ত্রিপুরা

ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে রাজ্যের স্থানীয় অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি চক্র। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সেই চক্রটি কাগজপত্র তদারকি না করেই লোন দিয়ে দিচ্ছে অনেককে। যার ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে পরোক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাজ্যের অর্থনীতি। ব্যাংকের যেসব কর্মচারী এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক। ফলে এই অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত তারা পার হয়ে যাচ্ছে।এরকম ভাবেই কাগজপত্র জালিয়াতের মাধ্যমে লোন দেওয়ার আরো একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এলো।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বলার পরে ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত ব্যাংক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকেই সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে যে, রাজ্যের মৎস্য বিভাগের একজন কর্মী ভুয়া নথি জমা দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণ করেছেন। অভিযুক্ত কর্মী হলেন সঙ্গীতা আইচ দত্ত (স্বামী শ্যামল দত্ত), মৎস্য দপ্তরের বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে তিনি এই ঋণ পেয়েছিলেন। ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ঋণ পাওয়ার সময় তার পক্ষ থেকে জমা দেওয়া কেওয়াইসি, ডিডিও সার্টিফিকেট ও বেতনের স্টেটমেন্ট জাল ছিল। ঋণ গ্রহণের পরই বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে, যে নথিগুলি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছিল। গত ১৪ মে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের জয়নগর ব্রাঞ্চ এই বিষয়টি জানায় মৎস দপ্তরকে। বিষয়টি বিবেচনা করে দুইমাস পরে অর্থাৎ ১৩ জুলাই মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বলে। ব্যস এটুকুই অগ্রগতি। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত সঙ্গীতা আইচ দত্তের বিরুদ্ধে মামলা করা তো দূরের কথা, এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি পরে খবর। জাল নথি ব্যবহার করে ঋণ গ্রহণের পরেও বহাল তবিয়তে আছেন সঙ্গীতা দেবী। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গত জুলাই মাসে মামলা করার জন্য বলা হলেও, কেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টিতে উদাসীনতা দেখাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর আধিকারিকভাবে পাওয়ার না গেলেও, ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার ভয়ে মামলা থেকে নিজেদের দূরে রাখছে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক। কারণ ওই মহিলা যেমন জাল নথি ব্যবহার করে ঋণ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তেমনি সেই নথিগুলি খতিয়ে দেখার দায়িত্বও এড়াতে পারেনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিক কারণে সেই মহিলার ঋণগ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যোগ সাজসের সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এটি একটি মাত্র ঘটনা নয়, এরকম আরো বহু অভিযোগ রয়েছে এই ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার বিরুদ্ধে, যেখানে একটি অসাধুচক্র টু-পাইস কমানোর লোভে বাঁকা পথে অনেককে ঋণ মঞ্জুর করে দেয়। সেই চক্রটিকে আড়াল রাখার জন্যই মামলা থেকে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক নিজেদের দূরে রাখছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। কারণ মামলা শুরু হলে, এইরকম আরো বহু ঘটনা সামনে উঠে আসতে পারে, যেখানে ব্যাংকের বহু কর্মচারী তদন্তের আওতায় চলে আসার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ঋণ মঞ্জুর করাই নয়, ঋণ খেলাপি সহ বহু ক্ষেত্রেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসতে পারে তদন্ত শুরু হলে। আর এক্ষেত্রে মৎস দপ্তরও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, সেটাও অনেকের বোধগম্য নয়।

কৈলাসহর

কৈলাসহর এর মহকুমা শাসকের অফিসে ঢুকে, দা দিয়ে কর্মচারীদের প্রাননাশের চেষ্টা!

