পাহাড়ে

পাহাড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে!

পাহাড়ের রাজনীতির রং ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে। তিপ্রা মথা ও আই পি এফটি দুই জনজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক দলের উপর নির্ভর করতে গিয়ে, শাসক দল বিজেপি পাহাড়ে ক্রমশ কোমায় চলে যাচ্ছে। দলকে অক্সিজেন দিতে অতি সম্প্রতি দেশের গৃহ মন্ত্রী অমিত শাহ পাহাড়ের রিয়াং শরনার্থীদের শিবিরে মেরাথন বৈঠক করে গেছেন। যদিও আচমকা রাজ্যের অন্যান্য জনজাতিদের ব্রাত্য রেখে কেন শুধু রিয়াং শরনার্থী শিবিরের উদ্দেশ্যেই আমবাসার হাদুকলক এলাকায় পা রাখলেন? এ প্রশ্ন কিন্তু উঠতে শুরু করেছে। কেননা, কেন্দ্রীয় সরকারের সেকেন্ড ইন্ কমান্ড অমিত শাহের রিয়াং শরনার্থী শিবিরে পা রাখার মাত্র পক্ষ কাল পূর্বে ব্রু অর্থাৎ রিয়াং জনজাতি সমাজের একটা অংশ নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। দলের নাম ব্রু রাইকাচাও রাইকসম ইউনাইটেড। শুধু দলই গঠন করেনি, নতুন এই দল পৃথক ব্রু স্বশাসিত জেলা পরিষদ গঠনের দাবী তুলেছে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে জনজাতি রাজনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পাহাড়ে মেরাথন বৈঠক করলেও এক্ষেত্রে সফল হওয়া মুশকিল। স্বাভাবিক ভাবেই পাহাড়ে কোমায় আচ্ছন্ন শাসক দলকে পুনরায় সচল করার কোন সম্ভাবণা আপাতত নেই। এই পরিস্থিতিতে তিপ্রা মথা এবং আই পি এফ টি উভয় দলই পাহাড়ে ক্রমশ জনভিত্তি হারাচ্ছে। তিপ্রা মথার কৌশলী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে জনজাতি যুবকরা। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ে গুটি গুটি পায়ে হলেও সিপিএম নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এটা ঘটনা পাহাড়ে বিজেপির ভিত্তি ছিল জনজাতি মোর্চা। কিন্তু জনজাতি মোর্চা এই রাজ্যে এখন কর্মসূচিহীন সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ক্রমশ জনজাতি মোর্চাকে ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন কি একটা সময় যে জনজাতি মোর্চার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল পূর্ব ত্রিপুরা লোকসভা আসনের সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, তিপ্রা মথাকে বাগে রাখতে রেবতী ত্রিপুরার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। অনিশ্চিত প্রাক্তন বিধায়ক পরিমল দেববর্মার। যদিও তিনি জনজাতি মোর্চার প্রদেশ সভাপতি। একই হাল এম ডি সি বিদ্যুৎ দেববর্মারও। স্বাভাবিক ভাবেই এসব নেতারা এখন হতাশায় দিন গুজরান করছে। ফলে আগামী দিনে পাহাড়ে নীরব বিপ্লব হলে অবাক হওয়ার নয়।

বাংলাদেশী

বাংলাদেশী নাগরিক, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ত্রিপুরা রাজ্যে!

