প্রতারক

প্রতারকদের কবলে অনলাইন ইনকাম প্রত্যাশীরা!

ত্রিপুরা সহ গোটা পূর্ব ভারতের বিভিন্ন শহরে সক্রিয় প্রতারক চক্র। সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো পেজ খুলে যুবক-যুবতীদের লক্ষ্যে ফাঁদ পেতেছে এরা। মূল উদ্দেশ্য একটাই—ব্যাঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। গত কয়েক মাস ধরে এই চক্রটি বিশেষ করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুবসমাজকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। বিশেষ করে ফেসবুকে ভুয়ো কর্মখালি বিজ্ঞাপন দিয়ে যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে প্রতারকরা। প্রথমে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স ও ঠিকানা জেনে নেওয়ার পর দেওয়া হচ্ছে অদ্ভুত ধরনের কাজের অফার। বলা হচ্ছে, “নতুন ধরনের কাজ, মাত্র তিন ঘন্টার মধ্যে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা রোজগার করা সম্ভব।” এতে ইচ্ছুক হলে প্রথমে রেজিস্ট্রেশনের নামে, কিছু পরিমাণ টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে, তারপর দেওয়া হবে ‘আইডি’।

কাজের ধরন শুনলে যে কারোরই চমকে ওঠার কথা। বলা হচ্ছে, ‘হাই প্রোফাইল’ মহিলাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে, শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, এমনকি রাতও কাটাতে হতে পারে। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি জানানো হচ্ছে, যে টাকা উপার্জিত হবে তার ৩০ শতাংশ কমিশন কেটে নেওয়া হবে। প্রতারকরা গুগল পে-র মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিচ্ছে। ভুক্তভোগী যুবকদের অভিযোগ, টাকা পাঠানোর পর থেকেই তাদের মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। ত্রিপুরার আগরতলা, ধর্মনগর, বিশালগড়, উদয়পুর, কৈলাসহর সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরে প্রতারকরা সক্রিয়। শুধু ত্রিপুরা নয়, গুয়াহাটি, শিলিগুড়ি, কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ জুড়েও এই নেটওয়ার্কের জাল বিস্তৃত।

শুধু যুবকরাই নয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদেরও টার্গেট করে তাদের জালে ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতারকরা। নানা লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে তাদের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চমকপ্রদ তথ্য হল, রাজ্যের সাইবার সেল ও গোয়েন্দা শাখার নজর এড়িয়ে প্রতারকরা কার্যত অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপকর্ম। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কবে সজাগ হবে প্রশাসন? কবে লাগাম টানা হবে এই ভয়ংকর প্রতারণার? সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “অচেনা সোর্স থেকে পাওয়া চাকরির অফারে পা দেবেন না। টাকা চাওয়া হলে নিশ্চিতভাবেই তা প্রতারণা।” অতএব, সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলেই সাবধান! এক মুহূর্তের অসাবধানতা হয়ে উঠতে পারে চরম সর্বনাশের কারণ।STN

তিপ্রামথা

তিপ্রামথা শরিকের ভূমিকা ছেড়ে পরগাছার ভূমিকায় অবতীর্ণ!

তিপ্রামথা

তিপ্রামথার তান্ডবে পাহাড়ি অঞ্চলে বেলাইন বড় শরিক বিজেপি। প্রদ্যুৎ কিশোরকে উঁচু পিঁড়ি দিতে গিয়ে পাহাড়ে ক্রমশ পায়ের নিচের মাটি হারাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মথার প্রভাবে আতঙ্কিত হয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে যোগ দিচ্ছেন প্রদ্যুৎ কিশোরের শিবিরে। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বর্তমানে পাহাড়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং সংগঠনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব প্রকট। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি রাজনীতির উপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করছেন তিপ্রামথা প্রধান প্রদ্যুৎ কিশোর। এক বছরের মধ্যেই এডিসি নির্বাচন এবং যেকোনো সময় ভিলেজ কমিটির ভোট ঘোষণা হতে পারে, তাই বিজেপিকে কোণঠাসা করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে মরিয়া মথা।

