সিপিআইএম পার্টির রাজ্য সম্মেলন

সিপিআইএম সর্বহারার পার্টি হয়েও সম্মেলনে কোটি টাকার আড়ম্বর!

ডানকুনিতে চলছে সিপিআইএমের তিনদিনের রাজ্য সম্মেলন। অথচ, গরিবের পার্টি বলে পরিচিত এই দলটির সম্মেলনে কোটি টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে! রাজ্যজুড়ে একের পর এক নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর যেখানে সংগঠন চাঙ্গা করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়ার কথা, সেখানে কেন এত আড়ম্বর? দলীয় কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ— সকলের মধ্যেই উঠছে প্রশ্ন।

রাজ্য সম্মেলনে আসা ৫০০-র বেশি প্রতিনিধির জন্য রাজকীয় আতিথেয়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিল্লি রোড ও দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে ১৫টিরও বেশি হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউস ভাড়া নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন তাদের জন্য থাকছে চন্দননগরের জলভরা, চণ্ডীতলার গুড়ের মিষ্টি, জনাইয়ের মনোহরা এবং প্রসিদ্ধ রাবড়ির মতো সুস্বাদু খাবার। প্রতিনিধিদের সম্মেলনস্থলে আনার জন্য রিজার্ভ গাড়ির ব্যবস্থাও রয়েছে। এখানেই শেষ নয়! সংবাদমাধ্যমের কাছে দলের গোপন তথ্য যেন না পৌঁছায়, তার জন্যও নেওয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা। প্রতিনিধি তালিকায় থাকছে সিরিয়াল নম্বর ও কোডিং, দেওয়া হচ্ছে ছবি-সহ আইডি কার্ড। এমনকি কোনও তথ্য ফাঁস যাতে না হয়, সেই কারণে কোনও পিডিএফ ফাইলও দেওয়া হচ্ছে না।

এক সময় বাংলার ছাত্র-যুব সমাজের মধ্যে সিপিআইএমের বিশাল প্রভাব ছিল। কিন্তু এখন আর আগের মতো উচ্ছ্বাস নেই তরুণদের মধ্যে। দলের সর্বভারতীয় নেতা প্রকাশ কারাট স্বীকার করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ছাত্র-যুব আন্দোলনে অংশগ্রহণ থাকলেও পার্টিতে নতুন প্রজন্মকে ধরে রাখা যাচ্ছে না। কেরলের সঙ্গে তুলনা টেনে কারাট বলেন, “কেরলে পার্টির ২২% সদস্যের বয়স ৩১ বছরের নিচে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই হার অনেক কম।” যদিও কেরলে নতুনদের জায়গা দেওয়ার কথা বলা হলেও, মুখ্যমন্ত্রী এখনো ৯০ বছরের এক প্রবীণ নেতা। তাই বাস্তবে তরুণ নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর, সে নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

গত তিন বছরে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ২৫ হাজার সদস্যের পার্টি সদস্যপদ খারিজ হয়েছে, যদিও নতুনদের অন্তর্ভুক্তি কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে। রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিমও স্বীকার করেছেন, “নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্বে আনতে হবে, ছাত্র-যুব আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।” অনেক দিন ধরেই দলের অন্দরে আলোচনা চলছে যে, সিপিআইএম শহুরে পার্টিতে পরিণত হচ্ছে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে যে সম্পর্ক আগে ছিল, তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। সম্মেলনে এই নিয়েও আত্মসমালোচনা হয়েছে। অনেক নেতাই মনে করছেন, ‘তোবড়ানো গাল, ভেঙে যাওয়া মুখ’-এর পরিবর্তে এখন দলে চকচকে মুখের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। কৃষক-শ্রমিকদের পার্টি হওয়ার বদলে দল যেন শুধুই মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের দলে পরিণত হচ্ছে। তাই পার্টির অভিমুখ আবার গ্রামবাংলার দিকে ঘোরানোর কথা বলা হচ্ছে।

২০১১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই নির্বাচনী লড়াইয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে সিপিআইএম। প্রতি সম্মেলনেই দল ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পরিবর্তন আসেনি। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু প্রশ্ন একটাই— এত কিছুর পরেও কি আদৌ ভোটের ময়দানে দৃশ্যমান হতে পারবে সিপিআইএম? সম্মেলনে আড়ম্বর যতই থাকুক, দলের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। পার্টির অভ্যন্তরে আত্মবিশ্লেষণ চলছে, তবে তার বাস্তব রূপায়ণ কতটা সম্ভব হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।About Us

সরকারি website গুলির কচ্ছপ গতি দশা!

সরকারি website গুলির লুডিং টাইম বেশি হওয়ায় কর্মীদের কাজ বিঘ্নিত!

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডিজিটালাইজেশন এক অবশ্যম্ভাবী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। ভারতবর্ষ তথা ত্রিপুরা রাজ্যও এই ডিজিটাল বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করছে। সরকারি দপ্তরগুলিতে ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাজকর্ম চালানো এখন এক দৈনন্দিন বাস্তবতা। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির তথ্য আপলোড, সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণের জন্য নির্ভর করতে হয় সরকারি ওয়েবসাইটগুলির ওপর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, এই ওয়েবসাইটগুলির ধীরগতি ও ত্রুটিপূর্ণ পারফরম্যান্সের কারণে বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

প্রতিদিন অফিসে এসে কর্মচারীরা একটাই সমস্যার সম্মুখীন হন— ওয়েবসাইট চালু হচ্ছে না, সার্ভার ডাউন, বা ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত। ফলে দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করতে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এর ফলে সাধারণ নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের নানান প্রয়োজনীয় পরিষেবা পেতে দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে, কিন্তু সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান মিলছে না। কর্মচারীরা কোনোভাবেই এই প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য দায়ী নন, অথচ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে দোষ চাপাচ্ছেন ওয়েবসাইট ব্যবহারকারী কর্মীদের ওপর।

বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত একাধিক কর্মচারীর মতে, ইন্টারনেট সংযোগ এবং সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর অব্যবস্থাপনা এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে দিনে ৮ ঘণ্টা অফিস করেও প্রকৃতপক্ষে কাজ করার সুযোগ থাকে মাত্র ২-৩ ঘণ্টা। বাকি সময় পার করতে হয় ওয়েবসাইট চালুর অপেক্ষায়। এতে একদিকে সরকারি পরিষেবা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর ধীরগতির অন্যতম কারণ হলো সার্ভারের অক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দুর্বল ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। অনেক ক্ষেত্রেই ওয়েবসাইটগুলো আপডেট না হওয়ায় সেগুলোতে ত্রুটি থেকে যায়, যা কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। পাশাপাশি, বিভিন্ন দপ্তরে ব্যবহৃত ইন্টারনেট কানেকশনের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, যা সরকারি পরিষেবাগুলোকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকার এই সমস্যার দিকে নজর দেবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সার্ভার আপগ্রেড, উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা, এবং ওয়েবসাইটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ দল নিয়োগ করা এখন সময়ের দাবি। তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তর যদি এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে রাজ্যের অগ্রগতি ব্যাহত হবে। সরকারের উচিত অবিলম্বে ওয়েবসাইটের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন করা। আধুনিক সার্ভার, দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ, এবং প্রশিক্ষিত প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ করা জরুরি। সরকারি দপ্তরে একটি বিশেষ প্রযুক্তি সেল গঠন করা হলে এই সমস্যার সমাধান দ্রুত সম্ভব হবে। এছাড়া, কর্মচারীদেরও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার যাতে তারা ওয়েবসাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে ওঠেন।

নাগরিকদের হয়রানি কমানোর জন্য অবিলম্বে ওয়েবসাইটের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন সচেতন মহল। তারা মনে করেন, উচ্চস্তরের একশ্রেণীর আমলার অবহেলার কারণেই এই সমস্যাগুলো দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। ওয়েবসাইট নিয়ে বড় ধরনের কোন আর্থিক দুর্নীতির কথাও তারা উড়িয়ে দেননি। তবে এখনই যদি ওয়েবসাইট গুলির সমস্যার সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি পরিষেবার বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।About Us

অল ইন্ডিয়া পুলিশ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-2025!

আগরতলায় ৭৩তম বি এন মল্লিক স্মৃতি অল ইন্ডিয়া পুলিশ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শুভ উদ্বোধন!

ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ৭৩তম বি এন মল্লিক স্মৃতি অল ইন্ডিয়া পুলিশ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫। সোমবার উমাকান্ত ফুটবল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় ত্রিপুরা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে এবং তাদের ১৫০ বছরের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাতেই নয়, খেলাধুলার ক্ষেত্রেও ত্রিপুরা পুলিশের একটি উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রয়েছে।

এই অল ইন্ডিয়া পুলিশ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় দেশের ২৫টি রাজ্য, ৪টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ৭টি কেন্দ্রীয় বাহিনী অংশগ্রহণ করছে। পুরুষ বিভাগে ৩৬টি দল এবং মহিলা বিভাগে ৯টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পশ্চিম ত্রিপুরা, দক্ষিণ ত্রিপুরা এবং গোমতী জেলার ৫টি অ্যাস্ট্রোটার্ফ ফুটবল মাঠে আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই বর্তমানে রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তিনি ত্রিপুরা পুলিশের প্রশংসা করে বলেন, এই চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের জন্য ত্রিপুরা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। এটি রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে, প্রথমবারের মতো এত বড় অল ইন্ডিয়া লেভেলের একটি প্রতিযোগিতা ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। এটি শুধুমাত্র ক্রীড়ার ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিকভাবে জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের ত্রিপুরার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও পর্যটন কেন্দ্রগুলি ঘুরে দেখার আহ্বান জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা বর্তমানে দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র বিভিন্ন পরিকল্পনা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর ফলে সড়ক, রেল, বিমান পরিষেবার উন্নতি ঘটছে এবং রাজ্যের সার্বিক বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘হীরা মডেল’ রাজ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর আওতায় ৬টি জাতীয় সড়কের উন্নয়ন ও নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ত্রিপুরার এমবিবি বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যা রাজ্যের সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করেছে।

অনুষ্ঠানে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (DGP) অমিতাভ রঞ্জন, এডিজিপি (ট্রেনিং) এম রাজা মুরুগণ, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, ডিজিপি ইন্টেলিজেন্স অনুরাগ ধ্যানকর-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এডিজিপি (এপি) জি এস রাও স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী ৪৫টি দলের ম্যানেজারদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

এই অল ইন্ডিয়া পুলিশ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। ত্রিপুরায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দেশব্যাপী তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই প্রতিযোগিতা, যেখানে দেশসেরা পুলিশ ফুটবল দলগুলির প্রতিযোগিতার উত্তেজনা তুঙ্গে উঠবে।

ত্রিপুরার সরকারি দপ্তরে নিয়োগ!

ত্রিপুরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত!

ত্রিপুরা রাজ্যের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি নিয়োগ নীতি মেনে বিভিন্ন দপ্তরে শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান ত্রিপুরার পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে কর্মী স্বল্পতা মেটাতে একাধিক পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।

বনদপ্তরে ১০৪ জন বনকর্মীঃ-

মন্ত্রী জানান, রাজ্যের বনদপ্তরে ১০৪ জন বনকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বনদপ্তর নিজস্ব বোর্ড গঠন করে সেই বোর্ডের মাধ্যমে বনকর্মীদের নিয়োগ করবে। তিনি আরও জানান, নিয়োগের জন্য খুব শীঘ্রই পরীক্ষা ও‌ আহ্বান করা হবে।

ট্রেজারি বিভাগে ১৪০ জন অডিটঃ-

রাজ্যের অর্থ দপ্তরের অধীন ট্রেজারি বিভাগে ১৪০ জন অডিটর নিয়োগ করা হবে। রাজ্য ট্রেজারিগুলোতে বর্তমানে অডিটরের স্বল্পতা রয়েছে, যা পূরণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, এই পদের জন্য আবেদনকারীদের অডিটিং অভিজ্ঞতা, ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং পিআরটিসি (Permanent Resident of Tripura Certificate) থাকতে হবে।

সমাজকল্যাণ দপ্তরে ৩৪ জন সুপারভাইজারঃ-

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরে ৩৪ জন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হবে। রাজ্যে বর্তমানে ৫৭টি আইসিডিএস (ICDS) প্রকল্প রয়েছে, যেখানে এই সুপারভাইজারদের নিয়োগ করা হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াও পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

কো-অপারেটিভ দপ্তরে ৩০ জন অডিট ইনভেস্টিগেটরঃ-

মন্ত্রী আরও জানান, কো-অপারেটিভ দপ্তরে ৩০ জন অডিটর ইনভেস্টিগেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদের জন্য আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক, পাশাপাশি কম্পিউটার ও অডিটিংয়ের অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য নতুন বোর্ড গঠন

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, বর্তমানে টিপিএসসি (TPSC)-র উপর অতিরিক্ত চাপ থাকায় এবার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন দপ্তর নিজেরাই বোর্ড গঠন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারবে। এতে নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং শূন্যপদ পূরণ সহজ হবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরির প্রত্যাশীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। শীঘ্রই নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।About Us

চ্যাম্পিয়ন্স

লীগ রাউন্ডের খেলা শেষ হওয়ার পূর্বেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ভারত!

নিরাপত্তার খেলা

ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এক ঐতিহাসিক ম্যাচে ভারত পাকিস্তানকে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নিয়েছে। এই জয়ে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলো, কারণ আজ পর্যন্ত পাকিস্তান কখনোই ভারতকে এই টুর্নামেন্টে হারাতে পারেনি। পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজন করলেও, আজকের হার তাদেরকে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য করেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তান ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও, ভারতের বোলিং ও ব্যাটিং শক্তির সামনে টিকতে পারেনি।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য বিরাট কোহলি ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হয়েছেন। তার ব্যাটিং দক্ষতার ওপর ভর করেই ভারত পাকিস্তানকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় অর্জন করে। পুরস্কার গ্রহণের সময় বিরাট কোহলি বলেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়। দলকে জেতানোই আমার লক্ষ্য ছিল। আমার ইনিংস দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেছে, এটাই বড় পাওয়া।”

ভারতের জয়ে দেশজুড়ে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাইসহ বিভিন্ন শহরে ভক্তরা রাস্তায় নেমে বিজয় উদযাপন করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় #ChampionsIndia ট্রেন্ড করছে এবং ক্রিকেট প্রেমীরা খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানে ভক্তদের মধ্যে হতাশা স্পষ্ট। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই পাকিস্তান দলের ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন এবং নতুন নেতৃত্ব ও দল পুনর্গঠনের দাবি তুলেছেন।

ভারতের জয় এলেও, ফিল্ডিংয়ে কিছু গাফিলতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। বিশেষ করে ক্যাচ মিস ভারতের জন্য বিপজ্জনক হতে পারতো। বেশ কয়েকটি সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ায় পাকিস্তানকে বড় স্কোর গড়ার সুযোগ দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোর জন্য ভারতের জন্য বড় সতর্কবার্তা হতে পারে।

ভারত এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরবর্তী ম্যাচে নামবে ২রা মার্চ, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে শক্তিশালী দল অপেক্ষা করছে। ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে না পারলে পরবর্তী ম্যাচে সমস্যায় পড়তে পারে ভারত। তবে বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ভারত আবারও শিরোপার পথে এগিয়ে যাবে। এই জয়ের ফলে ভারতের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে, আর পাকিস্তানের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা, কারণ তারা আয়োজক হয়েও টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিলো।

ভারত আবারও প্রমাণ করলো কেন তারা ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দল। পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাদের জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখল। তবে ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে না পারলে, পরবর্তী ম্যাচে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ২ মার্চ ভারতের পরবর্তী ম্যাচের জন্য ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।About Us

সরকারী বঞ্চনা অব্যাহত বিশ্লেষণ

সরকারী কর্মচারীরা মুখ ফিরিয়ে নিতে দ্বিধাবোধ করবে না!

ভাস্কর নন্দন সরকার

85d638ec 5ce7 45ce b054 5070f7ebe27dআঠারো বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দলের প্রথমবারের মত ত্রিপুরা রাজ্যে সরকার গঠনের অন্যতম হাতিয়ার ছিলো সরকারী কর্মচারীদেরকে সপ্তম বেতন কমিশণের হারে বেতনভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার কিন্তু সপ্তম বেতন কমিশণের ন্যায় বেতনভাতা কর্মচারীদেরকে দেবার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তবে তেইশে জনতার রায় চাইবার আগে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মাত্র আট মাস সময় পেয়েই ডাঃ মানিক সাহা দুই ধাপে মোট সতের শতাংশ ডিএ দিয়েছিলেন। এরপরও তেইশের ভোটে কর্মচারীদের ভোট কিন্তু শাসকের পক্ষে চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারী কর্মচারীরা ধারাবাহিক বঞ্চণার শিকার। একমাত্র ১৯৮৮সালে প্রয়াত সুধীর রঞ্জণ মজুমদার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বকেয়া সহ হুবহু চতুর্থ বেতন কমিশণ লাগু করেছিলেন। এর পর সুদীর্ঘ বাম জমানায়, এমনকি ২০১৮তে পালাবদলের প্রথম বিজেপি সরকারও রাজ্যে পে কমিশণ গঠনের কোনো উদ্যোগই নেয়নি। এ রাজ্যের ইতিহাসে বাম রাজত্ব ও কর্মচারী বঞ্চণা সমার্থক শব্দ।

সুদীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত কর্মচারীরা সরকার বদলে হলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় ২০১৮-র ভোটে ষাটটি বিধানসভার মধ্যে সাতান্নটিতেই BJP-IPFT প্রার্থীদেরকে পোস্টাল ব্যালটে এগিয়ে রেখেছিলেন। এমনকি বহু বামপন্থী কর্মচারীরাও বিজেপিকেই ভোট দিয়েছিলেন। বাম সরকারের পতনের পর বিজেপি সরকার কিন্তু কেন্দ্রীয় হারে বেতনকাঠামো লাগু করেনি। কেবলমাত্র ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ এর যে ‘০.৩২’ বাম আমলো দেয়া হয়নি সেটাকে দিয়েই প্রচার করে দিয়েছে সপ্তম বেতন কমিশন লাগু করা হয়েছে বলে। বাস্তবটা হলো সবকা সাথ সবকা বিকাশের কথা মুখে মুখে বললেও MACP ইস্যুতে বাম আমলের নীতিকেই অবলম্বন করে রাজ্য সরকারী কর্মচারীদেরকে বিশাল আর্থিক ক্ষতি করে দিচ্ছে রাজ্যের তথাকথিত ‘ডবল ইঞ্জিনের সরকার’।

রাজ্য সরকারী কর্মচারীরা আগে চাকুরীর দশ বছর,সতের বছর এবং পঁচিশ বছর পর তিনটি গ্রেডেশন পেতেন। এটাকে বলা হতো Assured Career Progression (ACP)। এরফলে কর্মচারীরা ঐ সময়ে প্রাপ্ত পে মেট্রিক্সের উপর তিন শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পেতেন এবং উন্নত পরবর্তী লেভেলের জন্য নির্ধারিত পে মেট্রিক্সের আওতাধীন হয়ে বর্ধিত বেসিক পে’র অধিকারী হতেন। কেন্দ্রীয় সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুসারে এর নাম বদল করে রাখা হয় Modified Assured Career Progression Scheme (MACPS)। কেন্দ্র সরকার নাম বদল করলেও এজন্য আর্থিক সুবিধা দেবার ক্ষেত্রে কোনো বঞ্চনা করেনি।

কিন্তু ত্রিপুরায় ২০১৭সালের বাম সরকারের লাগু করা বেতন কাঠামোতে এই ACPর নাম বদল করে Modified Assured Career Progression (MACP) করে অতি সুকৌশলে এবং অমানবিকভাবে শুধুমাত্র তিন শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দিয়ে অন্য সব সুবিধা ছিনিয়ে নেয়া হয়। ২০১৭সালের ১৫জুন তারিখে তৎকালীন অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব এন.ডার্লং সাক্ষরিত নোটিফিকেশন No.F.7(2)-FIN(PC)/2017 এর প্যারা ২.৪ এ বলা হয়েছিলো, “The financial upgradation due to entitlement of Modified Assured Career Progression Scheme(MACPS) shall involve grant of one increment at existing rate in the existing Level of the pay matrix in which the pay of the employee is fixed without any further placement in the subsequent Levels.” উল্লেখ করা প্রয়োজন, “… the pay of the employee is fixed without any further placement in the subsequent Levels—” এই শব্দগুলিতেই পে লেভেল পরিবর্তন না করে কর্মচারীদের সর্বশান্ত করার যাবতীয় ষড়যন্ত্রটা করেছিলো বাম সরকার।

কেন্দ্রীয় সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুসারে ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অব পার্সোনেল, পাব্লিক গ্রিভেন্সেস এণ্ড পেনশনস, ডিপার্টমেন্ট অব পার্সোনেল এণ্ড ট্রেনিং ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর F.No.35034/3/2015-Estt.(D) অনুসারে জারী করা মেমোরাণ্ডামে স্পষ্টভাবেই বলা আছে, “The Government has considered the recommendations of the Seventh Central Pay Commission for continuation of MACPS and has accepted the same. The MACPS will continue to be administered as before. Under the Scheme, the employee will move to immediate next Pay Level in the new Pay Matrix.” অর্থাৎ এখানে কেন্দ্র সরকার বলেই দিয়েছে যে কর্মচারীরা MACP-র সময় পুরোনে নিয়মে ৩% ইনক্রিমেন্টতো পাবেনই, এর সঙ্গে এরা পরবর্তী লেভেলের পে মেট্রিক্সের অধিকারী হবেন।

বাম আমলে সৃষ্টি করা বঞ্চনাকে স্থায়ীরূপ দিয়েছিলো সপ্তম বেতন কমিশন লাগু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। ২০১৮ সালের ১১অক্টোবর No.F.7(2)-FIN(PC)/2018 অনুসারে রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব পি আর ভট্টাচার্যের জারীকৃত নোটিফিকেশনের প্যারা ২.৫ এ বলা হয়েছে, “Existing practice for entitlement of Modified Assured Career Progression Scheme(MACP) shall continue.” এই সর্বনাশা MACP নীতি বাম আমল থেকে বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকার অবদি অব্যাহত। এই ‘ডবল নীতির’ কারনেই আর্থিকভাবে ভয়ংকর সর্বনাশ হচ্ছে চতুর্থ শ্রেণী, প্রাথমিক শিক্ষক/করণিক, স্নাতক শিক্ষক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষক স্তরের বেতনক্রমে কর্মরতদের। ঐ চারটি শ্রেণীতেই এ রাজ্যের সরকারী কর্মচারীদের প্রায় পঁচাশি শতাংশ কর্মরত আছেন। এবারে দেখা যাক প্রতিটি স্তরের বঞ্চনার পরিমাণ :

(১) চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী:-

প্রথম MACPতে কেন্দ্র সরকারের একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বেসিক পে দাঁড়ায় ২৪৫০০ টাকা টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বেসিক পে হয় কেবলমাত্র ২১৫০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতে কম পাচ্ছেন ৩০০০ টাকা।

দ্বিতীয় MACPতে কেন্দ্রীয় সরকারী চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীর বেসিক পে দাঁড়ায় ৩১১০০ টাকা। আর রাজ্য সরকারী চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বেসিক পে হয় কেবলমাত্র ২৭২০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতে কম পাচ্ছেন ৩৯০০ টাকা।

তৃতীয় MACPতে কেন্দ্র সরকারী চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বেসিক পে দাঁড়ায় ৪১১০০ টাকা টাকা। আর রাজ্য সরকারের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বেসিক পে হয় কেবলমাত্র ৩৩৪০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি বেসিক পেতে কম পাচ্ছেন ৭৬০০ টাকা।

শুধুমাত্র যে কর্মরত অবস্থাতেই রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন তাই নয়,চাকুরী শেষে অবসরে যাওয়ার সময়ও তারা গ্র্যাচুইটি, লীভ সেলারি এবং কমুটেশনে বিশাল আর্থিক ক্ষতি বয়ে নিয়ে যান। এজন্য দায়ী হলো MACP নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পৃথক নীতি।চতুর্থ শ্রেণীর সরকারী কর্মচারী

গ্র্যাচুইটিতে বঞ্চনা

হিসেব করার ফর্মূলা হলো:- Last Basic ×Length of Service÷2 (২৫ বছর চাকুরী মেয়াদ ধরে) কেন্দ্র সরকারের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী গ্র্যাচুইটি হিসেবে পাবেন :- ৫ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পাবেন: ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ গ্র্যাচুইটিতে তার ৯৫ হাজার টাকা ক্ষতি হবে।

লীভ সেলারিতে বঞ্চনা

হিসেবের ফর্মূলা হলো: Last Basic+DA×10 (সর্বোচ্চ ৩০০ দিনের আর্নড লীভ জমার টাকা পাওয়া যায়) এই নিয়মে কেন্দ্র সরকারের অধীন কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী লীভ সেলারি হিসেবে পাবেন: ৪১০০০+৫৩% ডিএ×১০= ৬ লাখ ২৭ হাজার ৩০০ টাকা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী লীভ সেলারি হিসেবে পাবেন: ৩৩৪০০+৩০% ডিএ×১০= ৪ লাখ ৩৪ হাজার ২০০ টাকা। তাহলে লীভ সেলারিতে তার ক্ষতি হচ্ছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ১০০ টাকা।

কমুটেশনে বঞ্চনা

হিসেবে ফর্মূলা হলো:- 40% of the Pension Basic×12×8.194 ( চাকুরী জীবনের সর্বশেষ বেসিকের ৫০% হয় পেনশন বেসিক। কেন্দ্র সরকারী কর্মচারীর পেনশন বেসিক হবে ২০৫০০ টাকা আর রাজ্য সরকারের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পেনশন বেসিক হবে ১৬৭০০ টাকা )। এই হিসেবে কেন্দ্র সরকারের অধীন কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কমুটেশন করে পাবেন: ৮২০০ (পেনশন বেসিকের ৪০%)×১২×৮.১৯৪= ৮ লাখ ৬ হাজার ২৯০ টাকা।

আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কমুটেশন করে পাবেন: ৬৬৮০ (পেনশন বেসিকের ৪০%)×১২×৮.১৯৪= ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩১ টাকা। অর্থাৎ তিনি কম পাবেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৯ টাকা। গ্র্যাচুইটি, লীভ সেলারি এবং কমুটেশন মিলিয়ে রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর মোট ক্ষতি হচ্ছে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৯ টাকা।

(২) UGT/LDC:-

প্রথম MACPতে কেন্দ্র সরকারের একজন প্রাথমিক শিক্ষক/এলডিসির বেসিক পে হয় ৪৭৬০০ টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন প্রাথমিক শিক্ষক/LDC-র বেসিক পে হয় কেবলমাত্র ২৮৭০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতেই কম পাচ্ছেন ১৮৯০০ টাকা।

দ্বিতীয় MACPতে কেন্দ্র সরকারের প্রাথমিক শিক্ষকের বেসিক পে হয় ৬০৪০০ টাকা। আর রাজ্য সরকারের প্রাথমিক শিক্ষকের বেসিক পে হয় মাত্র ৩৬৪০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতেই কম পাচ্ছেন ২৪০০০ টাকা।

তৃতীয় MACPতে কেন্দ্র সরকারের প্রাথমিক শিক্ষকের বেসিক পে হয় ৮০২০০ টাকা টাকা। আর রাজ্য সরকারের প্রাথমিক শিক্ষকের বেসিক পে হয় মাত্র ৪৪৮০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতেই কম পাচ্ছেন ৩৫৪০০ টাকা।

গ্র্যাচুইটিতে বঞ্চনা

কেন্দ্র সরকারের প্রাথমিক শিক্ষক গ্র্যাচুইটি হিসেবে পাবেন ১০ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের প্রাথমিক শিক্ষক/করণিক কর্মচারী পাবেন ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ গ্র্যাচুইটিতে তার ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা ক্ষতি হবে।

লীভ সেলারিতে বঞ্চনা

কেন্দ্র সরকারের কর্মচারীরা লীভ সেলারি হিসেবে পাবেন ৮০২০০+৫৩% ডিএ×১০= ১২ লাখ ২৭ হাজার ৬০ টাকা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা লীভ সেলারি হিসেবে পাবেন ৪৪৮০০+৩০% ডিএ×১০= ৫ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ টাকা। তাহলে লীভ সেলারিতে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের ক্ষতি হচ্ছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬০ টাকা।

কমুটেশনে বঞ্চনা

কেন্দ্র সরকারী কর্মচারীর পেনশন বেসিক হবে ৪০১০০ টাকা আর রাজ্য সরকারের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পেনশন বেসিক হবে ২২৪০০ টাকা। এই হিসেবে কেন্দ্র সরকারের অধীন কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কমুটেশন করে পাবেন ১৬০৪০(পেনশন বেসিকের ৪০%)×১২×৮.১৯৪= ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ১৮১ টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কমুটেশন করে পাবেন ৮৯৬০×১২×৮.১৯৪= ৮ লাখ ৮১‌ হাজার ১৮ টাকা। অর্থাৎ তিনি কম পাবেন ৬ লাখ ৯৬ হাজার ১৬৩ টাকা। গ্র্যাচুইটি, লীভ সেলারি এবং কমুটেশন মিলিয়ে রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষক এবং করণিকদের সর্বমোট ক্ষতি হচ্ছে ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৩২২ টাকা।

পে কমিশন গঠন না করে পে রিভিউ কমিটি গঠন করাই হয় কেবলমাত্র নিম্ন আয়ের বেতনের কর্মচারীদের ঠকানোর জন্য। পঁয়ত্রিশ বছরের বাম আমলে একবারও পে কমিশন গঠন না করে রিভিউ কমিটির নামে কর্মচারীদের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়া হয়েছিলো বারংবার। কেবলমাত্র শাসক দলের বাছাই করা আমলাদের পরামর্শে চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদেরকে আর্থিক দিক থেকে ব্যপকভাবে বঞ্চিত করা হয়েছিলো অত্যন্ত সুকৌশলে। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারও যখন প্রতিশ্রুতি মতো পে কমিশন গঠন না করে পে রিভিউ কমিটিই গঠন করলো তাদেরও লক্ষ ছিলো নিম্ন আয়ের বেতনের কর্মচারীদেরকেই বঞ্চিত করা। অথচ ১৯৮৮ সালে কংগ্রেস-টিইউজেএস জোট সরকার গঠিত হওয়ার পর পরই পে কমিশন গঠন হয়েছিলো। সেই কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করাতেই শুধুমাত্র দশ বছরের জন্য বেতন কাঠামোয় কেন্দ্র ও রাজ্যে কোনে বঞ্চনা ছিলো না।

১৯৮৮ সালে এ রাজ্যের করণিকদের বেতনক্রম ছিলো ৪৭০ টাকা-১০২৫ টাকা। কিন্তু চতুর্থ পে কমিশন লাগু হতেই তাদের বেতনক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছিলো ৯৭০ টাকা-২৪০০ টাকা। একমাত্র পে কমিশন গঠন করার ফলেই কেন্দ্র ও রাজ্যের একই বেতনক্রম হয়ে গিয়েছিলো। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো পে কমিশন গঠনই হয়নি রাজ্যে।

বাম সরকার এবং বর্তমান বিজেপি সরকার একই কায়দায় পে রিভিউর নামে নিজেদের বাছাই করা কিছু আমলাদের দিয়ে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ঠকিয়ে চলছে অনবরত। কর্মচারীদের আশা ছিল নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৮ এ ক্ষমতার পরিবর্তন হলে রাজ্যে পে কমিশন গঠন করা হবে। কিন্তু ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দেখা গেল পে কমিশনের নামে রাজ্যের কর্মচারীদের ভাগ্যে জুটলো শুধুমাত্র প্রতারণা

যেই আমলাদের কথায় কর্মচারীদের ঠকানো হচ্ছে,তারা নিজেরা কিন্তু কেন্দ্রীয় হারে বেতনক্রম ভোগ করছেন ঠিকই। MACP নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতিতে কোনো ফারাক থাকতোই না যদি পে রিভিউ কমিটি গঠন না করে পে কমিশন গঠন করতো প্রথম বিজেপি সরকার। পে কমিশন সম্পুর্ণ স্বতন্ত্র সত্তা নিয়ে কাজ করে এবং পে রিভিউ কমিটির এই ধরনের কোন ক্ষমতাই থাকেনা।

পূর্ববর্তী অংশে চতুর্থ শ্রেণী, UGT ও LDC স্তরে কর্মরত রাজ্য সরকারী কর্মচারীদেরকে MACP এর ফলে কি পরিমাণ আর্থিক বঞ্চনা সইতে হচ্ছে সেটা তুলে ধরা হয়েছে। এখন এই পর্বে আলোচনা করব GT এবং PGT স্কেলে কর্মরত রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের প্রতি চলে আসা বঞ্চনার প্রকৃত চিত্র।

৩) GT স্কেলে কর্মরত কর্মচারী:-

প্রথম MACP-তে কেন্দ্র সরকারের একজন স্নাতক শিক্ষকের বেসিক পে হয় ৬০৪০০ টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বেসিক পে হয় কেবলমাত্র ৩৬৬০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতেই কম পাচ্ছেন ২৩৮০০ টাকা।

দ্বিতীয় MACP-তে কেন্দ্র সরকারের একজন স্নাতক শিক্ষকের বেসিক পে হয় ৭৭৯০০ টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন স্নাতক শিক্ষকের বেসিক পে হয় কেবলমাত্র ৪৬৪০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতেই কম পাচ্ছেন ৩১৫০০ টাকা।

তৃতীয় MACP-তে কেন্দ্র সরকারের একজন স্নাতক শিক্ষকের বেসিক পে হয় ১,০৪,৪০০ টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন স্নাতক শিক্ষকের বেসিক পে হয় কেবলমাত্র ৫৭১০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতেই কম পাচ্ছেন ৪৭৩০০ টাকা।GT & PGT সরকারী কর্মচারী

গ্র্যাচুইটিতে বঞ্চনা

কেন্দ্র সরকারের একজন স্নাতক শিক্ষক পঁচিশ বছর চাকুরী করে অবসরে গেলে গ্র্যাচুইটি হিসেবে পান ১৩ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন স্নাতক পঁচিশ বছর চাকুরী করে অবসরে গেলে পাবেন মাত্র ৭ লাখ ১৩ হাজার ৭৫০ টাকা। অর্থাৎ গ্র্যাচুইটিতে তিনি ৫ লাখ ৯১ হাজার ২৫০ টাকা কম পাবেন।

লীভ সেলারিতে বঞ্চনা

কেন্দ্র সরকারের অধীন কর্মরত একজন স্নাতক শিক্ষক লীভ সেলারি হিসেবে পাবেন ১০৪৪০০+৫৩% ডিএ×১০= ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৩২০ টাকা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন স্নাতক শিক্ষক লীভ সেলারি হিসেবে পাবেন ৫৭১০০+৩০% ডিএ×১০= ৭ লাখ ৪২ হাজার ৩০০ টাকা। তাহলে লীভ সেলারিতে তার ক্ষতি হচ্ছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ২০ টাকা।

কমুটেশনে বঞ্চনা

কেন্দ্রীয় সরকারী স্নাতক শিক্ষকের পেনশন বেসিক হবে ৫২২০০ টাকা আর রাজ্য সরকারের স্নাতক শিক্ষকের পেনশন বেসিক হবে ২৮৫৫০ টাকা। এই হিসেবে কেন্দ্র সরকারের কর্মচারী কমুটেশন করে পাবেন ২০৮৮০ (পেনশন বেসিকের ৪০%)×১২×৮.১৯৪= ২০ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯ টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত স্নাতক শিক্ষক কমুটেশন করে পাবেন ১১৪২০×১২×৮.১৯৪= ১১ লাখ ২২ হাজার ৯০৬ টাকা। অর্থাৎ তিনি কম পাবেন ৯ লাখ ৩০ হাজার ১৮৩ টাকা।

গ্র্যাচুইটি, লীভ সেলারি এবং কমুটেশন মিলিয়ে রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন স্নাতক শিক্ষকের সর্বমোট ক্ষতি হচ্ছে ২৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৫৩ টাকা।

(৪) PGT স্কেলে কর্মরত কর্মচারী:-

প্রথম MACP-তে কেন্দ্র সরকারের একজন স্নাতকত্তোর শিক্ষকের বেসিক পে হয় ৬৫২০০ টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন স্নাতকত্তোর শিক্ষকের বেসিক পে হয় কেবলমাত্র ৪৬০০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতেই কম পাচ্ছেন ১৯২০০ টাকা।

দ্বিতীয় MACP-তে কেন্দ্র সরকারের একজন স্নাতকত্তোর শিক্ষকের বেসিক পে দাঁড়ায় ৮৪৯০০ টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন স্নাতকত্তোর শিক্ষকের বেসিক পে হয় কেবলমাত্র ৫৯০০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতেই কম পাচ্ছেন ২৫৯০০ টাকা।

তৃতীয় MACP-তে কেন্দ্র সরকারের একজন স্নাতকত্তোর শিক্ষকের বেসিক পে দাঁড়ায় ১,১২,১০০ টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বেসিক পে হয় কেবলমাত্র ৭২৬০০ টাকা। অর্থাৎ তিনি প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের থেকে শুধুমাত্র বেসিক পেতেই কম পাচ্ছেন ৩৯৫০০ টাকা।

গ্র্যাচুইটিতে বঞ্চনা

কেন্দ্র সরকারের স্নাতকোত্তর শিক্ষক গ্র্যাচুইটি হিসেবে পাবেন ১৪ লাখ ১ হাজার ২৫০ টাকা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত স্নাতকত্তোর শিক্ষক পাবেন ৯ লাখ ০৭ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ গ্র্যাচুইটিতে তার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকা ক্ষতি হবে।

লীভ সেলারিতে বঞ্চনা

কেন্দ্র সরকারের অধীন কর্মরত স্নাতকোত্তর শিক্ষক লীভ সেলারি হিসেবে পাবেন ১১২১০০+৫৩% ডিএ×১০= ১৭ লাখ ১৫ হাজার ১৩০ টাকা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত স্নাতকোত্তর শিক্ষক লীভ সেলারি হিসেবে পাবেন ৭২৬০০+৩০% ডিএ×১০= ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮০০ টাকা। তাহলে লীভ সেলারিতে তার ক্ষতি হচ্ছে ৭ লাখ ৭১ হাজার ৩৩০ টাকা।

কমুটেশনে বঞ্চনা

কেন্দ্রীয় সরকারী স্নাতকোত্তর শিক্ষকের পেনশন বেসিক হবে ৫৬০৫০ টাকা আর রাজ্য সরকারের স্নাতকোত্তর শিক্ষকের পেনশন বেসিক হবে ৩৬৩০০ টাকা। এই হিসেবে কেন্দ্র সরকারের অধীন কর্মরত স্নাতকোত্তর শিক্ষক কমুটেশন করে পাবেন ২২৪২০ (পেনশন বেসিকের ৪০%)×১২×৮.১৯৪= ২২ লাখ ৪‌হাজার ৫১৪ টাকা। আর রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত স্নাতকোত্তর শিক্ষক কমুটেশন করে পাবেন ১৪৫২০×১২×৮.১৯৪= ১৪ লাখ ২৭ হাজার ৭২৩ টাকা। অর্থাৎ তিনি কম পাবেন ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৭৯১ টাকা।

গ্র্যাচুইটি, লীভ সেলারি এবং কমুটেশন মিলিয়ে রাজ্য সরকারের অধীন কর্মরত স্নাতকোত্তর শিক্ষকের মোট ক্ষতি হচ্ছে ২০ লাখ ৪১ হাজার ৮৭১ টাকা।

বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারী কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭ হাজারের মতো আর পেনশনারদের সংখ্যা ৮২ হাজারেরও বেশী। এই বিশাল সংখ্যক কর্মচারী, পেনশনারদের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী । নিম্নআয়ের এই বিশাল সংখ্যক কর্মচারী ও পেনশনারদের প্রতি উদার মনোভাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই বিজেপি সরকার ২০২৮এর নির্বাচনে EVM-এ সুফল তুলতে সক্ষম হবে। মনে রাখতে হবে যে কর্মচারী ও পেনশনারদের পরিবারে গড়ে যদি চারজন করে ও ভোটার থাকে তাহলে মোট ভোটারের সংখ্যা দাড়ায় প্রায় ৮ লাখের মতো। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারকে উপেক্ষা করাটা বিজেপি সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে বেশ কঠিন বলেই ধারনা করা হচ্ছে। ২০১৮-র নির্বাচনে কর্মচারী ও পেনশনারদের বিপুল সমর্থন পাওয়ার মাত্র ৫ বছরের মাথায় ২০২৩-র নির্বাচনেই অনেকটা ধাক্কা খেয়ে শাসক দল আশা করি উপলব্ধি করতে পেরেছে যে এবারে বঞ্চিত করলে কর্মচারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিতে দ্বিধা করবেন না।

সরকারী কর্মচারীরা বরাবরই এ রাজ্যের শাসকদলগুলির কাছে একটা বিরাট ফেক্টর। রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাম রাজত্ব বহাল রাখতে যেমন তারা অনুঘটকের কাজ করেছিলেন, তেমনি ২০১৮-র নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলেও তাদের ভূমিকাই নির্নায়ক ছিলো। তবে সম্প্রতি ষোড়শ অর্থ কমিশনের প্রতিনিধিরা রাজ্যে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী পে কমিশন গঠনের সম্ভাবনার কথা কমিশনের সামনে উপস্থাপন করেছেন। এই ঘোষণার ফলে কর্মচারী ও পেনশনারদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। রাজ্যে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় বেতনক্রম চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সুধীর রঞ্জন মজুমদার। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডাঃ) মানিক সাহাও একজন প্রাক্তন সরকারি কর্মচারী হওয়ায় অনেকে আশা করছেন, তিনি প্রয়াত সুবীরবাবুর মতোই উদারতা দেখিয়ে রাজ্যে পে কমিশন গঠন করবেন। এর মাধ্যমে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও ভাতার যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে, তা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে মনে করছেন কর্মচারী ও পেনশনাররা

এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বাজার ও অর্থনীতি নতুন গতি পাবে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কর্মচারী ও পেনশনার সমাজের কাছে এক স্থায়ী সম্মান অর্জন করবেন। তবে, পে কমিশন গঠনের আগে রাজ্য সরকারকে অবশ্যই এমএসিপি সংক্রান্ত ‘ডবল নীতি’ পরিত্যাগ করতে হবে এবং বর্তমানে যে ২৩% (যদিও কেন্দ্র সরকার এখনো জানুয়ারি মাসের ডিএ ঘোষণা করেনি) বকেয়া ডিএ রয়েছে, সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিশোধ করতে হবে।

আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে এই দুটি বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, ষোড়শ অর্থ কমিশন থেকে কমিটেড এক্সপেন্ডিচার খাতে যে অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার কথা, তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে রাজ্য সরকার। এখন দেখার বিষয়, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকার এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বাজেট ২০২৫-২৬ ঘোষণা

বাজেটে নতুন কি চমক রয়েছে দেখার জন্য অপেক্ষায় রাজ্যবাসী!

আগামী মাসেই রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা হবে রাজ্যের বাজেট, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। তিনি বলেন, রাজ্যে কর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কর ফাঁকি রোধ ও জনগণকে আরও সচেতন করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। কারণ, রাজ্যের রাজস্ব আয়ের উপরই নির্ভর করে বাজেটের কাঠামো। তাই রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

শনিবার আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে জিএসটি সচেতনতা অভিযানে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রাজ্যের বাজেটের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৭,৮০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে রাজস্ব খাতে আয় ছিল ৩,৭০০ কোটি টাকা। পূর্ববর্তী সরকার যে ১৩,০০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল, সেটাও বর্তমান সরকারকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। রাজস্ব খাতের এই সীমিত আয়ের মধ্যে বেতন, ঋণ পরিশোধ ও পেনশন বাবদ খরচের পর হাতে থাকে মাত্র ১০,০০০ কোটি টাকা।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের নিজস্ব আয় মাত্র ৩,৭০০ কোটি টাকা, যার ২৫% এডিসি-কে এবং ১০% শহর ও স্থানীয় সংস্থাগুলিকে দিতে হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান থেকে গত বছর ৩৯% এডিসি-কে প্রদান করা হয়েছে। রাজ্যের রাজস্ব খাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজেটের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যে রাজ্যগুলির উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশজুড়ে চালু হয় জিএসটি, যা ভারতের কর ব্যবস্থায় বিপ্লব এনেছে। এতে স্বচ্ছতা এসেছে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জিএসটি কার্যকর করার ফলে অতীতের মতো বিভিন্ন স্থানে আলাদা আলাদা কর দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১০.৭০ কোটি টাকা, আর আইজিএসটি ক্ষেত্রে তা ১,০০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সেস থেকে ২৭.৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭৪.৫২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি ডিউটি চালুর ফলে রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়ার্কস কন্ট্রাক্ট, ইট ভাট্টা, রাবার এবং রিয়েল এস্টেট খাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কর ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে জিএসটি এনালাইসিস এন্ড ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক (GAIIN) এবং এআইও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে কর ফাঁকির প্রবণতা বন্ধ করা যায়। পাশাপাশি ট্যাক্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য অনিয়ম রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

রাজ্যে কর ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদ তৈরি করা হয়েছে, যেমন— এসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ ট্যাক্সেস, স্ট্যাটিসটিকাল অফিসার ও প্রোগ্রামার। এতে রাজস্ব খাতে নজরদারি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জিএসটি চালুর ফলে কর ব্যবস্থা আরও সহজ হয়েছে এবং কোভিড-পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক কার্যকর উদ্যোগের ফলে রাজস্ব আদায়ে উন্নতি হয়েছে। ত্রিপুরা রোড ডেভেলপমেন্ট সেস ৫৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যে ই-আবগারি পোর্টাল চালুর ফলে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এসেছে এবং রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং সহজ হয়েছে।

বর্তমান সরকার কর ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি এটি সহজতর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি ব্যবসাকে জিএসটির আওতায় আনা হবে এবং ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি করে কর ফাঁকি রোধ করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়, রাজ্য সরকারের মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, অর্থ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, আয়কর দপ্তরের চিফ কমিশনার বিবেক এইচ বি সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকরা।About Us

সাইবার ক্রাইম ইউনিটে

সাইবার ক্রাইম ইউনিট কি ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে?

প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে প্রতারকদের কৌশল। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। ডিজিটাল লেনদেন এখন প্রতারণার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অথচ রাজ্যের সাইবার ক্রাইম ইউনিট কার্যত অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছে।২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজ্য পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইউনিটের অধীনে সাইবার ক্রাইম ইউনিট চালু হলেও এখনও পর্যন্ত তারা রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে কোনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি। সচেতনতার উদ্যোগও নেই বললেই চলে। মাঝে মধ্যে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে দায় সেরেছে প্রশাসন, কিন্তু বাস্তবে তা যে একেবারেই যথেষ্ট নয়, তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে।

প্রতারণার জালে কোটি কোটি টাকা উধাও!

সরকারি রিপোর্ট বলছে, দেশে আগে প্রতি মাসে গড়ে দু’লক্ষ মানুষ ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণার শিকার হতেন। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে আড়াই লক্ষ। আগে মাসে প্রতারণার অঙ্ক সীমাবদ্ধ থাকত ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে, বর্তমানে তা কোনও কোনও মাসে ৫০০ কোটিরও বেশি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। নগদ লেনদেন ক্রমেই কমছে, ডিজিটাল লেনদেনের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা।

প্রতারকদের নতুন কৌশল!

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রতারণার ঘটনা ঘটছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। অনলাইনে বিভিন্ন শপিং পেজ খুলে প্রতারকরা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করছে। তারা আসল পেজের মতোই দেখতে ভুয়ো পেজ তৈরি করছে। সেখান থেকে কিছু অর্ডার করতে গেলে গ্রাহকের ফোনে একটি কোড বা ওটিপি পাঠানো হয়। অনেকেই না বুঝে সেই কোড প্রতারকদের জানিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ খালি হয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের সতর্কতার বার্তা!

  • সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারণা থেকে বাঁচতে নিম্নলিখিত সতর্কতা মেনে চলা জরুরি:
  • ওটিপি শেয়ার করবেন না: কোনও অবস্থাতেই অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ওটিপি শেয়ার করবেন না।
  • অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করবেন না: সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্দেহজনক লিঙ্ক বা অফারে ক্লিক করার আগে যাচাই করুন।
  • ভুয়ো ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলুন: কেনাকাটার সময় ওয়েবসাইটের ইউআরএল ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন।
  • আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক হন
  • কোনও লেনদেন করার আগে যাচাই করুন এবং ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করুন।

সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ব্যর্থতা?

রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিয়ত সাইবার প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ছে। কিন্তু এই ছয় বছরে কতগুলো অভিযোগ জমা পড়েছে, কতজন প্রতারিত হয়েছেন, কত কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে— এসব নিয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কাছে। পুলিশের ওয়েবসাইটেও কোনও নির্দিষ্ট রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। রাজ্য পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সাফল্যের কথা জানাতে পারেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সাইবার ক্রাইম ইউনিট আদৌ কতটা কার্যকর?

কঠুর পদক্ষেপের দাবি!

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারণা ঠেকাতে আরও কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। রিজার্ভ ব্যাংক এবং এনপিসিআই নানা সচেতনতামূলক প্রচার চালালেও বাস্তবে প্রতারণা কমছে না। তাই কেবলমাত্র বিজ্ঞাপন দিয়ে নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করাই সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

যৌবন হারাচ্ছে হাওড়া নদী!

হাওড়া নদীর নাব্যতা ও যৌবন বৃদ্ধির প্রকল্প হিমঘরে!

হোয়াংহো যদি চীনের দুঃখ হয়, তবে সমকালীন ত্রিপুরায় হাওড়া নদী তার যৌবন হারিয়ে এখন যেন আগরতলাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। অবাধে বন ধ্বংসের ফলে পাহাড়ের মাটি ও বালি বৃষ্টির জলের সঙ্গে নেমে এসে নদীতে জমা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকায় নদী তার স্বাভাবিক রূপ ও যৌবন হারিয়েছে, এবং ভয়াবহভাবে হ্রাস পেয়েছে নাব্যতা। এই পরিস্থিতির ফলে শহরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

হাওড়া নদীর দু’পাশে সৌন্দর্যায়নের কাজ চললেও নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা এখনও হিমঘরে। শহরবাসীর বক্তব্য, সৌন্দর্যায়নের কাজ চলতে থাকলেও নদীর প্রকৃত যৌবন ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে সবার আগে। নদীর পাড় বাঁধাইয়ের পাশাপাশি ফুলের বাগান তৈরি করা গেলেও, নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর ফলে বৃষ্টি হলে শহরের জল নদীতে প্রবাহিত না হয়ে উল্টো নদীর জল শহরে ঢুকে পড়ে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড বৃষ্টির জলে প্লাবিত হয়, যার ফলে সাম্প্রতিক কালে গোটা আগরতলা শহর বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ২০১৮ সালে বিজেপি-আইপিএফটি জোট রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে চম্পকনগর সাধুপাড়ায় হাওড়া নদীর উৎসস্থল পরিদর্শনে যান। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল যে, নদীর উৎস মুখে জল সংরক্ষণের জন্য জলাশয় খনন করা হবে। প্রায় ২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরবাসী যেমন বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেত, তেমনি পানীয় জলের ব্যবস্থাও আরও উন্নত হতো। এতে বর্ষার অতিরিক্ত জল আটকে রাখা সম্ভব হতো এবং শহর আগরতলাকে বন্যা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেওয়া যেত। একইসঙ্গে হাওড়া নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি ও প্রকৃত যৌবন ফিরিয়ে আনার জন্য বালি ও মাটি তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।কিন্তু সময় গড়ালেও এই প্রকল্প এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের সাত বছরের শাসনকাল অতিক্রান্ত হলেও এই প্রকল্পের কাজ ঝুলেই রয়েছে। শহরবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে, আদৌ কি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে? নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল?তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আগরতলাবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বৃষ্টির জল নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবে পরিণত হয়নি।

হাওড়া নদীর উৎসমুখে জলাশয় খননের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল শহরবাসীকে নিরাপদ ও পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা। বর্তমানে আগরতলা শহরে যে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। শহরের প্রধান জলের উৎস হাওড়া নদী হলেও নদীর দুই তীরে ছড়িয়ে থাকা কৃষি জমিগুলোতে প্রতিনিয়ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। ফলে নদীর জল দূষিত হয়ে পড়ছে, যা শুধু ক্লোরিন দিয়ে পরিশোধন করা সম্ভব নয়। এই সমস্যা সমাধানে বড়মুড়া পাহাড়ের পাদদেশে একটি জলাশয় খনন করে সেখানে প্রাকৃতিক উপায়ে জল পরিশোধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরিশ্রুত এই জল পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি।

এই অবস্থায় শহরবাসীর মনে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিপ্লব কুমার দেবের সেই প্রতিশ্রুতি শুধুই রাজনৈতিক চমক ছিল? রাজ্যের বর্তমান প্রশাসন কি হাওড়া নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি ও যৌবন ফিরিয়ে আনতে আদৌ কোনো উদ্যোগ নেবে? এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হবে, ততদিন আগরতলাবাসীকে বর্ষার সময় জলাবদ্ধতা ও পানীয় জলের সংকটের মতো চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

বেতার শাখার বেতাল দশা!

ত্রিপুরা পুলিশের বেতার শাখা বার্ধক্য জনিত রোগে ভুগছে!

পুলিশের বেতার শাখা বর্তমানে তীব্র কর্মী সংকটে ভুগছে। এই শাখার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবতো রয়েছেই, তার উপর যারা কর্মরত আছেন, তাদেরকেও বিভিন্ন থানায় ডিউটি করতে পাঠানো হচ্ছে। এমনকি মাঝে মাঝে তাদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজেও নিয়োজিত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বছরখানেক আগে বেতার শাখাটি পোষ্টঅফিস চৌমুহনি থেকে স্থানান্তরিত হয়ে পশ্চিম জেলার এসপি ডিআইবি অফিসে চলে আসে। কিন্তু স্থানান্তরের পর থেকেই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এই বিভাগের কর্মীদের। যে রুমটিতে থেকে বর্তমানে বেতার শাখাটি পরিচালিত হচ্ছে, সেটি অত্যন্ত ছোট এবং সেখানে কাজ করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। একই ঘরে সিভিল পুলিশ ও লিগাল সেলের কর্মীরাও কাজ করেন, ফলে স্থান সংকুলানের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।

অনেকে মনে করছেন, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ হয়তো পরিকল্পিতভাবেই বেতার শাখার গুরুত্ব কমানোর চেষ্টা করছে। জানা গেছে, ডিআইবি অফিসের বর্তমান স্থানে বেতার যোগাযোগ পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশই নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর আগে বড়দোয়ালি স্কুলের পেছনে ছিল বেতার শাখার কার্যালয়, যেখানে কিছুটা হলেও কাজের পরিবেশ ছিল। বর্তমানে যেখানে শাখাটি অবস্থিত, সেখানে কর্মীদের কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এক সময় পুলিশের বেতার শাখার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এক থানা থেকে অন্য থানায় খবর পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল এই বেতার যোগাযোগ। এখনো প্রত্যন্ত এলাকার থানাগুলো যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই সেই থানাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদানের জন্য আজও বেতার শাখার উপরই নির্ভর করতেই হয়। ফলে প্রযুক্তির উন্নয়ন হলেও বেতার শাখার গুরুত্ব একেবারে কমে যায়নি। তবে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দাবি, আগের অবস্থানে বেতার শাখাটি রাখা সম্ভব হয়নি কারণ সেখানে সিগন্যাল পাওয়া যেত না। কিন্তু শহরেই যদি সিগন্যালের সমস্যা হয়, তাহলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিভাবে সংকেত পৌঁছানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। অনেকের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি অজুহাত মাত্র

দীর্ঘদিন ধরেই এই বেতার শাখা অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। এই শাখার কর্মীরা প্রমোশনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন এবং নতুন নিয়োগও দীর্ঘদিন ধরে হয়নি। রাজধানীতে মাত্র ছয়জন কর্মী দিয়ে চলছে এই গুরুত্বপূর্ণ শাখাটি। অথচ, একসময় মহকুমাগুলোতে বেতার শাখার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। থানাগুলোতে বার্তা প্রেরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করত বেতার শাখা। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পুরনো ব্যবস্থার পরিবর্তন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তার মানে এই নয় যে কার্যকরী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগকে ধীরে ধীরে নিস্ক্রিয় করে ফেলা হবে। এখনো প্রত্যন্ত থানাগুলোতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠানোর জন্য বেতার শাখার উপর নির্ভর করতে হয়। তাহলে কেন এই অবহেলা? কেন এই বিভাগটিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন এখন পুলিশের ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।