পর্যটনের

পর্যটনের অঙ্গ হিসাবে বন দপ্তরকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার!

পর্যটনের দিকে ত্রিপুরা সরকার আজকাল খুব গুরুত্ব দিচ্ছে; এর অঙ্গ হিসাবে, আজ ত্রিপুরা সচিবালয়ে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর অফিস কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, পর্যটন দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা, পর্যটন দপ্তরের অধিকর্তা প্রশান্ত বাদল নেগী এবং বন দপ্তরের পিসিসিএফ রবীন্দ্র কুমার শ্যামল। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে বন দপ্তরের সাথে যৌথভাবে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা।

মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বৈঠকের পৌরহিত্য করে বলেন, “ত্রিপুরা এক সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী। বন এবং পর্যটন উভয় ক্ষেত্রের সমন্বয়ে আমরা রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে চাই।” বৈঠকে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়, যার মধ্যে ছিল:

ইকো-ট্যুরিজম: রাজ্যের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং জাতীয় উদ্যানে ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্প শুরু করা। এতে স্থানীয় অর্থনীতি উন্নত হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে।অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম: ত্রিপুরার পাহাড়ি এবং বনাঞ্চলগুলিকে কাজে লাগিয়ে ট্রেকিং, ক্যাম্পিং, এবং ওয়াইল্ডলাইফ সাফারি চালুর পরিকল্পনা।

সাংস্কৃতিক পর্যটন: স্থানীয় উপজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং হস্তশিল্পকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা।

পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন: পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন হোটেল, রিসর্ট এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ।

বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, “পর্যটন ও বন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগ রাজ্যের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক হবে এবং পাশাপাশি রাজ্যের পর্যটন আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” পর্যটন দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা এবং বন দপ্তরের পিসিসিএফ রবীন্দ্র কুমার শ্যামলকে উভয় দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়ার জন্য বলা হয়।

কমলপুরে

কমলপুরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা বামেদের!

কমলপুরে এক যুব পদযাত্রার আয়োজন করেন ডি ওয়াই এফ আই এবং টি ওয়াই এফ; কর্মসংস্থানের দাবি, আইনের শাসন পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা এবং নেশার বিরুদ্ধে এই তিনটি দাবী নিয়ে মঙ্গলবার ফুলছড়ি থেকে কমলপুর শহরের সিপিআইএম পার্টি অফিস পর্যন্ত পদযাত্রার করেন ডি ওয়াই এফ আই এবং টি ওয়াই এফ কমলপুর কমিটি। পদযাত্রা কমলপুরের ফুলছড়ি থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে শহরের সিপিআইএম পার্টি সামনে সমাপ্ত হয়ে জনসমাবেশ করা হয়।জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডি ওয়াই এফ আই রাজ্য কমিটির সম্পাদক নবারুন দেব, টি ওয়াই এফ রাজ্য কমিটির সভাপতি কৌশিক দেববর্মা, ডি ওয়াই এফ আই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মল্লিকা শীল সহ কমলপুর বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দরা।পদযাত্রায় দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সমাগম ঘটে। জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডি ওয়াই এফ আই রাজ্য কমিটির সম্পাদক নবারুন দেব বলেন, দলমত নির্বিশেষে বেকারদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি চাই। ৫০ হাজার শূন্য পদ সরকার পুরন করছে না। প্রতি বছর পাঁচ হাজার কর্মচারী অবসরে যাচ্ছেন। নিয়োগ নেই। রাজ্যে টেট পরীক্ষায় পাশ করা, নার্স পাশ করা, ডাক্তারি পাশ করে বসে আছে নিয়োগ করা হচ্ছে না। নবারুন দেব বলেন, নেতারা রেগা কাজের টাকা খাচ্ছেন। গরীবরা কাজ পাচ্ছে না।

বন্যা

বন্যা গত আগস্ট মাসে ত্রিপুরা রাজ্যের উপর থাবা বসিয়েছিল

বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে ১৩ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সামাজিক মাধ্যমে এ খবর জানিয়েছেন।

