এইডসে

এইডসে, গত ৮ বছরে ত্রিপুরা রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা  অনেক বেশি!

এইডসে, ত্রিপুরা রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গত ৮ বছরে হয়েছে ৫১২। ২০২৩ -২৪ অর্থবছরে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। রাজ্য বিধানসভায় তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। নেশা মুক্ত রাজ্য গঠনে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে একটি দৃষ্টি আকর্ষণীয় নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই তথ্য দেন।

তিনি বলেন ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজ্যে ৬৬ জন এর মৃত্যু হয়েছিল এইডসে। ২০১৬- ১৭ অর্থবছরে ৬৫ জনের, ২০১৭-১৮ সালে ৬৬ জনের, ২০১৮-১৯ সালে ৭৬ জনের, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আবার ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যে ২০২১ সালে এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৭০৭ জন। ২০২২ সালে তা বের হয়েছে ৮৯৪০ জন। ২০২৩ সালে রাজ্যে মোট ১০১২৬ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী ছিল। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার উদ্যোগে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে নেশা মুক্ত ত্রিপুরা প্রচার অভিযান চালু হয়। রাজ্যের এই অভিযানে ত্রিপুরার মোট ২২ টি সাধারণ ডিগ্রী কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে মাদকাসক্তি সম্পর্কিত মেগা সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুসারে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে এইচ আই ভি এইডস নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর রাজ্য কুইজ প্রতিযোগিতা, ব্যান্ড মিউজিক কম্পিটিশন এবং রেড রান নামে ম্যারাথনের আয়োজন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা বলেছেন গত তিন বছরে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় নারকোটিক্স ড্রাগস্ এবং সাইকেট্রপিক সাবসটেন্স এর ১হাজার ৬৬৫টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ২হাজার ৬৯৭কে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস ও নয়ন সরকারের আনীত দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের উপর আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান।মুখ্যমন্ত্রী বলেন তাছাড়া গত তিন বছরে ১লক্ষ ৫৪হাজার ৬৫৮ কেজি গাঁজা, ৫লক্ষ ৮২হাজার ১০০টি কফ সিরাপের বোতল, ২৫লক্ষ ৬২হাজার ৭৯১টি ট্যাবলেট ও ৩৪হাজার ৯৭১গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত করেছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন২০১৮সালের আগে নেশাযুক্ত ত্রিপুরা ছিল। বর্তমানে সরকার গঠনের পর তা নেশামুক্ত ত্রিপুরায় পরিবর্তিত হচ্ছে।

তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় এবং নির্দেশানুসারে রাজ্যের সামাজিক কল্যাণ ও সামাজিক শিক্ষা দপ্তর, স্বরাষ্ট্র দপ্তর, শিক্ষা দপ্তর, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর এবং নারকোটিকস কন্ট্রোল বুরো সহ বিভিন্ন এনজিওদের সহায়তায় রাজ্যস্তরীয় নেশা মুক্ত ভারত ক্যাম্পেইন কমিটি এবং বিভিন্ন জেলায় ডিস্ট্রিক্ট লেভেল নেশা মুক্ত ভারত ক্যাম্পেইন কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যে নেশা দ্রব্য ব্যবহারে লাগামহীন বৃদ্ধি এবং তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর ২০২২সালে খেলো ত্রিপুরা, সুস্থ ত্রিপুরা প্রকল্পের অধীনে নেশামুক্ত ত্রিপুরা নামে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। তিনি বলেন শিক্ষা দপ্তর কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের নির্দেশ অনুসারে নবচেতনা মডিউল এর দ্বারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে যাতে ছাত্রছাত্রীদের নেশার প্রতিরোধমূলক শিক্ষা দিতে পারে। তিনি বলেন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর, ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক নতুন দিল্লি স্থিত আর্থিক সহায়তায় গত ২০১৯সালে নরসিংগড় অবস্থিত আধুনিক মানসিক হাসপাতালে ড্রাগ ট্রিটমেন্ট ক্লিনিক নামে একটি ডেডিকেটেড ও পিডিভিত্তিক আসক্তি ক্লিনিক খোলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার উদ্যোগে ২০২২ সালে নে শামুক্ত ত্রিপুরা প্রচারাভিযান চালু হয়। তিনি বলেন রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তর, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেশা বিরোধী কর্মসূচি পালন করে রাজ্যকে নেশামুক্ত রাজ্য তৈরী করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মিশন