বাংলাদেশীদের ছড়াছড়ি, আগরতলা শহর সহ গোটা ত্রিপুরা রাজ্যে। বাংলাদেশী নাগরিকরা ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর উদ্দেশ্যে, প্রবেশের জন্য প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করছে ত্রিপুরা রাজ্যকে। সীমান্ত টপকে রাজ্যকে করিডর বানিয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে এই বাংলাদেশীরা; আবার কেউ কেউ সুযোগ বুঝে এই রাজ্যেই চুপি চুপি বসবাস করছে। আবার কিছু বাংলাদেশী দালালদের সাথে মিলে কাগজপত্র বের করে দিব্যি প্রকাশ্যে বসতি স্থাপন করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো বাংলাদেশীদের সাথে অস্ত্রের ও আমদানি হচ্ছে এই রাজ্যে। এতে আগামী দিনে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার রাতে আগরতলা শহর দক্ষিণাঞ্চলের মিলন চক্রের আদর্শ পল্লী এলাকা থেকে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা সমাজ প্রিয় চাকমাকে; পিস্তল ও তিনটি বুলেট সহ গ্রেপ্তার করে এডিনগর থানার পুলিশ। কেন সে পিস্তল সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে? কি উদ্দেশ্য ছিল তার? পেছনে বিদেশি কোন মদত রয়েছে কিনা বা বাংলাদেশের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে সে যুক্ত কিনা তা এখনো জানতে পারেনি পুলিশ। সদর মহাকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায় জানিয়েছেন ‘তদন্ত হচ্ছে’। জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো তথ্য জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। গত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে আদর্শ পল্লী এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে বাংলাদেশী এই জনজাতি যুবক। অথচ পুলিশ ঘুমে; এলাকার মানুষের সন্দেহ হওয়ার কারনে তারাই পুলিশকে খবর দেয়। জনজাতি অধ্যুষিত কৃষ্ণনগর বা রামনগর এলাকায় না থেকে কেন মিলন চক্রকে সে বেছে নিল সেটাই প্রশ্ন। তার কাছ থেকে নাইন এমএম পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, প্রচুর বাংলাদেশী টাকা এবং ২ লক্ষের উপরে ভারতীয় টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশের অস্থির অবস্থার পর রাজ্যে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অনুপ্রবেশকারী আটক হচ্ছে। তারা সীমান্ত টপকে দালালদের হাত ধরে এই রাজ্যে প্রবেশ করছে। কিন্তু পিস্তল সহ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার এ রাজ্যে ইদানিং কালের মধ্যে প্রথম ঘটনা। বাংলাদেশে আগস্ট মাসে হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর থেকে এই অঞ্চলকে অশান্ত করতে একটা চক্র সক্রিয়। বাংলাদেশের জামাত পন্থী সন্ত্রাসীরা; মোদির স্বপ্নের অষ্টলক্ষ্মীকে অশান্ত করার জন্য মরিয়া। মঙ্গলবার রাতে ধৃত এই যুবক বাংলাদেশের কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে জড়িত কিনা এখন সেটাই প্রশ্ন।

অপরদিকে মধুপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে আরেক বাংলাদেশী। হাফিজ ভূঁইয়া নামে ওই বাংলাদেশীর বাড়ি, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। কৈয়াঢেপা বিওপির বিএসএফ জওয়ানের হাতে মঙ্গলবার সকালে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকার সময় তাকে আটক করা হয় । পরবর্তী সময়ে আটক বাংলাদেশীকে মধুপুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ জোওয়ান‌রা। মধুপুর থানার পুলিশ মামলা হাতে নিয়ে অভিযুক্তকে বিশালগড় মহকুমা আদালতে সোপর্দ করে। তবে স্থানীয়দের দাবি; সীমান্তে এত নজরদারির থাকা সত্ত্বেও কিভাবে বাংলাদেশীরা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করছে? তার মানে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রচন্ড ঢিলেঢালা এবং এই ঢিলেঢালা নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে দালালদের হাত ধরে রাজ্যে প্রবেশ করছে বাংলাদেশীরা।

ককবরক

ককবরক দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে পর্যটন মন্ত্রীর শুভেচ্ছা।

ককবরক দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে এক শুভেচ্ছাবার্তায় সমগ্র ত্রিপুরাবাসীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। শুভেচ্ছাবার্তায় পর্যটন মন্ত্রী বলেছেন, ককবরক আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যের বহুল প্রচলিত একটি প্রাচীন ভাষা। যা হাজার বছর ধরে ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর মানুষজন বলে আসছেন। ককবরক ভাষাটি উত্তর পূর্ব ভারতের প্রাচীন ভাষাগুলির মধ্যে একটি। প্রতি বছর ১৯ জানুয়ারি ককবরক ভাষার উন্নয়নের জন্য আমরা ককবরক দিবস পালন করি। ১৯৭৯ সালে ককবরক ভাষা সরকারি ভাষার স্বীকৃতি পাওয়ার দিন হিসেবে এই দিনটি পালন করা হচ্ছে।