রাজস্ব দপ্তরের অধীনে থাকা বিপর্যয় মোকাবেলা দপ্তর এই অর্থ প্রকৃত দূর্গতদের কাছে পৌঁছে দেবে। উল্লেখ করা যেতে পারে গত আগস্ট মাসে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার পর ধাপে ধাপে অর্থ মঞ্জুর করেছে রাজ্যের ডাবল ইন্জিনের সরকার। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য ৫৬৪ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মাণিক সাহা। এছাড়াও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির কারনে দুই মাস রাজ্যের ৯.৮ লক্ষ রেশনকার্ডধারী নাগরিকদের রেশন কার্ড প্রতি অতিরিক্ত ১০ কেজি চাল বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ১৪ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন পরবর্তী সময়ে আরো অর্থ মঞ্জুর করা হবে। সে অনুসারে মঙ্গলবার আরো অতিরিক্ত ১৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে খাদ্য ও জনসংভরণ দফতরের জন্য ৭০ কোটি টাকা, কৃষি দপ্তরের জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। খরিফ ও রবি শস্য উৎপাদনের জন্য বীজ ও সার প্রদান এবং অন্যান্য কৃষি সহায়তার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। হর্টিকালচার দপ্তরের জন্য ৫ কোটি টাকা,মৎস্য দপ্তরের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল৷ এর পাশাপাশি প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের জন্য ৫ কোটি টাকা, শিক্ষা দপ্তরের জন্য ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। বন্যায় দুর্গত মানুষ যাতে ঘুরে দাড়াতে পারে, বাড়ি ঘর তৈরি করে ফের স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু করতে পারে তার জন্য ফের ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।

