NSS

“জৈব পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ” NSS ইউনিট উইমেন্স কলেজের এক অভিনব প্রয়াস!

রাজধানীর উইমেন্স কলেজ NSS ইউনিটের উদ্যোগে রাজবাড়ী সংলগ্ন এলাকায় এক সচেতনতা মূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল রাসায়নিক পদার্থের পরিবর্তে জৈব উপায়ে মশা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। মশার তাণ্ডব থেকে নাগরিক সমাজকে রক্ষা করার উপায় নিয়ে এই কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমান সময়ে মশার উপদ্রবে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিক স্প্রের পরিবর্তে প্রাকৃতিক ও জৈব পদ্ধতি মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশি কার্যকরী এবং স্বাস্থ্যসম্মত। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই উইমেন্স কলেজ NSS ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবীরা সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। কর্মসূচির সময় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়, যেখানে জৈব পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। লিফলেটের মূল বিষয়বস্তু ছিল:

  • বাড়ির চারপাশে জমা জল পরিষ্কার রাখা
  • ফুলের টব, পুরনো টায়ার, বোতল ইত্যাদিতে জল জমতে না দেওয়া
  • তুলসী, নিম, লেমনগ্রাসের মতো উদ্ভিদ বাড়ির আশেপাশে রোপণ করা, যা মশা তাড়াতে সাহায্য করে
  • ঘরে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি মশারোধী স্প্রে ব্যবহার করা

স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, এলাকায় কিছু নাগরিক ইচ্ছাকৃতভাবে আবর্জনা ড্রেনে ফেলে চলমান নর্দমার জল আটকে দিচ্ছেন। এর ফলে সেই স্থির জলে মশার বংশবিস্তার বেড়ে গিয়ে জনস্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হচ্ছে। এই সমস্যা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হল নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

উইমেন্স কলেজ NSS ইউনিটের প্রোগ্রাম অফিসার রমা ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সমগ্র কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র প্রশাসনের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে আমাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।”

এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং উইমেন্স কলেজ NSS ইউনিটের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টা এবং সমাজের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতার প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক স্প্রের অতিরিক্ত ব্যবহার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই প্রাকৃতিক ও জৈব পদ্ধতির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উইমেন্স কলেজ NSS ইউনিটের এই প্রচেষ্টা সমাজে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

straightlines

অভিভাবক

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির দৌরাত্ম্যে নাজেহাল অভিভাবকরা!

একদিকে রাজ্যের একের পর এক সরকারি স্কুলে তালা পড়ছে, অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাড়বাড়ন্তে পকেট ফাঁকা হচ্ছে অভিভাবকদের। রাজধানী আগরতলা সহ রাজ্যের প্রায় প্রতিটি মহকুমায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে নতুন নতুন বেসরকারি স্কুল। অথচ সরকারি স্কুলগুলোতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা নেমে এসেছে তলানিতে। এমন অনেক স্কুল আছে যেখানে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে।

অভিভাবকরা মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন সরকারি স্কুলগুলি থেকে, সরকারি স্কুলগুলির এই শোচনীয় অবস্থার পেছনের কারণ খুঁজতে তৎপর নয় শিক্ষা দপ্তর প্রশাসন। সরকারের নীরবতায় হতাশ অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ডোনেশন না দিলে ভর্তির সুযোগই মিলছে না বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে বেসরকারি স্কুলগুলির ওপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই সরকারের। উল্টে এসব স্কুলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নেতা-মন্ত্রীরা উৎসাহ যোগাচ্ছেন বলেই অভিযোগ। অথচ অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক দলই মুখ খুলতে রাজি নয়।

শুধু স্কুলেই নয়, রাজ্যের শান্তিনিকেতন ও টি এম সি-র মতো বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলিতেও ফি নিয়ে উঠেছে অভিযোগের ঝড়। ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিল (এন এম সি)-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, রাজ্যের কোটায় ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের ৫০ শতাংশ ফি ছাড় দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। ডেভেলপমেন্ট ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গাইডলাইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। তবুও সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ নেই।

ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়নি এখনো। উল্টে বিদ্যা ব্যবসার নামে অভিভাবকদের পকেট কাটছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকারের এই নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবক মহল থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদরা। রাজ্যে শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে চিত্রটা একেবারেই বিপরীত। সরকারি স্কুলগুলির করুণ দশা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণের জেরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শিক্ষার এই বেহাল অবস্থায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সরকার কি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, নাকি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

straightlines

ADC

ADC-র গঙ্গানগরে বিল্ডিং উদ্বোধন না করেই ফিরে গেলেন অতিথিরা!

এক অভূতপূর্ব এবং কলঙ্কজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল ADC-র গঙ্গানগর। ADC (আটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল)-র তত্ত্বাবধানে নির্মিত নতুন প্রাণী চিকিৎসালয়ের উদ্বোধন করতে এসে বড়সড় অস্বস্তির মুখে পড়তে হলো অতিথিদের। বিল্ডিংয়ের দেওয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় উদ্বোধন না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন অতিথি ও কর্মকর্তারা।

ADC-র গঙ্গানগরের প্রাণী চিকিৎসালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল পশুপালকদের জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডিসি-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। ব্যান্ড, ফুলের তোড়া, সুসজ্জিত মঞ্চ—সবকিছুই ছিল এক বর্ণময় অনুষ্ঠানের আয়োজনের ইঙ্গিত। কিন্তু উদ্বোধনের কিছুক্ষণ আগেই বিল্ডিং পরিদর্শন করতে গিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। দেখা যায়, সদ্য নির্মিত সেই ভবনের একাধিক দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। এমনকি ছাদের কিছু অংশেও ফাটল লক্ষ্য করা যায়, যা ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়।

অতিথিরা ভবনের এমন অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এই ধরনের ফাটল বিল্ডিং ধসের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে, যা প্রাণহানির কারণ হতে পারে। অতিথি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠান বাতিল করা হবে। উপস্থিত সকলকে দ্রুত সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের দাবি, নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলেই নতুন বিল্ডিংয়ে এমন ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন কীভাবে উদ্বোধনের আগেই এমন অবস্থায় পৌঁছালো? স্থানীয়দের দাবি, এডিসি-র কিছু অসাধু আধিকারিক এবং ঠিকাদারের যোগসাজশে এই দুর্নীতি হয়েছে।

ADC-র এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জার। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সিমেন্ট এবং রড ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভবনের স্থায়িত্বকে ক্ষুণ্ন করেছে। এই ঘটনায় কাজের স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনগণের করের টাকায় নির্মিত ভবনে এমন নিম্নমানের কাজ মেনে নেওয়া যায় না বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অতিথি এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা এখন অপেক্ষায় আছেন তদন্তের রিপোর্টের এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির।

উদ্বোধন বাতিল হওয়ায় এলাকাবাসী এবং পশুপালকরা হতাশ। তারা দীর্ঘদিন ধরে উন্নত প্রাণী চিকিৎসালয়ের আশায় ছিলেন, কিন্তু এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনায় হতাশা ছড়িয়েছে। অতিথিরা ভবিষ্যতে বিল্ডিংটির সংস্কার এবং সুরক্ষার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত উদ্বোধনের তারিখ স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘটনায় গঙ্গানগরবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তারা জানতে চাইছে, তদন্ত শেষে কি সত্যিই দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে? নাকি এই ঘটনাও হারিয়ে যাবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে!

STN

স্কলারশিপ

উপজাতি পড়ুয়াদের স্কলারশিপ অনিশ্চিত!

স্কলারশিপ না মেলায় উপজাতি পড়ুয়াদের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্সে। বিগত শিক্ষাবর্ষে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তি হওয়া বহু এসটি (তফশিলি জনজাতি) ছাত্র-ছাত্রী বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে। স্কলারশিপ না মেলায় তাদের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে।

মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর অনেকেই বিএড, ডিএলএড, নার্সিংসহ বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তি হয়েছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এসটি ক্যাটাগরির আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পড়াশুনায় আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে, যা তাদের পুরো শিক্ষাবর্ষের খরচ মেটাতে সহায়ক। কিন্তু এ বছর সেই আর্থিক সহায়তা না মেলায়, প্রায় কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী বিপাকে পড়েছে।

২০২৩ সালে যেসব ছাত্র-ছাত্রী প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তি হয়েছিল, তাদের স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার শেষ তারিখ ছিল ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত। আর যারা ২০২৪ সালে ভর্তি হয়েছিল, তাদের জন্য শেষ তারিখ ছিল ২৫ নভেম্বর। কিন্তু হঠাৎ করেই এই সময়সীমা প্রায় তিন মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার কারণ এখনো অজানা। এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের ফলে অনেকেই সময়মতো আবেদনপত্র জমা দিতে পারেনি। অধিকাংশ প্রফেশনাল কোর্সের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা তখনও শেষ না হওয়ায়, দ্বিতীয় বর্ষের স্কলারশিপের জন্য প্রয়োজনীয় মার্কশিট জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করা এসটি ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেই স্কলারশিপের সহায়তার উপর নির্ভর করেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এই সহায়তা না পেলে তাদের পক্ষে প্রফেশনাল কোর্সের খরচ মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে বহু ছাত্র-ছাত্রীকে পড়াশোনা মাঝপথেই বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

এই সমস্যার সমাধানে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো সদুত্তর মেলেনি। রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা কি পদক্ষেপ নেবেন, সেই দিকে তাকিয়ে আছেন অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীরা।

STN

ত্রিপুরা

‘ত্রিপুরা-আখাউড়া রেল সংযোগ’ পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু!

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা। বৈঠকে রাজ্যে আবহাওয়ার উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা, বাঁশ শিল্পের সমৃদ্ধি, প্রশাসনিক বিষয় এবং আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক বিষয়ে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা বৈঠকে ত্রিপুরায় উন্নত আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা চান। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর রাজ্যে অস্বাভাবিক হারে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সঠিক সময়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং আশ্বাস দেন যে, মিনিস্ট্রি অফ আর্থ সায়েন্স আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে একটি এডভান্সড ওয়েদার রাডার স্থাপন করবে। এই অত্যাধুনিক রাডার সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস প্রদান করবে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্যকে বিশেষভাবে সহায়তা করবে।

বৈঠকে রাজ্যের বাঁশ শিল্পের উন্নয়ন নিয়েও বিশদ আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এসময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, জৈবপ্রযুক্তি ও বাঁশ ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য আসামের জোড়হাট ও মণিপুরের বিশেষ প্রতিষ্ঠানগুলি রাজ্যে সরকারের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবে। এর ফলে ত্রিপুরার বাঁশ শিল্পের আর্থিক সম্ভাবনা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য এই রেল সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ড. জিতেন্দ্র সিং জানান, কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা-আখাউড়া রেল প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এই প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই বৈঠককে ত্রিপুরার উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আঞ্চলিক সংযোগের উন্নতির মাধ্যমে ত্রিপুরা আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।STN

ত্রিপুরা

সাংবাদিকদের কল্যাণে “ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন”

ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্মেলন রবিবার আগরতলার প্রেস ক্লাবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে দুই শতাধিক সাংবাদিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গণতন্ত্রের সঠিক বিকাশে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব।” এছাড়া, সংবাদমাধ্যমের বিকাশে রাজ্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে দিল্লি থেকে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন। তিনি বলেন, “গণমাধ্যম গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সংবাদমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে একাধিক কর্মসূচি চালু রেখেছে।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডঃ

সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার আগরতলা প্রেস ক্লাব চত্বরে শিশু-কিশোরদের জন্য বসে আঁকো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায়। এছাড়া, ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফটো সাংবাদিকদের তোলা দৃষ্টিনন্দন ছবি প্রদর্শিত হয়। পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী প্রদর্শনী পরিদর্শন করে অংশগ্রহণকারীদের সংবর্ধিত করেন এবং বলেন, “এ ধরনের প্রদর্শনী ত্রিপুরার পর্যটন প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

সাংগঠনিক আলোচনাঃ

সম্মেলনে সংগঠনের সংবিধান সংশোধন, আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সুনীল দেবনাথ গত এক বছরের কার্যক্রমের রিপোর্ট পেশ করেন, এবং সভাপতি বিজয় পাল সম্মেলন পরিচালনা করেন।

সম্মেলনের সূচনাতেই গত এক বছরে প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, যা আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে উপস্থিত সাংবাদিকদের মন ছুঁয়ে যায়।

সাংবাদিকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় সংবাদমাধ্যম আরও শক্তিশালী হবে এবং পেশাদার সাংবাদিকতা আরও উন্নত হবে। সম্মেলনটি সাংবাদিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুক্ত আলোচনা হয়েছে।STN

ভারত

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন!

বাংলাদেশে ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে, বাংলাদেশি কূটনীতিক মিশনগুলোতে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রদবদল এবং প্রথম সচিব হিসেবে বিএনপি নেতা আলমাস হোসেনের নিয়োগ সেই পরিবর্তনেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। আগরতলায় নতুন প্রথম সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিএনপি নেতা এবং বর্তমানে ইউনুস সরকার এর আস্থাভাজন আলমাস হোসেন। এই পদে পূর্বে কর্মরত ছিলেন মোঃ আল আমীন, যিনি শেখ হাসিনার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। ইউনুস সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের পরপরই তাঁকে ঢাকায় বদলি করা হয়।

বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই কূটনীতিক মিশনগুলোতে ব্যাপক রদবদল চলছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সরিয়ে বিএনপি-জামাত ঘরানার কর্মকর্তাদের নিযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এরই অংশ হিসেবে আগরতলার সহকারী হাইকমিশনে প্রথম সচিব পদে পরিবর্তন আনা হলো।

গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির পর আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের অফিসের সামনে এক বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছিল। এই বিক্ষোভ প্রদর্শনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বিক্ষোভকারীরা অফিস চত্বরে প্রবেশ করে। এই ঘটনার পরপরই আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে ভিসা ও কনস্যুলার সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। সম্প্রতি আবারও সেই সেবা চালু করা হলেও কর্মকর্তাদের দ্রুত বদলি করা শুরু করেছে ইউনুস প্রশাসন।

মোঃ আল আমীন, যিনি প্রথম সচিব হিসেবে আগরতলায় দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাঁকে গত বছরের ৮ই আগস্ট ঢাকায় বদলি করা হয়। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের, বিশেষত ত্রিপুরার জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই তাঁকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের ছাটাই এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর খড়্গ নেমে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ কূটনীতিক মিশনগুলো থেকেও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ সরকারের এই প্রশাসনিক পরিবর্তন কেবলমাত্র কর্মক্ষেত্রের রদবদল নয়, বরং এটি রাজনৈতিক প্রভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। আগরতলায় নতুন প্রথম সচিব হিসেবে আলমাস হোসেনের যোগদানের ফলে বাংলাদেশ-ভারত বিশেষত ত্রিপুরার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গভীর। তবে কূটনীতিক স্তরে এমন পরিবর্তনের ফলে এই সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউনুস সরকারের এই পদক্ষেপ ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, আগরতলায় আলমাস হোসেনের কার্যকলাপ এবং তাঁর নেতৃত্বে কূটনৈতিক মিশনের ভূমিকা নিয়ে কৌতূহল ও জল্পনা তুঙ্গে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ সরকারের এই কূটনীতিক রদবদল ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলে।STN

দৈনিক

ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত দৈনিক হাজিরা কর্মীরা!

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ত্রিপুরার ফুড, সিভিল সাপ্লাই এন্ড কনজিউমার্স দপ্তরের অধীনে এডি নগর, আগরতলার সেন্ট্রাল স্টোরে কর্মরত দৈনিক হাজিরা কর্মীরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্যের দাবিতে এবার সরব হলেন। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা তাঁদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কাজ করা এই কর্মীদের দাবি, বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁদের উপার্জন অত্যন্ত অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও তাঁদের মজুরিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে সীমিত উপার্জনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

কর্মীরা জানান, প্রতিদিন নিয়মিত কাজ করলেও মাসের শেষে পূর্ণাঙ্গ মজুরি পান না তাঁরা। ছুটির দিনগুলিতে মজুরি না মেলায় আর্থিক ক্ষতি হয়। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, মাসের পূর্ণাঙ্গ হাজিরা মজুরি প্রদান করতে হবে এবং ছুটির দিনগুলির জন্যও উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিতে হবে।কর্মীদের অনেকেই গত দুই দশক ধরে এই সেন্ট্রাল স্টোরে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত কোনো স্থায়ী আর্থিক নিশ্চয়তা পাননি তাঁরা। বয়স বাড়ছে, বাড়ছে পরিবারের চাহিদাও, কিন্তু উপার্জনের সীমাবদ্ধতা তাঁদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

কর্মীরা জানান, তাঁদের একমাত্র চাওয়া প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁরা আশা করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর তাঁদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কর্মীদের মতে, যদি মাসের পূর্ণাঙ্গ মজুরি এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়, তবে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং তাঁরা আরো মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন। কর্মীরা আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে লিখিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সরকারকে জানিয়েছেন তাঁদের আর্থিক অসুবিধার কথা এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের বিভাগীয় দপ্তর এ বিষয়ে আজ পর্যন্ত কোনো সদুত্তর দেয়নি। বরং তাঁদের আবেদনপত্রগুলি উপেক্ষিতই থেকে গেছে।

দৈনিক হাজিরা কর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের দাবিগুলি অবিলম্বে পূরণ না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। তাঁদের মতে, ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য তাঁরা যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। কর্মীদের এই আন্দোলন সরকার ও প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কর্মীরা তাঁদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সমাজের সহানুভূতি ও সমর্থনের প্রত্যাশা করেছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করেও যদি আর্থিক নিরাপত্তা না মেলে, তবে সেটি চরম অবিচার। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

দৈনিক হাজিরা কর্মীদের এই ন্যায্য দাবির বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখন দেখার বিষয়। কর্মীদের দাবির ন্যায্যতা এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সরকার দ্রুত সমাধানমূলক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই পরিস্থিতিতে, প্রশাসনের মানবিক এবং কার্যকরী পদক্ষেপই হতে পারে কর্মীদের জীবনে পরিবর্তনের পথ। এখন দেখার বিষয়, তাঁদের এই ন্যায্য দাবির প্রতিক্রিয়া কবে এবং কীভাবে মেলে।STN

প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সাথে ত্রিপুরার উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা!

ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন মাত্রা দিতে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা। নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সাক্ষাৎকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ত্রিপুরার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক মাতাবাড়ি মা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের পুনর্নির্মাণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে মন্দিরটির উদ্বোধনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি মন্দিরটির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করবে এবং ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সারা ভারতের কাছে আরও পরিচিত করবে।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্য, জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন এবং ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সফল সমাপ্তির জন্য তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং তার নেতৃত্বে দেশের সার্বিক অগ্রগতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—

  • মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তাব।
  • রাজ্যে উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী AIIMS, IIT, IIM-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যা রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
  • ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে কমলপুর থেকে শান্তিরবাজার পর্যন্ত জাতীয় সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়। এই সড়কটি অম্বাসা, গান্দা টুইসা ও আমরপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে সংযুক্ত করবে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ত্রিপুরার উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং রাজ্যের সার্বিক অগ্রগতির জন্য কেন্দ্র সরকারের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ত্রিপুরার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও উন্নত করার পাশাপাশি রাজ্যের অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান খাতকে শক্তিশালী করা হবে।

এই বৈঠকটি ত্রিপুরা ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের পথকে মসৃণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার এই উদ্যোগ ত্রিপুরার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ত্রিপুরার উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার প্রচেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমর্থন রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে।STN

মোদির

মোদির কৌশলগত সাফল্যের এক নতুন দিগন্ত!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক আমেরিকা সফর ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সফরকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছান।

মোদি ও ট্রাম্পের বৈঠকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং নিয়ে আলোচনা হয়।আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ভারতের ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

ইলন মাস্কের সাথে মোদির সাক্ষাৎ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, যেখানে টেসলা ও অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর বিনিয়োগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়, যেখানে উভয় দেশ একে অপরের জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে। ভারতের টেক্সটাইল, ফার্মা, এবং আইটি সেক্টরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কেনার চুক্তি হয়। চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের প্রেক্ষিতে ভারত ও আমেরিকা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ সামরিক মহড়া এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে বলে ঘোষণা করা হয়। ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে আমেরিকা বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মোদির এই সফরে তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারত-মার্কিন বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। মার্কিন সিনেটে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও গভীর করতে নতুন নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়। এই সফরের ফলে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নতুন দিগন্তে পৌঁছেছে। প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে যে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আগামী দিনে বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি সফরের শেষ দিনে বলেন, “এই সফর ভারত ও আমেরিকার অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ সুগম করবে।” ভারতের প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে ভারত ও আমেরিকার যৌথ অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। এই সফর শুধু কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বরং এটি ভারতের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে।STN