জাতিসংঘ সেই পুরানো দালালের ভূমিকায়

পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় চীনের প্রভাবে সত্য আড়ালের চেষ্টা জাতিসংঘের!

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায় পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত এবং বহু আহত হওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানালেও, তাদের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন ও পাকিস্তানের প্রভাবে জাতিসংঘ সত্য গোপন করেছে এবং সন্ত্রাসী দেশের নাম প্রকাশ না করে ঘটনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হালকা করে উপস্থাপন করেছে।

UNSC-র বিবৃতিতে কেবলমাত্র বলা হয়েছে, “কিছু সশস্ত্র ব্যক্তি” হামলা চালিয়েছে। তবে সেখানে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের নাম কিংবা হামলার পেছনে থাকা রাষ্ট্রের উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি পরিষদ পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেনি যে, পহেলগাঁও ভারতের সাংবিধানিক অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল। এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা আন্তর্জাতিক সংগঠনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘের এই আচরণ প্রমাণ করে যে, UNSC আজ চীনের প্রভাবে পরিচালিত একটি দালাল সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে UNSC-তে রয়েছে ৫টি স্থায়ী সদস্য (আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স) এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য। হামলার পর আমেরিকা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিলেও, চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় এমন চাপ তৈরি করে যে, হামলার দায়ভার স্পষ্টভাবে পাকিস্তানের ওপর আরোপ করা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অনুপ্রেরণাতেই নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়। পাকিস্তান বহুদিন ধরেই বিশ্বের সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর হিসেবে অভিযুক্ত হলেও, UNSC-র পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সেই বাস্তবতাকে আড়াল করে যাচ্ছে।

UNSC-র মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ভারত ও পাকিস্তান উভয়কেই আমরা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, “আমরা এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা করি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।” কিন্তু ডুজাররিকের বক্তব্যেও লক্ষ্য করা গেছে, তিনি হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি। কোনো দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি কিছু বলেননি। বরং দুই দেশ, ভারত এবং পাকিস্তানকে সমানভাবে সংযম দেখানোর পরামর্শ দিয়ে মূল দায়িত্বকে ঝাপসা করে তোলার চেষ্টা করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডুজাররিকের এই বক্তব্যও প্রমাণ করে যে, জাতিসংঘের পুরো প্রতিক্রিয়া একটি পরিকল্পিত পক্ষপাতের ফলাফল। হামলার আসল দায়ীদের নাম না নিয়ে, বরং দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রচেষ্টা করে UNSC চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।

জাতিসংঘের এই পক্ষপাতের ঘটনা নতুন নয়। কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ও, জাতিসংঘ চীনের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছিল। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐ সময় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “কোভিড ভাইরাস প্রথম চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়লেও, জাতিসংঘ কখনো চীনকে দোষারোপ করেনি। বরং চীনের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।” আজকের পহেলগাঁও হামলার ঘটনাতেও সেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। চীনের প্রভাবে পাকিস্তানের নাম আড়াল করে মূল সত্যকে লঘু করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে আজ প্রশ্ন উঠছে — “যদি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ চীনের প্রভাবেই চলে এবং পাকিস্তানের মতো সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে থাকে, তবে এ সংগঠনের কার্যকারিতা কোথায়?” ভারতের নাগরিকরা মনে করছেন, জাতিসংঘ যদি এভাবে চামচাগিরি চালিয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক শান্তির স্বপ্ন চিরতরে ভেঙে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান ছাড়া, এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তি না দিয়ে, নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত কর্মকাণ্ড শুধুই প্রহসন।”

বিশ্বশান্তি বজায় রাখার জন্য প্রতিষ্ঠিত সংগঠন যদি নিজেই দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় থাকবে? পহেলগাঁওর এই নৃশংস হামলার প্রকৃত দোষীদের প্রকাশ্যে এনে যথোপযুক্ত শাস্তি না দিলে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা আরও বড় হুমকির মুখে পড়বে বলে মত বিশ্লেষকদের। বিশ্ববাসীর সরাসরি প্রশ্ন — “জাতিসংঘ কি তবে এখন চীনের হাতের পুতুল এবং সন্ত্রাসী পাকিস্তানের রক্ষাকর্তা?”About Us

সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার!

পেহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসী হামলার পর ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তে নিরাপত্তা আরো কঠোর!

দেশের উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগাঁও এলাকায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী হামলার ছায়া এবার ছড়িয়ে পড়েছে দূর পূর্বের ত্রিপুরায়। পেহেলগাঁও ঘটনার পর থেকেই সাব্রুম মহকুমা, বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। বিএসএফ ও ত্রিপুরা পুলিশের যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বৈষ্ণবপুর, জলেফা, দক্ষিণ কলোনি-সহ একাধিক সীমান্তবর্তী গ্রাম ও শহরাঞ্চলে।

মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) এবং বিএসএফের যৌথ উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, চৌমুহনী ও জনবহুল অঞ্চলে সন্দেহভাজন গাড়ি এবং ব্যক্তির উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।সীমান্তবর্তী রাস্তাগুলির পাশাপাশি কাঁটাতারের ধার ধরে বিএসএফের স্পেশাল মোবাইল টিম টহল দিচ্ছে। বাজার এলাকায় দোকানপাটে তল্লাশি চালানোর কাজ অব্যাহত আছে, বিশেষ করে এমন দোকানে যেখানে বহিরাগতদের আনাগোনা বেশি। স্থানীয় বাজারে মাইকের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, “সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বা বিএসএফকে জানান। সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।”

