বাজার

বাজেটের আগে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড় পতন!

ভারতীয় শেয়ার বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে টানা পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে বাজারের এই নিম্নমুখী ধারা অনেকের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঙ্গে, ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে, যা অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গত কয়েক মাস ধরে, ভারতীয় শেয়ার বাজারে ধারাবাহিকভাবে পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিফটি এবং সেনসেক্স উভয়ই লাল চিহ্নে অবস্থান করছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কের কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের এই বেয়ারিশ প্রবণতা বাজেট ঘোষণার আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। SBI সিকিউরিটিজের ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ডেরিভেটিভস রিসার্চ বিভাগের প্রধান সুদীপ শাহ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, “সামগ্রিকভাবে এই মুহূর্তে দেশের শেয়ার বাজার খুব একটা ইতিবাচক অবস্থানে নেই। নিফটি টানা তিন সপ্তাহ রেড জোনে সপ্তাহ শেষ করেছে। বাজারে স্পষ্টভাবেই বেয়ারিশ প্রবণতার চাপ লক্ষ্যণীয় হচ্ছে। সবকিছুই বাজারে নিম্নমুখী গতি অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত করছে।” বাজারের এই নিম্নমুখী ধারা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই তাদের বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা করছেন এবং সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত এবং বাজারের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

শেয়ার বাজারের পতনের পাশাপাশি, ভারতীয় রুপির মান ডলারের বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৪ সালে, রুপির মান প্রতি ডলারে ৮৫.২৪২৫ রুপিতে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন। এ নিয়ে টানা সাতটি লেনদেনে রুপির দাম কমেছে। রুপির এই পতনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি, পুঁজি দেশের বাইরে চলে যাওয়া, শেয়ারবাজারে দুর্বল প্রবণতা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি, মার্কিন বন্ডের রিটার্ন, এইচএমপিভি ভাইরাসের আতঙ্ক এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে রুপির মানে এই নিম্নগামিতা দেখা যাচ্ছে। বাজারের এই অস্থিরতা এবং রুপির মানের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে, যারা স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগে ছিলেন, তারা এই পতনের ফলে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে, কিছু বিনিয়োগকারী এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বাজারের এই নিম্নমুখী ধারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য একটি উপযুক্ত সময় হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের তাদের পোর্টফোলিও পুনর্বিবেচনা করা উচিত এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণা করা হবে। প্রতিবছর বাজেটের আগে সাধারণত শেয়ার বাজারে একটি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। তবে, এই বছর বাজারের বর্তমান অবস্থার কারণে, বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটের আগে অবশ্যই শেয়ার বাজারে একটি বৃদ্ধির পর্যায় দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে বাজার অস্থির অবস্থায় রয়েছে তবে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাজেটের আগে একটি ধাক্কাই বাজারে প্রত্যাবর্তন নিয়ে আসতে পারে। বাজারের এই অস্থিরতা এবং রুপির মানের পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বিনিয়োগকারীদের এই সময়ে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত এবং তাদের বিনিয়োগ কৌশল পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

ভারতীয় শেয়ার বাজার এবং রুপির মানের বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং সময়। বাজেট ঘোষণার আগে বাজারের এই অস্থিরতা এবং রুপির মানের পতন অর্থনীতির উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীদের এই সময়ে সতর্ক থাকা এবং সুপরিকল্পিত বিনিয়োগ কৌশল গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিরিজে

ভারত-ইংল্যান্ড, টি-টোয়েন্টি সিরিজের ব্যবধান ২-১ এ নেমে এসেছে!

