নেতাজি

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্ম দিবস পালিত হল ত্রিপুরা রাজ্যেও!

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্ম দিবস পালিত হচ্ছে আজ। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশের সাথে ত্রিপুরা রাজ্যেও পালিত হচ্ছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু জন্ম দিবস। রাজ্যের মূল অনুষ্ঠানটি হয় নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতন মাঠে। ১৯৫১ সাল থেকে নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের উদ্যোগে নেতাজির জন্ম দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন হয়ে আসছে। এবছর এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। তিনি জাতীয় পতাকার উত্তোলন করেন এবং পরে নেতাজির প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। আজাদহীন ফৌজের পতাকা উত্তোলন করেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সহ-সভাপতি ডাক্তার দিলীপ দাস। জয়হিন্দ স্লোগানে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। কাক ভোর থেকেই নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের ছাত্র-ছাত্রীরা সাজসজ্জা শুরু করে। সকাল থেকেই রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল উৎসাহী মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ইতিহাসের চিরস্মরণীয় কিংবদন্তি নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।অপসহীন যোদ্ধা নেতাজি সুভাষকে আরো বেশি করে জানতে যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন নেতাজির দেশপ্রেম উপলব্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি যুব সমাজের কাছে প্রেরণা।কংগ্রেসের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন নেতাজিকে এতদিন সম্মান দেয়নি দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতাজিকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবছরের মত এ বছরও নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের ছাত্রছাত্রীরা নানা বিষয় নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। প্রায় ২৪ টি নানা বিষয়ে তুলে ধরে ছাত্রছাত্রীরা; ছিল আটটি চলমান টেবলু। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বঙ্গসংস্কৃতির অন্তরালে বহুরূপী আজও কথা বলে। নবম শ্রেণীর ছাত্ররা এই ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়েছে শোভাযাত্রায়। এছাড়াও ছিল সবাই মিলে গর্ব মোরা নিপুন ত্রিপুরা। শীতের আকর্ষণ সুস্বাদু খেজুরের রস, বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে মনের আঙ্গিনায় সহ নানা বিষয়। বর্তমান যুগে হারিয়ে যাচ্ছে কীর্তন, কীর্তনের মনে প্রশান্তি আসে। আর এই বার্তা নিয়ে শোভাযাত্রায় নেতাজি স্কুলের ছাত্ররা অংশ নেয়। সবমিলিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ঘিরে মাঘের শীতকে উপেক্ষা করে রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল অসংখ্য মানুষ।। শোভাযাত্রা আগরতলা শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে আবার বিদ্যালয় ফিরে আসে।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা রাজ্যে AIDS এর মরণফাঁধ থেকে রক্ষা পাচ্ছ না, ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও!

ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনগুলো ক্রমশ HIV ও AIDS এর জন্য স্পর্শ কাতর হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা গণহারে মারন ব্যাধি AIDS এ আক্রান্ত হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, AIDS এ আক্রান্ত এসব ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায় সবার বয়স ২০ বছরেরও কম। এমন নয় যে, এরা সবাই গরীব ঘরের ছেলে-মেয়ে। আর্থিক ভাবে সচ্ছল এবং শহরের বনেদি পরিবারের ছেলে-মেয়েরাই বেশিরভাগ আজ আক্রান্ত হচ্ছে এই মারন ব্যাধিতে। ইতিমধ্যেই রাজ্য এইডস্ কন্ট্রোল বোর্ড রাজ্যের ২২৪ টি স্কুল এবং ২৪ টি কলেজকে AIDS প্রবন বলে চিহ্নিত করেছে। শুধু ছাত্র-ছাত্রীরাই নয়, AIDS রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্যের স্কুলের শিক্ষকরাও।

অতিসত্বর স্কুল-কলেজগুলোতে সচেতনতা মুলক কর্মসূচি, AIDS সনাক্তকরন কর্মসূচি শুরু করা দরকার। এক সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব কলেজগুলোতে যেভাবে AIDS বাড়ছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং কলেজগুলোতে নিয়মিত সনাক্তকরন শিবির করার উপর জোর দিয়েছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝাতে হবে; তাদের সুস্থভাবে বাঁচার জন্য পরামর্শ দিতে হবে; AIDS এর ভয়াবহ দিক তুলে ধরতে হবে; কোথায় কি? বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে? কোন ফলপ্রসু কর্মসূচিই নেই! জানা গেছে ইতিমধ্যেই বেশ কজন স্কুল শিক্ষক AIDS রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং তারা এইডস্ কন্ট্রোল বোর্ডের নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। কেননা, এভাবে স্কুল কলেজে AIDS সংক্রমিত হতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে সমাজকে তার কঠিন মূল্য দিতে হবে; তার বড় কারন হলো প্রতিনিয়ত AIDS রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ জন AIDS রোগী সনাক্ত হচ্ছে রাজ্যে। বছরে প্রায় ২০০০ জন AIDS রোগী এই মুহুর্তে সনাক্ত হচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্যে। লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে; ফলে আজ নামী খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যরাও এই রোগের কবল  থেকে রেহাই পাচ্ছো না। এই মারন ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরাও; এই মুহুর্তে রাজ্যে ১৬৮ জন শিশুর মধ্যে HIV পজেটিভ পাওয়া গেছে। সচেতনাই একমাত্র এই মরণফাদ থেকে মুক্তির উপায়; আর এই সচেতনতার অভাবই ডেকে আনছে এক মহাবিনাশ।

ত্রিপুরা রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, AIDS এ সংক্রমিত হওয়ার মূল মাধ্যম শিড়া পথে ড্রাগস্ গ্রহন। ত্রিপুরা রাজ্য AIDS কন্ট্রোল বোর্ডের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাজ্যে প্রতি ১০০ জন HIV পজেটিভ রুগীর মধ্যে ৮০ জনই আক্রান্ত হয়েছে শিড়া পথে ড্রাগস্ সেবনের মাধ্যমে। তবে যেভাবে রাজ্যে AIDS সংক্রমিত হচ্ছে তা ঠেকানোর জন্য রাজ্য AIDS কন্ট্রোল বোর্ডের লোক বল নেই বললেই চলে; মাত্র ২৭ জন কর্মী দিয়ে চলছে রাজ্য AIDS কন্ট্রোল বোর্ড। যদিও গোটা রাজ্যে এই মুহুর্তে ১৩২ টি HIV টেস্টিং সেন্টার রয়েছে; তবে যেভাবে রোগ সংক্রমিত হচ্ছে, তাতে সামাজিক উদ্যোগ ছাড়া এই রোগের সংক্রমন ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মতামত অভিজ্ঞ মহলের।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ডেস্টিনেশন,  ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারী!

ত্রিপুরা রাজ্যে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে, যার ফলে শিল্প স্থাপনের উপযুক্ত পরিবেশ ও তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার চাইছে বহিরাজের বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি রাজ্যে এসে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাক।

ত্রিপুরা সরকার চাইছে এবার ব্যবসার ‘ডেস্টিনেশন’ হোক এই রাজ্য। ব্যবসার ক্ষেত্রে সবাই যাতে ত্রিপুরায় আসেন এবং সেখানে বিনিয়োগ করেন। এর আগে অর্থাৎ ২০২৩ সালের বারানসিতে শোকেজিং ত্রিপুরা শীর্ষক বিজনেস কনক্লেভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই রাজ্যে। রাজ্যের কুইন প্রজাতির আনারসকে তুলে ধরে রাজ্যের ব্যবসা আরও বাড়াতে চাইছে সরকার। সেই লক্ষ্য নিয়ে বারানসীতে নিজেদের কুই্যন প্রজাতির আনারসকে তুলে ধরেন সরকার। এই আনারসের সঙ্গে বিভিন্ন কৃষিজাত জিনিস, ত্রিপুরার বিভিন্ন হস্তশিল্প, রাবার এবং বাঁশের তৈরি নানা সৌখিন দ্রব্য তুলে ধরা হল বারানসীতে। এই সঙ্গে তুলে ধরা হয় ত্রিপুরার পর্যটনকেও। ত্রিপুরা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি রাজ‍্য। এখানে উৎপাদিত বাঁশ থেকে খুবই উন্নত মানের বাঁশের সামগ্রী তৈরি করা যায়। এর পাশাপাশি ত্রিপুরায় উৎপাদিত রবারের গুণমানও খুবই ভাল। যে কোন রাজ্যের উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা একটা খুবই গুরত্বপূর্ণ‍্য ভূমিকা রাখে; সেক্ষেত্রে ত্রিপুরায় সড়ক যোগাযোগ, রেল যোগাযোগ এবং আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে। তাই সবদিক দিয়েই ত্রিপুরার আগামী ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল।

