প্রজাতন্ত্র

ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ঝলক, দিল্লির প্রজাতন্ত্র দিবসে!

২০২৫ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়াদিল্লির কর্তব্য পথে প্রদর্শিত কুচকাওয়াজে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবকটি রাজ্যের মধ্যে শুধুমাত্র ত্রিপুরাই স্থান পেল। দিল্লির কর্তব্যপথে আজ এক মনোমুগ্ধকর উদযাপনের সাক্ষী হলো সমগ্র দেশ। ভারতের ৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবসের এই মহাযজ্ঞে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করল ভারতের সামরিক শক্তি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অপূর্ব মিশ্রণ।

প্রতি বছরের মতোই এ বছরও এই বিশেষ দিনটি স্মরণ করা হলো ভারতীয় সংবিধানের কার্যকর হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সম্মানে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি। তাঁর উপস্থিতি এই উদযাপনকে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব দিয়েছে। ত্রিপুরার অনন্য আকর্ষণ ছিল, রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক চতুর্দশ দেবতা বাড়ি মন্দিরের আদরে তৈরি ট্যাবলু। ভারতের প্রতিটি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিনিধিত্বের মধ্য দিয়ে যে বৈচিত্র্য প্রদর্শিত হয়, সেখানে ত্রিপুরার ট্যাবলো এক বিশেষ উজ্জ্বলতা এনেছিল। ত্রিপুরার ট্যাবলোতে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, বাঁশ ও বেতশিল্প, এবং এখানকার জীবন্ত সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। মূল ট্যাবলোটি “স্বনির্ভর ত্রিপুরা: হস্তশিল্পের মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়ন” থিমে সাজানো হয়েছিল। এতে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী বাঁশের সামগ্রী, শাল ও চাদরের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পের উপর জোর দেওয়া হয়। ট্যাবলোতে আরও প্রদর্শিত হয় ত্রিপুরার গারো এবং রিয়াং উপজাতির ঐতিহ্যবাহী নৃত্য। রঙিন পোশাক এবং মনোমুগ্ধকর নৃত্যশৈলী দর্শকদের মুগ্ধ করে। ত্রিপুরার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই অনন্য প্রদর্শন আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় স্তরে প্রশংসিত হয়। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রজাতন্ত্র দিবসের মঞ্চে আমাদের রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। এই ট্যাবলো শুধু আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রচার নয়, ত্রিপুরার নতুন সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল বার্তা বহন করে।” প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের মূল আকর্ষণ ছিল ভারতীয় সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কর্তব্যপথে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে। এবারের কুচকাওয়াজে নতুন প্রজন্মের অস্ত্র এবং প্রযুক্তির প্রদর্শনী বিশেষ নজর কাড়ে। প্রথমবারের মতো, ভারতীয় বিমানবাহিনীর মহিলা পাইলটরা যুদ্ধবিমান পরিচালনার কৌশল প্রদর্শন করেন। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নারীদের ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে জাতীয় ঐক্যের প্রতিচ্ছবি ছিল দৃশ্যমান। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তাদের নিজ নিজ ট্যাবলোতে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেছে। পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, গুজরাট, এবং কেরালার ট্যাবলোর পাশাপাশি ত্রিপুরার প্রদর্শনী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সংবিধান কেবল একটি আইনি দলিল নয়, এটি আমাদের দেশের ঐক্য, গণতন্ত্র এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক। আমরা একসঙ্গে কাজ করে আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করতে পারি।”

প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে দিল্লি শহরজুড়ে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কর্তব্যপথ এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছিল প্রচুর নিরাপত্তা কর্মী।জনসাধারণের মধ্যে ছিল উৎসাহের চরম উদ্দীপনা। বহু মানুষ ভোরবেলা থেকেই কর্তব্যপথে জড়ো হন। ২০২৫ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের উদযাপন ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জাতীয় ঐক্যের একটি অনন্য মঞ্চ হিসেবে উদযাপিত হলো। ত্রিপুরার ট্যাবলো এই অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠে। এই দিনটি শুধু অতীতকে স্মরণ করার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এক নতুন উদ্দীপনা জোগাল।

ভারত

ভারত বনাম ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের দাপুটে জয়!

