প্রজাতন্ত্র

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক মুহূর্তে সন্দেহ ভাজন বিদেশি গ্রেপ্তার!

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে উদয়পুর রেল স্টেশনে আটক এক সন্দেহ ভাজন নাইজেরিয়ান নাগরিক! সে দিল্লি থেকে আগরতলা হয়ে সাব্রুম যাচ্ছিল। উদয়পুর জিআরপি পুলিশ রেল স্টেশনে থেকে শুক্রবার রাত নয়টা নাগাদ তাকে আটক করে। তার কাছে প্রাপ্ত নথিপত্র থেকে দেখা গেছে তার নাম ওনিগুছ ক্যানেট। সে নাইজেরিয়ার লাগোস থেকে এসেছে। খবর পেয়ে আরকেপুর থানার ওসি বাবুল দাস এবং পরে এসডিপিও নির্মাণ দাস উদয়পুর রেল স্টেশনে পৌঁছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই ব্যাক্তি তার মোবাইলে থাকা ছবিতে ভিসা ও পাসপোর্ট দেখাতে সক্ষম হয়। কিন্তু ভারতীয় পাসপোর্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী সঙ্গে অরজিনাল পাসপোর্ট থাকার কথা; কিন্তু সে তা পুলিশকে দেখাতে পারেনি। তার কাছে থেকে ১২৬৭৫ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ডিকশনারি পাওয়া গেছে। একটি ব্যাগ থেকে ড্রাই ফ্রুটস, ড্রাই ফিস এবং কিছু কাপড় পাওয়া গেছে। তবে লোকটি জানিয়েছে নাইজেরিয়াতে যে অশান্তি চলছে তার কারণে সে গত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারতে চলে এসেছে। কিন্তু শুক্রবার কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে করে দিল্লির আনন্দ বিহার থেকে আগরতলা হয়ে সাব্রুমের দিকে কেন যাচ্ছিল এর কোন সদুত্তর সে দিতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে সম্ভবত সে বাংলাদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই সাব্রুম যাওয়ার পরিকল্পনা করে। সে আবার জানায় সাব্রুম তার বোন থাকে। মূলত সে ত্রিপুরায় কেন এসেছে তা বলছে না। পুলিশ সুপার নির্মাণ দাস জানান ক্রিমিনাল কন্সপিরেসি এবং পাসপোর্ট এক্ট অফ ইন্ডিয়া অনুসারে একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে প্রজাতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে আগরতলা শহরের বিভিন্ন বাজারে, পশ্চিম জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে বটতলা বাজারের অবৈধ মদের ঠেক গুলিতে হানা দিয়ে এগুলিকে গুঁড়িয়ে দেয় পুলিশ এবং একজনকে গ্রেফতার করে। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার ডক্টর কিরন কুমার জানান প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর ও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ নাকা চেকিং করছে যেন কোন ধরনের অপৃত্তিকর ঘটনা না ঘটে।

জাতীয়

জাতীয় পর্যটন উৎসবে আমন্ত্রিত বিভিন্ন টোর অপারেটররা!

রাজ্য পালিত হচ্ছে জাতীয় পর্যটন উৎসব। রাজধানীর গীতাঞ্জলি গেস্টহাউস প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই উৎসবের সূচনা করেন পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন মেয়র দীপক মজুমদার, পর্যট ন দপ্তরের সচিব ইউকে চাকমা, নিগমের অধিকত্তা প্রশান্ত নেগী বাদল সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। উৎসবকে কেন্দ্র করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন টোর অপারেটরদেরও। উৎসবকে কেন্দ্র করে গেস্টহাউস প্রাঙ্গনে একটি চিত্র প্রদর্শনীয় ঘুরে দেখেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ মেয়র ও অন্যান্য আধিকারিকরা। পর্যটন দপ্তর এবং ইন্ডিয়ান বিল্ডিং কংগ্রেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন পর্যটন হল এমনই একটি শিল্প যার মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাজ্য সরকার ও সেই পথেই হাঁটছে। এদিন মন্ত্রী রাজ্যের পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন দপ্তরের যে সমস্ত কর্মচারীরা নিরলস প্রয়াস চালিয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন তাদেরকে সংবর্ধনা জানানো হয়। এছাড়া আর্ট কলেজের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা এদিনের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানাধীকারী কে পুরস্কৃত করা হয়।

বিদেশি

বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের মূল্যায়ন: মহাকুম্ভ মেলা!

