মন্ত্রী

মন্ত্রী-বিধায়করাই পারে, একমাত্র নিজেদের বেতন নিজেরাই বাড়িয়ে নিতে!

মন্ত্রী-বিধায়কদের বেতন ভাতা সংক্রান্ত একটি বিল “বিধায়ক, মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলনেতা, সরকারী চিফ হুইপ এবং অন্যান্য সদস্যদের বেতন, ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা (ত্রিপুরা) (নবম সংশোধনী) বিল, ২০২৪”  আজ বিধানসভায় পাস হয়। এই নতুন বিল অনুযায়ী মন্ত্রী-বিধায়কদের বেতন ভাতা ও পেনশন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিল অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী এখন থেকে ৯৭,০০০ টাকা বেতন পাবেন, উপ মুখ্যমন্ত্রীর বেতন হবে ৯৬,০০০ টাকা। অন্যান্য মন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলনেতা এবং সরকারী চিফ হুইপের বেতন হবে ৯৫,০০০ টাকা।ডেপুটি স্পিকারের বেতন মন্ত্রীদের থেকে ১,০০০ টাকা কম এবং বিধায়কদের বেতন হবে ৯৩,০০০ টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বিনোদন ভাতা ১৩,০০০ টাকা এবং অন্যান্যদের জন্য ১২,০০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সালে প্রথম বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি কার্যকর হয়। তখন মুখ্যমন্ত্রীর বেতন ছিল ৫৩,৬৩০ টাকা এবং উপ মুখ্যমন্ত্রীর বেতন ছিল ৫২,৬৩০ টাকা। অন্যান্য মন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধী দলনেতার বেতন ছিল ৫১,৭৮০ টাকা। চিফ হুইপ ৫০,৫১০ টাকা এবং বিধায়কের বেতন ছিল ৪৮,৪২০ টাকা। বিধানসভার সদস্যদের ভ্রমণ এবং দৈনিক ভাতা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে , প্রতি কিলোমিটার ৩৫ টাকা এবং দৈনিক ভাতা ত্রিপুরার মধ্যে ১,১০০ টাকা এবং ত্রিপুরার বাইরে ১,৫০০ টাকা। পেনশন সংক্রান্ত একটি বড় পরিবর্তনও বিলটিতে রয়েছে। প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন ৩৪,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৬,০০০ টাকা করা হয়েছে, পারিবারিক পেনশনও ২৫০০০ টাকা থেকে ৪৮০০০ টাকা করা হয়েছে। এই বিলটি পেশ করে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, বেতন, ভাতা ও পেনশনের এই সংশোধন খুবই প্রয়োজনীয় ছিল; কারণ মূল্যসূচকের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই বর্ধিত বেতন কাঠামোর ফলে সরকারের প্রায় অতিরিক্ত ১১ কোটি টাকার ব্যয় হবে। শ্রম দপ্তরের  হিসাব অনুযায়ী, এই বর্ধিত বেতন ভাতা ত্রিপুরার একজন সাধারণ কর্মচারীর থেকে প্রায় আট গুণ বেশি।

বিধানসভার সব সদস্যরা মুচকি হেসে এই বিল পাস করাতে সাহায্য করেন এবং বর্ধিত বেতন ভাতা গ্রহণ করেন। যদিও সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর জন্য বিরোধীতার কিছু নাটক মঞ্চস্থ করতে দেখা গেল বিরোধি দলনেতাকে। কিন্তু কর্মচারীদের বেতন ভাতা নিয়ে কাউকে কোন কথা বলতে শোনা যায়নি বিধানসভায়। উল্লেখ্য; সপ্তম বেতন কমিশনের লোভ দেখিয়ে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেছিল শাসক দল বিজেপি। প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে কথা থাকলেও, আজ পর্যন্ত কি তা পেয়েছেন কর্মচারীরা?

