরও কঠোর করতে BSF আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি, কুকুর বাহিনী এবং উন্নত নজরদারি যন্ত্র ব্যবহার করছে। সীমান্ত পরিদর্শনে রয়েছেন BSF-এর শীর্ষ আধিকারিকরা। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে যাতে কোনো উগ্রপন্থী বা চোরাকারবারী ভারতের মাটিতে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

ভারতের

ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ নিয়ে রাজ্যসভায় প্রশ্ন রাজিব ভট্টাচার্যের!

ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং। রাজ্যসভায় ত্রিপুরার সাংসদ রাজিব ভট্টাচার্য একটি লিখিত প্রশ্ন করেন, যার উত্তরে মন্ত্রী জানান, ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থায় সুরক্ষিত এবং গত ৫৫ বছরে দেশে কোনও বড় পরমাণু দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেনি।

নিরাপত্তার বিষয়ে কেন্দ্রের আশ্বাস!

মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, ১৯৬৯ সাল থেকে ভারত পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করছে, এবং এখনও পর্যন্ত কোনও সময় নির্ধারিত সীমার বেশি রেডিওঅ্যাক্টিভিটি ছড়ানোর ঘটনা ঘটেনি। পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান— বাতাস, জল ও খাদ্যদ্রব্য (যেমন: শস্য, দুধ, শাকসবজি, মাছ)— এগুলিতে রেডিওঅ্যাক্টিভ উপাদানের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য স্বাধীন এনভায়রনমেন্টাল সার্ভে ল্যাবরেটরিজ (ESL) নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালায়। মন্ত্রী জানান, পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির চারপাশে পাওয়া রেডিওঅ্যাক্টিভিটি সর্বদা পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থা (AERB)-এর নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে থাকে।অর্থাৎ, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কার্যক্রম পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং এটি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই পরিচালিত হয়।

প্রথমবার রাজ্যসভায় প্রশ্ন করলেন সাংসদ রাজিব ভট্টাচার্য!

ত্রিপুরার নবনির্বাচিত সাংসদ রাজিব ভট্টাচার্য রাজ্যসভায় প্রথমবার প্রশ্ন উত্থাপন করলেন, যা পরমাণু শক্তির নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান বিজ্ঞানসম্মত নির্দেশিকা অনুসরণ করেই ভারতের পরমাণু প্রকল্পগুলিকে পরিচালিত করা হয়।

ভারতের পরমাণু শক্তির ভবিষ্যৎ!

সরকারের এই আশ্বাসবাণী ভারতীয় পরমাণু শক্তি ব্যবস্থাকে আরও জনগণের আস্থাভাজন করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই তথ্য জানার পর দেশের পরমাণু শক্তি ব্যবহারের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

straightlines

মন্ত্রী অনিমেষ

মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।

ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা তাঁর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি নকল অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে।

সতর্ক থাকার অনুরোধ!

মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা স্পষ্টভাবে জানান, “এই অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং আমি এর সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নই। এটি মানুষকে প্রতারণার চেষ্টা করতে পারে। দয়া করে এই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত হবেন না, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবেন না বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।” তিনি জানান, এটি পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে এবং দ্রুতই ফেসবুকের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে। তবে জনগণের সচেতনতা এবং সক্রিয়তা ভুয়া অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভুয়া অ্যাকাউন্ট প্রতিরোধের আহ্বান!

মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা তার ফেসবুক ফলোয়ারদের অনুরোধ করেছেন, যদি কেউ এই ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো সন্দেহজনক পোস্ট বা মেসেজ পান, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করুন। তিনি আরও বলেন, “যেকোনো সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযোগের আগে প্রোফাইল যাচাই করে নিন। যদি নিশ্চিত হতে না পারেন, তবে সরাসরি আমার অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ করুন।”

বিভ্রান্তি ছড়ানোর শঙ্কা!

সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনীতিবিদের নামে ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ধরনের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণা বা বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনসচেতনতার গুরুত্ব!

ত্রিপুরার জনগণের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী অনুরোধ করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সাবধানতা অবলম্বন করুন এবং ভুয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হলে তা রিপোর্ট করুন। তিনি বলেন, “আপনাদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই সচেতন থাকলে এমন প্রতারণামূলক কাজ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

কীভাবে রিপোর্ট করবেন?