ককবরক ভাষা দীর্ঘ বছর ধরে সকলের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে আজ সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়েছে৷ সাহিত্য চর্চাতেও ককবরক ভাষা আজ অনেকটা এগিয়ে গেছে৷ ককবরক এমন একটি ভাষা যা আমাদের শিকড়ের সাথে আবদ্ধ করে, আমাদের ঐতিহ্যের কথা বলে। ককবরক ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয় বরং আমাদের পরিচয় এবং গর্বের প্রতিফলন। ককবরক দিবস হল ভাষা, সংস্কৃতি এবং সম্প্রদায়ের উদযাপনের দিবস।আসুন আমরা সেই ভাষাগত ঐতিহ্যকে লালন করি যা আমাদের একত্রিত করে। এই দিনটি আমাদের রাজ্যে জনজাতি অংশের মানুষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপনেরও একটি দিন। সরকার রাজ্যের সকল জাতি গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, শিক্ষা, অর্থনৈতিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে৷ ককবরক ভাষার উন্নয়নে ভ্রাতৃত্ববোধের মধ্য দিয়ে সকল জাতি গোষ্ঠীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি সকললের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমরা সকলে এই দিনটি ককবরক ভাষার উন্নয়নে উদযাপন করি। এই দিনটি ত্রিপুরাবাসীর মধ্যে শান্তি, সমৃদ্ধি, সৌভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বার্তা বয়ে আনুক, এই শুভকামনা রইলো।

সিপিআইএম

সিপিআইএম এবার কেরল লাইনেই হাঁটতে চলেছে!

সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির প্রয়াণের পরে আপাতত সিপিআইএম পলিটব্যুরোর কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে প্রকাশ কারাট। সীতারাম ইয়েচুরি পার্টির সম্পাদক থাকার সময়ে কংগ্রেস সম্পর্কে যে ‘নরম’ মনোভাব নিতেন, তার প্রতিফলন থাকত সিপিআইএমের দলীয় দলিলেও। কিন্তু সেই অবস্থার পরিবর্তন হতে চলেছে। এখন কারাট যুগ চলছে পার্টিতে। আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিপিআইএমের পার্টি কংগ্রেস। সেখানে পার্টির রাজনৈতিক রণকৌশলগত খসড়ায় থাকতে চলেছে সেই কারাট দর্শনই। সূত্রের খবর, কংগ্রেস সম্পর্কে ‘প্রয়োজনীয়’ সমালোচনা রাখা হবে রাজনৈতিক রণকৌশলগত খসড়ায়। যা আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে আনবে সিপিএম।

সূত্রের খবর, অন্য দলের সঙ্গে জোট, আসন সমঝোতা নিয়ে পরে ভাবা যাবে। তার মানে আগামী দিনে কংগ্রেসের সাথে সিপিআইএমের সম্পর্ক থাকবে কিনা তা পার্টি কংগ্রেসেই কারাট লবি ঠিক করবে। প্রশ্ন উঠছে, কেরল লাইনে পার্টি চললে, ইন্ডিয়া জোটের কী হবে? সেই প্রশ্নের উত্তর আগামী দিনে পাওয়া যাবে বলে পার্টি সূত্রে খবর। ২-৬ এপ্রিল মাদুরাইয়ে অনুষ্ঠেয় পার্টি কংগ্রেসে খসড়া রাখা হবে। পার্টির সমস্ত স্তরে আলোচনার জন্য ১ ফেব্রুয়ারি এই খসড়া প্রকাশ করা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি ফের ২২ ও ২৩ মার্চ খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য বৈঠকে বসবে। কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, কংগ্রেস-সহ অন্যান্য অবিজেপি দল যদি ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে ‘নরম’ মনোভাব দেখায়, তারও বিরোধিতা করবে সিপিএম। তিন দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বাংলার একাধিক নেতা সে রাজ্যের বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের সম্পর্কে মূল্যায়ন থাকবে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতেই খসড়াতেও সেই ইঙ্গিতই থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। বাংলার নেতারা যেমন কংগ্রেসের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলার কথা বলেছেন, তেমনি কেরলের নেতারা তাদের রাজ্যের প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস বিরোধিতার কথা বলেছেন। প্রায় এক দশক হতে চলল বিজেপি এবং কংগ্রেসের থেকে সমদূরত্বের লাইন থেকে সরে এসেছে সিপিএম। দল মৌলিক ভাবে সেই লাইন বদল করছে না। কংগ্রেস এবং বিজেপিকে এক বন্ধনীতেও ফেলছে না। তবে আগের মতো “নরম”ও থাকছে না। উল্লেখ্য, আগামী বছর বাংলার সঙ্গে কেরলেও বিধানসভা ভোট। দুই রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে দু”রকম সম্পর্ক সিপিএমের। এটাই সিপিএমের দ্বিচারিতা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

শ্যামসুন্দর

শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের সামাজিক দায়বদ্ধতা!

শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের উদ্যোগে ওয়ারেংবাড়িতে “স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয় বার্ষিক অনুষ্ঠান ২০২৫” এর আয়োজন করা হয়। শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের এক প্রয়াসের নাম এই ‘স্বর্ণগ্রাম’- যা ত্রিপুরা রাজ্যের গোমতী জেলার ওয়ারেংবাড়িকে আদর্শ গ্রাম প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে।

‘স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয়’ হল শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের একটি আবাসিক স্কুল প্রকল্প – সহযোগিতায় রয়েছে ওয়ারেংবাড়ির গ্লোরি অ্যাকাডেমি। এই প্রকল্পে শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের তরফে স্কুলের আবাসিকদের সবরকম সুযোগসুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য যথাযথ পুষ্টি, পড়াশোনার সামগ্রী, বই, উপযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ, খেলার কোচ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হয়। ‘স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয় বার্ষিক অনুষ্ঠান’ আসলে স্বর্ণগ্রামের ১৪তম বার্ষিক ক্রীড়া দিবস ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান – যা এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই গৌর চন্দ্র সাহা-র প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করেন বিশেষ অতিথিরা ও গ্রামের শিশুরা। এদিনের অনুষ্ঠানে ‘বেস্ট স্টুডেন্ট (বয়) অফ দা ইয়ার’ ও ‘বেস্ট স্টুডেন্ট (গার্ল ) অফ দা ইয়ার’ হিসেবে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, মেডেল তুলে দেওয়া হয়। এই সম্মাননা মেধা এবং খেলাধুলায় সেরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। এদিন রিয়াং আদিবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রামের ছোটরা গান গেয়ে অনুষ্ঠানের শুরু করে। শেষ হয় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হোজাগিরি নাচ দিয়ে। যা অনুষ্ঠানে এক নয়া মাত্রা যোগ করে। এদিন ‘স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয়’ – এর ছাত্র-ছাত্রীরা যোগব্যায়ামও প্রদর্শন করে। একইসঙ্গে বিশিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে একটি স্বাস্থ্য শিবিরও হয়। পাশাপাশি স্বর্ণগ্রাম-এর প্রত্যেক পরিবারের মধ্যে কম্বলও বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অজয় সরকার, যোগা গুরু যোগীবিশ্ব, ডক্টর সজল নাথ এবং শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স-এর ডিরেক্টর রূপক সাহা । উপস্থিত প্রত্যেকেই স্বর্ণগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, স্কুলের উন্নতি এবং গ্রামের লোকদের জীবনযাপন আরো ভালো করার ব্যাপারে সহযোগিতার কথা বলেন।

শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স-এর স্বর্ণগ্রাম প্রকল্পটি সকলের কাছে স্বপ্নের মতো এক বিশেষ উদ্যোগ, যা ১৬ বছর আগে শুরু হয়েছিল। আর আজ এই উদ্যোগ এক বড় আকার নিয়েছে। সবাই মিলে এই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিপূর্ণ করতে হবে। যোগা গুরু যোগীবিশ্ব বলেন, ‘এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের ডিরেক্টর রূপক সাহা বলেন, “রাজ্য সরকার, রামকৃষ্ণ মিশন এবং ভারত সেবাশ্রম বিশেষভাবে এই উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন; সংবাদমাধ্যমও এই ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। সবার প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। এছাড়া স্বর্ণগ্রামের মানুষের থেকে যে উৎসাহ পেয়েছি তা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।”  তিনি আরও বলেন, “স্বর্ণগ্রাম প্রকল্পটি আমাদের স্বপ্নকেও ছাপিয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে এই পথ আরো প্রশস্ত হবে; আরো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। তবে সবাই একসঙ্গে থাকলে এই উদ্দেশ্য পূরণ হবেই।”

নেশা

নেশার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর!