ভারত বনাম ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারতীয় দল একটি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত ২-০ ব্যবধানে অগ্রগামী হয়েছে এবং সিরিজটি নিশ্চিত করেছে। ভারতীয় স্পিনারদের জাদুকরি পারফরম্যান্স এবং ব্যাটসম্যানদের স্থির মেজাজ এই জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল।

ইংল্যান্ড টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ভারতীয় স্পিনারদের সামনে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়। মাত্র ৪৫ ওভারেই ২১৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। জবাবে, ভারত ৩৯.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রান তুলে সহজেই ম্যাচটি জিতে নেয়। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা বিশেষ কিছু করতে পারেননি। জেসন রয় এবং ডেভিড মালানের মধ্যে ওপেনিং জুটিতে ৭২ রান ওঠে। তবে জেসন রয় (৪৮) এবং মালান (৩৭) আউট হওয়ার পর থেকেই ইংল্যান্ডের ইনিংসের পতন শুরু হয়। ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদব এবং রবীন্দ্র জাদেজা মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের একের পর এক ফিরিয়ে দেন। জস বাটলার (২১), মঈন আলি (১৫), এবং স্যাম কারান (১২) বড় রান করতে ব্যর্থ হন। শেষের দিকে ক্রিস ওকস ৩০ রানের একটি ইনিংস খেলেন, যা দলের সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছাতে সামান্য সহায়তা করে। ভারতীয় বোলাররা দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন। বিশেষ করে স্পিনাররা ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

কুলদীপ যাদব: ১০ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন। তিনি নিজের লাইন এবং লেংথে অসাধারণ নিখুঁত ছিলেন।
রবীন্দ্র জাদেজা: ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। তার ধারালো টার্ন এবং ফ্লাইট ডেলিভারিতে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা বিভ্রান্ত হন।
মোহাম্মদ শামি: নতুন বল হাতে শামি ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারকে চাপে রাখতে সাহায্য করেন। তিনি ৮ ওভারে ২ উইকেট তুলে নেন।

ভারতের ব্যাটিংয়ে শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে ছিল। শিখর ধাওয়ান মাত্র ৫ রানে আউট হন। রোহিত শর্মা (৩৪) এবং বিরাট কোহলি (৫৬) দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস সামলান। কোহলির অর্ধশতরান দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।এরপর শ্রেয়স আইয়ার এবং লোকেশ রাহুলের (৪২*) মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে। শেষদিকে হার্দিক পান্ডিয়া মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

স্পিনারদের প্রভাব: চেন্নাইয়ের স্লো এবং স্পিন-সহায়ক পিচে কুলদীপ এবং জাদেজার বোলিং ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছে।
ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা: ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, যা তাদের স্কোর বোর্ডে বড় রান তুলতে দেয়নি।
ভারতের ব্যাটিং গভীরতা: রোহিত-কোহলির পর আইয়ার এবং পান্ডিয়া দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন, যা দলের ব্যাটিং গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।

এই ম্যাচে কুলদীপ যাদবের ৪ উইকেট তাকে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার এনে দেয়। ম্যাচের পর কুলদীপ বলেন, “পিচ আমাকে সাহায্য করেছে। আমি লাইন এবং লেংথ ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে আমি খুশি।” ভারতীয় দল এই ম্যাচে প্রতিটি বিভাগে আধিপত্য দেখিয়েছে। তাদের বোলিং, ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং একসঙ্গে কাজ করেছে। বিশেষ করে স্পিন বিভাগে ভারতের শক্তি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তাদের ব্যাটিং অর্ডার আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং ভারতীয় স্পিনারদের মোকাবিলার কৌশল খুঁজতে হবে।

ভারতের এই জয় শুধু সিরিজ জয়ের বিষয় নয়, এটি দলের সামগ্রিক শক্তি এবং ভারসাম্যের প্রতিফলন। পরবর্তী ম্যাচে ইংল্যান্ড যদি ঘুরে দাঁড়াতে চায়, তবে তাদের ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি করতে হবে। অন্যদিকে, ভারত সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

লংতরাই

লংতরাই ত্রিপুরার গুন্ডি ছাড়িয়ে এখন জাতীয় স্তরের একটি ব্র্যান্ড!