বিদ্যুৎ

বিদ্যুৎ মন্ত্রীর আবেদন: নিজেই হয়ে উঠুন নিজের বিদ্যুৎ উৎপাদক, বাড়িয়ে তুলুন আয়, পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনার মাধ্যমে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গুলোর দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেই নিজেকে বিদ্যুৎ উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য রাজ্যবাসীর প্রতি আবেদন জানালেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ। সোমবার ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের কর্পোরেট কার্যালয়ে পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনার বিশেষ শিবিরে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এদিন আগরতলা পুর নিগম এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য সূর্য ঘর প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ, ব্যাংক ঋণ প্রদান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ভেন্ডার নির্বাচনের জন্য এক বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ শিবিরে উপস্থিত হয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী এক ব্যতিক্রমী দিকদর্শী ব্যক্তিত্ব। আগামী দিনে দেশে যে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে সে সম্পর্কে এখন থেকেই তিনি পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন এর মাধ্যমে দেশবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে চান। আগামী দিনে কয়লা শেষ হয়ে যাবে, গ্যাস শেষ হয়ে যাবে , ফলে প্রথাগত বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাবে। সে কথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবার সূর্য শক্তিকে ব্যবহার করে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবার। শুধু তাই নয়, তিনি এক আশ্চর্য পরিকল্পনায় প্রতিটি পরিবারকে সরকারি ভর্তুকি সহ বিদ্যুৎ উৎপাদক হিসেবে গড়ে তুলে বিদ্যুৎ নিগমের কাছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রির মাধ্যমে উপার্জনের এক অপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছেন। বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের পর এই সুযোগ থাকবে কিনা কে জানে? কিন্তু এর আগেই সরকারি ভর্তুকির সুযোগ নিয়ে পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলী যোজনার সুবিধা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রী রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সোমবার বিদ্যুৎ নিগমের কর্পোরেট কার্যালয়ে আয়োজিত এই বিশেষ শিবিরে বিদ্যুৎ মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ সচিব অভিষেক সিং এবং আগরতলা পুর নিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্পোরেটরগন। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে উৎসাহী মানুষেরা এদিন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত জানতে ভিড় জমিয়েছেন। এই বিশেষ শিবিরে সোলার প্যানেল প্রতিস্থাপনকারী সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন কোম্পানির লোকজনেরাও উপস্থিত ছিলেন। সেই সঙ্গে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, কানারা ব্যাঙ্ক, ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক, ত্রিপুরা স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাংক এর আধিকারিকরাও এদিন উৎসাহী ব্যক্তিদের ঋণ মঞ্জুর করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনার সূচনা করেন। যে প্রকল্পের লক্ষ্য আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগা ওয়াট বিদ্যুতের পরিকল্পনা। এখন পর্যন্ত দেশে ২০০ গিগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ। যা লক্ষ্যমাত্রার ৪০ শতাংশ। রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরা সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যকে বিশেষ ক্যাটাগরি রাজ্যের মর্যাদা দিয়ে এই রাজ্যের জনগণকে সূর্য ঘর প্রকল্পে উৎসাহিত করার জন্য ভর্তুকি বাড়িয়ে দেন। লক্ষ্য একটাই , বিদ্যুত বিলকে শূন্যে নামিয়ে আনা। এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে রতন বাবু আরো বলেন, এই প্রকল্পটি বাড়ির ছাদ, টিনের চাল কিংবা মাটিতেও পাটাতনের উপর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। প্রকল্পের লক্ষ্য হল, বাড়ির ছাদ কেন্দ্রিক সৌর বিদ্যুতের ক্ষমতা বাড়ানো এবং পরিবার গুলিকে তাদের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম করা। গৃহস্থালী ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটি ২০২৩-২৪ অর্থবছর (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ থেকে শুরু) থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে। এই সময়কাল পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি প্রদান করা হবে। এতে মোট আর্থিক ব্যয় হবে ৭৫,০২১ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের ভর্তুকির বিষয়টির ব্যাখ্যা করে রতন বাবু জানান, আবাসিক সেক্টরে প্রথম ২ কিলো ওয়াট ক্ষমতা সোলার প্যানেল বসানোর ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট এর জন্য ভর্তুকি ৩৩ হাজার টাকা। প্রথম ২ কিলো ওয়াট সোলার প্যানেল বসানোর পর পরবর্তী ১ কিলো ওয়াট সোলার প্যানেল বসানোর ক্ষেত্রে ভর্তুকি মিলবে ১৯ হাজার ৮০০ টাকা। ৩ কিলো ওয়াট সোলার প্যানেলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভর্তুকি ৮৫,৮০০ টাকা। রেসিডেন্সিয়াল সেক্টরে ৩ কিলো ওয়াট সোলার প্যানেল বসানোর পর পরবর্তী সোলার প্যানেল বসানোর ক্ষেত্রে অর্থাৎ কিলোওয়াট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আর কোন ভর্তুকি মিলবে না। হাউসিং সোসাইটি/ রেসিডেনশিয়াল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইত্যাদির ক্ষেত্রে এবং ইলেকট্রিক্যাল ভেহিকেল চার্জিং এর ক্ষেত্রে ৫০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত সোলার প্যানেল বসাতে পারবেন। এ জন্য ভর্তুকি পাওয়া যাবে প্রতি কিলো ওয়াটে ১৯,৮০০ টাকা। প্রতিটি পরিবার সর্বোচ্চ ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত সৌর প্যানেল স্থাপন করতে পারবেন। নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ যে কোন ভোক্তা ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেডের কাছে বিক্রি করতে পারবেন বলেও মন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন। তিনি জানান যে কোন ব্যক্তি তার নিকটবর্তী বিদ্যুৎ নিগম কার্যালয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন। এই প্রকল্পে প্রত্যেক আগ্রহী ব্যক্তিকেই ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ লিমিটেডের আধিকারিকরা সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবেন। মন্ত্রী জানান, এদিনের বিশেষ শিবিরের পর আগরতলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শিবির করে নাম নথিভুক্ত করা হবে। এরমধ্যেই মোহনপুর পুর পরিষদের উদ্যোগেও বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এরপর শুরু হবে রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় এই শিবির। গোটা রাজ্যকে প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলী যোজনার আওতায় আনার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী।

নার্সিং

নার্সিং পেশাকে; পেশা হিসেবে না দেখে সেবার দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখুন

নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের শপথ গ্রহণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনঅনুষ্ঠানে গিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী জানান; রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে রাজ্য সরকার। রাজ্যে একটি স্বাস্থ্য হাব গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। স্বাস্থ্য পরিষেবাকে গতিশীল করতে রোগীদের সেবাদানের পাশাপাশি রোগীদের পরিজনদের সঙ্গেও একটা ভালো সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে নার্সদের।