রাজ্য বিধানসভায় যতবারই মন্ত্রী বিধায়কদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়, ততবারই সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য, তখনকার বিরোধীরা বিরোধিতা করে থাকেন। অথচ পরবর্তী সময়ে তারা ঠিকই সেই বর্ধিত বেতন ভাতা গ্রহণ করেন। ভুলেও কাউকে কখনো দেখা যায়নি পরবর্তী সময়ে তা সারেন্ডার করতে। বুধবার রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী উপমুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, মন্ত্রীদের বেতন ভাতা সংক্রান্ত বিলটি ধনী ভোটে পাস হয়। তখনও বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী প্রতিবাদ করেছেন। যেমনটা আজ থেকে পাঁচ বছর আগে করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এটা তাদের দ্বিচারিতা বলে উল্লেখ করলেন পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।সিপিআইএম দলের বিধায়করা মুখে কিছু বলতে না পারলেও তারা প্রকারান্তরে ট্রেজারি বেঞ্চের মন্ত্রী বিধায়কদের বলেন বেতন ভাতা হিসেবে তারা যা পান তার বেশিরভাগটাই পার্টি লেবি হিসেবে কেটে নেয়। কম টাকায় তারা পরিবার প্রতিপালন করবেন কি করে। ফলে তারাও চাইছিলেন বেতন ভাতা বৃদ্ধি করতে। কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারছেন না। বিরোধী কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের মতো পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী ও প্রস্তাব দিলেন যারা চান না মন্ত্রী বিধায়কদের ভাতা বাড়ুক তারা ইচ্ছে করলে সারেন্ডার করতে পারেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সিপিআইএম দল সেই নজির কিন্তু স্থাপন করেননি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অন্যান্য মন্ত্রী এবং বিধায়কদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি হলেও সারাদেশে সর্বনিম্ন বেতন পাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং অন্যান্য বিধায়করা; এটা নিয়ে বিধায়কদের আলোচনা করতে শোনা যায়। কিন্তু সম্পূর্ণ ভারতবর্ষের মধ্যে ত্রিপুরার কর্মচারীরা সবচেয়ে কম বেতনে কাজ করছেন এই বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে শোনা যায়নি।

মেজাজ

মেজাজ হারিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য!

মেজাজ হারিয়ে হঠাৎ উত্তেজিত হয়েপড়েন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা! সরাসরি আক্রমণ করেন সুদীপ রায় বর্মনকে।আগরতলার শান্তিপাড়া ক্লাবের প্রসঙ্গে উত্তপ্ত হয় বিধানসভা। দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে যাবতীয় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করা হয় বিধানসভার অধিবেশনে।

কংগ্রেস-জোট আমলের শাসনকালের কথা উল্লেখ না করলেও; মুখ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মনদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, জিবি বাজার থেকে শুরু করে সব ধরনের ঘটনা তার স্মৃতিতে রয়েছে। বিরোধী বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তারা কি কি করেছেন সবকিছুই জানা আছে তাঁর। সে সময় রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন না তিনি। তবে সেই সময়ের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজনীতিতে না থাকলেও সব খবর রয়েছে তাঁর কাছে। “শান্তিপাড়ায় মাফিয়া দৌরত্মে, দোকান খুলতে পারছেন না ব্যবসায়ী” বলে রেফারেন্স পিরিয়ডে তোলা একটি আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে, মেজাজ হারিয়ে এইধরনের উক্তি করেন মুখ্যমন্ত্রী। “শান্তিপারায়, মাফিয়া দৌরত্মে দোকান করতে পারছেন না উত্তম বণিক” বলে যে অভিযোগ; সেই ব্যবসায়ী উত্তম বণিকের বিরুদ্ধে উল্টো থানায় মামলা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন বিষয়টি নিয়ে মামলা এবং পাল্টা মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ দুটি মামলার তদন্ত করছে। শান্তিপাড়ার ঐকতান যুব সংস্থা ক্লাবের কিছু বিরোধী সদস্য, নিজেদের স্বার্থে ব্যবসাযী উত্তম বণিককে দিয়ে মিডিয়ার সামনে নাটকটি মঞ্চস্থ করেছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন।

ব্যবসায়ী; তদন্তকারী পুলিশকে জানিয়েছেন, বিষয়টি ক্লাবের সদস্যের সাথে বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিরসন করা হয়েছে। যদিও, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে দেখা যায়নি বিরোধীদের। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যে  উৎসাহিত হবে তারা, যারা এই কাজটি করেছে । মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরার নতুন সরকারি প্রতীক, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছে!