বিজেপির জনজাতি নেতৃত্বের অভিযোগ, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ মথার ভয়ে বিজেপি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এডিসি এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের প্রশাসনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। কিন্তু, কেন্দ্রের শাসক দলের সঙ্গে প্রদ্যুৎ কিশোরের সম্পর্কের কারণে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব মথার বিরুদ্ধে সরব হতে পারছে না। তার ওপর তিপ্রামথা সরকারে বিজেপির শরিক হওয়ায়, সাধারণ জনজাতিদের অভয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বিজেপি। ফলে ভয়ে অথবা নিরুপায় হয়ে বহু কর্মী-সমর্থক যোগ দিচ্ছেন তিপ্রামথার দলে।

বিজেপির অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, পাহাড়ের ২০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১০-১৫টিতেই বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি প্রায় শূন্যের কোঠায়। সিমনা, টাকারজলা, গোলাঘাটি, রামচন্দ্রঘাট, আশারামবাড়ী, ওম্পিনগর, মান্দাই, এবং জোলাইবাড়ি সহ বেশ কয়েকটি জনজাতি সংরক্ষিত আসনে বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সদস্যতা পদ অভিযানে তেমন সাড়া না মেলায় দলের ভেতরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের উদ্বেগ, পাহাড়ে সংগঠনের এই ভঙ্গুর অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড় রাজনীতির পুরো স্টিয়ারিং নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন প্রদ্যুৎ কিশোর, যা ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোদী-শাহ নেতৃত্বাধীন বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ি জনজাতি ভোটারদের মন জয় করতে না পারলে বিজেপির সাংগঠনিক ভাটা কাটানো অসম্ভব। মথার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও প্রদ্যুৎ কিশোরের কৌশলী রাজনীতির সামনে পাহাড়ে টিকে থাকতে হলে বিজেপিকে শক্তিশালী নেতৃত্ব খুঁজে বের করতেই হবে। অন্যথায় আগামী নির্বাচনে পাহাড়ি অঞ্চলে তিপ্রামথার কাছে বড়সড় পরাজয়ের মুখোমুখি হতে পারে বিজেপি।

মনিপুর

মনিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন, দীর্ঘ অচলাবস্থার পর বড় সিদ্ধান্ত!

মণিপুরের

প্রায় দুই বছর ধরে অশান্ত মনিপুরে অবশেষে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করল কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের ইস্তফার পর বিজেপি নতুন মুখ ঠিক করতে না পারায়, রাজ্যে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসনের ঘোষণা করেন।

আগামী ৯ মাস দেশে কোনও বিধানসভা নির্বাচন নেই, ফলে এই সময়ের মধ্যে মনিপুরের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। তবে বিরোধীরা বলছে, পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্র অনেক দেরি করে ফেলেছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর ইস্তফা দেন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংহ। রাজ্যপাল অজয়কুমার ভল্লার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও বিজেপি নতুন মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করতে পারেনি। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সম্বিত পাত্র একাধিক বৈঠক করেও সমাধানসূত্র খুঁজে পাননি।

২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষ চলছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে কার্ফু ও ইন্টারনেট বন্ধ করেও শান্তি ফেরানো যায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে, এমনকি বীরেন সিংহ ক্ষমাও চেয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যপালের রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী মণিপুরে সরকার পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতি শাসনের মধ্যে কেন্দ্র কীভাবে মণিপুরের শান্তি ফেরানোর উদ্যোগ নেবে? বিরোধীরা দাবি তুলেছে, দেরিতে হলেও এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের জনগণের স্বার্থে কার্যকর হতে হবে।

জমি কেলেঙ্কারি গ্রেফতার

শিল্প দপ্তরের অধিকর্তা কাইজার দেববর্মা জমি কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার!

ত্রিপুরায় ১৩৩ কানি জমি কেলেঙ্কারি নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে শিল্প দপ্তরের প্রাক্তন অতিরিক্ত অধিকর্তা কাইজার দেববর্মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম থানার পুলিশ কৃষ্ণনগরের বাড়ি থেকে কাইজার দেববর্মাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, জাল জমির দলিল তৈরি করে ১৩৩ কানি জমি বিক্রি করেছেন এবং ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ১.২৫ কোটি টাকা হাতিয়েছেন। এই কেলেঙ্কারির মূল মামলাটি দায়ের করেছিলেন দিল্লির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড এডুকেশন মিশন’-এর অধিকর্তা হিমাংশু পাঞ্চাল।