মিশন মৌসুম প্রকল্পে ত্রিপুরা রাজ্যে ২৪ টি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন

মিশন মৌসুম প্রকল্পের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশকে আবহাওয়া এবং জলবায়ু সচেতন জাতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মিশন মৌসম-এর সুচনা করেছেন। আজ নতুন দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের ১৫০তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এর সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিশন মৌসম একটি সুসংহত এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত জাতি গঠনে ভারতের অঙ্গীকারের প্রমাণ।

মোদির মিশন মৌসুম প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্যে। মিশন মৌসম” এর লক্ষ্য হল অত্যাধুনিক আবহাওয়া নজরদারি প্রযুক্তি এবং সিস্টেম বিকাশ করে, উচ্চ-রেজোলিউশনের বায়ুমণ্ডলীয় পর্যবেক্ষণ, পরবর্তী প্রজন্মের রাডার এবং স্যাটেলাইট এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারগুলিকে বাস্তবায়ন করে তার লক্ষ্য অর্জন করা। রাজ্যে ২৪টি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন নির্মাণ করা হবে। প্রান্তিক শহর সাবরুমে ড্রপলার ওয়েদার রেডার বসানো হবে। মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছেন রাজ্য আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা ডক্টর পার্থ রায়। তিনি বলেন মিশন মৌসুম প্রকল্পের সুবিধা পাবে ত্রিপুরা। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর তথা আইএমডি-র ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। আগরতলায় আইএমডি-র আগরতলা শাখা অফিসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আইএমডি- র আগরতলা শাখার অধিকর্তা ডঃ পার্থ রায় সহ আইএমডি- র অন্যান্য আধিকারীক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে, দিল্লি থেকে আইএমডি- র ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

এছাড়া আগরতলার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে আবহাওয়া সম্বন্ধীয় ক্যুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আইএমডি- র আগরতলা শাখার অধিকর্তা ডঃ পার্থ রায় বলেন, ১৯৫১ সালে আগরতলায় প্রথম আবহাওয়া অফিস চালু হয়।

click below

click

#mission mausam

রেগা

রেগায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার হিমঘরে, বাড়ছে দুর্নীতি!

রেগা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। বাম আমলে যে ছিল না তা কিন্তু নয়। বাম আমলে বিশালগড় ব্লকের দুর্নীতি, বিডিও গ্রেফতার– এই খবরগুলো মানুষ ভুলে যান নি৷ বাম আমলে রেগায় পুকুর প্রমান দুর্নীতি।একেকটি পুকুর রাস্তাকে কয়েকবার দেখিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বাম জমনায়৷ কিন্তু তা বলে ডাবল ইন্জিনের সরকারের সময়ে রেগা দুর্নীতিমুক্ত বা স্বচ্ছতার সাথে চলছে রেগার কাজ, তা কিন্তু বলা যাবে না৷ রেগার প্রথম শর্ত হলো, যন্ত্র ব্যাবহার করা যাবে না৷ কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের বদলে যন্ত্র ব্যাবহার করে মাটি কাটার ঘটনাও ঘটছে৷ এইতো কয়েক মাস আগে উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় জেসিবি ব্যাবহার করে রেগায় মাটি কাটার অভিযোগ ছিল। রেগা শ্রমিকরা তার প্রতিবাদও করেন৷ কেন্দ্রীয় সরকার রেগার দুর্নীতি রোধে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিল৷ কিন্তু রাজ্যে আজো দ্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়নি৷