মহাকুম্ভ মেলা, বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ, বিদেশি মিডিয়ার বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রতি বারো বছর অন্তর আয়োজিত এই মেলাটি হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান। এটি ভারতের প্রয়াগরাজে গঙ্গা, যমুনা এবং পৌরাণিক সরস্বতী নদীর সঙ্গমস্থলে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি বিস্তর আলোচনা করছে, বিশেষ করে এর বিশালতা, আধ্যাত্মিকতা এবং এর সাথে জড়িত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে।

বিদেশি সংবাদমাধ্যম যেমন দ্য গার্ডিয়ান এবং বিবিসি, মহাকুম্ভের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তারা উল্লেখ করছে যে এই উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বাস করেন, সঙ্গমে স্নান করলে পাপমোচন হয় এবং আত্মার মুক্তি মেলে। প্রায় ৪০ কোটি মানুষের সমাগম প্রত্যাশিত এই মেলায় আখড়া, সাধু, সন্ন্যাসী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলন দৃশ্য বিশ্বের জন্য অভূতপূর্ব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হল মেলার বিশাল আয়োজন। রয়টার্স এবং এল জিরা জানিয়েছে, ভারত সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন এই মেলার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কুম্ভ মেলা অ্যাপ, ড্রোন নজরদারি, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রিস্টব্যান্ড, এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই বিশাল জনসমাবেশে ব্যবস্থাপনা সহজ করছে।এছাড়া, দূষণ এড়াতে এবং পরিবেশবান্ধব মেলা আয়োজনের জন্য নেওয়া নানা পদক্ষেপকেও তারা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে।নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্ট এই মেলার রাজনৈতিক এবং সামাজিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেছে। তারা উল্লেখ করছে যে, মেলাটি শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক প্রভাবেও সমৃদ্ধ। বিজেপি সরকারের অধীনে মহাকুম্ভ একটি বৃহত্তর প্রচারণা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এখানে নেতাদের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন সামাজিক বার্তা প্রদান রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহাকুম্ভের ঐতিহাসিক গুরুত্বকেও বিদেশি সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়েছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং হিস্ট্রি চ্যানেল মহাকুম্ভের ইতিহাস এবং এর সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতার ওপর ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে। তারা দেখিয়েছে, কীভাবে এই উৎসব প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি কোটি কোটি মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনের অংশ হয়ে আছে।

বিদেশি মিডিয়া মহাকুম্ভ মেলাকে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখছে। এর বিশালতা, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা, এবং ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা বিশ্ববাসীর জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রজাতন্ত্র

প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়াদিল্লির কর্তব্যপথে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছেন ত্রিপুরার আমন্ত্রিতরা! 

৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়াদিল্লি’র কর্তব্যপথে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করতে সারা দেশ থেকে প্রায় দশ হাজার জন বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছেন। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন সমাজের নানা স্তরের নাগরিক। ত্রিপুরা থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন মোট ৯৫ জন। এদের মধ্যে পিএম যশস্বী প্রকল্পে বৃত্তি পাওয়া ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, ত্রি-স্তর পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, বন সংরক্ষক, হস্তকারু, পানীয় জল, গ্রামোন্নয়ন, বনধন যোজনা, পি এম জনমন, মৎস্য সম্পদ যোজনার সুবিধাভোগীরা রয়েছেন, রয়েছেন জিলা ও ব্লক পঞ্চায়েত এর প্রতিনিধিরা।

রাজধানী দিল্লিতে ২৬ জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড দেখতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আজ রওয়ানা হয়েছেন। আকাশবাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানান, রাজধানী দিল্লিতে রেড দেখার আমন্ত্রণ পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ অতিথি’র তালিকায় রয়েছেন কৈলাশহরের উত্তর ইরাণি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী হাসনা বেগম। কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও পুষ্টি বিষয়ে তিনি কাজ করেন। তাকে আমন্ত্রণ জানানোয় কারণে গ্রামের সবাই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী মৎস্যসম্পদ যোজনায় একজন সুবিধাভোগী – কুমারঘাটের মৎস্যজীবী দিগ্বিজয় দাস ভৌমিক বলেন, একজন সাধারণ মৎস্যজীবী হিসেবে নয়াদিল্লি’তে যাবার ডাক পেয়ে নি খুবই খুশি। তিনি এজন্য সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’কে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর যশস্বী প্রকল্পের আওতায় স্কলারশিপপ্রাপ্ত বিএড, বি টেক, বি ফার্মা কোর্সের পড়ুয়া ৬ জন ছাত্রছাত্রীও দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড দেখার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এদের মধ্যে আগরতলার সুস্মিতা দেবনাথ জানান, যশস্বী স্কিমের সুবিধা পেয়ে ওবিসি- ভুক্ত ছেলেমেয়েরা উচ্চতর শিক্ষা নিতে পারবে। দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড দেখতে যাবার আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি খুবই খুশি। তারা সবাই শনিবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রাজ্য ত্যাগ করেছেন৷