ত্রিপুরার জন্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নতুন সরকারি প্রতীক অনুমোদন করেছে। রাজ্য সরকার গত ২৮ অক্টোবর গেরুয়া জমিনে ত্রিপুরার ম্যাপ ও অশোক স্তম্ভ দিয়ে এই প্রতীক কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠিয়ে ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা বলেছেন রাজ্যের প্রতীকী লোগো তৈরী করার ক্ষেত্রে শিল্পী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর প্রতীকী লোগো নিয়ে অভিযোগের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন এই লোগোর মাধ্যমে সমগ্র ত্রিপুরার কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন এই লোগো তৈরী করতে সব রকম নিয়মাবলী মানা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের প্রতীকী লোগো বানানোর ক্ষেত্রে রাজ্যের জায়গায় নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতীক দেওয়া হয়েছে।

পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন লোগোর জন্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর থেকে বিজ্ঞাপন করা হয়েছিল। পাশাপাশি লোগোর রং নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা তার খণ্ডন করেন তিনি। জাতীয় পতাকার সেফরন রং ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সেফরণ রং লোগোতে দেয়া হয়েছে। এই রং ব্যবহারে কি আপত্তি সেই প্রশ্ন তোলেন পর্যটন মন্ত্রী। তিনি বলেন লোগোতে রাজ্যের ম্যাপ ব্যবহার করা হয়েছে। মাতাবাড়ি, রাজবাড়ি কিংবা অন্য কোন ছবি ব্যবহার করলে হয়তো বা প্রশ্ন উঠতো৷ কেন উনকোটি ব্যবহার করা হয়নি? ফলে মানুষ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে তার জন্য ত্রিপুরার মানচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। রাজ্যের কৃষ্টি সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়েছে লোগোতে। রাজের মিশ্র সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। যেটা আগে কখনো কল্পনা করা যায়নি।

click

#Tripura Logo

স্বরাষ্ট্র

স্বরাষ্ট্র দপ্তরে শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্র দফতরের বিভিন্ন পদে ৮০০০ এর অধিক শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

তিনি জানান, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে বর্তমানে মোট ৭৩২৩টি পদ শূন্য রয়েছে। যার মধ্যে ২১২৫টি কনস্টেবল পদ রয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই শূন্য পদগুলি পূরণ করা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে এরমধ্যে রাজ্য সরকার কনস্টেবল সহ অন্যান্য শূন্য পদগুলি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে। ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশন (টিপিএসসি) এর মাধ্যমে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য সাব-ইন্সপেক্টর (আর্মড এন্ড আনআর্মড) ২১৮টি শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কনস্টেবলের জন্য ১০০০টি পদ পূরণের প্রক্রিয়া চলছে এবং অতিরিক্ত ৯১৬ কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডাঃ সাহা আরো বলেন, রাজ্য সরকার বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণের জন্য অ্যাড-হক প্রমোশন প্রদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এর পাশাপাশি ৬০৬৭ স্পেশাল পুলিশ এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এইডসে

এইডসে, গত ৮ বছরে ত্রিপুরা রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা  অনেক বেশি!

এইডসে, ত্রিপুরা রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গত ৮ বছরে হয়েছে ৫১২। ২০২৩ -২৪ অর্থবছরে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। রাজ্য বিধানসভায় তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। নেশা মুক্ত রাজ্য গঠনে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে একটি দৃষ্টি আকর্ষণীয় নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই তথ্য দেন।

তিনি বলেন ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজ্যে ৬৬ জন এর মৃত্যু হয়েছিল এইডসে। ২০১৬- ১৭ অর্থবছরে ৬৫ জনের, ২০১৭-১৮ সালে ৬৬ জনের, ২০১৮-১৯ সালে ৭৬ জনের, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আবার ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যে ২০২১ সালে এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৭০৭ জন। ২০২২ সালে তা বের হয়েছে ৮৯৪০ জন। ২০২৩ সালে রাজ্যে মোট ১০১২৬ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী ছিল। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার উদ্যোগে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে নেশা মুক্ত ত্রিপুরা প্রচার অভিযান চালু হয়। রাজ্যের এই অভিযানে ত্রিপুরার মোট ২২ টি সাধারণ ডিগ্রী কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে মাদকাসক্তি সম্পর্কিত মেগা সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুসারে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে এইচ আই ভি এইডস নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর রাজ্য কুইজ প্রতিযোগিতা, ব্যান্ড মিউজিক কম্পিটিশন এবং রেড রান নামে ম্যারাথনের আয়োজন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা বলেছেন গত তিন বছরে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় নারকোটিক্স ড্রাগস্ এবং সাইকেট্রপিক সাবসটেন্স এর ১হাজার ৬৬৫টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ২হাজার ৬৯৭কে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস ও নয়ন সরকারের আনীত দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের উপর আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান।মুখ্যমন্ত্রী বলেন তাছাড়া গত তিন বছরে ১লক্ষ ৫৪হাজার ৬৫৮ কেজি গাঁজা, ৫লক্ষ ৮২হাজার ১০০টি কফ সিরাপের বোতল, ২৫লক্ষ ৬২হাজার ৭৯১টি ট্যাবলেট ও ৩৪হাজার ৯৭১গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত করেছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন২০১৮সালের আগে নেশাযুক্ত ত্রিপুরা ছিল। বর্তমানে সরকার গঠনের পর তা নেশামুক্ত ত্রিপুরায় পরিবর্তিত হচ্ছে।

তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় এবং নির্দেশানুসারে রাজ্যের সামাজিক কল্যাণ ও সামাজিক শিক্ষা দপ্তর, স্বরাষ্ট্র দপ্তর, শিক্ষা দপ্তর, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর এবং নারকোটিকস কন্ট্রোল বুরো সহ বিভিন্ন এনজিওদের সহায়তায় রাজ্যস্তরীয় নেশা মুক্ত ভারত ক্যাম্পেইন কমিটি এবং বিভিন্ন জেলায় ডিস্ট্রিক্ট লেভেল নেশা মুক্ত ভারত ক্যাম্পেইন কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যে নেশা দ্রব্য ব্যবহারে লাগামহীন বৃদ্ধি এবং তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর ২০২২সালে খেলো ত্রিপুরা, সুস্থ ত্রিপুরা প্রকল্পের অধীনে নেশামুক্ত ত্রিপুরা নামে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। তিনি বলেন শিক্ষা দপ্তর কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের নির্দেশ অনুসারে নবচেতনা মডিউল এর দ্বারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে যাতে ছাত্রছাত্রীদের নেশার প্রতিরোধমূলক শিক্ষা দিতে পারে। তিনি বলেন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর, ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক নতুন দিল্লি স্থিত আর্থিক সহায়তায় গত ২০১৯সালে নরসিংগড় অবস্থিত আধুনিক মানসিক হাসপাতালে ড্রাগ ট্রিটমেন্ট ক্লিনিক নামে একটি ডেডিকেটেড ও পিডিভিত্তিক আসক্তি ক্লিনিক খোলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার উদ্যোগে ২০২২ সালে নে শামুক্ত ত্রিপুরা প্রচারাভিযান চালু হয়। তিনি বলেন রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তর, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেশা বিরোধী কর্মসূচি পালন করে রাজ্যকে নেশামুক্ত রাজ্য তৈরী করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মিশন

মিশন মৌসুম প্রকল্পে ত্রিপুরা রাজ্যে ২৪ টি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন

মিশন মৌসুম প্রকল্পের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশকে আবহাওয়া এবং জলবায়ু সচেতন জাতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মিশন মৌসম-এর সুচনা করেছেন। আজ নতুন দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের ১৫০তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এর সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিশন মৌসম একটি সুসংহত এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত জাতি গঠনে ভারতের অঙ্গীকারের প্রমাণ।

মোদির মিশন মৌসুম প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্যে। মিশন মৌসম” এর লক্ষ্য হল অত্যাধুনিক আবহাওয়া নজরদারি প্রযুক্তি এবং সিস্টেম বিকাশ করে, উচ্চ-রেজোলিউশনের বায়ুমণ্ডলীয় পর্যবেক্ষণ, পরবর্তী প্রজন্মের রাডার এবং স্যাটেলাইট এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারগুলিকে বাস্তবায়ন করে তার লক্ষ্য অর্জন করা। রাজ্যে ২৪টি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন নির্মাণ করা হবে। প্রান্তিক শহর সাবরুমে ড্রপলার ওয়েদার রেডার বসানো হবে। মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছেন রাজ্য আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা ডক্টর পার্থ রায়। তিনি বলেন মিশন মৌসুম প্রকল্পের সুবিধা পাবে ত্রিপুরা। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর তথা আইএমডি-র ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। আগরতলায় আইএমডি-র আগরতলা শাখা অফিসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আইএমডি- র আগরতলা শাখার অধিকর্তা ডঃ পার্থ রায় সহ আইএমডি- র অন্যান্য আধিকারীক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে, দিল্লি থেকে আইএমডি- র ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

এছাড়া আগরতলার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে আবহাওয়া সম্বন্ধীয় ক্যুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আইএমডি- র আগরতলা শাখার অধিকর্তা ডঃ পার্থ রায় বলেন, ১৯৫১ সালে আগরতলায় প্রথম আবহাওয়া অফিস চালু হয়।

click below

click

#mission mausam

রেগা

রেগায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার হিমঘরে, বাড়ছে দুর্নীতি!