লংতরাই

ত্রিপুরার মানুষের রসনায় তৃপ্তি আনার পর, লংতরাই– ত্রিপুরার গণ্ডি ছাড়িয়ে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি সমেত পশ্চিমবঙ্গেও তাদের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটিয়েছে। “দা টাইমস্ অফ ইন্ডিয়া” উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের উদ্যোক্তাদের বিশেষ সম্মাননায় সংবর্ধিত করতে আয়োজন করে “টাইমস্ বিজনেস্ অ্যাওয়ার্ড নর্থ ইস্ট”-এর ২য় সংস্করণ।

উক্ত অনুষ্ঠানে শুক্রবার গুয়াহাটিস্থিত তাজ হোটেলে লংতরাই ব্র্যান্ডের কর্ণধার শ্রী রতন দেবনাথকে উত্তর পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ মশলা প্রস্তুতকারক হিসেবে সম্মানিত করা হয়েছে। এই সম্মান লংতরাই- এর পণ্যগুলির উৎকৃষ্ট গুণমান, বিশুদ্ধতার প্রতিফলন। পুরস্কার গ্রহণ করে লংতরাই-এর কর্ণধার শ্রী রতন দেবনাথ জানান, “এই স্বীকৃতি আমাদের প্রেরণা জাগায় এবং আরও নিবিড়ভাবে কর্মোদ্যোগ গ্রহন করার পথে উদ্বুদ্ধ করে। পাশাপাশি এই স্বীকৃতি আমাদের দায়িত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতীয় স্তরের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম দা টাইমস্ অফ ইন্ডিয়ার দ্বারা লংতরাই ব্র্যান্ডকে জ্ঞাপিত এই সম্মানে উচ্ছ্বসিত ছোট্ট পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরার আপামর জনগণ। এই ব্র্যান্ডের অংশ হতে পেরে লংতরাই পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য এবং কর্মী গর্বিত। উল্লেখ্য, লংতরাই ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারত ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রসারিত হয়েছে।এই পুরস্কার লংতরাই-এর পণ্যের গুণমানের প্রতি মানুষের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত!

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা সম্প্রতি সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান, পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা তাঁর ফেসবুক পোস্টে এই গর্বজনক মুহূর্তের জন্য অধ্যাপক সাহাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা জির এই স্বীকৃতি তাঁর অসাধারণ শিক্ষাগত ও সাহিত্যিক অবদানের যথার্থ সম্মান। একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং লেখক হিসেবে তাঁর কাজ অসংখ্য ব্যক্তিকে অনুপ্রাণিত করেছে।” অধ্যাপক সাহা তাঁর জীবনে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অগণিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপ্তি তাঁর অসামান্য কাজের প্রতি জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি।

ত্রিপুরার মানুষ এবং শিক্ষা সমাজ তাঁর এই অর্জনে গর্বিত। এটি রাজ্যের জন্যও একটি অনন্য গৌরব।

প্রজাতন্ত্র

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক মুহূর্তে সন্দেহ ভাজন বিদেশি গ্রেপ্তার!

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে উদয়পুর রেল স্টেশনে আটক এক সন্দেহ ভাজন নাইজেরিয়ান নাগরিক! সে দিল্লি থেকে আগরতলা হয়ে সাব্রুম যাচ্ছিল। উদয়পুর জিআরপি পুলিশ রেল স্টেশনে থেকে শুক্রবার রাত নয়টা নাগাদ তাকে আটক করে। তার কাছে প্রাপ্ত নথিপত্র থেকে দেখা গেছে তার নাম ওনিগুছ ক্যানেট। সে নাইজেরিয়ার লাগোস থেকে এসেছে। খবর পেয়ে আরকেপুর থানার ওসি বাবুল দাস এবং পরে এসডিপিও নির্মাণ দাস উদয়পুর রেল স্টেশনে পৌঁছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই ব্যাক্তি তার মোবাইলে থাকা ছবিতে ভিসা ও পাসপোর্ট দেখাতে সক্ষম হয়। কিন্তু ভারতীয় পাসপোর্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী সঙ্গে অরজিনাল পাসপোর্ট থাকার কথা; কিন্তু সে তা পুলিশকে দেখাতে পারেনি। তার কাছে থেকে ১২৬৭৫ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ডিকশনারি পাওয়া গেছে। একটি ব্যাগ থেকে ড্রাই ফ্রুটস, ড্রাই ফিস এবং কিছু কাপড় পাওয়া গেছে। তবে লোকটি জানিয়েছে নাইজেরিয়াতে যে অশান্তি চলছে তার কারণে সে গত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারতে চলে এসেছে। কিন্তু শুক্রবার কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে করে দিল্লির আনন্দ বিহার থেকে আগরতলা হয়ে সাব্রুমের দিকে কেন যাচ্ছিল এর কোন সদুত্তর সে দিতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে সম্ভবত সে বাংলাদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই সাব্রুম যাওয়ার পরিকল্পনা করে। সে আবার জানায় সাব্রুম তার বোন থাকে। মূলত সে ত্রিপুরায় কেন এসেছে তা বলছে না। পুলিশ সুপার নির্মাণ দাস জানান ক্রিমিনাল কন্সপিরেসি এবং পাসপোর্ট এক্ট অফ ইন্ডিয়া অনুসারে একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে প্রজাতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে আগরতলা শহরের বিভিন্ন বাজারে, পশ্চিম জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে বটতলা বাজারের অবৈধ মদের ঠেক গুলিতে হানা দিয়ে এগুলিকে গুঁড়িয়ে দেয় পুলিশ এবং একজনকে গ্রেফতার করে। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার ডক্টর কিরন কুমার জানান প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর ও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ নাকা চেকিং করছে যেন কোন ধরনের অপৃত্তিকর ঘটনা না ঘটে।

জাতীয়

জাতীয় পর্যটন উৎসবে আমন্ত্রিত বিভিন্ন টোর অপারেটররা!

রাজ্য পালিত হচ্ছে জাতীয় পর্যটন উৎসব। রাজধানীর গীতাঞ্জলি গেস্টহাউস প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই উৎসবের সূচনা করেন পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন মেয়র দীপক মজুমদার, পর্যট ন দপ্তরের সচিব ইউকে চাকমা, নিগমের অধিকত্তা প্রশান্ত নেগী বাদল সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। উৎসবকে কেন্দ্র করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন টোর অপারেটরদেরও। উৎসবকে কেন্দ্র করে গেস্টহাউস প্রাঙ্গনে একটি চিত্র প্রদর্শনীয় ঘুরে দেখেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ মেয়র ও অন্যান্য আধিকারিকরা। পর্যটন দপ্তর এবং ইন্ডিয়ান বিল্ডিং কংগ্রেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন পর্যটন হল এমনই একটি শিল্প যার মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাজ্য সরকার ও সেই পথেই হাঁটছে। এদিন মন্ত্রী রাজ্যের পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন দপ্তরের যে সমস্ত কর্মচারীরা নিরলস প্রয়াস চালিয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন তাদেরকে সংবর্ধনা জানানো হয়। এছাড়া আর্ট কলেজের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা এদিনের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানাধীকারী কে পুরস্কৃত করা হয়।

বিদেশি

বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের মূল্যায়ন: মহাকুম্ভ মেলা!

মহাকুম্ভ মেলা, বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ, বিদেশি মিডিয়ার বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রতি বারো বছর অন্তর আয়োজিত এই মেলাটি হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান। এটি ভারতের প্রয়াগরাজে গঙ্গা, যমুনা এবং পৌরাণিক সরস্বতী নদীর সঙ্গমস্থলে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি বিস্তর আলোচনা করছে, বিশেষ করে এর বিশালতা, আধ্যাত্মিকতা এবং এর সাথে জড়িত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে।

