সীমান্তে

সীমান্তে মাদক পাচারে মহিলা ব্রিগেড!

রাজ্যে বাড়ছে মাদক পাচার। ত্রিপুরার সীমান্তেকে করিডোর বানিয়ে বহিরাজ্যে যাচ্ছে শুকনো গাঁজা, আর বাইরে থেকে আসছে গন্ধহীন মাদক। সীমান্তে বিএসএফের কড়া নজরদারির পরও কীভাবে মাদক পাচার বাড়ছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে সীমান্তের চোরাপথে ‘রঙিন ঘোড়া’ পাচার হচ্ছে। তবে এটি কোনও জীবন্ত ঘোড়া নয়, বরং ইয়াবা ট্যাবলেটের সাংকেতিক নাম। এই মাদকের কোটি কোটি টাকার কারবার চলছে সীমান্ত জুড়ে, যেখানে তৈরি হয়েছে মহিলা পাচারকারীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

সাম্প্রতিক এক অভিযানে আমবাসার বেতবাগান নাকা পয়েন্টে একটি ১২ চাকার লরির তেলের ট্যাঙ্ক থেকে ৯ লক্ষ ২৪ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। গ্রেফতার করা হয়েছে আসামের দুই যুবককে। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াবা দেখতে সাধারণ ওষুধের মতোই— গোলাপি, হলুদ ও সবুজ রঙের ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। এই মাদক মূলত থাইল্যান্ড ও মায়ানমার থেকে আসছে এবং ত্রিপুরার সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে। ছোট আকারের হওয়ায় সহজেই ব্যাগ বা গোপন জায়গায় লুকিয়ে বহন করা সম্ভব।

ইয়াবাকে সাধারণত ওষুধের মতো খাওয়া হয় না। এটি হেরোইনের মতো ব্যবহার করা হয়— অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে গরম করে, ধোঁয়া শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। ফলে খুব দ্রুত নেশার প্রভাব পড়ে। কেউ কেউ আবার জল মিশিয়ে পান করে। তরুণ প্রজন্মের ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও এই মাদকের শিকার হচ্ছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতে ইয়াবার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বাংলাদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে বিএসএফ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাদক চক্র রুখতে সক্রিয় হয়েছে। কড়া নজরদারির ফলে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ভাঙার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনও সীমান্তের এজেন্টদের মাধ্যমে এই চোরাকারবার চলছেই। মাদক পাচার রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে, এমনটাই মত সমাজবিদদের।

আগরতলা

যানজট মোকাবিলায় আগরতলার বিভিন্ন স্থানে তৈরি হবে নতুন চারটি ফ্লাইওভার!

ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী রাজধানী আগরতলা ক্রমেই আধুনিক শহরের রূপ নিচ্ছে। শহরের যানজট সমস্যা মোকাবিলায় ইতোমধ্যে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে, যা এডি নগর পুলিশ লাইনকে ফায়ার ব্রিগেড চৌমুহনি ও মেলারমাঠের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। বর্তমানে, আগরতলার আরো চারটি নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।

এই ঘোষণা আজ ত্রিপুরা স্টেট ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (TSEA) ৫৫তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে করেন মুখ্যমন্ত্রী। নজরুল কলাক্ষেত্র প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “অবকাঠামো উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি রাজ্য ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশে ব্যাপক অবকাঠামোগত পরিবর্তন ঘটেছে, যার ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, আগরতলা শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোর যানজট সমস্যার সমাধান করতে পরিকল্পিতভাবে নতুন চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই কেন্দ্র থেকে অর্থ বরাদ্দের পর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এদিন প্রকৌশলীদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা অবকাঠামো নির্মাণের মূল স্তম্ভ। তবে আমি আপনাদের শুধু দৈনন্দিন দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের ও রাজ্যের উন্নয়নে আরও নিবেদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই।”

রাজ্য সরকার আশা প্রকাশ করেছে, যে আগামী দিনে আগরতলার নগর ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে এবং নতুন চারটি ফ্লাইওভার নির্মিত হলে শহরের যানজট অনেকটা কমে যাবে।

বাংলাদেশ

আজকের বাংলাদেশ, ভবিষ্যতের পাকিস্তান!

