বন

বন সংরক্ষণে উদ্যোগী হতে আহ্বান বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার!

বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা  ত্রিপুরা বিধানসভার চলমান অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে বন দপ্তরের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ত্রিপুরা রাজ্য তার ৭৩.৬৪% বনভূমি আচ্ছাদনের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং কার্বন শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মন্ত্রী জানান, রাজ্যের বনসম্পদ রক্ষার জন্য গত পাঁচ বছরে ৫৬,১১০ হেক্টর বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ, ১,৮৩৯ কিলোমিটার রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ এবং ১,২২৪.৫ কিলোমিটার নদীর তীরে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও ১,২৭৭টি চেক ড্যাম নির্মাণের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও মাটির ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, “গত কয়েক বছরে বাঁশ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ISFR ২০২১ অনুসারে, রাজ্যে বাঁশভূমির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪,২০১ বর্গ কিলোমিটার, যা ২০১৭ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।” তিনি উল্লেখ করেন, ত্রিপুরার বনভূমি বছরে প্রায় ২৭২.৭৬ মিলিয়ন টন CO₂ শোষণ করে, যা জাতীয় স্তরে একটি উল্লেখযোগ্য অবদান। তবে, বেআইনি দখল এবং চাষাবাদের চাপ বনভূমির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি RoFR (Forest Rights Act) জমির সীমানা নির্ধারণ এবং বন রক্ষার জন্য কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আগামী পাঁচ বছরে ৭,৫০০ হেক্টর বনভূমি, ২০০ কিমি রাস্তার ধারে, এবং ৫০ কিমি নদীর তীরে বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, মন্ত্রী বন সুরক্ষার জন্য CAMPA তহবিল ব্যবহারের নীতিমালায় ছাড় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

পরিবেশ ও বন সংরক্ষণকে ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধিতে বন দপ্তরের কার্যক্রম রাজ্যের অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, এবং সামাজিক দিককে সমৃদ্ধ করছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে বনমন্ত্রী ত্রিপুরার বন দপ্তরের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলগুলিকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

নেশা

‘নেশা’ ত্রিপুরা বিধানসভায় আলোচনার বিষয়!

নেশা মুক্ত রাজ্য গঠনে তৎপর রাজ্য সরকার। ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনটি অর্থ বছরে নথিভুক্ত মামলার সংখ্যা ১৬৬৫ টি। তিনটি অর্থ বছরে ২৬৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে। রাজ্য বিধানসভায় এই তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা।

গত তিনটি অর্থ বছরে দুই কোটি ৪৫ লক্ষ ৫১ হাজার ২৫৮ টি গাজা গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়াও ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৫৮ কেজি গাজা উদ্ধার হয়েছে। ৫ লক্ষ ৮২ হাজার একশো কফ সিরাপ এর বোতল আটক করা হয়েছে। এমনটাই তথ্য দিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালে রাজ্য পুলিশ সবচেয়ে বেশি গাঁজা গাছার চারা ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নেশা দ্রব্য ব্যবহারের লাগামহীন বৃদ্ধি এবং তা থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় নানাবিধ পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বাম আমলের চিত্র তুলে ধরে বলেন ২০১৮ সালের আগে নেশা যুক্ত ত্রিপুরা ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর নেশা মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার। মায়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণে নেশা দ্রব্য রাজ্যে আসছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের নজরদারি রয়েছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী নেশা মুক্ত কেন্দ্রগুলোতে সরকারি অর্থের সদ্ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা দেখতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান রাজ্যের জেলা গুলোতে নেশা মুক্ত কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ডোনার মন্ত্রক ১৯৮ কোটি টাকা দিয়েছে। নেশা মুক্ত করার জন্য বিরোধী বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব রাখেন।

BMS

BMS এর দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অশান্ত ধর্মনগর!