জনসচেতনতা বাড়াতে পুলিশের তরফে ছোট ছোট মিটিংও করা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। SDPO জানান, “আমরা চাই জনগণ আমাদের সহযোগিতা করুক। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তখনই কার্যকর হয় যখন স্থানীয় জনগণ সজাগ থাকে এবং প্রশাসনকে সময়মতো তথ্য দেয়।” সাব্রুমের বাসিন্দা প্রবীণ নাগরিক সুভাষ দাস বলেন, “এই ধরনের অভিযান দেখে আমাদের মনে সাহস বাড়ছে। আগে অনেক সময় নিরাপত্তা কম থাকলেও, এখন রাতেও টহল চলছে।”

ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত সাব্রুম মহকুমা — তিন দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। সাব্রুম শহর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরেই বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রবেশপথ। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চল অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতীতে বহুবার সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ ও কখনও কখনও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে বিএসএফ আধিকারিক বলেন, “বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা রুখতে আমরা সদা প্রস্তুত।”

সূত্রের খবর, সীমান্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে মোবাইল ভেহিকেল, টাওয়ার নজরদারি, নাইট ভিশন ডিভাইস, সার্চলাইট এবং সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। কিছু এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বিশেষ অভিযানে ইতিমধ্যেই কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে আসেনি এই সীমান্তে।

ত্রিপুরা সরকারের উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, পেহেলগাঁও ঘটনার পরে গোটা রাজ্যে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে সাব্রুম, বক্সনগর, সোনামুড়া, মেলাঘর ও কৈলাশহর অঞ্চলে বাড়তি নজরদারি চলছে। ত্রিপুরা পুলিশ, বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে নজর রাখছে যাতে কোনো বহিরাগত শক্তি রাজ্যে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। SDPO স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমরা এক ইঞ্চি জমিও অবৈধ প্রবেশের জন্য ছেড়ে দেব না। আমাদের বাহিনী প্রস্তুত। সাধারণ নাগরিকের সহযোগিতায় এই চ্যালেঞ্জ আমরা সফলভাবে মোকাবিলা করব।”

সাব্রুমের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি এখন বাড়তি সতর্কতা এবং নিরাপত্তার মুড়ে ফেলা হয়েছে। রাতভর টহল, চেকপোস্টে যানবাহন তল্লাশি এবং স্থানীয়দের সচেতন করার মাধ্যমে প্রশাসন যে কোনও রকম অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসী তৎপরতা প্রতিরোধে বদ্ধপরিকর। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনযাপনের পাশাপাশি সতর্ক আছেন।About Us

'আবির গুলাল’ মুক্তি পাচ্ছে না ভারতে

পাকিস্তানি শিল্পীর অভিনীত চলচ্চিত্র ‘আবির গুলাল’ মুক্তি পাচ্ছে না ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে!

পাকিস্তানি অভিনেতা ফাওয়াদ খানের অভিনীত এবং বলিউড অভিনেত্রী বাণী কাপুরের সহ-অভিনীত হিন্দি ছবি ‘আবির গুলাল’ আর ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে না। কেন্দ্রের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, সদ্য জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওে ঘটে যাওয়া নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার পটভূমিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় ২৭ জন নিরীহ পর্যটক ও এক কাশ্মীরি নির্মমভাবে প্রাণ হারান, যা গোটা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। আগামী ৯ মে ‘আবির গুলাল’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আরতি এস বাগদি এবং প্রযোজনা করেছেন বিবেক বি আগরওয়াল। কিন্তু মুক্তির আগেই চলচ্চিত্রটি প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়ে, বিশেষ করে রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নব নির্মাণ সেনা (এমএনএস) দলের পক্ষ থেকে। এমএনএস দাবি তোলে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময় কোনো পাকিস্তানি শিল্পীর কাজ ভারতে চলতে দেওয়া যাবে না।

পহেলগাঁও হামলার পর চলচ্চিত্রটির বিরোধিতা আরও জোরদার হয়। এমএনএস নেতা আমেয় খোপকর বলেন, “আমরা বহুদিন ধরেই পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারতের মাটিতে কাজ করতে বাধা দিয়ে আসছি। এবারও করবো। সাহস থাকলে ছবিটি মুক্তি দিয়ে দেখান, আমরা তা আটকাবই।” একইসঙ্গে, ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE), বলিউডের বৃহত্তম কর্মী সংগঠন, ফের পাকিস্তানি শিল্পী ও প্রযুক্তিবিদদের সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণা করে।