২০২১ সালে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক রেগা আইনে এ সংক্রান্ত সংশোধনী এনেছিল। ২০২২ সালে মন্ত্রক এনিয়ে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ কী হবে তার বিস্তারিত নির্দেশ দেয়। নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী শুধুমাত্র রেগার কাজের জিও ট্যাগিংয়েই নজরদারি শেষ হবে না। প্রতিটি কাজের নজরদারি করতে হবে ড্রোন ব্যবহার করে। ড্রোন ব্যবহার করে কাজ চলাকালীন ছবি-ভিডিও রেকর্ড করে কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করার বিধান রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সেখানে ড্রোন ব্যবহার করে ছবি-ভিডিও কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু রাজ্যে এখনো ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়নি। রেগায় জিও ট্যাগিংএর অচ্ছস্বতা৷ রেগায় দুর্নীতি রোধে আট জেলায় আছেন আট জন ন্যায়পাল৷ তারা স্বাক্ষী গোপাল হিসেবে আছেন৷ কিভাবে দুর্নীতির বিচার করবেন৷ সঠিক তথ্য যে তাদের দেওয়া হয় না৷ ঠিকভাবে সাম্মানিক পান না৷ গত চার মাসের বেশি সময় ধরে টিএ বিল বকেয়া। থাক্ সে সব বিষয়। মন্ত্রক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত এস ও পি জারির তিন বছর পরও এই প্রযুক্তির ব্যাবহার শুরু করতে পারে নি রাজ্য৷ প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার মধ্যে আগে ছিল জিও ট্যাগিং। তারপর মোবাইল অ্যাপলিকেশন ভিত্তিক হাজিরা নথিভুক্তিকরণ পদ্ধতি চালু হয়। প্রতিদিন কাজের শুরু, মাঝামাঝি এবং শেষে ছবি তুলে কেন্দ্রীয় পোর্টালে পাঠানোর কথা। কিন্তু এই কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছিল না। দুর্নীতি-অনিয়মের ভুরি ভুরি অভিযোগ।

ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারে ডাবল ইঞ্জিনের ব্যর্থতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অজানা এমন নয়। অন্য দলের সরকার যেসব রাজ্যে আছে সেখানে রেগার দুর্নীতির অভিযোগ এলেই মন্ত্রক যেভাবে ব্যাবস্থা নেয়, ত্রিপুরার বেলায় তেমনটা নেই। ফলে রেগায় কিন্তু দুর্নীতি বাড়ছে।

পর্যটন

পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটছে রাজ্যে একটু একটু করে!

পর্যটন  শিল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আগামীদিনে জেলাভিত্তিক প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্য বিধানসভায় একথা জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে হোম স্টে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডম্বুরের নারিকেলকুঞ্জের পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ৯টি হোম স্টে এবং জম্পুইহিলে ৪টি হোম স্টে চালু করা হয়েছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে রাজ্য পর্যটন দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পর্যটনকে শিল্পের রুপ দিতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। পর্যটন যে শিল্প হতে পারে৷ পর্যটন শিল্পকে ভিত্তি করে সরকারি কোষাগার যে স্ফীত করা যায় তা দেখিয়ে দিলেন পর্যটনমন্ত্রী। পর্যটন নিয়ে আগে রাজ্যের কোন সরকার ভেবেছে বলে জানা নেই কারোর। রাজ্যের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ছিল অবহেলিত, উপেক্ষিত। এখন নতুন নতুন চিন্তাভাবনাকে যুক্ত করে পর্যটনক্ষেত্রকে ঢেলে সাজানোর প্রয়াস চলছে। বিধানসভায় পর্যটনমন্ত্রী জানান, স্বদেশ দর্শন ২.০ প্রকল্পে উনকোটি এবং আগরতলার ডেস্টিনেশনগুলিকে সাজিয়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে এই দুটি ডেস্টিনেশনের জন্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ভারত সরকারের অর্থমন্ত্রক ৫১ শক্তিপীঠের রেপ্লিকা স্থাপনের লক্ষ্যে ৯৭ কোটি টাকার উপর মঞ্জুর করেছে। ইতিমধ্যে ৬৪.৪৮২ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। পর্যটনমন্ত্রী জানান, স্বদেশ দর্শন ১.০ প্রকল্পের মাধ্যমে আগরতলা, সিপাহীজলা, মেলাঘর, উদয়পুর, অমরপুর, মন্দিরঘাট, তীর্থমুখ, নারিকেলকুঞ্জ, ডম্বুর, আমবাসা, নীরমহল এবং বড়মুড়া ইত্যাদি পর্যটন কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে। রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামো বিকাশের লক্ষ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায় ছবিমুড়া, কৈলাসহরের সোনামুখী এলাকা, চতুর্দশ দেবতা মন্দির এবং কসবা কালী মন্দির চত্বরের পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।সুশান্ত চৌধুরী বলেন, আগামীদিনে ভারতবর্ষের পর্যটন মানচিত্রে ত্রিপুরা এক অনন্য স্থান অর্জন করতে সক্ষম হবে। রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। রাজ্যে স্বদেশ দর্শন প্রকল্পের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বন

বন সংরক্ষণে উদ্যোগী হতে আহ্বান বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার!

বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা  ত্রিপুরা বিধানসভার চলমান অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে বন দপ্তরের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ত্রিপুরা রাজ্য তার ৭৩.৬৪% বনভূমি আচ্ছাদনের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং কার্বন শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মন্ত্রী জানান, রাজ্যের বনসম্পদ রক্ষার জন্য গত পাঁচ বছরে ৫৬,১১০ হেক্টর বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ, ১,৮৩৯ কিলোমিটার রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ এবং ১,২২৪.৫ কিলোমিটার নদীর তীরে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও ১,২৭৭টি চেক ড্যাম নির্মাণের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও মাটির ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, “গত কয়েক বছরে বাঁশ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ISFR ২০২১ অনুসারে, রাজ্যে বাঁশভূমির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪,২০১ বর্গ কিলোমিটার, যা ২০১৭ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।” তিনি উল্লেখ করেন, ত্রিপুরার বনভূমি বছরে প্রায় ২৭২.৭৬ মিলিয়ন টন CO₂ শোষণ করে, যা জাতীয় স্তরে একটি উল্লেখযোগ্য অবদান। তবে, বেআইনি দখল এবং চাষাবাদের চাপ বনভূমির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি RoFR (Forest Rights Act) জমির সীমানা নির্ধারণ এবং বন রক্ষার জন্য কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আগামী পাঁচ বছরে ৭,৫০০ হেক্টর বনভূমি, ২০০ কিমি রাস্তার ধারে, এবং ৫০ কিমি নদীর তীরে বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, মন্ত্রী বন সুরক্ষার জন্য CAMPA তহবিল ব্যবহারের নীতিমালায় ছাড় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

পরিবেশ ও বন সংরক্ষণকে ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধিতে বন দপ্তরের কার্যক্রম রাজ্যের অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, এবং সামাজিক দিককে সমৃদ্ধ করছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে বনমন্ত্রী ত্রিপুরার বন দপ্তরের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলগুলিকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

নেশা

‘নেশা’ ত্রিপুরা বিধানসভায় আলোচনার বিষয়!

