আগরতলা

এখন থেকে আগরতলা বিমানবন্দরে আর X-Ray মেশিনে দিতে হবে না লাগেজ!

আগরতলা MBB বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ X-Ray মেশিনে আর দিতে হবে না। বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক ILB সিস্টেম। একথা জানিয়েছেন MBB বিমানবন্দরের অধিকর্তা কে সি মীনা। তিনি জানান, এই সুবিধা চালু হলে যাত্রীরা তাদের লাগেজ সরাসরি কাউন্টারে দিয়ে দিতে পারবেন। এতে সময়ও সাশ্রয় হবে। অধিকর্তা জানান, এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বিগত পাঁচ বছরে এই বিমানবন্দরের উন্নয়নে সাড়ে ছয়শো কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বিমানবন্দরটি এখন উন্নত হয়েছে গ্রেড থ্রী থেকে গ্রেড টুতে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দর দিয়ে দৈনিক গড়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন বলেও জানান অধিকর্তা কে সি মীনা।

গত বছরের ২১শে মার্চ থেকে, একটি ILS ইনস্টল করার ফলে ফ্লাইটগুলি ৪০০ মিটারের ন্যূনতম দৃশ্যমানতার সাথে, এমনকি কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতেও মসৃণভাবে উঠানামা করতে পারছে। গ্রাহক পরিষেবা এবং নিরাপত্তা ছাড়াও, MBB বিমানবন্দর এই অঞ্চলের যাত্রী পরিসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিমানবন্দরের অধিকর্তা কৈলাশ চন্দ্র মীনা জানিয়েছেন “আগরতলা এমবিবি বিমানবন্দর গ্রাহক সন্তুষ্টির দিক থেকে দেশের মধ্যে ১০ম স্থানে রয়েছে এবং উত্তর-পূর্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকে আগরতলা বিমানবন্দর অনেক এগিয়ে। উত্তর-পূর্বের একমাত্র বিমানবন্দর যার বেসিক স্ট্রিপ ১৪০ মিটার, যে কারণে বিমানবন্দরটিকে অত্যন্ত সুরক্ষিত বলে মনে করা হয়। ILS সিস্টেম চালু হওয়ার কারনে ফ্লাইটগুলি কোনও সমস্যা ছাড়াই, এমনকি কুয়াশাচ্ছন্ন দিনেও অবতরণ করতে পারছে। “নূন্যতম ৪০০ মিটার দৃশ্যমানতার সাথে, ফ্লাইটগুলি এখন নিরাপদে উঠানামা করছে।

এমবিবি বিমানবন্দরের অধিকর্তা জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হয়েছে। যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে, প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার যাত্রী রাজ্য থেকে বর্হিরাজ্যে যেমন যাচ্ছেন তেমনি বহিরাজ্য থেকে ফিরে আসছেন। তিনি বলেন উত্তর পূর্বাঞ্চলের গোহাটি বিমানবন্দর এতদিন গ্রেড টুতে ছিল। কিন্তু সেটি পিপিপি মডেলে আদানি গোষ্ঠীকে এই বিমানবন্দরের দায়িত্ব দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এখন ত্রিপুরা উত্তর পূর্বাঞ্চলের একমাত্র গ্রেট টু বিমানবন্দর। তিনি জানান গত পাঁচ বছরে আগরতলার এমবিবি বিমানবন্দরের পরিকাঠামোর অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমান সময়ে রানওয়ে কার্পেটিং সহ পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে বাংলাদেশে অস্থির অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এখন বাংলাদেশী বিমানযাত্রীদের সংখ্যা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি জানান।

ত্রিপুরা

প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগে ত্রিপুরা ভ্রমণের পরামর্শ মোদির!

