নরসিংগড়

নরসিংগড় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে  বাৎসরিক পুরস্কার বিতরণী উৎসব পালিত।

gggggggggggggg

নরসিংগড় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক মনোজ্ঞ বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী উৎসব সংঘটিত হয়েছিল ২১শে জানুয়ারী মঙ্গলবার। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন. সি. শর্মা মহোদয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর সাব – ডিভিসনের এস. ডি. এম. নির্মল কুমার, প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম-পরিচালক। হর্ষিতা বিশ্বাস, ককবরক ও অন্যান্য ভাষা দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সব্যসাচী সিং। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংগড়স্থিত ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দিরের অধ্যক্ষা স্বপ্না সোম মহোদয়া। এই উৎসবমুখর পরিবেশে নরসিংগড় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা সুচিত্রা সরকার মহোদয়া স্কুলের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলেন সবার সন্মুখে। বিদ্যালয়ের তরফ থেকে বার্ষিক অনুষ্ঠানে নাচ, গান, আর্ট, নাটক, যোগা, সেরা এন.সি. সি. ক্যাডেট ইত্যাদি বিভিন্ন বিভাগে ছাত্র- ছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। যে পুরস্কারটি সবার নজর কেড়েছিল তা হল “স্টুডেন্ট অফ দি ইয়ার” পুরস্কার। তাছাড়া একাডেমিক বিভাগে সেরার সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন হাউসের ছাত্র-ছাত্রীরা সমবেত সংগীত – নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে এক মনোজ্ঞ রূপ প্রদান করে। বিশেষ শিশুদের দ্বারা পরিবেশিত এক মনোমুগ্ধকর নৃত্য ছিল সবার প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু। এবং স্কুলের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি কামনা করেন সকাল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।

DNA

DNA ক্লাবের সাথে, বিজ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী!

DNA ক্লাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ত্রিপুরা রাজ্যের ১৭০ টির ও বেশি স্কুলকে। সারা রাজ্যে ১৭০ টির বেশি স্কুলকে DNA ক্লাবের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে ৩৭ টি স্কুলে DNA ক্লাব রয়েছে। DNA ক্লাব করার উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞানকে বেশি করে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া। স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে গবেষণাধর্মী কাজে উৎসাহ যোগানই হচ্ছে এর লক্ষ্য; জানালেন বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা।

বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে এ বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা জানিয়েছেন যারা কলেজ বা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেবে সেই সব প্রশিক্ষকদের সাথে নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি আলোচনা করবেন; থাকবে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ অধ্যাপক অধ্যাপিকারা। বহিরাজ্য থেকে যেসব বিশেষজ্ঞরা আসবেন তাদের ভাবনাও ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা হবে। বিজ্ঞানকে সঙ্গে নিয়েই উন্নত দেশ হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন বিজ্ঞান ছাড়া কোন দেশের পরিমাপ করা যায় না। উন্নত দেশ হতে গেলেই বিজ্ঞানকে আকড়ে রাখতে হবে। উন্নত দেশ মানেই বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ দেশ। বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারলে উন্নত দেশের খেতাব পাওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

তিনি অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞানকে বুকে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজ্যের স্কুল এবং কলেজগুলোর পাশাপাশি NIT সহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আই সি এআরকে এই ভাবনার সাথে যুক্ত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এতে করে আগামীদিনে, রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হবে। ছাত্রছাত্রীরা নতুন নতুন উদ্ভাবনের বিকাশ ঘটাতে পারবে। এতে সমৃদ্ধ হবে রাজ্য।

পাহাড়ে

পাহাড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে!

পাহাড়ের রাজনীতির রং ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে। তিপ্রা মথা ও আই পি এফটি দুই জনজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক দলের উপর নির্ভর করতে গিয়ে, শাসক দল বিজেপি পাহাড়ে ক্রমশ কোমায় চলে যাচ্ছে। দলকে অক্সিজেন দিতে অতি সম্প্রতি দেশের গৃহ মন্ত্রী অমিত শাহ পাহাড়ের রিয়াং শরনার্থীদের শিবিরে মেরাথন বৈঠক করে গেছেন। যদিও আচমকা রাজ্যের অন্যান্য জনজাতিদের ব্রাত্য রেখে কেন শুধু রিয়াং শরনার্থী শিবিরের উদ্দেশ্যেই আমবাসার হাদুকলক এলাকায় পা রাখলেন? এ প্রশ্ন কিন্তু উঠতে শুরু করেছে। কেননা, কেন্দ্রীয় সরকারের সেকেন্ড ইন্ কমান্ড অমিত শাহের রিয়াং শরনার্থী শিবিরে পা রাখার মাত্র পক্ষ কাল পূর্বে ব্রু অর্থাৎ রিয়াং জনজাতি সমাজের একটা অংশ নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। দলের নাম ব্রু রাইকাচাও রাইকসম ইউনাইটেড। শুধু দলই গঠন করেনি, নতুন এই দল পৃথক ব্রু স্বশাসিত জেলা পরিষদ গঠনের দাবী তুলেছে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে জনজাতি রাজনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পাহাড়ে মেরাথন বৈঠক করলেও এক্ষেত্রে সফল হওয়া মুশকিল। স্বাভাবিক ভাবেই পাহাড়ে কোমায় আচ্ছন্ন শাসক দলকে পুনরায় সচল করার কোন সম্ভাবণা আপাতত নেই। এই পরিস্থিতিতে তিপ্রা মথা এবং আই পি এফ টি উভয় দলই পাহাড়ে ক্রমশ জনভিত্তি হারাচ্ছে। তিপ্রা মথার কৌশলী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে জনজাতি যুবকরা। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ে গুটি গুটি পায়ে হলেও সিপিএম নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এটা ঘটনা পাহাড়ে বিজেপির ভিত্তি ছিল জনজাতি মোর্চা। কিন্তু জনজাতি মোর্চা এই রাজ্যে এখন কর্মসূচিহীন সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ক্রমশ জনজাতি মোর্চাকে ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন কি একটা সময় যে জনজাতি মোর্চার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল পূর্ব ত্রিপুরা লোকসভা আসনের সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, তিপ্রা মথাকে বাগে রাখতে রেবতী ত্রিপুরার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। অনিশ্চিত প্রাক্তন বিধায়ক পরিমল দেববর্মার। যদিও তিনি জনজাতি মোর্চার প্রদেশ সভাপতি। একই হাল এম ডি সি বিদ্যুৎ দেববর্মারও। স্বাভাবিক ভাবেই এসব নেতারা এখন হতাশায় দিন গুজরান করছে। ফলে আগামী দিনে পাহাড়ে নীরব বিপ্লব হলে অবাক হওয়ার নয়।