বিদেশি সংবাদমাধ্যম যেমন দ্য গার্ডিয়ান এবং বিবিসি, মহাকুম্ভের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তারা উল্লেখ করছে যে এই উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বাস করেন, সঙ্গমে স্নান করলে পাপমোচন হয় এবং আত্মার মুক্তি মেলে। প্রায় ৪০ কোটি মানুষের সমাগম প্রত্যাশিত এই মেলায় আখড়া, সাধু, সন্ন্যাসী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলন দৃশ্য বিশ্বের জন্য অভূতপূর্ব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হল মেলার বিশাল আয়োজন। রয়টার্স এবং এল জিরা জানিয়েছে, ভারত সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন এই মেলার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কুম্ভ মেলা অ্যাপ, ড্রোন নজরদারি, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রিস্টব্যান্ড, এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই বিশাল জনসমাবেশে ব্যবস্থাপনা সহজ করছে।এছাড়া, দূষণ এড়াতে এবং পরিবেশবান্ধব মেলা আয়োজনের জন্য নেওয়া নানা পদক্ষেপকেও তারা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে।নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্ট এই মেলার রাজনৈতিক এবং সামাজিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেছে। তারা উল্লেখ করছে যে, মেলাটি শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক প্রভাবেও সমৃদ্ধ। বিজেপি সরকারের অধীনে মহাকুম্ভ একটি বৃহত্তর প্রচারণা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এখানে নেতাদের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন সামাজিক বার্তা প্রদান রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহাকুম্ভের ঐতিহাসিক গুরুত্বকেও বিদেশি সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়েছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং হিস্ট্রি চ্যানেল মহাকুম্ভের ইতিহাস এবং এর সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতার ওপর ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে। তারা দেখিয়েছে, কীভাবে এই উৎসব প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি কোটি কোটি মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনের অংশ হয়ে আছে।

বিদেশি মিডিয়া মহাকুম্ভ মেলাকে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখছে। এর বিশালতা, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা, এবং ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা বিশ্ববাসীর জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রজাতন্ত্র

প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়াদিল্লির কর্তব্যপথে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছেন ত্রিপুরার আমন্ত্রিতরা! 

৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়াদিল্লি’র কর্তব্যপথে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করতে সারা দেশ থেকে প্রায় দশ হাজার জন বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছেন। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন সমাজের নানা স্তরের নাগরিক। ত্রিপুরা থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন মোট ৯৫ জন। এদের মধ্যে পিএম যশস্বী প্রকল্পে বৃত্তি পাওয়া ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, ত্রি-স্তর পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, বন সংরক্ষক, হস্তকারু, পানীয় জল, গ্রামোন্নয়ন, বনধন যোজনা, পি এম জনমন, মৎস্য সম্পদ যোজনার সুবিধাভোগীরা রয়েছেন, রয়েছেন জিলা ও ব্লক পঞ্চায়েত এর প্রতিনিধিরা।

রাজধানী দিল্লিতে ২৬ জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড দেখতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আজ রওয়ানা হয়েছেন। আকাশবাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানান, রাজধানী দিল্লিতে রেড দেখার আমন্ত্রণ পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ অতিথি’র তালিকায় রয়েছেন কৈলাশহরের উত্তর ইরাণি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী হাসনা বেগম। কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও পুষ্টি বিষয়ে তিনি কাজ করেন। তাকে আমন্ত্রণ জানানোয় কারণে গ্রামের সবাই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী মৎস্যসম্পদ যোজনায় একজন সুবিধাভোগী – কুমারঘাটের মৎস্যজীবী দিগ্বিজয় দাস ভৌমিক বলেন, একজন সাধারণ মৎস্যজীবী হিসেবে নয়াদিল্লি’তে যাবার ডাক পেয়ে নি খুবই খুশি। তিনি এজন্য সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’কে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর যশস্বী প্রকল্পের আওতায় স্কলারশিপপ্রাপ্ত বিএড, বি টেক, বি ফার্মা কোর্সের পড়ুয়া ৬ জন ছাত্রছাত্রীও দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড দেখার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এদের মধ্যে আগরতলার সুস্মিতা দেবনাথ জানান, যশস্বী স্কিমের সুবিধা পেয়ে ওবিসি- ভুক্ত ছেলেমেয়েরা উচ্চতর শিক্ষা নিতে পারবে। দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড দেখতে যাবার আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি খুবই খুশি। তারা সবাই শনিবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রাজ্য ত্যাগ করেছেন৷

CPIM

CPIM এর এবারের পার্টি কংগ্রেস নতুন দিশার সন্ধানে!

ভারতের পরিবর্তিত রাজনীতিতে কি নতুন ভাবে ভাবনা চিন্তা করতে চলেছে CPIM? চলতি বছরের অনুষ্ঠিত হতে চলা CPIM পার্টি কংগ্রেসে নতুন দিশা কি হবে? কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?বিজেপির মতাদর্শকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করার মতোই বা কি অস্ত্র হাতে নেবে বামেরা? পার্টি কংগ্রেসের আগে খসড়া প্রতিবেদনে এ নিয়ে নানা বিষয় স্থান পেয়েছে বলে খবর।

ধর্মকে আফিমের সঙ্গে যারা তুলনা করতো, সেই রাজনৈতিক দল এখন নিজেদের রাজনৈতিক দিশা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আগেই ভারতীয় মনীষীদের গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের ছবি স্থান দিয়েছিল CPIM। এবার গোটা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ভাবাবেগকে গুরুত্ব না দিয়ে দল ভবিষ্যতে এগোতে চাইছে না। ২০২৫ সালেই মাদুরাইতে অনুষ্ঠিতব্য এই পার্টি কংগ্রেসের জন্য দল ইতিমধ্যেই খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে নিয়েছে বলে খবর। এতদিন পর্যন্ত বামেদের মতে ধর্ম হচ্ছে আফিম এর মত। নির্দিষ্ট যেকোনো ধর্ম বিরোধী অবস্থান সিপিআইএমের। জানা গেছে আসন্ন কংগ্রেসে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চাইছে সিপিআইএম। কারণ হচ্ছে সমাজে ধর্মীয় কর্মসূচি বাড়ছে। দলের বিশ্বাস, তাই ধর্মীয় আস্থাবান লোকেদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। সিপিআইএম অনুধাবন করছে যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ধার্মিকতার জন্য বিজেপি এবং আরএসএস, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই যতটা জানা গেছে দলের খসড়া প্রস্তাবে মোটামুটি ঠিক হয়েছে যে, ধার্মিক লোকেদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করার জন্য তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার রাস্তায় নিয়ে আসতে হবে। কারণ CPIM তাদের রাজনৈতিক বন্ধু কংগ্রেসের শ্রেণী চরিত্র নিয়ে সন্দিহান। তাই খসড়া প্রস্তাবে বলা হচ্ছে কংগ্রেসের শ্রেণী চরিত্র বিচার করতে হবে।কংগ্রেস কোথায় রাজনৈতিকভাবে দাঁড়িয়ে আছে সেটা বামেদের কাছে স্পষ্ট নয়। কংগ্রেস যে নিজেদের নতুন করে বামপন্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে তাতে সিপিআইএমের ক্ষতি হচ্ছে। কংগ্রেসের নতুন উদারনীতিবাদ বামেদের জন্য আরও বেশি সমস্যার। কারণ এটা কংগ্রেস নিজেদের পরিচালিত সরকারকে দিয়ে বাড়াতে চাইছে, যেটা বামেদের জন্য লোকসানের। কংগ্রেসের রাজনৈতিক চরিত্রের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করা সিপিআইএম মনে করছে, যে কোন সময় কংগ্রেস নিজেদের ধর্মীয় অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। কংগ্রেস যে কোন সময় হিন্দুত্বের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারে। এই তালিকায় শুধু কংগ্রেস নয়, ডিএমকে, আরজেডি, এনসিপি সহ আরো অনেক ইন্ডিয়া জোটের দল রয়েছে। তাই আগামী কংগ্রেসে সিপিআইএম ধর্ম নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে রাজনৈতিক লাইন নির্ধারণ করবে। শুধু তাই নয় সিপিআইএম এখন মনে করছে, সমাজতন্ত্রের পথ ভারতীয়ত্বের উপর নির্ভর করতে হবে, বহিরাগত তত্ত্বের মাধ্যমে নয়। একসময় প্রচার ছিল যে মস্কোতে যদি বৃষ্টি হয় তবে ভারতের কমিউনিস্ট মাথার উপর ছাতা ধরতো। নতুন ধারা অনুযায়ী তারা সমাজতন্ত্রকে আবার পুনরোজ্জীবিত করতে চায়। কারণ ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্স এর সঙ্গে যেন সিপিআইএম নিজেদের গুলিয়ে না আনে। সিপিআইএম ইন্ডিয়া জোটের শক্তির চাইতে, বাম শক্তিগুলোকে একত্রিত করার উপর অধিক গুরুত্ব দিতে চাইছে। সিপিআই মনে করে যে বিজেপি বিরোধী গদবাধা রাজনীতিতে চলার ফলে সিপিআইএম নিজেদের জনসমর্থন হারিয়েছে। যার ফলে বিজেপি এখন ত্রিপুরা পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলেও নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে সিপিআইএম অনেকটা পিছিয়ে গেছে বা যাচ্ছে। ত্রিপুরায় ক্ষমতায় বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি, কেরলেও তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। এ অবস্থায় সিপিএমের দুর্বলতায় যে সবচেয়ে বেশি লাভবান বিজেপি হচ্ছে তা দলটি বিশ্বাস করে। মূলত এই জনসমর্থন কমার পেছনে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই তাদের অনুধাবন, CPIM নির্বাচনী রাজনীতিতে বেশি ঝুঁকে গেছে, এর ফলে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধিতে গতি কমেছে এবং জনবল হ্রাস পেয়েছে। তাই আসন্ন কংগ্রেসে ‘নতুন সাধারণ সম্পাদক’ নির্বাচনের চাইতেও দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লাইন নির্ধারণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দেশের এই বাম শক্তি।