নেশা মুক্ত রাজ্য গঠনে তৎপর রাজ্য সরকার। ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনটি অর্থ বছরে নথিভুক্ত মামলার সংখ্যা ১৬৬৫ টি। তিনটি অর্থ বছরে ২৬৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে। রাজ্য বিধানসভায় এই তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা।

গত তিনটি অর্থ বছরে দুই কোটি ৪৫ লক্ষ ৫১ হাজার ২৫৮ টি গাজা গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়াও ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৫৮ কেজি গাজা উদ্ধার হয়েছে। ৫ লক্ষ ৮২ হাজার একশো কফ সিরাপ এর বোতল আটক করা হয়েছে। এমনটাই তথ্য দিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালে রাজ্য পুলিশ সবচেয়ে বেশি গাঁজা গাছার চারা ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নেশা দ্রব্য ব্যবহারের লাগামহীন বৃদ্ধি এবং তা থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় নানাবিধ পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বাম আমলের চিত্র তুলে ধরে বলেন ২০১৮ সালের আগে নেশা যুক্ত ত্রিপুরা ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর নেশা মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার। মায়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণে নেশা দ্রব্য রাজ্যে আসছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের নজরদারি রয়েছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী নেশা মুক্ত কেন্দ্রগুলোতে সরকারি অর্থের সদ্ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা দেখতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান রাজ্যের জেলা গুলোতে নেশা মুক্ত কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ডোনার মন্ত্রক ১৯৮ কোটি টাকা দিয়েছে। নেশা মুক্ত করার জন্য বিরোধী বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব রাখেন।

BMS

BMS এর দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অশান্ত ধর্মনগর!

BMS এর নীতি “জনসেবা যে কর্ম আমাদের ধর্ম আমাদের মানবতা” ভুলে গিয়ে ধর্মনগর BMS কি ব্যস্ত লক্ষীরভান্ডার নিয়ে? ত্রিপুরার, ধর্মনগরে “BMS” (Bharatiya Mazdoor Sangh) এর রাজ্য নেতৃত্ব এবং “BMS” এর সর্বভারতীয় নেতৃত্ব অসীম দত্তের মধ্যে সংঘাতের কারণে, এলাকায় ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। কুবেরের শিষ্য, সর্বভারতীয় নেতৃত্ব অসীম দত্ত ব্যস্ত শুধু ধর্মনগর নিয়েই। তিনি BMS এর সর্বভারতীয় স্তরে কতটুকু দায়িত্ব পালন করছেন তা একমাত্র BMS এর জাতীয় নেতৃত্বই বলতে পারেন। তবে ধর্মনগরের দায়িত্ব তিনি খুব ভালোভাবেই পালন করছেন; স্থানীয় BMS কে অগ্রাহ্য করে, লক্ষ্মী সন্ধানের উদ্দেশ্যে, তিনি গড়ে তোলেন আরেক BMS সংগঠন। এর ফলে এখন ধর্মনগরে BMS এর মোট দুটি গোষ্ঠী সক্রিয়; এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ; এর ফলে ভোগান্তির শিকার নিত্য যাত্রীরা। ধর্মনগর শহরের যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে রেল চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এই পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় বাস, ট্রাক, ছোট যানবাহন সহ রেল যাত্রীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হন। ধর্মনগর স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখাযায় এবং একই কারণে অনেক ট্রেনের পরিষেবাও ব্যাহত হয়।

ধর্মনগর শহরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে, BMS এর কার্যালয় দখল করা নিয়ে। “BMS” এবং তার সাথে সম্পর্কিত তথাকথিত সংগঠন “BMS অসীম দত্ত মহাসংঘ” এর সদস্যরা স্থানীয় একটি রাস্তায় একে অপরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক এবং শ্রমিক-সংগঠন সম্পর্কিত তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তোলে এবং কিছুদিন ধরে একে অপরের উপর আক্রমণ করতে তৎপর ছিল। ধর্মনগর শহরের সড়কগুলিতে সংঘর্ষের ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে স্থানীয় বাস, ট্রাক, ছোট গাড়ি সহ রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। আন্দোলনকারীরা বাঁধা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে থাকে, তবে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ধর্মনগরের রাস্তায় সংঘর্ষের কারণে বহু যানবাহন থমকে দাঁড়িয়ে থাকে, যার ফলে শহরের সাধারণ মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হয়। নিত্যযাত্রীরা বিশেষত যারা ধর্মনগর শহর থেকে অন্যান্য শহরে যাতায়াত করেন, তারা মারাত্মক সমস্যায় পড়েন। বাস, ট্যাক্সি ও ছোট গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশনেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ধর্মনগর রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক ভিড় এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের সুবিধা প্রদানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, ফলে তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অশান্ত ধর্মনগর শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সাথে সাথে, তারা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা চালায়। তবে, সংঘর্ষের তীব্রতার কারণে পুলিশকেও পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছুটা সময় নিতে হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক এবং ক্ষোভ দেখা দেয়। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিত্যযাত্রীরা, এই সংঘর্ষের ফলে ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। যারা রেলপথে যাতায়াত করেন, তাদের অনেকেই সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি, যা তাদের জীবিকা অর্জনে প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া সড়কপথে যানজট এবং মানুষের অবাধ চলাচলে, জরুরি পরিষেবাগুলি যেমন এম্বুলেন্স এবং প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণেও বিঘ্ন ঘটেছে।