সোমবার আগরতলার আইজিএম হাসপাতাল কমপ্লেক্সে আগরতলা সরকারি নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে নার্সিং কলেজে আইটি ল্যাবের ও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, নার্সিংয়ের বিষয় আসলেই ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের কথা মনে আসে। নার্সিং পেশাকে পেশা হিসেবে না দেখে সেবার দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। ক্রিমিয়ার যুদ্ধে গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু সৈনিকদের নিজের সেবাদানের মাধ্যমে সুস্থ করে তুলেছিলেন তিনি। এই পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ জন্মগ্রহণ করেছিলেন যারা নিজের কাজের মাধ্যমে চির স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। এমনই একজন ছিলেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, যিনি নার্সিংকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। সারা বিশ্বে ১২ মে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিনে আন্তর্জাতিক নার্স (সেবিকা) দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর আজকের দিনটিও এই মহিয়সী নারীকে শ্রদ্ধা জানানোর দিন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোন প্রতিষ্ঠানের নার্সিং ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হতে হবে। তাদের সাথে ডাক্তার বাবুরাও রয়েছেন। নার্সরা তাদের সেবাদানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম উজ্জ্বল করতে পারেন। কাজের কোন ধরণের বিকল্প নেই। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের আদর্শকে পাথেয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এই নার্সিং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। মনে রাখতে হবে যে কাজ আমাকে দেওয়া হয়েছে সেই কাজটুকু একাগ্রতার সঙ্গে করে যেতে হবে। শুধুমাত্র রোগীদের সেবা দেওয়া নয়, রোগীদের পরিজনদের সঙ্গেও একটা ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। পেশাগত ক্ষেত্রে যাওয়ার সময় যে প্রতিজ্ঞা আপনারা করেছেন সেই প্রতিজ্ঞার প্রতিটি শব্দ যেন অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়। সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। এবার এই প্রতিষ্ঠানে ৪৯ জন শিক্ষার্থী যুক্ত হলো। এরআগের বছর ৪৮ জন শিক্ষার্থী ছিল। ত্রিপুরা রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরো সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। ১৯৫০ সালে ত্রিপুরায় নার্সিং প্রতিষ্ঠান শুরু হয়েছিল। যেটা গৌহাটি নার্সিং কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই নার্সিং প্রতিষ্ঠান সারা দেশের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ১৯৯৪ এ এই প্রতিষ্ঠান ত্রিপুরা নার্সিং কাউন্সিলের অধীনে চলে আসে।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আগে একটা বিএসসি নার্সিং কোর্সের সিট পাওয়া বিশাল ব্যাপার ছিল। আর আজ প্রায় ৫০টি আসন নিয়ে কলেজ শুরু হয়েছে। আগে ডেন্টালের জন্য একটা, মেডিকেলের জন্য ৫/৭টা আসন ছিল। কিন্তু এখন প্রায় ৪০০টি এমবিবিএস আসন রয়েছে রাজ্যে। ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আরো ৫০টি আসনের জন্য আবেদন করেছে। এটা হলে মেডিকেলে আসন সংখ্যা প্রায় ৪৫০ হবে। ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়লে আমাদেরও উপকার হবে। আজ এখানে আইটি ল্যাব উদ্বোধন হওয়ায় সুবিধা হবে ছাত্রছাত্রীদের। প্রায় ১৫টির মতো কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে। স্মার্ট ক্লাশ থেকে সব ধরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এখানে। রাজ্যে একটি এইমস হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। ত্রিপুরায় কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের কথা আগে কেউ ভাবতে পারেন নি। আর ইতোমধ্যেই দুজন রোগীকে সফলভাবে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়েছে। আগামীতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল এডুকেশনের অধিকর্তা ডাঃ এইচ পি শর্মা, এজিএমসির প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডাঃ অনুপ কুমার সাহা, স্বাস্থ্য দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব রাজীব দত্ত, স্বাস্থ্য দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা ডাঃ সৌভিক দেববর্মা, আইজিএম হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা রাজ্যের ষাটটি বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্রের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হল সোমবার

ত্রিপুরা রাজ্যের ষাটটি বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্রের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ভোটার ২৮,৯১,০৮২জন। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদনক্রমে রাজ্যের ষাটটি বিধানসভা নির্বাচনক্ষেত্রের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সোমবার প্রকাশিত হয়েছে।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সমস্ত ভোটগ্রহণ কেন্দ্র, তহশীল অফিস, নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকের অফিস এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকের অফিসে দেখা যাবে। এছাড়াও ত্রিপুরা মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এর ওয়েবসাইটেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রতিলিপি দেখা যাবে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুসারে রাজ্যে মোট ভোটার ২৮ লক্ষ ৯১ হাজার ৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার চৌদ্দ লক্ষ-৫০হাজার ৭০৯ জন। মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার ২৯৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৭ ৪ জন. সার্ভিস ভোটার রয়েছেন ১১৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০৮৩০ জন এবং মহিলা ভোটার ২০৫ জন। খসড়া ভোটার তালিকা থেকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা থেকে চূড়ান্ত তালিকায় ২৬ হাজার ৬৭ জন ভোটার বেড়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার বেড়েছে ১২২১৮ জন। মহিলা ভোটার বেড়েছে ১৪৩৮৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার বেড়েছে পাঁচ জন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ১২৪৩০ জন মৃত ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা ৩০৩৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪৭৬৬ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১৫৬৩২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন একজন।

আগরতলায়

আগরতলায় Unacademy এর IIT, JEE প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি

আগরতলায় আসছেন Unacademy এর শিক্ষক Prashant Jain। গণিত অলিম্পিয়াড, আইআইটি (IITJEE) এবং মেডিকেল এন্ট্রান্স প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভারতের অন্যতম বিখ্যাত পরামর্শদাতা, শ্রীযুক্ত প্রশান্ত জৈন (পিজে স্যার)। তিনি আগরতলা আসছেন একটি “Motivational cum Interactive” সেমিনারে যোগদানের জন্য।

সেমিনারের মূল বিষয় হলো “How to build strong Mathematics” সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হবে এই জানুয়ারী মাসের ১৪ তারিখ সন্ধ্যা ৫.০০ টা থেকে আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে। পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী ভবিষ্যতে গণিত অলিম্পিয়াড এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (IITJEE) ও মেডিকেল এন্ট্রান্স প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি করতে ইচ্ছুক, তাদেরকে উক্ত সেমিনারে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। শ্রীযুক্ত প্রশান্ত জৈন (পিজে স্যার) IITJEE-2008 পরীক্ষায় সর্বভারতীয় রেঙ্ককিং-42 অর্জন করেছিলেন এবং 2012 সালে IIT Bombay থেকে কম্পিউটার সায়েন্স শাখায় স্নাতক হন। তিনি আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক বিজয়ী হন এবং আন্তর্জাতিক পদার্থবিদ্যা অলিম্পিয়াডে যোগ্যতা অর্জন করেন। শ্রীযুক্ত জৈন “জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড (IOQM)” এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রচলিত এবং সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের লেখক। শ্রীযুক্ত জৈন ভারতবর্ষের শিক্ষাজগতের মানচিত্রে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, এবং উনি ভারতবর্ষের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সবথেকে বড় প্লাটফর্ম, “UNACADEMY”-র সাথে যুক্ত, শিক্ষাদানের প্রতি তার আবেগের সাথে গণিতে তার দক্ষতা ভারতবর্ষের শিক্ষা আঙিনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

পানীয়

পানীয় জলের এক ফোটার জন্য গিরিবাসীদের সংগ্রাম!

পানীয় জলের সমস্যা; আঠারোমুড়া পাহাড়ের ৪৫ মাইল এলাকারয়। প্রত্যন্ত এলাকার কচিকাঁচা শিশুরা অবাক জল সংগ্রহে জলের চাহিদা পূরণের দৃশ্য উঠে এলো খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমা মুঙ্গিয়াকামি ব্লকের অধীন ১৮ মোরা পাহাড়ের পাদদেশের ১৮ মুড়া এডিসি ভিলেজের ৪৫ মাইল এলাকা থেকে।

পানীয় জলের জন্য আজও প্রত্যন্ত এলাকার জনজাতি গিরি বাসীদের নিত্যদিনের সংগ্রাম। রাজ্যের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা গুলির মধ্যে এমন পাহাড়ি জনপদ এলাকার রয়েছে যেখানে পানীয় জলের জন্য প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চাতক পাখির মতন হন্যে হয়ে জলের উৎসের খোঁজে বের হতে দেখা যায় পানীয় জলের সংগ্রামীদের। ডান বাম কোন সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থতা বলা যায় অনেকাংশে। তবে যায় হোক না কেন জল ছাড়া জীবনে বেঁচে থাকার স্বপ্ন অধরা। হোক সে জল হোক পরিশ্রুত কিংবা অপরিশ্রুত। জল হলেই হল। সব ধরনের জল যোগ্য ভেবে বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে আজও সংগ্রহ করতে দেখা যায়। এমনই এক দৃশ্য পরিলক্ষিত হল খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমা মুঙ্গিয়াকমি আর ডি ব্লকের অধীন ১৮ মুড়া পাহাড়ের পাদদেশের এন এইচ-৮ সড়কের ৪৫ মাইল এলাকায় থেকে। দেখা গিয়েছে, এই এলাকারই দুই শিশু রাস্তার পাশে জমে থাকা নোংরা আবর্জনা মিশ্রিত জল সংগ্রহ করছে হাড়ি দিয়ে ড্রামের মধ্যে। শিশুটি জানায়, এই সংগ্রহ করা জল দিয়ে রান্নার কাজ, স্নানের কাজ সহ পানীয় জলের অভাব দূরীকরণ সাহায্য করে। এই বয়স থেকে জলের অভাব অনটন পরিলক্ষিত করে খুদে দুই শিশু পরিবারের জন্য নোংরা আবর্জনা মিশ্রিত রাস্তার পাশে জমে থাকা জলই সংগ্রহ করছে, কেবলমাত্র বেঁচে থাকার জন্য জলের প্রয়োজন রয়েছে তাই বলে।

তবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে, বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় উপজাতি জনপদ গুলিতে ধাপে ধাপে উন্নয়নের গতিধারা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু ১৮ মোড়া পাহাড়ে বিভিন্ন এলাকায় পা রাখলেই করুন দৃশ্য উঠে আসে। বেঁচে থাকার সংগ্রামে কত কিছুই করতে হচ্ছে জনজাতি গিরি বাসীদের।

রহিমপুরে

রহিমপুরে; মহিলা সহ একাধিক আহত,গুলিবিদ্ধ এক ছাত্র,ভাঙচুর কয়েকটি বাইক ও দোকান!

রহিমপুরে মদমত্ত বিএসএফ জওয়ানের তান্ডব । আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মদমত্ত বিএসএফ জওয়ানের রাবার বুলেটে আহত হয়েছে এক নাবালক। বক্সনগর ব্লকের অন্তর্গত রহিমপুর সীমান্ত এলাকা।

সীমান্ত এলাকায় রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া।রয়েছে বিএসএফের কড়া নজরদারি। তবে সীমান্তের উপারেও ভারতীয় ভুখন্ডে বসবাস করেন অনেক ভারতীয় নাগরিক। তাদের নির্দিষ্ট সময়ে করতে হয় আসা-যাওয়া।অধিকাংশ সময় বিএসএফ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ঝগড়া বিবাদ লেগেই আছে। আবার মীমাংসার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানও হয়। এই সীমান্তেই মদমত্ত বিএসএফ জওয়ান তাণ্ডব চালায়৷ ঘটনা ঘটে রবিবার রাত আনুমানিক দশটা নাগাদ। বক্সনগরের রহিমপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায়। ,রহিমপুরে ছিল ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ওয়াজ মাহফিল। এই মাহফিলে রহিমপুর এলাকার মহিলা পুরুষ সকলেই উপস্থিত ছিলেন। আশাবাড়ি বিওপির রহিমপুর বাজার সংলগ্ন ১৬৫ ও ১৬৬ নম্বর গেটের মাঝামাঝি স্থানে ৪৯ নং ব্যাটালিয়নের কর্তব্যরত দুজন বিএসএফ জওয়ান নেশায় বুদ হয়ে বাজার এবং মূল রাস্তায় তাণ্ডব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলে আখ্যা দিয়েছে। প্রথমে নেশায় আসক্ত দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাজারের কাছে থাকা প্রায় সাতটি মোটর বাইক ভেঙ্গে চুরমার করে দেয় এবং একটি দোকানে হামলা চালায় এবং দোকান ভেঙ্গে ফেলে। তাছাড়া দোকানের মালিক পরিতোষ সূত্রধরকে প্রচন্ড ভাবে মারধর করে। তারপর ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ধনু মিয়ার বাড়িতে ঢুকে ধনু মিয়াকে লাঠি দিয়ে প্রচন্ডভাবে মারধর করে। লাঠির আঘাত প্রতিহত করতে গেলে ধনু মিয়ার কন্যা নাসিমা আক্তারকে প্রচন্ডভাবে মারধর করে এবং তার হাত ভেঙ্গে দেয় জওয়ানরা। এখানেই শেষ নয় এলাকার শফিউল ইসলামের একমাত্র নাবালক পুত্র ইমান হোসেনকে রাস্তায় পেয়ে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ইমান হোসেন সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এলাকার শত শত মানুষ রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ঈমানকে বক্সনগর সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়৷ ইমান এবং নাসিমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে আগরতলার হাঁপানিয়া হাসপাতালে রেফার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনার খবর পেয়ে কলমচৌড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়৷ পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তাতে সন্তুষ্ট নয় এলাকাবাসী। রহিমপুর থেকে কয়েক শতাধিক যুবক এবং এলাকাবাসী মিলে কলমচৌড়া থানার সামনে এসে রাতে স্লোগান ও বিক্ষোভ দেখায়। তাদের দাবি অতিসত্বর নেশাগ্রস্থ দুই বিএসএফ জোয়ানকে আটক করে থানা নিয়ে আসতে হবে। যতক্ষণ তাদের থানায় নিয়ে না আসা হবে ততক্ষণ তারা এই ধরণায় বসে থাকবেন। ওসি নাড়ু গোপাল দেব আশাবাড়ি বিওপিতে রাতেই ছুটে যান এবং দুই জোওয়ান ও কোম্পানি কমান্ডার, পোস্ট কমান্ডারের বিরুদ্ধে থানায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ বর্তমান আশাবাড়ি,কাঁটামুড়া, বক্সনগর বিওপিতে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা বিনা কারণে মানুষকে বিভিন্ন সময় হয়রানি করছে। এই ধরনের হয়রানি বন্ধ না হলে আগামী দিনে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে বলে তারা জানান। সোমবারে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে।

নরসিংগর

নরসিংগর এলাকার তপন শীলের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ!

নরসিংগর এলাকায়, গত শনিবার রাতে আনুমানিক সাড়ে বারোটা নাগাদ সিপিআইএম নরসিংগর লোকাল কমিটির সদস্য তপন শীলের বাড়িতে কতিপয় বিজেপি আশ্রিত দুর্বৃত্ত শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে। বোমা বিস্ফোরণে বাড়ির দেওয়ালে বড় গর্ত হয়ে যায় এবং কয়েকটি ফাটল ধরে। গোটা এলাকা কম্পিত হয়ে ওঠে।বোমা বিস্ফোরণের আওয়াজে তপন শীল এর কন্যা অসুস্থ হয়ে পড়ে।সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানালেও পুলিশ সকালে আসে। এখন পর্যন্ত কোন গ্রেপ্তার নেই।

আজ সিপিআইএম পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কমিটির সম্পাদক রতন দাস, রাজ্য কমিটির সদস্য প্রণব দেববর্মা, মহকুমা কমিটির সম্পাদক সুদীপ দেবনাথ, বড়জলা কেন্দ্রের বিধায়ক সুদীপ সরকার, বামুটিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক নয়ন সরকারসহ পার্টির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তপনশীল এর বাড়িতে গিয়ে ঘটনা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন এবং তপনশীলের পরিবারের পাশে থাকার বলেন । তখন ঘটনাস্থলে তপনশীল এর প্রতিবেশীরাও জড়ো হন। নেতৃবৃন্দ এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেন এবং প্রতিবাদ জানান। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা হীনতার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি রাজ্যে আইনের শাসন কায়েম করার দাবি জানান । পাশাপাশি শান্তিকামী জনগণকে এই আক্রমণের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।