রাজকোটের নিরঞ্জন শাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টি-২০ ম্যাচে ২৬ রানে জয় লাভ করে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে নিজেদের টিকে থাকার আশা বজায় রেখেছে ইংল্যান্ড। ভারত টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটা মসৃণ ছিল না। জস বাটলার টানা তৃতীয়বার টস হারেন, এবং ভারত টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে ফিল সল্ট দ্রুত আউট হন, তবে বেন ডাকেট এবং জস বাটলারের মধ্যে একটি শক্তিশালী জুটি গড়ে ওঠে, যা দলের স্কোরকে স্থিতিশীল করে। তাদের এই পার্টনারশিপ ভারতীয় স্পিনারদের চাপে ফেলে দেয়।

ভারতের বোলারদের মধ্যে বরুণ চক্রবর্তী অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান। তার দুর্দান্ত গুগলির সামনে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা কিছুটা সমস্যায় পড়েন। বরুণ চক্রবর্তী পাঁচ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে ধ্বংস করেন। ইংল্যান্ডের ইনিংসে লিয়াম লিভিংস্টোনের ২৪ বলে ৪৩ রানের ইনিংসটি উল্লেখযোগ্য ছিল, যেখানে তিনি পাঁচটি ছক্কা মারেন। তার এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ইংল্যান্ডের স্কোরকে ১৭১ রানে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ১৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মা দ্রুত আউট হন। তিলক ভার্মা এবং হার্দিক পান্ডিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন, তবে ইংল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা সফল হতে পারেননি।ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে আদিল রশিদ এবং ব্রাইডন কার্সে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ভারতের ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেয়।

শেষ পর্যন্ত, ভারত ২০ ওভারে ১৪৫ রান করে অলআউট হয়, এবং ইংল্যান্ড ২৬ রানের জয় লাভ করে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের ব্যবধান ২-১ এ নেমে আসে এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জন করে ইংল্যান্ড। ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলার বলেন, “এই জয় আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দল হিসেবে আমরা আমাদের সক্ষমতা দেখিয়েছি এবং সিরিজে ফিরে এসেছি। আমাদের বোলাররা আজ অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।” ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেন, “আমরা আজ আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি। ইংল্যান্ডের বোলাররা আজ আমাদের চাপে রেখেছে। আমাদের পরবর্তী ম্যাচে ফিরে আসতে হবে এবং আমাদের ভুলগুলো সংশোধন করতে হবে।” সিরিজের চতুর্থ ম্যাচটি পুনেতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উভয় দলই জয়ের জন্য মরিয়া থাকবে। ইংল্যান্ড সিরিজ সমতায় আনতে চাইবে, আর ভারত সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে।

পর্যটন

রাজ্যে চলছে পর্যটনের ভরা মরশুম!

রাজ্যে ভরা পর্যটন মরশুমে দেশী ও বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। ভ্রমণ পিপাসুদের ত্রিপুরাতে ভ্রমণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। “অতিথি দেব ভব”। রাজ্য সরকারের আথিতেয়তায় মুগ্ধ পর্যটকরা। সুশান্ত চৌধুরী রাজ্য পর্যটন নিগমের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজ্যে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। পর্যটনকে বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য পর্যটন নিগম এবং রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে আকৃষ্ট হয়ে, দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের পর্যটকরাও রাজ্যে আসতে শুরু করেছেন।

এদিকে রাজ্যের জম্পুই পাহাড়কে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তোলার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে রাজ্য পর্যটন নিগম। উল্লেখ করা যেতে পারে এবারই প্রথম জম্পুই হিলে প্রমোফেস্ট এর একটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রোমোফেস্ট ঘিরে জম্পুই পাহাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।  পর্যটনও যে একটা শিল্প হতে পারে এটা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। এবার জম্পুই হিলকে নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে। ভাংমুনের ইডেন লজের কাছে একটি স্কাই-ওয়াক করার প্রস্তাব করেছে মিজো কনভেনশন, যা পর্যটকদের জাম্পুই পাহাড়ের প্রাকৃতিক দৃশ্যের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার স্বাক্ষী হতে পারে। উত্তর জাম্পুই পাহাড়ের ভাইসাম এবং হামাউংচুয়ান গ্রামগুলিকে ইকো-পার্কের জন্য আদর্শ অবস্থান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অঞ্চলগুলি, মূলত অনুন্নত, এই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করে পর্যটনকে উত্সাহিত করার একটি সুযোগ তৈরি হবে। অ্যাডভেঞ্চার পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে প্যারাগ্লাইডিং সাইটের উন্নতির প্রস্তাব করা হয়েছে। ত্রিপুরার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বেতেলিংশিব; এই বেতেলেংশিবকে ঘিরেও পরিকল্পনা রয়েছে নিগমের। মিজো কনভেনশন তার জীববৈচিত্র্য রক্ষার উপর জোর দিয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্য পর্যটন নিগম রাজ্যের ভুস্বর্গ জম্পুইকে নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে।