CPIM

CPIM এর এবারের পার্টি কংগ্রেস নতুন দিশার সন্ধানে!

ভারতের পরিবর্তিত রাজনীতিতে কি নতুন ভাবে ভাবনা চিন্তা করতে চলেছে CPIM? চলতি বছরের অনুষ্ঠিত হতে চলা CPIM পার্টি কংগ্রেসে নতুন দিশা কি হবে? কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?বিজেপির মতাদর্শকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করার মতোই বা কি অস্ত্র হাতে নেবে বামেরা? পার্টি কংগ্রেসের আগে খসড়া প্রতিবেদনে এ নিয়ে নানা বিষয় স্থান পেয়েছে বলে খবর।

ধর্মকে আফিমের সঙ্গে যারা তুলনা করতো, সেই রাজনৈতিক দল এখন নিজেদের রাজনৈতিক দিশা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আগেই ভারতীয় মনীষীদের গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের ছবি স্থান দিয়েছিল CPIM। এবার গোটা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ভাবাবেগকে গুরুত্ব না দিয়ে দল ভবিষ্যতে এগোতে চাইছে না। ২০২৫ সালেই মাদুরাইতে অনুষ্ঠিতব্য এই পার্টি কংগ্রেসের জন্য দল ইতিমধ্যেই খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে নিয়েছে বলে খবর। এতদিন পর্যন্ত বামেদের মতে ধর্ম হচ্ছে আফিম এর মত। নির্দিষ্ট যেকোনো ধর্ম বিরোধী অবস্থান সিপিআইএমের। জানা গেছে আসন্ন কংগ্রেসে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চাইছে সিপিআইএম। কারণ হচ্ছে সমাজে ধর্মীয় কর্মসূচি বাড়ছে। দলের বিশ্বাস, তাই ধর্মীয় আস্থাবান লোকেদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। সিপিআইএম অনুধাবন করছে যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ধার্মিকতার জন্য বিজেপি এবং আরএসএস, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই যতটা জানা গেছে দলের খসড়া প্রস্তাবে মোটামুটি ঠিক হয়েছে যে, ধার্মিক লোকেদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করার জন্য তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার রাস্তায় নিয়ে আসতে হবে। কারণ CPIM তাদের রাজনৈতিক বন্ধু কংগ্রেসের শ্রেণী চরিত্র নিয়ে সন্দিহান। তাই খসড়া প্রস্তাবে বলা হচ্ছে কংগ্রেসের শ্রেণী চরিত্র বিচার করতে হবে।কংগ্রেস কোথায় রাজনৈতিকভাবে দাঁড়িয়ে আছে সেটা বামেদের কাছে স্পষ্ট নয়। কংগ্রেস যে নিজেদের নতুন করে বামপন্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে তাতে সিপিআইএমের ক্ষতি হচ্ছে। কংগ্রেসের নতুন উদারনীতিবাদ বামেদের জন্য আরও বেশি সমস্যার। কারণ এটা কংগ্রেস নিজেদের পরিচালিত সরকারকে দিয়ে বাড়াতে চাইছে, যেটা বামেদের জন্য লোকসানের। কংগ্রেসের রাজনৈতিক চরিত্রের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করা সিপিআইএম মনে করছে, যে কোন সময় কংগ্রেস নিজেদের ধর্মীয় অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। কংগ্রেস যে কোন সময় হিন্দুত্বের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারে। এই তালিকায় শুধু কংগ্রেস নয়, ডিএমকে, আরজেডি, এনসিপি সহ আরো অনেক ইন্ডিয়া জোটের দল রয়েছে। তাই আগামী কংগ্রেসে সিপিআইএম ধর্ম নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে রাজনৈতিক লাইন নির্ধারণ করবে। শুধু তাই নয় সিপিআইএম এখন মনে করছে, সমাজতন্ত্রের পথ ভারতীয়ত্বের উপর নির্ভর করতে হবে, বহিরাগত তত্ত্বের মাধ্যমে নয়। একসময় প্রচার ছিল যে মস্কোতে যদি বৃষ্টি হয় তবে ভারতের কমিউনিস্ট মাথার উপর ছাতা ধরতো। নতুন ধারা অনুযায়ী তারা সমাজতন্ত্রকে আবার পুনরোজ্জীবিত করতে চায়। কারণ ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্স এর সঙ্গে যেন সিপিআইএম নিজেদের গুলিয়ে না আনে। সিপিআইএম ইন্ডিয়া জোটের শক্তির চাইতে, বাম শক্তিগুলোকে একত্রিত করার উপর অধিক গুরুত্ব দিতে চাইছে। সিপিআই মনে করে যে বিজেপি বিরোধী গদবাধা রাজনীতিতে চলার ফলে সিপিআইএম নিজেদের জনসমর্থন হারিয়েছে। যার ফলে বিজেপি এখন ত্রিপুরা পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলেও নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে সিপিআইএম অনেকটা পিছিয়ে গেছে বা যাচ্ছে। ত্রিপুরায় ক্ষমতায় বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি, কেরলেও তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। এ অবস্থায় সিপিএমের দুর্বলতায় যে সবচেয়ে বেশি লাভবান বিজেপি হচ্ছে তা দলটি বিশ্বাস করে। মূলত এই জনসমর্থন কমার পেছনে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই তাদের অনুধাবন, CPIM নির্বাচনী রাজনীতিতে বেশি ঝুঁকে গেছে, এর ফলে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধিতে গতি কমেছে এবং জনবল হ্রাস পেয়েছে। তাই আসন্ন কংগ্রেসে ‘নতুন সাধারণ সম্পাদক’ নির্বাচনের চাইতেও দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লাইন নির্ধারণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দেশের এই বাম শক্তি।

ভারত

ভারত ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চেন্নাইয়ে!

ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি আগামীকাল ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, শনিবার, চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ম্যাচে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ভারতীয় দল ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে অধিনায়ক জস বাটলার সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন। ভারতের হয়ে বরুণ চক্রবর্তী ৩টি এবং আর্শদীপ সিং, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও অক্ষর প্যাটেল প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন। জবাবে, ভারতীয় দল ১২.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। অভিষেক শর্মা ৩৪ বলে ৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এই জয়ে ভারত, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ড দল সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবে। প্রথম ম্যাচে দলের ব্যাটিং লাইনআপ প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি, বিশেষ করে জস বাটলার ছাড়া অন্য কেউ উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি। নতুন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ড দল আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা করছে। ভারতীয় দলে মোহাম্মদ শামি দীর্ঘদিন পর চোট সারিয়ে দলে ফিরেছেন, যদিও প্রথম ম্যাচে তিনি খেলেননি। দ্বিতীয় ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, জসপ্রিত বুমরাহ পিঠের ব্যথার কারণে সিরিজ থেকে বাদ পড়েছেন।

ম্যাচের সময়সূচী:

তারিখ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, শনিবার
সময়: সন্ধ্যা ৭টা (স্থানীয় সময়)
স্থান: এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম, চেন্নাই

দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ:

ভারত:

১. অভিষেক শর্মা ২. সঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার) ৩. তিলক বর্মা ৪. সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক) ৫. হার্দিক পাণ্ডিয়া ৬. রিঙ্কু সিং ৭. নীতীশ কুমার রেড্ডি ৮. অক্ষর প্যাটেল ৯. রবি বিষ্ণোই ১০. আর্শদীপ সিং ১১. বরুণ চক্রবর্তী।

ইংল্যান্ড:

১. বেন ডাকেট ২. ফিল সল্ট (উইকেটকিপার) ৩. জস বাটলার (অধিনায়ক) ৪. হ্যারি ব্রুক ৫. লিয়াম লিভিংস্টোন ৬. জ্যাকব বেথেল ৭. জেমি ওভারটন ৮. গাস আটকিনসন ৯. জোফ্রা আর্চার ১০. আদিল রশিদ ১১. মার্ক উড।

ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে টকস্পোর্ট ২ এবং টিএনটি স্পোর্টসে, যুক্তরাজ্যের সময় দুপুর ১:৩০টা থেকে। ভারতীয় দল চাইবে তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে।অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দল সিরিজে ফিরে আসার জন্য এই ম্যাচটি জিততে মরিয়া থাকবে। দুই দলের ব্যাটিং ও বোলিং লাইনআপের পারফরম্যান্স এই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের। দেখা যাক, কে হাসবে শেষ হাসি।

স্টার্টআপ

স্টার্টআপ পলিসিতে যুবক-যুবতীদের উন্নতি হলে দেশ তথা রাজ্যের উন্নতি হবে!

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের উদ্যোগপতি হিসেবে গড়ে তুলতে আজ থেকে চালু হলো রাজ্য সরকারের স্টার্টআপ পলিসি ২০২৪। যুবদের বিকাশ না হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময় একথা বলেন। অথচ রাজ্যের পূর্বতন সরকার যুবদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আর বর্তমান সরকার যুবশক্তির বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। শুক্রবার আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে ‘ত্রিপুরা স্টার্টআপ পলিসি ২০২৪’ এর সূচনা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ২০১৯ সালে এই পলিসি শুরু হয়েছিল এবং আজ আমরা এটিকে আবার নতুনভাবে শুরু করলাম। শুধু আইটি ক্ষেত্র নয়, আমরা কৃষি, বাঁশ, খাদ্য এবং অন্যান্য খাতকেও এতে যুক্ত করেছি। অথচ আগের সরকারের সময়ে যুবরা কখনো সহযোগিতা পায়নি। যে কারণে তারা দিশাহীন হয়ে পড়ে। আর সব মানুষকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। এই ধরনের পলিসি সত্যিই অপরিহার্য এবং আমি এই ধরনের পলিসি তৈরির সাথে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটা সত্য যে যুবরা খুবই উদ্যমী এবং সক্ষম। তবে তাদের উদ্যম ও উৎসাহ সবসময় সঠিক দিশায় যায় না। এই পলিসি তাদের উদ্যমকে সঠিকভাবে চালিত করবে এবং যুবরা সরকারের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন বেকাররা যাতে জব ছার্চার না হয়ে; জব ক্রিয়েটর হতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে রাজ্য সরকার। এই জাতীয় নীতি যুবদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে তাদের শিল্পপতি বা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নগুলি পূরণ করতে সক্ষম হবে। এই ধরনের উদ্যোগ ‘এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ব্যাংকগুলিও আরও ভাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে এই যুবদের আর্থিক সহায়তা দেবে। এই পলিসির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের সমস্ত স্তর থেকে যুবদের যুক্ত করে বেকারত্ব মোকাবিলা করা। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, যখন এই উদ্যোগ শুরু হয়েছিল আইআইটি, আইআইএম, নিট সহ দেশের অন্যান্য কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সাথে নিবিড়ভাবে যোগাযোগের মাধ্যমিক এই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। অল্প বয়স থেকেই তরুণদের আরও উঁচু জায়গায় নিয়ে যেতে এটা একটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। ১.২৫ লক্ষেরও বেশি ব্যাঙ্ক শাখা যুবদের উৎসাহিত করছে। আর এটা নিশ্চিত করছে যে দলিত, মহিলা এবং জনজাতিরা এই উদ্যোগের ফলে উপকৃত হচ্ছেন। ডাঃ সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুবদের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন নতুনত্ব ও নতুন সুযোগ ছাড়া দেশে কোনও প্রবৃদ্ধি হতে পারে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সর্বদা বলেছেন যে আমাদের প্রধান মানব সম্পদ যুবরা। যদি যুবদের বিকাশ করা হয় তবে দেশ বিকশিত হবে। ভবিষ্যতে, আমাদের অসংখ্য স্টার্টআপ পলিসি এই প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়, মুখ্যসচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা, তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে সহ অন্যান্য পদাধিকারীগণ। স্টার্টআপগুলো যাতে সহজে সম্পদ, সহায়তা এবং তথ্য পেতে পারে, সেজন্য একটি বিশেষভাবে নিবেদিত ‘স্টার্টআপ ত্রিপুরা ওয়েব পোর্টাল’ ও উদ্বোধন করা হয় এই অনুষ্ঠানে। ত্রিপুরা স্টার্টআপ পলিসি বা নীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এবং এর সুবিধাগুলি মানুষের সামনে তুলে ধরতে, সরকার স্টার্টআপ স্পার্ক ভ্যান চালু করেছে। এই ভ্যান ত্রিপুরার সমস্ত জেলায় সফর করবে এবং উদ্যমী উদ্যোক্তাদের সাথে যোগাযোগ করবে ও নীতির আওতায় থাকা বিভিন্ন উদ্যোগের প্রচার করবে। এই অনুষ্ঠানে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়, যেখানে বিশিষ্ট জনেরা ত্রিপুরা ভিত্তিক স্টার্টআপগুলোর উদ্ভাবিত পণ্য ও পরিষেবাগুলি পরিদর্শন করেন।

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ত্রিপুরা স্টার্টআপ পলিসি-২০২৪’র সূচনার মধ্য দিয়ে ত্রিপুরা সরকার রাজ্যের উদ্যোক্তা পরিমণ্ডলে একটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে। এই নীতির উদ্দেশ্য হল, তরুণ উদ্ভাবকদের অনুপ্রাণিত করা, স্টার্টআপগুলির বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করা এবং কর্মসংস্থানের প্রচুর সুযোগ সৃষ্টি করা, যা রাজ্যের উজ্জ্বল এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করবে।

 

“ত্রিপুরা স্টার্টআপ পলিসি-২০২৪” অনুসারে প্রস্তাবিত আর্থিক প্রণোদনার সংক্ষিপ্তসার

1) ট্রাই-সিড ফান্ডিং:

স্বীকৃতি সনদ পাওয়ার পর, সমস্ত স্বীকৃত স্টার্টআপগুলো এককালীন ২ লক্ষ টাকা গ্র্যান্ট বা অনুদান পাওয়ার যোগ্য হবে।

2) স্টার্টআপ পরিচালনার খরচ ফেরত:

স্বীকৃত স্টার্টআপগুলোকে তাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যয় করা খরচ, যেমন বিদ্যুৎ বিল, ভাড়া, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের খরচ ইত্যাদি ফেরত দেওয়ার জন্য প্রতি মাসে ২০,০০০/- টাকা করে প্রদান করা হবে। এই অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া স্টার্টআপ স্বীকৃতির শংসাপত্র’ প্রদানের তারিখ থেকে সর্বাধিক এক (১) বছর পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। মহিলাদের নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপগুলি অতিরিক্ত ১০% ফেরত পাবে, আর দিব্যাঙ্গ ব্যক্তিদের নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপগুলি অতিরিক্ত ২০% ফেরত পাবে।

3) প্রোটোটাইপ স্টেজ বা প্রাথমিক পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা:

যারা স্বীকৃত এবং শংসাপত্র-প্রাপ্ত স্টার্টআপ, তাদের নতুন পণ্যের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ নিয়োগ, কাঁচামাল বা উপাদান এবং অন্যান্য সম্পর্কিত যন্ত্রপাতির খরচের ক্ষেত্রে ২১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে রাজ্যস্তরের স্টার্টআপ কাউন্সিলের দেওয়া ‘প্রুফ অব কনসেপ্ট’ (POC) অনুমোদনের পরই তা প্রযোজ্য হবে।

4) বিপণন/প্রচার সহায়তা:

নতুন উদ্ভাবিত পণ্য/পরিষেবা বাজারে পরিচিতি লাভের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করা হবে।

5) ট্যাক্স বা কর ফেরত:

স্টার্টআপ কোম্পানিগুলি যদি ত্রিপুরায় জিএসটি পরিশোধ করে, তবে তা ‘ত্রিপুরা শিল্প বিনিয়োগ প্রচার প্রণোদনা প্রকল্প’ (TIIPIS), ২০২২-এর আওতায় ফেরত দেওয়া হবে।

6) পেটেন্ট ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে ফেরত:

স্টার্টআপ কোম্পানিগুলি পেটেন্ট আবেদন দাখিল করা ও তার ব্যবস্থাপনার জন্য যে অর্থ ব্যয় করবে, সেই ক্ষেত্রে প্রতিটি ভারতীয় পেটেন্টের জন্য ২২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তা ফেরত দেওয়া হবে। আর কোনো একটি বিষয়ে বিদেশি পেটেন্টের ক্ষেত্রে ₹১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে।

7) এনজিআইএন (NGIN) উদ্যোগের অধীনে প্রতিষ্ঠানগুলিতে অনুদান:

*নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলিতে ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের জন্য ২১০ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হবে।

*প্রতিটি আয়োজনকারী বা মূল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ইনকিউবেশন সেন্টারের পরিচালনা খরচের জন্য প্রতি বছর ২৫ লক্ষ টাকা অর্থ প্রদান করা হবে।

* প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর সর্বাধিক ৫টি প্রকল্পের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাবে।

