বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সীমান্তে বীরজিৎ সিনহার লংমার্চ অভিযান!

বাংলাদেশে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি কৈলাসহরের রাঙ্গাউটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীপুর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাংলাদেশ সরকার অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করার প্রতিবাদে ঊনকোটি জেলা কংগ্রেস রাস্তা অবরোধ এবং বাংলাদেশের বর্ডারে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার জন্য লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিধায়ক বিরজিত সিনহা। বুধবার দুপুরে কৈলাসহরে কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানান বিধায়ক বিরজিত সিনহা। সাংবাদিক সম্মেলনে বিরজিত সিনহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোঃ বদরুজ্জামান, কংগ্রেস নেতা রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্য, শ্যামল ভট্টাচার্য, রুনু মিঞা, আশীষ সেনগুপ্ত, সুধাংশু সিনহা। সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক বিরজিত সিনহা জানান যে, আগামী ২৫জানুয়ারি সকাল নয়টায় কৈলাসহরের এয়ারপোর্টের সামনে কৈলাসহর-কুমারঘাট রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে এবং দেবীপুর এলাকায় ভারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার জন্য ২৫জানুয়ারি দুপুর বারোটায় কৈলাসহরের টিলাবাজার থেকে কর্মী সমর্থকরা লং মার্চ শুরু করবে। এছাড়াও বিধায়ক বলেন যে, দেবীপুর এলাকা সহ কৈলাসহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের পাশে মনু নদীর তীরে যে বাঁধ রয়েছে সেই বাঁধের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবীও রাখেন। তাছাড়া সাংবাদিক সম্মেলনে ঊনকোটি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোঃ বদরুজ্জামান জানান যে, আগামী পনেরো দিনের মধ্যে যদি রাজ্য সরকার কৈলাসহরের মনু নদীর কাছে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু না করে তাহলে কৈলাসহরকে রক্ষা করার জন্য কৈলাসহরে ৪৮ঘন্টার বনধ ডাকা হবে বলেও ঘোষণা দেন।

জিবি

জিবি হাসপাতালের পরিষেবার মান!

জিবি হাসপাতালের পরিষেবা উন্নত করার চেষ্টা করছেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। বিভিন্ন কর্মসূচিতে গিয়ে তিনি প্রায়শই জিবি হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এই হাসপাতালের পরিষেবা আরো উন্নত করার পাশাপাশি পরিকাঠামো ব্যবস্থার উন্নয়নেরও আশ্বাস দিচ্ছেন। এটাও ঠিক এখন জিবি হাসপাতালে অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা হয়।

এদিকে জিবি হাসাপাতালের মুকুটে যুক্ত করা হয়েছে কিডনি প্রতিস্থাপন ইউনিট। সম্প্রতি দুজনের কিডনি প্রতিস্থাপন ও হয়েছে। শীঘ্রই আরো একটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অপেক্ষমান তালিকায় আছেন বেশ কয়েকজন কিডনি আক্রান্ত রোগী। কিন্তু এর অবস্থা একেবারেই ঢাল তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মত। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য “বায়োপসি” করার মেশিন নেই কিডনি প্রতিস্থাপক ইউনিটের কাছে। রোগীকে কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকা খরচ করে বাইরে থেকে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়। কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া “ফিস্টুলা” তৈরি করতে হয় তাদের দেহে; কিন্তু জিবি হাসপাতালের স্বনামধন্য এবং বহু চর্চিত কার্ডিওলজি বিভাগের এতোটুকু সময় নেই, যে তারা ওই মুমূর্ষু রোগীদের সেবায় তাদের জন্য একটি “ফিস্টুলা” তৈরি করে দেবে। এ নিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি এবং কার্ডিওলজি বিভাগের বিভিন্ন তালবাহানায় বন্ধ হয়ে আছে এই প্রক্রিয়া। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য নাম কে ওয়াস্তে অন্য রাজ্যের ব্যবস্থাপনা দিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার চললেও, বাস্তবে মাকাল ফল বলেই ব্যাখ্যা করছেন রোগীর আত্মীয় পরিজনরা।

আগামীদিনে লিভার প্রতিস্থাপন সহ আরো জটিল রোগের চিকিৎসা হবে, এমনটাই বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বাস্তব চিত্র ঠিক তার উল্টো। জিবি হাসপাতালে রাতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। ইন্টার্ন ডাক্তাররা রাতের বেলায় হয়ে উঠেন সুপার স্পেশালিস্ট ডাক্তার এবং রাতেও তারাই সবেধন নীলমনি। হাসপাতালে কোনো রোগীর অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যে পাওয়া যাবে সেই অবস্থা নেই। পরদিন হয়তো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসে ইন্টার্নিদের সঙ্গে নিয়ে ওয়ার্ড ঘুরে যাবে; তাও সকাল ১০টার পর। এরমধ্যে হয়তো রোগীর অবস্থা আরো অবনতি হয়েছে। হয়তোবা রোগী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেছেন। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভা অধিবেশনে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে রাজ্য সরকারের নির্দেশ রয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে কাউকে রেফার করা যাবে না। তাই জিবি হাসপাতালে কোনো রোগী যন্ত্রণায় কাতড়াতে থাকলেও কিংবা ঠিকভাবে চিকিৎসা পরিষেবা না পেলেও তাকে অন্যত্র রেফার করতে রাজি নয় ডাক্তারবাবুরা। দেখা গেছে, জেলা কিংবা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা থাকা সত্বেও ইচ্ছে করে রোগীদের জিবিতে রেফার করে দেওয়া হয়; অথচ যে রোগের চিকিৎসার জন্যে রোগীকে জিবিতে পাঠানো হলো সেই রোগের চিকিৎসা হয়তো সম্ভব হতো ঐ জেলা হাসপাতালেই। এতে করে জিবি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না; এই শীতেও মেঝেতে কাতড়াতে হচ্ছে রোগীদের। জিবি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করছেন রোগীর পরিবার পরিজনরা; ঠিকভাবে পরিষেবা পাচ্ছেন না তারা। একদিকে ডাক্তারবাবুদের দেখা নেই অন্যদিকে একাংশ স্বাস্থ্যকর্মীদের দুর্ব্যবহার; ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে অসহায় হয়ে পড়ছেন রোগীরা। জিবিতে রোগী কল্যাণ সমিতি রয়েছে, এই সমিতির উদ্দেশ্য হলো রোগীদের কল্যাণে কাজ করা। কিন্তু গত প্রায় একবছরে রোগীদের কি কল্যাণ হয়েছে তা নিজেও বলতে পারবেন না রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মীনা সরকার। 

নরসিংগড়

নরসিংগড় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে  বাৎসরিক পুরস্কার বিতরণী উৎসব পালিত।

gggggggggggggg

নরসিংগড় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক মনোজ্ঞ বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী উৎসব সংঘটিত হয়েছিল ২১শে জানুয়ারী মঙ্গলবার। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন. সি. শর্মা মহোদয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর সাব – ডিভিসনের এস. ডি. এম. নির্মল কুমার, প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম-পরিচালক। হর্ষিতা বিশ্বাস, ককবরক ও অন্যান্য ভাষা দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সব্যসাচী সিং। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংগড়স্থিত ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দিরের অধ্যক্ষা স্বপ্না সোম মহোদয়া। এই উৎসবমুখর পরিবেশে নরসিংগড় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা সুচিত্রা সরকার মহোদয়া স্কুলের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলেন সবার সন্মুখে। বিদ্যালয়ের তরফ থেকে বার্ষিক অনুষ্ঠানে নাচ, গান, আর্ট, নাটক, যোগা, সেরা এন.সি. সি. ক্যাডেট ইত্যাদি বিভিন্ন বিভাগে ছাত্র- ছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। যে পুরস্কারটি সবার নজর কেড়েছিল তা হল “স্টুডেন্ট অফ দি ইয়ার” পুরস্কার। তাছাড়া একাডেমিক বিভাগে সেরার সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন হাউসের ছাত্র-ছাত্রীরা সমবেত সংগীত – নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে এক মনোজ্ঞ রূপ প্রদান করে। বিশেষ শিশুদের দ্বারা পরিবেশিত এক মনোমুগ্ধকর নৃত্য ছিল সবার প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু। এবং স্কুলের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি কামনা করেন সকাল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।

DNA

DNA ক্লাবের সাথে, বিজ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী!