২০২৩ সালের ৩ মে শিল্প সামিটে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহার উপস্থিতিতে ৮ জন শিল্প উদ্যোগপতির সঙ্গে ৩১২.৩৮ কোটি টাকার মৌ স্বাক্ষর করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা বিভিন্ন সময়ে বহিরাজ্যে বিজনেস কনক্লেভে অংশ নিয়ে উদ্যোগপতিদের রাজ্যে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এর ফাকে দেশের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সাথে দেখা করেছেন এবং রাজ্যে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবার রাজ্যে হচ্ছে ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ। আগামী সাত এবং আট ফেব্রুয়ারি শহরের একটি বেসরকারি হোটেলে এই বিজনেস কনক্লেভ হবে। আর এই বিজনেস কনক্লেভ থেকে ৬০০টির বেশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌ স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্তনা চাকমা। রাজ্যে পর্যটন ক্ষেত্রকে শিল্পের রূপ দেওয়া হয়েছে।রাজ্য ও বহিরাজ্যের পর্যটকরা রাজ্যে আসছেন। রাজস্ব সংগ্রহ বেড়েছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র গুলিরও পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। এই পর্যটনকে ভিত্তি করে রাজ্য ও বহিরাজ্যের সংস্থাকে ডেকে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ত্রিপুরা যে পর্যটকবান্ধব, সেখানে সহজে যাওয়া যায় এবং নিরাপদে সব জায়গায় ঘোরা যায় সেটাও সবার সামনে তুলে ধরা হবে। ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রধান বিনিয়োগের স্থান হিসেবে তুলে ধরার জন্যই এই কনক্লেভের আয়োজন করা হয়েছে। কনক্লেভে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, আইটি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ নিয়েও আলোচনা হবে। রাজ্যে কি কি সুবিধা রয়েছে সেগুলো তুলে ধরা হবে; ‘লক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো’। রাজ্যের বিভিন্ন হস্তশিল্প, রাবার এবং বাঁশের তৈরি নানা সৌখিন দ্রব্য তুলে ধরা হবে কনক্লেভে। রাজ্যে গত সাতটি অর্থবছরে ১৪১ টি ইউনিট ৯৯৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৭টি ইউনিট ৮৮.৩২৫ কোটি, ২০১৯ -২০অর্থবছরে আঠাশটি ইউনিট ১৪২ দশমিক ৭৪৫ কোটি। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ২২ টি ইউনিট ৩৩.৬২১ কোটি, ২০২১ – ২২ অর্থ বছরে ২৫টি ইউনিট ৮০.২২ কোটি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৩ টি ইউনিট ১৬২.৯৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। অপরদিকে ২০২৩ -২৪ অর্থ বছরে ২৩ টি ইউনিট ৫৭.৪৮ কোটি। ২০২৪- ২৫ অর্থবছরের ২৬ টি ইউনিট ৪২৮.৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বলে তথ্য দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। কনক্লেভে রাজ্যের স্থানীয় নানা শিল্প, উৎপাদন, হস্তশিল্পকে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। এই সমস্ত শিল্পকে আরও বেশি করে তুলে ধরতে এ ধরনের কনক্লেভের আয়োজন।

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সীমান্তে বীরজিৎ সিনহার লংমার্চ অভিযান!

বাংলাদেশে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি কৈলাসহরের রাঙ্গাউটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীপুর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাংলাদেশ সরকার অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করার প্রতিবাদে ঊনকোটি জেলা কংগ্রেস রাস্তা অবরোধ এবং বাংলাদেশের বর্ডারে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার জন্য লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিধায়ক বিরজিত সিনহা। বুধবার দুপুরে কৈলাসহরে কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানান বিধায়ক বিরজিত সিনহা। সাংবাদিক সম্মেলনে বিরজিত সিনহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোঃ বদরুজ্জামান, কংগ্রেস নেতা রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্য, শ্যামল ভট্টাচার্য, রুনু মিঞা, আশীষ সেনগুপ্ত, সুধাংশু সিনহা। সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক বিরজিত সিনহা জানান যে, আগামী ২৫জানুয়ারি সকাল নয়টায় কৈলাসহরের এয়ারপোর্টের সামনে কৈলাসহর-কুমারঘাট রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে এবং দেবীপুর এলাকায় ভারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার জন্য ২৫জানুয়ারি দুপুর বারোটায় কৈলাসহরের টিলাবাজার থেকে কর্মী সমর্থকরা লং মার্চ শুরু করবে। এছাড়াও বিধায়ক বলেন যে, দেবীপুর এলাকা সহ কৈলাসহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের পাশে মনু নদীর তীরে যে বাঁধ রয়েছে সেই বাঁধের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবীও রাখেন। তাছাড়া সাংবাদিক সম্মেলনে ঊনকোটি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোঃ বদরুজ্জামান জানান যে, আগামী পনেরো দিনের মধ্যে যদি রাজ্য সরকার কৈলাসহরের মনু নদীর কাছে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু না করে তাহলে কৈলাসহরকে রক্ষা করার জন্য কৈলাসহরে ৪৮ঘন্টার বনধ ডাকা হবে বলেও ঘোষণা দেন।

জিবি

জিবি হাসপাতালের পরিষেবার মান!

