লংতরাই

লংতরাই ত্রিপুরার গুন্ডি ছাড়িয়ে এখন জাতীয় স্তরের একটি ব্র্যান্ড!

লংতরাই

ত্রিপুরার মানুষের রসনায় তৃপ্তি আনার পর, লংতরাই– ত্রিপুরার গণ্ডি ছাড়িয়ে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি সমেত পশ্চিমবঙ্গেও তাদের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটিয়েছে। “দা টাইমস্ অফ ইন্ডিয়া” উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের উদ্যোক্তাদের বিশেষ সম্মাননায় সংবর্ধিত করতে আয়োজন করে “টাইমস্ বিজনেস্ অ্যাওয়ার্ড নর্থ ইস্ট”-এর ২য় সংস্করণ।

উক্ত অনুষ্ঠানে শুক্রবার গুয়াহাটিস্থিত তাজ হোটেলে লংতরাই ব্র্যান্ডের কর্ণধার শ্রী রতন দেবনাথকে উত্তর পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ মশলা প্রস্তুতকারক হিসেবে সম্মানিত করা হয়েছে। এই সম্মান লংতরাই- এর পণ্যগুলির উৎকৃষ্ট গুণমান, বিশুদ্ধতার প্রতিফলন। পুরস্কার গ্রহণ করে লংতরাই-এর কর্ণধার শ্রী রতন দেবনাথ জানান, “এই স্বীকৃতি আমাদের প্রেরণা জাগায় এবং আরও নিবিড়ভাবে কর্মোদ্যোগ গ্রহন করার পথে উদ্বুদ্ধ করে। পাশাপাশি এই স্বীকৃতি আমাদের দায়িত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতীয় স্তরের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম দা টাইমস্ অফ ইন্ডিয়ার দ্বারা লংতরাই ব্র্যান্ডকে জ্ঞাপিত এই সম্মানে উচ্ছ্বসিত ছোট্ট পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরার আপামর জনগণ। এই ব্র্যান্ডের অংশ হতে পেরে লংতরাই পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য এবং কর্মী গর্বিত। উল্লেখ্য, লংতরাই ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারত ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রসারিত হয়েছে।এই পুরস্কার লংতরাই-এর পণ্যের গুণমানের প্রতি মানুষের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত!

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা সম্প্রতি সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান, পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা তাঁর ফেসবুক পোস্টে এই গর্বজনক মুহূর্তের জন্য অধ্যাপক সাহাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা জির এই স্বীকৃতি তাঁর অসাধারণ শিক্ষাগত ও সাহিত্যিক অবদানের যথার্থ সম্মান। একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং লেখক হিসেবে তাঁর কাজ অসংখ্য ব্যক্তিকে অনুপ্রাণিত করেছে।” অধ্যাপক সাহা তাঁর জীবনে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অগণিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপ্তি তাঁর অসামান্য কাজের প্রতি জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি।

ত্রিপুরার মানুষ এবং শিক্ষা সমাজ তাঁর এই অর্জনে গর্বিত। এটি রাজ্যের জন্যও একটি অনন্য গৌরব।

প্রজাতন্ত্র

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক মুহূর্তে সন্দেহ ভাজন বিদেশি গ্রেপ্তার!