BMS এর নীতি “জনসেবা যে কর্ম আমাদের ধর্ম আমাদের মানবতা” ভুলে গিয়ে ধর্মনগর BMS কি ব্যস্ত লক্ষীরভান্ডার নিয়ে? ত্রিপুরার, ধর্মনগরে “BMS” (Bharatiya Mazdoor Sangh) এর রাজ্য নেতৃত্ব এবং “BMS” এর সর্বভারতীয় নেতৃত্ব অসীম দত্তের মধ্যে সংঘাতের কারণে, এলাকায় ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। কুবেরের শিষ্য, সর্বভারতীয় নেতৃত্ব অসীম দত্ত ব্যস্ত শুধু ধর্মনগর নিয়েই। তিনি BMS এর সর্বভারতীয় স্তরে কতটুকু দায়িত্ব পালন করছেন তা একমাত্র BMS এর জাতীয় নেতৃত্বই বলতে পারেন। তবে ধর্মনগরের দায়িত্ব তিনি খুব ভালোভাবেই পালন করছেন; স্থানীয় BMS কে অগ্রাহ্য করে, লক্ষ্মী সন্ধানের উদ্দেশ্যে, তিনি গড়ে তোলেন আরেক BMS সংগঠন। এর ফলে এখন ধর্মনগরে BMS এর মোট দুটি গোষ্ঠী সক্রিয়; এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ; এর ফলে ভোগান্তির শিকার নিত্য যাত্রীরা। ধর্মনগর শহরের যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে রেল চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এই পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় বাস, ট্রাক, ছোট যানবাহন সহ রেল যাত্রীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হন। ধর্মনগর স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখাযায় এবং একই কারণে অনেক ট্রেনের পরিষেবাও ব্যাহত হয়।

ধর্মনগর শহরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে, BMS এর কার্যালয় দখল করা নিয়ে। “BMS” এবং তার সাথে সম্পর্কিত তথাকথিত সংগঠন “BMS অসীম দত্ত মহাসংঘ” এর সদস্যরা স্থানীয় একটি রাস্তায় একে অপরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক এবং শ্রমিক-সংগঠন সম্পর্কিত তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তোলে এবং কিছুদিন ধরে একে অপরের উপর আক্রমণ করতে তৎপর ছিল। ধর্মনগর শহরের সড়কগুলিতে সংঘর্ষের ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে স্থানীয় বাস, ট্রাক, ছোট গাড়ি সহ রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। আন্দোলনকারীরা বাঁধা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে থাকে, তবে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ধর্মনগরের রাস্তায় সংঘর্ষের কারণে বহু যানবাহন থমকে দাঁড়িয়ে থাকে, যার ফলে শহরের সাধারণ মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হয়। নিত্যযাত্রীরা বিশেষত যারা ধর্মনগর শহর থেকে অন্যান্য শহরে যাতায়াত করেন, তারা মারাত্মক সমস্যায় পড়েন। বাস, ট্যাক্সি ও ছোট গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশনেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ধর্মনগর রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক ভিড় এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের সুবিধা প্রদানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, ফলে তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অশান্ত ধর্মনগর শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সাথে সাথে, তারা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা চালায়। তবে, সংঘর্ষের তীব্রতার কারণে পুলিশকেও পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছুটা সময় নিতে হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক এবং ক্ষোভ দেখা দেয়। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিত্যযাত্রীরা, এই সংঘর্ষের ফলে ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। যারা রেলপথে যাতায়াত করেন, তাদের অনেকেই সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি, যা তাদের জীবিকা অর্জনে প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া সড়কপথে যানজট এবং মানুষের অবাধ চলাচলে, জরুরি পরিষেবাগুলি যেমন এম্বুলেন্স এবং প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণেও বিঘ্ন ঘটেছে।

প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনী অশান্তি দমন করতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক পুলিশ বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে, সংঘর্ষের কারণে কিছু এলাকায়, খবর প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা বিশেষজ্ঞ মহলের। তবে এলাকার সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে গেছে। আগামী দিনে যদি এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপের সম্ভাবনাও রয়েছে।

জাগৃতি

জাগৃতি মিশন কর্মসূচির সূচনা করলেন পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী

জাগৃতি মিশন কর্মসূচির আয়োজিত অনুষ্ঠানে, উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, সুশান্ত চৌধুরী, শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, তিনজেলার বিধায়কসহ খাদ্য দপ্তর এবং পরিবহন দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক ও জেলা প্রশাসন এবং ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিন্দম লোধসহ বিশিষ্টজনেরা।