রাজ্যের প্রতিটি পর্যটন স্থলকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার কাজ চলছে। পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সর্বাত্মক চেষ্টা করে চলেছেন পর্যটন শিল্পকে উন্নত রূপ দেওয়ার। সকলের সর্বাত্মক প্রচেষ্টাই উন্নত হবে রাজ্যের পর্যটন। ছোট ছোট বিষয় গুলিতেও নজর রাখতে হবে পর্যটন দপ্তরের কর্মীদের। এমনটাই বলছেন ভ্রমনপিপাসুরা।

ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের জন্য মরণ-বাঁচন ম্যাচ!

ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি আজ ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজে ভারত ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে, তাই এই ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য মরণ-বাঁচন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। প্রথম ম্যাচে ভারত ৭ উইকেটে জয় লাভ করে সিরিজে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচেও ভারতীয় দল তাদের দাপট বজায় রেখে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে। বিশেষ করে তিলক ভার্মার অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তৃতীয় ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ম্যাচে পরাজিত হলে তারা সিরিজ হারাবে। অধিনায়ক জস বাটলারের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড দল সিরিজে টিকে থাকার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। তাদের ব্যাটিং লাইনআপে ফিল সল্ট, হ্যারি ব্রুক, লিয়াম লিভিংস্টোনের মতো খেলোয়াড়রা রয়েছেন, যারা বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা রাখেন। ইংল্যান্ড দল তৃতীয় ম্যাচের জন্য অপরিবর্তিত একাদশ ঘোষণা করেছে। ব্রাইডন কার্স তার আগের ম্যাচের পারফরম্যান্সের জন্য দলে জায়গা ধরে রেখেছেন। ভারতীয় দলেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবে তারা তাদের বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে পারে।

ম্যাচটি রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬:৩০ টায় খেলা শুরু হবে। ম্যাচটি স্টার স্পোর্টস নেটওয়ার্কে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে এবং ডিজনি+ হটস্টারে লাইভ স্ট্রিমিং উপলব্ধ থাকবে। তৃতীয় ম্যাচটি সিরিজের নির্ণায়ক হতে পারে। ভারত জয়ী হলে সিরিজ নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে ইংল্যান্ড জয়ী হলে সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় থাকবে। দর্শকরা উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা করছেন।

আগরতলা

এখন থেকে আগরতলা বিমানবন্দরে আর X-Ray মেশিনে দিতে হবে না লাগেজ!

আগরতলা MBB বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ X-Ray মেশিনে আর দিতে হবে না। বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক ILB সিস্টেম। একথা জানিয়েছেন MBB বিমানবন্দরের অধিকর্তা কে সি মীনা। তিনি জানান, এই সুবিধা চালু হলে যাত্রীরা তাদের লাগেজ সরাসরি কাউন্টারে দিয়ে দিতে পারবেন। এতে সময়ও সাশ্রয় হবে। অধিকর্তা জানান, এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বিগত পাঁচ বছরে এই বিমানবন্দরের উন্নয়নে সাড়ে ছয়শো কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বিমানবন্দরটি এখন উন্নত হয়েছে গ্রেড থ্রী থেকে গ্রেড টুতে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দর দিয়ে দৈনিক গড়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন বলেও জানান অধিকর্তা কে সি মীনা।