প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর ত্রিপুরা। উত্তর পূর্বাঞ্চলের অষ্টলক্ষ্মীর এক লক্ষী ত্রিপুরা । ত্রিপুরাকে দেখতে, জানতে সেই রাজ্য ভ্রমণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া এনসিসি ক্যাডেট, এনএসএস স্বেচ্ছাসেবক, আদিবাসী অতিথি এবং ট্যাবলো শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবার দু’দিন আগে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময়ের সময়, অংশ্রগণকারী ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁদের নানা অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এই মতবিনিময় কালে, ছাত্র-ছাত্রীরা ভারতের স্বচ্ছতা অভিযান যে যুব অংশকেও প্রভাবিত করেছে তা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আনন্দের সাথে আলাপচারিতার সময়, মাই ভারত পোর্টালে যুবদের বিরাট অংশগ্রহণ, এক পেড় মা কে নাম শীর্ষক বৃক্ষ রোপন অভিযান ডিজিট্যাল পরিকাঠামো, বিকশিত ভারতের ভাবনা ও লাখপতি দিদি- পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাফল্যের কথা তাঁদের সামনে তুলে ধরেন। শ্রী মোদী অষ্টলক্ষ্মীর সমগ্র অঞ্চল অর্থাৎ মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, সিকিম, ত্রিপুরা, অসম এবং মেঘালয় ভ্রমণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ত্রিপুরার আগর চাষ সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে ওয়াকিবহাল রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এক শিল্পীর প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন আগের থেকেই আগরতলার নাম হয়েছে। ত্রিপুরার আগর এখন শিল্পে পরিণত। ত্রিপুরা থেকে আগর বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বাম আমলে আগর চাঁষ সরকারি স্বীকৃতি পায়নি। সে সময় গোপনে আগর বাইরে পাঠানো হত। সরকার পরিবর্তনের পর আগর চাষকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আগর ভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কথোপকথনের সময়, প্রধানমন্ত্রী মোদি জাতীয় ঐক্য এবং বৈচিত্র্যের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারতের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে বিভিন্ন রাজ্যের লোকদের সাথে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সফল হওয়ার দৃঢ় সংকল্প বজায় রাখার তাৎপর্য তুলে ধরেন। “ব্যর্থতাকে কখনো ভয় পেয়ো না। ব্যর্থতা থেকে শেখার চেতনা থাকতে হবে; যে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয় সে সাফল্য অর্জন করে,” তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে তিনি ভারতের কৃষক এবং সৈন্যদের কঠোর পরিশ্রম এবং উত্সর্গ থেকে শক্তি পান। “আমি কৃষকদের দেখি এবং অনুভব করি যে তারা কতটা পরিশ্রম করে। আমি সৈন্যদের ঘন্টার পর ঘন্টা সীমান্তে পাহারা দিতে দেখি এবং মনে করি আমি বিশ্রামের অধিকারের যোগ্য নই,”। প্রধানমন্ত্রী মোদি তার সুশৃঙ্খল জীবনধারা এবং তার উত্পাদনশীলতার চাবিকাঠি হিসাবে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসকেও তুলে ধরেছেন। তিনি ভিক্সিত ভারত-এর ভিশন অর্জনের জন্য একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজের কর্তব্য পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী যুবকদের মাই ভারত পোর্টালে নিবন্ধন করতে এবং দেশ গঠনে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা এবং ডায়েরি লেখার মতো ভালো অভ্যাসের ওপরও জোর দেন।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরায় ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ভেন্টিলেটারে, আর তত্ত্বাবধায়ক NHM কোমাচ্ছন্ন!

ত্রিপুরায় ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় চরম দুর্নীতি এবং কর্মীদের প্রতি অন্যায় আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (NHM) অধীনে পরিচালিত এই জরুরি পরিষেবা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কর্মীদের অভিযোগ অনুসারে পরিষেবার মান অবনতি হয়েছে এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে পরিষেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

