৩১ তম জাতীয় শিশু বিজ্ঞান

৩১ তম জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসে অংশ নিতে যাচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্য!

৩১ তম জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেস এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মধ্য প্রদেশের ভূপাল শহরে। তিন জানুয়ারী থেকে ছয় জানুয়ারী পর্যন্ত চলবে শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেস। এটি ভারত সরকারের একটি সর্ববৃহৎ শিশুদের বিজ্ঞান মঞ্চ, যেখানে সব কয়টা রাজ্যের মেধাবী ও বিজ্ঞান মনস্ক শিশুরা অংশ গ্রহণের সুযোগ পায়। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুরা মহকুমা ও রাজ্যস্তর পেরিয়ে রাজ্য স্তরের জন্য নির্বাচিত হয়।শিশুরা তাদের নির্বাচিত উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে তার বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধান, বিশ্লেষ, ফলাফল ও তার প্রতিরোধ নিয়ে গবেষণা করে বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করে।প্রতি বছরের ন্যায় এবারো রাজ্য থেকে ১০ জন ছাত্রছাত্রী ভূপাল রওনা হচ্ছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর। ত্রিপুরা রাজ্যের এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বে আছে ত্রিপুরা সায়েন্স ফোরাম। সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা এবং সভাপতি হিসেবে আছেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জ্যোতি প্রকাশ রায় চৌধুরী। দলের সাথে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রধান কোর্ডিনেটর ও সংস্থার সচিব পান্না চক্রবর্তী, একাডেমিক কোর্ডিনাটর হিসেবে আছেন রামধন দেব ।

আগরতলায়

আগরতলায় দুদিনের সফরে কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রী

আগরতলায় এফ.সি.আই-এর রিজিওনাল অফিস স্থাপন করা হবে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ করা হবে। একটি প্রকল্প কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী শনিবার সম্মতি প্রদান করেছেন৷ শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর পৌরহিত্যে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক এবং পুনর্নবীকরন শক্তি মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি রাজ্য সচিবালয়ে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার সঙ্গে এক পর্যালোচনা বৈঠকে মিলিত হন। দুদিনের সফরে শনিবারই আগরতলায় আসেন তিনি। এম বি বি বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বি জে পি ‘ র প্রদেশ সাধারন সম্পাদক তথা বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস, খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ অন্যরা। দুপুরে তিনি আগরতলার নন্দননগরে কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যায় সচিবালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সভাপতিত্বে পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা ছাড়াও রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতনলাল নাথ, খাদ্য মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা সহ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন । বৈঠকের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশিকে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ বেতের তৈরি মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকী স্মারক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গনেশের মূর্তি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রীকে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। উত্তরপূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে কাজ করছেন তা গত ৭৫ বছরে হয় নি। রাজ্যের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তরের যে সমস্ত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে সেইসব বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সাথে কথা বলবেন বলে জানান। পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে উন্নয়নের কাজ চলছে তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাক্ট ইষ্ট পলিসির ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল আজ উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে। এই প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি রাজ্যে অনুষ্ঠিত উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের ৭২ তম প্ল্যানারি সেশনের আয়োজন এবং এর ইতিবাচক দিকগুলির কথা উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে পর্যটন, কৃষি ও উদ্যান সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটছে। এরফলে রাজ্যে মাথা পিছু গড় আয় আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যালোচনা সভায় স্বাস্থ্য, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে এবং গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের সচিব সন্দীপ আর রাঠোর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির চিত্র তুলে ধরেন। পর্যালোচনা সভায় নগর উন্নয়ন ও জল সম্পদ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব তাপস রায়, মুখ্য বন সংরক্ষক চৈতন্য মূর্তি, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা, মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়নের চিত্র সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরেন। পর্যালোচনা সভায় খাদ্য দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার রাজ্যের খাদ্যগুদাম সমূহের সংস্কার সহ বিভিন্ন বিষয় সমূহ নিয়ে তথ্য ভিত্তিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আগরতলায় অনুষ্ঠিত উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের ৭২তম প্ল্যানারি সেশনে অংশ গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের উন্নয়ন সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুবিধাভোগীদের সাথে আন্তরিকতার সাথে সরাসরি কথা বলেন ও তাদের বিষয়ে খোঁজ খবরও নিয়েছেন। এজন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। রাজ্য সফরের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিবার চড়িলামে ট্রেডার বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন এবং স্থানীয় জনগনের সাথে মতবিনিময়ে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া উদয়পুরের মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির দর্শন করে আগরতলায় ফিরে আসার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর।