জিবি হাসপাতালের পরিষেবা উন্নত করার চেষ্টা করছেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। বিভিন্ন কর্মসূচিতে গিয়ে তিনি প্রায়শই জিবি হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এই হাসপাতালের পরিষেবা আরো উন্নত করার পাশাপাশি পরিকাঠামো ব্যবস্থার উন্নয়নেরও আশ্বাস দিচ্ছেন। এটাও ঠিক এখন জিবি হাসপাতালে অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা হয়।

এদিকে জিবি হাসাপাতালের মুকুটে যুক্ত করা হয়েছে কিডনি প্রতিস্থাপন ইউনিট। সম্প্রতি দুজনের কিডনি প্রতিস্থাপন ও হয়েছে। শীঘ্রই আরো একটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অপেক্ষমান তালিকায় আছেন বেশ কয়েকজন কিডনি আক্রান্ত রোগী। কিন্তু এর অবস্থা একেবারেই ঢাল তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মত। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য “বায়োপসি” করার মেশিন নেই কিডনি প্রতিস্থাপক ইউনিটের কাছে। রোগীকে কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকা খরচ করে বাইরে থেকে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়। কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া “ফিস্টুলা” তৈরি করতে হয় তাদের দেহে; কিন্তু জিবি হাসপাতালের স্বনামধন্য এবং বহু চর্চিত কার্ডিওলজি বিভাগের এতোটুকু সময় নেই, যে তারা ওই মুমূর্ষু রোগীদের সেবায় তাদের জন্য একটি “ফিস্টুলা” তৈরি করে দেবে। এ নিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি এবং কার্ডিওলজি বিভাগের বিভিন্ন তালবাহানায় বন্ধ হয়ে আছে এই প্রক্রিয়া। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য নাম কে ওয়াস্তে অন্য রাজ্যের ব্যবস্থাপনা দিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার চললেও, বাস্তবে মাকাল ফল বলেই ব্যাখ্যা করছেন রোগীর আত্মীয় পরিজনরা।

আগামীদিনে লিভার প্রতিস্থাপন সহ আরো জটিল রোগের চিকিৎসা হবে, এমনটাই বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বাস্তব চিত্র ঠিক তার উল্টো। জিবি হাসপাতালে রাতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। ইন্টার্ন ডাক্তাররা রাতের বেলায় হয়ে উঠেন সুপার স্পেশালিস্ট ডাক্তার এবং রাতেও তারাই সবেধন নীলমনি। হাসপাতালে কোনো রোগীর অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যে পাওয়া যাবে সেই অবস্থা নেই। পরদিন হয়তো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসে ইন্টার্নিদের সঙ্গে নিয়ে ওয়ার্ড ঘুরে যাবে; তাও সকাল ১০টার পর। এরমধ্যে হয়তো রোগীর অবস্থা আরো অবনতি হয়েছে। হয়তোবা রোগী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেছেন। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভা অধিবেশনে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে রাজ্য সরকারের নির্দেশ রয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে কাউকে রেফার করা যাবে না। তাই জিবি হাসপাতালে কোনো রোগী যন্ত্রণায় কাতড়াতে থাকলেও কিংবা ঠিকভাবে চিকিৎসা পরিষেবা না পেলেও তাকে অন্যত্র রেফার করতে রাজি নয় ডাক্তারবাবুরা। দেখা গেছে, জেলা কিংবা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা থাকা সত্বেও ইচ্ছে করে রোগীদের জিবিতে রেফার করে দেওয়া হয়; অথচ যে রোগের চিকিৎসার জন্যে রোগীকে জিবিতে পাঠানো হলো সেই রোগের চিকিৎসা হয়তো সম্ভব হতো ঐ জেলা হাসপাতালেই। এতে করে জিবি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না; এই শীতেও মেঝেতে কাতড়াতে হচ্ছে রোগীদের। জিবি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করছেন রোগীর পরিবার পরিজনরা; ঠিকভাবে পরিষেবা পাচ্ছেন না তারা। একদিকে ডাক্তারবাবুদের দেখা নেই অন্যদিকে একাংশ স্বাস্থ্যকর্মীদের দুর্ব্যবহার; ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে অসহায় হয়ে পড়ছেন রোগীরা। জিবিতে রোগী কল্যাণ সমিতি রয়েছে, এই সমিতির উদ্দেশ্য হলো রোগীদের কল্যাণে কাজ করা। কিন্তু গত প্রায় একবছরে রোগীদের কি কল্যাণ হয়েছে তা নিজেও বলতে পারবেন না রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মীনা সরকার।