কৈলাসহর এর মহকুমা শাসকের অফিসে ঢুকে, প্রকাশ্যে ধারালো দা নিয়ে কর্মচারীদের প্রাননাশের চেষ্টা ঘিরে আতঙ্ক উনকোটি জেলায়। কৈলাসহর মহকুমা শাসকের অফিস চত্বরে এই ঘটনা। মহকুমা অফিসে ঢুকে অফিস চলাকালীন সময়ে সরকারি কর্মচারীদের ঠেলা ধাক্কা দিয়ে প্রাননাশের হুমকি দেয় দুস্কৃতিকারীরা। এই ঘটনার পর কর্মচারীরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন৷

শুক্রবার কৈলাসহর মহকুমা শাসকের অফিসের সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের নিরাপত্তার দাবীতে কলম ধর্মঘট করে। ফলে মহকুমাশাসক অফিসের কাজকর্ম বন্ধ ছিলো। ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার দুপুরে। উল্লেখ্য, কৈলাসহরের মহকুমা শাসকের অফিসের বর্তমান বিল্ডিং পুরনো হওয়ার কারনে রাজ্য সরকার সম্প্রতি অফিস বাড়ি নতুন করে নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়। খুব শীঘ্রই নতুন অফিস বিল্ডিংয়ের নির্মানের কাজ শুরু হবে। এরফলে মহকুমা শাসকের অফিস অস্থায়ী ভাবে কিছুদিনের জন্য অন্যত্র স্থানান্তরিত হবে। পুরনো বিল্ডিং ইতিমধ্যেই ভেঙ্গে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিল্ডিং ভাংগার কাজ চলাকালীন হঠাৎ কিছু যুবক হাতে ধারালো দা নিয়ে অফিস চত্বরে প্রবেশ করে। সেসময় কাজ তদারকিতে ছিলেন মহকুমাশাসকের সরকারি কর্মচারী রিক্সানিয়ানা দারলং সহ আরও কয়েকজন কর্মচারীরা। যুবকরা নিজরা নির্মাণ কাজ করবে বলে হুশিয়ারি দেয়। জিজ্ঞেস করে কার নির্দেশে অফিস বিল্ডিং ভাংগা হচ্ছে? রিক্সানিয়ানা দারলং তখস মহকুমাশাসক প্রদীপ সরকারকে দেখিয়ে দেন। তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে বলেন তিনি। সাথে সাথে যুবকরা ধারালো দা দেখিয়ে প্রাননাশের হুমকি দেয়। এমনকি সরকারি কর্মচারীদের ঠেলা ধাক্কাও দিয়েছে বলে সরকারি কর্মচারীরা জানিয়েছেন।যদিও সে সময়ে মহকুমাশাসক প্রদীপ সরকার অফিসে ছিলেন না। কারন মহকুমাশাসক প্রদীপ সরকার ছুটিতে ছিলেন। এই ঘটনায় মহকুমাশাসকের সরকারি কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার সবাই একসাথে অফিস শুরুর প্রথমার্ধে কর্মবিরতি শুরু করে। এই কর্মবিরতির ফলে মহকুমাশাসকের অফিসের সব বিভাগের কাজ বন্ধ ছিলো। কর্মবিরতি চলাকালীন মহকুমাশাসক অফিসের রেভিনিউ সেকশনের সরকারি কর্মচারী দিয়েম চাকমা সংবাদ প্রতিনিধিদের জানান যে, এভাবে অফিস চত্বরে এসে প্রাননাশের হুমকি দেওয়ার ফলে উনারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তাই যতক্ষন পর্যন্ত ঘটনার সমাধান না হবে ততক্ষণ কর্মবিরতি চলবে বলে জানান তিনি। কর্মচারী রিক্সানিয়ানা দারলং জানান তাকেই প্রথমে ধারালো দা নিয়ে যুবকরা ঠেলা ধাক্কা দেয় এবং কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তী সময়ে, যুবকরা অফিসের অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের সাথেও কথা কাটাকাটি করে এবং অভব্য আচরণ করে। শুক্রবার মহকুমাশাসকের অফিসে কর্মবিরতি চলাকালীন সময়ে ঘটনার সাথে জড়িত যুবকরা অফিসে এসে সরকারি কর্মচারিদের কাছে ভুল স্বীকার করেছে এবং ঘটনার মীমাংসা হয়৷ পরে কর্মচারিরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানান সরকারি কর্মচারী রিক্সানিয়ানা দারলং।

