শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বীরচন্দ্র লাইব্রেরী

শিক্ষার্থীদের জন্য সেন্ট্রাল লাইব্রেরী সপ্তাহে ৭ দিন!

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও পেশাগত উন্নতির কথা মাথায় রেখে ত্রিপুরা সরকার উচ্চশিক্ষা দফতরের নির্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বীর চন্দ্র স্টেট সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেকশনের পাঠাগার কক্ষ এখন থেকে সপ্তাহের সাত দিন খোলা থাকবে। ফলে পড়ুয়ারা, গবেষকরা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিপ্রার্থীরা যেকোনো দিন লাইব্রেরীর এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

আগে লাইব্রেরীর ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেকশন সপ্তাহে ছয় দিন খোলা থাকত এবং সোমবার এটি বন্ধ থাকত। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সেকশনটি এখন সোমবারেও খোলা থাকবে। তবে লাইব্রেরীর অন্যান্য পরিষেবা বিভাগগুলোর ক্ষেত্রে সোমবারের ছুটি বহাল থাকবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেকশনের পাঠাগার কক্ষই সপ্তাহের প্রতিদিন খোলা থাকবে, অন্য পরিষেবাগুলি আগের নিয়ম অনুযায়ী সোমবার বন্ধ থাকবে। বীর চন্দ্র স্টেট সেন্ট্রাল লাইব্রেরী ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান গণগ্রন্থাগার, যেখানে রয়েছে বিশালসংখ্যক বই, গবেষণা সামগ্রী এবং ডিজিটাল সংস্থান। শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সুবিধার জন্য এখানে রয়েছে—

বিভিন্ন বিষয়ের বই ও গবেষণা সামগ্রী: লাইব্রেরীতে বিভিন্ন বিষয়ের উপর হাজার হাজার বই, পত্রিকা ও গবেষণা সামগ্রী সংরক্ষিত আছে, যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক গবেষণা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • ডিজিটাল লাইব্রেরী সুবিধা: অনলাইন রিসোর্স ও ই-বুক সুবিধার মাধ্যমে পাঠকেরা যেকোনো সময় প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন।
  • ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেকশন: এই সেকশনে রয়েছে ক্যারিয়ার সম্পর্কিত বই, সরকারি ও বেসরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি সামগ্রী এবং পরামর্শদাতা পরিষেবা, যা তাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সাহায্য করে।
  • শান্তিপূর্ণ পাঠাগার কক্ষ: গবেষকদের জন্য নির্দিষ্ট গবেষণা কক্ষ ও নিরিবিলি পাঠাগার কক্ষ রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরবিচারে পড়াশোনা করতে পারেন।
  • ইন্টারনেট ও কম্পিউটার সুবিধা: আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় লাইব্রেরীতে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও প্রজেক্ট তৈরিতে সহায়তা করে।
  • সাপ্তাহিক সেমিনার ও কর্মশালা: লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে নিয়মিতভাবে ক্যারিয়ার ও শিক্ষামূলক সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ত্রিপুরা সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়মের ফলে—

✔️ শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন লাইব্রেরী ব্যবহার করতে পারবেন, যা তাদের একাডেমিক উন্নতিতে সহায়ক হবে।
✔️ যারা কর্মরত অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের সময় অনুযায়ী লাইব্রেরীর সুবিধা নিতে পারবেন।
✔️ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিপ্রার্থীরা আরও বেশি সময় লাইব্রেরীর রিসোর্স ব্যবহার করতে পারবেন।
✔️ গবেষক ও শিক্ষকদের জন্য গবেষণা সামগ্রী ও ডিজিটাল রিসোর্স ব্যবহার করার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

ত্রিপুরা সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত সচিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, পরিবর্তিত সময়সূচি অবিলম্বে কার্যকর হবে। শিক্ষার্থীরা সপ্তাহের প্রতিদিন লাইব্রেরীর ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেকশনের পাঠাগার কক্ষ ব্যবহার করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষার্থী ও গবেষক মহল। তাদের মতে, লাইব্রেরীর এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ সপ্তাহে সাত দিন খোলা থাকার ফলে অনেকেই উপকৃত হবেন, বিশেষত যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা গবেষণার কাজে যুক্ত রয়েছেন।About Us

ভুয়া ঔষধ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

নজরদারির গাফিলতিতে ত্রিপুরার বাজারে ভুয়া ঔষধ।

ত্রিপুরায় ভুয়া ঔষধের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। ঔষধের গুণমান নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করলেও, রাজ্যে এই নিয়ম কার্যকর হয়নি। ঔষধ বিক্রেতাদের সচেতনতার অভাব, প্রশাসনের গাফিলতি ও ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের নিষ্ক্রিয়তার কারণে সাধারণ মানুষ ভুয়া ঔষধ সনাক্ত করতে পারছেন না। ফলে এই ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ত্রিপুরার ঔষধ বাজারে ভুয়া ও অনুমোদনহীন ঔষধের ছড়াছড়ি নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, ঔষধের গুণমান নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্যাকেটে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে রাজ্যে এই নিয়মের কার্যকর প্রয়োগের কোনও লক্ষণ নেই। ঔষধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগও (ড্রাগ কন্ট্রোল) এই বিষয়ে কোন নজরদারি চালাচ্ছে না, যার ফলে সাধারণ মানুষ নকল ঔষধের শিকার হচ্ছেন।

নির্দেশিকা

ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভুয়া ঔষধ প্রতিরোধে কিউআর কোড স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এই কোড স্ক্যান করলেই ঔষধের উৎপাদক সংস্থা, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের সময়সহ যাবতীয় তথ্য জানা যাবে। এর ফলে সহজেই ভুয়া ঔষধ চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। কিন্তু ত্রিপুরার অধিকাংশ ঔষধের দোকানে এখনও কিউআর কোড স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু হয়নি। বিক্রেতাদের একাংশ কিউআর কোডের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল নন। সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ফলে তাঁরা যাচাই না করেই ঔষধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাঁদের স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রিপোর্ট

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে বাজারে থাকা প্রায় ৩ শতাংশ ঔষধ ভুয়া, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিভিন্ন রাজ্যে একাধিকবার ভুয়া ঔষধের কারবার ধরা পড়েছে, এবং ত্রিপুরাও এই তালিকায় নতুন নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্যেও অনুমোদনহীন ঔষধের ব্যবসা চলছে গোপনে। বাজারে এমন কিছু ঔষধ পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো কেন্দ্রীয় অনুমোদনপ্রাপ্ত নয় এবং কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এর ফলে রোগীরা ঔষধ গ্রহণের পর উপযুক্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

গাফিলতিঃ

ত্রিপুরার ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ রাজ্যে ভুয়া ঔষধ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদনহীন ঔষধের বিক্রি বাড়লেও ঔ অভিযান চালানো হচ্ছে না। ফলে ভুয়া ঔষধের ব্যবসা রমরমিয়ে চলেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজ্যের অনেক ঔষধ দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ঔষধ বিক্রি হচ্ছে, যা ক্রেতাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

পরামর্শ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ত্রিপুরায় দ্রুত কিউআর কোড ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি ভুয়া ঔষধের ফাঁদে পড়বেন। তাই এই সমস্যা সমাধানে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে –

✅ সরকারকে কিউআর কোড ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
✅ সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে জনগণকে ঔষধের বৈধতা যাচাইয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন।
✅ ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।
✅ অনুমোদনহীন ঔষধ বিক্রির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশ্নচিহ্নঃ

রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর ও ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের নিষ্ক্রিয়তায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা থাকলেও তা কার্যকর করতে রাজ্যের অনীহা কেন? প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যের প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ত্রিপুরার বাজারে ভুয়া ঔষধের রমরমা চলতেই থাকবে। এতে সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।

শেষ কথা

ত্রিপুরায় ভুয়া ঔষধের ছড়িয়ে পড়া শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সংকট নয়, এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতারও পরিচায়ক। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা যায় না। তাই সরকার, প্রশাসন এবং ঔষধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগকে একযোগে কাজ করতে হবে। নয়তো পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।About Us

মহিলা স্বশক্তিকরণ

মহিলা ও পন সংক্রান্ত মামলা নির্মূলের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর!

ত্রিপুরা রাজ্যের মহিলাদের স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বর্তমান সরকার। রাজ্যে পণ সংক্রান্ত মামলাগুলিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার আগরতলার ৩৩ নং পুর ওয়ার্ডের মহিলা স্বশক্তিকরণ কমিটির উদ্যোগে ‘স্বাবলম্বী নারী, স্বাবলম্বী ত্রিপুরা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা একথা জানান।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরায় পণ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। আমরা চাই, রাজ্যে এই ধরনের মামলাগুলির সংখ্যা শূন্যে নেমে আসুক। কোনো নারী যাতে এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন, সেজন্য সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।” তিনি জানান, পণপ্রথা প্রতিরোধের জন্য প্রশাসনিক স্তরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৮ জন ডেপুটি কালেক্টরকে ডিস্ট্রিক্ট ডাউরি প্রহিবিশন অফিসার এবং মহকুমা শাসকদের ডাউরি প্রহিবিশন অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “নারীরা সমাজের চালিকাশক্তি। ঘরের মধ্যে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, সমাজেও তাঁদের সমানভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে। মহিলাদের স্বশক্তিকরণের ওপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগেই তিন তালাক প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মা-বোনেদের জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।” তিনি বলেন, “আগের সরকার শুধুমাত্র মিছিল-মিটিংয়ে  নারীদের ব্যবহার করত, কিন্তু আমাদের সরকার মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছেন।” মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, “শুধুমাত্র পুরুষদের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমানে তারা পাইলট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মহাকাশচারী থেকে শুরু করে ট্রেন চালানো এবং গাড়ি চালানোর মতো কাজেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আজ তাঁরা আর কোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই, বরং পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে চলেছেন।”

ত্রিপুরা রাজ্য সরকার ২০২২ সালে ত্রিপুরা স্টেট পলিসি ফর এমপাওয়ারমেন্ট অফ ওমেন চালু করেছে, যার মাধ্যমে মহিলাদের কল্যাণে একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ও আরবান লোক্যাল বডির নির্বাচনে মহিলাদের ৫০% এর বেশি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছে। এছাড়া, টিএসআর বাহিনীতেও ৩৩% সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে নারী শক্তিকে এগিয়ে নিতে রাজ্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মেয়েকে স্কুল ছাড়তে হয়। তাই রাজ্য সরকার ছাত্রীদের জন্য সমস্ত ধরণের ফি মুকুবের ব্যবস্থা করেছে।” তাছাড়া, গন্ডাতুইসায় একটি নতুন ৫০ বেডের ছাত্রী হোস্টেল স্থাপন করা হয়েছে। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় নারী শক্তি পরিচালিত পুলিশ স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে। আগে মহিলারা প্রশাসনিক কাজে ভয় পেতেন, কিন্তু এখন তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং নির্ভয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশে এমএনরেগা প্রকল্পের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হয়েছে। আগে এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের মজুরির অর্থ মধ্যস্থতাকারীদের হাতে চলে যেত, কিন্তু বর্তমানে প্রত্যেক শ্রমিকের মজুরি সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে মহিলারা রাজনৈতিক চাপের কারণে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য হতেন। কিন্তু এখন তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা গ্রহণ করছেন।”

মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার নারীদের অধিকার রক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শুধু ভাষণে নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই আমরা মহিলাদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি।”

এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, পুর কর্পোরেটর অভিজিত মল্লিক, সদর আরবান জেলার সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য, বড়দোয়ালি মন্ডলের সভাপতি শ্যামল কুমার দেব, মার্কফেডের ভাইস চেয়ারম্যান সঞ্জয় সাহা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ। মহিলাদের স্বনির্ভরতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ত্রিপুরা সরকার যেভাবে কাজ করছে, তা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে ত্রিপুরা মহিলাদের জন্য এক নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।About Us

সীমান্তে নিহত বাংলাদেশি

বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে নিহত বাংলাদেশী পাচারকারী!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও রক্ত ঝরল। ত্রিপুরার কলমচৌড়া থানার অন্তর্গত পুটিয়া সীমান্তের ৬ নম্বর গেট এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক বাংলাদেশি পাচারকারী নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম আলামিন, তিনি বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার সালদা নদী বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) অধীনস্থ পুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

ঘটনা!

সূত্রের খবর, সীমান্তে পাচারকারীদের একটি দল চিনি পাচারের চেষ্টা করছিল। বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাধা দিলে বাংলাদেশ দিক থেকে পাচারকারীরা পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বিএসএফ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এতে আলামিন গুরুতর আহত হন। বিএসএফ সদস্যরা আহত পাচারকারীকে উদ্ধার করে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উত্তেজনা!

এই ঘটনার পরপরই বিশালগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে পাচারকারীরা নিয়মিত অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় এবং আইন অমান্য করে অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। বিএসএফের দাবি, পাচারকারীরা সীমান্ত সুরক্ষাকে উপেক্ষা করেই ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। নিহতের মৃতদেহ বর্তমানে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত এ ধরনের ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানায় এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্যোগ!

সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিএসএফের মধ্যে আজ একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে। ওই বৈঠকের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির মরদেহ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। অবৈধ পাচার রোধে বিএসএফ ও বিজিবি উভয় পক্ষকেই আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

সম্পর্ক!