গত বছরের ২১শে মার্চ থেকে, একটি ILS ইনস্টল করার ফলে ফ্লাইটগুলি ৪০০ মিটারের ন্যূনতম দৃশ্যমানতার সাথে, এমনকি কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতেও মসৃণভাবে উঠানামা করতে পারছে। গ্রাহক পরিষেবা এবং নিরাপত্তা ছাড়াও, MBB বিমানবন্দর এই অঞ্চলের যাত্রী পরিসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিমানবন্দরের অধিকর্তা কৈলাশ চন্দ্র মীনা জানিয়েছেন “আগরতলা এমবিবি বিমানবন্দর গ্রাহক সন্তুষ্টির দিক থেকে দেশের মধ্যে ১০ম স্থানে রয়েছে এবং উত্তর-পূর্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকে আগরতলা বিমানবন্দর অনেক এগিয়ে। উত্তর-পূর্বের একমাত্র বিমানবন্দর যার বেসিক স্ট্রিপ ১৪০ মিটার, যে কারণে বিমানবন্দরটিকে অত্যন্ত সুরক্ষিত বলে মনে করা হয়। ILS সিস্টেম চালু হওয়ার কারনে ফ্লাইটগুলি কোনও সমস্যা ছাড়াই, এমনকি কুয়াশাচ্ছন্ন দিনেও অবতরণ করতে পারছে। “নূন্যতম ৪০০ মিটার দৃশ্যমানতার সাথে, ফ্লাইটগুলি এখন নিরাপদে উঠানামা করছে।

এমবিবি বিমানবন্দরের অধিকর্তা জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হয়েছে। যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে, প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার যাত্রী রাজ্য থেকে বর্হিরাজ্যে যেমন যাচ্ছেন তেমনি বহিরাজ্য থেকে ফিরে আসছেন। তিনি বলেন উত্তর পূর্বাঞ্চলের গোহাটি বিমানবন্দর এতদিন গ্রেড টুতে ছিল। কিন্তু সেটি পিপিপি মডেলে আদানি গোষ্ঠীকে এই বিমানবন্দরের দায়িত্ব দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এখন ত্রিপুরা উত্তর পূর্বাঞ্চলের একমাত্র গ্রেট টু বিমানবন্দর। তিনি জানান গত পাঁচ বছরে আগরতলার এমবিবি বিমানবন্দরের পরিকাঠামোর অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমান সময়ে রানওয়ে কার্পেটিং সহ পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে বাংলাদেশে অস্থির অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এখন বাংলাদেশী বিমানযাত্রীদের সংখ্যা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি জানান।

ত্রিপুরা

প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগে ত্রিপুরা ভ্রমণের পরামর্শ মোদির!