জিবি হাসপাতালে

জিবি হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে শষ্যাসংখ্যা বাড়ছে ২০

জিবি হাসপাতালের পরিষেবা আরো উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহার নির্দেশে। মানুষ যাতে হাসপাতালে গিয়ে সঠিক পরিষেবা পায়, চিকিৎসার জন্য বহিরাজ্যে ছুটতে না হয় তার জন্য সক্রিয় স্বাস্থ্য দপ্তর এমনিতেই জিবি হাসপাতালের পরিষেবা এখন উন্নত। সব ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা হচ্ছে জিবিতে। পরিকাঠামো ব্যবস্থা আর উন্নত করা হয়েছে।

এখানেই শেষ নয় জটিল অপারেশন হচ্ছে জিবিপি হাসপাতালে। ডাক্তার মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিনিয়ার সরকার দুটি রেফারেল হাসপাতাল সহ জেলা হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে। জিবি হাসপাতাল থেকে রেফার অনেকটাই কমেছে। চিকিৎসক স্বল্পতা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো জটিল অপারেশন সফলতার সাথে হচ্ছে। এবার নতুন বছরের শুরুতেই আরো দুটি সুপার স্পেশালিটি সার্ভিস চালু হচ্ছে জিবি হাসপাতালে। জিবি হাসপাতাল সুত্রে খবর এই দুটি সুপার স্পেশালিটি সার্ভিস হল গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি ও গ্যাসটো সার্জারি। এই দুটি সার্ভিসের জন্য দুজন স্পেশালিস্ট চিকিৎসক কাজে যোগ দিয়েছেন শীঘ্রই জিবি হাসপাতালে কুড়ি শয্যার গ্যাস্ট্রোলজিও গ্যাস্ট্রো সার্জারির অন্তবিভাগ চালু হচ্ছে। সম্প্রতি জিবি হাসপাতালে সুপার স্পেশালিটির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এই দুটি রোগের চিকিৎসায় বর্হিবিভাগের পরিষেবা পাচ্ছেন রোগীরা। জিবি হাসপাতালের নয়টি সুপার স্পেশালিটি পরিষেবার মধ্যে সাতটির আউটডোর ও ইনডোর পরিষেবা রয়েছে। যেমন নিউরোর দুটি, কার্ডিওর দুটি, প্লাস্টিক সার্জারির দুটি, ইউরো এবং নেফ্রলজি দুটি করে আউটডোরও ইনডোর বিভাগ রয়েছে। মেডিসিন বিভাগে রোগীর চাপ কমাতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। নতুন করে ৩০ শয্যার ওয়ার্ড তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে পুরুষ ও মহিলা মিলে ১৯০ বেড রয়েছে। ধীরে ধীরে ২৮০ লক্ষ্য মাত্রা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ চলছে বলে খবর। একই ছাদের নিচে মা ও শিশুর চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের জন্য জিবি হাসপাতালে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক মেটারনেট চাইল্ড হেলথ বিল্ডিং বা এমসিএইচ ভবন। খুব শীঘ্রই এই কাজ শুরু হচ্ছে। জিবি হাসপাতাল সুত্রে খবর, এই কাজের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম আভিম প্রকল্পে ২০২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট এ অত্যাধুনিক বিল্ডিং এর কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে রাজ্য পূর্ত দপ্তর। বর্তমানে মা শিশু চিকিৎসার জন্য জিবি হাসপাতালে ২৬০ শয্যা বিশিষ্ট ওয়ার্ড রয়েছে। গত বছর থেকে জিবি হাসপাতালে সুপার স্পেশালিটি সার্ভিস চালু হয়েছে। একই ছাদের নিচে অনেকগুলো ওয়ার্ড। নেফ্রোলজি থেকে শুরু করে মেডিসিন, ডায়ালিসিস বিভাগ রয়েছে। রয়েছে অত্যাধুনিক পরিসেবা প্রদানের ব্যাবস্থা। জিবিতে বর্তমানে চারটি সুপার স্পেশালিটি সার্ভিস ইনডোরে ও পাঁচটি সার্ভিস চালু রয়েছে আউটডোরে। এছাড়া সুপার স্পেশালিটি সার্ভিস এর জন্য ডায়োগনস্টিক সার্ভিস ফেসিলিটি হিসাবে আলাদা ক্যাথল্যাব চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই চালু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী জিবির চিকিৎসকরা।

সরকারি প্রকল্প

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে টিসিএস অফিসাররা!

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সমাজের জন্য ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস (টিসিএস) অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনসাধারণের সমস্যা সমাধান করা ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারা। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাগুলি সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক শ্রেণির কাছে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করেন টিসিএস অফিসাররা। তারা সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতু হিসেবেও কাজ করেন। শনিবার আগরতলার দশমীঘাটে ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আগরতলা পুর নিগমের ৩৪ নং ওয়ার্ডের দু:স্থদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার এসোসিয়েশন নিয়মিতভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। আগেও এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আগরতলা পুর নিগমের ৭০০ জন স্যানিটেশন কর্মীকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছিল। এ ধরনের সমাজসেবামূলক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। টিসিএস অফিসাররা জনগণের বিভিন্ন অভাব অভিযোগের সমাধান করার জন্য সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাম্প্রতিক বন্যা সহ বিভিন্ন দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলার ক্ষেত্রেও তাদের প্রচেষ্টা খুবই উল্লেখযোগ্য।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রাজ্য সরকার একটি গতিশীল, কল্যাণমুখী প্রশাসন তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেখানে টিসিএস অফিসাররা এই মিশনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। মূলত, জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে থাকেন তারা অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পুর নিগমের মেয়র ইন কাউন্সিল তুষার কান্তি ভট্টাচার্য, ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি দিলীপ কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক অসীম সাহা, বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্যামল কুমার দেব সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। দশমীঘাট এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪০০টি পরিবারকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি এদিনই অপর একটি পৃথক কর্মসূচিতে আগরতলা পুর নিগমের ৩৩ নং ওয়ার্ডের দুঃস্থদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

রাজ্য

মানিক সরকারের বিরুদ্ধে সুশান্ত চৌধুরী

মানিক সরকার নিজের মনগড়া কথা চাপিয়ে দিতে চাইছেন । শুক্রবার জনশিক্ষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে হলসভায় তিনি প্রমোফেস্ট নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে বিতর্ক ডেকে আনলেন মানিক৷ খবরের শিরোনামে থাকতে চেয়েছেন তিনি। শনিবার এর প্রতিবাদ করেছেন পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করে বলেন, মিথ্যা বলছেন মানিক সরকার, হতাশার বহিঃপ্রকাশ! সামাজিক মাধ্যমে জানালেন পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন বাংলায় একটা কথা রয়েছে, “ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে”! এই বাগধারাটির অর্থ হল, কয়লা ধুইলে যেমন ময়লা যায় না, ঠিক তেমন ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও স্বভাব পাল্টাতে পারে না! তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি।

