যুব যাত্রার সমাপন সমাবেশে মূখ্যমন্ত্রী!

নমো যুব যাত্রার সমাপন সমাবেশে প্রধান বক্তা মূখ্যমন্ত্রী!

কেন্দ্রীয় সরকারের সুরেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ইস্যুতে উদ্বেগ ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। হিন্দুদের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে সতর্ক করার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানী শহরে নমো যুব যাত্রা বাইক র‍্যালি ও সমাপন সমাবেশে অংশগ্রহণ করে এই কঠোর বার্তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের সমালোচনা করেন তিনি। উল্লেখ্য, ভারতীয় জনতা পার্টি ত্রিপুরা প্রদেশের পক্ষ থেকে সম্প্রতি নমো যুব যাত্রার আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ জেলার প্রান্তিক শহর সাব্রুম থেকে এই র‍্যালি শুরু হয়ে রাজ্যের ১০টি সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। এরপর আজ রাজধানীর রবীন্দ্র ভবন চৌমুহনীতে এসে সম্পন্ন হয়। এরআগে এয়ারপোর্ট সড়কের এলবার্ট এক্কা পার্ক চত্বর থেকে আয়োজিত বাইক র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে রবীন্দ্র ভবনের সামনে আয়োজিত সমাবেশে জড়ো হয়।

নমো যুব যাত্রার সমাপন সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময় বলেন যুবদের ঐক্য ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং দেশ শক্তিশালী হতে পারে না। আজকের এই কার্যক্রম খুবই ভালো হয়েছে। আমি নিজে বাইক চালিয়ে যুবশক্তিকে উৎসাহিত করেছি। এতে সবাই খুশি। আমরা সবকা সাথ, সবকা বিকাশে বিশ্বাস করি। আমরা ত্রিপুরাকে মাদকমুক্ত করার স্লোগান তুলেছি এবং সেটা বাস্তবায়িত করবো। এদিন সিপিএম ও কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলির তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশে দুর্দান্ত ফলাফল করেছে। তারপরও তারা ভিত্তিহীন দাবি করে চলেছে। তবে এতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। প্রধানমন্ত্রী সবসময় উন্নয়নের কথা বলেন। আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত দিশায় আমাদের ত্রিপুরা সরকারও একই পথে কাজ করছে। আমরা উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।

যুবদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা তাদের বিরোধী দলের সঙ্গে থেকে নিজেদের জীবন নষ্ট না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমি যুবদের, যারা বিরোধী দলের সঙ্গে রয়েছেন তাদের ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করার জন্য অনুরোধ রাখছি। কারণ সদস্যতা অভিযান এখনও চলছে। আর এই সুযোগ মিস করবেন না। যুবদের বিরোধী দলের ফাঁদে পা দেওয়া উচিত নয়। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং আমরা গণতান্ত্রিক নীতির ভিত্তিতে কাজ করি”। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা সবসময় উশৃঙ্খল রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং কংগ্রেস দল শৃঙ্খলাবদ্ধ পদ্ধতিতে উশৃঙ্খলতায় লিপ্ত।

এদিন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা ইস্যুতে সনাতন ধর্মকে সুরক্ষিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিষয়টি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ বিষয়টি নজর রেখে চলেছেন। একইভাবে আমাদের অবশ্যই সংযমের সঙ্গে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা গোটা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে নজর রাখছি এবং আমি ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি যাতে সীমান্তের উপর কড়া নজরদারি রাখা হয় এবং কোন অনুপ্রবেশকারী যাতে সীমান্ত অতিক্রম না করতে পারে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইস্যুতে নীরবতার জন্য বিরোধী দলগুলির তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারা শুধু ইরাক কিংবা অন্য ইস্যু নিয়ে কথা বলে, রাস্তায় নামে। যদিও এই বিষয়ে তারা নীরব ভূমিকা পালন করে।
এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির ত্রিপুরা প্রদেশ প্রভারী ডঃ রাজদীপ রায়, যুব মোর্চার প্রদেশ সভাপতি বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিধায়ক শম্ভু লাল চাকমা, বিধায়ক ভগবান দাস, বিজেপি সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা সহ ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ যুব মোর্চার বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব।About Us

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ত্রিপুরা সফর

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের “গোপনে” ত্রিপুরা সফর!

প্রচারের আলোকে ফাঁকি দিয়ে দুইদিন ত্রিপুরা সফর করে গেলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি। ত্রিপুরায় কেন এলেন, কখন এলেন, এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আসার আগেই তিনি আগরতলা বিমানবন্দর দিয়ে রাজ্য ত্যাগ করেন।

এরিক গারসেটি আগরতলা বিমানবন্দরে আয়োজিত এক বৃক্ষরোপণ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। এই বিশেষ উদ্যোগে তিনি একটি চারাগাছ রোপণ করেন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এমন প্রকল্পের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি সকলকে ত্রিপুরার সৌন্দর্য উপভোগ করতে উৎসাহিত করেন। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এএআই) এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সংস্থা তাদের ৮০তম বর্ষপূর্তিতে সারা দেশে ৮০,০০০ চারাগাছ রোপণের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র আগরতলা বিমানবন্দরে ১,৫০০ চারাগাছ রোপণ করা হবে। সবুজায়নের পাশাপাশি, এএআই পরিবেশবান্ধব বিমানবন্দর তৈরিতে শূন্য কার্বন নির্গমনের লক্ষ্য নিয়েছে।

এরিক গারসেটি আগরতলার উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বৃক্ষরোপণকে সুস্থ ভবিষ্যৎ এবং মজবুত বন্ধুত্বের প্রতীক হিসাবে উল্লেখ করেন। ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং নারী উদ্যোগিদের কাজ দেখে তিনি অভিভূত হন। রাষ্ট্রদূত গারসেটি আমেরিকানদের ত্রিপুরার অনন্য সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাস আবিষ্কার করার আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, “ভারত শুধু বড় শহরগুলির জন্যই নয়, আগরতলার মতো বৈচিত্র্যময় অঞ্চলগুলির জন্যও বিশেষ।”

দুই দিনের সফর চলাকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আগরতলার একটি বেসরকারি হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। এরপর প্রগতি রোড সংলগ্ন এলাকায় জনজাতি যুবদের একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। যদিও গোটা বিষয়টি প্রচারের আলো থেকে অনেক দূরে ছিল। বাংলাদেশে যখন অস্থির পরিস্থিতি চলছে সে জায়গায় অনেকটা গোপনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই ত্রিপুরা সফর নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালা পরিবর্তনের সঙ্গে অনেকেই মার্কিন সংযোগ রয়েছে বলে দাবি করে আসছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য ত্রিপুরায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই ঝটিকা সফরের অন্য কোন তাৎপর্য আছে কিনা সেটা বলবে সময়ই।About Us

৫১ পিঠের রেপ্লিকা উদয়পুরে

সামাজিক মাধ্যমে এই খবর জানিয়ে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে উদয়পুরের বনদোয়ার পর্যটকদের জন্য এক নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের ভিড়ে মন্দির নগরী উদয়পুরের গুরুত্ব আরও বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য ও কেন্দ্রের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এই উদ্যোগ রাজ্যের পর্যটন শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।About Us