ভারত

ভারত ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চেন্নাইয়ে!

ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি আগামীকাল ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, শনিবার, চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ম্যাচে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ভারতীয় দল ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে অধিনায়ক জস বাটলার সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন। ভারতের হয়ে বরুণ চক্রবর্তী ৩টি এবং আর্শদীপ সিং, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও অক্ষর প্যাটেল প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন। জবাবে, ভারতীয় দল ১২.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। অভিষেক শর্মা ৩৪ বলে ৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এই জয়ে ভারত, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ড দল সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবে। প্রথম ম্যাচে দলের ব্যাটিং লাইনআপ প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি, বিশেষ করে জস বাটলার ছাড়া অন্য কেউ উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি। নতুন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ড দল আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা করছে। ভারতীয় দলে মোহাম্মদ শামি দীর্ঘদিন পর চোট সারিয়ে দলে ফিরেছেন, যদিও প্রথম ম্যাচে তিনি খেলেননি। দ্বিতীয় ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, জসপ্রিত বুমরাহ পিঠের ব্যথার কারণে সিরিজ থেকে বাদ পড়েছেন।

ম্যাচের সময়সূচী:

তারিখ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, শনিবার
সময়: সন্ধ্যা ৭টা (স্থানীয় সময়)
স্থান: এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম, চেন্নাই

দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ:

ভারত:

১. অভিষেক শর্মা ২. সঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার) ৩. তিলক বর্মা ৪. সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক) ৫. হার্দিক পাণ্ডিয়া ৬. রিঙ্কু সিং ৭. নীতীশ কুমার রেড্ডি ৮. অক্ষর প্যাটেল ৯. রবি বিষ্ণোই ১০. আর্শদীপ সিং ১১. বরুণ চক্রবর্তী।

ইংল্যান্ড:

১. বেন ডাকেট ২. ফিল সল্ট (উইকেটকিপার) ৩. জস বাটলার (অধিনায়ক) ৪. হ্যারি ব্রুক ৫. লিয়াম লিভিংস্টোন ৬. জ্যাকব বেথেল ৭. জেমি ওভারটন ৮. গাস আটকিনসন ৯. জোফ্রা আর্চার ১০. আদিল রশিদ ১১. মার্ক উড।

ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে টকস্পোর্ট ২ এবং টিএনটি স্পোর্টসে, যুক্তরাজ্যের সময় দুপুর ১:৩০টা থেকে। ভারতীয় দল চাইবে তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে।অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দল সিরিজে ফিরে আসার জন্য এই ম্যাচটি জিততে মরিয়া থাকবে। দুই দলের ব্যাটিং ও বোলিং লাইনআপের পারফরম্যান্স এই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের। দেখা যাক, কে হাসবে শেষ হাসি।