ষোড়শ

ষোড়শ অর্থ কমিশনের বৈঠকে রাজ্যের পাওনা দেনার হিসাব!

“অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ত্রিপুরা একটি সুপরিচালিত রাজ্য এবং ত্রিপুরার আর্থিক অবস্থাও সুদৃঢ়।” রাজ্য সরকারের সাথে বৈঠক শেষে আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন ষোড়শ অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগড়িয়া।

তিন দিনের সফরে পানাগারিয়ার নেতৃত্বে ষোড়শ অর্থ কমিশনের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকালই রাজ্যে আসেন। আজ সকালে সচিবালয়ে প্রথমে তারা বৈঠক করেন রাজ্য সরকারের সাথে। এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহাসহ রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা এবং পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রাজ্য সরকারের পক্ষে ষোড়শ অর্থ কমিশনের কাছে একটি মেমোরেন্ডামও দেয়া হয়। এছাড়া উত্থাপন করা হয় একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনও। শেষে রাজ্য অতিথিশালা সোনার তরীতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে চেয়ারম্যন পানাগারিয়া রাজ্য সরকারের সাথে বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, রাজ্যের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ব্যয় হ্রাস পেয়েছে যা একটি ভালো লক্ষণ। ত্রিপুরার নগরায়নও দ্রুত হারে ঘটছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া ত্রিপুরা সরকার কেন্দ্রের কাছে প্রদত্ত করের শেয়ার ৪১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে বলে জানান চেয়ারম্যান। সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশনের অন্য সদস্যরা এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ

প্রকাশ কারাতকে চোখের ছানি অপারেশনের পরামর্শ ত্রিপুরার ডাক্তার মুখ্যমন্ত্রী!

মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য মাস্টারপিস CPIM। তাদের চোখে কখনো উন্নয়ন ধরা পড়ে না। বুধবার সিপিএমের জনসভা থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এক্ষেত্রে সিপিএমের সর্বভারতীয় নেতা প্রকাশ কারাতেরও তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর চোখের ছানির অপারেশন করারও পরামর্শ দেন তিনি।

সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, উনাদের চোখে ছানি পড়েছে। চোখের ছানির অপারেশন করাতে হবে। উন্নতি কোথায় দেখবেন তারা? প্রকাশ কারাতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেনঃ আগে তো সিঙ্গারবিল এয়ারপোর্টে নামতেন; এবার যেই এয়ারপোর্টে নামলেন, সেখানে কোন উন্নতি দেখেননি তিনি? আমরা যার নামে এয়ারপোর্টের নামকরণ করেছি;  মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরকে তো ওরা সারা জীবনে সম্মানই দেয় নি। আর আমরা মহারাজের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর নামে এয়ারপোর্টের নামকরণ করেছি। এয়ারপোর্ট থেকে যে রাস্তা দিয়ে উনি নিজেদের পার্টির পতাকা উড়িয়ে এসেছেন সেই রাস্তার উন্নয়ন দেখেন নি উনি? ওরা উন্নয়ন দেখতে পান না, তাই সবসময় এমন কথা বলেন; আর মানুষকে বিভ্রান্ত করেন।

CPIM রাজ্য সম্মেলন থেকে উঠে আসা বক্তব্য “বিজেপি দেশকে আরো পেছনে নিয়ে যাচ্ছে” এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, CPIM দেখতে পাচ্ছেন না যে অর্থনীতিতে ১১তম স্থান থেকে এখন পঞ্চম স্থানে চলে এসেছে দেশ, আর CPIM ৫০ বছর পিছিয়ে গিয়েছে। সংবিধানের উপর আঘাত প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, UPA কিংবা কংগ্রেসের সময়ে তারা সংবিধানের উপর কতবার কুঠারাঘাত করেছেন, এসব কি ভুলে গেছেন তারা? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এসে সংবিধানকে রক্ষা করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সংবিধানকে রক্ষা করেছেন। আর তারা সংবিধানকে বিগড়ে দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন।তাই প্রথমে সংবিধানের গুরুত্ব সম্পর্কে বুঝতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে তারা কি অবস্থা করেছিল সেটা সবাই দেখেছে। এখন তারা “নোটার” চাইতেও কম ভোট পাচ্ছে। জনতা কেন তাদের প্রত্যাখ্যান করছে সেটা বুঝতে হবে। সব জায়গাতেই এখন হারের মুখ দেখতে হচ্ছে তাদের।

২০২৫

প্রজাতন্ত্র দিবস- ২০২৫ এর কুচকাওয়াজে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে!