বাংলাদেশী

বাংলাদেশী নাগরিক, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ত্রিপুরা রাজ্যে!

বাংলাদেশীদের ছড়াছড়ি, আগরতলা শহর সহ গোটা ত্রিপুরা রাজ্যে। বাংলাদেশী নাগরিকরা ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর উদ্দেশ্যে, প্রবেশের জন্য প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করছে ত্রিপুরা রাজ্যকে। সীমান্ত টপকে রাজ্যকে করিডর বানিয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে এই বাংলাদেশীরা; আবার কেউ কেউ সুযোগ বুঝে এই রাজ্যেই চুপি চুপি বসবাস করছে। আবার কিছু বাংলাদেশী দালালদের সাথে মিলে কাগজপত্র বের করে দিব্যি প্রকাশ্যে বসতি স্থাপন করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো বাংলাদেশীদের সাথে অস্ত্রের ও আমদানি হচ্ছে এই রাজ্যে। এতে আগামী দিনে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার রাতে আগরতলা শহর দক্ষিণাঞ্চলের মিলন চক্রের আদর্শ পল্লী এলাকা থেকে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা সমাজ প্রিয় চাকমাকে; পিস্তল ও তিনটি বুলেট সহ গ্রেপ্তার করে এডিনগর থানার পুলিশ। কেন সে পিস্তল সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে? কি উদ্দেশ্য ছিল তার? পেছনে বিদেশি কোন মদত রয়েছে কিনা বা বাংলাদেশের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে সে যুক্ত কিনা তা এখনো জানতে পারেনি পুলিশ। সদর মহাকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায় জানিয়েছেন ‘তদন্ত হচ্ছে’। জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো তথ্য জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। গত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে আদর্শ পল্লী এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে বাংলাদেশী এই জনজাতি যুবক। অথচ পুলিশ ঘুমে; এলাকার মানুষের সন্দেহ হওয়ার কারনে তারাই পুলিশকে খবর দেয়। জনজাতি অধ্যুষিত কৃষ্ণনগর বা রামনগর এলাকায় না থেকে কেন মিলন চক্রকে সে বেছে নিল সেটাই প্রশ্ন। তার কাছ থেকে নাইন এমএম পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, প্রচুর বাংলাদেশী টাকা এবং ২ লক্ষের উপরে ভারতীয় টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশের অস্থির অবস্থার পর রাজ্যে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অনুপ্রবেশকারী আটক হচ্ছে। তারা সীমান্ত টপকে দালালদের হাত ধরে এই রাজ্যে প্রবেশ করছে। কিন্তু পিস্তল সহ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার এ রাজ্যে ইদানিং কালের মধ্যে প্রথম ঘটনা। বাংলাদেশে আগস্ট মাসে হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর থেকে এই অঞ্চলকে অশান্ত করতে একটা চক্র সক্রিয়। বাংলাদেশের জামাত পন্থী সন্ত্রাসীরা; মোদির স্বপ্নের অষ্টলক্ষ্মীকে অশান্ত করার জন্য মরিয়া। মঙ্গলবার রাতে ধৃত এই যুবক বাংলাদেশের কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে জড়িত কিনা এখন সেটাই প্রশ্ন।

অপরদিকে মধুপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে আরেক বাংলাদেশী। হাফিজ ভূঁইয়া নামে ওই বাংলাদেশীর বাড়ি, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। কৈয়াঢেপা বিওপির বিএসএফ জওয়ানের হাতে মঙ্গলবার সকালে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকার সময় তাকে আটক করা হয় । পরবর্তী সময়ে আটক বাংলাদেশীকে মধুপুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ জোওয়ান‌রা। মধুপুর থানার পুলিশ মামলা হাতে নিয়ে অভিযুক্তকে বিশালগড় মহকুমা আদালতে সোপর্দ করে। তবে স্থানীয়দের দাবি; সীমান্তে এত নজরদারির থাকা সত্ত্বেও কিভাবে বাংলাদেশীরা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করছে? তার মানে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রচন্ড ঢিলেঢালা এবং এই ঢিলেঢালা নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে দালালদের হাত ধরে রাজ্যে প্রবেশ করছে বাংলাদেশীরা।