বই

বইমেলার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

বই চেতনার সীমা বাড়ায়। নতুন বইয়ের গন্ধে যে আত্ম তৃপ্তি আসে তা আর কোথাও পাওয়া যায় না। তাই পরবর্তী প্রজন্মকে বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। এজন্য অভিভাবকদের আরও বেশী দায়িত্ব নিতে হবে। আজ সন্ধ্যায় হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় মঞ্চে ৪৩তম আগরতলা বইমেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। বইমেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বইমেলার জন্য রাজ্যবাসী সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে এবছর বইমেলা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বই উপহার দেওয়ার প্রচলন ছিল। এই অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনা উচিত। আমাদের সবারই বই পড়া অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেন, মেধা ও মননের উৎসব হল বইমেলা। জ্ঞান অর্জনের ভিত্তি হল বই। আমাদের রাজ্যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতি বছরই বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৩ দিনব্যাপী ৪৩তম আগরতলা বইমেলা চলবে আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এবারের বইমেলায় ১৭৮টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে বহি:রাজ্যের ৪২টি স্টল রয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বইমেলায় যাতে সবাই আসতে পারেন সেজন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগরতলা বইমেলায় প্রতি বছরই বই বিক্রির সংখ্যা বাড়ছে। প্রকাশক, বিক্রেতা ও স্টলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতেই বোঝা যায় আগরতলা বইমেলার উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হচ্ছে। আগরতলা বইমেলা নিয়ে তাই আমরা গর্ববোধ করি। বইমেলায় এবারও নতুন বইয়ের প্রকাশ, আলোচনা সভা, ক্যুইজ, কবি সম্মেলন প্রভৃতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবছর বইমেলার মূল ভাবনা হলো ‘সর্বেষাং শান্তির্ভবতু’। যার অর্থ হলো সবার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। মুখ্যমন্ত্রী সবার প্রতি আহ্বান জানান বই পড়ুন, বই পড়ান ও জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। বইমেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বইমেলার স্মরণিকা এবং বইমেলার মূল ভাবনার উপর বাংলা ও ককবরকে থিম সংয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা বলেন, বইমেলা হল লেখক, প্রকাশক ও গ্রন্থপ্রেমীদের মিলন মেলা। বই কখনো পুরনো হয়না। যখনই বই পড়ব তখন নতুন মনে হবে। তিনি বলেন, আগরতলা বইমেলার বিস্তার এবং বই প্রেমীদের উৎসাহ আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বইমেলায় এসে বই কেনার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কলকাতার বিশিষ্ট লেখক জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিধায়ক মিনারাণী সরকার। তিনি সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আগরতলা বইমেলায় আসার জন্য রাজ্যবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। সবাইকে স্বাগত জানিয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী বলেন, রাজ্যে সাহিত্য চর্চায় বইমেলারও বিশেষ অবদান রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের কথা চিন্তা করে এবারের বইমেলা জানুয়ারি মাসে এগিয়ে আনা হয়েছে। তিনি আগরতলা বইমেলার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত অতিথি ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র ও বিধায়ক দীপক মজুমদার, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি বলাই গোস্বামী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য ও রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য অতিথিগণ বইমেলা ঘুরে দেখেন। প্রতিদিন বইমেলা শুরু হবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। মেলা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। ছুটির দিনগুলিতে বইমেলা শুরু হবে দুপুর ২টায়। মেলা চলবে রাত সাড়ে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

আগরতলা বইমেলায় জাতীয় স্বাস্থ্যমিশন ত্রিপুরার নি-ক্ষয় শিবির খোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শিবিরের এবং স্বাস্থ্য সংবাদ নভেম্বর সংখ্যার উদ্বোধন করেন। তিনি চারজন নি-ক্ষয় মিত্রকে শংসাপত্র প্রদান করেন। এই শিবিরে টিবি রোগের জীবানু সনাক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। শিবিরে নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা পরিষেবাও দেওয়া হবে। মেলায় একটি নি-ক্ষয় বাহনও রয়েছে। নি-ক্ষয় বাহণে সিবি-নেট মিশিনের মাধ্যমে টিবি রোগের জীবানু পরীক্ষা করা হবে।

রাজ্যে

রাজ্যের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর পৌরোহিত্যে সচিবালয়ে শীর্ষস্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত!