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে উদয়পুর রেল স্টেশনে আটক এক সন্দেহ ভাজন নাইজেরিয়ান নাগরিক! সে দিল্লি থেকে আগরতলা হয়ে সাব্রুম যাচ্ছিল। উদয়পুর জিআরপি পুলিশ রেল স্টেশনে থেকে শুক্রবার রাত নয়টা নাগাদ তাকে আটক করে। তার কাছে প্রাপ্ত নথিপত্র থেকে দেখা গেছে তার নাম ওনিগুছ ক্যানেট। সে নাইজেরিয়ার লাগোস থেকে এসেছে। খবর পেয়ে আরকেপুর থানার ওসি বাবুল দাস এবং পরে এসডিপিও নির্মাণ দাস উদয়পুর রেল স্টেশনে পৌঁছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই ব্যাক্তি তার মোবাইলে থাকা ছবিতে ভিসা ও পাসপোর্ট দেখাতে সক্ষম হয়। কিন্তু ভারতীয় পাসপোর্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী সঙ্গে অরজিনাল পাসপোর্ট থাকার কথা; কিন্তু সে তা পুলিশকে দেখাতে পারেনি। তার কাছে থেকে ১২৬৭৫ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ডিকশনারি পাওয়া গেছে। একটি ব্যাগ থেকে ড্রাই ফ্রুটস, ড্রাই ফিস এবং কিছু কাপড় পাওয়া গেছে। তবে লোকটি জানিয়েছে নাইজেরিয়াতে যে অশান্তি চলছে তার কারণে সে গত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারতে চলে এসেছে। কিন্তু শুক্রবার কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে করে দিল্লির আনন্দ বিহার থেকে আগরতলা হয়ে সাব্রুমের দিকে কেন যাচ্ছিল এর কোন সদুত্তর সে দিতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে সম্ভবত সে বাংলাদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই সাব্রুম যাওয়ার পরিকল্পনা করে। সে আবার জানায় সাব্রুম তার বোন থাকে। মূলত সে ত্রিপুরায় কেন এসেছে তা বলছে না। পুলিশ সুপার নির্মাণ দাস জানান ক্রিমিনাল কন্সপিরেসি এবং পাসপোর্ট এক্ট অফ ইন্ডিয়া অনুসারে একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে প্রজাতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে আগরতলা শহরের বিভিন্ন বাজারে, পশ্চিম জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে বটতলা বাজারের অবৈধ মদের ঠেক গুলিতে হানা দিয়ে এগুলিকে গুঁড়িয়ে দেয় পুলিশ এবং একজনকে গ্রেফতার করে। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার ডক্টর কিরন কুমার জানান প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর ও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ নাকা চেকিং করছে যেন কোন ধরনের অপৃত্তিকর ঘটনা না ঘটে।

জাতীয়

জাতীয় পর্যটন উৎসবে আমন্ত্রিত বিভিন্ন টোর অপারেটররা!

রাজ্য পালিত হচ্ছে জাতীয় পর্যটন উৎসব। রাজধানীর গীতাঞ্জলি গেস্টহাউস প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই উৎসবের সূচনা করেন পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন মেয়র দীপক মজুমদার, পর্যট ন দপ্তরের সচিব ইউকে চাকমা, নিগমের অধিকত্তা প্রশান্ত নেগী বাদল সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। উৎসবকে কেন্দ্র করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন টোর অপারেটরদেরও। উৎসবকে কেন্দ্র করে গেস্টহাউস প্রাঙ্গনে একটি চিত্র প্রদর্শনীয় ঘুরে দেখেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ মেয়র ও অন্যান্য আধিকারিকরা। পর্যটন দপ্তর এবং ইন্ডিয়ান বিল্ডিং কংগ্রেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন পর্যটন হল এমনই একটি শিল্প যার মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাজ্য সরকার ও সেই পথেই হাঁটছে। এদিন মন্ত্রী রাজ্যের পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন দপ্তরের যে সমস্ত কর্মচারীরা নিরলস প্রয়াস চালিয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন তাদেরকে সংবর্ধনা জানানো হয়। এছাড়া আর্ট কলেজের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা এদিনের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানাধীকারী কে পুরস্কৃত করা হয়।

বিদেশি

বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের মূল্যায়ন: মহাকুম্ভ মেলা!

মহাকুম্ভ মেলা, বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ, বিদেশি মিডিয়ার বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রতি বারো বছর অন্তর আয়োজিত এই মেলাটি হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান। এটি ভারতের প্রয়াগরাজে গঙ্গা, যমুনা এবং পৌরাণিক সরস্বতী নদীর সঙ্গমস্থলে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি বিস্তর আলোচনা করছে, বিশেষ করে এর বিশালতা, আধ্যাত্মিকতা এবং এর সাথে জড়িত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে।

বিদেশি সংবাদমাধ্যম যেমন দ্য গার্ডিয়ান এবং বিবিসি, মহাকুম্ভের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তারা উল্লেখ করছে যে এই উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বাস করেন, সঙ্গমে স্নান করলে পাপমোচন হয় এবং আত্মার মুক্তি মেলে। প্রায় ৪০ কোটি মানুষের সমাগম প্রত্যাশিত এই মেলায় আখড়া, সাধু, সন্ন্যাসী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলন দৃশ্য বিশ্বের জন্য অভূতপূর্ব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হল মেলার বিশাল আয়োজন। রয়টার্স এবং এল জিরা জানিয়েছে, ভারত সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন এই মেলার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কুম্ভ মেলা অ্যাপ, ড্রোন নজরদারি, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রিস্টব্যান্ড, এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই বিশাল জনসমাবেশে ব্যবস্থাপনা সহজ করছে।এছাড়া, দূষণ এড়াতে এবং পরিবেশবান্ধব মেলা আয়োজনের জন্য নেওয়া নানা পদক্ষেপকেও তারা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে।নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্ট এই মেলার রাজনৈতিক এবং সামাজিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেছে। তারা উল্লেখ করছে যে, মেলাটি শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক প্রভাবেও সমৃদ্ধ। বিজেপি সরকারের অধীনে মহাকুম্ভ একটি বৃহত্তর প্রচারণা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এখানে নেতাদের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন সামাজিক বার্তা প্রদান রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহাকুম্ভের ঐতিহাসিক গুরুত্বকেও বিদেশি সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়েছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং হিস্ট্রি চ্যানেল মহাকুম্ভের ইতিহাস এবং এর সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতার ওপর ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে। তারা দেখিয়েছে, কীভাবে এই উৎসব প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি কোটি কোটি মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনের অংশ হয়ে আছে।

বিদেশি মিডিয়া মহাকুম্ভ মেলাকে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখছে। এর বিশালতা, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা, এবং ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা বিশ্ববাসীর জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রজাতন্ত্র

প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়াদিল্লির কর্তব্যপথে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছেন ত্রিপুরার আমন্ত্রিতরা! 

৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়াদিল্লি’র কর্তব্যপথে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করতে সারা দেশ থেকে প্রায় দশ হাজার জন বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছেন। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন সমাজের নানা স্তরের নাগরিক। ত্রিপুরা থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন মোট ৯৫ জন। এদের মধ্যে পিএম যশস্বী প্রকল্পে বৃত্তি পাওয়া ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, ত্রি-স্তর পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, বন সংরক্ষক, হস্তকারু, পানীয় জল, গ্রামোন্নয়ন, বনধন যোজনা, পি এম জনমন, মৎস্য সম্পদ যোজনার সুবিধাভোগীরা রয়েছেন, রয়েছেন জিলা ও ব্লক পঞ্চায়েত এর প্রতিনিধিরা।

রাজধানী দিল্লিতে ২৬ জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড দেখতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আজ রওয়ানা হয়েছেন। আকাশবাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানান, রাজধানী দিল্লিতে রেড দেখার আমন্ত্রণ পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ অতিথি’র তালিকায় রয়েছেন কৈলাশহরের উত্তর ইরাণি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী হাসনা বেগম। কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও পুষ্টি বিষয়ে তিনি কাজ করেন। তাকে আমন্ত্রণ জানানোয় কারণে গ্রামের সবাই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী মৎস্যসম্পদ যোজনায় একজন সুবিধাভোগী – কুমারঘাটের মৎস্যজীবী দিগ্বিজয় দাস ভৌমিক বলেন, একজন সাধারণ মৎস্যজীবী হিসেবে নয়াদিল্লি’তে যাবার ডাক পেয়ে নি খুবই খুশি। তিনি এজন্য সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’কে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর যশস্বী প্রকল্পের আওতায় স্কলারশিপপ্রাপ্ত বিএড, বি টেক, বি ফার্মা কোর্সের পড়ুয়া ৬ জন ছাত্রছাত্রীও দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড দেখার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এদের মধ্যে আগরতলার সুস্মিতা দেবনাথ জানান, যশস্বী স্কিমের সুবিধা পেয়ে ওবিসি- ভুক্ত ছেলেমেয়েরা উচ্চতর শিক্ষা নিতে পারবে। দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড দেখতে যাবার আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি খুবই খুশি। তারা সবাই শনিবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রাজ্য ত্যাগ করেছেন৷

CPIM

CPIM এর এবারের পার্টি কংগ্রেস নতুন দিশার সন্ধানে!

ভারতের পরিবর্তিত রাজনীতিতে কি নতুন ভাবে ভাবনা চিন্তা করতে চলেছে CPIM? চলতি বছরের অনুষ্ঠিত হতে চলা CPIM পার্টি কংগ্রেসে নতুন দিশা কি হবে? কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?বিজেপির মতাদর্শকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করার মতোই বা কি অস্ত্র হাতে নেবে বামেরা? পার্টি কংগ্রেসের আগে খসড়া প্রতিবেদনে এ নিয়ে নানা বিষয় স্থান পেয়েছে বলে খবর।

ধর্মকে আফিমের সঙ্গে যারা তুলনা করতো, সেই রাজনৈতিক দল এখন নিজেদের রাজনৈতিক দিশা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আগেই ভারতীয় মনীষীদের গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের ছবি স্থান দিয়েছিল CPIM। এবার গোটা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ভাবাবেগকে গুরুত্ব না দিয়ে দল ভবিষ্যতে এগোতে চাইছে না। ২০২৫ সালেই মাদুরাইতে অনুষ্ঠিতব্য এই পার্টি কংগ্রেসের জন্য দল ইতিমধ্যেই খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে নিয়েছে বলে খবর। এতদিন পর্যন্ত বামেদের মতে ধর্ম হচ্ছে আফিম এর মত। নির্দিষ্ট যেকোনো ধর্ম বিরোধী অবস্থান সিপিআইএমের। জানা গেছে আসন্ন কংগ্রেসে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চাইছে সিপিআইএম। কারণ হচ্ছে সমাজে ধর্মীয় কর্মসূচি বাড়ছে। দলের বিশ্বাস, তাই ধর্মীয় আস্থাবান লোকেদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। সিপিআইএম অনুধাবন করছে যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ধার্মিকতার জন্য বিজেপি এবং আরএসএস, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই যতটা জানা গেছে দলের খসড়া প্রস্তাবে মোটামুটি ঠিক হয়েছে যে, ধার্মিক লোকেদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করার জন্য তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার রাস্তায় নিয়ে আসতে হবে। কারণ CPIM তাদের রাজনৈতিক বন্ধু কংগ্রেসের শ্রেণী চরিত্র নিয়ে সন্দিহান। তাই খসড়া প্রস্তাবে বলা হচ্ছে কংগ্রেসের শ্রেণী চরিত্র বিচার করতে হবে।কংগ্রেস কোথায় রাজনৈতিকভাবে দাঁড়িয়ে আছে সেটা বামেদের কাছে স্পষ্ট নয়। কংগ্রেস যে নিজেদের নতুন করে বামপন্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে তাতে সিপিআইএমের ক্ষতি হচ্ছে। কংগ্রেসের নতুন উদারনীতিবাদ বামেদের জন্য আরও বেশি সমস্যার। কারণ এটা কংগ্রেস নিজেদের পরিচালিত সরকারকে দিয়ে বাড়াতে চাইছে, যেটা বামেদের জন্য লোকসানের। কংগ্রেসের রাজনৈতিক চরিত্রের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করা সিপিআইএম মনে করছে, যে কোন সময় কংগ্রেস নিজেদের ধর্মীয় অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। কংগ্রেস যে কোন সময় হিন্দুত্বের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারে। এই তালিকায় শুধু কংগ্রেস নয়, ডিএমকে, আরজেডি, এনসিপি সহ আরো অনেক ইন্ডিয়া জোটের দল রয়েছে। তাই আগামী কংগ্রেসে সিপিআইএম ধর্ম নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে রাজনৈতিক লাইন নির্ধারণ করবে। শুধু তাই নয় সিপিআইএম এখন মনে করছে, সমাজতন্ত্রের পথ ভারতীয়ত্বের উপর নির্ভর করতে হবে, বহিরাগত তত্ত্বের মাধ্যমে নয়। একসময় প্রচার ছিল যে মস্কোতে যদি বৃষ্টি হয় তবে ভারতের কমিউনিস্ট মাথার উপর ছাতা ধরতো। নতুন ধারা অনুযায়ী তারা সমাজতন্ত্রকে আবার পুনরোজ্জীবিত করতে চায়। কারণ ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্স এর সঙ্গে যেন সিপিআইএম নিজেদের গুলিয়ে না আনে। সিপিআইএম ইন্ডিয়া জোটের শক্তির চাইতে, বাম শক্তিগুলোকে একত্রিত করার উপর অধিক গুরুত্ব দিতে চাইছে। সিপিআই মনে করে যে বিজেপি বিরোধী গদবাধা রাজনীতিতে চলার ফলে সিপিআইএম নিজেদের জনসমর্থন হারিয়েছে। যার ফলে বিজেপি এখন ত্রিপুরা পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলেও নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে সিপিআইএম অনেকটা পিছিয়ে গেছে বা যাচ্ছে। ত্রিপুরায় ক্ষমতায় বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি, কেরলেও তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। এ অবস্থায় সিপিএমের দুর্বলতায় যে সবচেয়ে বেশি লাভবান বিজেপি হচ্ছে তা দলটি বিশ্বাস করে। মূলত এই জনসমর্থন কমার পেছনে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই তাদের অনুধাবন, CPIM নির্বাচনী রাজনীতিতে বেশি ঝুঁকে গেছে, এর ফলে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধিতে গতি কমেছে এবং জনবল হ্রাস পেয়েছে। তাই আসন্ন কংগ্রেসে ‘নতুন সাধারণ সম্পাদক’ নির্বাচনের চাইতেও দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লাইন নির্ধারণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দেশের এই বাম শক্তি।