ফেক অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল খুলে “Report” অপশন সিলেক্ট করুন। “Pretending to be someone” ক্যাটাগরিতে গিয়ে রিপোর্ট করুন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করে অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলতে পারে।

straightlines

ড্রাগস্

ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্তের দামছড়া এখন ড্রাগস্ এর নতুন করিডোর!

মণিপুরে চলমান হিংসাত্মক কার্যকলাপ এবং রাষ্ট্রপতি শাসনের ফলে রাজ্যের নেশা কারবারিরা তাদের পাচারের রুট বদল করেছে। নতুন করে ড্রাগস্ পাচারের মূল করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্তবর্তী দামছড়াকে। শুধু ত্রিপুরা নয়, এখন এই রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশের পাচারকারীরাও ড্রাগস্ এবং ইয়াবার মতো সর্বনাশা নেশাসামগ্রী পাচার করছে।

কিছুদিন আগেও শুধুমাত্র ত্রিপুরার জন্য এই রুট ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের পাচারকারীরাও দামছড়াকে নিরাপদ করিডোর হিসাবে বেছে নিয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই নেশা সামগ্রী আমদানির খবর উত্তর জেলার পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনীতিকদের জানা সত্ত্বেও, অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে এই করিডোর দিয়ে রাজ্যে ড্রাগস্ ছড়িয়ে পড়ছে এবং রাজ্যের যুবসমাজ সর্বনাশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এক সময় রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ড্রাগস্ এর প্রভাব সীমাবদ্ধ থাকলেও ২০১৮ সালে সরকার পরিবর্তনের পর গ্রাম, পাহাড়, শহর এবং শহরতলীতেও ড্রাগসের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়িয়েছে যে, এখন মহিলারাও ড্রাগসে আসক্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রকম নেশা সামগ্রী ব্যবসাতেও যুক্ত হচ্ছে।

নতুন নতুন নেশামুক্তি কেন্দ্র খোলার পরও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না ড্রাগস্ এর আগ্রাসন। এমনকি নেশামুক্তি কেন্দ্রের ভেতরেই ড্রাগস্ বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এবং পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে বেশ কয়েকটি ঘটনা। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল ‘নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ উপহার দেওয়া। তবে বাস্তবে নেশার প্রভাব দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ড্রাগসের ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এইডস্ আক্রান্তের সংখ্যাও। রাজধানী আগরতলা থেকে শুরু করে গন্ডাছড়া এবং ছাওমনুর মতো দুর্গম এলাকাগুলোতেও এখন এইডস্ রোগী সনাক্ত হচ্ছে, যা গোটা রাজ্যের জন্য অশনি সংকেত।

এই সর্বনাশের মূল আতুড় ঘর মায়ানমার এবং থাইল্যান্ড, যেখান থেকে মিজোরাম হয়ে দামছড়ার দশরথ সেতু দিয়ে ড্রাগস্ প্রবেশ করছে ত্রিপুরায়। কখনো কখনো চট্টগ্রামের পাহাড়ি পথও পাচারকারীরা ব্যবহার করছে। একসময় কক্সবাজার হয়ে বাংলাদেশে ড্রাগস্ ও ইয়াবা আমদানি হলেও তদানীন্তন হাসিনা সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে সেই রুট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পাচারকারীরা নতুন করিডোর হিসেবে মিজোরাম-ত্রিপুরা সীমান্তের দামছড়াকে বেছে নিয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা পুলিশের নজরে এলেও মূল কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসন শুধুমাত্র ছোটখাটো পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করেই দায় সারছে। মূল মাস্টারমাইন্ডরা থেকে যাচ্ছে পর্দার আড়ালেই।

অজ্ঞাত কারণে রাজ্য সরকারও এই ড্রাগস্ নেটওয়ার্ক ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাই প্রশ্ন উঠছে, আদৌ ত্রিপুরা নেশামুক্ত হবে কিনা! বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো, স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সমন্বয় জোরদার করা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই পাচারের নেটওয়ার্ক বন্ধ করা সম্ভব। অন্যথায়, যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে এবং রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিপর্যস্ত হবে। ত্রিপুরা সরকার কি এবার কঠোর পদক্ষেপ নেবে? নাকি চুনোপুঁটিদের ধরে বড় কারবারিদের আড়ালেই রেখে দেবে? রাজ্যের ভবিষ্যৎ এখন সেই উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায়।

straightlines