লংতরাই

লংতরাই ‘দীপা কর্মকারকে’ তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত করল।

লংতরাই ব্র্যান্ডের সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিল রাজ্যের স্নেহধন্যা কন্যা দীপা কর্মকার; ত্রিপুরার বুকে জন্ম নেওয়া এক প্রতিভা, যার অধ্যবসায়, স্বপ্নপূরণের ইচ্ছা, এবং নিরলস প্রচেষ্টা ত্রিপুরাকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক গৌরব।

তিনি ছোট্ট ত্রিপুরা থেকে উঠে এসে বিশ্ব মঞ্চে ভারতের হয়ে পদক জয় করেছেন। লংতরাই ব্র্যান্ড আজ ওনাকে লংতরাই পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে মনোনীত করে তাঁকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বরণ করে নিয়েছে।। লংতরাই, ত্রিপুরা থেকে যাত্রা শুরু করে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে, একেবারে দীপার যাত্রাপথের প্রতিচ্ছবি। ত্রিপুরার মাটির গুণমান আর ঐতিহ্য ধারণ করে, লংতরাই আজ এক বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই শুভ মুহূর্তটি ঐতিহাসিকভাবে নথিভুক্ত করতে লংতরাই শুক্রবার দুপুর একটায় আগরতলা প্রেস ক্লাবে একটি প্রেস মিটের আয়োজন করে যেখানে স্বশরিরে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জিমনাস্ট পদ্মশ্রী শ্রীমতী দীপা কর্মকার এবং উপস্থিত ছিলেন ওনার শিক্ষাগুরু, দ্রোণাচার্য সম্মানপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক শ্রী বিশ্বেশ্বর নন্দী। উপস্থিত ছিলেন লংতরাইয়ের কর্ণধার এবং কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী রতন দেবনাথ, এবং জেনারেল ম্যানেজার শ্রী সুব্রত দেবনাথ সহ কম্পানির অন্যান্য ব্যাক্তিত্বরা।

ভাইরাস

“ভাইরাস” আবারো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাথাব্যথার কারণ!

ভাইরাস প্রাদুর্ভাব আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো; করোনার পাঁচ বছর পের হতেহতে না হতেই। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নজরে এসেছে এক নতুন ভাইরাস, যার নাম ‘হিউম্যান মেটো পনিউমো ভাইরাস’ বা এইচ এম পি ভি।

শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী এই ভাইরাস মূলত শিশু, বৃদ্ধ এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হিউম্যান মেটোপনিউমোভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ২০০১ সালে। এটি প্যারামাইক্সোভাইরাস পরিবারের সদস্য এবং প্রধানত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। সাধারণ ঠান্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং জ্বরে আক্রান্ত হওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে এটি নিউমোনিয়া এবং ব্রঙ্কিওলাইটিসের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছরের নিচে শিশু, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ, এবং যাদের আগে থেকেই শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তারা এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই ভাইরাস মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা সংক্রমিত পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এলে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এইচএমপিভি-র কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন এখনো পর্যন্ত নেই। সংক্রমণ এড়াতে হাত ধোয়া, জনবহুল স্থানে মাস্ক পরা, এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার কিছু দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে। গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে, প্রতি বছর শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই ভাইরাস দায়ী। ভারতে এখনও এইচএমপিভি নিয়ে বড় ধরনের কোনো প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য গবেষণা চালিয়ে এই ভাইরাসের প্রকৃতি বোঝার এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। নতুন ভাইরাসের আবির্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য চ্যালেঞ্জ, এবং এর মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে রাজ্যের স্থানীয় অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি চক্র। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সেই চক্রটি কাগজপত্র তদারকি না করেই লোন দিয়ে দিচ্ছে অনেককে। যার ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে পরোক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাজ্যের অর্থনীতি। ব্যাংকের যেসব কর্মচারী এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক। ফলে এই অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত তারা পার হয়ে যাচ্ছে।এরকম ভাবেই কাগজপত্র জালিয়াতের মাধ্যমে লোন দেওয়ার আরো একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এলো।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বলার পরে ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত ব্যাংক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকেই সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে যে, রাজ্যের মৎস্য বিভাগের একজন কর্মী ভুয়া নথি জমা দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণ করেছেন। অভিযুক্ত কর্মী হলেন সঙ্গীতা আইচ দত্ত (স্বামী শ্যামল দত্ত), মৎস্য দপ্তরের বেতনভুক্ত কর্মী হিসেবে তিনি এই ঋণ পেয়েছিলেন। ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ঋণ পাওয়ার সময় তার পক্ষ থেকে জমা দেওয়া কেওয়াইসি, ডিডিও সার্টিফিকেট ও বেতনের স্টেটমেন্ট জাল ছিল। ঋণ গ্রহণের পরই বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে, যে নথিগুলি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছিল। গত ১৪ মে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের জয়নগর ব্রাঞ্চ এই বিষয়টি জানায় মৎস দপ্তরকে। বিষয়টি বিবেচনা করে দুইমাস পরে অর্থাৎ ১৩ জুলাই মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বলে। ব্যস এটুকুই অগ্রগতি। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত সঙ্গীতা আইচ দত্তের বিরুদ্ধে মামলা করা তো দূরের কথা, এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি পরে খবর। জাল নথি ব্যবহার করে ঋণ গ্রহণের পরেও বহাল তবিয়তে আছেন সঙ্গীতা দেবী। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গত জুলাই মাসে মামলা করার জন্য বলা হলেও, কেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টিতে উদাসীনতা দেখাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর আধিকারিকভাবে পাওয়ার না গেলেও, ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার ভয়ে মামলা থেকে নিজেদের দূরে রাখছে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক। কারণ ওই মহিলা যেমন জাল নথি ব্যবহার করে ঋণ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তেমনি সেই নথিগুলি খতিয়ে দেখার দায়িত্বও এড়াতে পারেনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিক কারণে সেই মহিলার ঋণগ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যোগ সাজসের সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এটি একটি মাত্র ঘটনা নয়, এরকম আরো বহু অভিযোগ রয়েছে এই ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার বিরুদ্ধে, যেখানে একটি অসাধুচক্র টু-পাইস কমানোর লোভে বাঁকা পথে অনেককে ঋণ মঞ্জুর করে দেয়। সেই চক্রটিকে আড়াল রাখার জন্যই মামলা থেকে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক নিজেদের দূরে রাখছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। কারণ মামলা শুরু হলে, এইরকম আরো বহু ঘটনা সামনে উঠে আসতে পারে, যেখানে ব্যাংকের বহু কর্মচারী তদন্তের আওতায় চলে আসার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ঋণ মঞ্জুর করাই নয়, ঋণ খেলাপি সহ বহু ক্ষেত্রেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসতে পারে তদন্ত শুরু হলে। আর এক্ষেত্রে মৎস দপ্তরও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, সেটাও অনেকের বোধগম্য নয়।