FWICE-এর বিবৃতিতে বলা হয়, “পহেলগাঁওের সন্ত্রাসী ঘটনার পর আমরা আবারও সমগ্র ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, কোনো পাকিস্তানি শিল্পী, গায়ক বা প্রযুক্তিবিদকে কাজে লাগানো চলবে না। এটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কোনো ধরনের পারফর্ম্যান্স বা সহযোগিতা হলেও প্রযোজ্য হবে।” তারা আরও জানায়, কোনো প্রযোজক বা পরিচালক যদি এই নির্দেশ অমান্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংগঠনটি স্পষ্ট করে দিয়েছে, ‘আবির গুলাল’ এর ভারতে মুক্তি প্রতিহত করতে তারা সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সূত্রে জানা গেছে, দেশের বহু সিনেমা হল মালিক এবং বিনোদন সংস্থাই ‘আবির গুলাল’ প্রদর্শন করতে প্রস্তুত ছিলেন না। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে সিনেমাটি বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও #BoycottAbirGulaal ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ে, জনমত গড়ে ওঠে সিনেমাটি না দেখানোর পক্ষে। সবদিক বিচার করে মন্ত্রক ছবির মুক্তির অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, অভিনেতা ফাওয়াদ খান সোশ্যাল মিডিয়ায় পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা করে শোকপ্রকাশ করেছেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লেখেন, “পহেলগাঁওে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনার খবর শুনে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল। এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের জন্য প্রার্থনা করি।”

উল্লেখ্য, পাকিস্তানি শিল্পীদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান নতুন নয়। ২০১৬ সালের উরি হামলার পর ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে পাকিস্তানি অভিনেতাদের কার্যত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ফাওয়াদ খান সেই সময় করণ জোহরের ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিতে অভিনয় করে সমালোচনার মুখে পড়েন। পরবর্তীতে করণ জোহর প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে জানান, তিনি আর পাকিস্তানি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করবেন না। ২০১৭ সালে শাহরুখ খান অভিনীত ‘রইস’ সিনেমাও বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, কারণ সেখানে পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়।

বর্তমানে দেশজুড়ে জাতীয় আবেগ প্রবল। পহেলগাঁও হামলার নির্মমতা দেশবাসীকে ক্ষুব্ধ করেছে। এরই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিনোদন শিল্পের বৃহত্তর অংশ একত্রে ‘আবির গুলাল’ ছবির মুক্তি রোধ করেছে। এ সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের আবেগ ও নিরাপত্তার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।About Us

সন্ত্রাসীদের পেছনে শুধু একটিই ধর্ম

বিশ্ব সন্ত্রাসের ইতিহাসে শুধু নির্দিষ্ট একটি ধর্মের নামই ঘুরে ঘুরে আসে কেন?

জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটনস্থল পহেলগাঁওে ফের রক্তাক্ত হল ভারতের মাটি। পাকিস্তানে অস্ত্র প্রশিক্ষিত দুই স্থানীয় সহ ছয় সশস্ত্র জঙ্গির গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৮ জন নিরীহ হিন্দু পর্যটকের। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে জানা যায়, জঙ্গিরা পর্যটকদের ধর্ম জানতে চায় এবং যাঁরা হিন্দু হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন, তাঁদের ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। মুসলিম পর্যটকদের কোন ধরনের হয়রানি বা ক্ষতি করেনি জঙ্গিরা।

এই বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার পর তথ্য উঠে আসছে, হামলার মূল পরিকল্পনাকারীরা পাকিস্তানেরই মদতপুষ্ট। ভারতীয় গোপন সংস্থা জানিয়েছে, দুই জঙ্গি কাশ্মীরের হলেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় তারা পাকিস্তানের অস্ত্র প্রশিক্ষণ পেয়েছে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশে করেছে। পাকিস্তান সরকারের তরফে হামলার দায় অস্বীকার করা হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিশ্চিত যে পাকিস্তানই এই হামলার মদদদাতা।

এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই কোন ‘শান্তির ধর্ম’? বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বড় বড় প্রায় সব জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে মুসলিম চরমপন্থীদের যোগসূত্র আছে। ৯/১১-র আমেরিকার হামলা হোক, ২৬/১১-র মুম্বাই হামলা কিংবা বুরকিনা ফাসোর বিস্ফোরণ—প্রতিটি ঘটনার মূল চরিত্র ইসলামি চরমপন্থী সংগঠন। একাধিক বিশ্লেষক বলছেন, “এই ঘটনাগুলির পেছনে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু সন্ত্রাসী নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট চিন্তাধারার ধারাবাহিক ইতিহাস রয়েছে—যেখানে ধর্মের নামে অপর ধর্মাবলম্বীদের হত্যা বৈধ বলে মনে করা হয়।” মুঘল আমলের ইতিহাসেও তার ছাপ স্পষ্ট। অযোধ্যা থেকে কাশ্মীর, কোচবিহার থেকে কাবুল—হিন্দু মন্দির ভাঙা ও হত্যা ছিল ইসলামি সাম্রাজ্যবাদের অন্যতম কৌশল।

প্রশ্ন উঠছে—”যদি ইসলাম শান্তির ধর্মই হয়, তবে কেন সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে বারবার মুসলিম পরিচয় উঠে আসে?” মক্কা থেকে মোগল, আল কায়েদা থেকে হিজবুল, তালিবান থেকে জইশ—সব ক্ষেত্রেই ইসলামি ভাবধারার জঙ্গিরা হিংসার পথ বেছে নিয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া—সব দেশে একই চিত্র। এক প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “শান্তির নামে মানুষ মারার যে ধর্মীয় যুক্তি দেওয়া হয়, তা সন্ত্রাসবাদের সূক্ষ্ম মৌলিক রূপ।” ইতিহাস বলে, অমুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও হত্যার অধিকার মুসলিম সাম্রাজ্যবাদ বারবার প্রচার করেছে। এটাই আজকের জঙ্গিবাদের মূল প্রেরণা।

এই হামলার পরে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, আমেরিকা ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিলেও বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। কোনও শোকবার্তা, নিন্দা বা সমবেদনা পর্যন্ত প্রকাশ করেনি ঢাকার তরফে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতা নিছক কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী। কিছু সূত্র বলছে, বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ইসলামি সন্ত্রাসবাদীদেরি প্রতিনিধি তাই এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতি নরম মনোভাবাপন্ন। চীন সফরকালে বাংলাদেশের বেআইনি ও জোরপূর্বক ক্ষমতায় আসীন বর্তমান সরকারের প্রতিনিধি সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে “সিলিগুড়ি করিডোর দখল করে উত্তর-পূর্ব ভারত বিচ্ছিন্ন করার সম্ভাবনা” নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং চীনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এই অংশের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে। এই অভিযোগ সত্য হলে তা বাংলাদেশের সরাসরি ভারত-বিরোধী ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে।

দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, ত্রিপুরা থেকে গুজরাত—সব প্রান্তেই মানুষ একবাক্যে বলছে: এবার সময় এসেছে পাকিস্তানকে জবাব দেওয়ার। ত্রিপুরা সহ গোটা দেশের হিন্দু সংগঠনগুলি প্রতিবাদে ফেটে পড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, মোমবাতি মিছিলের ঢল নেমেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সেনা কর্তারা একমত যে এবার পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দিতে হবেই। কাশ্মীর সহ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ভারতের জনগণ ক্ষোভে ফুঁসছে এবং দাবি উঠছে পাকিস্তান ও তার সেনাবাহিনীকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার। ভারতীয় সেনা ও সরকারের প্রতি সারা দেশের আবেদন, এই হামলার বদলা নিতেই হবে।

সরকারের এক উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানানো হয়েছে, “ভারত অবশ্যই জবাব দেবে। তবে; কবে, কোথায় এবং কীভাবে, তা পাকিস্তান ভাবতেও পারবে না। কিন্তু পাকিস্তান এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য চরম মূল্য চোকাবে।” বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK) পুনর্দখলের দাবিও এখন জোরালো হচ্ছে। ভারতের জনগণের ধৈর্য সীমা ছাড়িয়েছে। সময় এসেছে সন্ত্রাসবাদের রক্তক্ষয়ী রাজনীতির বিরুদ্ধে ভারতকে আবার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

পাকিস্তানের এই বর্বর হামলা শুধু ২৮ জন নিরীহ পর্যটকের জীবন কেড়ে নেয়নি, গোটা দেশকে ক্ষোভে, শোকে এবং জেদে উজ্জীবিত করেছে। এই ঘটনা আবার প্রমাণ করল—”সন্ত্রাসবাদের শিকড় যেখানেই থাকুক, মুখে ধর্মের কথা বলে যারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করে, তারা শান্তির দূত হতে পারে না, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসের প্রতীক।” কূটনৈতিক দের মতে ভারত এবার শুধু অপেক্ষা করছে সঠিক সময়ের। আর পাকিস্তান? তারা ভাবতেও পারবে না কখন, কোথা থেকে, কীভাবে আসবে ভারতের জবাব—কিন্তু জবাব আসবে এই ব্যাপারে তারাও নিশ্চিত।About Us

গরু পাচারে ফুলে ফেঁপে উঠছে পাচার চক্র

রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফুলেফেঁপে উঠছে গরু পাচার; বেপাত্তা গো-রক্ষক বাহিনী!

ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী এলাকায় গরু পাচার বানিজ্য এখন কোটি টাকার অবাধ কারবারের রূপ নিয়েছে। একসময় যাঁরা “গোমাতা রক্ষার” নামে রাজপথ কাঁপিয়েছিলেন, আজ তাঁরা যেন উধাও। প্রশাসনের নিরব ভূমিকা, রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগ এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

গরু পাচার ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মন্ডলের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে ২৫ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। সেই ঘটনা তোলপাড় তুলেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। অথচ বিজেপি শাসিত ত্রিপুরাতেও অনুরূপ চিত্র উঠে এলেও এখানকার প্রশাসন কার্যত নিশ্চুপ। প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গে যদি এই ধরনের পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও রাজনীতি সরব হয়, তবে ত্রিপুরায় তা হবে না কেন?

প্রতিদিন কমলাসাগর ও বিশালগড় বিধানসভা কেন্দ্র হয়ে শত শত গরু বোঝাই গাড়ি ভারতের অভ্যন্তর থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে। পুটিয়া, কামথানা ও রহিমপুর সীমান্তপথ হয়ে এই পাচার নিয়মিত চলছে বলে অভিযোগ। অথচ পুলিশ বা বিএসএফের তৎপরতা প্রায় শূন্য। এক সময়ের ‘গো রক্ষক বাহিনী’-র সদস্যদের এখন আর ময়দানে দেখা যায় না।

গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বক্সনগর বিধানসভা কেন্দ্রের এক রাষ্ট্রবাদী নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুলাল নামক এক চিহ্নিত পাচারকারী বর্তমানে এই পাচার বানিজ্যের মূল চালক। পুটিয়া, রহিমপুর এবং কামথানা সীমান্ত এলাকা তার নিয়ন্ত্রণে। প্রতি গাড়ি গরুর জন্য মোটা অঙ্কের ‘প্রণামী’ দিতে হয় দুলালকে, যার একাংশ নাকি বক্সনগরের “দাদা”-র পকেটেও যায়। অভিযোগ রয়েছে, দুলাল কার্যত সেই নেতার হয়ে কাজ করেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকা মাফিয়াদের তিনটি স্তরে প্রণামী দিতে হয়।

  • বিশালগড় এলাকার নেতাদের দিতে হয় মাসিক ৭ লক্ষ টাকা।
  • কমলাসাগর এলাকার মন্ডল নেতারাও মাসে ৫ লক্ষ টাকা করে নেন এই ব্যবসা থেকে।
  • খবরের প্রকাশ বাকি প্রণামী ভাগ করে নেন বক্সনগর নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহল।

স্থানীয়দের মধ্যে এই চক্র সম্পর্কে জানা‌ থাকলেও কেউ মুখ খুলছেন না, কারণ ভয় এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা প্রবল। গরু পাচার নিয়ে শাসকদলের অন্দরে স্পষ্টভাবে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। একাংশ নেতা-কর্মী প্রশ্ন তুলছেন—২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার আগে গরু রক্ষার নামে পথে নামা দল এখন কেন নিশ্চুপ? তখন বাইক মিছিল, গরু বোঝাই গাড়ি আটক, এমনকি সংঘর্ষে গাড়ি চালক আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। অথচ এখন প্রশাসন এবং দল দু’পক্ষই চোখের সামনে পাচার চললেও চুপচাপ দর্শকের ভূমিকা অবতীর্ণ।

এই নীরবতার পেছনে কোটি টাকার ‘প্রণামী ভাগ’ই কি দায়ী? স্থানীয়দের মতে, এই পাচার বানিজ্য থেকে যে মোটা টাকা আসে, তা থেকেই একাংশ নেতা রাতারাতি অর্থসম্পদে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি এবং ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন বলে অভিযোগ।

দলের অভ্যন্তরেই এই ইস্যুতে সৃষ্টি হয়েছে গোষ্ঠী কোন্দল। একাধিক নেতা এই অবৈধ বানিজ্য বন্ধের দাবি তুলছেন। অন্যদিকে যারা এই কারবারে যুক্ত, তারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দমনপীড়নের আশ্রয় নিচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। গো-রক্ষার নামে রাজনীতি করা দলকে আজ এই ইস্যুতেই ভেঙে পড়তে হতে পারে—এমন মতামত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

ত্রিপুরার গরু পাচার ইস্যু এখন শুধু একটি সীমান্ত সমস্যা নয়, বরং তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই কোটি টাকার পাচারচক্রে প্রশাসন আদৌ পদক্ষেপ নেয় কি না, নাকি “প্রণামী” আর প্রভাবের জোরেই এই বানিজ্য চলতেই থাকবে।About Us

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রতারণা

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও কর্মসংস্থানের অভাবে পাহাড় ছাড়ছে তিপরাসারা!

ডাবল ইঞ্জিন এবং ত্রিপল ইঞ্জিনের সরকারের আমলেও রাজ্যের বেকার যুবসমাজের প্রতি প্রতারণার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। ঢাকঢোল পিটিয়ে শূন্য পদে নিয়োগের ঘোষণা করা হলেও, বছর পর বছর ধরে সেই প্রক্রিয়া ঝুলে থাকছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হলেও ফলাফল প্রকাশ হতে সময় লেগে যাচ্ছে দুই থেকে তিন বছর। তার পরেও নিয়োগ স্থগিত করা হচ্ছে বা বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।

এই চিত্র বিশেষভাবে স্পষ্ট এডিসি (ADC) পরিচালিত দপ্তরগুলিতে। গত দুই-তিন বছরে একাধিক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও অধিকাংশ পদে এখনও নিয়োগ হয়নি। ২০২৩ সালে এডিসি প্রশাসন মোট ৩৮টি জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, ২০টি পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ২১টি এগ্রিকালচার অফিসার পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আরও ১১০টি সাব-জোনাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এইসব পদে আবেদন নেওয়া হয় অফলাইনে। আবেদনপত্র জমার সময় সাধারণ শ্রেণির প্রার্থীদের থেকে নেওয়া হয় ৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি প্রার্থীদের থেকে ৩৫০ টাকা করে। এর ফলে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী তপ্ত রোদ ও গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দেন।

পরবর্তী সময়ে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও এগ্রিকালচার অফিসার পদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হলেও সাব-জোনাল অফিসার পদের পরীক্ষা ঘিরে দেখা দেয় একাধিক কেলেঙ্কারি। অভিযোগ, পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এই ঘটনায় মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে পরীক্ষা স্থগিতের দাবি তোলেন। পরবর্তীতে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয় এবং লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