DNA ক্লাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ত্রিপুরা রাজ্যের ১৭০ টির ও বেশি স্কুলকে। সারা রাজ্যে ১৭০ টির বেশি স্কুলকে DNA ক্লাবের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে ৩৭ টি স্কুলে DNA ক্লাব রয়েছে। DNA ক্লাব করার উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞানকে বেশি করে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া। স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে গবেষণাধর্মী কাজে উৎসাহ যোগানই হচ্ছে এর লক্ষ্য; জানালেন বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা।

বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে এ বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা জানিয়েছেন যারা কলেজ বা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেবে সেই সব প্রশিক্ষকদের সাথে নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি আলোচনা করবেন; থাকবে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ অধ্যাপক অধ্যাপিকারা। বহিরাজ্য থেকে যেসব বিশেষজ্ঞরা আসবেন তাদের ভাবনাও ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা হবে। বিজ্ঞানকে সঙ্গে নিয়েই উন্নত দেশ হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন বিজ্ঞান ছাড়া কোন দেশের পরিমাপ করা যায় না। উন্নত দেশ হতে গেলেই বিজ্ঞানকে আকড়ে রাখতে হবে। উন্নত দেশ মানেই বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ দেশ। বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারলে উন্নত দেশের খেতাব পাওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

তিনি অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞানকে বুকে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজ্যের স্কুল এবং কলেজগুলোর পাশাপাশি NIT সহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আই সি এআরকে এই ভাবনার সাথে যুক্ত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এতে করে আগামীদিনে, রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হবে। ছাত্রছাত্রীরা নতুন নতুন উদ্ভাবনের বিকাশ ঘটাতে পারবে। এতে সমৃদ্ধ হবে রাজ্য।

পাহাড়ে

পাহাড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে!

পাহাড়ের রাজনীতির রং ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে। তিপ্রা মথা ও আই পি এফটি দুই জনজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক দলের উপর নির্ভর করতে গিয়ে, শাসক দল বিজেপি পাহাড়ে ক্রমশ কোমায় চলে যাচ্ছে। দলকে অক্সিজেন দিতে অতি সম্প্রতি দেশের গৃহ মন্ত্রী অমিত শাহ পাহাড়ের রিয়াং শরনার্থীদের শিবিরে মেরাথন বৈঠক করে গেছেন। যদিও আচমকা রাজ্যের অন্যান্য জনজাতিদের ব্রাত্য রেখে কেন শুধু রিয়াং শরনার্থী শিবিরের উদ্দেশ্যেই আমবাসার হাদুকলক এলাকায় পা রাখলেন? এ প্রশ্ন কিন্তু উঠতে শুরু করেছে। কেননা, কেন্দ্রীয় সরকারের সেকেন্ড ইন্ কমান্ড অমিত শাহের রিয়াং শরনার্থী শিবিরে পা রাখার মাত্র পক্ষ কাল পূর্বে ব্রু অর্থাৎ রিয়াং জনজাতি সমাজের একটা অংশ নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। দলের নাম ব্রু রাইকাচাও রাইকসম ইউনাইটেড। শুধু দলই গঠন করেনি, নতুন এই দল পৃথক ব্রু স্বশাসিত জেলা পরিষদ গঠনের দাবী তুলেছে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে জনজাতি রাজনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পাহাড়ে মেরাথন বৈঠক করলেও এক্ষেত্রে সফল হওয়া মুশকিল। স্বাভাবিক ভাবেই পাহাড়ে কোমায় আচ্ছন্ন শাসক দলকে পুনরায় সচল করার কোন সম্ভাবণা আপাতত নেই। এই পরিস্থিতিতে তিপ্রা মথা এবং আই পি এফ টি উভয় দলই পাহাড়ে ক্রমশ জনভিত্তি হারাচ্ছে। তিপ্রা মথার কৌশলী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে জনজাতি যুবকরা। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ে গুটি গুটি পায়ে হলেও সিপিএম নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এটা ঘটনা পাহাড়ে বিজেপির ভিত্তি ছিল জনজাতি মোর্চা। কিন্তু জনজাতি মোর্চা এই রাজ্যে এখন কর্মসূচিহীন সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ক্রমশ জনজাতি মোর্চাকে ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন কি একটা সময় যে জনজাতি মোর্চার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল পূর্ব ত্রিপুরা লোকসভা আসনের সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, তিপ্রা মথাকে বাগে রাখতে রেবতী ত্রিপুরার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। অনিশ্চিত প্রাক্তন বিধায়ক পরিমল দেববর্মার। যদিও তিনি জনজাতি মোর্চার প্রদেশ সভাপতি। একই হাল এম ডি সি বিদ্যুৎ দেববর্মারও। স্বাভাবিক ভাবেই এসব নেতারা এখন হতাশায় দিন গুজরান করছে। ফলে আগামী দিনে পাহাড়ে নীরব বিপ্লব হলে অবাক হওয়ার নয়।

বাংলাদেশী

বাংলাদেশী নাগরিক, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ত্রিপুরা রাজ্যে!

বাংলাদেশীদের ছড়াছড়ি, আগরতলা শহর সহ গোটা ত্রিপুরা রাজ্যে। বাংলাদেশী নাগরিকরা ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর উদ্দেশ্যে, প্রবেশের জন্য প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করছে ত্রিপুরা রাজ্যকে। সীমান্ত টপকে রাজ্যকে করিডর বানিয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে এই বাংলাদেশীরা; আবার কেউ কেউ সুযোগ বুঝে এই রাজ্যেই চুপি চুপি বসবাস করছে। আবার কিছু বাংলাদেশী দালালদের সাথে মিলে কাগজপত্র বের করে দিব্যি প্রকাশ্যে বসতি স্থাপন করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো বাংলাদেশীদের সাথে অস্ত্রের ও আমদানি হচ্ছে এই রাজ্যে। এতে আগামী দিনে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার রাতে আগরতলা শহর দক্ষিণাঞ্চলের মিলন চক্রের আদর্শ পল্লী এলাকা থেকে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা সমাজ প্রিয় চাকমাকে; পিস্তল ও তিনটি বুলেট সহ গ্রেপ্তার করে এডিনগর থানার পুলিশ। কেন সে পিস্তল সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে? কি উদ্দেশ্য ছিল তার? পেছনে বিদেশি কোন মদত রয়েছে কিনা বা বাংলাদেশের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে সে যুক্ত কিনা তা এখনো জানতে পারেনি পুলিশ। সদর মহাকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায় জানিয়েছেন ‘তদন্ত হচ্ছে’। জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো তথ্য জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। গত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে আদর্শ পল্লী এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে বাংলাদেশী এই জনজাতি যুবক। অথচ পুলিশ ঘুমে; এলাকার মানুষের সন্দেহ হওয়ার কারনে তারাই পুলিশকে খবর দেয়। জনজাতি অধ্যুষিত কৃষ্ণনগর বা রামনগর এলাকায় না থেকে কেন মিলন চক্রকে সে বেছে নিল সেটাই প্রশ্ন। তার কাছ থেকে নাইন এমএম পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, প্রচুর বাংলাদেশী টাকা এবং ২ লক্ষের উপরে ভারতীয় টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশের অস্থির অবস্থার পর রাজ্যে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অনুপ্রবেশকারী আটক হচ্ছে। তারা সীমান্ত টপকে দালালদের হাত ধরে এই রাজ্যে প্রবেশ করছে। কিন্তু পিস্তল সহ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার এ রাজ্যে ইদানিং কালের মধ্যে প্রথম ঘটনা। বাংলাদেশে আগস্ট মাসে হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর থেকে এই অঞ্চলকে অশান্ত করতে একটা চক্র সক্রিয়। বাংলাদেশের জামাত পন্থী সন্ত্রাসীরা; মোদির স্বপ্নের অষ্টলক্ষ্মীকে অশান্ত করার জন্য মরিয়া। মঙ্গলবার রাতে ধৃত এই যুবক বাংলাদেশের কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে জড়িত কিনা এখন সেটাই প্রশ্ন।

অপরদিকে মধুপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে আরেক বাংলাদেশী। হাফিজ ভূঁইয়া নামে ওই বাংলাদেশীর বাড়ি, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। কৈয়াঢেপা বিওপির বিএসএফ জওয়ানের হাতে মঙ্গলবার সকালে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকার সময় তাকে আটক করা হয় । পরবর্তী সময়ে আটক বাংলাদেশীকে মধুপুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ জোওয়ান‌রা। মধুপুর থানার পুলিশ মামলা হাতে নিয়ে অভিযুক্তকে বিশালগড় মহকুমা আদালতে সোপর্দ করে। তবে স্থানীয়দের দাবি; সীমান্তে এত নজরদারির থাকা সত্ত্বেও কিভাবে বাংলাদেশীরা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করছে? তার মানে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রচন্ড ঢিলেঢালা এবং এই ঢিলেঢালা নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে দালালদের হাত ধরে রাজ্যে প্রবেশ করছে বাংলাদেশীরা।

ককবরক

ককবরক দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে পর্যটন মন্ত্রীর শুভেচ্ছা।

ককবরক দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে এক শুভেচ্ছাবার্তায় সমগ্র ত্রিপুরাবাসীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। শুভেচ্ছাবার্তায় পর্যটন মন্ত্রী বলেছেন, ককবরক আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যের বহুল প্রচলিত একটি প্রাচীন ভাষা। যা হাজার বছর ধরে ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর মানুষজন বলে আসছেন। ককবরক ভাষাটি উত্তর পূর্ব ভারতের প্রাচীন ভাষাগুলির মধ্যে একটি। প্রতি বছর ১৯ জানুয়ারি ককবরক ভাষার উন্নয়নের জন্য আমরা ককবরক দিবস পালন করি। ১৯৭৯ সালে ককবরক ভাষা সরকারি ভাষার স্বীকৃতি পাওয়ার দিন হিসেবে এই দিনটি পালন করা হচ্ছে।

ককবরক ভাষা দীর্ঘ বছর ধরে সকলের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে আজ সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়েছে৷ সাহিত্য চর্চাতেও ককবরক ভাষা আজ অনেকটা এগিয়ে গেছে৷ ককবরক এমন একটি ভাষা যা আমাদের শিকড়ের সাথে আবদ্ধ করে, আমাদের ঐতিহ্যের কথা বলে। ককবরক ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয় বরং আমাদের পরিচয় এবং গর্বের প্রতিফলন। ককবরক দিবস হল ভাষা, সংস্কৃতি এবং সম্প্রদায়ের উদযাপনের দিবস।আসুন আমরা সেই ভাষাগত ঐতিহ্যকে লালন করি যা আমাদের একত্রিত করে। এই দিনটি আমাদের রাজ্যে জনজাতি অংশের মানুষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপনেরও একটি দিন। সরকার রাজ্যের সকল জাতি গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, শিক্ষা, অর্থনৈতিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে৷ ককবরক ভাষার উন্নয়নে ভ্রাতৃত্ববোধের মধ্য দিয়ে সকল জাতি গোষ্ঠীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি সকললের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমরা সকলে এই দিনটি ককবরক ভাষার উন্নয়নে উদযাপন করি। এই দিনটি ত্রিপুরাবাসীর মধ্যে শান্তি, সমৃদ্ধি, সৌভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বার্তা বয়ে আনুক, এই শুভকামনা রইলো।

সিপিআইএম

সিপিআইএম এবার কেরল লাইনেই হাঁটতে চলেছে!

সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির প্রয়াণের পরে আপাতত সিপিআইএম পলিটব্যুরোর কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে প্রকাশ কারাট। সীতারাম ইয়েচুরি পার্টির সম্পাদক থাকার সময়ে কংগ্রেস সম্পর্কে যে ‘নরম’ মনোভাব নিতেন, তার প্রতিফলন থাকত সিপিআইএমের দলীয় দলিলেও। কিন্তু সেই অবস্থার পরিবর্তন হতে চলেছে। এখন কারাট যুগ চলছে পার্টিতে। আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিপিআইএমের পার্টি কংগ্রেস। সেখানে পার্টির রাজনৈতিক রণকৌশলগত খসড়ায় থাকতে চলেছে সেই কারাট দর্শনই। সূত্রের খবর, কংগ্রেস সম্পর্কে ‘প্রয়োজনীয়’ সমালোচনা রাখা হবে রাজনৈতিক রণকৌশলগত খসড়ায়। যা আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে আনবে সিপিএম।

সূত্রের খবর, অন্য দলের সঙ্গে জোট, আসন সমঝোতা নিয়ে পরে ভাবা যাবে। তার মানে আগামী দিনে কংগ্রেসের সাথে সিপিআইএমের সম্পর্ক থাকবে কিনা তা পার্টি কংগ্রেসেই কারাট লবি ঠিক করবে। প্রশ্ন উঠছে, কেরল লাইনে পার্টি চললে, ইন্ডিয়া জোটের কী হবে? সেই প্রশ্নের উত্তর আগামী দিনে পাওয়া যাবে বলে পার্টি সূত্রে খবর। ২-৬ এপ্রিল মাদুরাইয়ে অনুষ্ঠেয় পার্টি কংগ্রেসে খসড়া রাখা হবে। পার্টির সমস্ত স্তরে আলোচনার জন্য ১ ফেব্রুয়ারি এই খসড়া প্রকাশ করা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি ফের ২২ ও ২৩ মার্চ খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য বৈঠকে বসবে। কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, কংগ্রেস-সহ অন্যান্য অবিজেপি দল যদি ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে ‘নরম’ মনোভাব দেখায়, তারও বিরোধিতা করবে সিপিএম। তিন দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বাংলার একাধিক নেতা সে রাজ্যের বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের সম্পর্কে মূল্যায়ন থাকবে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতেই খসড়াতেও সেই ইঙ্গিতই থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। বাংলার নেতারা যেমন কংগ্রেসের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলার কথা বলেছেন, তেমনি কেরলের নেতারা তাদের রাজ্যের প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস বিরোধিতার কথা বলেছেন। প্রায় এক দশক হতে চলল বিজেপি এবং কংগ্রেসের থেকে সমদূরত্বের লাইন থেকে সরে এসেছে সিপিএম। দল মৌলিক ভাবে সেই লাইন বদল করছে না। কংগ্রেস এবং বিজেপিকে এক বন্ধনীতেও ফেলছে না। তবে আগের মতো “নরম”ও থাকছে না। উল্লেখ্য, আগামী বছর বাংলার সঙ্গে কেরলেও বিধানসভা ভোট। দুই রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে দু”রকম সম্পর্ক সিপিএমের। এটাই সিপিএমের দ্বিচারিতা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

শ্যামসুন্দর

শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের সামাজিক দায়বদ্ধতা!

শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের উদ্যোগে ওয়ারেংবাড়িতে “স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয় বার্ষিক অনুষ্ঠান ২০২৫” এর আয়োজন করা হয়। শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের এক প্রয়াসের নাম এই ‘স্বর্ণগ্রাম’- যা ত্রিপুরা রাজ্যের গোমতী জেলার ওয়ারেংবাড়িকে আদর্শ গ্রাম প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে।

‘স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয়’ হল শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের একটি আবাসিক স্কুল প্রকল্প – সহযোগিতায় রয়েছে ওয়ারেংবাড়ির গ্লোরি অ্যাকাডেমি। এই প্রকল্পে শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্সের তরফে স্কুলের আবাসিকদের সবরকম সুযোগসুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য যথাযথ পুষ্টি, পড়াশোনার সামগ্রী, বই, উপযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ, খেলার কোচ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হয়। ‘স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয় বার্ষিক অনুষ্ঠান’ আসলে স্বর্ণগ্রামের ১৪তম বার্ষিক ক্রীড়া দিবস ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান – যা এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই গৌর চন্দ্র সাহা-র প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করেন বিশেষ অতিথিরা ও গ্রামের শিশুরা। এদিনের অনুষ্ঠানে ‘বেস্ট স্টুডেন্ট (বয়) অফ দা ইয়ার’ ও ‘বেস্ট স্টুডেন্ট (গার্ল ) অফ দা ইয়ার’ হিসেবে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, মেডেল তুলে দেওয়া হয়। এই সম্মাননা মেধা এবং খেলাধুলায় সেরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। এদিন রিয়াং আদিবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রামের ছোটরা গান গেয়ে অনুষ্ঠানের শুরু করে। শেষ হয় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হোজাগিরি নাচ দিয়ে। যা অনুষ্ঠানে এক নয়া মাত্রা যোগ করে। এদিন ‘স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয়’ – এর ছাত্র-ছাত্রীরা যোগব্যায়ামও প্রদর্শন করে। একইসঙ্গে বিশিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে একটি স্বাস্থ্য শিবিরও হয়। পাশাপাশি স্বর্ণগ্রাম-এর প্রত্যেক পরিবারের মধ্যে কম্বলও বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অজয় সরকার, যোগা গুরু যোগীবিশ্ব, ডক্টর সজল নাথ এবং শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স-এর ডিরেক্টর রূপক সাহা । উপস্থিত প্রত্যেকেই স্বর্ণগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, স্কুলের উন্নতি এবং গ্রামের লোকদের জীবনযাপন আরো ভালো করার ব্যাপারে সহযোগিতার কথা বলেন।

শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স-এর স্বর্ণগ্রাম প্রকল্পটি সকলের কাছে স্বপ্নের মতো এক বিশেষ উদ্যোগ, যা ১৬ বছর আগে শুরু হয়েছিল। আর আজ এই উদ্যোগ এক বড় আকার নিয়েছে। সবাই মিলে এই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিপূর্ণ করতে হবে। যোগা গুরু যোগীবিশ্ব বলেন, ‘এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের ডিরেক্টর রূপক সাহা বলেন, “রাজ্য সরকার, রামকৃষ্ণ মিশন এবং ভারত সেবাশ্রম বিশেষভাবে এই উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন; সংবাদমাধ্যমও এই ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। সবার প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। এছাড়া স্বর্ণগ্রামের মানুষের থেকে যে উৎসাহ পেয়েছি তা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।”  তিনি আরও বলেন, “স্বর্ণগ্রাম প্রকল্পটি আমাদের স্বপ্নকেও ছাপিয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে এই পথ আরো প্রশস্ত হবে; আরো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। তবে সবাই একসঙ্গে থাকলে এই উদ্দেশ্য পূরণ হবেই।”

নেশা

নেশার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর!

নেশামুক্ত ত্রিপুরা (মাদকমুক্ত ত্রিপুরা) গঠনে সকল অংশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মাদক মুক্ত কেন্দ্র স্থাপন করবে রাজ্য সরকার। নেশামুক্ত রাজ্য গড়ে তুলতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে।

সোমবার সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জে রাজ্যের প্রথম ২০০ শয্যা বিশিষ্ট সুসংহত মাদক মুক্ত কেন্দ্রের ভূমিপূজন করার পর একথা বলেন। এর পাশাপাশি এদিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিশ্রামগঞ্জে জেলা পরিবহণ কার্যালয়ের নতুন ভবন ও সিপাহীজলা সার্কিট হাউসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিশ্রামগঞ্জ বাজার থেকে চিকনছড়া হয়ে বরকোবাড়ি সড়ক, জম্পইজলা ব্লকের লাটিয়াছড়া উচ্চতর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন এবং চড়িলামস্থিত অটল বিহারী বাজপেয়ী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ ও বাউন্ডারি ওয়ালের উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন এবং অ্যাক্ট ইস্ট নীতি ঘোষণা করেছেন। আমরাও প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিশন অনুসরণ করে কাজ করছি। আমরা উন্নয়নের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময়ই সহজ জীবনযাপনের উপর গুরুত্ব দেন। পিএম – ডিভাইন স্কিমগুলিও রাজ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিধানসভায় অনেক বিধায়ক মাদক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মাদক সমস্যা মোকাবেলায় আমাদের সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ২০১৮ সালের আগে ত্রিপুরা মাদক-যুক্ত ছিল, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা নেশা মুক্ত ত্রিপুরা (মাদকমুক্ত ত্রিপুরা) অভিযান ঘোষণা করেছি। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে রাজ্য সরকার মাদকাসক্ত যুবকদের মাদকাসক্তি কাটিয়ে তুলতে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। স্কুল-কলেজে মাদকাসক্ত যুবদের চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি শিক্ষকদের এ ধরনের পড়ুয়াদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছি। এই সমস্যাটিকে চিহ্নিত করাও সমাধান করাও প্রত্যেকের দায়িত্ব। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের রাজ্যে একটি শক্তিশালী ক্লাব সংস্কৃতি রয়েছে এবং ক্লাব সদস্যদের সাথে বিভিন্ন বৈঠকে আমি তাদের মাদকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সরকারের প্রচেষ্টাকে সহজ করার জন্য জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ খুবই প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এবার আমরা মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছি। ১২১.৯০ কোটি টাকা খরচ করে আমরা এই কেন্দ্রগুলি তৈরি করছি। এই নতুন নেশামুক্তি কেন্দ্রে একটি সুইমিং পুল, যোগব্যায়াম, সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম এবং আরও অনেক কিছুর মতো সুবিধা রাখা থাকবে। যা একটি রেফারেল সেন্টার হিসেবে কাজ করবে। এটি একটি জি+৪ বিল্ডিং হবে। সব জেলায় একই ধরনের কেন্দ্র খোলা হবে। আমি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে এই প্রকল্পগুলি যথাসময়ে শেষ করার জন্য আহ্বান করছি। মাদকের প্রতি আমাদের জিরো-টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং আমরা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিধায়ক কিশোর বর্মণ, বিধায়ক অন্তরা সরকার দেব, বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন, বিধায়ক সুবোধ দেববর্মা ও বিশ্বজিৎ কলই, রাজ্য সরকারের সচিব কিরণ গিত্তে, জেলাশাসক সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল, এসপি বি জে রেড্ডি সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ।