এনইসি

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ত্রিপুরা সফর

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ত্রিপুরায় তিন দিনের সফরে রয়েছেন।রবিবার ধলাই জেলার হাডুকলাউতে ব্রু সেটেলমেন্ট ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। ব্রু জনজাতিদের সাথে আলাপচারিতার সময়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তারা ক্যাম্পে স্থায়ী বাড়ি পাওয়ার পরে তাদের কেমন লাগছে। মতবিনিময়কালে তিনি তাদের কাছ থেকে জেনে নেন, বাসিন্দাদের নিজস্ব রেশন কার্ড, আধার কার্ড আছে কিনা। তিনি বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেছেন যে যাদের আয়ুষ্মান ভারত কার্ড নেই তারা শীঘ্রই কার্ড পাবেন। তিনি আশ্বস্ত করেন চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য ৫ লাখ টাকা পাবেন তারা । পাশাপাশি তিনি বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানতে চান, যে তারা রেশন দোকান থেকে তাদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত চাল পান কিনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের ব্যবসা শুরু করারও আহ্বান জানান। তিনি তরুণদের জীবনে উন্নতির জন্য সুশিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। এক তরুণী তাদের নিজস্ব বাসস্থান দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শরণার্থী শিবিরে যে সুযোগ-সুবিধা তারা পাননি, নতুন বসতিতে সে সবই পাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রু পুনর্বাসন কেন্দ্র, বাজার এবং একটি স্কুলও পরিদর্শন করেন।

ব্রু শরণার্থী

ব্রু শরণার্থীরা কি এবার পাবে তাদের আশ্রয়?

ব্রু শরণার্থীরা দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে রাজ্যে শরণার্থীর জীবন কাটিয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে বিজেপি। রাজ্যের ১২ টি জায়গায় ব্রু শরণার্থীদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। চুক্তির বাস্তবায়ন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ধলাই জেলার আমবাসার হাদুকলইয়ে ব্রু পুনর্বাসন কেন্দ্রে আয়োজিত জন সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন যে কাজ পঁচিশ বছরে বামেরা করে দেখাতে পারিনি, এক বছরের মধ্যে সেটাই করে দেখিয়েছে বিজেপি সরকার। রাজ্যে ব্রুরা খুব সমস্যায় ছিল। শরণার্থীর জীবন যাপন করতে হয়েছে তাদের। বিদ্যুৎ ছিলনা, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল তারা। ছিলনা রোজগার। ছিলনা স্বাস্থ্য সুবিধা। অথচ গরিবের সরকার বলে প্রচার করা লাল ভাইয়েরা রিয়াং শরণার্থী সমস্যার সমাধানে আগ্রহ দেখায়নি। দীর্ঘ সময় শাসন ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। কিন্তু রাজ্যের ব্রু শরণার্থীদের প্রতি তাদের কোন দরদ ছিল না। ডাবল ইঞ্জিনের সরকার শরণার্থীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাই করেনি তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছে। ১১ টি পুনর্বসন শিবিরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। প্রায় ৯০০ কোটি টাকার সফল বাস্তবায়ন দেখে খুশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তার টিমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন রাজ্যের বারটি জায়গায় রিয়াংদের পুনর্বসন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ টি জায়গায় পুরোপুরি ভাবে কাজ শেষ হয়েছে। ১২ নম্বর পুনর্বাসন কেন্দ্র শান্তিরবাজারে কাজ চলছে, এবং শীঘ্রই শেষ হবে তা। রিয়াং শরণার্থীদের পুনর্বাসনে যে প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে তার পুরোটাই বাস্তবায়িত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। ৬৯৩৫ ব্রু শরণার্থী পরিবারকে রাজ্যে পুনর্বাসন দেয়া হয়েছে অর্থাৎ ৩৭ লক্ষ ৫৮৪ জন ব্রু জনজাতি ওই সব পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে বসবাস করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ১৩ টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে ২৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা ব্যায়ে আখাউড়াখালের জল পরিশোধন প্রকল্প রয়েছে। তিনি ব্রুহাপাড়ায় এক কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এস বি স্কুলের উদ্বোধন করেছেন। ব্রুহা পাড়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন তিনি। ব্রুহা পাড়ায় ১৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে গড়ে উঠা নতুন মার্কেটের উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া ৬৩৫ কোটি টাকার বেশ কিছু প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে আগরতলার সেন্ট্রাল ডিটেকটিভ সেন্টার, আমবাসার নতুন মহকুমা শাসক ভবন। উনিশ কোটি টাকা ব্যায়ে গন্ডাতুইসা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন রয়েছে। ৩৬ কোটি টাকা ব্যায়ে জিরানিয়ায় রেল ব্রিজ তৈরি করার শিলান্যাস করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

উত্তর পূর্বাঞ্চল

উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের প্ল্যানারিতে পূর্বে তেমন কোন গুরুত্ব পায়নি ত্রিপুরা, তবে কি এবারও….

উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য পৃথক অর্থ বিনিয়োগ নির্দেশিকা গঠনের জন্য নাবার্ড, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এবং নেডভি-কে বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই অঞ্চলে স্পষ্ট ভূসংস্থান আছে বলে এই নির্দেশিকার কথা বলেন তিনি। আগরতলায় উত্তর পূর্বের ব্যাঙ্কার্স কনক্লেভ 2024-এ ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই অঞ্চল বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে পূর্বেকার সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি। ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন উত্তর পূর্বাঞ্চলই হলো ভারতের গ্রোথ ইঞ্জিন। এই অঞ্চলের সার্বিক বিকাশ ছাড়া ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজ রাজধানীর একটি বেসরকারী হোটেলে দ্বিতীয় নর্থ ইস্ট ব্যাঙ্কার্স কনক্লেভে ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। যোগযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে রেল, সড়ক এবং বিমান পরিষেবা সব দিক দিয়েই এগিয়ে চলেছে এই অঞ্চলটি। সেই সাথে এই অঞ্চলে রয়েছে ছাপ্পান্ন মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সহ বিদ্যুৎ প্রকল্পও। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলে বাড়ছে ব্যাঙ্কিং ডিপোজিটও। তা সত্বেও এই অঞ্চলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বের দ্রুতগতির বিকাশ বর্তমান সময়েই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এটা সম্ভব হচ্ছে বলে জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। প্রধানমন্ত্রীর বহুমুখী সমর্থনের কারণেই ত্রিপুরা অসাধারণ বিকাশ এবং আর্থিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে বলেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এখন রাজ্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ক্ষেত্রে একশো শতাংশ সাফল্য অর্জন করেছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।