প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর ত্রিপুরা। উত্তর পূর্বাঞ্চলের অষ্টলক্ষ্মীর এক লক্ষী ত্রিপুরা । ত্রিপুরাকে দেখতে, জানতে সেই রাজ্য ভ্রমণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া এনসিসি ক্যাডেট, এনএসএস স্বেচ্ছাসেবক, আদিবাসী অতিথি এবং ট্যাবলো শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবার দু’দিন আগে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময়ের সময়, অংশ্রগণকারী ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁদের নানা অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এই মতবিনিময় কালে, ছাত্র-ছাত্রীরা ভারতের স্বচ্ছতা অভিযান যে যুব অংশকেও প্রভাবিত করেছে তা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আনন্দের সাথে আলাপচারিতার সময়, মাই ভারত পোর্টালে যুবদের বিরাট অংশগ্রহণ, এক পেড় মা কে নাম শীর্ষক বৃক্ষ রোপন অভিযান ডিজিট্যাল পরিকাঠামো, বিকশিত ভারতের ভাবনা ও লাখপতি দিদি- পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাফল্যের কথা তাঁদের সামনে তুলে ধরেন। শ্রী মোদী অষ্টলক্ষ্মীর সমগ্র অঞ্চল অর্থাৎ মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, সিকিম, ত্রিপুরা, অসম এবং মেঘালয় ভ্রমণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ত্রিপুরার আগর চাষ সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে ওয়াকিবহাল রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এক শিল্পীর প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন আগের থেকেই আগরতলার নাম হয়েছে। ত্রিপুরার আগর এখন শিল্পে পরিণত। ত্রিপুরা থেকে আগর বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বাম আমলে আগর চাঁষ সরকারি স্বীকৃতি পায়নি। সে সময় গোপনে আগর বাইরে পাঠানো হত। সরকার পরিবর্তনের পর আগর চাষকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আগর ভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কথোপকথনের সময়, প্রধানমন্ত্রী মোদি জাতীয় ঐক্য এবং বৈচিত্র্যের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারতের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে বিভিন্ন রাজ্যের লোকদের সাথে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সফল হওয়ার দৃঢ় সংকল্প বজায় রাখার তাৎপর্য তুলে ধরেন। “ব্যর্থতাকে কখনো ভয় পেয়ো না। ব্যর্থতা থেকে শেখার চেতনা থাকতে হবে; যে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয় সে সাফল্য অর্জন করে,” তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে তিনি ভারতের কৃষক এবং সৈন্যদের কঠোর পরিশ্রম এবং উত্সর্গ থেকে শক্তি পান। “আমি কৃষকদের দেখি এবং অনুভব করি যে তারা কতটা পরিশ্রম করে। আমি সৈন্যদের ঘন্টার পর ঘন্টা সীমান্তে পাহারা দিতে দেখি এবং মনে করি আমি বিশ্রামের অধিকারের যোগ্য নই,”। প্রধানমন্ত্রী মোদি তার সুশৃঙ্খল জীবনধারা এবং তার উত্পাদনশীলতার চাবিকাঠি হিসাবে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসকেও তুলে ধরেছেন। তিনি ভিক্সিত ভারত-এর ভিশন অর্জনের জন্য একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজের কর্তব্য পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী যুবকদের মাই ভারত পোর্টালে নিবন্ধন করতে এবং দেশ গঠনে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা এবং ডায়েরি লেখার মতো ভালো অভ্যাসের ওপরও জোর দেন।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরায় ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ভেন্টিলেটারে, আর তত্ত্বাবধায়ক NHM কোমাচ্ছন্ন!

ত্রিপুরায় ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় চরম দুর্নীতি এবং কর্মীদের প্রতি অন্যায় আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (NHM) অধীনে পরিচালিত এই জরুরি পরিষেবা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কর্মীদের অভিযোগ অনুসারে পরিষেবার মান অবনতি হয়েছে এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে পরিষেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

২০২০ সালে NHM-র অধীনে CAMP নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পরিচালনার জন্য চুক্তি হয়। তবে চুক্তি লঙ্ঘন করে CAMP প্রতিষ্ঠানটি JBLঅ্যাসোসিয়েটস নামক একটি সাব-কন্ট্রাক্টরকে দায়িত্ব প্রদান করে। অভিযোগকারীদের মতে, এই সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিষেবা শুরুর পর থেকেই কর্মীদের শোষণ, হয়রানি এবং তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। কর্মীদের প্রধান অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে নিয়োগপত্র , বেতন স্লিপ, পরিচয়পত্র এবং অভিজ্ঞতার সনদ না দেওয়া। এছাড়া চুক্তিতে উল্লেখিত বেতন কাঠামো ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা। কর্মীদের বেতন থেকে পিএফ (প্রভিডেন্ট ফান্ড) এবং ইএসআইসি (এমপ্লয়িজ স্টেট ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন) এর জন্য অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তা নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি, ফলে কর্মীরা ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, কাজের জায়গায় তাদের মৌখিক অপমান এবং হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিছু কর্মীকে অকারণে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, কোনো অ্যাম্বুলেন্স যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার কারণে পরিষেবা দিতে না পারলে কর্মীদেরই দায়ী করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। ত্রিপুরার ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা বর্তমানে ৯৮টি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীল। তবে, অভিযোগ উঠেছে যে গাড়িগুলির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় অনেক অ্যাম্বুলেন্স অচল অবস্থায় পড়ে আছে। মাসে গড়ে ২০-২৫টি অ্যাম্বুলেন্স যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পরিষেবা থেকে বাদ পড়ছে। এর ফলে বাকি অ্যাম্বুলেন্সগুলির ওপর চাপ বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, সরকারের তরফ থেকে এই পরিষেবার রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা তদারকির ক্ষেত্রে চরম অবহেলা দেখা যাচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সময়মতো জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না। এতে রোগী এবং তাদের পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কর্মীরা একাধিক চিঠির মাধ্যমে সরকারের কাছে তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবি হলো বকেয়া বেতন এবং পিএফ ও ইএসআইসির টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়া। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা। ক্যাম্প এবং জেবিএল অ্যাসোসিয়েটসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া। পরিষেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ত্রিপুরার জরুরি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে কর্মীদের অভিযোগ এবং পরিষেবার ব্যাঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ার কারণে রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