২০২৩ সালের ১২ জুলাই দায়ের হওয়া এই মামলার পর থেকেই কাইজার দেববর্মা পলাতক ছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এই মামলায় দেবাশীষ চক্রবর্তী, বিপ্লব শর্মা, রাজেশ ত্রিপুরা, সুব্রত আচার্য এবং উত্তম সাহাকে গ্রেফতার করেছিল। তবে কাইজার দেববর্মা এতদিন পালিয়ে ছিলেন এবং আগাম জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়।

ভিযোগ অনুসারে, মোহনপুর মহকুমা শাসক অফিস থেকে জাল জমির দলিল তৈরি করে ১৩৩ কানি জায়গা বিক্রি করেছিলেন কাইজার দেববর্মা। জায়গা বিক্রির পাশাপাশি, ওয়ার্ল্ড এডুকেশন মিশনের কাছ থেকে ১.২৫ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে বোধজংনগরে জায়গা দেখালেও পরে মোহনপুরের কাছে ১৩৩ কানি জায়গা দেখানো হয়। জমি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় মিশনের অধিকর্তা হিমাংশু পাঞ্চাল প্রথমে মোহনপুর মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ জানান। সাড়া না পেয়ে তিনি ২০২৩ সালের ১২ জুলাই দিল্লিতে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ, যার ফলে পাঁচজন গ্রেফতার হলেও এতদিন পলাতক ছিলেন কাইজার দেববর্মা।

কাইজার দেববর্মা শিল্প দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা থাকাকালীন খাদি ও গ্রামোদ্যোগ পর্ষদের দায়িত্বে ছিলেন। তখন তিনি মৌমাছি পালনের জন্য সুবিধাভোগীদের সরকারি সামগ্রী প্রদান না করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেন। তার বিরুদ্ধে জমির জালিয়াতি ছাড়াও সরকারি অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

বাম আমল থেকেই কাইজারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তিনি এক বাম নেত্রীর সহায়তায় খাদি পর্ষদকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। ২০০৬ সালে রাজ্যে প্রথমবার যোগগুরু রামদেবকে এনে কোটি কোটি টাকা রোজগার করেন তিনি এবং শিল্প দপ্তরের অফিসার পদে দীর্ঘদিন থেকে নিজের ব্যাংক ব্যালেন্স ফুলিয়েছেন কাইজার।

পশ্চিম থানার বড়বাবু জানিয়েছেন, কাইজারকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হলেও আদালত তিন দিনের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তাকে জেরা করে এই কেলেঙ্কারিতে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তাদের নাম জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। তদন্তকারীরা আশা করছেন, কাইজারের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে আরও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা যাবে। ১৩৩ কানি জমি কেলেঙ্কারি ত্রিপুরার প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিল্প দপ্তরের প্রাক্তন অতিরিক্ত অধিকর্তা কাইজার দেববর্মার গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। এই মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া কী মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।About Us

মহাকুম্ভে

মহাকুম্ভে পুণ্যস্নান করে ত্রিপুরার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর!

 

প্রয়াগরাজ, উত্তরপ্রদেশের  ত্রিবেণী সঙ্গমের মহাকুম্ভে পবিত্র স্নান করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। আধ্যাত্মিক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে নিমগ্ন হয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন তিনি। মহাকুম্ভে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা লেখেন, “মহাকুম্ভ উপলক্ষে প্রয়াগরাজ তীর্থে পৌঁছে পবিত্র ত্রিবেণী সঙ্গমে পূণ্যস্নানে সামিল হয়ে এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। ত্রিপুরার মানুষের মঙ্গল, অগ্রগতি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য গঙ্গা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি।”

সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনেকদিন ধরেই মহাকুম্ভে পূণ্যস্নান করার ইচ্ছা ছিল, যা অবশেষে পূর্ণ হলো। তিনি বলেন, “ত্রিপুরাবাসীর সুখ-সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছি। রাজ্য যাতে আরো উন্নতি করে এবং ‘এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়ে ওঠে, সেই কামনা করেছি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সেই লক্ষ্যেই আমরা ত্রিপুরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।”

মহাকুম্ভের সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “যেভাবে এত বড় আয়োজনকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য।” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির শাসন রয়েছে, সেখানেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাওয়া যাচ্ছে।”

দেশের রাজনীতির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিল্লিতে ২৭ বছর পর বিজেপি সরকার আসতে চলেছে। কংগ্রেস শূন্য পেয়েছে, কমিউনিস্টরা নোটার সমান এবং আপ সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দুর্নীতির মাধ্যমে কেউ সফল হতে পারে না। স্বচ্ছ প্রশাসন কিভাবে চালাতে হয়, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিখতে হবে।” মহাকুম্ভের পুণ্যস্নান ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ত্রিপুরা রাজ্যের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য প্রার্থনা করে তার পুণ্যস্নান সম্পন্ন করেন।

আগরতলা

আগরতলাচলতি মাসেই শুরু হতে পারে আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রা!

বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি মাসের শেষ দিকে কিংবা আগামী মার্চের প্রথম দিকে আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হতে পারে। আগরতলা থেকে গুয়াহাটির মধ্যে এই দ্রুতগতির ট্রেন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় রেললাইন বৈদ্যুতিকরণের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ট্রায়াল রানও সফলভাবে শেষ হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

রেললাইনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত

আগরতলা থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর জন্য উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর) ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আগরতলা-গুয়াহাটি রুটে বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। বদরপুর থেকে ত্রিপুরার জিরানিয়া স্টেশন পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রেনের সফল ট্রায়াল রান শেষ হয়েছে। অতি দ্রুত যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা চলছে বলে এনএফআরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ট্রেনের সময়সূচি ও স্টপেজ

আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৬টায় আগরতলা থেকে ছাড়বে এবং দুপুর ১:৩০ মিনিটে গুয়াহাটিতে পৌঁছাবে। আবার দুপুর ২টায় গুয়াহাটি থেকে ছেড়ে রাত ৯:৩০ মিনিটে আগরতলায় পৌঁছাবে। পথে আমবাসা, ধর্মনগর, নিউ করিমগঞ্জ, বদরপুর এবং হোজাই স্টেশনে থামবে।

সময় সাশ্রয় ও টিকিটের মূল্য

এই ট্রেনটি ৫৭১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এবং বর্তমানের দ্রুততম তেজস এক্সপ্রেসের তুলনায় প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় করবে। তেজস এক্সপ্রেস যেখানে ১২ ঘণ্টা সময় নেয়, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সেই পথ অতিক্রম করবে মাত্র ৭ ঘণ্টায় এবং টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এসি চেয়ার কারের জন্য প্রায় ১৩৮০ টাকা এবং এক্সিকিউটিভ চেয়ার কারের (EC) জন্য ২৩৯৫ টাকা।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের নতুন দিগন্ত

ত্রিপুরার প্রথম এবং আসামের দ্বিতীয় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু হওয়ার মাধ্যমে উত্তর-পূর্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর আগরতলা এবং গুয়াহাটির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প হিসেবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে ত্রিপুরায় রেললাইন বিদ্যুতায়নের জন্য ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ কর্পোরেশন লিমিটেড (TSCL) রেলওয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিশন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। অবকাঠামো প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথেই আসামের শিলচর এবং আগরতলা পর্যন্ত বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের শেষের দিকেই আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচল শুরু হতে পারে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ট্রেন চালুর নির্দিষ্ট তারিখ জানা যাবে। এই ট্রেন চালু হলে ত্রিপুরার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন এবং ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হবে। আগরতলা থেকে গুয়াহাটির মধ্যে এই অত্যাধুনিক বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর খবরে ত্রিপুরাবাসীর মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উন্নত সেবা ও দ্রুতগতির যাত্রা উপভোগ করতে মুখিয়ে আছেন যাত্রীরা। এখন শুধু দিন গণনার পালা।

ভারত

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আত্মবিশ্বাসী ভারত!

ভারত সফরে এসে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-২০ সিরিজে দারুণভাবে জয়ী হয়ে ভারত নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। এই সফরে ভারতীয় দল ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

ওয়ানডে সিরিজে ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত। সিরিজের শেষ ম্যাচটি আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারত ১৪২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে। এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৫০ ওভারে ৩৫৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। দলের ওপেনার শুভমান গিল অসাধারণ ব্যাটিং করে ১১২ রান করেন, যা তার ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সেঞ্চুরি। এছাড়া শ্রেয়াস আইয়ার ও সূর্যকুমার যাদবের অর্ধশতক দলের স্কোর আরও মজবুত করে তোলে। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ ভারতীয় বোলারদের সামনে টিকতে পারেনি এবং ৩৪.২ ওভারে ২১৪ রানে অলআউট হয়। ভারতের পক্ষে আর্শদীপ সিং, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব এবং হর্ষিত রানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে, আর্শদীপ সিং ৩টি উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখেন।