পরীক্ষার ফলাফল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকাশ করা হলেও শুরু হয় নতুন বিতর্ক। ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর এডিসি প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, যাঁদের সন্দেহ আছে তাঁরা অফিসে গিয়ে মার্কশিট দেখতে পারবেন—এই সময়সীমা ছিল এক মাস। কিন্তু এরপরও সাত-আট মাস কেটে গেলেও ইন্টারভিউয়ের কোনও হদিশ নেই। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, সাব-জোনাল অফিসার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিটি পদের জন্য চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। অনেকের কাছে সরাসরি ঘুষের প্রস্তাবও এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরীক্ষা বাতিল হলেও কোথাও কোনও ফি ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। রাজ্য বিধানসভা থেকে শুরু করে ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অনেক পরীক্ষাও বাতিল হয়েছে, কিন্তু কখনও ফি ফেরত দেওয়া হয়নি। আবেদন ফি আদায় করে বছরের পর বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখার ফলে বেকারদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের তিপরাসা যুবক-যুবতীরা কর্মসংস্থানের আশায় অন্য রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। কেউ দিনমজুর, কেউ দোকানে কর্মচারী, কেউ আবার ছোটখাটো হোটেলে কাজ করছেন। শুধু বাইরের রাজ্য নয়, আগরতলা শহরের নানা দোকানেও পাহাড়ি যুবকদের কর্মচারী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। যাঁদের উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেট রয়েছে, তাঁরাও এখন দিন হাজিরা খাটতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে কর্মসংস্থানের অভাব ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুর্নীতিতে পাহাড়ি সমাজে এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে ভঙ্গুর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, অন্যদিকে দীর্ঘসূত্রিতা ও ঘুষের বাজার—সব মিলিয়ে রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের ভবিষ্যৎ ধূসর হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন উঠছে—আর কত বছর লাগবে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে? নিয়োগ পরীক্ষা শেষ, ফল প্রকাশও হয়ে গেছে। কিন্তু এরপরেও ইন্টারভিউ নয়, নিয়োগপত্র তো দূরের কথা—প্রক্রিয়া শেষ হবে কবে? যে চাকরির স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার যুবক দিন কাটাচ্ছে, তাদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।About Us

জনসংযোগে বিজেপির শীর্ষ নেতারা

কেন্দ্রের নির্দেশে রাজ্যে শুরু বিজেপির জনসংযোগ অভিযান!

বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রের কড়া নির্দেশে রাজ্যে শুরু হয়েছে দলীয় জনসংযোগ কর্মসূচি এবং “গ্রাম চলো অভিযান”। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি, যা আগামী কয়েক দিন জুড়ে চলবে। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সাংসদ, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

সোমবার বামুটিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গান্ধীগ্রামে গ্রাম চলো অভিযানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। তিনি সেখানে গ্রামসভায় অংশগ্রহণ করেন, স্থানীয় মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন এবং স্বচ্ছ ভারত অভিযান ও একটি অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অন্যদিকে, প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রে জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও আগরতলার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা, তাদের সমস্যা শুনে তার সমাধানের চেষ্টা করা এবং সংগঠনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংযোগকে আরও মজবুত করা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট বার্তা—এই জনসংযোগ কার্যক্রমকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। তবে, বিরোধীদের অভিযোগ—ভোটের মুখে পড়লেই বিজেপি জনসংযোগের কথা মনে রাখে, কিন্তু সারা বছর মানুষের পাশে থাকে না। বিশেষ করে ২০১৮ সালে দলের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করা পৃষ্ঠা প্রমুখদের অনেকেই আজ উপেক্ষিত। একসময়ে যাঁদের কাঁধে ভর করে দল ক্ষমতায় এসেছিল, সেই পৃষ্ঠা প্রমুখদের অনেকেই আজ অভিমানে দল ছেড়েছেন বা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। সাত বছরে শাসনকালে তাঁদের খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি কেউ।

এছাড়াও, তৃণমূল স্তরের মণ্ডল কমিটিগুলির বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন দলেরই এক শ্রেণীর নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রকল্প থেকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অনেক মণ্ডল নেতা সরাসরি কমিশন নিচ্ছেন। তবু আজ পর্যন্ত দলের তরফে এদের বিরুদ্ধে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে, সাত বছরের শাসনে দলবিরোধী হাওয়া ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় ফেরা এবং পরবর্তী সময়ে দুটি লোকসভা আসন ধরে রাখার সাফল্য দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও, সংগঠনের ভিত যে দুর্বল হয়ে পড়েছে তা মেনে নিচ্ছেন অনেকেই।

নিন্দুকদের কথায়, “যে সংগঠন একদিন গড়েছিলেন পৃষ্ঠা প্রমুখরা, সেই সংগঠন আজ তলানিতে। বিজেপি যেন এখন এক তাসের ঘর, যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে।” এই প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জোর দিচ্ছে ‘জনসংযোগ’ নামক রাজনৈতিক অস্ত্রে। গৃহে গৃহে গিয়ে জনমত সংগ্রহ, সমস্যার বাস্তব চিত্র জানা ও তার সমাধানে মনোনিবেশ করাকেই পাখির চোখ করছে দল।

এখন দেখার বিষয়, প্রতিষ্ঠা দিবস ঘিরে শুরু হওয়া এই জনসংযোগ কর্মসূচি সত্যিই তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারে কিনা, নাকি আবারও ভোটের পর সব শান্ত হয়ে পড়বে—যেমনটা অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা। এদিকে দলের অন্দরে এখন কার্যত ব্যস্ততার চূড়ান্ত পর্যায়। জনসংযোগ কর্মসূচিকে সফল করতে প্রতিটি মণ্ডলে পরিকল্পনা মোতাবেক রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। বিজেপির সংগঠনিক শক্তি কতটা পুনর্জীবিত হয়, তা স্পষ্ট হবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।About Us

সংশোধনাগারগুলিতে পরিকাঠামোগত সংকট

সংশোধনাগারগুলিতে অমানবিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রবল!