২০২০ সালে NHM-র অধীনে CAMP নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পরিচালনার জন্য চুক্তি হয়। তবে চুক্তি লঙ্ঘন করে CAMP প্রতিষ্ঠানটি JBLঅ্যাসোসিয়েটস নামক একটি সাব-কন্ট্রাক্টরকে দায়িত্ব প্রদান করে। অভিযোগকারীদের মতে, এই সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিষেবা শুরুর পর থেকেই কর্মীদের শোষণ, হয়রানি এবং তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। কর্মীদের প্রধান অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে নিয়োগপত্র , বেতন স্লিপ, পরিচয়পত্র এবং অভিজ্ঞতার সনদ না দেওয়া। এছাড়া চুক্তিতে উল্লেখিত বেতন কাঠামো ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা। কর্মীদের বেতন থেকে পিএফ (প্রভিডেন্ট ফান্ড) এবং ইএসআইসি (এমপ্লয়িজ স্টেট ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন) এর জন্য অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তা নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি, ফলে কর্মীরা ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, কাজের জায়গায় তাদের মৌখিক অপমান এবং হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিছু কর্মীকে অকারণে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, কোনো অ্যাম্বুলেন্স যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার কারণে পরিষেবা দিতে না পারলে কর্মীদেরই দায়ী করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। ত্রিপুরার ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা বর্তমানে ৯৮টি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীল। তবে, অভিযোগ উঠেছে যে গাড়িগুলির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় অনেক অ্যাম্বুলেন্স অচল অবস্থায় পড়ে আছে। মাসে গড়ে ২০-২৫টি অ্যাম্বুলেন্স যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পরিষেবা থেকে বাদ পড়ছে। এর ফলে বাকি অ্যাম্বুলেন্সগুলির ওপর চাপ বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, সরকারের তরফ থেকে এই পরিষেবার রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা তদারকির ক্ষেত্রে চরম অবহেলা দেখা যাচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সময়মতো জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না। এতে রোগী এবং তাদের পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কর্মীরা একাধিক চিঠির মাধ্যমে সরকারের কাছে তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবি হলো বকেয়া বেতন এবং পিএফ ও ইএসআইসির টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়া। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা। ক্যাম্প এবং জেবিএল অ্যাসোসিয়েটসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া। পরিষেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ত্রিপুরার জরুরি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে কর্মীদের অভিযোগ এবং পরিষেবার ব্যাঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ার কারণে রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

যদিও কর্মীরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি তুলেছেন, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কর্মীরা আশা করছেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং NHM কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন। ত্রিপুরার মতো একটি রাজ্যে, যেখানে ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য, সেখানে দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে সমস্যার সমাধান এবং পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা জরুরি। তা না হলে, এই পরিস্থিতি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

BJP

BJP-র বর্তমান ও প্রাক্তন মন্ডল সভাপতির গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তপ্ত চড়িলাম!

গোষ্ঠী কোন্দল ত্রিপুরার রাজনীতিতে কোনো নতুন বিষয় নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে BJP-র অভ্যন্তরীণ বিরোধ বিশেষ করে মন্ডল ও জেলা স্তরে প্রকট হয়ে উঠেছে। সিপাহিজলা জেলার চড়িলাম মন্ডলে বর্তমান এবং প্রাক্তন সভাপতির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এই ঘটনা BJP-এর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার সংকটকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

চড়িলাম মন্ডলের বর্তমান সভাপতি তাপস দেবনাথ এবং প্রাক্তন সভাপতি রাজকুমার দেবনাথের মধ্যে বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত মতবিরোধ চলছিল। জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় সিপাহিজলা চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকের কাছে উভয় পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি হয়। প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সভাপতির সমর্থকরা প্রাক্তন সভাপতির ঘনিষ্ঠ এক কার্যকর্তাকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিশালগড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই BJP-র কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধই এই সংঘর্ষের মূল কারণ। একাংশ অভিযোগ করেছেন, নেতৃত্বের উদাসীনতার ফলে এই গোষ্ঠী কোন্দল দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত। একজন বাসিন্দা বলেন, “আগে চড়িলামে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। রাজনীতি, শান্তি এবং উন্নয়নের জন্য হওয়া উচিত; কিন্তু এখন তা বিভাজন এবং সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” ত্রিপুরায় BJP-র অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং গোষ্ঠী কোন্দলগুলি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। মন্ডল স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত গোষ্ঠী কোন্দল দলের শৃঙ্খলাকে দুর্বল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের উদ্যোগের অভাবই এই সমস্যার প্রধান কারণ। দলের একাংশ মনে করেন, ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের লড়াই এই সংঘর্ষের মূল কারণ। অন্যদিকে, কিছু নেতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শৃঙ্খলার অভাবের জন্য এমন ঘটনা ঘটছে।