রাজ্যের; খাদ্য, জনসংভরণ ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর পৌরোহিত্যে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় গুলোতে ভোক্তা সুরক্ষা আইন, সড়ক নিরাপত্তা এবং মাদকবিরোধী কর্মশালা ও সচেতনতামূলক প্রচারণার অঙ্গ হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা ও ৱ্যালি আয়োজনের জন্য একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মহা বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালদের সাথে ভার্চুয়াল কনফারেন্স এর মাধ্যমে আলোচনা করা হয়। মন্ত্রী শ্রী চৌধুরী সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিকে আয়োজন করার জন্য বিভিন্ন কলেজে তারিখ নির্ধারনের পাশাপাশি এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিকে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশ প্রদান করেন । বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য, জনসংভরণ ও ক্রেতাস্বার্থ বিষয়ক দপ্তর এবং শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভাল হেমেন্দ্র কুমার সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য জনসংভরণ ও ক্রেতাস্বার্থ বিষয়ক দপ্তর,পরিবহন দপ্তর, ট্রাফিক পুলিশ এবং উচ্চ শিক্ষা দপ্তর সম্মিলিত ভাবে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

উদয়পুরের

উদয়পুরের রমেশ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস!

উদয়পুরের রমেশ ইংরেজি মাধ্যম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে বর্ষব্যাপী প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। প্রদীপ প্রজ্জলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহা। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, গোমতী জেলার জিলা সভাধিপতি দেবল দেবরায়, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, উদয়পুর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন শীতল চন্দ্র মজুমদার, গোমতী জেলার জেলাশাসক তড়িৎ কান্তি চাকমা প্রমূখ। মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন রমেশ স্কুল শুধু উদয়পুরে নয় গোটা রাজ্যে এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও সমাদৃত। রমেশ স্কুলের ছাত্ররা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে এমনকি বিজ্ঞানী হিসেবেও কাজ করছেন। এটা শুধু উদয়পুরের গর্ব নয় সারা রাজ্যের গর্ব। তিনি বলেন, এই স্কুলের সুনামকে ধরে রাখার দায়িত্ব এই বিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের শিক্ষার প্রসারের জন্য রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার যে সমস্ত প্রকল্প গুলি নিয়ে হাতে নিয়েছে সেগুলি সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। এর আগে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় এ বিদ্যালয়ের উন্নতি কল্পে বর্তমান সরকার যে সমস্ত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তার একটা রূপরেখ তুলে ধরেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা এবং রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায়কে উদয়পুর রমেশ প্রাক্তনীর আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়। তাদেরকে উত্তরীয় পরিয়ে এবং মানপত্র দিয়ে সম্বর্ধিত করা হয়।

রাজ্যে

রাজ্যে এখনো ম্যালেরিয়া আয়ত্তের মধ্যে আসেনি!