ত্রিপুরা রাজ্যের সংশোধনাগারগুলি এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, কোনো সংশোধনাগারে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি বন্দী রাখা যাবে না। তবুও বাস্তব পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। রাজ্যের ১৪টি সংশোধনাগারের মধ্যে ১টি (সাব্রুম) বন্ধ, বাকি ১৩টি সংশোধনাগারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দী থাকছেন। পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, কর্মী সংকট এবং নজরদারির অভাবে কারাগারগুলিতে তৈরি হয়েছে ভয়ঙ্কর অব্যবস্থা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি।

বিশালগড়ের প্রভুরামপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মহিলা সংশোধনাগারে ২৫ জন বন্দীর থাকার অনুমোদন রয়েছে। অথচ সেখানে এখন রাখা হচ্ছে ১১৩ জন মহিলা বন্দীকে। জায়গার অভাবে গাদাগাদি করে দিন কাটাচ্ছেন বন্দীরা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বন্দীদের সঙ্গে থাকা প্রায় ৩০ জন শিশুও এই পরিবেশে দুর্দশা সহ্য করছে, যদিও তারা কোনো অপরাধে জড়িত নয়। ত্রিপুরার অন্যান্য জেল ও সাবজেলগুলিতেও একই ধরনের অবস্থা:

  • খোয়াই সাবজেল: ধারণক্ষমতা ১২১ জন, বর্তমানে ১২২ জন বন্দী।
  • সোনামুড়া সাবজেল: ধারণক্ষমতা ১২৫ জন, বর্তমানে ১৭০ জন বন্দী।
  • বিলোনিয়া সাবজেল: ধারণক্ষমতা ৮৫ জন, রাখা হয়েছে ৯০ জন।
  • কৈলাসহর, কমলপুর, উদয়পুর সহ আরও বেশ কিছু জেলেও অনুমোদনের চেয়ে বেশি বন্দী রাখা হচ্ছে বলে খবর।

বেশিরভাগ জেলখানাই মান্ধাতার আমলের পুরনো ভবন। বহু জায়গায় প্লাস্টার খসে পড়ছে, দেয়ালে ফাটল, বাথরুম-জল ব্যবস্থা অকেজো। একমাত্র সাবরুমের জেলখানাটি সংস্কার করা হয়েছে, বাকি কোথাও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। এই পরিকাঠামো বন্দীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে পুরনো জেল ভবন থেকে বিচারাধীন বন্দীদের পালানোর ঘটনা ঘটেছে। যদিও বিধানসভায় জানানো হয়েছে, জেল প্রাঙ্গনের ভিতর থেকে পালানোর কোনও রেকর্ড নেই, কিন্তু আদালতে আনা-নেওয়ার সময় বন্দী পালিয়েছে, যা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় ব্যর্থতা।

ত্রিপুরার ১৩টি সক্রিয় সংশোধনাগারে মাত্র ৩০১ জন কর্মী, যার মধ্যে পুরুষ ওয়ার্ডেন ২৮৭ জন এবং মহিলা ওয়ার্ডেন মাত্র ১৪ জন। এই সামান্য সংখ্যক মহিলা কর্মী দিয়ে গোটা রাজ্যে বন্দিনীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মনোভাব উন্নয়ন—সব কিছুই সামাল দেওয়া কার্যত অসম্ভব। গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে কারা দপ্তরে কোনও স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। ভোটের আগে ২৪৯ জন পুরুষ ওয়ার্ডেন নিয়োগের ঘোষণা হলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

স্থায়ী কর্মী না থাকায় অনেক কাজ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। এতে নজরদারির ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, বাড়ছে দুর্নীতির সম্ভাবনা। জেলখানাগুলিতে নেশাজাতীয় দ্রব্য ঢুকছে, যা একাধিকবার ধরা পড়েছে। বন্দীদের ওপর নজরদারি রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। রাজ্য মানবাধিকার কমিশন বিভিন্ন সময়ে জেলখানাগুলি পরিদর্শন করেছে। তাদের রিপোর্টে উঠে এসেছে বন্দীদের গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে, শিশুরা মায়ের সঙ্গে জেলজীবন কাটাচ্ছে, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও খাবার ব্যবস্থা, এবং অপ্রতুল কর্মীবল—এই সবই মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে।

বিধানসভায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ১৩টি সক্রিয় সংশোধনাগারে মোট ২৩০৩ জন বন্দীর থাকার উপযুক্ত পরিকাঠামো রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক সংশোধনাগারেই তার চেয়ে বেশি সংখ্যক আসামীকে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে। ত্রিপুরার সংশোধনাগার ব্যবস্থায় যে ভয়াবহ পরিকাঠামোগত সংকট ও কর্মী সঙ্কট চলছে, তা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। শিশু, মহিলা বন্দী, বিচারাধীন বন্দী—সবাই একইভাবে দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছেন। দ্রুত নতুন জেল নির্মাণ, কর্মী নিয়োগ, স্বাস্থ্য ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং আইনি নজরদারি না এলে রাজ্যের সংশোধনাগার ব্যবস্থা এক ভয়ঙ্কর সংকটের মুখোমুখি হবে—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।About Us

আগ্নেয়াস্ত্র সহ পুলিশের জালে ধৃত কট্টর জঙ্গি

উত্তর ত্রিপুরায় ফের সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন, আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধৃত কট্টর জঙ্গি নেতা!