প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনী অশান্তি দমন করতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক পুলিশ বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে, সংঘর্ষের কারণে কিছু এলাকায়, খবর প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা বিশেষজ্ঞ মহলের। তবে এলাকার সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে গেছে। আগামী দিনে যদি এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপের সম্ভাবনাও রয়েছে।

জাগৃতি

জাগৃতি মিশন কর্মসূচির সূচনা করলেন পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী

জাগৃতি মিশন কর্মসূচির আয়োজিত অনুষ্ঠানে, উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, সুশান্ত চৌধুরী, শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, তিনজেলার বিধায়কসহ খাদ্য দপ্তর এবং পরিবহন দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক ও জেলা প্রশাসন এবং ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিন্দম লোধসহ বিশিষ্টজনেরা।

ভোক্তা সুরক্ষা আইন, মাদকের অপব্যবহার এবং সড়ক দুর্ঘটনা সম্বন্ধে পরিবহন দপ্তর এবং খাদ্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই সচেতনতা শিবির। উদয়পুরের রাজর্ষি টাউন হলে এই শিবিরকে কেন্দ্র করে সিপাহীজলা, দক্ষিণ জেলা এবং গোমতী জেলার বিভিন্ন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এক ইন্টার কলেজ কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জাগৃতি মিশন কর্মসূচির অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় তার ভাষণে বলেন শুধুমাত্র সরকার এবং প্রশাসন দিয়ে হবে না এর জন্য প্রয়োজন নিজেদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা। তবেই ভোক্তা সুরক্ষা আইন এবং সড়ক সুরক্ষা সহ মাদকের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে অতিথিরা জেলার বিভিন্ন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে হেলমেট বিতরণ করেন। জাগৃতি কর্মসূচির অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়াও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন জেলা স্তরে এ ধরনের ইন্টার কলেজ প্রতিযোগিতা থেকে যারা বিজয়ী হবেন তারা আগামী ২৭ জানুয়ারি আগরতলার মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।উদয়পুরের পর আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে কুমারঘাটে এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচি। শুধু তাই নয় আগামী দিন রাজ্যের স্কুলগুলিতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। বক্তাদের ভাষণ শেষে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। কুইজমাস্টাররা নির্বাচিত ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ছাত্র-ছাত্রীরাও তার উত্তর দেন। শুধু তাই নয় কুইজমাস্টাররা দর্শকদের উদ্দেশ্যেও নানা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। দর্শকরা তার সঠিক জবাব দিতে পারলে সঙ্গে সঙ্গেই তাদেরকে মূল্যবান উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজর্ষি টাউনহলে ছিল ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের উপচে পড়া ভীড়।

মন্ত্রী

‘মন্ত্রী বা বিধায়ক’ একদিনের জন্য হলেও, সারা জীবন পেয়ে যাবেন পেনশন!

