নেশা

নেশার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর!

নেশামুক্ত ত্রিপুরা (মাদকমুক্ত ত্রিপুরা) গঠনে সকল অংশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মাদক মুক্ত কেন্দ্র স্থাপন করবে রাজ্য সরকার। নেশামুক্ত রাজ্য গড়ে তুলতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে।

সোমবার সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জে রাজ্যের প্রথম ২০০ শয্যা বিশিষ্ট সুসংহত মাদক মুক্ত কেন্দ্রের ভূমিপূজন করার পর একথা বলেন। এর পাশাপাশি এদিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিশ্রামগঞ্জে জেলা পরিবহণ কার্যালয়ের নতুন ভবন ও সিপাহীজলা সার্কিট হাউসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিশ্রামগঞ্জ বাজার থেকে চিকনছড়া হয়ে বরকোবাড়ি সড়ক, জম্পইজলা ব্লকের লাটিয়াছড়া উচ্চতর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন এবং চড়িলামস্থিত অটল বিহারী বাজপেয়ী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ ও বাউন্ডারি ওয়ালের উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন এবং অ্যাক্ট ইস্ট নীতি ঘোষণা করেছেন। আমরাও প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিশন অনুসরণ করে কাজ করছি। আমরা উন্নয়নের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময়ই সহজ জীবনযাপনের উপর গুরুত্ব দেন। পিএম – ডিভাইন স্কিমগুলিও রাজ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিধানসভায় অনেক বিধায়ক মাদক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মাদক সমস্যা মোকাবেলায় আমাদের সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ২০১৮ সালের আগে ত্রিপুরা মাদক-যুক্ত ছিল, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা নেশা মুক্ত ত্রিপুরা (মাদকমুক্ত ত্রিপুরা) অভিযান ঘোষণা করেছি। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে রাজ্য সরকার মাদকাসক্ত যুবকদের মাদকাসক্তি কাটিয়ে তুলতে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। স্কুল-কলেজে মাদকাসক্ত যুবদের চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি শিক্ষকদের এ ধরনের পড়ুয়াদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছি। এই সমস্যাটিকে চিহ্নিত করাও সমাধান করাও প্রত্যেকের দায়িত্ব। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের রাজ্যে একটি শক্তিশালী ক্লাব সংস্কৃতি রয়েছে এবং ক্লাব সদস্যদের সাথে বিভিন্ন বৈঠকে আমি তাদের মাদকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সরকারের প্রচেষ্টাকে সহজ করার জন্য জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ খুবই প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এবার আমরা মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছি। ১২১.৯০ কোটি টাকা খরচ করে আমরা এই কেন্দ্রগুলি তৈরি করছি। এই নতুন নেশামুক্তি কেন্দ্রে একটি সুইমিং পুল, যোগব্যায়াম, সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম এবং আরও অনেক কিছুর মতো সুবিধা রাখা থাকবে। যা একটি রেফারেল সেন্টার হিসেবে কাজ করবে। এটি একটি জি+৪ বিল্ডিং হবে। সব জেলায় একই ধরনের কেন্দ্র খোলা হবে। আমি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে এই প্রকল্পগুলি যথাসময়ে শেষ করার জন্য আহ্বান করছি। মাদকের প্রতি আমাদের জিরো-টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং আমরা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিধায়ক কিশোর বর্মণ, বিধায়ক অন্তরা সরকার দেব, বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন, বিধায়ক সুবোধ দেববর্মা ও বিশ্বজিৎ কলই, রাজ্য সরকারের সচিব কিরণ গিত্তে, জেলাশাসক সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল, এসপি বি জে রেড্ডি সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ।

বিজেপি

বিজেপি ত্রিপুরা জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা!

বিজেপি জেলা নেতৃত্বে নতুনের আধিক্য ত্রিপুরা রাজ্যে। রয়েছে মহিলা ও জনজাতি অংশের প্রতিনিধিত্ব। ঘোষণা হল রাজ্য বিজেপির জেলা সভাপতিদের নাম

সদর গ্রামীণ জেলা সভাপতি হয়েছেন – গৌরাঙ্গ ভৌমিক। মজলিশপুরের প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি গৌরাঙ্গ ভৌমিক। সোমবার খয়েরপুর সদর গ্রামীণ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা: মানিক সাহা। তিনি বলেন শ্রী ভৌমিকের সুদক্ষ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় দলীয় সংগঠন আরোও বেশি শক্তিশালী হবে। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, প্রাক্তন সভাপতি অসিত রায়, প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস প্রমুখ। ভারতীয় জনতা পার্টির সদর গ্রামীণ জেলার সভাপতি গৌরাঙ্গ ভৌমিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ অন্যান্যরা। সদর (শহর) জেলার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অসীম ভট্টাচার্য। সদর কার্যালয়ে তার নাম ঘোষনা করেন প্রদেশ বিজেপির রিটার্নিং অফিসার সমরেন্দ্র চন্দ্র দেব। গোমতী জেলার সভাপতি হয়েছেন সবিতা নাথ; খোয়াই জেলা সভাপতি বিনয় দেববর্মা; সিপাহীজলা জেলা উত্তরের সভাপতি – বিপ্লব চক্রবর্তী; সিপাহীজলার দক্ষিণ জেলা সভাপতি – উত্তম দাস; ঊনকোটি জেলা সভাপতি – বিমল কর; উত্তর ত্রিপুরা জেলা সভাপতি – কাজল কুমার দাস; দক্ষিণ ত্রিপুরা (পিলাক) জেলা সভাপতি – দীপায়ন চৌধুরী; ধলাই জেলা সভাপতি- পতিরাম ত্রিপুরাকে ফের নির্বাচিত করা হয়েছে।

৮ম

৮ম বেতন কমিশন গঠনের সুখবর ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

৮ম এর আশায় বুক বাঁধছেন ত্রিপুরার কর্মচারী মহল, ৭ম এখন ইতিহাস! ত্রিপুরার কর্মচারী বঞ্চনার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় একমাত্র সুধীর রঞ্জন মজুমদারের সরকারই‌‌ ত্রিপুরায় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। “ত্রিপুরার দীর্ঘ বাম শাসন” বেতন কমিশন বলেও যে কোন জিনিস ভারতবর্ষে আছে তা কর্মচারী মহলের মন থেকে ভুলিয়ে দিয়েছে। ২০১৮ সালে এই সুযোগ নিয়ে, খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে, সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে মিছিলের লাইন লম্বা করে; ভোট ভিক্ষা করেছিল ক্ষমতাসীন বিজেপি দল। স্বপ্ন দেখিয়েছিল ওরা ক্ষমতায় এলে প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে। উল্লেখ্য ত্রিপুরা রাজ্যের কর্মচারীরা ভারতবর্ষের সবকটি রাজ্য থেকে সবচেয়ে কম বেতনে কাজ করছে। কর্মচারী মহলের বেতন কাঠামোর দিকে তাকালে বুঝাই যায় না ত্রিপুরা রাজ্য ভারতবর্ষেরই একটি রাজ্য।

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের জন্য আবার সুখবর। কেন্দ্রীয় সরকার, কর্মীদের জন্য নতুন পে কমিশন গঠনের ঘোষণা করেছে। ২০২৫ সালের মধ্যেই এই কমিশন তাদের রিপোর্ট এবং সুপারিশ জমা দেবে। সরকারের সূত্র অনুযায়ী, ৮ম বেতন কমিশন শীঘ্রই কাজ শুরু করবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যেই এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে ঠিক হয়েছে যে, কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করে নতুন সুপারিশ চালু করা হবে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিশনের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের কাজ হবে বর্ধিত বেতন কাঠামো তৈরি করা এবং কর্মীদের জন্য সুবিধাবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান ৭ম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন কাঠামো চালু হয়েছে ২০১৬ সালে। এবার ৮ম পে কমিশন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে প্রায় ৫০ লক্ষ কর্মী এবং পেনশনভোগীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। তবে, নতুন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে সরকারের বড় অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে হবে। সরকার আশা করছে, নতুন পে কমিশনের কাজ শেষ হলে তা কেন্দ্রীয় কর্মীদের জন্য আরও উৎসাহ ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে। সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ন্যূনতম বেতন ছিল ১৮ হাজার টাকা। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং অন্যান্য ভাতা বাড়িয়ে সর্বশেষ বেতন কাঠামোতে তা ৩৪ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। কর্মচারীরা এবার দাবি তুলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন এবং বাড়ি ভাতা সহ অন্যান্য ভাতা আরও বাড়ানো হোক। কেন্দ্রীয় স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের মতে, আগামী পে কমিশনের সুপারিশে কর্মীদের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, সরকার ইতিমধ্যে ৮ম পে কমিশন গঠনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে, সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। বাজেট অধিবেশনে এই বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা হতে পারে।এবারের পে কমিশনের সুপারিশে প্রায় ৪৯ লক্ষ কর্মী এবং পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামো ও ভাতার বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া প্রত্যাশা করছেন।