বাংলাদেশের ইতিহাস মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় বিজয়ের মাধ্যমে রচিত হয়েছে, যেখানে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ সেই বিজয়ের মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। স্বাধীনতার মূল আদর্শ ভুলে গিয়ে দেশ এক উশৃঙ্খল, বিভক্ত এবং নৈতিকভাবে অধঃপতিত অবস্থায় পৌঁছেছে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ও আত্মস্বার্থপরতার কারণে আজও মীরজাফরের বংশধরদের মতো চরিত্র, দেশ পরিচালনা করছে, যারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। সত্যিকারের দেশপ্রেমের অভাব, ইতিহাস বিকৃতি এবং জাতীয় ঐক্যের সংকটের ফলে বাংলাদেশ আজ বর্বরতার এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বারবার লাঞ্ছিত হচ্ছে।

“যে জাতি তার পিতাকে সম্মান করতে জানে না, সেই জাতি আর যাই হোক অন্তত সভ্য হতে পারে না। যার হাত ধরে বাঙালি জাতি তার মুখের ভাষা ফিরে পেল, মা বোনদের ইজ্জত বাঁচাতে পেরেছিল, ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছিল; তাঁকে অসম্মান করা, আর পুরো জাতিকে অসম্মান করা একই কথা। রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকতেই পারে, রাজনীতির মোকাবেলা রাজনীতি দিয়ে করাটাই স্বাভাবিক। একটা গণতান্ত্রিক ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে তাকে সরিয়ে দিয়ে, ঠিক ইতিহাসের মীরজাফরের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি করলো এই বাংলাদেশী বাঙালি জাতি। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র, যা জাতির জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে;” বলে মন্তব্য করছেন তথ্যবিজ্ঞ মহল।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অস্থির সময় চলছে। ৫ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনলাইন ভাষণের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে। এ ভাষণে তিনি জনগণকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তবে তার বক্তব্যের পরপরই স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন শুরু করেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই অভিযানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, নির্যাতন এবং হামলা চালানো হচ্ছে। জানা গেছে, সরকারের উপদেষ্টা পর্যায়ে দুই দিনব্যাপী বৈঠক করে আওয়ামী লীগের আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার ভাষণের পর চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামে মৌলবাদী গোষ্ঠী, যারা দেশজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন ঢাকার ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয় এবং সেগুলো ধ্বংস করা হয়।সরকারের দমননীতির কারণে ইতোমধ্যে এক হাজারেরও বেশি আওয়ামী লীগ সমর্থক, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী ও নারী শিল্পীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের অপরাধ ছিল জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের ধ্বংসের বিরুদ্ধে কথা বলা। আজ সকালেই গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামকে। এছাড়া, রাতের আঁধারে অসংখ্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুহাম্মদ ইউনূসের অবৈধ সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই নীতিগত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করছে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী শক্তিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে। জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবৈধ সরকারের কারণে বাংলাদেশকে সিরিয়ার মতো বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।

দেশের পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ, তখন একটি হাস্যকর ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে জামাতপন্থী কিছু বুদ্ধিজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জন্মবার্ষিকী পালন করেছে এবং উর্দু ও আরবি গান গেয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে উপহাস করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমে ইউনূস সরকার প্রমাণ করছে, তারা দেশকে পাকিস্তানি আদর্শে ফিরিয়ে নিতে চায়।

বাংলাদেশের চলমান সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কলকাতার এক টিভি টক শোতে বিশিষ্ট লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী এক মৌলবাদী আলোচকের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এখন যা খুশি করতে পারেন, কারণ আপনাদের সুযোগ আছে। কিন্তু ক্ষমতার সমীকরণ বদলে গেলে আপনাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটা ভাবুন। এটা আপনাদের ভাবনার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে ঘটবে।”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগকে দমন করার জন্য অবৈধ সরকার যে নৃশংস পদ্ধতি অবলম্বন করছে, তার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ ক্রমশ সংগঠিত হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা এই অবৈধ সরকারের পতনের বার্তা বহন করছে।

দিল্লি

দিল্লিতে সংগঠনের অভাবে বিপর্যস্ত বামেরা!

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলোর ভরাডুবি এবার নজিরবিহীন। ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাম দলগুলোর সম্মিলিত প্রাপ্ত ভোট নোটা (NOTA – None of The Above)-র অর্ধেকেরও কম।সিপিআই(এম)-এর শীর্ষ নেতা প্রকাশ করাতের দলসহ অন্যান্য বাম দলগুলোর ভোট এতটাই কম যে, দিল্লির রাজনৈতিক মানচিত্রে কার্যত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে তারা।

এবার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআই(এম), সিপিআই এবং সিপিআই(এম-এল) মিলিয়ে মোট ছ’টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বামেরা। কিন্তু ফলাফল বলছে, প্রতিটি আসনেই তাঁদের প্রাপ্ত ভোট অত্যন্ত নগণ্য।নির্বাচনী হিসেব অনুযায়ী, বাম দলগুলোর সম্মিলিত মোট ভোট সংখ্যা মাত্র ২,১৫৮। অথচ, শুধুমাত্র নোটা ভোটই পড়েছে ৫,৬২৭, যা বামেদের মোট ভোটের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

ভোট শতাংশের বিচারে দেখা যাচ্ছে; সিপিআই(এম) পেয়েছে ০.০১% ভোট, সিপিআই(এম-এল) পেয়েছে ০.০১% ভোট, সিপিআই ০.০২% ভোট পেয়েছে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি, অন্যদিকে নোটা ভোটের পরিমাণ ০.৫৭%, যা বামেদের সম্মিলিত ভোট শতাংশের অনেক বেশি। শুধু বাম দলই নয়, জাতীয় স্তরের আরেকটি দল জনতা দল ইউনাইটেড JD(U)-ও নোটার চেয়ে কম ভোট পেয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিতে বামেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং জনভিত্তির অভাবের কারণেই এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। কয়েক দশক আগেও দিল্লিতে শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে বামপন্থীদের শক্তিশালী ভিত্তি ছিল। কিন্তু বর্তমানে, রাজধানীর রাজনীতিতে তাঁদের কার্যত কোনও অস্তিত্ব নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, বামেদের প্রধান সমস্যা হলো তারা দিল্লির জনমানসে আর কোনও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারছে না। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে এবং ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই বাম শিবির ক্রমশ দুর্বল হয়েছে। এর মধ্যে দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসেবে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টির (AAP) উত্থান বামেদের অস্তিত্ব আরও সংকুচিত করে দিয়েছে।

দিল্লির সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজধানীর রাজনীতিতে বাম দলগুলোর জন্য জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সংগঠনিকভাবে বাম দলগুলো শক্তিশালী না হয় এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে না পারে, তবে আগামী দিনে দিল্লিতে তাদের অস্তিত্ব আরও সংকটে পড়বে।

AAP

AAP বিধায়করা কংগ্রেসের সাথে সখ্যতা বাড়াচ্ছে!

দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফলের পর এবার পাঞ্জাবেও বড়সড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে আম আদমি পার্টি (AAP)। সূত্রের খবর, রাজ্যের অন্তত ৩০ জন AAP বিধায়ক, বিদ্রোহ ঘোষণা করে কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদ্রোহের মূল কারণ কেজরিওয়ালের একনায়কতান্ত্রিক শাসননীতি নিয়ে অসন্তোষ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী মঙ্গলবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন AAP সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন আনতে পারবে না এবং চলতি সপ্তাহেই পাঞ্জাবের আপ সরকার বড় ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে। দিল্লির ভোটের পরপরই পাঞ্জাব বিধানসভার বিরোধী দলনেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া দাবি করেন, “অনেক দিন ধরেই আপ বিধায়কদের সঙ্গে কংগ্রেসের আলোচনা চলছে। কেজরিওয়ালের একনায়কতান্ত্রিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে বহু বিধায়ক দলত্যাগ করতে পারেন।”

এদিকে, কংগ্রেস সাংসদ সুখজিন্দর সিং রণধাবা আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন, “কমপক্ষে ৩৫ জন আপ বিধায়ক ইতিমধ্যেই দলবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরকার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পাঞ্জাবে নির্বাচন হতে পারে, কারণ আপ সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।”

এই পরিস্থিতিতে পাঞ্জাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আপ নেতৃত্ব বিদ্রোহীদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও, পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টি ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছিল। ১১৭টি আসনের মধ্যে ৯২টি জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আপ, যেখানে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ১৮টি আসন। দিল্লির পর পাঞ্জাব ছিল আপের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি দেখে মনে করা হচ্ছে, সেই শক্ত ঘাঁটিতেও বড় ধাক্কার সম্মুখীন হতে চলেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

মণিপুরে

মণিপুরে সহিংসতা ও সীমান্ত সন্ত্রাস মোকাবিলায় কেন্দ্রের কড়া নজর!

মণিপুরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, জাতিগত সংঘাত এবং সীমান্ত সন্ত্রাসের কারণে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং-এর পদত্যাগের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সূত্রের খবর।

গত কয়েক মাস ধরে মণিপুরে কুকি ও মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

মণিপুর আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ায় মায়ানমার থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অস্ত্র পাচারের আশঙ্কা বাড়ছে। সম্প্রতি আগরতলায় এক মণিপুরী যুবককে ৪টি পিস্তল ও বিপুল কার্তুজসহ গ্রেফতার করা হয়েছে, যা সীমান্ত সন্ত্রাসের ইঙ্গিত বহন করে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি মনে করছে, এই ধরনের অস্ত্র পাচারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্র যুক্ত রয়েছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি রাজ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসে এবং সহিংসতা না কমে, তবে কেন্দ্র সরকার সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে মণিপুর সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে চলে যাবে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এরমধ্যে খবর, সেনা ও আধাসেনা মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে সীমান্ত সন্ত্রাস ও অভ্যন্তরীণ সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আগ্নেয়াস্ত্র

খোয়াই সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার মণিপুরের যুবক!

আগরতলা কাস্টমস ডিভিশনের কর্মকর্তারা গোপন সূত্রে খবর পান যে মণিপুরের এক ব্যক্তি লামডিং থেকে আগরতলায় পিস্তল ও কার্তুজ নিয়ে এসেছে। তাদের তৎপরতায় ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয় এবং খোয়াই জেলার সিঙ্গিছড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের সময় হাতেনাতে ধরা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম দাংশাওয়া মোলজি (২৫)। তাঁর কাছ থেকে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র (রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতীয় তৈরি), ১৫০টি কার্তুজ এবং ৫টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা!

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তবে সরকার দেশটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ। এছাড়া, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তাঁর সমর্থকদের বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারীতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে ইউনুস সরকার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যাতে শেখ হাসিনা এমন কোনো বক্তব্য না দেন যাতে তাঁর সমর্থকরা উজ্জীবিত হতে পারে, যা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে।

তবে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি বিভিন্ন দেশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খোয়াই সীমান্তে দাংশাওয়া মোলজির গ্রেপ্তার এ ধরনের কার্যকলাপেরই একটি উদাহরণ। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশে আইনি হয়রানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সরকারকে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ভারতের প্রতিক্রিয়া!

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সীমান্তে বেড়ে চলা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে, আগরতলা সীমান্তে অস্ত্রসহ এক মণিপুরের যুবকের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহিংস কর্মকাণ্ড আমাদের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র পাচার রুখতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব এবং বাংলাদেশ সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” এছাড়া, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাংলাদেশ থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সন্ত্রাস দমনে আরও সক্রিয় হতে অনুরোধ জানিয়েছে।

কংগ্রেসের

পাবিয়াছড়া বিধানসভার দাঙ্গারাই পাড়ায় ৫৬ জন ভোটারের কংগ্রেসে যোগদান!

ত্রিপুরার ৫০ নম্বর পাবিয়াছড়া বিধানসভার অন্তর্গত মাছমারা সেক্টরের দাঙ্গারাই পাড়া ADC ভিলেজে এক বিশাল যোগদান সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় পানবাগান ও দাঙ্গারাই পাড়া এলাকার ৫৬ জন ভোটার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেস দলে যোগদান করেন।

এই যোগদান সভায় নবাগত সদস্যদের কংগ্রেসের পতাকা প্রদান করে স্বাগত জানান ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। তিনি এই যোগদানকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, “ত্রিপুরার জনগণ বিজেপির জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জাতীয় কংগ্রেসই একমাত্র বিকল্প।”

উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক সত্যবান দাস, ঊনকোটি জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সমীরন দাস, পাবিয়াছড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি অসিত দেব, প্রাক্তন ব্লক কংগ্রেস সভাপতি সুসেন ভৌমিকসহ মাছমারা সেক্টরের কংগ্রেস নেতৃত্ববৃন্দ। তারা নবাগত সদস্যদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং দলকে আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় যোগদানকারীদের মতে, বিজেপি সরকার জনস্বার্থে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তারা কংগ্রেসের প্রতি আস্থা রেখে দলে যোগদান করেছেন। নতুন যোগদানকারীরা আরোও জানান, কংগ্রেসই একমাত্র দল যারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে এবং প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সক্ষম।

সভা শেষে এক বিশাল মিছিলের মাধ্যমে কংগ্রেস কর্মীরা দাঙ্গারাই পাড়া ও সংলগ্ন এলাকায় জনসংযোগ করেন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনেন। কংগ্রেস নেতৃত্বরা জানান যে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে কংগ্রেস সরকার গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এই ধরনের দলবদলের ঘটনাগুলোর মাধ্যমে। রাজ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং কংগ্রেসের প্রতি জনসমর্থনের বৃদ্ধি ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

 

মণিপুরের

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন এন বীরেন সিং!

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং আজ তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। রাজ্যপালকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি মণিপুরের জনগণের সেবা করার সুযোগ পাওয়াকে অত্যন্ত সম্মানজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও জনগণের স্বার্থে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য তাদের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

পদত্যাগপত্রে এন বীরেন সিং রাজ্যের অগ্রাধিকারমূলক কিছু বিষয়কে তুলে ধরে মাননীয় রাজ্যপালকে লিখেছেন, “আপনার মাধ্যমে আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আন্তরিক অনুরোধ জানাই, এই উদ্যোগগুলো চালিয়ে যেতে। আমি এই সুযোগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, যেগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি” উল্লেখযোগ্য পয়েন্টগুলো হল:-

১. মণিপুরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা, যার একটি সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য রয়েছে।
২. সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা এবং অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন।
৩. মাদক এবং নার্কো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া।
৪. সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য কঠোর এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ, যাতে বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়ার মতো উন্নত পদ্ধতি কার্যকর থাকে।
৫. নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত এবং কার্যকর করে তোলা।

এন বীরেন সিং-এর পদত্যাগ মণিপুরের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন রাজ্যের পরবর্তী নেতৃত্ব কে হবেন এবং কীভাবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, সেটি দেখার বিষয়। এই রাজ্যের জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এন বীরেন সিং-এর পদত্যাগ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে, রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে সাজানো হবে, তা নিয়ে এখন সবার নজর।

লংতরাই

হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে লংতরাই গুড়া মশালা  ব্র্যান্ডের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা!

হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ৩৫তম ত্রিপুরা শিল্প ও বাণিজ্য মেলা-তে লংতরাই গুড়া মশালার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ এবং শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভা উন্মোচনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের বয়সভিত্তিক পাঁচটি বিভাগে (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) ভাগ করা হয়। বালক ও বালিকা উভয় বিভাগ মিলিয়ে মোট ৮০০ জন প্রতিযোগী এতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার নিবন্ধন শুরু হয় সকাল ১০টায়, এবং প্রতিযোগিতা শুরু হয় সকাল ১১টায়।

প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন লংতরাই ব্র্যান্ডের জেনারেল ম্যানেজার সুব্রত দেবনাথ। তিনি বলেন, “লংতরাই শুধুমাত্র একটি ব্র্যান্ড নয়, এটি শিল্প ও সংস্কৃতির প্রসারেও কাজ করে। শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও আমরা এমন আয়োজন চালিয়ে যাবো।”

প্রতিযোগীরা তাদের ক্যানভাসে সৃজনশীল চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়ে মুগ্ধ করেছে বিচারকদের। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকমণ্ডলীর রায়ে প্রত্যেক বিভাগ থেকে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয় এবং তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এই আয়োজন আগরতলার শিল্প-সংস্কৃতি অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। ব্র্যান্ডের এই মহতী উদ্যোগকে সকলে সাধুবাদ জানিয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও তাঁরা এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করবেন। ৩৫তম ত্রিপুরা শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় লংতরাই ব্র্যান্ডের এই আয়োজন শিল্পপ্রেমী শিশু-কিশোরদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে থাকলো।