ভোক্তা সুরক্ষা আইন, মাদকের অপব্যবহার এবং সড়ক দুর্ঘটনা সম্বন্ধে পরিবহন দপ্তর এবং খাদ্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই সচেতনতা শিবির। উদয়পুরের রাজর্ষি টাউন হলে এই শিবিরকে কেন্দ্র করে সিপাহীজলা, দক্ষিণ জেলা এবং গোমতী জেলার বিভিন্ন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এক ইন্টার কলেজ কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জাগৃতি মিশন কর্মসূচির অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় তার ভাষণে বলেন শুধুমাত্র সরকার এবং প্রশাসন দিয়ে হবে না এর জন্য প্রয়োজন নিজেদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা। তবেই ভোক্তা সুরক্ষা আইন এবং সড়ক সুরক্ষা সহ মাদকের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে অতিথিরা জেলার বিভিন্ন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে হেলমেট বিতরণ করেন। জাগৃতি কর্মসূচির অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়াও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন জেলা স্তরে এ ধরনের ইন্টার কলেজ প্রতিযোগিতা থেকে যারা বিজয়ী হবেন তারা আগামী ২৭ জানুয়ারি আগরতলার মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।উদয়পুরের পর আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে কুমারঘাটে এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচি। শুধু তাই নয় আগামী দিন রাজ্যের স্কুলগুলিতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। বক্তাদের ভাষণ শেষে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। কুইজমাস্টাররা নির্বাচিত ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ছাত্র-ছাত্রীরাও তার উত্তর দেন। শুধু তাই নয় কুইজমাস্টাররা দর্শকদের উদ্দেশ্যেও নানা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। দর্শকরা তার সঠিক জবাব দিতে পারলে সঙ্গে সঙ্গেই তাদেরকে মূল্যবান উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজর্ষি টাউনহলে ছিল ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের উপচে পড়া ভীড়।

মন্ত্রী

‘মন্ত্রী বা বিধায়ক’ একদিনের জন্য হলেও, সারা জীবন পেয়ে যাবেন পেনশন!

মন্ত্রী-বিধায়করাই পারে একমাত্র তাদের নিজের বেতন নিজেই বাড়াতে। রাজ্য বিধানসভায় মন্ত্রী, বিধায়ক এবং প্রাক্তন বিধায়কদের বেতন, ভাতা ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করে একটি সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপের বেতন, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত নবম সংশোধনী বিল অনুসারে, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধায়ক এবং প্রাক্তন বিধায়কদের বেতন ও ভাতা ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী রতন লাল নাথ কর্তৃক বিধানসভায় উত্থাপিত বিল অনুসারে, মুখ্যমন্ত্রীর বেতন ৯৭,০০০ টাকা বৃদ্ধি পাবে, যেখানে উপ-মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধানসভার স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সরকারি চিফ হুইপের বেতন ৯৪,০০০ টাকা থেকে ৯৬,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে বিধায়কদের বেতন ৯৩,০০০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বেতন ছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধানসভার স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিধায়করা অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আতিথেয়তা ভাতা, টেলিফোন ভাতা এবং বাড়ি ভাড়া ভাতা।প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন এবং পারিবারিক পেনশন যথাক্রমে ৩৪,৫০০ এবং ২৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৬,০০০ এবং ৪৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।নবম সংশোধনী বিলটিতে সমস্ত অবসরকালীন সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র একদিনের জন্যও দায়িত্ব পালনকারী সকল বিধায়কদের পেনশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২২ সালে মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপ, বিধায়কদের বেতন, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলিতে সর্বশেষ সংশোধনী অনুসারে, একজন বিধায়ক যদি কমপক্ষে সাড়ে চার বছর ধরে বিধানসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তবে তিনি পেনশন সহ অবসরকালীন সুবিধা পাবেন। এবার সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ উপ-মুখ্যমন্ত্রী, অন্য মন্ত্রী, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, বিরোধী দলনেতা, মুখ্যসচেতক এবং বিধায়কদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণভাবে বাড়ানো হয়েছিল । সে সময় বিধানসভায় আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথের আনিত নয়া সংশোধনী বিল অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর ৫৩,৬৩০ টাকা, উপ-মুখ্যমন্ত্রীর ৫২,৬৩০ টাকা, অন্য মন্ত্রীদের ৫১,৭৮০ টাকা, বিরোধী দলনেতার ৫১,৭৮০ টাকা, অধ্যক্ষের ৫১,৭৮০ টাকা, উপাধ্যক্ষের ৫০,৫১০ টাকা মুখ্য সচেতকের ৫১,৭৮০ টাকা এবং বিধায়কদের ৪৮,৪২০ টাকা বেতন নির্ধারিত হয়। এছাড়াও অন্যান্য ভাতাও বাড়ানো হয়। বেতন বাড়ার পাশাপাশি বাড়ানো হয় পেনশনও। বিলের সংশোধনী মোতাবেক সে সময় নতুন পেনশন হয় ৩৪,৫০০ টাকা। অতীতে তা ছিল ১৭,২৫০ টাকা। সাথে অন্যান্যও ভাতাও বাড়ে সে সময়। পূর্বতন বাম সরকারের আমলে অন্তিমবার ২০১৬ সালে মন্ত্রী-বিধায়কদের বেতন-ভাতা বেড়েছিল। ওই বেতন বেড়ে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর ২৬,৩১৫ টাকা, মন্ত্রীদের ২৫,৮৯০ টাকা, অধ্যক্ষের ২৫,৯৯০ টাকা, উপাধ্যক্ষের ২৫,২৫৫ টাকা, সরকারি মুখ্য সচেতকের এবং বিরোধী দলনেতার ২৫,৮৯০ টাকা এবং বিধায়কদের ২৪,২০০ টাকা। সাথে অন্যান্য ভাতাও বেড়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে একলাফে দ্বিগুণ বেড়ে যায় মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিধায়কদের বেতন-ভাতা।

এবার ফের মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির জন্য সংশোধনী বিল পেশ করা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এর মৃদু প্রতিবাদ করেছেন৷ বন্যা জনিত পরিস্থিতি এখনো কাটিয়ে উঠা যায় নি।অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিত করন হয়নি৷ তাই এখন মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি স্থগিত রাখতে বলেছিলেন তিনি।

বন্যা

বন্যা ত্রাণ তহবিলের অনুদান ৩৪.৯৮ কোটি টাকা ছুঁয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী

 বন্যা ত্রাণ তহবিলে শীঘ্রই বরাদ্দ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার: বিধানসভার অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে জানাল মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির সময় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে (সিএমআরএফ) ৩৪.৯৮ কোটি টাকা দান করা হয়েছে। শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকারের ত্রাণ তহবিলের বরাদ্দ দেওয়া হবে।

শুক্রবার ত্রিপুরা বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বন্যা-দুর্গত মানুষকে ত্রাণ বিতরণে ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে ডাঃ সাহা বলেন, গত ১৯ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ত্রিপুরায় ব্যাপক বন্যা, ভূমিধস এবং প্রচুর পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেক আহত হয়েছেন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ১২টি নদীর মধ্যে জুরি নদী ছাড়া বাকি সব নদীই বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ৬টি নদী সমস্ত মাত্রা অতিক্রম করেছে। বন্যার কারণে রাজ্যের ৮টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দক্ষিণ ত্রিপুরা, গোমতী ও সিপাহিজলা জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা জনিত কারণে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৮৮৯টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছিল এবং প্রায় ২ লাখ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রায় ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫৮,৭৮০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩,২৫২ কোটি টাকা। ৩,০৮৩ কোটি টাকা পরিমাণের জল সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। গ্রামোন্নয়নে ৩,০০৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও সেতুতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১,৯০০ কোটি টাকা। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ ১,৫৪৩ কোটি টাকা।

তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা জানান, বন্যার সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি একযোগে নেমে কাজ করেছে। যার মধ্যে ছিল এসডিআরএফ এর ৩২টি টিম, এনডিআরএফ এর ১১টি টিম, আসাম রাইফেলস, ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, আপদা মিত্র এবং অন্যান্য সহযোগী টিম। বন্যার সময়ে দুর্গত মানুষের জন্য খাবার ও পানীয় জল বিতরণ করা হয়েছে। ওই পরিস্থিতিতে সবাই এগিয়ে আসেন। ৩টি হেলিকপ্টারে খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী এয়ারড্রপ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং সর্বদলীয় বৈঠকও ডেকেছেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের সাথে গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে বিধানসভাকে অবগত করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল (এনডিআরএফ) থেকে বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠির ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রতিনিধি দল গত ২৮ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করেন। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এ ক্ষয়ক্ষতি জনিত ৭,০৮১ কোটি টাকার অতিরিক্ত ত্রাণ প্যাকেজের জন্য একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয়, যা কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। মুখ্যমন্ত্রী এই আর্থিক প্যাকেজ অনুমোদনের বিষয়ে আশা ব্যক্ত করেন। এসডিআরএফ থেকে ৪০ কোটি টাকা এবং এনডিআরএফ থেকে ২৫ কোটি টাকা বন্যা ত্রাণে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজ্য সরকার দপ্তর ভিত্তিক ৫৬৪ কোটি টাকার একটি তাৎক্ষণিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

ডাঃ সাহা জানান, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্য, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে ৩৪.৯৮ কোটি টাকার অনুদান পাওয়া গেছে। এই তহবিল থেকে ত্রাণ কাজের জন্য রাজস্ব দপ্তরকে ১২ কোটি টাকা এবং পরে আরও ১৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বন্যার ত্রাণ তহবিল বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রায় ৫৩,৮৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বাড়ি মেরামতের জন্য ৫৮ কোটি টাকার অধিক দেওয়া হয়েছে এবং বই, জামাকাপড় ও বাসনপত্রের জন্য ৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

বিধানসভা

বিধানসভায় সহকারী অধ্যাপক সহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ঘোষণা

বিধানসভার অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান; বিভিন্ন কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এজন্য রাজ্যের কালেজগুলিতে অধ্যাপকের স্বল্পতা নিরসনের জন্য রাজ্য সরকার ২০০ জন সহকারী অধ্যাপক, ১২ জন পার্টটাইম শিক্ষক নিয়োগ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া আরও ২০১ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (TPSC) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার ত্রিপুরা বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে অবহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীও প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। তিনি বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যে বর্তমানে ৩১টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজ রয়েছে। তিনি জানান, এই সময়ে আমাদের ৩১টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজে মোট ৭২,০০৯ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। আমাদের কাছে ৭৮৭ জন পিজিটি, এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, এসোসিয়েট প্রফেসর ও প্রফেসর রয়েছেন। সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলিতে ঘাটতি মেটাতে আমরা ২০১ জন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগের জন্য টিপিএসসি (ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশন) -এর কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এছাড়াও রাজ্য সরকার সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলির জন্য আরও ২০০ জন সহকারী অধ্যাপক (এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য অর্থ দপ্তর ইতিমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে। এই সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া মন্ত্রিসভার যাবতীয় নিয়ম অনুসরণ করে করা হবে এবং খুব শীঘ্রই প্রক্রিয়া শুরু হবে। ক্লাশ ব্যাহত না করে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা সুনিশ্চিত করার জন্য আমরা ৭১০ জন গেস্ট টিচার নিয়োগ করেছি। মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, ইউজিসি ২০২৩ নির্দেশিকা অনুসারে বর্তমানে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকগণ তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজ্যের ৬টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজে মাস্টার্স ডিগ্রি কোর্স শুরু হয়েছে। এজন্য ১২ জন পার্টটাইম শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

রাজ্যপাল

রাজ্যপাল তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন!

রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ত্রিপুরা বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন। অধিবেশনের প্রথম দিনের কর্মসূচি গুলি হলো প্রশ্নত্তোর পর্ব, রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদ সূচক প্রস্তাব, অধক্ষ্য ,উপাধক্ষ, মুখ্যসচেতক সহ মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন ও পেনশন সংক্রান্ত বিল পেশ প্রমুখ পেশ। তাছাড়া প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করা হয়।উল্লেখ্য এই প্রথম প্রশ্নত্তোর পর্ব ডিজিটাল মাধ্যমে করা হয়।অধিবেশন চলবে ১৫জানুয়ারী পর্যন্ত। রাজ্যপাল তার ভাষনে বলেন,রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