কুম্ভ

কুম্ভ মেলা, প্রয়াগরাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়: একাধিক নিহত ও আহত!

কুম্ভ মেলা প্রাঙ্গণে আজ সকালে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা নামিয়ে এনেছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ৩০ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই তীর্থযাত্রী এবং সেবক, যারা মেলার অংশ হিসেবে আসা কুম্ভস্নানে ব্যস্ত ছিলেন। আহতদের মধ্যে অনেকে দগ্ধ হয়েছেন এবং তাদের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।

ঘটনাটি ঘটেছে মেলার একটি বিশাল তাঁবুর মধ্যে, যেখানে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে সেখানে একটি রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত ওই তাঁবুর ভেতর ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার মধ্যে অনেক মানুষ হতভম্ব হয়ে পড়ে এবং অনেকেই দৌড়ে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, অনেকের জন্য পালানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকাজ শুরু হয়। দমকল বাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাঁবুর ভেতরে একাধিক পরিবার এবং সাধু-সন্তদের উপস্থিতি ছিল, যারা প্রথামাফিক কুম্ভ স্নান উপলক্ষে সেখানে অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুনটি রান্নাঘর থেকে শিখা বের হয়ে উঠে এবং এর পরে তা তাঁবুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো ত্রুটি অথবা রান্নার সরঞ্জামের কারণে আগুন লাগতে পারে। তবে, বিশেষজ্ঞরা আরও তদন্তের মাধ্যমে সঠিক কারণ জানার চেষ্টা করছেন। মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো দ্রুত আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। দ্রুতই আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। কুম্ভ মেলার সংগঠকরা জানিয়ে দিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প গঠন করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হেলিকপ্টার দ্বারা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রয়াগরাজের জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, এবং মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তাঁরা তীব্র সমালোচনা করেছেন যে, এত বড় একটি ধর্মীয় সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে তৈরি ছিল না এবং অগ্নি নিরাপত্তার খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া উচিত ছিল। তবে, কুম্ভ মেলার পরিবেশের মধ্যে বিপদ সামাল দিতে প্রশাসনও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর, কুম্ভ মেলা কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে জন্য আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ফায়ার-সেফটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, দুর্ঘটনা এবং অন্যান্য আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের পর মেলা কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে ঘোষণা করেছে যে, প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে এককালীন অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই কুম্ভ মেলা এলাকায় উপস্থিত তীর্থযাত্রীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। যেসব তীর্থযাত্রীদের এই দুর্ঘটনার কারণে তাদের যাত্রা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, তারা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তীর্থযাত্রীরা জানাচ্ছেন যে, প্রার্থনা ও পুণ্যলাভের জন্য তারা এখানে এসেছিলেন, কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণে তাদের মনোবল ভেঙে গেছে। প্রয়াগরাজ পুলিশ বিভাগ এবং প্রশাসন কর্তৃক ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও, এই ঘটনার পর কুম্ভ মেলা নিয়ে সারা দেশব্যাপী প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে মানুষের দাবি, এরকম বৃহত্তর ধর্মীয় সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হোক, যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এমন এক মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি, প্রশাসন এবং মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।