নেশামুক্ত ত্রিপুরা (মাদকমুক্ত ত্রিপুরা) গঠনে সকল অংশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মাদক মুক্ত কেন্দ্র স্থাপন করবে রাজ্য সরকার। নেশামুক্ত রাজ্য গড়ে তুলতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে।

সোমবার সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জে রাজ্যের প্রথম ২০০ শয্যা বিশিষ্ট সুসংহত মাদক মুক্ত কেন্দ্রের ভূমিপূজন করার পর একথা বলেন। এর পাশাপাশি এদিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিশ্রামগঞ্জে জেলা পরিবহণ কার্যালয়ের নতুন ভবন ও সিপাহীজলা সার্কিট হাউসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিশ্রামগঞ্জ বাজার থেকে চিকনছড়া হয়ে বরকোবাড়ি সড়ক, জম্পইজলা ব্লকের লাটিয়াছড়া উচ্চতর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন এবং চড়িলামস্থিত অটল বিহারী বাজপেয়ী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ ও বাউন্ডারি ওয়ালের উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন এবং অ্যাক্ট ইস্ট নীতি ঘোষণা করেছেন। আমরাও প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিশন অনুসরণ করে কাজ করছি। আমরা উন্নয়নের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময়ই সহজ জীবনযাপনের উপর গুরুত্ব দেন। পিএম – ডিভাইন স্কিমগুলিও রাজ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিধানসভায় অনেক বিধায়ক মাদক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মাদক সমস্যা মোকাবেলায় আমাদের সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ২০১৮ সালের আগে ত্রিপুরা মাদক-যুক্ত ছিল, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা নেশা মুক্ত ত্রিপুরা (মাদকমুক্ত ত্রিপুরা) অভিযান ঘোষণা করেছি। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে রাজ্য সরকার মাদকাসক্ত যুবকদের মাদকাসক্তি কাটিয়ে তুলতে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। স্কুল-কলেজে মাদকাসক্ত যুবদের চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি শিক্ষকদের এ ধরনের পড়ুয়াদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছি। এই সমস্যাটিকে চিহ্নিত করাও সমাধান করাও প্রত্যেকের দায়িত্ব। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের রাজ্যে একটি শক্তিশালী ক্লাব সংস্কৃতি রয়েছে এবং ক্লাব সদস্যদের সাথে বিভিন্ন বৈঠকে আমি তাদের মাদকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সরকারের প্রচেষ্টাকে সহজ করার জন্য জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ খুবই প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এবার আমরা মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছি। ১২১.৯০ কোটি টাকা খরচ করে আমরা এই কেন্দ্রগুলি তৈরি করছি। এই নতুন নেশামুক্তি কেন্দ্রে একটি সুইমিং পুল, যোগব্যায়াম, সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম এবং আরও অনেক কিছুর মতো সুবিধা রাখা থাকবে। যা একটি রেফারেল সেন্টার হিসেবে কাজ করবে। এটি একটি জি+৪ বিল্ডিং হবে। সব জেলায় একই ধরনের কেন্দ্র খোলা হবে। আমি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে এই প্রকল্পগুলি যথাসময়ে শেষ করার জন্য আহ্বান করছি। মাদকের প্রতি আমাদের জিরো-টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং আমরা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিধায়ক কিশোর বর্মণ, বিধায়ক অন্তরা সরকার দেব, বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন, বিধায়ক সুবোধ দেববর্মা ও বিশ্বজিৎ কলই, রাজ্য সরকারের সচিব কিরণ গিত্তে, জেলাশাসক সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল, এসপি বি জে রেড্ডি সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ।

বিজেপি

বিজেপি ত্রিপুরা জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা!