চরিলামে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায় ও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। যদিও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।” BJP-র রাজ্য নেতৃত্ব এই ঘটনায় এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “এই ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানছে। আমরা শিগগিরই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শাসক দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দল আগামী দিনে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষত, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরনের ঘটনা দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারে। বিজেপির জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, মন্ডল ও জেলা স্তরে কার্যকরী নেতৃত্ব প্রদান করে, তবে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দলের কর্মীদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন এবং গোষ্ঠী কোন্দল বন্ধ করার জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, এর প্রভাব সরাসরি নির্বাচনী ফলাফলে পড়তে পারে।

চড়িলামের ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলির একটি উদাহরণ। এই ধরনের ঘটনা কেবল দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানছে না, সাধারণ মানুষের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ না নেয়, তবে এর ফল ভবিষ্যতে আরও গুরুতর হতে পারে। বিজেপির জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো গোষ্ঠী কোন্দল বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে সামনে আসা। কিন্তু এটি আদৌ কতটা সম্ভব হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

CPIM

CPIM রাজ্য সম্মেলন কি দেখাতে পারবে, আগামী দিনের আন্দোলনের দিশা?

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল CPIM আক্ষরিক অর্থেই কি দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে? দলের পরবর্তী রাজ্য কমিটির সম্পাদক কে হবে, এই প্রশ্নেই রীতিমতো ছন্নছাড়া অবস্থা CPIM দলে। বলতে গেলে ক্ষমতায় না থাকার পরও CPIM তাদের গোষ্ঠী কোন্দল সামাল দিতে পারেনি। স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্য সম্পাদকের পদ নিয়ে CPIM দলে এই মূহুর্তে কালনেমির লঙ্কা ভাগ চলছে, এটা বলা যেতেই পারে।

উল্লেখ করার হলো, দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন CPIM দলের হেভিওয়েট নেতা সবারই বিধায়ক হওয়ার ইচ্ছা জাগে। কিন্তু দল যখন ক্ষমতায় নেই, তখন ধনপুর আর মানিক সরকারের নয়, মজলিসপুরে আর মানিক দে প্রার্থী নয়। অন্য দলীয় কর্মীদের প্রার্থী করে নিজেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কয়েক জন প্রাক্তন বিধায়ক তো ২০১৮ সালে পরাজয়ের পর সেই যে এলাকা ছেড়েছে, আজ পর্যন্ত এলাকায় পা রাখেনি। এসব বীরপুঙ্গব নেতারা এখন ভাষন রাখছে বিজেপি হটাবে। আসলে তাদেরকে এখন আর CPIM দলের কর্মী সমর্থকরাই সহ্য করতে পারছেনা। এই পরিস্থিতিতে যখন এই অংশের নেতারা রাজ্য সম্মেলন নিয়ে কথা বলে তখন কর্মী সমর্থকরা রীতিমতো বিরক্ত বোধ করে। এটাই আজকের সি পি আই এম দলের বাস্তব। এই পরিস্থিতিতে চলতি মাসের ২৯ জানুয়ারি থেকে CPIM দলের রাজ্য সম্মেলন। বর্তমান সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীকে পদ থেকে হটানোর জন্য দলের ভেতরেই একটি গোষ্ঠী রীতিমতো ষড়যন্ত্র করে চলেছে বলে খবর। যাকে কেন্দ্র করে গোটা দল এখন দ্বিধা বিভক্ত। এক্ষেত্রে আরও একটি বড় কারন কাজ করেছে; তাহলো ২০১৮ সালের পর বিজেপি ও তাদের উগ্র নেতা কর্মী সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত পরিবারগুলো। বিজেপি ও তাদের উগ্র সমর্থকদের হাতে হাজার হাজার বাম কর্মী সমর্থক আক্রান্ত। অনেকে বাড়ি ছাড়া। আজও বাড়ি ফিরতে পারছেনা। দল তাদের দায়িত্ব নেওয়া দুরের কথা, তাদের খোঁজ ও রাখেনা। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক বিজেপি ও তাদের জাতি বিদ্বেষী শক্তিকে ঠেকানোর জন্য, কিংবা সংঘ পরিবারের এজেন্ডাকে ব্যার্থ করার জন্য প্রধান বিরোধী দল হিসাবে কোন ভূমিকাই রাখছেনা সি পি আই এম। উল্টো সি পি আই এম দলের একাংশ নেতা ও জনপ্রতিনিধি বিজেপির নেতাদের সাথে সমঝোতা করেই বাড়ি ঘরে আছেন। একটা সময় বামফ্রন্ট জমানায় যারা বর্ডার গোলচক্কর থেকে শুরু করে নেতাজী চৌমুহনী, উষা বাজার, জিরানিয়া এমন কি ও এন জি সি তে পিস্তল উঁচিয়ে মাফিয়া সান্রাজ্য চালাতে আজ তারা কোথায়? এই প্রশ্নে কিন্তু আজ সি পি আই এম দলের মধ্যে চরম অশান্তি বিরাজ করছে। এর মধ্যেই আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে তিন দিনের রাজ্য সম্মেলন বসছে।

