১৬তম

ত্রিপুরার আর্থিক দিশা নির্ধারণে ১৬তম অর্থ কমিশনের প্রতিনিধি দল ত্রিপুরায়!!

১৬তম অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগারিয়ার নেতৃত্বে একটি ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল ত্রিপুরায় চারদিনের সফর শুরু করেছেন। সফরকালে তারা রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিক, রাজনৈতিক দল, পঞ্চায়েত ও পৌর সংস্থার প্রতিনিধি, বাণিজ্য ও শিল্প মহলের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন।

এক সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৩০শে জানুয়ারি কমিশন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য, মুখ্যসচিব জে.কে. সিনহা এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। এছাড়া, একই দিনে ত্রিপুরা উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদ (TTAADC), পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠান এবং নগর প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন। অর্থ কমিশনের দলটি গোমতী, সিপাহিজলা এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্থান পরিদর্শন করবে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ১৬তম অর্থ কমিশন গঠিত হয়, যার চেয়ারম্যান করা হয় প্রাক্তন নীতি আয়োগের উপ-সভাপতি অরবিন্দ পানাগারিয়াকে। কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অজয় নারায়ণ ঝা, অ্যানি জর্জ ম্যাথিউ, মনোজ পাণ্ডা এবং সৌম্যকান্তি ঘোষ।

এই সফরের মাধ্যমে ত্রিপুরার আর্থিক অবস্থা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিশন পর্যালোচনা করবে এবং ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

কংগ্রেস

CPIM-র ২৪তম রাজ্য সম্মেলনে কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদের ইঙ্গিত!!

ত্রিপুরার রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন মোড় নিতে চলেছে CPIM-র রাজনীতি। কংগ্রেসের সাথে প্রকাশ্যে সম্পর্ক রাখা হবে নাকি লোকচক্ষুর অন্তরালে টেকনিক্যাল সম্পর্ক বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে এবার চূড়ান্ত আলোচনা হবে CPIM-র ২৪তম রাজ্য সম্মেলনে। বুধবার প্রকাশ্য সমাবেশে দলের সর্বভারতীয় নেতা প্রকাশ কারাট থেকে শুরু করে রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার সকলের বক্তব্যেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সমালোচনা ছিল সুস্পষ্ট। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, আগামী দিনে কংগ্রেসের সাথে প্রকাশ্যে আর কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা রাখছে না CPIM।

বুধবার টাউন হলে শুরু হয়েছে সিপিআইএমের ২৪তম রাজ্য সম্মেলন। রক্ত পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের সূচনা হয়। প্রথম দিনেই ওরিয়েন্ট চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকায় দলের প্রকাশ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রকাশ কারাট, মানিক সরকার, জিতেন্দ্র চৌধুরী সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। সমাবেশ থেকে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যে কাজ নেই, খাদ্য সংকট বেড়েছে, কর্মসংস্থানের অভাবে যুব সমাজ বেকারত্বের জালে জড়িয়ে পড়েছে। বহু তরুণ-তরুণী রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র কাজের সন্ধানে পাড়ি জমাচ্ছে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এবারও রাজ্য সম্মেলনে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু কংগ্রেসের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক। মানিক সরকার তার ভাষণে কংগ্রেসের ৩০ বছরের শাসনকালের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, কংগ্রেস-জোট সরকারের আমলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সেই সময়ও কেন্দ্রে ও রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার ছিল, কিন্তু উন্নয়ন হয়নি কিছুই। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডাবল ইঞ্জিনের সরকার থাকলেই যে উন্নয়ন হবে, তা নয়। ইঞ্জিন খারাপ হলে ট্রেন যেমন চলে না, তেমনি এই সরকারও চলতে পারছে না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকার ব্যর্থ।” মানিক সরকার দলের কর্মীদের ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষকে বোঝাতে হবে যে বিজেপির শাসনে তারা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত। ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। গণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ভুল নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।”

সমাবেশকে কেন্দ্র করে আগরতলা শহর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। যানজটের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। যদিও CPIM-র দাবি, তারা উমাকান্ত মাঠ অথবা আস্তাবল মাঠে সমাবেশ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসন তা করার অনুমতি দেয়নি। CPIM নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে, রাজ্যের বামপন্থী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেছেন, আগামী দিনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের জন্য গণ আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে সিপিআইএম তার রাজনৈতিক অবস্থান একপ্রকার স্পষ্ট করে দিল যে কংগ্রেসের সাথে সমঝোতার দিন শেষ।এবার নতুন কৌশলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বামেরা।

ইমার্জেন্সি

কঙ্গনা রানাউতের “ইমার্জেন্সি” চলচ্চিত্র শুধুই কি বিনোদনের উদ্দেশ্যে??

বহু প্রতীক্ষিত বলিউড চলচ্চিত্র “ইমার্জেন্সি” ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। এটি ভারতের অন্যতম বিতর্কিত রাজনৈতিক অধ্যায়, ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির পরিচালক ও প্রধান অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত, যিনি নিজেই ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

‘ইমার্জেন্সি’ ছবিটি ১৯৭৫ সালে ভারতের জরুরি অবস্থার সময়কার ঘটনাবলী তুলে ধরেছে। সেই সময়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন, যার ফলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে এবং অসংখ্য রাজনৈতিক বিরোধী কারাবন্দি হন। কঙ্গনা রানাউত ছবিটিতে দেখানোর চেষ্টা করেছেন কীভাবে ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেন এবং কীভাবে সেই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

এই চলচ্চিত্রে কঙ্গনা রানাউত ছাড়াও অভিনয় করেছেন অনুপম খের, মহিমা চৌধুরী, শ্রেয়াস তালপাড়ে, মিলিন্দ সোমান ও সতীশ কৌশিক। প্রতিটি চরিত্রই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিনিধিত্ব করছে। কঙ্গনার অভিনয় দর্শকদের একাংশের প্রশংসা পেলেও অনেকের মতে, চরিত্রটি আরও গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা যেত। ‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তির প্রথম দিনে প্রায় ২.৩৫ কোটি টাকা আয় করেছে। তবে ছবিটি প্রত্যাশিত বক্স অফিস সাফল্য পায়নি। মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭.৪৪ থেকে ২২ কোটি টাকা। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, ছবির রাজনৈতিক বিষয়বস্তু এবং নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠীর কারণে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।

চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। কঙ্গনা রানাউতের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সুন্দর পুনর্গঠন হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ভালো মানের। কিন্তু কিছু সমালোচকের মতে, ছবিটি ঐতিহাসিক সত্যের পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চিত্রনাট্য অনেক জায়গায় দুর্বল মনে হয়েছে। গল্পের গভীরতা এবং অন্যান্য চরিত্রের বিকাশ আরও বেশি দরকার ছিল। এই চলচ্চিত্রটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় অনেক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস পার্টির অনেক নেতা এই চলচ্চিত্রকে “একপাক্ষিক” এবং “প্রোপাগান্ডা” বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এটি ভারতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে পুনরায় সামনে আনতে সাহায্য করেছে।

চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে প্রত্যাশিত সাড়া না পেলেও, নির্মাতারা আশা করছেন যে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এটি ভালো পারফরম্যান্স করবে। আগামী মার্চ ২০২৫ নাগাদ এটি কোনো একটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘ইমার্জেন্সি’ একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সিনেমা, যা ভারতের অন্যতম বিতর্কিত সময়কে পর্দায় উপস্থাপন করেছে। যদিও এটি বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, তবে ইতিহাসপ্রেমী দর্শকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র।

বাজার

বাজেটের আগে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড় পতন!

ভারতীয় শেয়ার বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে টানা পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে বাজারের এই নিম্নমুখী ধারা অনেকের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঙ্গে, ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে, যা অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গত কয়েক মাস ধরে, ভারতীয় শেয়ার বাজারে ধারাবাহিকভাবে পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিফটি এবং সেনসেক্স উভয়ই লাল চিহ্নে অবস্থান করছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কের কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের এই বেয়ারিশ প্রবণতা বাজেট ঘোষণার আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। SBI সিকিউরিটিজের ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ডেরিভেটিভস রিসার্চ বিভাগের প্রধান সুদীপ শাহ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, “সামগ্রিকভাবে এই মুহূর্তে দেশের শেয়ার বাজার খুব একটা ইতিবাচক অবস্থানে নেই। নিফটি টানা তিন সপ্তাহ রেড জোনে সপ্তাহ শেষ করেছে। বাজারে স্পষ্টভাবেই বেয়ারিশ প্রবণতার চাপ লক্ষ্যণীয় হচ্ছে। সবকিছুই বাজারে নিম্নমুখী গতি অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত করছে।” বাজারের এই নিম্নমুখী ধারা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই তাদের বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা করছেন এবং সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত এবং বাজারের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