রেগা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। বাম আমলে যে ছিল না তা কিন্তু নয়। বাম আমলে বিশালগড় ব্লকের দুর্নীতি, বিডিও গ্রেফতার– এই খবরগুলো মানুষ ভুলে যান নি৷ বাম আমলে রেগায় পুকুর প্রমান দুর্নীতি।একেকটি পুকুর রাস্তাকে কয়েকবার দেখিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বাম জমনায়৷ কিন্তু তা বলে ডাবল ইন্জিনের সরকারের সময়ে রেগা দুর্নীতিমুক্ত বা স্বচ্ছতার সাথে চলছে রেগার কাজ, তা কিন্তু বলা যাবে না৷ রেগার প্রথম শর্ত হলো, যন্ত্র ব্যাবহার করা যাবে না৷ কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের বদলে যন্ত্র ব্যাবহার করে মাটি কাটার ঘটনাও ঘটছে৷ এইতো কয়েক মাস আগে উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় জেসিবি ব্যাবহার করে রেগায় মাটি কাটার অভিযোগ ছিল। রেগা শ্রমিকরা তার প্রতিবাদও করেন৷ কেন্দ্রীয় সরকার রেগার দুর্নীতি রোধে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিল৷ কিন্তু রাজ্যে আজো দ্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়নি৷

২০২১ সালে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক রেগা আইনে এ সংক্রান্ত সংশোধনী এনেছিল। ২০২২ সালে মন্ত্রক এনিয়ে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ কী হবে তার বিস্তারিত নির্দেশ দেয়। নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী শুধুমাত্র রেগার কাজের জিও ট্যাগিংয়েই নজরদারি শেষ হবে না। প্রতিটি কাজের নজরদারি করতে হবে ড্রোন ব্যবহার করে। ড্রোন ব্যবহার করে কাজ চলাকালীন ছবি-ভিডিও রেকর্ড করে কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করার বিধান রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সেখানে ড্রোন ব্যবহার করে ছবি-ভিডিও কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু রাজ্যে এখনো ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়নি। রেগায় জিও ট্যাগিংএর অচ্ছস্বতা৷ রেগায় দুর্নীতি রোধে আট জেলায় আছেন আট জন ন্যায়পাল৷ তারা স্বাক্ষী গোপাল হিসেবে আছেন৷ কিভাবে দুর্নীতির বিচার করবেন৷ সঠিক তথ্য যে তাদের দেওয়া হয় না৷ ঠিকভাবে সাম্মানিক পান না৷ গত চার মাসের বেশি সময় ধরে টিএ বিল বকেয়া। থাক্ সে সব বিষয়। মন্ত্রক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত এস ও পি জারির তিন বছর পরও এই প্রযুক্তির ব্যাবহার শুরু করতে পারে নি রাজ্য৷ প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার মধ্যে আগে ছিল জিও ট্যাগিং। তারপর মোবাইল অ্যাপলিকেশন ভিত্তিক হাজিরা নথিভুক্তিকরণ পদ্ধতি চালু হয়। প্রতিদিন কাজের শুরু, মাঝামাঝি এবং শেষে ছবি তুলে কেন্দ্রীয় পোর্টালে পাঠানোর কথা। কিন্তু এই কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছিল না। দুর্নীতি-অনিয়মের ভুরি ভুরি অভিযোগ।

ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারে ডাবল ইঞ্জিনের ব্যর্থতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অজানা এমন নয়। অন্য দলের সরকার যেসব রাজ্যে আছে সেখানে রেগার দুর্নীতির অভিযোগ এলেই মন্ত্রক যেভাবে ব্যাবস্থা নেয়, ত্রিপুরার বেলায় তেমনটা নেই। ফলে রেগায় কিন্তু দুর্নীতি বাড়ছে।