মন্ত্রী-বিধায়করাই পারে একমাত্র তাদের নিজের বেতন নিজেই বাড়াতে। রাজ্য বিধানসভায় মন্ত্রী, বিধায়ক এবং প্রাক্তন বিধায়কদের বেতন, ভাতা ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করে একটি সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপের বেতন, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত নবম সংশোধনী বিল অনুসারে, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধায়ক এবং প্রাক্তন বিধায়কদের বেতন ও ভাতা ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী রতন লাল নাথ কর্তৃক বিধানসভায় উত্থাপিত বিল অনুসারে, মুখ্যমন্ত্রীর বেতন ৯৭,০০০ টাকা বৃদ্ধি পাবে, যেখানে উপ-মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধানসভার স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সরকারি চিফ হুইপের বেতন ৯৪,০০০ টাকা থেকে ৯৬,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে বিধায়কদের বেতন ৯৩,০০০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বেতন ছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধানসভার স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিধায়করা অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আতিথেয়তা ভাতা, টেলিফোন ভাতা এবং বাড়ি ভাড়া ভাতা।প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন এবং পারিবারিক পেনশন যথাক্রমে ৩৪,৫০০ এবং ২৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৬,০০০ এবং ৪৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।নবম সংশোধনী বিলটিতে সমস্ত অবসরকালীন সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র একদিনের জন্যও দায়িত্ব পালনকারী সকল বিধায়কদের পেনশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২২ সালে মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপ, বিধায়কদের বেতন, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলিতে সর্বশেষ সংশোধনী অনুসারে, একজন বিধায়ক যদি কমপক্ষে সাড়ে চার বছর ধরে বিধানসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তবে তিনি পেনশন সহ অবসরকালীন সুবিধা পাবেন। এবার সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ উপ-মুখ্যমন্ত্রী, অন্য মন্ত্রী, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, বিরোধী দলনেতা, মুখ্যসচেতক এবং বিধায়কদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণভাবে বাড়ানো হয়েছিল । সে সময় বিধানসভায় আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথের আনিত নয়া সংশোধনী বিল অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর ৫৩,৬৩০ টাকা, উপ-মুখ্যমন্ত্রীর ৫২,৬৩০ টাকা, অন্য মন্ত্রীদের ৫১,৭৮০ টাকা, বিরোধী দলনেতার ৫১,৭৮০ টাকা, অধ্যক্ষের ৫১,৭৮০ টাকা, উপাধ্যক্ষের ৫০,৫১০ টাকা মুখ্য সচেতকের ৫১,৭৮০ টাকা এবং বিধায়কদের ৪৮,৪২০ টাকা বেতন নির্ধারিত হয়। এছাড়াও অন্যান্য ভাতাও বাড়ানো হয়। বেতন বাড়ার পাশাপাশি বাড়ানো হয় পেনশনও। বিলের সংশোধনী মোতাবেক সে সময় নতুন পেনশন হয় ৩৪,৫০০ টাকা। অতীতে তা ছিল ১৭,২৫০ টাকা। সাথে অন্যান্যও ভাতাও বাড়ে সে সময়। পূর্বতন বাম সরকারের আমলে অন্তিমবার ২০১৬ সালে মন্ত্রী-বিধায়কদের বেতন-ভাতা বেড়েছিল। ওই বেতন বেড়ে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর ২৬,৩১৫ টাকা, মন্ত্রীদের ২৫,৮৯০ টাকা, অধ্যক্ষের ২৫,৯৯০ টাকা, উপাধ্যক্ষের ২৫,২৫৫ টাকা, সরকারি মুখ্য সচেতকের এবং বিরোধী দলনেতার ২৫,৮৯০ টাকা এবং বিধায়কদের ২৪,২০০ টাকা। সাথে অন্যান্য ভাতাও বেড়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে একলাফে দ্বিগুণ বেড়ে যায় মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিধায়কদের বেতন-ভাতা।