শেয়ার বাজারের পতনের পাশাপাশি, ভারতীয় রুপির মান ডলারের বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৪ সালে, রুপির মান প্রতি ডলারে ৮৫.২৪২৫ রুপিতে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন। এ নিয়ে টানা সাতটি লেনদেনে রুপির দাম কমেছে। রুপির এই পতনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি, পুঁজি দেশের বাইরে চলে যাওয়া, শেয়ারবাজারে দুর্বল প্রবণতা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি, মার্কিন বন্ডের রিটার্ন, এইচএমপিভি ভাইরাসের আতঙ্ক এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে রুপির মানে এই নিম্নগামিতা দেখা যাচ্ছে। বাজারের এই অস্থিরতা এবং রুপির মানের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে, যারা স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগে ছিলেন, তারা এই পতনের ফলে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে, কিছু বিনিয়োগকারী এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বাজারের এই নিম্নমুখী ধারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য একটি উপযুক্ত সময় হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের তাদের পোর্টফোলিও পুনর্বিবেচনা করা উচিত এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণা করা হবে। প্রতিবছর বাজেটের আগে সাধারণত শেয়ার বাজারে একটি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। তবে, এই বছর বাজারের বর্তমান অবস্থার কারণে, বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটের আগে অবশ্যই শেয়ার বাজারে একটি বৃদ্ধির পর্যায় দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে বাজার অস্থির অবস্থায় রয়েছে তবে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাজেটের আগে একটি ধাক্কাই বাজারে প্রত্যাবর্তন নিয়ে আসতে পারে। বাজারের এই অস্থিরতা এবং রুপির মানের পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বিনিয়োগকারীদের এই সময়ে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত এবং তাদের বিনিয়োগ কৌশল পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

ভারতীয় শেয়ার বাজার এবং রুপির মানের বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং সময়। বাজেট ঘোষণার আগে বাজারের এই অস্থিরতা এবং রুপির মানের পতন অর্থনীতির উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীদের এই সময়ে সতর্ক থাকা এবং সুপরিকল্পিত বিনিয়োগ কৌশল গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিরিজে

ভারত-ইংল্যান্ড, টি-টোয়েন্টি সিরিজের ব্যবধান ২-১ এ নেমে এসেছে!

রাজকোটের নিরঞ্জন শাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টি-২০ ম্যাচে ২৬ রানে জয় লাভ করে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে নিজেদের টিকে থাকার আশা বজায় রেখেছে ইংল্যান্ড। ভারত টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটা মসৃণ ছিল না। জস বাটলার টানা তৃতীয়বার টস হারেন, এবং ভারত টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে ফিল সল্ট দ্রুত আউট হন, তবে বেন ডাকেট এবং জস বাটলারের মধ্যে একটি শক্তিশালী জুটি গড়ে ওঠে, যা দলের স্কোরকে স্থিতিশীল করে। তাদের এই পার্টনারশিপ ভারতীয় স্পিনারদের চাপে ফেলে দেয়।

ভারতের বোলারদের মধ্যে বরুণ চক্রবর্তী অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান। তার দুর্দান্ত গুগলির সামনে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা কিছুটা সমস্যায় পড়েন। বরুণ চক্রবর্তী পাঁচ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে ধ্বংস করেন। ইংল্যান্ডের ইনিংসে লিয়াম লিভিংস্টোনের ২৪ বলে ৪৩ রানের ইনিংসটি উল্লেখযোগ্য ছিল, যেখানে তিনি পাঁচটি ছক্কা মারেন। তার এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ইংল্যান্ডের স্কোরকে ১৭১ রানে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ১৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মা দ্রুত আউট হন। তিলক ভার্মা এবং হার্দিক পান্ডিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন, তবে ইংল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা সফল হতে পারেননি।ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে আদিল রশিদ এবং ব্রাইডন কার্সে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ভারতের ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেয়।

শেষ পর্যন্ত, ভারত ২০ ওভারে ১৪৫ রান করে অলআউট হয়, এবং ইংল্যান্ড ২৬ রানের জয় লাভ করে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের ব্যবধান ২-১ এ নেমে আসে এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জন করে ইংল্যান্ড। ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলার বলেন, “এই জয় আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দল হিসেবে আমরা আমাদের সক্ষমতা দেখিয়েছি এবং সিরিজে ফিরে এসেছি। আমাদের বোলাররা আজ অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।” ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেন, “আমরা আজ আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি। ইংল্যান্ডের বোলাররা আজ আমাদের চাপে রেখেছে। আমাদের পরবর্তী ম্যাচে ফিরে আসতে হবে এবং আমাদের ভুলগুলো সংশোধন করতে হবে।” সিরিজের চতুর্থ ম্যাচটি পুনেতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উভয় দলই জয়ের জন্য মরিয়া থাকবে। ইংল্যান্ড সিরিজ সমতায় আনতে চাইবে, আর ভারত সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে।