ফিক্সড পে

ফিক্সড পে কর্মচারীদের জন্য সুখবর….

“পাঁচ বছর পূর্ণ করলেই মিলবে নিয়মিত বেতন স্কেল”: ত্রিপুরা সরকারের অর্থ দপ্তর সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা ফিক্সড পে ভিত্তিতে চাকরি করা কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনও কর্মচারী ফিক্সড পে’তে পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে থাকেন, তবে তিনি নিয়মিত বেতন স্কেলের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। অর্থ দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফিক্সড পে কর্মচারীরা পাঁচ বছর পূর্ণ করার পর, ভিন্ন ভিন্ন পদ বা বিভাগে কাজ করলেও, স্থায়ী বেতনক্রমের সুবিধা পাবেন। তবে এর জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

সিদ্ধান্ত কার্যকরের শর্তাবলি:

1. ধারাবাহিক চাকরি: কর্মচারীর চাকরির মধ্যে কোনো বিরতি থাকা চলবে না।

2. নো অবজেকশন সার্টিফিকেট: সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে “নো অবজেকশন সার্টিফিকেট” (NOC) সংগ্রহ করার পরেই অন্য চাকরিতে যাওয়া বাধ্যতামূলক।

3. নিয়োগ পরীক্ষার অনুমতি: পরবর্তী পদে নিয়োগ পেতে হলে সিলেকশন টেস্টে অংশগ্রহণের অনুমতি নিতে হবে।

4. নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন: স্থায়ী বেতনক্রমের জন্য আবেদন করতে হবে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে।

এই নতুন সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের মধ্যে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব আনবে। অর্থ দপ্তর ইতোমধ্যেই সব দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করতে।এই পদক্ষেপ কর্মচারীদের পেশাগত জীবনে আর্থিক সুরক্ষা ও ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Cpim

বামেদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা এখনো অব্যাহত:

২০১৮ সালে ক্ষমতা হারাবার আগে বিগত ২৫ বছর ধরে এ রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল বামেরা। যেভাবে তারা সাধারন মানুষের উপর বঞ্চনার বুলডোজার চালিয়েছিল তারই প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষমতা থেকে তাদেরকে বিতাড়িত করেছিল এ রাজ্যের জনগণ। ২০১৮ সালে বিজেপি দলের হাত ধরে রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পর মানুষ উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছে। ভোটের প্রচারে নেমে এমনটাই বলছিল শাসক দলের নেতারা। আর সেই উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা।

যারা সেই সময়ে সিপিআইএম দলকে ভোট দিত তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু একটা পাবার ধান্দায় সিপিএমের মিছিল মিটিংয়ে পা মেলাতো, তারা গত বছরগুলোতে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিল। মাঝখানে পেরিয়ে গেছে সাড়ে ছয় বছরের বেশি সময় । গত এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে বিধানসভা ভোট, লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়ে গ্রাম সরকার গঠনের ভোটও সমাপ্ত হলো। এক সময়ের বাম দুর্গ হারাতে হয় সিপিএমকে৷ নিজেদের ভিত শক্ত করতে পুরোপুরি ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল সিপিএম। তারা নির্বাচনের আগে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। বাম আমলে মানুষ কিভাবে বঞ্চিত ছিলেন সেই সময়ে বলতে না পারলেও এবার মুখের উপর জবাব দিয়েছিলেন। কারণ বামেরা মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করে নিয়েছিল। বঞ্চনা দলবাজি স্বজন পোষণের কারণে সাধারণ মানুষের ভাবাবেগকে কিভাবে তারা পদদলিত করে রেখেছিল সেই বিষয়টি তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। কিন্তু গত সাড়ে ছয় বছরে মানুষের আরো তিক্ত অভিজ্ঞতা। মানুষ বামেদের একটানা ২৫ বছরের সাথে বিজেপির সাড়ে ছয় বছরের তুলনা করছেন৷ অস্বীকার করার উপায় সাড়ে ছয় বছরেই মানুষ হাপিয়ে উঠেছেন৷ আর এর সুযোগ নিতে, মানুষের ক্ষোভ যাতে ভোটে প্রতিফলিত হয় তার জন্য কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছিল বিরোধীরা। বিশেষ করে বামেরা৷ গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে ঘুরে দাড়াতে ব্যার্থ হয়েছে সিপিএম৷

ক্ষমতার দম্ভে এতটাই অহংকারী ছিল যে বাস্তবের মাটিতে পা রাখতে ভুলে গিয়েছিলেন সিপিএমের বুড়ো নেতারা। কিন্তু এই রাজ্যে মানুষ যখন তাদের আসল চেহারা দেখিয়ে দিয়েছে নির্বাচনের ফলাফলে, তখন তাদের মোহ ভঙ্গ হতে শুরু হয়েছে। আর এর সুযোগ নিচ্ছে শাসক শিবির। তাই তো জনসভাগুলো বামেদের ২৫ বছরের ইতিহাস তুলে ধরে শাসক দলের নেতারা ভোট চেয়েছেন৷
জীতেন্দ্র চৌধুরীর নেতৃত্বে বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে ঘুড়ে দাড়াতে পারে নি দল৷ নতুন প্রজন্মকে সিপিএম এর ভাবধারায় অনুপ্রাণিত করতে না পারলে আগামীদিনে নির্বাচনে লড়াই করাই মুসকিল হয়ে দাঁড়াবে। এখন থেকেই যদি সিপিএম সেই পথে না হাটে তবে পথ হাড়ানোর সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে উঠবে বলে ধারনা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের।

স্মার্ট সিটি

স্মার্ট সিটিতে সক্রিয় মক্ষিরানী চক্র

স্মার্ট সিটির বিভিন্ন হোটেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাড়ায় এখন মক্ষী রানিদের ঠেক। খদ্দের ধরতে এজেন্ট নিয়োগ করেছে মাসিরা৷ কলেজ ছাত্রী থেকে গৃহবধূ, বাড়তি কামাইয়ের নেশায় ঠেকগুলোতে নাম লেখাছে৷ এখানেই শেষ নয়, শহরের বুকে গত পাঁচ মাসে সাতটি ম্যাসেজ সেন্টারের উদ্বোধন হয়েছে। একাধিক ম্যাসেজ সেন্টারে বেলেল্লাপনা। একাংশ বিউটি পার্লার, ম্যাসেজ সেন্টারের নামে যে স্মার্ট সিটিতে বেলেল্লাপনা চলছে তা পুলিশেরও গোচরে রয়েছে। কিন্তু কোন অভিযান নেই। বাম আমলের শেষ দিকে কৃষ্ণ নগরের আম্বা সাম্বা ত্রীং – অভিযানের পর পুলিশ এসব বেলেল্লাপনা রুখতে কোন অভিযান করেছে বলে জানা নেই কারোর। শহরের রামনগরের বিভিন্ন গলিতে একাধিক ঠেক৷ পাঁচ মাস পর পর ঠেক বদল করে মাসিরা ব্যাবসা জম্পেস করে তুললেও পুলিশের কোন অভিযান নেই। শহরের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রেই আছে মাসিদের একাধিক ঠেক। প্রতিটি ঠেকের কামাই একেবারে মন্দ নয়। অনেকটা ফিল্মি কায়দায় কামাই করছে মাসিরা। রাজধানীর ভাটি অভয়নগর, সেভেনটি নাইনটিলা, কৃষ্ণনগর, কবিরাজটিলা বা প্রতাপগড় ব্রিজের নিচে মাসির ঠেক চলছে রমরমিয়ে। স্কুল, কলেজের একাংশ ছাত্রীদের দিয়ে চলছে ঠেক গুলো। রাজধানীতে রেড লাইট জোন না থাকলেও এই সব ঠেকগুলো অনেকটা রেড লাইট জোনের কায়দায় পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশের কাছে এই খবর নেই। কেউ বিশ্বাস করবেনা। পুলিশ, হোটেল মালিক আর মাসিদের ত্রিবেণী সংগমে চলছে ঠেক গুলো। সবারই কামাই হচ্ছে। আর সবাই একে অপরের পরিপুরক। এতে সমাজ বা সংস্কৃতি উচ্ছন্নে গেলে তাদের কিবা যায় আসে। টু পাইস কামাই হলেই হল। রামনগর, অভয়নগর, কৃষ্ণনগর, প্রতাপগড় ঝুলন্ত সেতুর কাছে একাধিক ঠেক৷ বাড়ি ভাড়া করে ঠেকগুলো চলছে। যেন রেড লাইট এলাকা। কোথা বিউটি পার্লার আবার কোথাও ম্যাসেজ সেন্টারের নামের আড়ালে পরিচালিত হচ্ছে ঠেকগুলো।

মাস কয়েক আগে আগরতলা রেল স্টেশন সংলগ্ন এক হোটেলে দুদিন রেখে রোহিঙ্গা যুবতীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় এক মৌলবাদী নেতা৷ এই ঘটনার পরেও রেল স্টেশন সংলগ্ন হোটেলগুলোতে নজরদারি বাড়ায় নি পুলিশ। বাধারঘাট রেল স্টেশন সংলগ্ন একাধিক হোটেলেও চলছে অশ্লীলতার ব্যাবসা। তাতে রোজগার অনেক বেশি বলেই জানিয়েছেন একাধিক হোটেল ব্যাবসায়ী। এর বিনিময়ে অবশ্য কিছু পুলিশ কর্মীদের কামাই মন্দ নয়। ফলে পুলিশের কাছে খবর থাকলেও নেই কোন অভিযান। স্টেশন চত্বরের কিছু হোটেলে অধিক রাত পর্যন্ত চলে বেলেল্লাপনা। এলাকার মানুষ পুলিশকে ফোন করে জানিয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশের কোন অভিযান নেই। বটতলা ফাড়ির নাকের ডগায় যেভাবে বছরের পর বছর ধরে হোটেলগুলোতে চলছে বেআইনি বার, যেভাবে ফাড়ি থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে রাত ১২ টা পর্যন্ত ওপেন মদ বিক্রি হয় তেমনটাই একাংশ হোটেলগুলোতে চলছে অশ্লীলতার খোলামখোল্লা ব্যাবসা। একাধিক হোটেল মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভালোবাসার প্রথম পর্বেই একাংশ কপোত-কপোতীরা হোটেল খুঁজতে শুরু করে। এখন সামাজিক মাধ্যমেই বেশিরভাগ যুবক যুবতীর প্রেম জন্মায়। ভালোবাসা গভীর হতেই হোটেলের সন্ধানে বেরিয়ে পরে। তখন হোটেল ভাড়া কোন প্রতিবন্ধকতা নয়। চাই একান্তে কাটানোর জায়গা। মওকা পেয়ে হোটেল মালিক চেয়ে বসে চরা মুল্য। তাতে কুচ পড়ুয়া নেহি। অপরদিকে শহরের কিছু স্কুল ও কলেজ ছাত্রীর সাথে কিছু হোটেল মালিকের যোগাযোগ রয়েছে। হোটেল মালিকের চাই রুমের চড়ামুল্য, আর স্কুল ও কলেজ ছাত্রীদের চাই টাকা। মা – বাবাদের দেওয়া টাকায় বর্তমান যুগে চলা কষ্টকর। অর্থাৎ ভোগবাদী মানসিকতা। আর এই মানসিকতার কারনে কিছু উঠতি মেয়েরা তাদের মা বাবাদের চোখের আড়ালে বেলেল্লাপনার ব্যাবসায় মেতেছে। একাংশ হোটেলগুলো অশ্লীলতার নিরাপদ জায়গা হিসেবে বেছে নিয়ে রোজগারে মেতেছে তারা। হোটেল থেকেও নির্ভরশীল খদ্দেরদের সাপ্লাই করে ভালো কামাই হচ্ছে। স্মার্ট সিটিতে সব কিছুই এখন খোলামখোল্লা।

অপমানিত সান্ত্বনা চাকমা

সান্ত্বনা চাকমা অপমানিত অ্যালবার্ট এক্কায়!

বাংলাদেশ বিজয় দিবসে এলবার্ট এক্কা পার্কে অপমানিত হলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা। শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার কোনো সুযোগ পেলেন না তিনি। সেনাবাহিনীর তরফে তাঁকে এলবার্ট একা পার্কের শহীদ স্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অপমানিত মন্ত্রী বিকালের অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতেও রাজ্যে বিজয় দিবস পালিত হয়। অস্বীকার করার উপায় নেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের বীর সেনাদের অবদান ছিলো। মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ার কারণেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। সোমবার মুক্তিযুদ্ধে যেসব বীর সেনানীরা শহীদ হয়েছেন তাদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রতিবারের মতো এবারও অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। এর আগে প্রস্তুতি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো এলবার্ট এক্কা পার্কে বিজয় দিবসের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে প্রথমেই পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল শ্রদ্ধা জানানোর পরেই রাজ্য মন্ত্রিসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য কিংবা সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা একেক করে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। জেলাশাসক অফিসের প্রস্তুতি বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো সেই সিদ্ধান্ত মানেনি সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা। দেখা গেছে, রাজ্যপাল এলবার্ট এক্কা পার্কে পৌঁছানোর আগেই সেনাবাহিনীর এক আধিকারিক আনুষ্ঠানিক ভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

এরপর রাজ্যপাল এসে পৌঁছালে তিনি শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জওয়ানদের স্মৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছেন। এরপর রাজ্যপাল সাইকেল র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের সাথে মিলিত হন। সেইসময় ছিলেন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা। কিন্তু তাকে শহীদ স্তম্ভে গিয়ে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করতে সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়নি। অথচ সেইসময় অতিরিক্ত জেলাশাসক সজল বিশ্বাস, মহকুমা শাসক সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই এই ঘটনা ঘটে। স্বাভাবিক ভাবেই দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে উপস্থিত সকলের। এতেই মন্ত্রী সান্তনা চাকমা অপমানিত বোধ করেন।About Us