কর্তব্যপথের কুচকাওয়াজ ও ট্যাবলো প্রতিযোগিতায় সেরা রাজ্যগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে ত্রিপুরা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ফলাফলে জানানো হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরার ট্যাবলো বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তিনটি বিচারক প্যানেল বিভিন্ন বিভাগে অংশগ্রহণকারীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেছে। এই প্যানেলগুলো সেনাবাহিনী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF), বিভিন্ন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় ও দফতরের ট্যাবলো পর্যালোচনা করেছে।

প্যানেলের নির্বাচিত সেরা তিনটি  ট্যাবলো হলঃ
1️⃣ উত্তরপ্রদেশ – ‘মহাকুম্ভ ২০২৫ – স্বর্ণিম ভারত: ঐতিহ্য ও উন্নয়ন’ (প্রথম স্থান)।
2️⃣ ত্রিপুরা – ‘শাশ্বত শ্রদ্ধাঞ্জলি: ত্রিপুরার ১৪ দেবতার পূজা – খারচি পূজা’ (দ্বিতীয় স্থান)।
3️⃣ আন্ধ্রপ্রদেশ – ‘এতিকোপ্পাকা বোম্মালু – পরিবেশবান্ধব কাঠের খেলনা’ (তৃতীয় স্থান)।

দিল্লির রাজপথে অনুষ্ঠিত প্রজাতন্ত্র দিবস– ২০২৫ এর কুচকাওয়াজে ত্রিপুরার ট্যাবলো ২৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১৯ নম্বর ক্রমসংখ্যায় প্রদর্শিত হয়। এতে ত্রিপুরার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খারচি পূজা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত আচার-অনুষ্ঠান তুলে ধরা হয়েছে।

একজন রাজ্য সরকারী কর্মকর্তা জানান, ত্রিপুরার ট্যাবলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে তৈরি করা হয়েছিল যেমন *ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণ  *বাঁশের নকশা *প্রযুক্তিগত ব্যবহার *ঐতিহ্যবাহী পোশাক। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রেখে মডেলের মাধ্যমে ত্রিপুরার প্রগতিশীল দিক তুলে ধরা হয়েছে। বাঁশ ও বেতের কারুকার্যের মাধ্যমে ত্রিপুরার ১৪ দেবতার প্রতীকী রূপায়ণ করা হয়। হা-বুমা (পৃথিবী মাতার) পূজা ত্রিপুরার ধর্মীয় সংস্কৃতির এক বিশেষ দিক তুলে ধরেছে। ত্রিপুরার এই সাফল্য, রাজ্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। এই সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ত্রিপুরার

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর নামে স্বর্ণপদক চালুর ঘোষণা করল “King George’s Medical University”, Lucknow.

উত্তরপ্রদেশের “King George’s Medical University”, Lucknow. ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার নামে একটি স্বর্ণপদক চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল সায়েন্স বিভাগের ডিন, প্রফেসর রঞ্জিত কুমার প্যাটেলের স্বাক্ষর করা একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে একথা জানানো হয়েছে।  Oral and Maxillofacial Surgery বিষয়ের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ছাত্রকে এই স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। এই স্বর্ণপদকটি “Manik Saha Gold Medal” নামে পরিচিত হবে এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকে প্রদান করা শুরু হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সম্পর্কিত বিষয়ে তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা জানান, “আমার জন্য একটি নস্টালজিক মুহূর্ত। “King George’s Medical University”, Lucknow. ডেন্টাল সায়েন্সে বিশেষ দক্ষতা অর্জনকারী মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আমার নামে একটি স্বর্ণপদক চালু করেছে। আমি এই সম্মানের জন্য KGMUকে ধন্যবাদ জানাই”।