দীপিকা

‘দীপিকা পাড়ুকোন’ সব্যসাচীর হয়ে মঞ্চ মাতালেন!

বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি ফ্যাশনের দুনিয়ায় এক অনন্য নাম। সম্প্রতি, দীপিকা পাড়ুকোন মেয়ে দুয়ার জন্মের পর প্রথমবারের মতো ফ্যাশন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জির হয়ে র‍্যাম্পে হাঁটলেন। দীপিকার এই অসাধারণ উপস্থিতি ভক্তদের মুগ্ধ করেছে এবং সামাজিক মাধ্যমে তার লুকের তুলনা শুরু হয়েছে বলিউডের স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী রেখার সঙ্গে।

ইতিমধ্যেই বলিউডের আইকনিক অভিনেত্রী এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের মুখ দীপিকা পাড়ুকোন, সব্যসাচীর শাড়ি পরে র‍্যাম্প মাতিয়েছেন। তার এই উপস্থিতি সব্যসাচীর সাম্প্রতিক কালেকশনের প্রদর্শনীতে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। দীপিকা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে হাজির হন, যার সঙ্গে ম্যাচ করা ভারী গয়না তাকে এক দ্যুতিময় রাজকীয় লুকে রূপান্তরিত করে। দীপিকার মেকআপ ছিল পরিমিত এবং চুল ছিল পিন করা খোপায় বাঁধা। এই চেহারাটি ১৯৭০-৮০-এর দশকের রেখার লুকে অনুপ্রাণিত বলে মনে করেন ভক্তরা। দীপিকার এই লুক দেখে অনেক ভক্ত মন্তব্য করেছেন, “এই দীপিকাকে দেখলে রেখার কথা মনে পড়ে।” অন্য কেউ লিখেছেন, “দীপিকার মধ্যে রেখার এক আলাদা ছাপ আছে।” দীপিকার মায়াবী চোখ, দর্শকদের মনে রেখার স্বর্ণযুগের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ২০২৪ সালে দীপিকা এবং রণবীর সিংয়ের কন্যা দুয়ার জন্ম হয়।মেয়ের জন্মের পর দীপিকা কিছু সময় ধরে অভিনয় এবং পাবলিক ইভেন্ট থেকে দূরে ছিলেন। তবে এই ফিরে আসা তার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীপিকা তার মাতৃত্ব এবং পেশাগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রেখে নিজেকে আবার নতুন করে তুলে ধরেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপিকার ছবি এবং ভিডিও নিয়ে ভক্তরা উত্তেজিত। অনেকেই তার প্রশংসা করে বলেছেন, “দীপিকা সব সময় প্রমাণ করেন যে তিনি সত্যিই একজন রানী।” কেউ কেউ বলেছেন, “মেয়ের জন্মের পরেও দীপিকার গ্ল্যামার একটুও কমেনি। বরং তিনি আরও সুন্দরী হয়ে উঠেছেন।” সব্যসাচী মুখার্জি দীপিকার এই র‍্যাম্প ওয়াক নিয়ে বলেছেন, “দীপিকা পাড়ুকোন এমন একজন যিনি ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মেলবন্ধনকে তার স্টাইলের মাধ্যমে দারুণভাবে তুলে ধরতে পারেন। তার সঙ্গে কাজ করা সব সময়ই এক অনন্য অভিজ্ঞতা।”