টি-২০ সিরিজেও ভারত দাপটের সঙ্গে খেলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-২০ ম্যাচে অভিষেক শর্মা ৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যার সুবাদে ভারত ৭ উইকেটে জয় লাভ করে। দ্বিতীয় ম্যাচেও ভারত নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে জয় তুলে নেয়। তবে তৃতীয় টি-২০ ম্যাচে রাজকোটে ইংল্যান্ড ২৬ রানে জয়লাভ করে, যা সফরে তাদের একমাত্র সান্ত্বনা ছিল। শেষ দুটি ম্যাচে ভারতীয় বোলাররা ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের দমিয়ে রেখে জয় নিশ্চিত করে। সিরিজ জয়ের মাধ্যমে ভারত টি-২০ ক্রমতালিকায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। যদিও এই সফরে শুধুমাত্র সীমিত ওভারের ম্যাচ ছিল, তবে ইংল্যান্ড দল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল ভারতীয় ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে, যেখানে ভারতীয় বোলারদের সামনে তাদের দুর্বলতা প্রকাশ পায়।

ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, “পুরো দল অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস দেখে আমি অভিভূত। সামনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রয়েছে, সেখানে এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।”
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার পরাজয় স্বীকার করে বলেন, “ভারত সত্যিই দুর্দান্ত খেলেছে। আমাদের কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা ঠিক করতে হবে। তবে তরুণ খেলোয়াড়রা কিছু ইতিবাচক মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।” তবে এই সফরে বিশেষ কিছু দিক পরিলক্ষিত হয়েছে, যেগুলো হলোঃ

  • শুভমান গিলের দুর্দান্ত ব্যাটিং ফর্ম, বিশেষ করে ওয়ানডে সিরিজে সেঞ্চুরি।
  • আর্শদীপ সিং ও কুলদীপ যাদবের অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্স।
  • অভিষেক শর্মার প্রথম টি-২০ ম্যাচে ৭৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস।
  • পুরো সিরিজে ভারতীয় দলের ফিল্ডিং ও বোলিং ইউনিটের দৃঢ়তা।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে দলকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। পুরো সিরিজে ভারতীয় দল তাদের ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে একপেশে খেলায় হারিয়েছে।ভারতের এই জয় ক্রিকেট বিশ্বে তাদের শক্ত অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে।

উগ্রপন্থা

ত্রিপুরাকে উগ্রপন্থার মাধ্যমে অশান্ত করার পরিকল্পনা!

ত্রিপুরায় নতুন করে উগ্রপন্থা ছড়ানোর চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বুধবার পশ্চিম ত্রিপুরার জিরানিয়া মোটরস্ট্যান্ড কমপ্লেক্সে ৪০.৫৮ কোটি টাকার পাঁচটি নতুন পরিবহন প্রকল্পের শিলান্যাস এবং একটি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে, কেউ কেউ ত্রিপুরায় আবার উগ্রপন্থা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমি তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, এবার কিন্তু কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনেক পরিশ্রমের পর রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই কেউ এই শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডাঃ সাহা জানান, “ত্রিপুরা এখন উগ্রপন্থা মুক্ত রাজ্য। এটিটিএফ এবং এনএলএফটি বৈরী গোষ্ঠীর সঙ্গে মৌ স্বাক্ষরের মাধ্যমে তারা মূল স্রোতে ফিরে এসেছে। অতীতে রাজ্যে অরাজকতা এবং সন্ত্রাসের যে পরিবেশ ছিল, তা দূর করতে আমরা সফল হয়েছি। তাই এবার কেউ উগ্রপন্থার বীজ বপনের চেষ্টা করলে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “ত্রিপুরায় উগ্রপন্থা দমনের মাধ্যমে যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা রক্ষা করার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা চাই রাজ্যের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে।”

কমিউনিস্ট শাসনের সময় রাজ্যে অরাজকতা এবং সন্ত্রাসের পরিবেশ ছিল উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে নির্বাচনের আগে এবং পরে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটত। কিন্তু এখন রাজ্যে স্থিতিশীলতা এসেছে। আমরা কখনও সেই পুরনো অশান্ত পরিবেশে ফিরতে দেব না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তুলতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ত্রিপুরা দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যে ছয়টি জাতীয় সড়ক নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।”

পরিবহন দপ্তরের উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা মোট ৪০.৫৮ কোটি টাকার পাঁচটি নতুন পরিবহন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। নতুন প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে –

  • জিরানিয়া মোটরস্ট্যান্ড
  • জোলাইবাড়ি মোটরস্ট্যান্ড
  • মেলাঘর মোটরস্ট্যান্ড
  • তেলিয়ামুড়া, খোয়াই জেলার জেলা পরিবহন অফিস
  • শান্তিরবাজার, দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলা পরিবহন অফিস

এছাড়া ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয় খোয়াই জেলার পুরান বাজারের ইন্টিগ্রেটেড পার্কিং কমপ্লেক্স। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, জিরানিয়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান রতন কুমার দাস, পরিবহন দপ্তরের সচিব সি কে জমাতিয়া, পরিবহন দপ্তরের কমিশনার সুব্রত চৌধুরী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

ত্রিপুরায় নতুন করে উগ্রপন্থা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে ত্রিপুরাকে উগ্রপন্থা মুক্ত রাখাও এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

বাজার

মানুষ ঔষধের নামে বিষ কিনছে বাজার থেকে!

ভেজাল ঔষধ বিক্রি হচ্ছে বাজারে এমনই রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে! সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ঔষধ এখন অপরিহার্য। সুগার, প্রেশার, শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসাতে নির্ভরযোগ্য ঔষধের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বাজারে নিম্নমানের ও জাল ঔষধের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে এবার রাজ্যেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে প্রশাসন।

জাল ঔষধ চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে সোমবার স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি ড্রাগস কন্ট্রোলার অফিসের উদ্যোগে ‘স্যাম্পলিং অফ ড্রাগস, ইনভেস্টিগেশন টেকনিক অ্যান্ড লঞ্চিং অফ প্রোসেকিউশন’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। গুখা বস্তির প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা অধ্যাপক ডাক্তার সঞ্জীব কুমার দেববর্মা।

কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা জানান, রাজ্যের বাজারে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধের রমরমা ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ড্রাগের নমুনা পরীক্ষার পর কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন হরিয়ানার প্রাক্তন ড্রাগ কন্ট্রোলার এন কে আহুজা এবং প্রাক্তন ডেপুটি ড্রাগ কন্ট্রোলার রাজিন্দর কুমার হারনা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাল ঔষধ সনাক্তকরণের উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

রাজ্যে জাল ঔষধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বছর কিছু ঔষধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে নিম্নমানের ঔষধ ধরা পড়ায় ১৫৪টি ঔষধের দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং ৩৭২টি দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের এক অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। সরকারি ব্যবস্থায় কেনা ঔষধের ১০ শতাংশই নিম্নমানের, যেখানে বাজারের নমুনা পরীক্ষায় এই হার ৩ শতাংশ। সুগার, প্রেসার এমনকি ক্যান্সারের ঔষধেও ভেজালের সন্ধান মিলেছে।

জাল ঔষধের এই চক্রকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে কিছু অসাধু চিকিৎসক ও ঔষধ কোম্পানির যোগসাজশ। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা মোটা টাকা ঘুষ দিয়ে চিকিৎসকদের দিয়ে জাল ঔষধ প্রেসক্রাইব করাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ঔষধ বিক্রেতাদেরও টাকা দিয়ে নকল ঔষধ বিক্রির ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ না জেনেই এসব ভেজাল ঔষধ কিনছেন, যা তাঁদের স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে পরীক্ষা করে ১১১টি নমুনায় ভেজাল ঔষধ ধরা পড়েছে। কলকাতাতেও অভিযান চালিয়েছে সিডিএসসিও এবং ড্রাগস কন্ট্রোল ডিরেক্টরেট। বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার নিম্নমানের ঔষধ।সরকারি রিপোর্ট বলছে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে মোট ২ লক্ষ ২৩ হাজার ঔষধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ৫৯৩টি ঔষধ ভেজাল এবং ৯ হাজার ২৬৬টি ঔষধ নিম্নমানের, যা ‘নট অব স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সরকারের এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, ভেজাল ঔষধের সমস্যা ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। প্রশাসন এখনই কড়া পদক্ষেপ না নিলে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য চরম সংকটে পড়বে। তাই কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে এই জাল ঔষধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণেরও উচিত ঔষধ কেনার আগে সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে প্রশাসনকে অবহিত করা।

ভার্মা

ভার্মা কমিশনের রিপোর্ট ভুলে, অষ্টমের প্রহর গুনছেন কর্মচারীকুল!