বিজেপি জেলা নেতৃত্বে নতুনের আধিক্য ত্রিপুরা রাজ্যে। রয়েছে মহিলা ও জনজাতি অংশের প্রতিনিধিত্ব। ঘোষণা হল রাজ্য বিজেপির জেলা সভাপতিদের নাম

সদর গ্রামীণ জেলা সভাপতি হয়েছেন – গৌরাঙ্গ ভৌমিক। মজলিশপুরের প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি গৌরাঙ্গ ভৌমিক। সোমবার খয়েরপুর সদর গ্রামীণ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা: মানিক সাহা। তিনি বলেন শ্রী ভৌমিকের সুদক্ষ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় দলীয় সংগঠন আরোও বেশি শক্তিশালী হবে। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, প্রাক্তন সভাপতি অসিত রায়, প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস প্রমুখ। ভারতীয় জনতা পার্টির সদর গ্রামীণ জেলার সভাপতি গৌরাঙ্গ ভৌমিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ অন্যান্যরা। সদর (শহর) জেলার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অসীম ভট্টাচার্য। সদর কার্যালয়ে তার নাম ঘোষনা করেন প্রদেশ বিজেপির রিটার্নিং অফিসার সমরেন্দ্র চন্দ্র দেব। গোমতী জেলার সভাপতি হয়েছেন সবিতা নাথ; খোয়াই জেলা সভাপতি বিনয় দেববর্মা; সিপাহীজলা জেলা উত্তরের সভাপতি – বিপ্লব চক্রবর্তী; সিপাহীজলার দক্ষিণ জেলা সভাপতি – উত্তম দাস; ঊনকোটি জেলা সভাপতি – বিমল কর; উত্তর ত্রিপুরা জেলা সভাপতি – কাজল কুমার দাস; দক্ষিণ ত্রিপুরা (পিলাক) জেলা সভাপতি – দীপায়ন চৌধুরী; ধলাই জেলা সভাপতি- পতিরাম ত্রিপুরাকে ফের নির্বাচিত করা হয়েছে।

৮ম

৮ম বেতন কমিশন গঠনের সুখবর ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

৮ম এর আশায় বুক বাঁধছেন ত্রিপুরার কর্মচারী মহল, ৭ম এখন ইতিহাস! ত্রিপুরার কর্মচারী বঞ্চনার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় একমাত্র সুধীর রঞ্জন মজুমদারের সরকারই‌‌ ত্রিপুরায় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। “ত্রিপুরার দীর্ঘ বাম শাসন” বেতন কমিশন বলেও যে কোন জিনিস ভারতবর্ষে আছে তা কর্মচারী মহলের মন থেকে ভুলিয়ে দিয়েছে। ২০১৮ সালে এই সুযোগ নিয়ে, খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে, সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে মিছিলের লাইন লম্বা করে; ভোট ভিক্ষা করেছিল ক্ষমতাসীন বিজেপি দল। স্বপ্ন দেখিয়েছিল ওরা ক্ষমতায় এলে প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে। উল্লেখ্য ত্রিপুরা রাজ্যের কর্মচারীরা ভারতবর্ষের সবকটি রাজ্য থেকে সবচেয়ে কম বেতনে কাজ করছে। কর্মচারী মহলের বেতন কাঠামোর দিকে তাকালে বুঝাই যায় না ত্রিপুরা রাজ্য ভারতবর্ষেরই একটি রাজ্য।

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের জন্য আবার সুখবর। কেন্দ্রীয় সরকার, কর্মীদের জন্য নতুন পে কমিশন গঠনের ঘোষণা করেছে। ২০২৫ সালের মধ্যেই এই কমিশন তাদের রিপোর্ট এবং সুপারিশ জমা দেবে। সরকারের সূত্র অনুযায়ী, ৮ম বেতন কমিশন শীঘ্রই কাজ শুরু করবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যেই এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে ঠিক হয়েছে যে, কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করে নতুন সুপারিশ চালু করা হবে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিশনের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের কাজ হবে বর্ধিত বেতন কাঠামো তৈরি করা এবং কর্মীদের জন্য সুবিধাবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান ৭ম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন কাঠামো চালু হয়েছে ২০১৬ সালে। এবার ৮ম পে কমিশন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে প্রায় ৫০ লক্ষ কর্মী এবং পেনশনভোগীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। তবে, নতুন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে সরকারের বড় অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে হবে। সরকার আশা করছে, নতুন পে কমিশনের কাজ শেষ হলে তা কেন্দ্রীয় কর্মীদের জন্য আরও উৎসাহ ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে। সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ন্যূনতম বেতন ছিল ১৮ হাজার টাকা। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং অন্যান্য ভাতা বাড়িয়ে সর্বশেষ বেতন কাঠামোতে তা ৩৪ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। কর্মচারীরা এবার দাবি তুলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন এবং বাড়ি ভাতা সহ অন্যান্য ভাতা আরও বাড়ানো হোক। কেন্দ্রীয় স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের মতে, আগামী পে কমিশনের সুপারিশে কর্মীদের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, সরকার ইতিমধ্যে ৮ম পে কমিশন গঠনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে, সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। বাজেট অধিবেশনে এই বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা হতে পারে।এবারের পে কমিশনের সুপারিশে প্রায় ৪৯ লক্ষ কর্মী এবং পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামো ও ভাতার বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া প্রত্যাশা করছেন।

কুম্ভ

কুম্ভ মেলা, প্রয়াগরাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়: একাধিক নিহত ও আহত!