৪) ট্রাই-ইনফ্রা ফান্ড

একটি ট্রাই-ইনফ্রা ফান্ড (স্টার্টআপ ক্যাপিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড) ২২৫ কোটি টাকা প্রাথমিক তহবিল নিয়ে গঠিত হবে, যা রাজ্যের স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্রের জন্য হার্ড এবং সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচারের উন্নয়নে সহায়তা করবে– যেমন ইনকিউবেটরগুলির ব্যবহারিক পরিকাঠামো, টেস্টিং ল্যাব, ডিজাইন স্টুডিও, টুল রুম, ভার্চুয়াল ইনকিউবেটর ইত্যাদি।

9) ত্রিপুরা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল:

২৫০ কোটি টাকা তহবিলের একটি ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড’ বা “উদ্যোগ পুঁজি তহবিল” সৃষ্টি করা হয়েছে। যেখানে সম্ভাব্য স্টার্টআপের জন্য অর্থ সহায়তার টিকিট সাইজ বা অর্থ সহায়তার পরিমাণ বা সীমা হবে ২২৫ লক্ষ টাকা থেকে ২২ কোটি টাকা পর্যন্ত।

বায়োভিলেজ

বায়োভিলেজ ২.০ প্রকল্পের সূচনা করেন মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা।

খোয়াই মহকুমার তুলাশিখর ব্লকের অন্তর্গত পাঁচটি গ্রাম নিয়ে শুরু হলো বায়োভিলেজ ২.০ প্রকল্প। আজ চাম্পা হাওর কমিউনিটি হলে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলা শাসক চাঁদনী চন্দ্রন, বায়োটেকনোলজি দপ্তরের অধিকর্তা অঞ্জন সেনগুপ্ত, তুলাশিখর ব্লকের চেয়ারম্যান প্রদীপ দেববর্মা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বায়োটেকনোলজি দপ্তরের উদ্যোগে পূর্ব বেহালাবাড়ি, বিদ্যাবিল, পশ্চিম রাজনগর, পশ্চিম চাম্পাছড়া এবং পূর্বতকসাইয়া গ্রামের ৩১৭ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক বাল্ব, পাখা, স্ট্রিট লাইট, সৌরশক্তি চালিত পাম্প, মাশরুম, মাছের পোনা, মুরগির ছানা, হাসের ছানা, ছাগলছানা, প্রাণী খাদ্য, বায়োগ্যাস, মৌমাছি পালনের উপকরণ এবং সৌরচালিত চুল্লি প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনমান উন্নত করা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বায়োটেকনোলজি দপ্তর ছাড়াও সহযোগিতা করেছে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর, মৎস্য দপ্তর, কৃষি দপ্তর ও তুলাশিখর আরডি ব্লক।

উপস্থিত মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা জানান, এই প্রকল্প শুধু গ্রামীণ উন্নয়নই নয়, পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য এলাকায়ও প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শেহওয়াগ

শেহওয়াগ-আরতির দাম্পত্যে ফাটল, ডিভোর্সের পথে দম্পতি!

ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ বীরেন্দ্র শেহওয়াগ। এখন এই বীরেন্দ্র শেহওয়াগ এবং তাঁর স্ত্রী আরতি শেহওয়াগের সম্পর্ক নিয়ে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর খবর। কুড়ি বছরের দাম্পত্য জীবনে এবার নেমেছে কালো ছায়া। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি এমনই যে, তাঁরা ডিভোর্সের সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন।

১৯৯৮ সালে শেহওয়াগ ও আরতির প্রথম দেখা। তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে, যা ধীরে ধীরে গভীর ভালোবাসায় পরিণত হয়। ২০০৪ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের সম্পর্ক তখন অনেকের কাছেই আদর্শ বলে ধরা হতো। সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে পারিবারিক মুহূর্ত, সর্বত্র তাঁরা একে অপরের সঙ্গে সুখী যুগল হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে, যারা তাঁদের জীবনের আলো। পরিচিতদের মতে, সম্পর্কের মধ্যে বহুদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। শেহওয়াগের ক্রিকেট কেরিয়ার এবং তারপর তাঁর বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের কারণে তিনি পরিবারকে সময় দিতে পারছিলেন না। অন্যদিকে, আরতি নিজের জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে মতের অমিল বাড়তে থাকায় সম্পর্কের ফাটল আরও গভীর হয়। শেহওয়াগের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, “বিগত কয়েক বছরে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছিল।যদিও তাঁরা বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। সন্তানদের কথা ভেবে তাঁরা বিষয়টি চেপে রাখছিলেন, তবে এখন আর তা সম্ভব নয়।” সম্প্রতি শেহওয়াগ এবং আরতি দু’জনেই তাঁদের সামাজিক মাধ্যমে একে অপরের ছবি পোস্ট করা বন্ধ করে দিয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দু’জনকে একসঙ্গে দেখাও যাচ্ছে না। এই সমস্ত বিষয় নজরে আসতেই তাঁদের ভক্তদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়। আরও একটি সূত্রের দাবি, “বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শেহওয়াগ এবং আরতির মধ্যে কথাবার্তা একেবারে বন্ধ। তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে গোপন রাখতে চাইলেও, তাঁদের আচরণই সব প্রকাশ করে দিচ্ছে।”

আইনি মহল থেকে জানা গিয়েছে, তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেহওয়াগ এবং আরতি উভয়েই পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে চান। তাঁদের মূল লক্ষ্য হল সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা। তবে ডিভোর্সের বিষয়টি নিয়ে শেহওয়াগ বা আরতি এখনও সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। ক্রিকেট দুনিয়া এবং তাঁদের ভক্তরা বিষয়টি নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।সম্পর্কের যত্ন নেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এই দম্পতির দিকে তাকালেই বুঝা যায়। সাফল্য বা ব্যস্ততার কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অবহেলিত হলে তা জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

এখন প্রশ্ন হল, শেহওয়াগ এবং আরতি কি শেষ মুহূর্তে তাঁদের সম্পর্ক বাঁচানোর চেষ্টা করবেন, নাকি তাঁরা একে অপরের থেকে দূরেই নতুন জীবন শুরু করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত সময়ের হাতে।

প্রজাতন্ত্র

প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির রাষ্ট্রীয় কুচকাওয়াজে, উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে শুধুমাত্র ত্রিপুরার ট্যাবলোই প্রদর্শিত হবে!

নয়াদিল্লির কর্তব্য পথে প্রদর্শিত প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে, এই বছর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের মধ্যে শুধুমাত্র ত্রিপুরার ট্যাবলোই স্থান পাবে। বৃহস্পতিবার এক শীর্ষ ত্রিপুরা-সরকারি-কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে মোট ২৬টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হবে। ত্রিপুরার ট্যাবলো এইবারের মূল থিম “ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য” এর উপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। ত্রিপুরার ট্যাবলোতে ঐতিহ্যবাহী খার্চি পূজা এবং তার সঙ্গে জড়িত ১৪ দেবদেবীর পূজার আচার-অনুষ্ঠান ও তাৎপর্য তুলে ধরা হবে। প্রতি বছর জুলাই মাসে এই রঙিন খার্চি পূজা ত্রিপুরায় ধুমধাম সহকারে পালিত হয়, যেখানে সারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। খার্চি পূজা মূলত পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে পালিত হয়। এটি মূলত হিন্দু উপজাতীয়দের উৎসব হলেও বর্তমানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এই উৎসবে অংশ নেন। ১৪ দেবতার পূজার সময় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার, মন্ত্রোচ্চারণ, ঢাক-ঢোলের বাদ্য এবং আলোকসজ্জা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এই পূজায় শিব, দুর্গা, বিষ্ণু, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, ব্রহ্মা, জলদেবতা (আবধি), চন্দ্র, গঙ্গা, অগ্নি, কামদেব ও হিমালয় দেবতার পূজা করা হয়।

ট্যাবলো ডিজাইনের প্রধান দিকগুলি হল ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন। বাঁশের নকশা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মডেলদের উপস্থাপনা। বাঁশ ও বেতের কারুকার্যে ১৪ দেবতাদের উপস্থাপনা।মাটির দেবী (হা-বুমা) পূজা ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা। ট্যাবলোতে বাঁশ ও ফুল দিয়ে তৈরি সৌন্দর্যময় নকশা, আধুনিক শিল্পের ছোঁয়া এবং রাজ পুরোহিতের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পূজার আচার-অনুষ্ঠানও প্রদর্শিত হবে।এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবসে কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্যের মোট ২৬টি ট্যাবলো কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করবে। ত্রিপুরার পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের ট্যাবলোতেও ভারতের সাংস্কৃতিক ও আধুনিক উন্নয়নের ছবি ফুটে উঠবে।