উত্তর ত্রিপুরার আনন্দবাজার এলাকায় বড়সড় সাফল্য পুলিশের। আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এক কট্টর জঙ্গি সংগঠনের নেতাকে গ্রেপ্তার করল জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী ভান্ডারিমার সেতুদুয়ার জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতের নাম অনিদা রিয়াং (৩৫), যিনি একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত এন.এল.এফ.টি (NLFT) জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। বর্তমানে সে ‘ত্রিপুরা ইউনাইটেড ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ (TUNF) নামে এক নতুন সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠনের নেতা।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, আনন্দবাজার থানার অধীনস্থ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের গহীন জঙ্গলে টংঘরের ভিতরে আত্মগোপন করেছিল অনিদা। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও নজরদারির পর শনিবার রাতে পুলিশের বিশেষ বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, একাধিক লাইভ কার্তুজ, এবং চাঁদা আদায়ের রশিদ বই।

ধৃত জঙ্গির বিরুদ্ধে আনন্দবাজার থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীকে হত্যার চেষ্টা, অপহরণ, ঠিকাদারদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়, অস্ত্র আইন লঙ্ঘন, এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা। ধৃতকে কড়া নিরাপত্তায় কাঞ্চনপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে চারদিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। এস.ডি.জে.এম আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। বর্তমানে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো গোপন তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই এলাকায় আরও বেশ কয়েকজন জঙ্গির লুকিয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গোটা সীমান্ত অঞ্চলে জোর তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় গোটা উত্তর ত্রিপুরা জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মাঝে মধ্যে কিছু জঙ্গি সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও এখনো সীমান্তবর্তী গভীর জঙ্গলে সক্রিয় রয়েছে কট্টর জঙ্গি সংগঠনের নেতারা। পুলিশ ও গোয়েন্দা মহল মনে করছে, এই ঘটনার মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো যে জঙ্গিদের কার্যকলাপ এখনো পুরোপুরি নির্মূল হয়নি

উল্লেখ্য, ত্রিপুরার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপের আখড়া হিসেবে পরিচিত। ফলে এই গ্রেফতার ভবিষ্যতে বড় কোনো হামলা রোখার দিকেও এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।About Us

গুজরাটে নিখোঁজ ত্রিপুরার যুবক কালাচান ত্রিপুরা

গুজরাটে নিখোঁজ কালাচান ত্রিপুরার পরিবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছে সাহায্যের আশায়!

ত্রিপুরার দক্ষিণ প্রান্তের এক নিঃস্ব পরিবার আজ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। কারণ, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য কালাচান ত্রিপুরা (২৩) প্রায় এক মাস আগে গুজরাটে কর্মক্ষেত্র থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। আজও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পুলিশ ও প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকার কারণে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন পরিবার-পরিজন।

কালাচান ত্রিপুরা দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার বাসিন্দা। তিনি জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিলেন গুজরাট রাজ্যের ভালসাদ জেলার উমরগাঁও অঞ্চলে, যেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, ৬ মার্চ তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং সহকর্মীদের জানান যে তিনি বাড়ি ফিরতে চান। সেই অনুযায়ী রেলস্টেশনের দিকে রওনা দেন বলেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

৭ মার্চ থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে গুজরাটে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সাব্রুম থানাতেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি তাদের আওতার বাইরে, তাই তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। অপরদিকে গুজরাটের উমরগাঁও থানার সঙ্গে পরিবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সদুত্তর মেলেনি।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, “আমরা এক মাস ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে যাচ্ছি। কোনো পুলিশ আমাদের সাহায্য করছে না। রাজ্য সরকার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি।” এমনকি, এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা অরাজনৈতিক সংগঠনও তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। ফলে, একেবারে ভেঙে পড়েছেন কালাচানের বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে গুজরাটে বারবার যাওয়া, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কিংবা আইনি সহায়তা নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের প্রশাসন কীভাবে এতটা নির্লিপ্ত থাকতে পারে? একজন ত্রিপুরাবাসী যুবক কর্মস্থলে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরও কেন আজ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তদন্ত শুরু হয়নি? ত্রিপুরা সরকারের কাছে পরিবারের আকুতি—তাঁদের ছেলের সন্ধান যেন দ্রুত পাওয়া যায় এবং গুজরাট প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্য সরকার যেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। একমাত্র উপার্জনক্ষম যুবক নিখোঁজ—এই অবস্থায় পরিবারটির আর্থিক ও মানসিক দুঃস্থতা চরমে পৌঁছেছে।

ত্রিপুরার সাধারণ মানুষ এবং নাগরিক সমাজের কাছেও এই ঘটনা একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে—বাইরের রাজ্যে কর্মরত ত্রিপুরার যুবকদের নিরাপত্তা আদৌ রয়েছে কি? সমাজ সচেতন মহল মনে করছেন ত্রিপুরা সরকারের হস্তক্ষেপ ও ত্বরিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই কালাচান ত্রিপুরাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব—এই আশাতেই এখনও চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় তার পরিবার।About Us