কুম্ভ মেলা প্রাঙ্গণে আজ সকালে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা নামিয়ে এনেছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ৩০ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই তীর্থযাত্রী এবং সেবক, যারা মেলার অংশ হিসেবে আসা কুম্ভস্নানে ব্যস্ত ছিলেন। আহতদের মধ্যে অনেকে দগ্ধ হয়েছেন এবং তাদের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।

ঘটনাটি ঘটেছে মেলার একটি বিশাল তাঁবুর মধ্যে, যেখানে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে সেখানে একটি রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত ওই তাঁবুর ভেতর ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার মধ্যে অনেক মানুষ হতভম্ব হয়ে পড়ে এবং অনেকেই দৌড়ে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, অনেকের জন্য পালানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকাজ শুরু হয়। দমকল বাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাঁবুর ভেতরে একাধিক পরিবার এবং সাধু-সন্তদের উপস্থিতি ছিল, যারা প্রথামাফিক কুম্ভ স্নান উপলক্ষে সেখানে অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুনটি রান্নাঘর থেকে শিখা বের হয়ে উঠে এবং এর পরে তা তাঁবুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো ত্রুটি অথবা রান্নার সরঞ্জামের কারণে আগুন লাগতে পারে। তবে, বিশেষজ্ঞরা আরও তদন্তের মাধ্যমে সঠিক কারণ জানার চেষ্টা করছেন। মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো দ্রুত আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। দ্রুতই আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। কুম্ভ মেলার সংগঠকরা জানিয়ে দিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প গঠন করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হেলিকপ্টার দ্বারা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রয়াগরাজের জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, এবং মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তাঁরা তীব্র সমালোচনা করেছেন যে, এত বড় একটি ধর্মীয় সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে তৈরি ছিল না এবং অগ্নি নিরাপত্তার খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া উচিত ছিল। তবে, কুম্ভ মেলার পরিবেশের মধ্যে বিপদ সামাল দিতে প্রশাসনও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর, কুম্ভ মেলা কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে জন্য আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ফায়ার-সেফটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, দুর্ঘটনা এবং অন্যান্য আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের পর মেলা কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে ঘোষণা করেছে যে, প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে এককালীন অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই কুম্ভ মেলা এলাকায় উপস্থিত তীর্থযাত্রীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। যেসব তীর্থযাত্রীদের এই দুর্ঘটনার কারণে তাদের যাত্রা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, তারা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তীর্থযাত্রীরা জানাচ্ছেন যে, প্রার্থনা ও পুণ্যলাভের জন্য তারা এখানে এসেছিলেন, কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণে তাদের মনোবল ভেঙে গেছে। প্রয়াগরাজ পুলিশ বিভাগ এবং প্রশাসন কর্তৃক ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও, এই ঘটনার পর কুম্ভ মেলা নিয়ে সারা দেশব্যাপী প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে মানুষের দাবি, এরকম বৃহত্তর ধর্মীয় সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হোক, যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এমন এক মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি, প্রশাসন এবং মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

সিপিআইএম

সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ লবি সম্পর্ক রক্ষায় মরিয়া!

সিপিআইএমের সাথে কংগ্রেসের মধুচন্দ্রিমা যুগের অবসান হচ্ছে সারা দেশেই। দলের বঙ্গ লবি কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক রেখে চলতে চাইলেও কারাতের কেরালা লবি কিন্তু কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী নয়। ত্রিপুরা রাজ্যেও বাম, কংগ্রেসের চির ধরেছে অনেক আগেই। একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে শুরু করে দিয়েছেন দুই দলের নেতারা। সিপিএম দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক চলছে৷ বৈঠকে কংগ্রেসের সাথে মধুচন্দ্রিমা থাকবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জানা গেছে সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের প্রথম দিনই দ্বৈরথে কেরল-বাংলা লবি। সারা দেশে কংগ্রেস নিয়ে অবস্থান কী হবে? এই প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত সিপিআইএম। সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির তিনদিনের বৈঠকের প্রথম দিনেই কংগ্রেস সম্পর্কে কেরল লবির কড়া মনোভাব থাকলেও কংগ্রেস সম্পর্কে কোনও কথা না বলে কার্যত নরম মনোভাব দেখাল বঙ্গ সিপিআইএম। ত্রিপুরা নীরব দর্শকের ভুমিকায়৷ যদিও এর আগে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গ লবির পাশে দাড়িয়েছিল সিপিএম। বঙ্গ লবির বিভিন্ন বক্তব্যকে সমর্থন করেছিল ত্রিপুরার বামপন্থী নেতারা। এবার কিন্তু চুপচাপ। কংগ্রেস সম্পর্কে কড়া অবস্থান একসময়ে নিয়েছিলেন পার্টির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাট। তাঁর লাইন ছিল বিজেপি ও কংগ্রেসের থেকে সমদূরত্ব। পরে সীতারাম ইয়েচুরির জমানায় কংগ্রেস সম্পর্কে নরম মনোভাব নেয় পার্টি। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন হয় সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে। বর্তমানে ইয়েচুরি জীবিত নেই। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির কো-অর্ডিনেটর এখন প্রকাশ কারাট। কেরলের নেতৃত্ব এদিন কংগ্রেস সম্পর্কে বিরোধিতার মনোভাব প্রকাশ করেছে। আগামী এপ্রিল মাসে সিপিএমের সর্বভারতীয় সম্মেলন থেকে যদি কারাট লবির হাতে ব্যাটন তুলে দেয় দল তাহলে কংগ্রেসের সাথে চিরতরে সিপিএমের মধুচন্দ্রিমা যুগের অবসান হবে। এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক মহল। কেরলে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই কংগ্রেসের। সেই প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের প্রশ্নে এদিন বাংলা ও কেরল সিপিএমের মধ্যে দ্বিমত দেখা দিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কেরলের নেতাদের কথায়, কংগ্রেস জোট ধর্ম বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভঙ্গ করে। তাছাড়া কংগ্রেস নরম হিন্দুত্বপন্থী বলেও মনে করছে কেরল সিপিএম। সীতারাম ছিলেন কংগ্রেসের প্রতি নরম। আর কারাট বরাবর কট্টরপন্থী। ফলে সীতারামের প্রয়াণের পর কংগ্রেস সম্পর্কে কড়া মনোভাব নিয়ে সিপিএম কারাট লাইনে ফিরবে কিনা, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

যদিও পার্টির একাংশের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে কারাট হয়ত পুরনো অবস্থানে থাকবেন না। কেরলের নেতারা বলছেন, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বাম ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি ও বামপন্থী শক্তিকে একজোট করা হোক। কারাট এবার মধ্যবর্তী কোনও অবস্থান নিয়ে পার্টি কংগ্রেসের রাজনৈতিক খসড়া চূড়ান্ত করবেন বলে খবর। এদিকে, এই প্রথম নির্বাচনী কৌশলের পর্যালোচনা রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনছে সিপিএম।সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে পার্টি কংগ্রেসের প্রাক্কালে রাজনৈতিক রণকৌশল লাইন সংক্রান্ত খসড়া চূড়ান্ত হবে। পাশাপাশি, গত পার্টি কংগ্রেস থেকে এই পর্যন্ত যে যে নির্বাচনী কৌশল নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে পর্যালোচনা ও সংগঠনিক অবস্থা কী রয়েছে, তারও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হবে। সিপিএমের পরবর্তী পার্টি কংগ্রেস হবে এপ্রিলে তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে। কলকাতার তিনদিনের বৈঠক থেকেই রাজনৈতিক খসড়া গৃহীত হবে। তারপর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের আগেই সর্বসমক্ষে আনবে সিপিএম। পার্টি কংগ্রেস থেকে পরের তিন বছরের ‘লাইন’ ঠিক করবে সিপিএম।