রাজ্যে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমেছে। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে তথ্য ঘাটলে দেখা যাবে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমেছে। এর একমাত্র কারন হলো, ম্যালেরিয়া প্রবন এলাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্য শিবির, আশা কর্মীদের নজরদারি বৃদ্ধি। বলা যায় মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহার নির্দেশে এখন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে রক্ত সংগ্রহ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করছে৷ গত বছর তথা ২০২৪ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী সংখ্যা ৯ হাজার ৭৭০ জন।যা ২০২৩ সাল থেকে অনেক কম। স্টেট ম্যালেরিয়া বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে ২০২৩ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২৪১২ জন। এছাড়া ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জেলা হচ্ছে ধলাই।ঐ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৮২০জন। গত বছর আক্রান্ত এলাকাগুলিতে ওষুধি মশারি বিতরণ করা হয়েছে ৯ লাখ পঁচিশ হাজার ১৮৫ টি। এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তর আক্রান্ত এলাকাগুলিতে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য শিবির জারি রেখেছে। শুধু তাই নয় আক্রান্ত এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীর রক্ত পরীক্ষা করছে। যার ফলে ম্যালেরিয়া চিহ্নিতকরণ এর কাজ খুব দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে। রাজ্যে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৯৮ জন।তার মানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও কমেছে ও কোন মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে নি।

গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত রাজ্যে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪০৩৪ জন। এই সময়ে ২০২৩ সালে সংখ্যাটা ছিল ৫৬০০জন। ২০২৭ সালের মধ্যে রাজ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। তবে এটাও ঠিক, ম্যালেরিয়া প্রবন এলাকায় মাসে দুবার স্বাস্থ্য শিবির করার কথা থাকলেও কিছু কিছু জায়গায় একবারও স্বাস্থ্য শিবির করা হয় নি। এই সময়ে প্রত্যন্ত জনপদে জলবাহিত রোগের সাথে পাল্লা দিয়ে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটে। কিন্তু আগাম স্বাস্থ্য দফতর ব্যবস্থা নিলে কিংবা স্বাস্থ্যশিবির নিয়মিত ভাবে সংগঠিত করলে ম্যালেরিয়ার আক্রমণ থেকে জনজাতি অংশের মানুষ রেহাই পেতে পারেন। যদিও গত কয়েকবছর ধরে ম্যালেরিয়ায় কোনো মৃত্যু নেই। তবে আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকা হচ্ছে ধলাই জেলা। গত বছর এই জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে বলে। এই জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩১৪৬ জন। তবে এ বছর ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকাগুলিতে ঘন ঘন স্বাস্থ্য শিবির করার কাজটি আগে থেকেই নেওয়ার ফলে এই বছর ম্যালেরিয়ার আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। লংতরাইভ্যালি মহকুমার পূর্ব ও পশ্চিম মালিধর, থালছড়া, গর্জন পাশা, গোবিন্দবাড়ি, তুই পাবাড়ি সহ ধলাই জেলার গঙ্গানগর, গণ্ডাছড়া, আমবাসা, করবুক, শিলাছড়ি, সাব্রুমের মাগরুম এলাকায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় জনজাতি অংশের শিশু ও বৃদ্ধরা৷ রাজ্যে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ম্যালেরিয়ার প্রকোপে প্রচুর মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু এখন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নত পরিষেবার ফলে ম্যালেরিয়ায় সংক্রমণের হার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে উদ্বেগ রয়েছে। ২০১৪ সালে ত্রিপুরায় ম্যালেরিয়া ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। ওই বছর ৫১ হাজার ২৪০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তেমনি ২০১৬ সালে ৩২ হাজার ৫২০ জন ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালে সংক্রমণের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ওই বছর ১২ হাজার ৭৭১ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু একজনও মারা যাননি। এবারো ম্যালেরিয়া ভয়াবহ আকার ধারন করে নি। রাজ্যে ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকাগুলিতে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হয়। ওষুধ থেকে শুরু করে রক্ত পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত রয়েছে। দপ্তর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে রক্ত পরীক্ষার উপর। তাতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও সঠিক চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন রোগীরা এবং দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন। ম্যালেরিয়া থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতামূলক উদ্যোগের পাশাপাশি ঔষধ যুক্ত মশারি বিতরণ ও ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করা, ধরা পড়লে ওষুধ দেওয়া, গুরুতর আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে আসা, ও ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকাগুলিতে ঘন ঘন স্বাস্থ্য শিবির করা, এই কাজটি আগে থেকেই নেওয়ার ফলে গত বছর ম্যালেরিয়ার আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে এটাও ঠিক যে প্রত্যন্ত এলাকায় দফতরের তেমন নজরদারি নেই। পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না করার কারণে জনজাতি অংশের মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। নেই স্বাস্থ্য শিবির। যাদের একটু সামর্থ্য রয়েছে তারা হাসপাতাল কিংবা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ছুটে এলেও বাকিরা ওঝাদের উপর নির্ভরশীল। ঘরেই কাতড়াতে হয় শিশু থেকে বৃদ্ধ। লংতরাইভ্যালি মহকুমার সীমান্ত এলাকার জনপদগুলোতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। ফলে তারা চিকিৎসা পরিষেবা নিতে পারছেন না।সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা কিছু কিছু জায়গায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও বাকিদের সমস্যা বাড়ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে চাইছেন। তৃণমূল স্তরের মানুষ যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে পারেন তারজন্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সুফল পাচ্ছেন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ।