এবার ফের মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির জন্য সংশোধনী বিল পেশ করা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এর মৃদু প্রতিবাদ করেছেন৷ বন্যা জনিত পরিস্থিতি এখনো কাটিয়ে উঠা যায় নি।অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিত করন হয়নি৷ তাই এখন মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি স্থগিত রাখতে বলেছিলেন তিনি।

বন্যা

বন্যা ত্রাণ তহবিলের অনুদান ৩৪.৯৮ কোটি টাকা ছুঁয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী

 বন্যা ত্রাণ তহবিলে শীঘ্রই বরাদ্দ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার: বিধানসভার অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে জানাল মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির সময় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে (সিএমআরএফ) ৩৪.৯৮ কোটি টাকা দান করা হয়েছে। শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকারের ত্রাণ তহবিলের বরাদ্দ দেওয়া হবে।

শুক্রবার ত্রিপুরা বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বন্যা-দুর্গত মানুষকে ত্রাণ বিতরণে ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে ডাঃ সাহা বলেন, গত ১৯ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ত্রিপুরায় ব্যাপক বন্যা, ভূমিধস এবং প্রচুর পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেক আহত হয়েছেন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ১২টি নদীর মধ্যে জুরি নদী ছাড়া বাকি সব নদীই বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ৬টি নদী সমস্ত মাত্রা অতিক্রম করেছে। বন্যার কারণে রাজ্যের ৮টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দক্ষিণ ত্রিপুরা, গোমতী ও সিপাহিজলা জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা জনিত কারণে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৮৮৯টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছিল এবং প্রায় ২ লাখ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রায় ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫৮,৭৮০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩,২৫২ কোটি টাকা। ৩,০৮৩ কোটি টাকা পরিমাণের জল সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। গ্রামোন্নয়নে ৩,০০৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও সেতুতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১,৯০০ কোটি টাকা। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ ১,৫৪৩ কোটি টাকা।

তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা জানান, বন্যার সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি একযোগে নেমে কাজ করেছে। যার মধ্যে ছিল এসডিআরএফ এর ৩২টি টিম, এনডিআরএফ এর ১১টি টিম, আসাম রাইফেলস, ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, আপদা মিত্র এবং অন্যান্য সহযোগী টিম। বন্যার সময়ে দুর্গত মানুষের জন্য খাবার ও পানীয় জল বিতরণ করা হয়েছে। ওই পরিস্থিতিতে সবাই এগিয়ে আসেন। ৩টি হেলিকপ্টারে খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী এয়ারড্রপ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং সর্বদলীয় বৈঠকও ডেকেছেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের সাথে গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে বিধানসভাকে অবগত করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল (এনডিআরএফ) থেকে বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠির ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রতিনিধি দল গত ২৮ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করেন। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এ ক্ষয়ক্ষতি জনিত ৭,০৮১ কোটি টাকার অতিরিক্ত ত্রাণ প্যাকেজের জন্য একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয়, যা কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। মুখ্যমন্ত্রী এই আর্থিক প্যাকেজ অনুমোদনের বিষয়ে আশা ব্যক্ত করেন। এসডিআরএফ থেকে ৪০ কোটি টাকা এবং এনডিআরএফ থেকে ২৫ কোটি টাকা বন্যা ত্রাণে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজ্য সরকার দপ্তর ভিত্তিক ৫৬৪ কোটি টাকার একটি তাৎক্ষণিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

ডাঃ সাহা জানান, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্য, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে ৩৪.৯৮ কোটি টাকার অনুদান পাওয়া গেছে। এই তহবিল থেকে ত্রাণ কাজের জন্য রাজস্ব দপ্তরকে ১২ কোটি টাকা এবং পরে আরও ১৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বন্যার ত্রাণ তহবিল বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রায় ৫৩,৮৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বাড়ি মেরামতের জন্য ৫৮ কোটি টাকার অধিক দেওয়া হয়েছে এবং বই, জামাকাপড় ও বাসনপত্রের জন্য ৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।