রাজ্যপাল বলেছেন, সাবকা সাবকা বিকাশ নীতি অনুসরণ করে রাজ্য সরকার নাগরিকদের নির্বিশেষে সকলের জন্য শিক্ষার স্বাস্থ্য ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য অবিরাম কাজ করে চলেছে। ত্রিপুরা বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে তিনি বলেন সমাজের অন্তিম ব্যক্তির উন্নয়ন সাধন হচ্ছে ত্রিপুরার উন্নয়নের রুপরেখার মূল মন্ত্র। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গুলো সম্পর্কে তে গিয়ে তিনি জানান সম্প্রতি ত্রিপুরা সরকার ও ভারত সরকার ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা এবং অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স এর সাথে যে সমঝোতা পত্র স্বাক্ষর করেছে তাতে রাজ্য এখন শান্তিপূর্ণ রয়েছে। পিসি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন ধানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ২০২৪ সালে ৯২হাজার ৫৮৮ হেক্টর জমিকে মুখ্যমন্ত্রী ইন্টিগ্রেটেড ক্রপ ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে আসা হয়। ছাড়া ২০২৪ -২৫ অর্থবছরে অতিরিক্ত ৬হাজার ৫০০ হেক্টর জমিকে জৈব চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। অন্যদিকে আগস্ট মাসের বন্যায় গ্রস্ত ১লক্ষ ৪৮হাজার ৩৭৯ কৃষককে ১০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহিলাদের সাক্ষরতা এবং মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে মুখ্যমন্ত্রী কন্যা আত্মনির্ভর যোজনা নামে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নে লেম্বু ছড়ায় কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য ১০০ দশমিক ৮৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। রাজ্যের যুবাদের কর্মসংস্থানের দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য ভালো কোম্পানিগুলিতে ইন্টার্নশীপের গুজব করে দেওয়ার জন্য ২০২৪ সালে চালু করা হয় প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ প্রকল্প। রাজ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষার উন্নয়নে ২০২৪-২৫ স্ত্রীরোগ বিভাগে তিনটি পিজি আসন সৃষ্টি করা হয়েছে আরো তিনটি বিভাগের পিজি আসন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ এবং ডক্টর বি আর আম্বেদকর টিচিং হাসপাতালে ২৩টি কেবিন, ২০টি আইসিইউ বেড, এবং ৩০ সজ্জা বিশিষ্ট ডায়ালিসিস চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ্য শৈশব সুস্থ কৈশোর অভিযানের আওতায় ১১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৩ জন শিশু ও বয়সন্ধিকালীন কিশোর ও কিশোর কিশোরীরা উপকৃত হয়েছে। তাছাড়া সড়ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলির জন্য সরকার ২হাজার ৮০০কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী জল জীবন মিশনের অধীনে হর ঘর নল সে জল প্রকল্প চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তাছাড়া ত্রিপুরাকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা রাজ্যের সাত জায়গায় আচমকা হানা দিলো E.D

ত্রিপুরা রাজ্যের নেশা কারবারিদের সাথে সখ্যতা, মানব পাচারকারী এবং আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির অভিযোগে আগরতলা, উদয়পুর সহ  সাত জায়গায় E.D ছাপা মেরেছে। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মী অমল বৈদ্যের উদয়পুর পুলিশ লাইনস্থিত বাড়িতেও ইডি’র আধিকারিকরা হানা দেয়।

শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে অভিযান শুরু হয়। কলমচৌড়া থানার এক নেশা কারবারির বাড়িতে হানা দেয় ইডি। আগরতলার পাঁচটি জায়গায় এক যোগে অভিযান চালায় ইডির আধিকারিকরা৷ জানা গেছে; অপু রঞ্জন দাস, দেবব্রত দে, বিশু ত্রিপুরা, কামিনী দেববর্মা, তাপস দেবনাথ, এবং লিটন সাহার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। আড়াইশো সিআরপিএফ জওয়ানদের নিয়ে অভিযান চালায় ইডি। মাদক পাচারে জড়িত থাকার সন্দেহে এই অভিযান করে ইডি। সূত্রের খবর, তল্লাশির সময় ইডি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে। এটি অনুমান করা হচ্ছে যে রাজ্য জুড়ে অন্যান্য ব্যক্তি এবং অবস্থানগুলিতে অভিযান করবে ইডির আধিকারিকরা। যদিও এখনও কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি, সন্দেহের মধ্যে বিশিষ্ট এক রাজনৈতিক নেতাও জড়িত থাকার কথা জানা গেছে। গত রাতে, ইডি গ্রামীণ ব্যাঙ্কের একটি শাখা থেকে আধিকারিকদের তলব করে, আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গভীর রাতে শাখা খুলতে বাধ্য করে। ইডি প্রধানের নেতৃত্বে গোটা অভিযান চলে আগরতলার এমবিবি ক্লাব এলাকা, নন্দননগর, নতুননগর, বক্সনগর সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান হয়। প্রায় ২৫০ জন সি.আর.পি.এফ জওয়ানকে নিয়ে ব্যবসায়ীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

সীমান্ত

সীমান্ত নিরাপত্তায় পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক!