পর্যটক

পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য সম্পূর্ণ প্রয়াস জারি আছে।

পর্যটকদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। বুধবার উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ পরিসরে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্যটকদের জন্য ১৬ আসনের ২ টি বাস ও ১০ টি প্যাডেল বোটের সূচনা করেছেন। এই প্যাডেল বোট গুলো রাজবাড়ী দীঘিতে চলবে। মন্ত্রী শ্রী চৌধুরী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজ্যের পর্যটনকে একটি বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, রাজ্য ও বহিরাজ্যের পর্যটকদের জন্য দুটি বাস কেনা হয়েছে। এই বাস দিয়ে রাজ্যের দর্শনীয় স্থানগুলি পরিদর্শন করানো হবে। তিনি আরও জানান, নীরমহল, নারিকেল কুঞ্জ, ছবিমুড়া সহ রাজ্যের যে জলাশয়গুলিতে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে সেখানে প্যাডেল বোট দেওয়া হবে। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ৫০ টি প্যাডেল বোট দেওয়া হবে। বাকি আরও ৫০ টি বোট আনা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক সহ অন্যরা।

বিধানসভার

বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে কি রয়েছে কোন নতুন চমক?

বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন শুরু হতে চলেছে আগামী ১০ তারিখ থেকে। এটি হবে ত্রিপুরার ত্রয়োদশ বিধানসভার ষষ্ঠ অধিবেশন। আজ বিধানসভায় আয়োজিত বিজনেস এডভাইজারি কমিটির বৈঠকে এই অধিবেশনের যাবতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের পৌরহিত্যে আয়োজিত এই বৈঠকে নির্ধারিত হয়েছে, অধিবেশন চলবে তিনদিন। বছরের প্রথম অধিবেশন হওয়ার কারণে নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যপালের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে অধিবেশনের কাজ। অধিবেশনের প্রথম দিন, শুক্রবার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি ভাষণ প্রদান করবেন। এছাড়া বিএসসির বৈঠকে নির্ধারিত কর্মসূচি মতাবেগ পরিষদীয় মন্ত্রী রতন লাল নাথ জানিয়েছেন, তিন দিনের এই অধিবেশনে দুটি বিল উত্থাপিত হবে। বিল গুলির মধ্যে বিধানসভার সদস্যদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয় থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রতন লাল নাথ। এছাড়াও থাকবে প্রশ্নোত্তর পর্ব সহ রাজ্যপাল প্রদত্ত ভাষণের উপর আলোচনা। শ্রীনাথ জানিয়েছেন, রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়া বিশেষ কোন কর্মসূচি না থাকার কারণে অধিবেশন তিন দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মার্চ মাসের মধ্যেই পরবর্তী অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। সেই অধিবেশনে পেশ করা হবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব। এদিন বিজনেস এডভাইসারি কমিটির বৈঠকে সব দলের সদস্যরাই উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন শ্রীনাথ। তিনি বলেন সর্বসম্মতিক্রমে অধিবেশনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে।

রাজ্যে

রাজ্যে পরিবর্তন হলো মুখ্য তথ্য কমিশনারের মুখ!

রাজ্যের নতুন মুখ্য তথ্য কমিশনার হিসেবে শপথ নিলেন অবসরপ্রাপ্ত আই এফ এস অফিসার বিনয় শংকর মিশ্র। রাজভবনে আজ সকালে এক অনুষ্ঠানে নতুন মুখ্য তথ্য কমিশনারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু। রাজ্যপালের অফিস কক্ষে আয়োজিত এই সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপালের সচিব ইউ কে চাকমা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক ডাক্তার বিশাল কুমারসহ অন্যান্য আধিকারিকরা। শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, প্রশাসনিক সংস্কার বিভাগের সচিব অনিন্দ্য ভট্টাচার্য। শেষে রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু নতুন মুখ্য তথ্য কমিশনার বিনয় শংকর মিশ্রকে করমর্দন করে শুভেচ্ছা জানান।

অবৈধ

অবৈধ অর্থের বিনিময়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে অটোর রোডম্যাপ

অবৈধ অর্থের বিনিময়ে প্রাপ্ত পারমিট বাতিল করবে পরিবহন দপ্তর; আগরতলা পুরো নিগম এলাকায়। আগরতলা পুরো নিগম এলাকায় দীর্ঘ বছর ধরে অটোর পারমিট প্রদান বন্ধ রয়েছে। তারপরেও পরিবহন দপ্তরের সক্রিয় একটি চক্র পেছনের দরজা দিয়ে অবৈধভাবে পারমিট পাইয়ে দিচ্ছে। গত ২৫ ডিসেম্বর জিবি – বণিক্য চৌমুহনি রুটের অটোচালকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। তারা তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছিল। কিভাবে অন্যরুটের অটোগুলো জিবি বণিক্য চৌমুহনি রুটে চলাচল করছে। কে পারপিট দিচ্ছে। প্রশ্ন তুলেছিল তারা? পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর নজরে পড়ে বিষয়টি। তার নির্দেশে পরিবহন দপ্তর অটোরিকশা মজদুর সংঘের নেতৃত্বদের ডেকে মঙ্গলবার বিস্তারিতভাবে জেনে নেয় এবং কে বা কারা পারমিট দিয়েছে বা দিচ্ছে তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে। জিবি এবং বণিক্য চৌমুহনী রুটে অবৈধভাবে দেওয়া পারমিট গুলো বাতিল করা হবে বলে পরিবহন দপ্তর থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে অটো রিক্সা মজদুর সংঘের পশ্চিম জেলার সাধারণ সম্পাদক লিটন মোদক জানিয়েছেন। উল্লেখ করা যেতে পারে আগরতলা শহরের সর্বত্র শর্ট পারমিটের অটোগুলো চলাচল করার কারণে ইদানিং যানজট বেড়েছে। রুট পরিবর্তন করে কি করে তারা শহরের রাস্তায় চলাচল করছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ট্রাফিক বা পরিবহন দপ্তরের কোন ভূমিকা নেই। বিভিন্ন পঞ্চায়েত থেকেও অটোগুলো এসে শহরের রাস্তায় ভিড় জমাচ্ছে। রাজ্য সরকার বলছে পুরনিগম এলাকায় অটোর পারমিট প্রদান বন্ধ। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, পারমিট প্রদান বন্ধ হলে বিভিন্ন রূটে কিভাবে প্রতিদিন যাত্রীবাহী অটোর সংখ্যা বাড়ছে। তার মানে পরিবহন দপ্তরে একটা চক্র সক্রিয়। বাম আমলের মত রাম আমলেও অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য পারমিট পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন দপ্তর পারমিট না দিলেও অর্থের বিনিময়ে অটোর রোড ম্যাপ পরিবর্তন হচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ অটো চালকদের অন্য রুটের পারমিটপ্রাপ্ত অটোগুলো শহরে বেআইনিভাবে চলাচল করছে। এতে করে প্রতিদিন শহরে যানজটে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কি করে শর্ট পারমিটের যাত্রীবাহী অটোগুলো শহরের রাস্তায় চলাচল করছে, সেটাই প্রশ্ন। আবার পরিবহন দপ্তরে একটি চক্র গজিয়েছে। মোটা টাকার বিনিময় রুট পারমিট চেঞ্জ করে দিচ্ছে। এরকম অভিযোগ ও উঠেছে। আগরতলা পৌর নিগমে অটোর পারমিট প্রদান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। তারপরেও কি করে প্রতিদিন শহরে অটো বাড়ছে সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন। গত কয়েক মাস ধরে অটো চালকরা লক্ষ্য করছে জিবি থেকে বণিক্য চৌমুহনী রোডে দিন দিন অটোর ভিড় বাড়ছে। কোথা থেকে এলো এত অটো। অটো গাড়ির পারমিট না দেওয়ার পরেও কিভাবে এলাকায় অটোর সংখ্যা বাড়ছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে এগুলি খয়েরপুর, রাজচন্তাই, রানীর বাজার, মোহনপুর, জিরানিয়া, আনন্দনগর সহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার অটো। শর্ট পারমিটের অটোগুলির কারণে জিবি থেকে বণিক্য চৌমুহনী রোডে চলাচলকারী অটো চালকরা অসন্তুষ্ট। কারণ তাদের পেটে লাথি পড়ছে।শহর এলাকায় অটোর পারমিট দেওয়া বন্ধ থাকলেও কি করে বিভিন্ন পঞ্চায়েতের অটোগুলো শহরে চলাচল করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অটোচালকরা। এতে করে জিবি – বণিক্য চৌমুহনী রুটের পারমিট প্রাপ্ত অটো চালকরা প্রতিদিন মার খাচ্ছে। তাদের রোজগার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

মূলবৃদ্ধির বাজারে পরিবার প্রতিপালন করতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। তাদের প্রশ্ন শহরে অটোর পারমিট প্রদান বন্ধ তারপরেও কিভাবে প্রতিদিনই নতুন নতুন অটো শহরের বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। টাকার বিনিময়ে রুট পরিবর্তন করে পারমিট নিয়ে নিচ্ছে একাংশ অটো চালক। এমনটাই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন অটো চালকরা। পরিবহন দপ্তরে গেলে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয় গত এক বছরে খয়েরপুর থেকে রাজচন্তাই, চন্দ্রপুর থেকে আনন্দনগর এবং বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার অটোর রোডম্যাপ করে দেওয়া হয়েছে জিবি থেকে বনিক্য চৌমুহনী পর্যন্ত। তাদের বক্তব্য শুধু জিবি – বনিক্য চৌমুহনি রুটই প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ টি অটো চলাচল করে। গত কয়েক মাসে এই সংখ্যাটাও বেড়ে গেছে। এখন শতাধিক যাত্রীবাহী অটো এই রুটে চলাচল করছে বলে অটো চালকরা জানিয়েছেন। তারা জানান, এখন প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা রোজগার করতে অটোচালকদের হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর রয়েছে টমটম, ই-রিক্সার দাপট। যেভাবে বেআইনি অটোর সংখ্য বাড়ছে তাতে আগামী দিনে এই রুটের অটো চালকদের ২০০ থেকে ৩০০ টাকা রোজগার করতে হিমসিশ খেতে হবে। কোন ধরনের আগাম নোটিশ জারি না করে মোটা অর্থের বিনিময়ে বাঁকা পথে রোড ম্যাপ পরিবর্তন করার পারমিট দিয়ে চলেছে বলে পরিবহন দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন অটো চালকরা। তবে পরিবহন দপ্তরের ভুমিকায় খুশি অটো চালকরা।