ফ্যাশন শোয়ের পাশাপাশি দীপিকার বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, তিনি তার পরবর্তী সিনেমার শুটিং শুরু করবেন খুব শীঘ্রই। রণবীর সিংয়ের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন এবং মেয়ে দুয়ার লালনপালনের মধ্যেও দীপিকা তার ক্যারিয়ারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। দীপিকা পাড়ুকোনের এই ফিরে আসা নিঃসন্দেহে তার ভক্ত এবং ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য একটি বড় উপহার।সব্যসাচীর র‍্যাম্পে দীপিকার উপস্থিতি দেখিয়ে দিল যে, মাতৃত্ব একজন মহিলার জীবনকে পূর্ণতা দিতে পারে, তবে তার পেশাগত প্রতিভাকে কখনও ম্লান করতে পারে না। দীপিকার এই চেহারা এবং উপস্থিতি বছরের পর বছর ধরে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

প্রজাতন্ত্র

ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ঝলক, দিল্লির প্রজাতন্ত্র দিবসে!

২০২৫ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়াদিল্লির কর্তব্য পথে প্রদর্শিত কুচকাওয়াজে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবকটি রাজ্যের মধ্যে শুধুমাত্র ত্রিপুরাই স্থান পেল। দিল্লির কর্তব্যপথে আজ এক মনোমুগ্ধকর উদযাপনের সাক্ষী হলো সমগ্র দেশ। ভারতের ৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবসের এই মহাযজ্ঞে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করল ভারতের সামরিক শক্তি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অপূর্ব মিশ্রণ।

প্রতি বছরের মতোই এ বছরও এই বিশেষ দিনটি স্মরণ করা হলো ভারতীয় সংবিধানের কার্যকর হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সম্মানে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি। তাঁর উপস্থিতি এই উদযাপনকে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব দিয়েছে। ত্রিপুরার অনন্য আকর্ষণ ছিল, রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক চতুর্দশ দেবতা বাড়ি মন্দিরের আদরে তৈরি ট্যাবলু। ভারতের প্রতিটি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিনিধিত্বের মধ্য দিয়ে যে বৈচিত্র্য প্রদর্শিত হয়, সেখানে ত্রিপুরার ট্যাবলো এক বিশেষ উজ্জ্বলতা এনেছিল। ত্রিপুরার ট্যাবলোতে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, বাঁশ ও বেতশিল্প, এবং এখানকার জীবন্ত সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। মূল ট্যাবলোটি “স্বনির্ভর ত্রিপুরা: হস্তশিল্পের মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়ন” থিমে সাজানো হয়েছিল। এতে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী বাঁশের সামগ্রী, শাল ও চাদরের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পের উপর জোর দেওয়া হয়। ট্যাবলোতে আরও প্রদর্শিত হয় ত্রিপুরার গারো এবং রিয়াং উপজাতির ঐতিহ্যবাহী নৃত্য। রঙিন পোশাক এবং মনোমুগ্ধকর নৃত্যশৈলী দর্শকদের মুগ্ধ করে। ত্রিপুরার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই অনন্য প্রদর্শন আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় স্তরে প্রশংসিত হয়। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রজাতন্ত্র দিবসের মঞ্চে আমাদের রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। এই ট্যাবলো শুধু আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রচার নয়, ত্রিপুরার নতুন সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল বার্তা বহন করে।” প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের মূল আকর্ষণ ছিল ভারতীয় সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কর্তব্যপথে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে। এবারের কুচকাওয়াজে নতুন প্রজন্মের অস্ত্র এবং প্রযুক্তির প্রদর্শনী বিশেষ নজর কাড়ে। প্রথমবারের মতো, ভারতীয় বিমানবাহিনীর মহিলা পাইলটরা যুদ্ধবিমান পরিচালনার কৌশল প্রদর্শন করেন। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নারীদের ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে জাতীয় ঐক্যের প্রতিচ্ছবি ছিল দৃশ্যমান। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তাদের নিজ নিজ ট্যাবলোতে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেছে। পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, গুজরাট, এবং কেরালার ট্যাবলোর পাশাপাশি ত্রিপুরার প্রদর্শনী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সংবিধান কেবল একটি আইনি দলিল নয়, এটি আমাদের দেশের ঐক্য, গণতন্ত্র এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক। আমরা একসঙ্গে কাজ করে আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করতে পারি।”