“প্রোমো ফেস্ট-২০২৪” এর নামে ফুর্তি করার জন্য নাকি টাকা খরচ করা হয়েছে। দুর্গাপূজা, কালীপূজা থেকে আরম্ভ করে সমস্ত ব্যাপারে নাকি কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে কিছুদিন আগে গানবাজনার জন্য এক রাত্রে সাত কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। মুখরুচোক উক্তি করতে গিয়ে তিনি জানান, আমি তো আর হিসাব-নিকাশ জানি না, আমি একজন দায়িত্বশীল নেতার মুখ থেকে শুনছি। কাণ্ডটা কী, হচ্ছেটা কী? আবার প্রশ্ন তুলেন তিনি। মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এর জবাব দিতে গিয়ে বলেন, “প্রোমো ফেস্ট-২০২৪” এর নামে সাত কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে এই খবরটা আপনি কোথায় পেলেন? মানিকের ২০ বছরের শাসনকালে রাজ্যে তো পর্যটন দপ্তরের অস্তিত্বই ছিলো না। পর্যটন দপ্তর ছিলো লালটুপিধারীদের আঁতুড়ঘর। যাদের কাজ ছিল সিপিআইএম দলের বিভিন্ন জনসভায় বামপন্থীদের লেখা গণসংগীত গাওয়ার জন্য কমরেড শিল্পীদের সরবরাহ করা। পর্যটন দপ্তরকে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য কখনোই সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করেননি। মানিকের শাসনকালে উগ্রপন্থীদের আতঙ্কে পর্যটকরা জম্পুই, ডম্বুর, ছবিমুড়া সহ রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্র গুলিতে যাওয়ার সাহস পেতেন না। কারণ রাস্তায় অপহরণ হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। সুশান্তবাবু জানান, আপনার শাসনকালে সারা বিশ্বে ত্রিপুরা সুনাম কুড়িয়েছিল অনেক কারণে! যার মধ্যে অন্যতম হলো আপনার মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিমল সিনহার খুন হয়ে যাওয়া! বিরোধী দলের বিধায়ক মধুসূদন সাহা খুন! কর্তব্যরত অবস্থায় নিজের অফিস কক্ষে সদর মহকুমা শাসক শুখরাম দেববর্মার নৃশংস হত্যাকাণ্ড! আসলে “প্রোমো ফেস্ট-২০২৪” যেভাবে সফল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে সেটা মানিকবাবুদের সহ্য হচ্ছে না। সিপিএমের দলের অনেক বিধায়কেরা তাদের পরিবার-পরিজনকে প্রোমো ফেস্টে পাঠানোর জন্য পর্যটন দপ্তর থেকে পাস সংগ্রহ করেছেন। আসলে “বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা” এই সূত্র অনুসারে সরকারের ভালো কাজেরও সমালোচনায় মেতেছেন। সরকারের যেকোনো ভালো কাজ সহ্য হচ্ছে না। মন্ত্রী “সুশান্তবাবুর প্রশ্ন, ডুপ্লেক্স বাংলো” বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে সেদিন যদি আপনি একটু আগরতলা শহরটাকে দেখতেন তাহলে বুঝতে পারতেন প্রোমো ফেস্ট নিয়ে মানুষের মধ্যে কি ধরনের উন্মাদনা ছিল। কষ্ট করে যদি “ইনোভা গাড়িটা” চড়ে একটু স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান এর সামনে দিয়ে চক্কর মারতেন তাহলে আরো ভালো বুঝতে পারতেন। এমনিতেই মানিকবাবুদের এখন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে হয়। কারণ সাধারণ মানুষের কাছে দল গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে রাজনৈতিকভাবে নিজেও দেউলিয়া হয়ে গিয়েছেন। তাই সরকারের ভালো কাজ গুলোর সমালোচনা না করে একটু গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির দিক দিয়ে বিচার করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে বক্তব্য রাখতে আবেদন জানিয়েছেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। টানা কুড়ি বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, একটু তথ্যসহকারে প্রমো ফেস্টের নাম করে কোথায় কিভাবে সাত কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তার চেলেঞ্জ জানিয়েছেন মন্ত্রী সুশান্ত।