যদিও কর্মীরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি তুলেছেন, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কর্মীরা আশা করছেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং NHM কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন। ত্রিপুরার মতো একটি রাজ্যে, যেখানে ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য, সেখানে দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে সমস্যার সমাধান এবং পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা জরুরি। তা না হলে, এই পরিস্থিতি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

BJP

BJP-র বর্তমান ও প্রাক্তন মন্ডল সভাপতির গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তপ্ত চড়িলাম!

গোষ্ঠী কোন্দল ত্রিপুরার রাজনীতিতে কোনো নতুন বিষয় নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে BJP-র অভ্যন্তরীণ বিরোধ বিশেষ করে মন্ডল ও জেলা স্তরে প্রকট হয়ে উঠেছে। সিপাহিজলা জেলার চড়িলাম মন্ডলে বর্তমান এবং প্রাক্তন সভাপতির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এই ঘটনা BJP-এর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার সংকটকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

চড়িলাম মন্ডলের বর্তমান সভাপতি তাপস দেবনাথ এবং প্রাক্তন সভাপতি রাজকুমার দেবনাথের মধ্যে বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত মতবিরোধ চলছিল। জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় সিপাহিজলা চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকের কাছে উভয় পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি হয়। প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সভাপতির সমর্থকরা প্রাক্তন সভাপতির ঘনিষ্ঠ এক কার্যকর্তাকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিশালগড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই BJP-র কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধই এই সংঘর্ষের মূল কারণ। একাংশ অভিযোগ করেছেন, নেতৃত্বের উদাসীনতার ফলে এই গোষ্ঠী কোন্দল দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত। একজন বাসিন্দা বলেন, “আগে চড়িলামে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। রাজনীতি, শান্তি এবং উন্নয়নের জন্য হওয়া উচিত; কিন্তু এখন তা বিভাজন এবং সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” ত্রিপুরায় BJP-র অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং গোষ্ঠী কোন্দলগুলি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। মন্ডল স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত গোষ্ঠী কোন্দল দলের শৃঙ্খলাকে দুর্বল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের উদ্যোগের অভাবই এই সমস্যার প্রধান কারণ। দলের একাংশ মনে করেন, ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের লড়াই এই সংঘর্ষের মূল কারণ। অন্যদিকে, কিছু নেতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শৃঙ্খলার অভাবের জন্য এমন ঘটনা ঘটছে।

চরিলামে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায় ও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। যদিও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।” BJP-র রাজ্য নেতৃত্ব এই ঘটনায় এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “এই ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানছে। আমরা শিগগিরই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শাসক দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দল আগামী দিনে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষত, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরনের ঘটনা দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারে। বিজেপির জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, মন্ডল ও জেলা স্তরে কার্যকরী নেতৃত্ব প্রদান করে, তবে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দলের কর্মীদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন এবং গোষ্ঠী কোন্দল বন্ধ করার জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, এর প্রভাব সরাসরি নির্বাচনী ফলাফলে পড়তে পারে।

চড়িলামের ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলির একটি উদাহরণ। এই ধরনের ঘটনা কেবল দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানছে না, সাধারণ মানুষের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ না নেয়, তবে এর ফল ভবিষ্যতে আরও গুরুতর হতে পারে। বিজেপির জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো গোষ্ঠী কোন্দল বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে সামনে আসা। কিন্তু এটি আদৌ কতটা সম্ভব হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

CPIM

CPIM রাজ্য সম্মেলন কি দেখাতে পারবে, আগামী দিনের আন্দোলনের দিশা?