প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে দিল্লি শহরজুড়ে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কর্তব্যপথ এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছিল প্রচুর নিরাপত্তা কর্মী।জনসাধারণের মধ্যে ছিল উৎসাহের চরম উদ্দীপনা। বহু মানুষ ভোরবেলা থেকেই কর্তব্যপথে জড়ো হন। ২০২৫ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের উদযাপন ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জাতীয় ঐক্যের একটি অনন্য মঞ্চ হিসেবে উদযাপিত হলো। ত্রিপুরার ট্যাবলো এই অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠে। এই দিনটি শুধু অতীতকে স্মরণ করার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এক নতুন উদ্দীপনা জোগাল।

ভারত

ভারত বনাম ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের দাপুটে জয়!

ভারত বনাম ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারতীয় দল একটি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত ২-০ ব্যবধানে অগ্রগামী হয়েছে এবং সিরিজটি নিশ্চিত করেছে। ভারতীয় স্পিনারদের জাদুকরি পারফরম্যান্স এবং ব্যাটসম্যানদের স্থির মেজাজ এই জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল।

ইংল্যান্ড টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ভারতীয় স্পিনারদের সামনে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়। মাত্র ৪৫ ওভারেই ২১৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। জবাবে, ভারত ৩৯.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রান তুলে সহজেই ম্যাচটি জিতে নেয়। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা বিশেষ কিছু করতে পারেননি। জেসন রয় এবং ডেভিড মালানের মধ্যে ওপেনিং জুটিতে ৭২ রান ওঠে। তবে জেসন রয় (৪৮) এবং মালান (৩৭) আউট হওয়ার পর থেকেই ইংল্যান্ডের ইনিংসের পতন শুরু হয়। ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদব এবং রবীন্দ্র জাদেজা মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের একের পর এক ফিরিয়ে দেন। জস বাটলার (২১), মঈন আলি (১৫), এবং স্যাম কারান (১২) বড় রান করতে ব্যর্থ হন। শেষের দিকে ক্রিস ওকস ৩০ রানের একটি ইনিংস খেলেন, যা দলের সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছাতে সামান্য সহায়তা করে। ভারতীয় বোলাররা দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন। বিশেষ করে স্পিনাররা ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

কুলদীপ যাদব: ১০ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন। তিনি নিজের লাইন এবং লেংথে অসাধারণ নিখুঁত ছিলেন।
রবীন্দ্র জাদেজা: ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। তার ধারালো টার্ন এবং ফ্লাইট ডেলিভারিতে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা বিভ্রান্ত হন।
মোহাম্মদ শামি: নতুন বল হাতে শামি ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারকে চাপে রাখতে সাহায্য করেন। তিনি ৮ ওভারে ২ উইকেট তুলে নেন।

ভারতের ব্যাটিংয়ে শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে ছিল। শিখর ধাওয়ান মাত্র ৫ রানে আউট হন। রোহিত শর্মা (৩৪) এবং বিরাট কোহলি (৫৬) দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস সামলান। কোহলির অর্ধশতরান দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।এরপর শ্রেয়স আইয়ার এবং লোকেশ রাহুলের (৪২*) মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে। শেষদিকে হার্দিক পান্ডিয়া মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

স্পিনারদের প্রভাব: চেন্নাইয়ের স্লো এবং স্পিন-সহায়ক পিচে কুলদীপ এবং জাদেজার বোলিং ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছে।
ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা: ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, যা তাদের স্কোর বোর্ডে বড় রান তুলতে দেয়নি।
ভারতের ব্যাটিং গভীরতা: রোহিত-কোহলির পর আইয়ার এবং পান্ডিয়া দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন, যা দলের ব্যাটিং গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।

এই ম্যাচে কুলদীপ যাদবের ৪ উইকেট তাকে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার এনে দেয়। ম্যাচের পর কুলদীপ বলেন, “পিচ আমাকে সাহায্য করেছে। আমি লাইন এবং লেংথ ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে আমি খুশি।” ভারতীয় দল এই ম্যাচে প্রতিটি বিভাগে আধিপত্য দেখিয়েছে। তাদের বোলিং, ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং একসঙ্গে কাজ করেছে। বিশেষ করে স্পিন বিভাগে ভারতের শক্তি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তাদের ব্যাটিং অর্ডার আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং ভারতীয় স্পিনারদের মোকাবিলার কৌশল খুঁজতে হবে।

ভারতের এই জয় শুধু সিরিজ জয়ের বিষয় নয়, এটি দলের সামগ্রিক শক্তি এবং ভারসাম্যের প্রতিফলন। পরবর্তী ম্যাচে ইংল্যান্ড যদি ঘুরে দাঁড়াতে চায়, তবে তাদের ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি করতে হবে। অন্যদিকে, ভারত সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

লংতরাই

লংতরাই ত্রিপুরার গুন্ডি ছাড়িয়ে এখন জাতীয় স্তরের একটি ব্র্যান্ড!

লংতরাই

ত্রিপুরার মানুষের রসনায় তৃপ্তি আনার পর, লংতরাই– ত্রিপুরার গণ্ডি ছাড়িয়ে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি সমেত পশ্চিমবঙ্গেও তাদের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটিয়েছে। “দা টাইমস্ অফ ইন্ডিয়া” উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের উদ্যোক্তাদের বিশেষ সম্মাননায় সংবর্ধিত করতে আয়োজন করে “টাইমস্ বিজনেস্ অ্যাওয়ার্ড নর্থ ইস্ট”-এর ২য় সংস্করণ।

উক্ত অনুষ্ঠানে শুক্রবার গুয়াহাটিস্থিত তাজ হোটেলে লংতরাই ব্র্যান্ডের কর্ণধার শ্রী রতন দেবনাথকে উত্তর পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ মশলা প্রস্তুতকারক হিসেবে সম্মানিত করা হয়েছে। এই সম্মান লংতরাই- এর পণ্যগুলির উৎকৃষ্ট গুণমান, বিশুদ্ধতার প্রতিফলন। পুরস্কার গ্রহণ করে লংতরাই-এর কর্ণধার শ্রী রতন দেবনাথ জানান, “এই স্বীকৃতি আমাদের প্রেরণা জাগায় এবং আরও নিবিড়ভাবে কর্মোদ্যোগ গ্রহন করার পথে উদ্বুদ্ধ করে। পাশাপাশি এই স্বীকৃতি আমাদের দায়িত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতীয় স্তরের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম দা টাইমস্ অফ ইন্ডিয়ার দ্বারা লংতরাই ব্র্যান্ডকে জ্ঞাপিত এই সম্মানে উচ্ছ্বসিত ছোট্ট পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরার আপামর জনগণ। এই ব্র্যান্ডের অংশ হতে পেরে লংতরাই পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য এবং কর্মী গর্বিত। উল্লেখ্য, লংতরাই ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারত ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রসারিত হয়েছে।এই পুরস্কার লংতরাই-এর পণ্যের গুণমানের প্রতি মানুষের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত!

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা সম্প্রতি সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান, পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা তাঁর ফেসবুক পোস্টে এই গর্বজনক মুহূর্তের জন্য অধ্যাপক সাহাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা জির এই স্বীকৃতি তাঁর অসাধারণ শিক্ষাগত ও সাহিত্যিক অবদানের যথার্থ সম্মান। একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং লেখক হিসেবে তাঁর কাজ অসংখ্য ব্যক্তিকে অনুপ্রাণিত করেছে।” অধ্যাপক সাহা তাঁর জীবনে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অগণিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপ্তি তাঁর অসামান্য কাজের প্রতি জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি।

ত্রিপুরার মানুষ এবং শিক্ষা সমাজ তাঁর এই অর্জনে গর্বিত। এটি রাজ্যের জন্যও একটি অনন্য গৌরব।