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সুদীর্ঘকাল ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলেও, সীমান্তে মাঝে মাঝেই এই ধরনের সংঘর্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পাচার, অনুপ্রবেশ, অননুমোদিত সীমান্ত অতিক্রম ইত্যাদি কারণে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। যদিও কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চালানো হয়, তবু সীমান্তে রক্তপাত রোধে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কী হয় এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।About Us

উন্নয়নমূলক কাজে রাজনীতি নয়

উন্নয়নের প্রশ্নে সমালোচনার সম্মুখীন কমিউনিস্ট!

সাধারণ মানুষের স্বার্থে উন্নয়নমূলক কাজকে রাজনীতির হাতিয়ার না করার আহ্বান জানালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে জিএসডিপি (গ্রস স্টেট ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) ও মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছেছে, যা সরকারের উন্নয়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। শুক্রবার আগরতলার ৩৯ নং পুর ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এক মেগা রক্তদান শিবিরের উদ্বোধনকালে মুখ্যমন্ত্রী একথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে ফের একবার কমিউনিস্ট শাসনের তীব্র সমালোচনা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রক্তদান শুধুমাত্র মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি স্বাস্থ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, দাতার শরীরে কোনো অসুখ আছে কি না। তেমনই সমাজের মধ্যেও যদি অস্বচ্ছতা থাকে, তাহলে সেটাও সমাজ গ্রহণ করবে না। একসময় ত্রিপুরায় সর্বত্র অস্বচ্ছতা বিরাজ করছিল। যার ফলে জনগণ সেই পুরনো শাসনব্যবস্থাকে পরিত্যাগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সর্বদা স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, আর বর্তমান সরকার সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, রক্তের চাহিদা বাজার থেকে মেটানো সম্ভব নয়, বরং তা স্বেচ্ছা রক্তদানের মাধ্যমেই পূরণ করা যায়। হাসপাতালগুলোর অপারেশনের সময় রক্তের প্রয়োজন হয়, তাই এই ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ত্রিপুরাবাসীর মানবিকতা ও সহযোগিতার মনোভাবের প্রশংসা করে বলেন, কোভিড মহামারির সময় এবং সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। মাত্র ৩-৪ দিনের মধ্যে সরকার দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ত্রিপুরা বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম সেরা পারফর্মিং রাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের রাজ্য। অথচ এটি সারা দেশের মধ্যে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য। তার পরও আমরা একাগ্রতার অভাব দেখাইনি। একসময় এই রাজ্যে শুধু ‘জিন্দাবাদ’ স্লোগান তোলা হতো, কিন্তু বাস্তব উন্নয়ন তেমন কিছুই হয়নি।”

কমিউনিস্ট শাসনের কঠোর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কমিউনিস্টরা রাজ্যে চাকরির সুযোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে গেছে। তারা রাস্তাঘাট, ড্রেন সংস্কার থেকে শুরু করে উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। ঋণের বোঝা রেখে গিয়েছিল তারা, যা বর্তমান সরকারকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। গত অর্থবছরে রাজ্যের বাজেট ছিল ২৭,৮০০ কোটি টাকা, যা এবার আরও বাড়তে পারে। আমাদের নিজস্ব উৎস থেকে মাত্র ৩,৭০০ কোটি টাকা আসে, তার মধ্যে ২৫% আমরা এডিসিকে দিতে বাধ্য। তবুও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধার কারণে উন্নয়নমূলক কাজ জোরদার করা সম্ভব হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।”

এদিকে, রাজধানীর লেইক চৌমুহনী বাজারে সম্প্রতি পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা জনগণের কল্যাণের জন্যই।”

এই রক্তদান শিবিরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ও বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়িকা মীনা রানী সরকার, ৩৯ নং পুর ওয়ার্ডের কর্পোরেটর অলক রায়সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার বার্তা দিলেন যে, রাজ্যের উন্নয়নের পথে বাধা নয়, বরং সহযোগিতা করাই সকলের উচিত। আগামীতেও উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।About Us

তিপ্রা চুক্তি নির্বাচনী চাল

তিপ্রা চুক্তি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ!

কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মন বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, তিপ্রা মথা, কেন্দ্র এবং ত্রিপুরা সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তি (তিপ্রা চুক্তি) ছিল নিছকই একটি নির্বাচনী চাল, যার মাধ্যমে রাজ্যের আদিবাসীদের প্রতারিত করা হয়েছে।

তিপ্রা চুক্তির প্রথম বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে শ্রী রায় বর্মন অভিযোগ করেন, বিজেপি রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মাকে ব্যবহার করেছে এবং পরে তাঁর দলকে রাজ্য সরকারের অংশ করে নিলেও চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের কোনও উদ্যোগ নেয়নি। তিনি জানান, ২ মার্চ ২০২৪ তারিখে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি ছয় মাসের মধ্যে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, এক বছর কেটে গেলেও কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। “আসলে কী বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল, সেটাই কেউ জানে না। কারণ এই চুক্তির মধ্যে কোনও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই,” – মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা।

সুদীপ রায় বর্মন বলেন, বিজেপির প্রকৃত উদ্দেশ্য আদিবাসীদের ক্ষমতায়ন নয়। তিনি উত্তর-পূর্বের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকায় উন্নয়নের অভাব এবং ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, বিজেপি চাইলে সহজেই বিলটি পাশ করাতে পারত, কিন্তু তা করেনি। তিনি রাজ্য সরকারকে ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের (টিটিএএডিসি) অধীনে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের বারবার বিলম্বের জন্য দায়ী করেন। যদিও ত্রিপুরা হাইকোর্টে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হবে, কিন্তু এ নিয়ে এখনও কোনও অগ্রগতি হয়নি। “যখন জনস্বার্থের বদলে রাজনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তখন টিটিএএডিসি এলাকার মানুষের দুর্দশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে,” – বলেন রায় বর্মন।

তিনি দাবি করেন, ভিলেজ কমিটির নির্বাচন ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পরই হওয়া উচিত, যাতে আদিবাসী এলাকায় উন্নয়নের জন্য যথাযথ তহবিলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়। “সংবিধান সংশোধন হলে ভিলেজ কমিটিগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় তহবিল পাবে, যেমনটি বর্তমানে পঞ্চায়েত রাজ ও পৌরসভাগুলি ৭৩তম ও ৭৪তম সংশোধনী আইনের মাধ্যমে পেয়ে থাকে,” – তিনি ব্যাখ্যা করেন। শ্রী রায় বর্মন আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ১২৫তম সংশোধনী বিল পাশ করতে দেরি করছে, কারণ এতে স্বশাসিত জেলা পরিষদগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা মূলত খ্রিস্টান আদিবাসীদের অধীন।

“এই মানসিকতার কারণেই আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার দিতে দেরি করা হচ্ছে,” – বলেন কংগ্রেস নেতা। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্রুত ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী পাশ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, কংগ্রেস দল সরাসরি তহবিলপ্রাপ্তির দাবিকে সমর্থন করে। “জেলা পরিষদ এলাকাগুলোর বাসিন্দারা জিএসটি’র মাধ্যমে পরোক্ষ কর দেন, তাই তাদেরও কর রাজস্বের ন্যায্য অংশ পাওয়ার অধিকার রয়েছে,” – বলেন সুদীপ রায় বর্মন। তিনি বলেন, বিজেপি একদিকে আদিবাসী ও তিপ্রা মথার নেতৃত্বকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেস সবসময় ত্রিপুরার আদিবাসীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের জন্য লড়াই করবে।About Us

ইন্ডিয়া বুকস অফ রেকর্ডসে ঝুমার নাম

তাস দিয়ে মানচিত্র বানিয়ে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে এ নাম!

ফের ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম তুলল ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার প্রতিভাবান ছাত্রী ঝুমা দেবনাথ। পরপর দু’বার এই রেকর্ড গড়ে গোটা রাজ্যের গর্ব হয়ে উঠেছে সে। সম্প্রতি, ২৫ মিনিটে ৯৪১টি তাস দিয়ে এশিয়ার মানচিত্র তৈরি করে সে দ্বিতীয়বারের জন্য ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছে। ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ঝুমা দেবনাথ সায়দারপার গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবা হরিপদ দেবনাথ পেশায় একজন ব্যাংক কর্মচারী ও জ্যোতিষী, যিনি “যাদুকর” হিসেবেও সুপরিচিত। মেয়ের এই সাফল্যে দারুণ গর্বিত তিনি।

প্রথম রেকর্ড গড়ার কাহিনি!

ঝুমার প্রতিভার স্বীকৃতি প্রথম আসে ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে, যখন সে ৮৫০টি তাস দিয়ে ভারতের মানচিত্র তৈরি করে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম তুলেছিল। তার এই কৃতিত্বের জন্য সে স্বর্ণপদক, শংসাপত্র, আইডি কার্ড, রেকর্ড বুক এবং একটি বিশেষ ব্যাজ লাভ করে। তখন থেকেই সে আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

দ্বিতীয়বার নতুন ইতিহাস!

প্রথম সাফল্যের পর আরও বড় কিছু করার ইচ্ছে নিয়ে ঝুমা আরও কঠোর পরিশ্রম শুরু করে। অবশেষে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে অনলাইনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে তার নাম নথিভুক্ত হয়। এবার সে ৯৪১টি তাস ব্যবহার করে মাত্র ২৫ মিনিটে এশিয়ার মানচিত্র তৈরি করে নতুন রেকর্ড গড়ে। দ্বিতীয়বারের জন্যও সে সুবর্ণপদক, ব্যাজ, শংসাপত্র, রেকর্ড বুক, পেন এবং আইডি কার্ড লাভ করে।

উচ্ছ্বাস!

ঝুমার পরপর দুটি রেকর্ড গড়া নিয়ে তার পরিবারে খুশির হাওয়া বইছে। বাবা-মা মেয়ের এই সাফল্যে দারুণ গর্বিত। পাশাপাশি, কুমারঘাট মহকুমা জুড়ে নবীন ও প্রবীণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। এলাকার বাসিন্দারা তার প্রতিভার প্রশংসা করে জানিয়েছেন, ঝুমা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে এবং রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করবে

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা!

ঝুমা জানায়, ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও সমর্থন তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। সে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে সায়দারপার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বর্তমানে সে ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে। ভবিষ্যতে সে আরও নতুন রেকর্ড গড়তে চায় এবং পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের প্রতিভাকে আরও বিকশিত করতে চায়। ঝুমার এই সাফল্য প্রমাণ করে, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। তার এই কৃতিত্ব ভবিষ্যতে বহু শিক্ষার্থীর অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।About Us

নিরাপত্তার খেলা

পাকিস্তানের মাটিতে নিরাপত্তাহীনতায় ক্রিকেট!

সন্ত্রাস আর অস্থিতিশীলতার জন্য গোটা বিশ্বে কুখ্যাত পাকিস্তান। একাধিক জঙ্গি সংগঠনের আশ্রয়স্থল এই দেশকে আন্তর্জাতিক মহলও বহুবার সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। ভারত বরাবরই পাকিস্তানের এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে, আর ঠিক সেই কারণেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার প্রশ্নে পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে পাঠায়নি।

নিরাপত্তাঃ

এবার প্রশ্ন উঠছে, নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে রাজি হয়নি কিন্তু পাকিস্তান কেন ভারতের মাটিতে খেলতে রাজি নয়? এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারত যদি পাকিস্তানে না যায়, তাহলে পাকিস্তানও ভারতে খেলতে আসবে না। ভারতের না যাওয়ার যৌক্তিক কারণ ছিল। পাকিস্তানের মাটিতে ভারতীয়দের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে! তাই স্বাভাবিকভাবেই বিসিসিআই (BCCI) চেয়েছিল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে।

কিন্তু পাকিস্তান এখন সেই একই যুক্তি দিয়ে ভারতের মাটিতে খেলতে যেতে চাইছে না! এটা নিতান্তই হাস্যকর যুক্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা শুধুই একগুঁয়েমি এবং ভারতকে ছোট করার চেষ্টা শুধুমাত্র। ভারত পাকিস্তানের মতো সন্ত্রাসপ্রবণ দেশ নয়। ভারত নিয়মিত আইসিসির (ICC) অন্যান্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট বাজারও ভারত। তাহলে কেন পাকিস্তান ভারতের মাটিতে খেলতে চাইছে না?

কোণঠাসা করার চেষ্টা?

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তাদের আসল উদ্দেশ্য ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে ফেলা। পাকিস্তান চায়, ভারত যেন রাজনৈতিক কারণে ক্রিকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভারত ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো বড় টুর্নামেন্টই সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব নয়।

ভারতে খেলা না হওয়ার সম্ভাবনা!

এশিয়া কাপ ২০২৫-এর আয়োজক ভারত হলেও, পুরো টুর্নামেন্ট হতে পারে শ্রীলঙ্কা অথবা দুবাইয়ে। কারণ পাকিস্তান ভারতের মাটিতে খেলতে রাজি নয়। ফলে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) চাইছে পুরো টুর্নামেন্ট ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে। দুবাইয়ের গরমের কারণে শ্রীলঙ্কার মাঠ ব্যবহার করতে পারে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপেও পাকিস্তান আয়োজক হয়েও ভারতের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় রাখা হয়েছিল। এবার সেই একই ফর্মুলায় পুরো টুর্নামেন্টই ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে আয়োজক হিসেবে থাকবে ভারতই ।

এশিয়া কাপের মহারণ!

ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন চলছে, এশিয়া কাপের সূচি এমনভাবে তৈরি করা হতে পারে যাতে কমপক্ষে দু’বার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয়। গ্রুপ পর্বে দুই দলকে একই গ্রুপে রাখা হতে পারে। যদি দুই দল ফাইনালে পৌঁছে যায়, তাহলে তিনবারই মুখোমুখি হতে পারে ক্রিকেটের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা

রাজনৈতিক খেলা!

ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট মানেই রোমাঞ্চ। কিন্তু পাকিস্তান সবসময়ই ক্রিকেটকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। ভারত যেখানে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন, সেখানে পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতকে বিপাকে ফেলতে চাইছে। বিশ্ব জানে, পাকিস্তান হচ্ছে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর। তাই ভারত সেই দেশের মাটিতে খেলতে যেতে চায়নি এবং সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পাকিস্তান কেন ভারতের মতো নিরাপদ দেশে খেলতে রাজি নয়? এর পেছনে আসল রহস্য কী? এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন!About Us

প্রধানমন্ত্রীর হাতে ঐতিহ্যবাহী লণ্ঠন

বিহার নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে লন্ঠন!

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রাজ কাপুর এক অবিস্মরণীয় নাম। অভিনয়, পরিচালনা ও প্রযোজনার মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এই কিংবদন্তির জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কাপুর পরিবার এক বিশেষ উদ্যোগ নিল। জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সঙ্গে দেখা করতে দিল্লিতে হাজির হয়েছিলেন কাপুর পরিবারের প্রবীণ ও নবীন প্রজন্মের সদস্যরা। সেই বিশেষ সাক্ষাৎ শুধুমাত্র সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎই ছিল না, বরং কাপুর পরিবার প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছিল এক ঐতিহ্যবাহী বস্তু— রাজ কাপুরের ব্যবহার করা বিখ্যাত লণ্ঠন।

সংগ্রহশালায় আইকনিক’ লণ্ঠন!

কাপুর পরিবারের অন্যতম বর্তমান মুখ রণবীর কাপুর প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে তুলে দেন সেই লণ্ঠন, যা ১৯৬০ সালের বিখ্যাত হিন্দি ছবি ‘জিস দেশ মে গঙ্গা বহেতি হ্যায়’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই সিনেমায় রাজ কাপুরের অভিনয় ছিল মনে রাখার মতো। তার চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই লণ্ঠন আজও সিনেপ্রেমীদের কাছে এক আবেগের প্রতীক। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কাপুর পরিবার সেই লণ্ঠনটিকে সংরক্ষণ করে রেখেছিল, কিন্তু এবার সেটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলো। প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহশালায় এটি সংরক্ষিত থাকবে এবং ১লা মার্চ থেকে দর্শনার্থীরা সেটি দেখতে পাবেন।

ভারতীয় সিনেমার ‘শো ম্যান’!

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে রাজ কাপুর এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলি কেবল বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং সমাজের বাস্তবতা, মানবিকতা এবং আবেগের প্রতিচ্ছবি ছিল। ‘শ্রী ৪২০’, ‘আওয়ারা’, ‘মেরা নাম জোকার’, ‘সঙ্গম’, ‘ববি’ সহ বহু কালজয়ী সিনেমা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। শুধু ভারতেই নয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতেও রাজ কাপুরের সিনেমা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তাঁর চলচ্চিত্রের গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহশালার তরফে জানানো হয়েছে, রাজ কাপুরের এই লণ্ঠন শুধুমাত্র একটি সিনেমার স্মারক নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতির এক মূল্যবান প্রতীক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে—
“এই লণ্ঠন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিচিহ্ন। এটি রাজ কাপুরের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যিনি ভারতীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন। কাপুর পরিবারের এই উপহার শুধু একটি স্মৃতিচিহ্ন নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতির অতীত ও বর্তমানের সংযোগস্থাপন করে।”

রাজ কাপুরের উত্তরাধিকারী!

কাপুর পরিবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রেখেছে। পৃথ্বীরাজ কাপুর থেকে শুরু করে রাজ কাপুর, তারপর ঋষি কাপুর, রণধীর কাপুর, করিশ্মা কাপুর, কারিনা কাপুর, রণবীর কাপুর পর্যন্ত এই পরিবার একাধিক প্রজন্ম ধরে বলিউডকে সমৃদ্ধ করেছে। কাপুরদের এই উত্তরাধিকার আজও সমানভাবে বহন করে চলেছে বর্তমান প্রজন্ম। রণবীর কাপুর বর্তমানে বলিউডের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা। তাঁর ‘রকস্টার’, ‘বরফি’, ‘সঞ্জু’, ‘তু ঝুঠি ম্যায় মক্কার’ সহ একাধিক ছবির মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অন্যদিকে, কাপুর পরিবারের আরেক সন্তান, আদর জৈনও চলচ্চিত্রে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছেন। কাপুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও এখনও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতিক্রিয়া!

রাজ কাপুরের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কাপুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আপ্লুত হয়েছিলেন। তিনি নিজেও সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন— “রাজ কাপুর শুধু ভারতীয় চলচ্চিত্রের একজন মহান অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক প্রকৃত শিল্পী, যিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। কাপুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ও তাঁদের থেকে এই মূল্যবান স্মারক গ্রহণ করে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”

সিনেপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণ!

প্রধানমন্ত্রীর সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত রাজ কাপুরের এই লণ্ঠন নিঃসন্দেহে ভারতীয় সিনেমার প্রেমীদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে। ১লা মার্চ থেকে জনসাধারণ এটি সরাসরি দেখতে পারবে। সিনেমাপ্রেমীরা হয়তো এই ঐতিহাসিক স্মারক দেখতে ভিড় জমাবেন সংগ্রহশালায়। রাজ কাপুরের লিগ্যাসি শুধু সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই, তাঁর অবদান ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে উঠেছে। কাপুর পরিবার যে উত্তরাধিকারকে আজও সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বহন করে চলেছে, তা এই বিশেষ উপহারের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো।About Us

পঞ্চায়েতস্তরে দুর্নীতি

পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি থেকে উদ্ধার সরকারি সিমেন্ট!

রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই দুর্নীতির আঁচ এসে পড়েছে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার নির্বাচনী ক্ষেত্র কৃষ্ণপুরে। চাঞ্চল্যকর ঘটনা, মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতা নির্মল সরকারের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে ২৮ বস্তা সরকারি সিমেন্ট! অভিযোগ উঠেছে, সরকারি প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ এই সিমেন্ট তিনি নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য বাড়িতে মজুত রেখেছিলেন।

সূত্রের খবর, মধ্য কৃষ্ণপুর পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা বিজেপির খোয়াই জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল সরকারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৮ বস্তা সরকারি সিমেন্ট। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং বিজেপির একাংশই এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হন এবং ব্লকের আধিকারিকদের খবর দেন। পরে ব্লকের কর্মীরা এসে নির্মল সরকারের বাড়ি থেকে সিমেন্ট উদ্ধার করেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, এলাকার একটি সরকারি ড্রেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল এই সিমেন্ট। কিন্তু অভিযোগ, ড্রেনের কাজ সম্পন্ন না করেই নির্মল সরকার ঐ সিমেন্ট নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এ নিয়ে বিজেপির স্থানীয় কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

এই ঘটনার পর বিজেপির স্থানীয় একাংশ নেতারা সরাসরি নির্মল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, নির্মল সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি নির্মাণসামগ্রী লুটপাট করছেন। সরকারি ইট, রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করে নিজের বাড়ি তৈরি করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, জমি দখলের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।

তবে এত বড় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও নির্মল সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। কেন এখনও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিজেপির কর্মীদের একাংশও এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, যাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে কীভাবে খোয়াই জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হলো? কাদের অনুমোদনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন?

এই ঘটনার পর বিরোধী দলগুলিও সরব হয়েছে। সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, বিজেপির আমলে পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে রাজ্য স্তর পর্যন্ত দুর্নীতি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। বিরোধীদের বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ার কারণেই নির্মল সরকারের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এখন প্রশ্ন একটাই—নির্মল সরকারের বাড়ি থেকে সরকারি সিমেন্ট উদ্ধারের পরও কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো না? প্রশাসনের নীরবতা কি তাঁকে আড়াল করার প্রচেষ্টা? বিজেপির একাংশও যখন দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে, তখন কি দল এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেবে? না কি সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যাবে? এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও দল কী সিদ্ধান্ত নেয়। কৃষ্ণপুরের সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—যেই দুর্নীতি করুক না কেন, তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।About Us