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল CPIM আক্ষরিক অর্থেই কি দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে? দলের পরবর্তী রাজ্য কমিটির সম্পাদক কে হবে, এই প্রশ্নেই রীতিমতো ছন্নছাড়া অবস্থা CPIM দলে। বলতে গেলে ক্ষমতায় না থাকার পরও CPIM তাদের গোষ্ঠী কোন্দল সামাল দিতে পারেনি। স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্য সম্পাদকের পদ নিয়ে CPIM দলে এই মূহুর্তে কালনেমির লঙ্কা ভাগ চলছে, এটা বলা যেতেই পারে।

উল্লেখ করার হলো, দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন CPIM দলের হেভিওয়েট নেতা সবারই বিধায়ক হওয়ার ইচ্ছা জাগে। কিন্তু দল যখন ক্ষমতায় নেই, তখন ধনপুর আর মানিক সরকারের নয়, মজলিসপুরে আর মানিক দে প্রার্থী নয়। অন্য দলীয় কর্মীদের প্রার্থী করে নিজেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কয়েক জন প্রাক্তন বিধায়ক তো ২০১৮ সালে পরাজয়ের পর সেই যে এলাকা ছেড়েছে, আজ পর্যন্ত এলাকায় পা রাখেনি। এসব বীরপুঙ্গব নেতারা এখন ভাষন রাখছে বিজেপি হটাবে। আসলে তাদেরকে এখন আর CPIM দলের কর্মী সমর্থকরাই সহ্য করতে পারছেনা। এই পরিস্থিতিতে যখন এই অংশের নেতারা রাজ্য সম্মেলন নিয়ে কথা বলে তখন কর্মী সমর্থকরা রীতিমতো বিরক্ত বোধ করে। এটাই আজকের সি পি আই এম দলের বাস্তব। এই পরিস্থিতিতে চলতি মাসের ২৯ জানুয়ারি থেকে CPIM দলের রাজ্য সম্মেলন। বর্তমান সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীকে পদ থেকে হটানোর জন্য দলের ভেতরেই একটি গোষ্ঠী রীতিমতো ষড়যন্ত্র করে চলেছে বলে খবর। যাকে কেন্দ্র করে গোটা দল এখন দ্বিধা বিভক্ত। এক্ষেত্রে আরও একটি বড় কারন কাজ করেছে; তাহলো ২০১৮ সালের পর বিজেপি ও তাদের উগ্র নেতা কর্মী সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত পরিবারগুলো। বিজেপি ও তাদের উগ্র সমর্থকদের হাতে হাজার হাজার বাম কর্মী সমর্থক আক্রান্ত। অনেকে বাড়ি ছাড়া। আজও বাড়ি ফিরতে পারছেনা। দল তাদের দায়িত্ব নেওয়া দুরের কথা, তাদের খোঁজ ও রাখেনা। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক বিজেপি ও তাদের জাতি বিদ্বেষী শক্তিকে ঠেকানোর জন্য, কিংবা সংঘ পরিবারের এজেন্ডাকে ব্যার্থ করার জন্য প্রধান বিরোধী দল হিসাবে কোন ভূমিকাই রাখছেনা সি পি আই এম। উল্টো সি পি আই এম দলের একাংশ নেতা ও জনপ্রতিনিধি বিজেপির নেতাদের সাথে সমঝোতা করেই বাড়ি ঘরে আছেন। একটা সময় বামফ্রন্ট জমানায় যারা বর্ডার গোলচক্কর থেকে শুরু করে নেতাজী চৌমুহনী, উষা বাজার, জিরানিয়া এমন কি ও এন জি সি তে পিস্তল উঁচিয়ে মাফিয়া সান্রাজ্য চালাতে আজ তারা কোথায়? এই প্রশ্নে কিন্তু আজ সি পি আই এম দলের মধ্যে চরম অশান্তি বিরাজ করছে। এর মধ্যেই আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে তিন দিনের রাজ্য সম্মেলন বসছে।

দীপিকা

‘দীপিকা পাড়ুকোন’ সব্যসাচীর হয়ে মঞ্চ মাতালেন!

বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি ফ্যাশনের দুনিয়ায় এক অনন্য নাম। সম্প্রতি, দীপিকা পাড়ুকোন মেয়ে দুয়ার জন্মের পর প্রথমবারের মতো ফ্যাশন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জির হয়ে র‍্যাম্পে হাঁটলেন। দীপিকার এই অসাধারণ উপস্থিতি ভক্তদের মুগ্ধ করেছে এবং সামাজিক মাধ্যমে তার লুকের তুলনা শুরু হয়েছে বলিউডের স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী রেখার সঙ্গে।

ইতিমধ্যেই বলিউডের আইকনিক অভিনেত্রী এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের মুখ দীপিকা পাড়ুকোন, সব্যসাচীর শাড়ি পরে র‍্যাম্প মাতিয়েছেন। তার এই উপস্থিতি সব্যসাচীর সাম্প্রতিক কালেকশনের প্রদর্শনীতে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। দীপিকা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে হাজির হন, যার সঙ্গে ম্যাচ করা ভারী গয়না তাকে এক দ্যুতিময় রাজকীয় লুকে রূপান্তরিত করে। দীপিকার মেকআপ ছিল পরিমিত এবং চুল ছিল পিন করা খোপায় বাঁধা। এই চেহারাটি ১৯৭০-৮০-এর দশকের রেখার লুকে অনুপ্রাণিত বলে মনে করেন ভক্তরা। দীপিকার এই লুক দেখে অনেক ভক্ত মন্তব্য করেছেন, “এই দীপিকাকে দেখলে রেখার কথা মনে পড়ে।” অন্য কেউ লিখেছেন, “দীপিকার মধ্যে রেখার এক আলাদা ছাপ আছে।” দীপিকার মায়াবী চোখ, দর্শকদের মনে রেখার স্বর্ণযুগের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ২০২৪ সালে দীপিকা এবং রণবীর সিংয়ের কন্যা দুয়ার জন্ম হয়।মেয়ের জন্মের পর দীপিকা কিছু সময় ধরে অভিনয় এবং পাবলিক ইভেন্ট থেকে দূরে ছিলেন। তবে এই ফিরে আসা তার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীপিকা তার মাতৃত্ব এবং পেশাগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রেখে নিজেকে আবার নতুন করে তুলে ধরেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপিকার ছবি এবং ভিডিও নিয়ে ভক্তরা উত্তেজিত। অনেকেই তার প্রশংসা করে বলেছেন, “দীপিকা সব সময় প্রমাণ করেন যে তিনি সত্যিই একজন রানী।” কেউ কেউ বলেছেন, “মেয়ের জন্মের পরেও দীপিকার গ্ল্যামার একটুও কমেনি। বরং তিনি আরও সুন্দরী হয়ে উঠেছেন।” সব্যসাচী মুখার্জি দীপিকার এই র‍্যাম্প ওয়াক নিয়ে বলেছেন, “দীপিকা পাড়ুকোন এমন একজন যিনি ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মেলবন্ধনকে তার স্টাইলের মাধ্যমে দারুণভাবে তুলে ধরতে পারেন। তার সঙ্গে কাজ করা সব সময়ই এক অনন্য অভিজ্ঞতা।”

ফ্যাশন শোয়ের পাশাপাশি দীপিকার বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, তিনি তার পরবর্তী সিনেমার শুটিং শুরু করবেন খুব শীঘ্রই। রণবীর সিংয়ের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন এবং মেয়ে দুয়ার লালনপালনের মধ্যেও দীপিকা তার ক্যারিয়ারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। দীপিকা পাড়ুকোনের এই ফিরে আসা নিঃসন্দেহে তার ভক্ত এবং ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য একটি বড় উপহার।সব্যসাচীর র‍্যাম্পে দীপিকার উপস্থিতি দেখিয়ে দিল যে, মাতৃত্ব একজন মহিলার জীবনকে পূর্ণতা দিতে পারে, তবে তার পেশাগত প্রতিভাকে কখনও ম্লান করতে পারে না। দীপিকার এই চেহারা এবং উপস্থিতি বছরের পর বছর ধরে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।