কৈলাসহর

কৈলাসহর এর মহকুমা শাসকের অফিসে ঢুকে, দা দিয়ে কর্মচারীদের প্রাননাশের চেষ্টা!

কৈলাসহর এর মহকুমা শাসকের অফিসে ঢুকে, প্রকাশ্যে ধারালো দা নিয়ে কর্মচারীদের প্রাননাশের চেষ্টা ঘিরে আতঙ্ক উনকোটি জেলায়। কৈলাসহর মহকুমা শাসকের অফিস চত্বরে এই ঘটনা। মহকুমা অফিসে ঢুকে অফিস চলাকালীন সময়ে সরকারি কর্মচারীদের ঠেলা ধাক্কা দিয়ে প্রাননাশের হুমকি দেয় দুস্কৃতিকারীরা। এই ঘটনার পর কর্মচারীরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন৷

শুক্রবার কৈলাসহর মহকুমা শাসকের অফিসের সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের নিরাপত্তার দাবীতে কলম ধর্মঘট করে। ফলে মহকুমাশাসক অফিসের কাজকর্ম বন্ধ ছিলো। ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার দুপুরে। উল্লেখ্য, কৈলাসহরের মহকুমা শাসকের অফিসের বর্তমান বিল্ডিং পুরনো হওয়ার কারনে রাজ্য সরকার সম্প্রতি অফিস বাড়ি নতুন করে নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়। খুব শীঘ্রই নতুন অফিস বিল্ডিংয়ের নির্মানের কাজ শুরু হবে। এরফলে মহকুমা শাসকের অফিস অস্থায়ী ভাবে কিছুদিনের জন্য অন্যত্র স্থানান্তরিত হবে। পুরনো বিল্ডিং ইতিমধ্যেই ভেঙ্গে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিল্ডিং ভাংগার কাজ চলাকালীন হঠাৎ কিছু যুবক হাতে ধারালো দা নিয়ে অফিস চত্বরে প্রবেশ করে। সেসময় কাজ তদারকিতে ছিলেন মহকুমাশাসকের সরকারি কর্মচারী রিক্সানিয়ানা দারলং সহ আরও কয়েকজন কর্মচারীরা। যুবকরা নিজরা নির্মাণ কাজ করবে বলে হুশিয়ারি দেয়। জিজ্ঞেস করে কার নির্দেশে অফিস বিল্ডিং ভাংগা হচ্ছে? রিক্সানিয়ানা দারলং তখস মহকুমাশাসক প্রদীপ সরকারকে দেখিয়ে দেন। তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে বলেন তিনি। সাথে সাথে যুবকরা ধারালো দা দেখিয়ে প্রাননাশের হুমকি দেয়। এমনকি সরকারি কর্মচারীদের ঠেলা ধাক্কাও দিয়েছে বলে সরকারি কর্মচারীরা জানিয়েছেন।যদিও সে সময়ে মহকুমাশাসক প্রদীপ সরকার অফিসে ছিলেন না। কারন মহকুমাশাসক প্রদীপ সরকার ছুটিতে ছিলেন। এই ঘটনায় মহকুমাশাসকের সরকারি কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার সবাই একসাথে অফিস শুরুর প্রথমার্ধে কর্মবিরতি শুরু করে। এই কর্মবিরতির ফলে মহকুমাশাসকের অফিসের সব বিভাগের কাজ বন্ধ ছিলো। কর্মবিরতি চলাকালীন মহকুমাশাসক অফিসের রেভিনিউ সেকশনের সরকারি কর্মচারী দিয়েম চাকমা সংবাদ প্রতিনিধিদের জানান যে, এভাবে অফিস চত্বরে এসে প্রাননাশের হুমকি দেওয়ার ফলে উনারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তাই যতক্ষন পর্যন্ত ঘটনার সমাধান না হবে ততক্ষণ কর্মবিরতি চলবে বলে জানান তিনি। কর্মচারী রিক্সানিয়ানা দারলং জানান তাকেই প্রথমে ধারালো দা নিয়ে যুবকরা ঠেলা ধাক্কা দেয় এবং কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তী সময়ে, যুবকরা অফিসের অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের সাথেও কথা কাটাকাটি করে এবং অভব্য আচরণ করে। শুক্রবার মহকুমাশাসকের অফিসে কর্মবিরতি চলাকালীন সময়ে ঘটনার সাথে জড়িত যুবকরা অফিসে এসে সরকারি কর্মচারিদের কাছে ভুল স্বীকার করেছে এবং ঘটনার মীমাংসা হয়৷ পরে কর্মচারিরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানান সরকারি কর্মচারী রিক্সানিয়ানা দারলং।