passport

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারনে উদ্বেগ জনক ভাবে বাড়ছে অনুপ্রবেশ। আর একইসাথে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশীরা, সরকারি সুফল ভোগ করছে ভারতে। শুক্রবারেও ১০ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আমবাসা রেলস্টেশন থেকে আটক করা হয়েছে। ক্রমাগত অত্যাচার হামলা হুজ্জুতির জেরে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সীমান্ত ডিঙিয়ে অবৈধভাবে এপারে প্রবেশ করছেন। এখন পর্যন্ত বহু সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশের হিন্দুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে ভিসা আবেদন বন্ধ রয়েছে। এর ফলে রাজ্যে সীমান্ত ডিঙিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত টপকে রাজ্যে এসে কিছু টাকা পয়সা খরচ করতে পারলেই ভারতীয় নাগরিকত্ব বাগিয়ে নেওয়া মোটেই কষ্টকর নয়। তার জন্য তৈরিও রয়েছে দালালরা। টাকা ছাড়লেই হয়ে গেল। আর দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে এরাজ্যে অনেক বাংলাদেশী ব্যাবসা পেতে বসেছে। খুলেছে পেট্রোল পাম্প, গ্যাস কাউন্টার,রেশন শপ আরো কত কি। তবে এই সংস্কৃতি এ রাজ্যে নতুন নয়। বাম আমলে অনেক সিকি আধুলি নেতা শুধু বাংলাদেশীদের ভারতীয় বানিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন। সরকারি সুবিধা দিয়ে বামেদের ভোট ব্যাঙ্ক স্ফীত করেছেন তারা। চুনোপুঁটি নেতাদের কারনে অনেক বাংলাদেশী রাতারাতি শহর ও আশপাশ এলাকায় বহুমুল্য জমি ক্রয় করে দিব্যি আছে। শুধু সোনামুড়া, বক্সনগর এমনকি কৈলাসহরে এরকম দ্বৈত নাগরিকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। দ্বৈত নাগরিকরা দেশের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ। দু -দেশের নাগরিক হয়ে,কিভাবে গ‍্যাস এজেন্সির লাইসেন্স পেল? তা নিয়ে শুধু বক্মনগর ই নয় সারা রাজ্য জুড়েই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন।

সোনামুড়া খাদ্য দপ্তরের অধিনে,বক্সনগর আর ডি ব্লকের অন্তর্গত কলসীমুড়ার জনৈক বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে খুলে বসেছেন গ্যাস কাউন্টার। ২০১২ সালে বাম জামানায় গ‍্যাস এজেন্সি বক্সনগরে খোলার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব ঘাটিয়ে কলসীমুড়াতে নিয়ে যায় কাউন্টার।।বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় তার নাম ও পরিবারের অন‍্যান‍্য ভাই এবং বোনদের নাম নথিভুক্ত আছে। কুমিল্লা জেলার বুড়ি চং থানার অধিনে রাজাপুর ইউনিয়নভুক্ত শংকুচাইল এলাকার ভোটার তিনি। বাংলাদেশে যার ভোটার পরিচয় পত্রের নম্বর ০০৩৯ এবং তার ভাইয়ের ভোটার পরিচয় পত্রের নম্বর ০০৪০। বতর্মানে বাংলাদেশে প্রচুর স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি এবং ঢাকা শহরের টঙ্গী ও খিল ক্ষেত এলাকায় দুটি বিশালবহুল প্রাসাদোপম বাড়ি রয়েছে তার। বাম আমলে নেতাদের হাত ধরে এরকম অনেক বাংলাদেশী ভারতীয় নাগরিকত্ব হাতিয়ে নিয়েছে। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। সোনামুড়ায় দুটি রেশন শপের মালিক দ্বৈত নাগরিকত্ব হাতিয়ে নেওয়া এক বাংলাদেশী। তেমনি উনকোটি জেলার চন্ডিপুর ব্লকের অধীন এক বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে পেট্রোল পাম্প খুলে বসেছেন।কমলাসাগর সীমান্ত এলাকায় এরকম বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে সরকারি প্রকল্পের সুফল ভোগ করছেন। কেউ বা মুদি দোকানের আড়ালে পাচারবানিজ্যের সাথে যুক্ত। এরকম দ্বৈত নাগরিকরা বিপদজনক। কোন অঘটন ঘটিয়ে বা নাশকতার বীজ বপন করে পালিয়ে যায় বাংলাদেশে।সে দেশের নাগরিকত্ব থাকার কারনে কোন অসুবিধা নেই তাদের। আবার বাংলাদেশে কোন কুকর্ম করে এপাড়ে এসে দিব্যি আছে তারা। একদিকে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিপদ অন্যদিকে রাজ্যের সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাড়ছে অনুপ্রবেশ। সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক লোকের আনাগোনা বেড়েছে। সেই সাথে সীমান্তের ঢিলে ঢালা নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে রোহিঙ্গারাও বিভিন্ন কায়দায় এপাড়ে আসছে।সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার বেড়ে যাওয়ার উদ্বিগ্ন প্রশাসন, সীমান্ত রক্ষি বাহিনীর কর্তারা কয়েকদিন পর পর বৈঠকে বসে। কিন্তু মানব পাচার বন্ধ হয়নি। বরং বেড়েছে। সীমান্তে মাথাচাড়া দিয়েছে দালালচক্র।তাদের প্রনামী দিলেই শুধু অনুপ্রবেশই নয় বাইক দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের পৌঁছে দেবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে।
এভাবে সীমান্তের ঢিলে ঢালা নিরাপত্তা ও উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে অনুপ্রবেশ।

জি.বি. হাসপাতালে কোন ডিউটি নেই একাংশ স্পেশালিস্ট ডাক্তারদের

জি.বি. হাসপাতালে; ডিউটি-রোস্টার মানছেন না, একাংশ স্পেশালিস্ট ডাক্তার!

রাজ্যের প্রধান রেফারেল সরকারি মেডিকেল কলেজ জি.বি. হাসপাতাল হলো রাজ্যের মধ্যে রোগীর উন্নত চিকিৎসার একমাত্র ভরসার স্থল। আগরতলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগীরা চিকিৎসা করাতে আসেন। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করে জি.বি.তে পাঠানো হয়। রাজ্য সরকারও সেই কারণে উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো তৈরি করার উপর জোর দিয়েছে। বর্তমান বিজেপি জোট সরকার রোগীর উন্নত চিকিৎসা পরিষেবায় সুপার স্পেশালিটি পরিকাঠামোও তৈরি করেছে।

কিন্তু রাজ্য সরকার রোগীর চিকিৎসা পরিষেবায় উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়লেও হাসপাতালের একাংশ সিনিয়র চিকিৎসক রোগীর চিকিৎসা পরিষেবায় হাসপাতালের জন্য যথাযথ সময় না দেওয়ায় রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ তথা স্পেশালিস্ট চিকিৎসকদের একটি ছোট অংশ হাসপাতালে উপস্থিত থেকে রোগীর চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার প্রতিদিনের যে রুটিন রয়েছে সেই রুটিন অমান্য করছেন বলে অভিযোগ।

জি.বি. হাসপাতালে যে রুটিন রয়েছে তা হলো প্রতিদিন (ছুটির দিন ছাড়া) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চিকিৎসকরা বহির্বিভাগে (OPD) বসে রোগী দেখবেন। তার ফাঁকে সময় করে অন্ত:বিভাগে (ইনডোর) গিয়ে রোগী দেখবেন। বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে বহির্বিভাগ বন্ধ হয়ে গেলে তারপর বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট থেকেই রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিটি বিভাগে অন্ত: বিভাগে অর্থাৎ ইনডোরে ভর্তি চিকিৎসাধীন রোগী ও নতুন ভর্তি হওয়া রোগী দেখার জন্য একজন করে স্পেশালিস্ট চিকিৎসক থাকবেন।

রাত ১০টা ৩০ মিনিটের পর স্পেশালিস্ট চিকিৎসক প্রতিটি বিভাগের জন্য একজন করে বাড়িতে অনকলে থাকবেন। রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বহির্বিভাগ খোলা পর্যন্ত সকাল ৯টা অবধি অনকলে চিকিৎসক থাকবেন। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে অনকলে চিকিৎসককে ডেকে আনা হবে। রবিবার বা সরকারি ছুটির দিন হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় প্রতিটি বিভাগে রুটিন ও রোস্টার অনুযায়ী অন্ত: বিভাগে তথা ইনডোরে ভর্তি চিকিৎসাধীন রোগী দেখার জন্য একজন স্পেশালিস্ট চিকিৎসক জি.বি. হাসপাতালে উপস্থিত থাকবেন বা রোগী দেখে যাবেন। রোগীর চিকিৎসা পরিষেবায় হাসপাতালের এই রুটিন আগের রুটিন পরিবর্তন করে চালু হয়েছিল বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর।

২০১৮ সালের শেষদিকে রুটিন চালু হলেও এই রুটিন স্পেশালিস্ট চিকিৎসকদের ছোট একটি অংশ ঠিকমতো না মানায় হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবার কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। কেন স্পেশালিস্ট চিকিৎসকদের ছোট অংশ রুটিন যথাযথভাবে মানছেন না সে বিষয়ে হাসপাতালের এক আধিকারিকের বক্তব্য, হাসপাতালের রোগী দেখার রুটিন ও রোস্টার যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য বারবার সার্কুলার দেওয়া হচ্ছে। তারপরও পরিবর্তন নেই বলে তিনি জানান। হাসপাতালে চিকিৎসকদের মধ্যে যারা মেডিকেল কলেজের ফ্যাকাল্টি তাদের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব কলেজ প্রিন্সিপালের। কলেজ ফ্যাকাল্টি নয়, এমন চিকিৎসকদের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব হাসপাতাল মেডিকেল সুপারের। অভিযোগ, ছোট অংশের স্পেশালিস্ট চিকিৎসকদের রুটিন ও রোস্টার যথাযথভাবে না মানায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মেডিসিন, গাইনো ও প্রসূতি, সার্জিক্যাল, ট্রমা এসব বিভাগকে।

সেক্ষেত্রে হাসপাতালের প্রায় সব বিভাগেই সবসময় উপস্থিত থেকে রোগীর চিকিৎসা পরিষেবার প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট তথা পিজি চিকিৎসক ও শিক্ষানবিশ ইন্টার্নরাই। যেহেতু রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জি.বি. তাই এখানে সারা রাজ্য থেকে বহু গুরুতর সঙ্কটাপন্ন অসুস্থ রোগী উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসছেন। সেইজন্য সবসময় স্পেশালিস্ট চিকিৎসকের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে হাসপাতালের নিষ্ঠাবান চিকিৎসকদের অভিমত। জিবি হাসপাতালে চিকিৎসকের খুব ছোট অংশ বাদে সিংহভাগ চিকিৎসকই হাসপাতালে এসে রোগীর চিকিৎসা পরিষেবা সঠিকভাবে প্রদানে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে দিনরাত্রি কাজ করে চলেছেন। রোগীর চিকিৎসা পরিষেবার কাজে সেসব চিকিৎসকরা যথেষ্ট দায়িত্ব নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।About Us