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অমিতাভ রঞ্জনের পৌরোহিত্যে বৃহস্পতিবার পুলিশ সদরদপ্তরে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মহানির্দেশক ক্রাইম অনুরাগ রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ এবং পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে রাজ্যের আট জেলার পুলিশ সুপারগন নিজ নিজ জেলার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বৈঠকে ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের উপর বিশেষ নজরদারি করার জন্য গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং ক্রস বর্ডার ক্রাইম প্রতিরোধে পুলিশ কে সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়া হয়।

দুটি দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় আট জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠক করেন পুলিশের মহানির্দেশক। দ্বিতীয় দফায় টিএসআর এর কমান্ডেন্ট এবং ডেপুটি কমান্ডেন্টদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তিনি। আট জেলার পুলিশ সুপার দের কাছ থেকে জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে খোঁজখবর করেন পুলিশের মহানির্দেশক। কোথায় দুর্বলতা রয়েছে তা খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নির্দেশেই আট জেলার পুলিশ সুপার এবং টিএসআর এর কমান্ডেন্টদের নিয়ে বৈঠকে বসেন পুলিশের মহানির্দেশক। রাজ্যের সীমান্ত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা এবং নজরদারি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তার কারণ হলো সীমান্ত এলাকাগুলো অতি স্পর্শকাতর জোন হিসেবে পরিচিত।রাজ্যে বৈরীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। পাশাপাশি পাকিস্তানের আইএসআই বাহিনী এবং বাংলাদেশের মদত রয়েছে। এই অবস্থায় সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিএসএফের নজরদারির পাশাপাশি পুলিশ ও টিএসআর বাহিনীকে সক্রিয় করতে চাইছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর নড়েচড়ে বসেছে। হাসিনার বিদায়ের পর সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশজুড়ে মৌলবাদের দাপট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। আইএসআই-এর মদতে সেখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বহু জঙ্গি সংগঠন। তারই অন্যতম আনসারুল্লা বাংলা টিম। এই টিমের জঙ্গিরা রাজ্যকে করিডোর করে দেশের অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মাটিতে জেহাদের বিষ ছড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে আল কায়দার ছায়া সংগঠন। যদিও তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই জেহাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে ‘অপারেশন প্রঘাত’ শুরু করেছে পুলিশ। এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত আসামে ১১ জন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে আগে থেকেই সতর্ক রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, গত মাসে বাংলা, কেরল ও অসমে অভিযান চালিয়ে আনসারুল্লা বাংলা টিমের ৮ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশের এসটিএফ। বড়দিনের আগে পাকড়াও করা হয় এই জঙ্গি সংগঠনের ২ সদস্যকে, যাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক ও বিস্ফোরক তৈরির সামগ্রী। অসমের ধুবড়ির বান্ধবপাড়া থেকে শাহিনুর ইসলাম নামে আরও এক জঙ্গি।প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মুম্বই হামলার ধাঁচে দেশের নানা প্রান্তে নাশকতার ছক ছিল এই জঙ্গিদের। এমনকী বাংলায় গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করেছিল আনসারুল্লা বাংলা টিম। চলছিল তার প্রশিক্ষণ। যদিও ভয়াবহ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই আনসারুল্লা শিকড় উপড়ে ফেলতে কোমর বেঁধে নামলেন তদন্তকারীরা।

বাংলাদেশি জঙ্গিদের টার্গেট এখন উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো! একাধিক জায়গায় সক্রিয় হয়েছে ৪০টিরও বেশি স্লিপার সেল। পুরোদমে কাজ করছে তাদের নেটওয়ার্ক। আসরে ধুলিয়ান ও জলঙ্গী মডিউলও। সীমান্ত পেরিয়ে নাশকতার বিজ বপন করছে বাংলাদেশের জঙ্গিনেতারা। ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরির কাজ চলছে এই সমস্ত স্লিপার সেলে। কাঁচামাল আসছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। এমনকী নিত্য নতুন বিস্ফোরক তৈরির জন্য রীতিমতো গবেষণাও চলছে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সব রাজ্যগুলোকে সতর্ক করেছে৷ এ অবস্থায় রাজ্য কতটা প্রস্তুত, জেলাগুলোর নিরাপত্তা কতটা আটেসাটো তা নিয়ে মুলত বৈঠক। রুটিন বৈঠক হলেও পুলিশের সাফল্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। আগামী দিনের পরিকল্পনা স্থির করা হয়েছে।