ভার্মা কমিশনের সপ্তম অধরা রেখেই আগামী অষ্টম পে কমিশনের আশায় দিন গুনছেন রাজ্যের কর্মচারীরা। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই অষ্টম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, যা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো ও ভাতা নির্ধারণ করবে। সাধারণত, কেন্দ্রের পে কমিশনের সুপারিশ অনুসরণ করেই রাজ্য সরকারগুলি তাদের কর্মীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে। কিন্তু ত্রিপুরার ক্ষেত্রে এখনো সপ্তম পে কমিশনের পুরো সুবিধাই পায়নি কর্মচারীরা, তার ওপর অষ্টম কমিশনের অপেক্ষা শুরু হয়েছে।

কোথায় গেল ভার্মা কমিটির রিপোর্ট?

২০১৮ সালে বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর, রাজ্যের কর্মচারীদের সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যেই অসমের প্রাক্তন মুখ্যসচিব পি.পি. ভার্মার নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। রাজ্যের অর্থ দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল, ৯০ দিনের মধ্যেই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ভার্মা কমিটি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মচারী সংগঠন, আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করে।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নিজেও কমিটির রিপোর্ট সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছিলেন বলে খবর। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই রিপোর্টে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ ছিল কিনা? যদি থেকে থাকে তবে তা কার্যকর করা হয়নি কেন? ২০১৮ সালের জুন মাসে ভার্মা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পরবর্তী সময়ে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়, তবুও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। আজও রাজ্যের কর্মচারীরা জানেন না, তাদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সুপারিশ কী ছিল।

ডি.এ-বঞ্চনা!

বর্তমানে রাজ্যের কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের তুলনায় ২৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বঞ্চিত। রাজ্য সরকার সম্প্রতি মাত্র ৫ শতাংশ ডিএ বাড়ালেও কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের বর্তমান ডিএ ৫৩ শতাংশ, যেখানে রাজ্যের কর্মচারীরা মাত্র ৩০ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন। কর্মচারীদের দাবি, বিজেপি-আইপিএফটি-তিপ্রা মথার যৌথ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের ডিএ বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী একবার জানিয়েছিলেন, রাজ্যের ২৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য ব্যয় হয়। এতে বোঝা যায়, সরকার কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে সংবেদনশীল হলেও, ডিএ বৃদ্ধির জন্য তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অষ্টম পে কমিশনের দিকে নজর!

বামফ্রন্ট সরকারের সময়ই কেন্দ্রীয় সপ্তম পে কমিশন লাগু হয়ে গেছিল, কিন্তু তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যে তা কার্যকর করেনি। বিজেপি সরকার ক্ষমতা দখলের জন্য, সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশনের লোভ দেখিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তা বাস্তবায়িত করা হয়নি বলেই অভিযোগ কর্মচারীদের। তাদের অভিমত, সপ্তম পে কমিশনের নামে তাদের প্রতারিত করা হয়েছে

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার অষ্টম পে কমিশন গঠনের ঘোষণা করায় এখন কর্মচারীরা তাকিয়ে রয়েছেন নতুন বেতন কাঠামোর দিকে। তবে সপ্তম পে কমিশনের সুবিধা পুরোপুরি না পাওয়া কর্মচারীদের মধ্যে আশঙ্কা, অষ্টম পে কমিশনের সুপারিশ রাজ্যে কার্যকর হবে কি না। ত্রিপুরার কর্মচারীদের জন্য বকেয়া ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাওয়াই এখন মূল দাবি। তবে সরকার সেই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখার বিষয়। ভার্মা কমিটির রিপোর্ট আদৌ প্রকাশ্যে আসবে কিনা, তাও সময়ই বলবে। এরই মধ্যে, কর্মচারীরা নতুন পে কমিশনের আশায় দিন গুনছেন।